রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারির আগমনী জানান দেয় বাংলার গৌরব-গাঁথা; বাঙ্গালির অর্জনের গল্প। এ মাসেই বাঙ্গালী অর্জন করে অধিকারের প্রথম ধাপ—বাংলা ভাষা। স্লোগানে-মিছিলে তাজা রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের অলংকার-অহংকার।

৫২ থেকে ২৬। দীর্ঘ ৭৪ বছরে এমন রক্তমাখা ইতিহাস আর আত্মত্যাগ গোটা বাংলাকে করেছে গৌরাবান্বিত। তাইতো, ৫৬ হাজারের বর্গমাইল পেরিয়ে বাংলা ভাষা এখন বিশ্বের, বিশ্বের এবং বিশ্বের।

সমসাময়িকতার প্রসঙ্গে ভাষার বহমান যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন থাকে অনেক। তবে, উত্তর একটাই- এসবই আমার ভাষা, আমার বাংলা ভাষা।

সময় অতিবাহিত হয়; গৌরবের ব্যাপ্তি-প্রসার বাড়তে থাকে ক্রমান্বয়ে। যেন হাজার বছর ধরে চলে গৌরবের রিলে রেস। চূড়ান্ত ধাপে জিতে যায় দেশ-মানুষ আর আমাদের বাংলা ভাষা।

যৌথ অভিযানে ছাত্রলীগ নেতা ও পৌর কমিশনার গ্রেফতার

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আলাদা দুটি স্থানে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে সাবেক পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও এক সাবেক কমিশনারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তাদের ধরা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার মতলব বাজারের এনএএম টাওয়ার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আসামির শ্বশুরবাড়ি থেকে সাবেক পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ মাহবুব আলম রাসেল ওরফে ‘ব্লাক রাসেল’ (৩৪) কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাহবুব আলম প্রকাশ ব্ল্যাক রাসেল মতলব দক্ষিণ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি। তার বাবার নাম ইদ্রিস ব্যাপারী। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ বাইশপুর সরকার বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা।

এদিকে একই দিন মতলব পৌরসভার বাইশপুরে আরেক যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নিজ বাসা থেকে সাবেক পৌর কমিশনার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাসার পারভেজকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আবুল বাসার পারভেজ মৃত জহিরুল ইসলাম মিয়াজের ছেলে। তিনি উত্তর বাইশপুর মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা।

উভয় আসামিকেই মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয় মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী ও নাশকতা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মতো মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয় বিকাল ৪টায়: জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে সাইবার হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি পোস্ট করা হয়। পরে ৫টার পরে অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, বিকেল ৪ টার পরপর জামাতের আমিরের এক্স হ্যান্ডেল আইডিটি হ্যাক হয় এবং সাড়ে ৪ টার দিকে একটি অপ্রত্যাশিত পোস্ট হয়ে যায়। পরে জামায়াতের সাইবার টিম আইডি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ৫ টার কিছু পরে আইডি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এবং পোস্ট টি সরানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই পোস্টটি নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এটি থামাতেই প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জিডি করা হয়েছে হাতিরঝিল থানায়।

তিনি আরও বলেন, নারীদেরকে অবমাননা করে পোস্ট করা হয়েছিল যেটা আমিরের মনোভাব ও অন্যান্য পোস্ট বা বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। যে পোস্ট টি হয়েছে সেটি হ্যাকড হওয়ার কারণেই হয়েছে। সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর যে জনপ্রিয়তা, মানুষের যে সমর্থন তা দেখে কোন একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

অন্য এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, আমীরে জামায়াতসহ নেতৃবৃন্দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হামলা (হ্যাক) করে মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক কন্টেন্ট ছড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, অত্যন্ত সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করে হামলাকারীরা সাময়িকভাবে আমীরে জামায়াতের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়। ফলে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে আমীরে জামায়াতের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, উক্ত পোস্ট/কনটেন্ট আমীরে জামায়াতের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আমি এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এহসানুল মাহবুব বলেন, আমরা সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি, ভুয়া খবর, জাল উদ্ধৃতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি করা এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়। এগুলো গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি আরও বলেন, সবার প্রতি অনুরোধ, শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন- যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার করবেন না এবং সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখলে তা রিপোর্ট করুন। ক্যাম্পেইন টিম স্বচ্ছতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের সাথে যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও তথ্য জানানো হবে।

ভবিষ্যতে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পে-স্কেলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ৭ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে সরকারি দপ্তরগুলোর সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ ও ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে।

দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ পর্যন্ত ‘ভুখা মিছিল’ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

গত ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং ৫ ডিসেম্বরের বিশাল মহাসমাবেশ সত্ত্বেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠন করে সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

জ্বালানি উপদেষ্টার ‘অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না’ মন্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং হতাশা ব্যাপক হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৪০,০০০ টাকা নির্ধারণ করে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

এছাড়া ২০১৫ সালের পে-স্কেল থেকে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা এবং গ্রাচুইটির হার ১০০ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়।

অন্য দাবি হলো- স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশনের ব্যবস্থা করা, ব্লক পোস্টে কর্মরতদের প্রতি ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, সচিবালয়ের সব দপ্তরে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন ও রেশন পদ্ধতি চালু, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিকাল গণনার বৈষম্য দূরীকরণ।

সমাবেশে সংগঠনের সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। সরকারের প্রতি কর্মচারীরা তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট, দলের বিবৃতি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

আজ ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) হ্যান্ডেলসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, অত্যন্ত সমন্বিত পদ্ধতিতে হামলাকারীরা সাময়িকভাবে আমীরে জামায়াতের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ ও বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে জামায়াতের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়।

এর ফলে দলের অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ও প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে আমীরে জামায়াতের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, উক্ত পোস্ট/কনটেন্ট আমীরে জামায়াতের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আমি এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে ভুয়া খবর, জাল উদ্ধৃতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এছাড়া সবাইকে শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার এবং যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখলে তা রিপোর্ট করার আহ্বানও জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পেইন টিম স্বচ্ছতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রয়োজনে পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ দেশ কোনো দলের না, কারো ব্যক্তিগত না: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশ কোনো দলের না, কারো ব্যক্তিগত না। এই দেশ লাখোকোটি মানুষের। এদেশের মালিক এই দেশের জনগণ। কাজেই সবার আগে বাংলাদেশ। আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশের উন্নয়নের।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৮ সালে বাক্সের ম্যাজিক দেখানো হয়েছিল। রেজাল্ট পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। এবার যাতে রেজাল্ট পাল্টাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এখনো কোন কোন মহল চেষ্টা করছে কিভাবে ভোটকে বাধাগ্রস্ত করা যায়। তাদের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মা-বোনদের এনআইডি ও বিকাশ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে৷

জনসভায় তিনি বলেন, গত ১৫/১৬ বছর আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে গ্রামে-গঞ্জে আনাচে কানাচে, মানুষ বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন থেকে, মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা গুম দেখেছি, মিথ্যা মামলা দেখেছি, গায়েবি মামলা দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তন যদি করতে হয় ৫ আগস্ট যেমন বাংলাদেশের জনগণ দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ঠিক একইভাবে আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ৫ তারিখের সেই পরিবর্তন চালু রাখতে না পারি, ভোট দিয়ে যদি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি তাহলে যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে চাচ্ছি, যে গণতন্ত্র সুশাসন নিশ্চিত করবে, যে গণতন্ত্র মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে সেই গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত করবে।

মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হবে জানিয়ে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। যদি কৃষক ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। কৃষি লোন ১০ হাজার পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করতে চাই।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মসজিদের মুয়াজ্জিন, ইমাম, খতিব অন্য ধর্মীয় মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। দেশ কিভাবে গঠিত হবে সেই পরিকল্পনা আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরলাম। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চাই।

প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ আছে তাদের সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যদি বকাঝকা করি তাহলে আপনাদের কোন লাভ হবে না। বরং আমরা যারা নির্বাচন করছি তারা দেশের জন্য কি করবো সেটা আপনাদের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। একটি রাজনৈতিক দলের এটাই হচ্ছে কাজ, জনগণের জন্য তারা আগামী দিনে সুযোগ পেলে তারা কি কি কাজ করবে-সেটাই তুলে ধরা। আজকে আপনাদের সামনে আমি সেই কথাগুলোই তুলে ধরলাম। পরিকল্পনা সব আপনাদের সামনে। বাস্তবায়নের শক্তিও আপনাদের সামনে। অর্থাৎ আপনারা ধানের শীষকে ১২ তারিখে বিজয় করলে ১৩ তারিখ থেকে আমরা কাজগুলো করবো।

জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর তারেক রহমান টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব জনগণের কাছে অর্পণ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা দেন- টাঙ্গাইল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম, টাঙ্গাইল-২ আসনের আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ আসনের ওবায়দুল হক, টাঙ্গাইল-৪ আসনের লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,টাঙ্গাইল -৬ আসনের রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৮ আসনের আহমেদ আযম খান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।

জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান স্থগিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দলটির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার কথা ছিল।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শেরপুরে জরুরি সফরের কারণে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের পরবর্তী তারিখ জানানো হবে।

জানা যায়, আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংঘর্ষের নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার কবর জিয়ারত করতে শেরপুরের শ্রীবরদীতে যাবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, শহীদ রেজাউল করিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারতের পর রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শেরপুর জেলা শহরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন জামায়াত আমির।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় জামালপুরে একটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। সর্বশেষে ঢাকায় ফিরে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জনসংযোগ ও পথসভা করবেন তিনি।

নির্বাচন হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের : তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বহু কষ্টে, অনেক রক্ত দিয়ে আমরা পুনরায় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু নির্বাচন হলে চলবে না, নির্বাচনটি হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। গত ৫ আগস্ট যেভাবে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, সেভাবে ১২ তারিখে ভোট দিতে হবে।
যদি ১২ তারিখের ভোটে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা না করি, তাহলে গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত হবে। ভোটের আগের দিন থেকে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দিন ভাগ্য গড়ার দিন, আগামী দিন দেশ গড়ার দিন। আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য গড়ার রাজনীতি, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ উন্নয়নের।
এ দেশ কোনো দলের না, এ দেশ কারো ব্যক্তিগত না—এ দেশ কোটি জনগণের দেশ।’

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইলের দরুন-চরজানা বাইপাস এলাকার খোলা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার এই ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেই দলের অভিজ্ঞতা আছে কিভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়।
বাংলাদেশের মালিক এই দেশের জনগণ। ১২ তারিখে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ কিভাবে চলবে। আল্লাহ চাইলে ভোটের পর ১৩ তারিখ থেকে দেশ গড়ার কাজ শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘এই টাঙ্গাইল থেকে তৈরি তাঁতের শাড়ি-টুপি দেশের বিভিন্ন দেশে যায়। আমরা পরিকল্পিতভাবে যদি চেষ্টা করি তাহলে বিদেশের বাজার ধরতে পারি।
আপনাদের এলাকায় প্রচুর আনারস চাষ হয়। টাঙ্গাইলে নতুন করে পাটশিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে আমরা চেষ্টা করলে এ পাটশিল্পকে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। আজকে যদি আমাদের দেশ গড়তে হয়, আজ যদি ২০ কোটি মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিলের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। জনসভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের দলীয় প্রার্থী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলার ৮টি আসনের দলীয় প্রার্থীকে জনসাধারণের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তারা হলেন টাঙ্গাইাল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল- ৭ (মির্জাপুর) আসনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

এর আগে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে কয়েক দিনের সফর শেষ করে ঢাকা ফেরার পথে শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে এবং বিকেলে টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। এরপর জনসভা শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ফেসবুক পেজ নিয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা

অনুদানের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজ নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে না। তবে জরুরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এই পেজে প্রকাশ করা হবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।

ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজটি সাধারণত বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা, ভিসা ও কনস্যুলার সেবাসংক্রান্ত তথ্য, নিরাপত্তা সতর্কতা এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এ ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য দূতাবাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এই পেজের মাধ্যমেই জানানো হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এখন থেকে নিয়মিত পোস্টের পরিবর্তে কেবল জরুরি তথ্যের দিকেই গুরুত্ব দেবে দূতাবাস।

নির্বাচনে কোনো ‌‌‘দুই নম্বরি’ চলবে না : ইসি সানাউল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটেই জিততে হবে, দুই নম্বরি কোনো পদ্ধতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচনটা একটু অন্য রকম। এটা নিয়ম রক্ষা বা গতানুগতিক নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েই জিততে হবে, দুই নম্বরী কোনো পদ্ধতি নেই জেতার।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ভোলার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে যাদের বিরূপ ভূমিকা ছিলো তাদের এবারের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে রাখা হয় নাই। এ নির্বাচনে আমাদের অন্যতম উদ্বেগের কারণ হলো এখনো বেশ কিছু অস্ত্র হারানো আছে। আবার স্বস্তির জায়গা হলো বেশিরভাগ অস্ত্র উদ্ধারও হয়েছে।

ডেভিলহান্ট ফেজ-২ চালু হওয়ার পরে গত দেড় মাসে প্রায় পাঁচ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক অস্ত্র হারানো আছে।’
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অন্য যে কানো সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুল ও প্রার্থীরা আচরবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। এটা সম্ভব হয়েছে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক নজরদারির কারণে।

নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সুযোগ দিলে সুযোগের মিসইউজ হতে পারে। সুতরাং আমাদের নজরদারি খবরদারি রাখতে হবে এবং রাজনৈতিক দলকেও আরো উৎসাহী করতে হবে যাতে করে তারা এ পর্যন্ত যে সচেতনতা দেখিয়েছে তা নির্বাচন পর্যন্ত কন্টিনিউ করেন। এবারের নির্বচন সার্থকতা জন্য তিনটি কন্ডিশন উচ্চারণ করেছি। একটি হলো স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। নির্বচানী দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে শতভাগ এ তিনটি পালন করতে হবে।

যখন আমরা নিরপেক্ষতার কথা বলছি তখন আমাদেরকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমরাও একজন ভোটার, আমরাও নাগরিক। আমিও হয়তো ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কোনো একটা প্রার্থী বা মার্কাকে ভোট দিবো। আমার পছন্দ ওই খানেই শেষ।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমি দায়িত্ব পালন করছি আর কোনো পছন্দ আর অপছন্দ নাই। এক সুতাও ডানে থেকে বামে যাওয়া যাবে না। সকল প্রার্থী ও সকল দলকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে সকল ভোটার যেনো নিরাপদে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারে। নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি তার পছন্দ অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।