বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

খেলোয়াড়দের মুঠোফোন জব্দের খবর প্রকাশের পর তদন্তে পিসিবি

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান জাতীয় দলের শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির উপদেষ্টা আমির মীর এক্সে (সাবেক টুইটার) করা একটি পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বোর্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পিসিবি জানিয়েছে, তদন্তপ্রক্রিয়া চলাকালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি বোর্ড। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে শুধু বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।.সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অনুমাননির্ভর খবর, বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন সূত্র থেকে আসা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন আমির মীর।আমির মীরের পোস্টে বলা হয়, ‘সংবাদমাধ্যমে শৃঙ্খলভঙ্গ ও আচরণসংক্রান্ত নানা খবর আসার পর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিষয়টি বর্তমানে তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’লন্ডনে পাকিস্তান দলের দুজন খেলোয়াড়ের মুঠোফোন দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের হেফাজতে নিয়েছিলেন—এমন খবর প্রকাশের পরই পিসিবি এই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’।.পাকিস্তানেরই আরেকটি সংবাদমাধ্যম ‘৩৬৫ নিউজ’ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ফোনগুলো পিসিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এজবাস্টনে টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো বোর্ডের কাছেই থাকবে। তবে প্রতিবেদনটিতে যেসব খেলোয়াড়ের ফোন নেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।.অভিমানের বরফ গলল, ইংল্যান্ডের সাদা বলের মেন্টর পিটারসেন.অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে জিও সুপার জানিয়েছে, লন্ডনে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ, বিশেষ করে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের কথিত যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, অনিয়মের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে খেলোয়াড়দের ফোন জব্দ করা বা সেগুলোর তথ্য পরীক্ষা করার অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পিসিবি।.ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের শোচনীয় হারের পর দলটির কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সাতজন খেলোয়াড়কে সফরের মাঝপথে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বদলি সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। সরিয়ে দেওয়া হয় টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকেও। সীমিত ওভারের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে দেওয়া হয় টেস্ট দলের দায়িত্ব। নির্বাচক পদ থেকেও সরে দাঁড়ান মিসবাহ–উল–হক। বড় ধরনের এসব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই অভ্যন্তরীণ তদন্তের পদক্ষেপ নিল পিসিবি।তবে ঠিক কী ধরনের শৃঙ্খলভঙ্গের ঘটনার তদন্ত চলছে বা কোন কোন খেলোয়াড় এতে জড়িত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি বোর্ড। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।.তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠানের আহ্বান ফলকার টুর্কের

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।আজ সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ আহ্বান জানান।ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে, এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছি।’.জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতের কথা বারবার বলেছেন। তিনি এসব সংস্থার কাজের বিষয়ে স্বাধীন নজরদারির জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে ৪৪টি সুপারিশ করা হয়। তার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ ছিল।.ওই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন তদারকির জন্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের বিভিন্ন ট্রিটি বডির সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানেও বলা হয়েছিল, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর কথাও বলেছিল তারা।বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত গুমবিরোধী আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আইনগুলোতে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, তদন্তক্ষমতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর লক্ষ্য

দেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য, বাজারের গভীরতা ও দক্ষতা বাড়াতে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে ডেরিভেটিভ পণ্য চালুর পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ডেরিভেটিভস চালুর আগে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত ‘এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস প্রবর্তন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক, নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এতে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার নাফিজ আল তারেক বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর বিষয়ে কমিশন ইতিবাচক। তবে এর আগে বাজারের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। ডেরিভেটিভ একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এটি বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভ চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে এরই মধ্যে একটি সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সিসিবিএলের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নাফিজ আল তারেক বলেন, সিসিপি কার্যকর না হলে ডেরিভেটিভ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্রোকার, ট্রেডার ও অন্যান্য বাজার অংশীজনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় ফিউচারস মার্কেট বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও হেজিংয়ের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে বাজারের তারল্য ও অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় ডেরিভেটিভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বাজার চালুর ক্ষেত্রে বিএসইসি, এক্সচেঞ্জ, সিসিবিএল ও অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে নতুন আর্থিক পণ্য প্রবর্তনের উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ডিএসই ও কমিশনের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে উদ্যোগটি ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস, বিশেষ করে ইনডেক্স ডেরিভেটিভস, ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজে চালু করা সম্ভব। তবে এর সফল বাস্তবায়নে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক, প্রযুক্তিগত, ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রয়োজন।

তিনি জানান, বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ডেরিভেটিভস বিধিমালা যুগোপযোগী করে প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ের উপযোগী প্ল্যাটফর্ম, সিসিপি, রিয়েল-টাইম মার্জিনিং, পজিশন মনিটরিং ও মার্ক-টু-মার্কেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে আধুনিক আর্থিক পণ্য প্রবর্তন ও বাজারের গভীরতা বাড়াতে ডিএসই ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভ পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে এবং বিএসইসি তা অনুমোদন করেছে।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অংশীজনদের প্রস্তুত করতে ডিএসই কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের সহযোগিতায় প্রস্তুতি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

ডিএসইর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নিজস্ব সূচকভিত্তিক স্টক ইনডেক্স ফিউচারস চালু করা হবে। পরবর্তী ধাপে সিঙ্গেল স্টক ডেলিভারেবল ফিউচারস এবং দীর্ঘমেয়াদে অপশনস মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচিতে ডেরিভেটিভস পণ্য সম্পর্কে বাজার অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের পণ্য চালুর সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়।

কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে রপ্তানি ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার

নিট ফেব্রিক আমদানি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত

মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে বৈঠক, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা

শেয়ারবাজারের পতন ঠেকালো বস্ত্র-বিমা

কর ফাঁকি ও খেলাপি ঋণগ্রহীতারা পাবেন না সেরা করদাতার সম্মাননা

ঘরের টাকা আবার ব্যাংকে ফিরছে, এক মাসে কমেছে ১৩ হাজার কোটি

‘ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, নাগরিক অধিকারের অংশ’

সোলারে করছাড়ের ঘোষণা, বাস্তবে দাম বেড়েছে বাজারে

আধুনিকায়ন হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, বছরে তেল শোধন হবে ৪৫ লাখ টন

আয়কর রিটার্নে আয়-ব্যয়ের তথ্যে গরমিল পেলে ব্যবস্থা নেবে এনবিআর

মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ, দুই পুলিশ সদস্য আটক

শাহজালালের নিরাপত্তায় ২৫ নতুন বিস্ফোরক শনাক্তকারী যন্ত্র

‘এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ আমরাই জিতব’- ভিনিসিয়ুসের হুংকার

পুরোনো ব্যাংকারদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের সময়সীমা ৩১ মার্চ

শেখ হাসিনার নামে কী কী আছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কি তাঁর নামে

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।কীভাবে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে, কোন সংস্থা বাজেয়াপ্ত করবে এবং তা কীভাবে শহীদ পরিবারকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া ঠিক করতে কাজ চলছে।আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, আইনে অথবা বিধিতে কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় সেটা হবে, সেটা আছে সাধারণ আইনে। তিনি শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের সামনে উল্লেখ করেছিলেন, এ বিষয়ে যাতে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।.চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তাঁর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ হয়ে যাবে, অর্থাৎ আগে দেওয়া রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যাবে। চিফ প্রসিকিউটরের মতে, সেটিতে আইনগত কোনো সমস্যা নেই।কৌতূহল হলো, শেখ হাসিনার নামে কী কী সম্পদ আছে, যা বাজেয়াপ্ত করা যাবে? ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির মালিকানা কি শেখ হাসিনার নামে?.‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ-৩) হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের ঘোষিত সম্পদের তথ্য জানা যায়।.হলফনামায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। তখন নিজের হাতে নগদ অর্থ দেখিয়েছিলেন সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ। ছিল ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর)।.শেখ হাসিনা হলফনামায় তিনটি মোটরগাড়ি দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি উপহারের। সেটির দাম দেখাননি। বাকি দুটির দাম দেখিয়েছিলেন সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম দেখিয়েছিলেন ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নিজের আসবাবের দাম ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেখিয়েছিলেন তিনি।শেখ হাসিনা নিজের নামে থাকা কৃষিজমির পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ১৫ দশমিক ৩ বিঘা, যার ক্রয়কৃত অংশের মূল্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, যা টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে।.গাজীপুর শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় বাংলাদেশ স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পূর্ব পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘেঁষে রয়েছে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়ি।স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭০ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এ জমি লিখে দিয়েছিলেন। উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হয়েছেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জমির কিছু অংশ সন্তানদের লিখে দেন। সেই সূত্রে মালিক হন শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদ এবং শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক। নথিপত্রে জমির পরিমাণ ২৯৭ শতক (৯ বিঘা)।হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট রয়েছে শেখ হাসিনার নামে, যার দাম ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর নামে এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, ছোট বোন শেখ রেহানা (রেহানা সিদ্দিক), রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের (রূপন্তী) নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।.সব মিলিয়ে এই পরিবারের ছয়জন মোট ৬০ কাঠা জমি পেয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলছে।হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক (আংশিক) জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন। এই জমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।দুদক গত বছরের ২২ মে এক ব্রিফিংয়ে জানায়, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছিলেন। ওই সময় হলফনামায় তিনি নিজ নামে থাকা জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ একর বলে ঘোষণা দেন। কেনার সময় এ জমির অর্থমূল্য দেখানো হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।দুদক বলেছে, তারা যাচাই করে দেখতে পায়, ওই সময় শেখ হাসিনার নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদ ছিল। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দুদক নির্বাচন কমিশনকে তখন চিঠিও দেয়।.সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ কার্যকরে কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আদেশ ট্রাইব্যুনালের.ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে রয়েছে। শেখ হাসিনার বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা রয়েছে সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে।মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের দুজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলো। এ মামলার জুলাই শহীদদের ‘কনসিডারেবল অ্যামাউন্ট অব কম্পেনসেশন’ (উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ) দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হলো।ট্রাইব্যুনালের আরও কয়েকটি রায়ে আরও কয়েকজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন আশুলিয়ায় হত্যা ও ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলার রায়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ আছে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকা থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হয়েছেন।

আজ সোমবার বিকেলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার তুষার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ভোটার নিবন্ধন পরিবর্তনে ফরম-১৩ এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের পর কমিশন ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন করে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এক ভোটার এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভোটার নিবন্ধন স্থানান্তরের জন্য ফরম-১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ডেইলি স্টারকে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরবর্তী ডিএসসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি ডিএসসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এবং ডিএনসিসির জন্য সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে নির্বাচিত করেছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিষয়টি আমাদের পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পান। ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে আসনটিতে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৫ হাজার ২৩৯।

এপিসিআইসিটি গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ার নির্বাচিত বাংলাদেশ

জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক ট্রেনিং সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ফর ডেভেলপমেন্টের (এপিসিআইসিটি) গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।

গত ৩ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গভর্নিং কাউন্সিলের ২১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন চেয়ার নির্বাচিত হন। তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং এসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এটুআই প্রকল্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তর, জনসেবায় উদ্ভাবন এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়নে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দায়িত্বে বাংলাদেশ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, কারিগরি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য এপিসিআইসিটি গভর্নিং কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। কাউন্সিলের অন্য নির্বাচিত সদস্যদেশগুলো হলো কম্বোডিয়া, ভারত, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও উজবেকিস্তান। স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়াসহ মোট নয়টি দেশ কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করছে। এপিসিআইসিটির বিধি অনুযায়ী, নির্বাচিত চেয়ার পরবর্তী নিয়মিত অধিবেশন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

২১তম অধিবেশনে এপিসিআইসিটির প্রশাসনিক ও আর্থিক অবস্থা, গত অধিবেশনের পর বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং ২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। গৃহীত কর্মপরিকল্পনায় সদস্যদেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সদস্যদেশগুলোর বাস্তব চাহিদার সঙ্গে এপিসিআইসিটির প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বলেন, ‘এ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য সম্মানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক দায়িত্ব। সদস্যদেশগুলোর বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে জ্ঞান বিনিময় ও কারিগরি সহযোগিতাকে ফলপ্রসূ করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। জনসেবা উদ্ভাবন, উপাত্তনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সক্ষমতা উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আমরা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’

ব্যাংককে ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এসক্যাপের একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন। ১ সেপ্টেম্বর এশিয়া-প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে (এপিআইএস) পরিচালনা কমিটির দশম অধিবেশন এবং ২ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনবিষয়ক এসক্যাপ কমিটির পঞ্চম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এপিসিআইসিটি গভর্নিং কাউন্সিলের ২১তম অধিবেশন।

এসব বৈঠকে এপিআইএস কর্মপরিকল্পনা ২০২৭-২০৩০ বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়। ১৫টি কার্যক্রম নিয়ে তৈরি এ পরিকল্পনার তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো সবার জন্য সংযোগ, উদীয়মান প্রযুক্তি ও স্মার্ট জনসেবা এবং ডিজিটাল উপাত্ত। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ডিজিটাল উপাত্তবিষয়ক তৃতীয় কার্যদলের ভাইস চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে উপাত্তের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা, আন্তদেশীয় জ্ঞান বিনিময় এবং উপাত্তনির্ভর জনসেবা উন্নয়নে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এপিসিআইসিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার অন্যতম উদাহরণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ‘উইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ’। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহায়তায় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সম্পৃক্ততায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

কর্মসূচিটির হালনাগাদ সংস্করণ ‘ডব্লিউআইএফআই ডিএক্স’-এর আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স, ডিজিটাল বিপণন, ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা, উপাত্ত বিশ্লেষণ, অনলাইন নিরাপত্তা ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এপিসিআইসিটি গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আঞ্চলিক পর্যায়ে তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

এপিসিআইসিটি এসক্যাপের পাঁচটি আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের একটি। প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময়, বহুপক্ষীয় সংলাপ ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে আর্থসামাজিক উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি।

ওটিপি ও পিনের মধ্যে পার্থক্য কি জানেন?

স্ক্রিন নেই, হাতে পরে থাকলেই স্বাস্থ্যে নজর রাখবে স্মার্ট ব্যান্ড

বৈদ্যুতিক বাইকের ব্যাটারি বারবার নষ্ট হচ্ছে? ৪ বিষয়ে বিশেষ নজর দিন

লোকাল বাসে বসেই দোয়া পড়তে পারবেন ফোনের ৩ অ্যাপে

বারবার লোডশেডিং, তবু বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন

ফেসবুকে কখন ভিডিও পোস্ট করলে ভিউ বাড়াতে জানেন?

ভার্চুয়াল জগতে আটকে থাকা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কেমন হবে?

ভুলে সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করে ফেললে, যা করবেন

ফোন চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্য মুছবেন যেভাবে

রোবট শিল্পকেই বদলে দিচ্ছে চীনের ‘রোবট বিপ্লব’

ধর্ষণ মামলার আসামি বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা

কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে রপ্তানি ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে রিট

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাংলাদেশে

আবুল কালাম আযাদের আপিলের সুযোগের অংশটি আইনসম্মত হয়নি: চিফ প্রসিকিউটর

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদকে অন্তর্বর্তী সরকার ‘আপিল দায়েরের শর্তে আত্মসমর্পণ করার যে সুযোগ দিয়েছিল’, তা ইললিগ্যাল (বেআইনি বা অবৈধ), আনলফুল (আইনসম্মত নয়) বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটা লুপহোল (ফাঁক বা ত্রুটি) রেখে গেছে, যা আবুল কালাম আযাদকে আপিল করার সুযোগ দিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়েছে। আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত আছে। একই সুযোগ যদি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) নেন, তাহলে তাঁকেও এ সুযোগ দিতে সরকার বাধ্য কি না?.জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘না, এখানে সরকারের বাধ্যবাধকতার কোনো ব্যাপার নেই। কোনো নজিরের প্রশ্ন নেই। সরকার যেকোনো সাজা যেকোনো সময় স্থগিত করতে পারে, রিমিট করে দিতে পারে বা একেবারেই বাতিল করে দিতে পারে—সবকিছু করতে পারে। এটা সরকারের একটা ইনহেরেন্ট পাওয়ার। সেটি যে কারও ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে, কারও ক্ষেত্রে না–ও করতে পারে। এটা সরকারের ইচ্ছা।’চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, আবুল কালাম আযাদ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তখন আবেদন করেছিলেন। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আদেশে আপিল দায়েরের শর্তে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল। সরকারের ওই আদেশ ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।কারণ উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, ৩০ দিন পর আর কোনো আপিল করা যাবে না। নির্বাহী আদেশের কোনো এখতিয়ার নেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে সুপারসিড (রদ করে বা অতিক্রম করে) করে কোনো আদেশ দেওয়ার। অতএব আবুল কালাম আযাদকে আপিল দায়েরের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দিয়েছিল, এ অংশ ইললিগ্যাল, আনলফুল। কিন্তু আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিতের বিষয়ে তাঁদের কোনো দ্বিমত নেই। সেটা সরকারের এখতিয়ার আছে।.একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, আপিল বিভাগে আবুল কালাম আযাদের বিষয়ে আজকে একটা আদেশ হওয়ার কথা ছিল। তিনি ৯ হাজার ৯০০ দিনেরও পর আপিল করেছিলেন। বলা যায় এটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা। যেহেতু আজকে আদেশটি হয়নি, পরবর্তী প্রক্রিয়াটা কী? তাঁর আপিল আবেদন হবে কি না, নেবে কি না?জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আবুল কালাম আযাদকে এই ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথম রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি যেকোনো কারণেই হোক দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থেকে অনুপস্থিত ছিলেন অথবা তিনি আপিলটা ফাইল করতে পারেননি বা করেননি। আইনে পরিষ্কার করে বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আইনে এটাও বলা আছে, যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারও আপিলই হোক। সেটা হোক শেখ হাসিনার, সেটা হোক আবুল কালাম আযাদের, অর্থাৎ যেকোনো পলাতক আসামি অথবা যাঁরা জেলে আছেন। তাঁকে অবশ্যই আপিলটা করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। কেউ যদি ৩০ দিনের মধ্যে এসে আপিল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে না। সে কারণে গত তারিখে আপিল বিভাগে আবুল কালাম আযাদের মামলার শুনানিতে তিনি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবেদনে আইনগুলো দেখিয়েছেন।.১৩ বছর আগে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের

রায়ের বিরুদ্ধে আযাদের আপিল, শুনানি ১৭ আগস্ট.মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আবুল কালাম আযাদ যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকবেন

আরও এক কারাবন্দীর মৃত্যু ঢাকা মেডিকেলে, দুই দিনে মারা গেলেন ৪ জন

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ হয়ে আসা আরও এক বন্দী আজ সোমবার মারা গেছেন। সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।.ওই কারাবন্দীর নাম আলী আকবর মণ্ডল (৬৭)। তিনি কোন মামলায় বন্দী ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালীতে।.গতকাল রোববার সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিটের মধ্যে পৌনে দুই ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়। তাঁদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সেখানে আনা হয়। তাঁরা হলেন আবুল বাশার (৫৮), আবদুল কাইয়ম (৬২) ও মো. শাহাদত হোসেন লিটন (৫২)। হাসপাতাল সূত্রে জানায়, সকালেই তাঁদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল।.১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ঢাকা মেডিকেলে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু.ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আলী আকবরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

২৪ বছর বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস

একসময় ভেবেছিলেন আর পড়বেনই না। তবে পরে নিজেই এই সিদ্ধান্ত বদল করেন। ২৪ বছর বিরতির পর জরিমানা দিয়ে ভর্তি হয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। অবশেষে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ১ সেপ্টেম্বর। এই পরীক্ষায় হাবিবুল্লাহ পাস করেন।ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বন্ধু, শিক্ষকসহ পরিচিতদের কাছ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পাচ্ছেন হাবিবুল্লাহ। বিভিন্ন গণমাধ্যম তাঁর সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। এই ব্যস্ততার ফাঁকে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন।.হাবিবুল্লাহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ‘কে-৫৩’ ব্যাচের (সেশন ১৯৯৫-১৯৯৬) শিক্ষার্থী ছিলেন। আর এখন ‘কে-৭৮’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমবিবিএস পাস করলেন।.৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করে কেমন লাগছে, জানতে চাইলে হেসে উত্তর দিলেন হাবিবুল্লাহ। বললেন, এই যাত্রায় তাঁকে অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে। এখন তিনি নিজের নামে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন।হাবিবুল্লাহ জানালেন, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ‘কে-৫৩’ ব্যাচের (সেশন ১৯৯৫-১৯৯৬) শিক্ষার্থী ছিলেন। আর এখন ‘কে-৭৮’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমবিবিএস পাস করলেন। ২০০২ সালে তাঁর এমবিবিএস পাস করার কথা ছিল। কিন্তু পাস করলেন ২০২৬ সালে। এর মধ্যে কেটে গেছে ২৪টি বছর।দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধু, শিক্ষকসহ সবার সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে এমবিবিএস শেষ করতে পেরেছেন বলে জানালেন হাবিবুল্লাহ। এ জন্য তিনি বিশেষ করে বন্ধু ও শিক্ষকদের নাম ধরে ধরে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। এ প্রসঙ্গে বললেন, তাঁর বন্ধুদের অনেকে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হওয়ার পথে আছেন।.২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তিনি বলেন, সেই সময় এক দিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন হাবিবুল্লাহ। তখনই হাবিবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। সাক্ষাতে হাবিবুল্লাহ তাঁকে বলেন, নানা জটিলতায় তাঁর পড়াশোনা দীর্ঘদিন থমকে ছিল। কিন্তু তিনি এখন আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করতে চান।.হাবিবুল্লাহ প্রথমবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাননি। পরেরবার তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সুযোগ পান। তাঁর ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। এসব তথ্য জানিয়ে হাবিবুল্লাহ বললেন, শুরুর দিকে তিনি ফলাফল ভালোই করছিলেন। একপর্যায়ে এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা শুরু হয়। তবে এখন আর তিনি এই বিষয়ের বিস্তারিত বলতে চান না।একসময় হাবিবুল্লাহ ভেবেছিলেন, আর পড়বেনই না। তিনি বলেন, দোটানার মধ্যে পিছিয়ে পড়তে থাকেন। পিছিয়ে পড়ে জুনিয়রদের সঙ্গে তাঁকে ক্লাস করতে হতো। এতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। তিনি মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। একদিকে পড়াশোনায় জটিলতা, অন্যদিকে পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন।হাবিবুল্লাহর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। হাবিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা সিভিল সার্জন হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত চেম্বারে তিনি রোগীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা ফি নিতেন। স্ত্রী, সাত ছেলে-মেয়ে নিয়ে আবু বক্করের বড় পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। এই আর্থিক টানাটানির বিষয়টি হাবিবুল্লাহর জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল। হাবিবুল্লাহর বাবা ২০০০ সালে মারা যান। আর মা মারা যান ২০১৬ সালে।.২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেই সময় এক দিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন হাবিবুল্লাহ। তখনই হাবিবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। সাক্ষাতে হাবিবুল্লাহ তাঁকে বলেন, নানা জটিলতায় তাঁর পড়াশোনা দীর্ঘদিন থমকে ছিল। কিন্তু তিনি এখন আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করতে চান।এই দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পর ভর্তির জন্য জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। এই তথ্য জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, তখন তিনি মেডিকেলের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই কমিটি, হাবিবুল্লাহ নিজে এবং ‘কে-৫৩’ ব্যাচের বন্ধুদের সহায়তায় দুই লাখ টাকা জোগাড় হয়। আবার ভর্তি হয়ে এক দফা বিরতি দিয়ে তিনি এমবিবিএস শেষ করেন।হাবিবুল্লাহর এমবিবিএস পাসের পর আবদুল হানিফ তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। হাবিবুল্লাহর সঙ্গে নিজের ছবিসহ দেওয়া এই পোস্টে তিনি তাঁর এই শিক্ষার্থীসহ অন্য নবীন চিকিৎসকদের অভিনন্দন, শুভকামনা জানান। হাবিবুল্লাহ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ২৪ বছর পর এমবিবিএস পাস! চেষ্টা থাকলে কি না হয়!পোস্টে আবদুল হানিফ উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর জন্য উপহার নিয়ে এসেছিলেন হাবিবুল্লাহ। উপহারের মধ্যে ছিল হাবিবুল্লাহর প্রয়াত বাবার ব্যবহৃত একটি স্টেথোস্কোপ এবং একটি পবিত্র কোরআন শরিফ। পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছেন তিনি। স্টেথোস্কোপটি ফেরত দিয়েছেন, যাতে হাবিবুল্লাহ সেটি ব্যবহার করতে পারেন।.হাবিবুল্লাহর ইচ্ছাশক্তি তো ছিলই, পাশাপাশি অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই তাঁর পক্ষে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু, সাবেক উপাধ্যক্ষ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ.হাবিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। নিজেই নিজেকে ‘কাউন্সেলিং’ করেছেন। বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকেরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভর্তির ক্ষেত্রে জরিমানার দুই লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা তিনি নিজে দিয়েছেন। বাকি এক লাখ বন্ধু, শিক্ষকসহ অন্যরা দিয়েছিলেন। সবার সহযোগিতা ছিল বলেই তিনি সব বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে এমবিবিএস পাস করতে পেরেছেন।হাবিবুল্লাহ এখন ইন্টার্নশিপের অপেক্ষায়। এরপর তিনি সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চান বলে জানালেন। তিনি বলেন, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এই আগ্রহ থেকে তিনি আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।হাবিবুল্লাহ বিয়ে করেছিলেন। ২০০২ সালে কিডনি জটিলতায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি কিছু চান না। পেটে-ভাতে মাস পার হলেই তিনি খুশি।৫১ বছর বয়সে হাবিবুল্লাহর এমবিবিএস পাস করার ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে বড় বিষয় মনে করেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ। তিনি বলেন, হাবিবুল্লাহর ইচ্ছাশক্তি তো ছিলই, পাশাপাশি অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই তাঁর পক্ষে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, মেডিকেল কলেজে দেশের সেরা শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। কিন্তু ভর্তির পর পড়াশোনাকালে বিভিন্ন কারণে কিছু শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকের দিক থেকে একটু বেশি যত্ন দরকার। এ জন্য শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে মেন্টরশিপ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা দরকার।

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ ‘এক্সিলেন্স ইন ইমপ্লিমেন্টং সার্কুলার ইকোনোমি’ ক্যাটাগরিতে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ ও ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ যৌথভাবে এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরিবেশ, সমাজ ও করপোরেট সুশাসন (ইএসজি) খাতে অনন্য নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং পরিমাপযোগ্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের অবদানের স্বীকৃতি এই পুরস্কার। কোম্পানিটির টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা ‘জিওসাইকেল’-এর মাধ্যমে শিল্প, পৌরসভা ও কৃষি বর্জ্যকে টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লাফার্জহোলসিম। এই সার্কুলার পদ্ধতিতে একদিকে যেমন বর্জ্য ল্যান্ডফিল কমছে, অন্যদিকে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষে জিওসাইকেলের এক্সিকিউটিভ সালসাবিল আন-নাবা এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

দেশে ফেরা প্রবাসীদের দেওয়া হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ: অর্থমন্ত্রী

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

প্রত্যাশার ‘ফাঁদে’ পুঁজিবাজার, তীব্র হচ্ছে আস্থা সংকট

ঘরের টাকা আবার ব্যাংকে ফিরছে, এক মাসে কমেছে ১৩ হাজার কোটি

অর্থপাচার ঠেকাতে উচ্চঝুঁকির লেনদেনে বাড়তি নজরদারি

স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে নতুন সরবরাহকারী চায় পেট্রোবাংলা

ব্যাংক রেজল্যুশন বিল সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে হোঁচট

‘কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরবেন না’

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢোকার চেষ্টা, ৫ দিনের রিমান্ডে যুবক

ইবির ফটকে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের আশঙ্কা, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন

শুধু বিনোদন নয়, পাকিস্তানি নাটকগুলো আপনাকে যেসব শিক্ষা দেবে