রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিভিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার আসামি কারাগারে

রাজধানীর পল্টনে একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গ্রেপ্তার ‘শারমিন একাডেমি’র অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. নুর ইসলাম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তারসহ মূল রহস্য উদঘাটন, আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাই, এই ধরনের অপরাধ অন্য কোনো বাচ্চার সঙ্গে ঘটিয়েছে কি না জানা এবং শিশু বাচ্চার সঙ্গে অমানুষিক নির্যাতনের কারণ জানা এবং উদ্ঘাটনের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

তবে শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়ায় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এর আগে বুধবার থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।
সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি স্ট্যাপলার হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে স্ট্যাপল করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বারবার থামতে বলছিলেন। একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকের।
৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌস বুধবার পল্টন মডেল থানায় পবিত্র কুমার এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের নামে মামলা করেন।

শূন্য থেকে ৫ বছরের সব শিশুর বিনা পয়সায় চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শূন্য থেকে ৫ বছরের সব শিশুর বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, ৬০ থেকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হবে। আর মাঝামাঝি রয়েছেন যারা নিজেদের চিকিৎসা খরচ নিজেরা চালাতে পারবে, তারা পারবেন। আর যারা পারবেন না তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হবে। আর এসব কিছু করা হবে জনগণের দেওয়া ভ্যাট, ট্যাক্স, করের টাকায়।
কারণ আমরা এত টাকা কোথায় পাব।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টায় গোর-এ শহীদ ময়দানের দক্ষিণ অংশে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে হেলিপ্যাড মাঠে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুরে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, দিনাজপুরবাসীর সঙ্গে সৎভাইয়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করা হলেও প্রাচীন পৌরসভা হওয়ার পরও দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হয়নি।
আপনাদেরকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বলছি জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব, এই দিন শেষ, এবার যদি আমার ভোট অন্য কেউ দিতে চায় তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে পছন্দ তাকে দেব।

জামায়াত আমির বলেন, অনেক জেলায় গ্যাস সুবিধা থাকলেও দিনাজপুরে নেই।
এ জেলায় কয়লা পাওয়া গেছে, এই কারণে গ্যাস পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিগত সময়ে গ্যাস নিয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো জরিপ চালানো হয়নি। অনেক দেশে স্বাধীনতার মাত্র ২৫ বছরে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এই অঞ্চলের মানুষ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলাচ্ছেন। আবার সঠিক মূল্য পান না।
আমরা ক্ষমতায় গেলে আম, লিচু, টমেটোসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রসেসিং কারখানা স্থাপন করব। সিটি করপোরেশন হলে ও কারখানা স্থাপন করা হলে কৃষক সুবিধামতো সময়ে তার পণ্য বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন। কর্মসংস্থান হবে। উত্তরাঞ্চল হবে কৃষির রাজধানী।

তিনি বলেন, দিনাজপুরে চাঁদাবাজি হয় না। এ সময় উপস্থিত জনগণ চিৎকার করে চাঁদাবাজি হয়। তখন তিনি বলেন, ফুটপাতেও চাঁদাবাজি হয়। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা চাঁদাবাজি করি না, করব না, আমরা কাউকে চাঁদা নিতেও দেব না। দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না একথা বলাতে তারা বিপদে পড়েছেন।

আমির বলেন, গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নাকি মায়েদেরকে ঘরে বন্দি করে রাখব। আমরা বলছি নারীরা ঘরে-বাইরে কর্মস্থলে কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ রাখব।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও বিজয়ী হওয়া নিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা মনে করেছে তারা নারী শিক্ষার্থীদের কাছেই নিরাপদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাস হয়ে গেছে চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস নেই।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য, জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেব না। সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল করা হবে। দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রয়োজনে স্পেশালাইজড হাসপাতাল করা হবে। সব জেলায় মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হবে।

তিনি বলেন, আসুন আমরা পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিই। ভোটে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অনিয়ম ও ইঞ্জিনিয়ারিং করবেন না, করলে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কারণ মানুষ বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের জন্যই এত আন্দোলন, এত ত্যাগ।

দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ছয়টি আসনের প্রার্থী ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

হেলিকপ্টারে এল বিপিএলের রাজকীয় ট্রফি

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বহুল আকাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বিকেলে আকাশপথে হেলিকপ্টারে চড়ে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পৌঁছায় এই রাজকীয় শিরোপা।

ফাইনাল ম্যাচ শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে অবতরণ করে ট্রফিবাহী হেলিকপ্টার।

এই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা, যা ফাইনালের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

হেলিকপ্টার থেকে ট্রফি হাতে নিয়ে মাঠে নামেন আকবর আলী ও সালমা খাতুন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করা দুই অধিনায়ক হিসেবেই তারা পরিচিত।

সালমা খাতুনের নেতৃত্বে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী দল ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে। অপরদিকে, আকবর আলীর অধিনায়কত্বেই ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

সাধারণত বিপিএল শুরু হওয়ার আগেই অধিনায়কদের নিয়ে ট্রফির আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন হয়ে থাকে। তবে এবারের আসরে সেই চিরচেনা রীতির ব্যতিক্রম দেখা যায়।

আগের দুই আসরে ফাইনালের আগে আহসান মঞ্জিল ও মেট্রোরেলে ট্রফি প্রদর্শন হলেও এবার সে ধরনের কোনো আয়োজন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে উন্মোচিত হলো বিপিএলের শিরোপা।

আকবর আলী ও সালমা খাতুনের হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করে ফটোসেশনে অংশ নেন ফাইনালিস্ট দুই দলের অধিনায়ক—রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের নাজমুল হোসেন শান্ত এবং চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান।

ট্রফি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাঠে আয়োজন করা হয় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে পারফর্ম করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। পুরো আয়োজনজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

গাজায় হবে সারি সারি আকাশচুম্বী ভবন, আরও যেসব পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে ‘নিউ গাজা’। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডটিকে একেবারে নতুনভাবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে এতে। ‘নিউ গাজা’ নিয়ে উপস্থাপিত স্লাইডে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাফাহ এলাকায় থাকবে আবাসিক প্রকল্প। খবর বিবিসি

একটি মানচিত্রে দেখানো হয়, গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নতুন আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সেখানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বোর্ড অব পিসের ঘোষণা দেয়া হয়। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা।

ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আমরা গাজায় সফল হতে যাচ্ছি। এটা দেখার মতো জিনিস হতে যাচ্ছে। মনে-প্রাণে আমি একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং এটি পুরোপুরি জায়গার খেলা। সমুদ্রের ধারের এই জায়গাটি দেখুন। এই অসাধারণ ভূখণ্ডটি দেখুন। অনেক মানুষের জন্য এটি অনেক বড় কিছু হয়ে উঠতে পারে।’

ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আলোচনায় তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, গাজায় প্রায় ৯০ হাজার টন গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে, যা পরিষ্কার করতে হবে। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুরুতে তারা ভাবছিলেন একটি মুক্ত এলাকা করা হবে এবং আরেকটি থাকবে হামাসের জন্য। পরে তারা ভাবলেন, পুরোটাই একসাথে করা হবে।

কুশনার বলেন, ‘হামাস নিরস্ত্রীকরণের চুক্তিতে সই করেছে এবং সেটি বাস্তবায়ন করা হবে’। তার ভাষায়, ‘মানুষ আমাদের কাছে প্ল্যান বি জানতে চায়? এর কোনও প্ল্যান বি নেই।’ যুক্তরাষ্ট্রের মাস্টার প্ল্যানে গাজায় উপকূলীয় পর্যটন এলাকা দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে আবাসিক এলাকা, শিল্প অঞ্চল, তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, আধুনিক কারখানা, পার্ক, কৃষিজমি ও খেলাধুলার সুবিধা।

মিসর সীমান্তের কাছে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে এতে। পাশাপাশি, সেখানে এমন একটি বিশেষ সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে মিসর ও ইসরায়েলের সীমান্ত মিলিত হয়েছে। গাজা পুনর্গঠনের কাজ চারটি ধাপে করা হবে। প্রথমে রাফাহ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে গাজা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া থাকবে।

মানচিত্রে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্ত বরাবর একটি খালি ভূখণ্ড দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ করা নিরাপত্তা এলাকা, যেখানে গাজা পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করবে। আরেকটি স্লাইডে বলা হয়, নিউ রাফাহ এলাকায় এক লাখের বেশি স্থায়ী ঘর, ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি করা হবে।

যুদ্ধের আগে গাজার দক্ষিণের এই শহরে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করতো। কিন্তু ইসরায়েলি হামলা ও পরিকল্পিত ধ্বংসের ফলে শহরটি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং এখন এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন। কুশনার বলেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিউ রাফাহ নির্মাণ শেষ করা সম্ভব। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ‘নিউ গাজা হতে পারে আশার প্রতীক, একটি নতুন গন্তব্য এবং শিল্পনির্ভর একটি এলাকা’।

তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলন হবে। সেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য বড় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে বলে জানান কুশনার।

কুশনার আরও বলেন, গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে বলেন, নিরাপত্তা না থাকলে কেউই সেখানে বিনিয়োগ করবে না। তার ভাষায়, ‘গাজার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় হামাসের সঙ্গে কাজ করবে, যাতে চুক্তিতে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করে পরের ধাপে নেয়া যায়’।

হামাস বরাবরই জানিয়ে এসেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তবে ট্রাম্প হামাসকে সতর্ক করে বলেন, ‘হামাসকে অস্ত্র ছাড়তেই হবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে সেটাই হবে তাদের শেষ।’

প্রথমবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে রাশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে বসছে আমিরাতে

নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈঠকে বসবেন রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার পর এই বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল বৃহস্পতিবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনা সব দিক থেকে ফলপ্রসূ হয়েছে। এরপর উইটকফ ও তাঁর দল আবুধাবির উদ্দেশে রওনা দেয়।

রাশিয়ার কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আবুধাবির বৈঠকে মস্কোর প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ- এর পরিচালক জেনারেল ইগর কোস্তিউকভ। মস্কো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত সমাধানে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। তবে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া তাদের লক্ষ্য অর্জনে যুদ্ধের মাঠে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবে।

এর আগে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেছিলেন, যুদ্ধরত দুই পক্ষ সমাধানে পৌঁছানোর আগে মাত্র একটি বিষয়ে আটকে আছে। ওই বিষয়টি কি তা নিয়ে উইটকফ বিস্তারিত জানাননি।

মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের যে বৈঠক হয়েছে সেটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। তাতে দেখা গেছে, পুতিন, উইটকফ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জশ গ্রুয়েনবাউম হাসি মুখে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন।

মস্কোর ওই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, একটি খসড়া চুক্তি প্রায় প্রস্তুত। তিনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সও ইতোমধ্যে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, শুক্রবার আমিরাতের বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভ। দলে আরও থাকবেন ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রিই গনাতভ।

কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে রাশিয়া। একটি চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে মস্কো। তবে কিয়েভ সতর্ক করে বলেছে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে মস্কো আরও উৎসাহিত হবে। ভবিষ্যতে রাশিয়ার নতুন হামলা বন্ধে ব্যর্থ হবে, এমন কোনো চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করবে না।

প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৩০৫ জনের, ভোটের মাঠে থাকছেন ১৯৬৭

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। সারা দেশে ৩০৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। ফলে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান।

‎নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৩ জন প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। আর সর্বনিম্ন প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তবে এবারের ভোটে থাকছে না একক প্রার্থী।

ইসি সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে ২৫৮৫ মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৫৮ জন।

রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন নেয়া হয়। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৩৯ জন আপিল করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এবার ৬৪৫ জন আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩১ জন।

অবশ্য পাবনা ১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবেন। ভোটের দিন একই রেখে এ দুটি আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ছিল এই দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে সাতটি ও পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হবে। ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে। ত্রয়োদশ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একইদিনে হবে গণভোট। সেখানে ‘হ্যা’ এবং ‘না’ ভোটের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবেন ভোটাররা।

মার্কা দেখে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যায় না: মির্জা ফখরুল

মার্কা দেখে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাচনী জনসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসংযোগকালে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সেই জিয়ার সৈনিক যিনি দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন। আমরা সেই জিয়ার সৈনিক সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়েছিলেন, ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ দিয়েছিলেন। আর সব ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছিলেন।’

‘এখন কিছু লোক ভাগ করে দেয়। হিন্দু আলাদা মুসলমান আলাদা। আমরা কি এদেশে আলাদাভাবে বাস করি। আমরা সবাই একসঙ্গে দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘একটি দল ধর্মের নামে মুনাফেকি করছে। একটি দল বলছে ভোট দিলে জনগণ বেহেস্ত যেতে পারবে। ভোট দিয়ে যদি বেহেশতে যাওয়া যেত, তাহলে সকলে বেহেশতে চলে যেত।’

তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, মুসলমান সকল মানুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই, সবাই সমান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ যদি আমাদের ভোট দেন তাহলে আমরা সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো। মুনাফেকি দিয়ে দেশ চলতে পারে না, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক কোটি মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করবে, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। বিএনপি এই অঞ্চলে প্রথম গভীর নলকূপের ব্যবস্থা করেছিল যেটা বরেন্দ্র নামে পরিচিত। সেই বরেন্দ্রর পানি দিয়ে কৃষক ফসল উৎপাদন করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারবেন আর বলবেন ভারতে খেলা নিরাপদ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিলেও বাংলাদেশের বেলায় আইসিসি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।

ভারতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ শ্রীলংকায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। তবে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ নেই দাবি করে ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বলেছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে।

আজ বিকেলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক গতকালই, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম ব্যক্তি মঞ্জুর লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে।’

মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ আয়োজন নিয়ে শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের সতর্কবাণীর কথাও তুলে ধরেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে যদি দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণাকে যুক্ত করা হয়, যার ফল হিসেবে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে মানতেই হবে যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বাস্তব ও গুরুতর।’

ফারুকি আরও বলেন, ‘আইসিসি যদি সত্যিই নিজেকে সব সদস্য দেশের প্রতি ন্যায্য ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের উত্থাপিত নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত এবং ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া প্রয়োজন।’

ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না: বিবিসি ইন্ডিয়াকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা করে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের টানাপোড়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

২৪-এর জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে দেখা দেয় টানাপোড়েন। সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক তলবের মত ঘটনা ঘটে। সবশেষ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে দায়িত্বরত কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিবিসি ইন্ডিয়াকে সাক্ষাতকার দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। দশ মিনিটের ঐ সাক্ষাতকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, জাতীয় নির্বাচন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত বসে শেখ হাসিনা কোনো ধরনের বিবৃতি প্রত্যাশা করে না বাংলাদেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন তৎপরতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ভালো কোনো উদাহরণ হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিটি ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ কখনোই কথা বলে না। বাংলাদেশের বিষয়েও ভারত সরকারেরও একই নীতি মেনে চলা উচিত।

হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা একে অপরকে শত্রু মনে করলেও দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে জনসমর্থনের ঢেউ: প্রেস সচি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সারা দেশে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় অবস্থিত বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি মাজারে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে দেশে আর স্বৈরাচার, অনাচার ও নিপীড়নের রাজনীতি ফিরে আসবে না। এর ফলে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তবে ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রেস সচিব ভোটারদের উদ্দেশে শান্ত ও ধৈর্যের সঙ্গে ভোট প্রদান ও ভোট-পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মাজার প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ‘বুচাই পাগলার মাজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ধরনের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘তৌহিদি জনতা’ পরিচয়ে একটি গোষ্ঠী বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।