রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতে যে ২ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দুই দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক। রবিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

এতে আরো বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ জানুয়ারির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি।
এতে আরো জানানো হয়, উক্ত দুই দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’

ভোটের আগে টাকা দিয়ে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে বড় ধরনের লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি—এই ছয় দিন বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে। প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে মাত্র এক হাজার টাকা। অর্থাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন কার্যত বন্ধই থাকছে।

একই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই উদ্যোগ।
লক্ষ্য একটাই—ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো।

এরই মধ্যে নগদ টাকা উত্তোলন ও জমায় কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। কোনো হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। রিপোর্টে গড়মিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকও শাস্তির মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। প্রয়োজন হলে লেনদেনের সীমা আরো কমবেশি হতে পারে।

বর্তমানে যেখানে এমএফএসে দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন সম্ভব, সেখানে হঠাৎ এই কড়াকড়িতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নির্বাচন ঘিরে ডিজিটাল টাকার গতিপথ যে এবার নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণে পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো জানুয়ারিতে

জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি বা ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ২৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে।’

এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। তবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে। সেই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

আর ২৯-৩১ জানুয়ারি প্রবাসীরা দেশে ২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ।’

এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।

১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হবে : ডা. তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতা গ্রহণ করলে দেশ থেকে দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হবে। নির্বাচনে এই জোট বিজয়ী হলে চিরদিনের জন্য স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতন হবে। নতুন করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় যাত্রা শুরু করবে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, ১১ দলীয় জোটে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনকারীসহ ইসলামী সমমনা দলগুলো রয়েছে। সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি, এবার মানুষ ভালো মানুষদের ভোট দিবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর মতো সাধারণ নির্বাচন নয়।
এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলই নয়, গুণগত পার্থক্য রয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর আগে। এই ৫৪ বছরে অনেক সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পদ্ধতিগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
যে সরকারই আসছে, তারা দুর্নীতি করেছে। সরকারের নামে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ডা. তাহের বলেন, কোন কোন সরকারের সময় বাংলাদেশ সারা বিশ্বে তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের পর দুর্নীতি বন্ধের সুযোগ রয়েছে।

এসময় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মসলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার, ‎সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, এমদাদুল হক শাহী, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন, খিরণশাল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুল হক, শুভপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. মফিজুর রহমান, সেক্রেটারি ডা. মোশারফ হোসেন বাহার, জামায়াত নেতা মো. আহসান উল্লাহ, কুমিল্লা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল মাদানী, শুভপুর ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় তুরস্কের ভিসা আবেদনকেন্দ্র চালু, ভিসা ফি কত

ঢাকায় চালু হয়েছে তুরস্কের নতুন ভিসা আবেদনকেন্দ্র। আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে মোসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার তুরস্কের ভিসা আবেদন গ্রহণ করবে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। মোসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার দেশের বাইরে কয়েকটি দেশে পরিচালনা করলেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করেছে

বনানীতে অবস্থিত এই ভিসা আবেদনকেন্দ্র রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করবে। আর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে। তবে ভিসা আবেদনের আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

ভিসা আবেদনকেন্দ্রটি বনানীর ১১ নম্বর রোডের এম ব্লকের ৭৭ নম্বর বাড়িতে কার্যক্রম চালাবে।

তুরস্কের ভিসার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ফি (তিন মাস) ২৪ হাজার ৭৫০ টাকা, সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ফি (ছয় মাস) ২৭ হাজার ৬২৫ টাকা, সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ফি (১২ মাস) ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, মাল্টিপল ভিসা ফি (তিন মাস) ৪১ হাজার টাকা, মাল্টিপল ভিসা ফি (ছয় মাস) ৪৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, মাল্টিপল ভিসা ফি (১২ মাস) ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা, ডাবল ট্রানজিট ভিসা ফি (তিন মাস) ৩২ হাজার ২৫০ টাকা।

এছাড়া প্রিমিয়াম লাউঞ্জ ফি ৮ হাজার টাকা, ফ্লাইট রিজার্ভেশন ফি ২৫০ টাকা, হোটেল রিজার্ভেশন ফি ২৫০ টাকা, বায়োমেট্রিক ফটো ফি ২০০ টাকা, এসএমএস চার্জ ৪০ টাকা এবং ফটোকপি ও প্রিন্টআউট ফি (প্রতি পিস) ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে ক্যাডার হওয়া কামাল হোসেন বরখাস্ত

মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেওয়া আলোচিত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) সিনিয়র সহকারী সচিব মো. কামাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) তাকে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় তার বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কামাল হোসেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্টে হাজির হয়ে দুদকের মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সরকার তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করেন। তাই সরকারি চাকরি আইনের ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ওএসডি সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেনকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা–১–এর উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু মামলার বাদী হন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে কামাল হোসেন তার প্রকৃত পিতা মো. আবুল কাশেম ও মাতা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে নিজের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে দেখান। এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি লাভ করেন।

সোমবার শেখ হাসিনার ২ মামলার রায়

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার তিন সন্তান টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীসহ ২২ জনের রায় আগামীকাল সোমবার ঘোষণা করবেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম মামলা দুটির রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে দুদকের করা আরো চারটি মামলার বিচার শেষে শেখ হাসিনার ২৬ বছর, সজীব ওয়াজেদ জয়ের পাঁচ বছর, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর, শেখ রেহানার সাত বছর ও টিউলিপের দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

দুই মামলার সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার পৃথক দুটি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে রূপন্তীসহ ১৬ জন এবং ববিসহ ১৬ জনের নামে দুটি মামলা করে দুদক।
তদন্ত শেষে দুই মামলায় ওই বছরের ১০ মার্চ সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উদ্দিনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

পরে একই বছরের ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রূপন্তীসহ ১৮ জনের মামলার রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। পরবর্তীতে গত ১৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ববিসহ ১৮ জনের মামলার রায়ের জন্যও ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

আসামিদের মধ্যে দুই মামলায় অন্তর্ভুক্তরা হলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন এবং সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.)।

তবে আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর সঙ্গে আরেকটি মামলার আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক পরিচালক কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. অলিউল্লাহ, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম। আর রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের সঙ্গে একটি মামলার আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ে সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা। আসামিদের মধ্যে খুরশীদ আলম কারাগারে আটক রয়েছেন।
অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

‘দেশে যেন আর অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারেই গণভোট’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারেই গণভোটের মূল লক্ষ্য। আর কোনো বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ নয়, কোনো মা-বাবাকে যেন আর সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়। এই পথ বন্ধ করার জন্যই গণভোটের উদ্যোগ।’

আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার সভার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন, রেজিস্ট্রারসহ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং আহত শিক্ষার্থীরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোট কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফল। এটি কারো মাথা থেকে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞ মহলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গণভোটের প্রশ্ন ও কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এটি কোনো দলীয় স্বার্থের বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রকে একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক পথে নেওয়ার সম্মিলিত প্রয়াস। গণভোট মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই এই গণভোট তারই প্রমাণ।’

তিনি বলেন, ‘যারা গণভোটকে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করছে, তারা হয় প্রক্রিয়াটি জানে না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গণভোটের প্রতিটি ধাপ রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো হয়েছে।
তবে সময় স্বল্পতার কারণে গণভোটের বিষয়বস্তু অনেক মানুষের কাছেই এখনো পরিষ্কার নয়; এমনকি শিক্ষিত ও জ্ঞানী-গুণী মহলের মাঝেও বিভ্রান্তি রয়েছে। তাই গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিজ নিজ নেটওয়ার্কে তুলে ধরার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘৫৪ বছরের ইতিহাসে একবার মাত্র সংবিধান সংস্কার হয়েছে জাতীয় স্বার্থে। বাকি সবগুলো হয়েছে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকারে যায়। এবং সেটার জন্যই সংবিধান সংস্কার ও গণভোট দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বাকি সব সংশোধনী ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর স্বার্থেই করা হয়েছে।’

মনির হায়দার বলেন, ‘বর্তমান সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি পার্লামেন্ট হবে, যারা নির্বাচিত হবে পিআর পদ্ধতি অনুযায়ী। কোনো দল যদি জাতীয় নির্বাচনে একটি আসন না পায় কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পারসেন্টেজ পায়, তাহলে তার একজন সদস্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের অতীতের নির্বাচন বিবেচনা করলে দেখা যায়, ৪০ শতাংশের ওপরে কেউই ভোট পায় না। কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে ৫১ শতাংশ ভোট প্রয়োজন, তখন অন্য কারো সঙ্গে পরামর্শ নিতেই হবে। এই কারণে উচ্চকক্ষ আর একজনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ কিছু আইন পাস করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অনুমতির পরেও গণভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে হবে। যেমন ভবিষ্যতে কেউ যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে চায়, তাহলে দুই কক্ষে অনুমতির পাশাপাশি গণভোটেও তা জিততে হবে।’

রাষ্ট্রপতি সংস্কার প্রসঙ্গে মনির হায়দার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাধারণত দুটি কাজ করতে পারে- এক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং বিচারপতি নিয়োগ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি কি আসলেই কাজগুলো করে থাকেন? বাস্তবে বিচারপতি প্রধানমন্ত্রী যাকে চান তাকেই নিয়োগ দিয়ে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আগে একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, যিনি বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে গিয়ে জোকিং করতেন। সেই জোকার দুইদিন পরপর চিকিৎসার নাম করে দেশের বাইরে কোটি কোটি টাকা খরচ করতেন। তাই এখন থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেয়া হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সকল সদস্যের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে, যা আগে হাত তুলে নির্বাচন করা হতো।’

সংসদ সদস্যদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, অনুচ্ছেদ ১৭ আমাদের সংসদের অন্যতম একটি কালো অনুচ্ছেদ, যার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা দলের গোলামে পরিণত হয়ে যায়। কিন্তু এবার এর পরিবর্তন আসবে গণভোটের মাধ্যমে। শুধু তিনটি ক্ষেত্রে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন না; ১। আস্থা ভোট, ২। রাষ্ট্র যখন জরুরি অবস্থায় থাকে, ৩। জাতীয় বাজেট।

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরে আমাদের দেশে যত রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারণ নির্বাচন কমিশন গঠন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী গঠন করে থাকেন এবং তিনি সাধারণত তার পছন্দমতোই দেন।’

তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদে বলা আছে- নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং পার্লামেন্টের সবাই বসে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গঠন করা হবে। সরকারি কর্মকমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষভাবে গঠন করা হবে।

সরকার থেকে প্রচারিত লিফলেট এ ‘হ্যাঁ’ উল্লেখ থাকার প্রসঙ্গে মনির হায়দার বলেন, এখানে ‘হ্যাঁ’ লেখা আছে, তাতে আসলে কিছুই আসে যায় না। কারণ ‘হ্যাঁ’ লেখা থাকলেও আপনি চাইলে ‘না’ তেও ভোট দিতে পারবেন। আপনি প্রকাশ্য আপনার যেকোনো মত প্রকাশ করতে পারবেন।

সভায় বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ‘জাতির জীবনে বারবার এ ধরনের সুযোগ আসে না। সর্বশেষ ১৯৭১ সালে আমরা রক্তদানের মাধ্যমে এমন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর সরকার ঐক্যবদ্ধ না থেকে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে লুটপাটে লিপ্ত হওয়ায় সেই সুযোগ আমরা হারিয়েছি। এবার আবার একটি সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ যদি আমরা হারাই, তাহলে এর দায়ভার সবার ওপরই বর্তাবে।’

এতে আরও বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আতিউর রহমান, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শুভ হোসেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও চবি শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। সূত্র: বিএসএস।

ইইউ’র সঙ্গে দ্রুত এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—ইইউ’র বাজারে অব্যাহতভাবে প্রবেশাধিকার পায়, সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।’

রোববার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মসৃণ করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।’

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও জোরদার হবে।

নুরিয়া লোপেজ আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করার পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের চুক্তির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে। এতে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তারা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। ‘আমরা এফটি’র পক্ষে কাজ করছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব,’ বলেন তিনি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইইউ’র কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে এসে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহ পায়—এ জন্য আগাম রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম ব্যয় বাংলাদেশের বড় শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ইইউ’র পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় আস্থার প্রতীক।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।’

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

৫ আগস্টের মতো ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে, নাহলে গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত হবে: তারেক রহমান

নির্বাচনের দিন ভোটারদের ৫ আগস্টের মতো দল-মত নির্বিশেষে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ঠিক ৫ তারিখের মতো দল-মত নির্বিশেষে ভোটকেন্দ্রে নেমে আসতে হবে। কারণ আমরা যদি ৫ তারিখের সেই পরিবর্তনকে চালু না রাখি। অর্থাৎ ১২ তারিখে ভোট দিয়ে যদি আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে না পারি, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে যাচ্ছি, সেই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হবে।

তার মতে, সেই গণতন্ত্র যদি বাধাগ্রস্ত না হয়, ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা যায়, জনগণের নিকট একটি জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়; সেজন্য জনগণকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এই বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, কীভাবে চলবে না, তার সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, কারণ এই জনগণই হচ্ছে দেশের মালিক।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সঠিক ব্যক্তির পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে। ৫ আগস্টের পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চলবে না। এই পরিবর্তন হতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের দিন হিসেবে। তেমনই ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচনের দিন হলে চলবে না। দিনটি হতে হবে ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। সেই জন্য এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। বিগতদিনে সাধারণ মানুষ তাদের দাবি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিগতদিনে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে দেখেছি মেগা দুর্নীতিও হয়েছে। আমরা যেমন খুন দেখেছি, গুম দেখেছি, গায়েবি মামলা দেখেছি। তেমনই মেগা মেগা দুর্নীতিও দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তনের সময় এসেছে, এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ভোটারদের ৫ আগস্টের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ও আনারস বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের পাটশিল্পের জন্য মিল কারখানা গড়ে কর্মসংস্থান করতে পারি। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফসহ নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করার প্রতিশ্রতি দেন তিনি। এছাড়াও ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ারও নির্দেশনা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আযম খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইল সফরে আসেন তিনি। এটি তার টাঙ্গাইলে প্রথম রাজনৈতিক সফর।

এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্নস্তরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।