নির্বাচনের দিন ভোটারদের ৫ আগস্টের মতো দল-মত নির্বিশেষে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ঠিক ৫ তারিখের মতো দল-মত নির্বিশেষে ভোটকেন্দ্রে নেমে আসতে হবে। কারণ আমরা যদি ৫ তারিখের সেই পরিবর্তনকে চালু না রাখি। অর্থাৎ ১২ তারিখে ভোট দিয়ে যদি আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে না পারি, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে যাচ্ছি, সেই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হবে।
তার মতে, সেই গণতন্ত্র যদি বাধাগ্রস্ত না হয়, ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা যায়, জনগণের নিকট একটি জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়; সেজন্য জনগণকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এই বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, কীভাবে চলবে না, তার সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, কারণ এই জনগণই হচ্ছে দেশের মালিক।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সঠিক ব্যক্তির পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে। ৫ আগস্টের পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চলবে না। এই পরিবর্তন হতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের দিন হিসেবে। তেমনই ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচনের দিন হলে চলবে না। দিনটি হতে হবে ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। সেই জন্য এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। বিগতদিনে সাধারণ মানুষ তাদের দাবি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিগতদিনে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে দেখেছি মেগা দুর্নীতিও হয়েছে। আমরা যেমন খুন দেখেছি, গুম দেখেছি, গায়েবি মামলা দেখেছি। তেমনই মেগা মেগা দুর্নীতিও দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তনের সময় এসেছে, এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ভোটারদের ৫ আগস্টের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ও আনারস বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের পাটশিল্পের জন্য মিল কারখানা গড়ে কর্মসংস্থান করতে পারি। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফসহ নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করার প্রতিশ্রতি দেন তিনি। এছাড়াও ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ারও নির্দেশনা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আযম খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইল সফরে আসেন তিনি। এটি তার টাঙ্গাইলে প্রথম রাজনৈতিক সফর।
এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্নস্তরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।




