রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

সাবেক ঢাকা মহানগর আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আবু, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, সন্তান কাজী আহসান উল্লাহ শিবলী ও কাজী আমরীন সুলতানার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ আবুর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালত ও জজ কোর্টের বিচারকদের যোগসাজশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন ভিআইপি আসামিদের জামিন, খালাস, সাজা কমানো ও সাজা মওকুফ করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনপূর্বক বিদেশে অর্থ পাচারসহ নিজ নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আব্দুল্লাহ আবু ও অন্যান্য ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। সুতরাং সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো: ঝালকাঠি ২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইলেন ভূট্টো

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনের বিএনপি প্রার্থী ইলেন ভূট্টো নদী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চান। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি বিশেষ নজর দিবেন বলে জানান তিনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

বিএনপি প্রার্থী ইলেন ভূট্টোর স্বামী জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভূট্টোর আকস্মিক মৃত্যুর পর ২০০০ সালে ঝালকাঠি ২ আসনে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ভূট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খাদ্য মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ব্যবহার করে জয় ছিনিয়ে নেন আমু। এরপর ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নমিনেশন পান ইলেন ভূট্টো। আমির হোসেন আমুকে বিপুল ভোটে হারিয়ে এমপি হন ইলেন ভূট্টো। এবারের নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ইলেন ভুট্টো জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো।

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা মো. আককাস সিকদার।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?

ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো: আমি নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। মাদক প্রতিরোধে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এছড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী ?

ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো: আমি আমার নেতা কর্মীদের অতি উৎসাহী হয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন না করার নির্দেশ দিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তবর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হবে তা মেনে চলতে হবে। সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজ আমার নেতা কর্মীরা করবে না।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?

ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো: আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আমার নেতা কর্মীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।

বাসস: আসন্ন জাতীয় আপনার প্রত্যাশা কী?

ইলেন ভূট্টে: এ সরকারের অধীনে সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসুক এটাই আমার প্রত্যাশা।

শেরে ই বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, কবি কামিনী রায়ের জন্মস্থানসহ রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত ধানসিঁড়ি এবং বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত ঝালকাঠি মহকুমাকে ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। জেলার আয়তন ৭০৬.৭৬ বর্গকিলোমিটার। ৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় বর্তমানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯৩৮২৬ জন।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি ২ আসন গঠিত। এ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩৬৫৩৯৬ জন। গত নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ১৬০৬৯ জন। বাড়তি ভোটারের বেশিরভাগই তরুণ ভোটার, যারা এবারই প্রথম ভোট দিবে। সে হিসেবে তরুণ ভোটাররা এবার ভোটেরমাঠে জয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

গত ১২টি সংসদ নির্বাচনে ৫ বার আওয়ামী লীগ, ৪বার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি তিনবার আসনটি দখলে নেয়। তবে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারেনি।

১৯৭৩ সালের পর এ আসনটি চলে যায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন জুলফিকার আলী ভূট্টো। ১৯৯১ সালে দলে যোগদিয়েই বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু ও জাতীয় পার্টির ভূট্টোকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী থেকে পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়া গাজী আজিজ ফেরদৌস। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো বিএনপির মনোনয়ন পেলেও ওয়ান ইলেভেন সরকারের একতরফা নির্বাচনে তাকে হারিয়ে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৬ বছরে ঝালকাঠি ২ আসনে তেমন কোন জনপ্রিয় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয় গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে আসা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলেন ভুট্টোকে।

ইলেন ভুট্টো ছাড়াও এ আসনে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন আরও ৭জন তারা হলেন, জামায়াত ইসলামীর এস এম নেয়ামুল করীম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজি (হাতপাখা), এনপিপির ফোরকান হোসেন (আম), জেএসডির মাসুুদ পারভেজ (তাঁরা), গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর (ট্রাক), স্বতন্ত্র সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র মো.নুর উদ্দিন সরদার (কলম)।
সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ২ জন নিহত : কর্তৃপক্ষ

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার আঞ্চলিক গভর্নর এ তথ্য জানান।

গভর্নর ভিয়াচেসলাভ গ্লাদকভ টেলিগ্রামে বলেন, রাতে চালানো ওই হামলায় ইউক্রেন সীমান্তের উত্তরে স্টারি ওস্কোল শহরের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত লাগে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় ও আংশিকভাবে ধসে পড়ে।

মস্কো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গ্লাদকভ লিখেছেন, ‘ঘটনাস্থলে কাজ করা উদ্ধারকারীরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।’

প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে মস্কোর প্রায় প্রতিদিনের বোমাবর্ষণের জবাবে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন পাঠাচ্ছে ইউক্রেন। মূলত জ্বালানি খাত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বহু এলাকা অন্ধকার ও তীব্র শীতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

রোববার ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে খনি শ্রমিক বাহি একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন।

বিএনপি নারীর সম্মান, অধিকার ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী : সেলিমা রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, নারীরা বিএনপিকে ভালোবাসে। কারণ বিএনপি সবসময় নারী সমাজের সম্মান, অধিকার ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। সেই নারী সমাজকে অবমূল্যায়ন করে কোনো দেশ কখনো উন্নত হতে পারে না। ধর্মের নামে একটি শ্রেণি নারী সমাজের মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, আজকের এই কর্মসূচি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক প্রতিবাদ।

তিনি আরও বলেন, আজ নারী সমাজকে নিয়ে যে অবমাননাকর বক্তব্য ও নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ সমাবেশ।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ আজ আবার নারীকে পিছনে ঠেলে দিয়ে সমাজকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারী সমাজকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মা ও মাতৃভূমি সমানভাবে পবিত্র। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নারী সমাজকে রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার করেছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে গ্রামীণ নারীরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছে। নারীরা সংসদ থেকে শুরু করে প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আজ যারা নারীদের বাইরে কাজ করা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা ভুলে যাচ্ছেন—এই দেশের লাখো নারী পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সম্মানের সঙ্গে বাইরে কাজ করছে এবং সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নারীদের ভোটের সময় সম্মান দেখিয়ে পরে তাদের নিয়ে কটূক্তি করা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। নারীরা বিএনপিকে ভালোবাসে, কারণ বিএনপি কখনো নারী সমাজকে অসম্মান করেনি।

সেলিমা রহমান বলেন, নারীরা শুধু পরিবারের সদস্য নয়, তারা এই দেশের সম্পদ। নারী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম গ্র্যামি পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দালাই লামার

বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা দালাই লামা সোমবার তার প্রথম গ্র্যামি পুরস্কার পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অডিও বুক, বর্ণনা ও গল্প বলার বিভাগে সংগীত শিল্পের সর্বোচ্চ এই স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

৯০ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী ধর্মগুরু বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিব্বতের জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চালানো তার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তবে বেইজিংয়ের দাবি, তিব্বত চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে তার বই Meditations: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama-এর জন্য তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে এই স্বীকৃতি গ্রহণ করছি। এটিকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না; বরং আমাদের যৌথ সার্বজনিক দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখি।’

গাঢ় লাল আলখাল্লা, সাধারণ স্যান্ডেল ও বড় ফ্রেমের চশমা পরিহিত দালাই লামা বিশ্ব তারকা হিসেবে কিছুটা অপ্রত্যাশিতই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি- শান্তি, করুণা, পরিবেশের যত্ন এবং মানবজাতির ঐক্যের উপলব্ধি- এই আট বিলিয়ন মানুষের সামষ্টিক কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।’

Meditation: Reflections Of His Holiness The Dalai Lama অডিও প্রজেক্টে রুফাস ওয়েনরাইট ও ম্যাগি রজার্সসহ একাধিক শিল্পী অংশ নেন। দালাই লামার পক্ষে রুফাস ওয়েনরাইট পুরস্কার গ্রহণ করেন।

১৯৫৯ সালে চীনা সেনাদের হাতে তিব্বতে বিদ্রোহ দমন হওয়ার পর জীবননাশের আশঙ্কায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে দালাই লামা তিব্বতের রাজধানী লাসা ত্যাগ করেন। এরপর আর কখনো তিনি সেখানে ফিরে যাননি।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী দালাই লামা জানিয়েছেন, তার আরও বহু বছর বেঁচে থাকার আশা রয়েছে। তবে তিব্বতবাসীরা তার অনুপস্থিত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিব্বতি বৌদ্ধদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি ১৩৯১ সালে জন্ম নেওয়া এক আধ্যাত্মিক নেতার ১৪তম পুনর্জন্ম।

স্বঘোষিত নাস্তিক ও কমিউনিস্ট শাসিত চীন, যা দালাই লামাকে বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়, গত বছর বলেছে, তার ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি কে হবেন, তা অনুমোদনের অধিকার বেইজিংয়ের রয়েছে। তবে দালাই লামার বক্তব্য, এই অধিকার একমাত্র ভারতে অবস্থিত তার কার্যালয়ের।

নির্বাচিত হলে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : আমীর খসরু

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার ও বক্তব্যে যখন অর্থনীতি, জ্বালানি কিংবা শাসনব্যবস্থাই মুখ্য হয়ে উঠছে, ঠিক তখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সামনে এনে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে বিএনপি। খেলাধুলাকে ‘সফট পাওয়ার’ ও ‘স্পোর্টস ইকোনমি’র অংশ হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হয়ে সরকারে যেতে পারলে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিএনপির বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর শহীদ ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবাল।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, আমরা আজকে বসেছি ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যাগুলো আপনাদের কাছ থেকে শোনার জন্য। কেন শুনতে চাচ্ছি, কারণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন—উই হ্যাভ আ প্ল্যান। আমরা স্পোর্টসের জন্য একটা বড় প্ল্যান করেছি। কী কী করেছি, তার একটা আভাসও দিয়েছি। আপনাদের কাছ থেকে শোনার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের প্ল্যানের মধ্যে কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটা দেখার জন্য। আমাদের প্ল্যানটা আরও উন্নত করার সুযোগ আছে কি না। এটির মধ্য দিয়ে স্পোর্টসকে ডেমোক্রেটাইস করা। স্পোর্টসেও ডেমোক্রেসি থাকতে হবে। তাদেরও কথা বলতে হবে, তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। আপনাদের কথা না শুনলে আমাদের পরিকল্পনাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারব না। এজন্য আজকে আপনাদের কথা শুনতে এসেছি। আপনাদের কথা শুনে মনে হয়েছে, স্পোর্টস নিয়ে অধিকাংশই আমরা পরিকল্পনার মধ্যে এনেছি।

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তব সমস্যার কথাও উঠে আসে আলোচনায়। মাঠ সংকটের কারণে নগরীতে খেলাধুলা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেন আমীর খসরু। তিনি জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে খেলার মাঠ হয়েছে এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সুইমিংপুলসহ বিভিন্ন খেলায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। তার মতে, দেশের ছেলেমেয়েদের প্রতিভার অভাব নেই, প্রয়োজন পরিকল্পিত সুযোগ ও বিনিয়োগ।

আমীর খসরু খেলাধুলাকে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, খেলা যত বাড়বে, দর্শক বাড়বে, টিকিট বিক্রি হবে, লেনদেন বাড়বে—এভাবেই তৈরি হবে স্পোর্টস ইকোনমি। এই অর্থনীতি বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে। স্পোর্টস কেন্দ্রিক অর্থনীতির ধারণা দিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, যতবেশি ইন্টারেস্ট বাড়বে, সমাজ ও দেশের মধ্যে ততবেশি স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি বাড়বে। ততবেশি ট্রানজেকশন হবে। কীভাবে সেটা? যখন কোনো খেলা হয়, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি কিংবা ভলিবল। তখন প্রচুর দর্শক টিকিট কেড়ে খেলা দেখতে যায়। এই যে টিকিট কেটে খেলা দেখে, এটাই হলো অর্থনীতি। এই যে আমরা প্রবৃদ্ধি বলি না, সেটা হলো আমরা যত টাকা দৈনিক খরচ করি, সেটা যোগ করে প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়। সুতরাং আমরা স্পোর্টসকে যতবেশি জনপ্রিয় করতে পারব, যতবেশি স্পোর্টস ম্যান বাড়বে, যতবেশি অ্যাক্টিভিটি বাড়বে, সুযোগ সুবিধা বাড়বে; তার মাধ্যমে স্পোর্টস ইকোনমি গড়ে উঠবে। স্পোর্টস ইকোনমি যখন বাড়বে তখন এমপ্লয়মেন্ট বাড়বে। কারণ, স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে প্রচুর চাকরি হয়।

‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামে ভুয়া সংগঠনের কার্যালয় উচ্ছেদ করলেন বিএনপি প্রার্থী মিনু

রাজশাহীতে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের কার্যালয়ের নামে একটি বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার পর রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু নিজ উদ্যোগে ওই কার্যালয় উচ্ছেদ করেন।

জানা গেছে, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অফিস করার কথা বলে নগরে একটি দোতলা ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়। পরে সেটিকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’-এর জেলা ও মহানগর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

বাড়িটি উপশহর এলাকার দুই নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে অবস্থিত। চারতলা ভবনটির মালিক আইনজীবী আকরামুল ইসলাম। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক তিনবারের সাধারণ সম্পাদক।

আকরামুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তিনি ওই সংগঠনকে ভবন থেকে সরাতে পারছিলেন না।

তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবরে সরকার জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি দুই হাজার ২৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি ৫৮ হাজার টাকা জামানতের বিপরীতে মাসিক ২৯ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। তখন জানানো হয়েছিল, সেখানে ডেভেলপার ব্যবসার অফিস করা হবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ভবনের সামনে সংগঠনের নাম উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানো হয় এবং শতাধিক লোকজন নিয়ে মাইক ব্যবহার করে কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভবনের অন্য ভাড়াটিয়ারা একে একে বাসা ছেড়ে দিতে শুরু করেন।

বাড়ির মালিক একাধিকবার ফ্ল্যাটটি ছাড়ার অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলে তাতেও তারা বাসা ছাড়েননি।

এ অবস্থায় শনিবার বাড়ির মালিকের ছেলে সায়েমুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নামধারী বিএনপি নেতাকর্মী অবৈধভাবে তাদের বাড়ি দখল করে রেখেছেন। এক মাস ধরে তারা কোনো ভাড়া বা বিদু্যুত্, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ না করেই বাড়িটিতে অবস্থান করছেন। এমনকি বাড়ির মালিককে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল রবিবার দুপুরে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ঘটনাস্থলে যান। তাঁর উপস্থিতিতে কার্যালয়ের সামনে লাগানো সাইনবোর্ড ও ব্যানার নামিয়ে ফেলা হয়। এ সময় অফিসে থাকা কয়েকজন যুবক ভিড়ের সুযোগে সরে পড়েন।

উচ্ছেদের সময় ব্যানারে দেখা যায়, সরকার জিয়াউর রহমান নিজেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং জিয়াউর রহমান নামের আরেকজনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামে বিএনপির কোনো স্বীকৃত জাতীয় বা স্থানীয় সংগঠন নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেই আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতারণার মাধ্যমে একটি ভবন দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি দলীয় কেন্দ্রকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কথিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সরকার জিয়াউর রহমান। তিনি দাবি করেন, তাঁরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সংগঠনটি ভুঁইফোড় নয়।

বাড়ি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নোটিশ পাওয়ার পর ফ্ল্যাট ছাড়তে কিছু সময় প্রয়োজন ছিল এবং অন্য জায়গায় অফিস খোঁজা হচ্ছিল।

পুরুষই নারীর পরিচালক এই বিশ্বাস মেনেই তারা রাজনীতিতে এসেছেন বললেন সেক্রেটারি নূরুন নেসা

ঢাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী দল এবং এখানে ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী ‘পুরুষই নারীর পরিচালক এই বিশ্বাস মেনেই তারা রাজনীতিতে এসেছেন’। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী বিধিবিধানের কারণে নারীরা জামায়াতের ‘আমির’ হতে পারবেন না।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার কোনো প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করলেন।

নারীর উন্নয়ন ও শীর্ষ পদ নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, “শুধু শীর্ষ পদে নারী থাকলেই নারীর প্রকৃত উন্নয়ন হয়—এই ধারণা সঠিক নয়। এর আগে দেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। জামায়াতে ইসলামী নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী এবং আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যেই নারীরা সম্মান ও অধিকার পাচ্ছেন।”

নির্বাচনী প্রচারণা ও সহিংসতার অভিযোগ বৈঠকে জামায়াত নেত্রীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে দলের নারী কর্মীরা সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের হামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। তারা সিইসি’র কাছে ১৫টি হামলার ঘটনার ভিডিও ও নথিপত্র জমা দেন। নেত্রীরা জানান, নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের আইডি হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে তারা সাইবার সিকিউরিটি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, জামায়াত বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী দিচ্ছে। এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রমাণ। ভবিষ্যতে নারীরা দলের আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন এবং পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি নারী নেত্রীরা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, দেশের অর্ধেক নারী ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাধা দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না; যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে।

ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম এবং ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলটিকে সহযোগিতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান।

অফিস, আদালত ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ: ডিএমপি

অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে বিস্তৃত এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যার জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় (সচিবালয়ের চারদিকের ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাসমূহ ও পার্কিং এলাকা) বিধি অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অর্থাৎ হর্ন বাজালে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (অর্থদণ্ড) কার্যকর করবে।

এতে আরও জানানো হয়, শব্দ দূষণ কমাতে সব সরকারি ও বেসরকারি গাড়িচালককে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় হর্ন না বাজানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

উগ্রপন্থিদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে আগামীতে ভোটের অধিকার নাও থাকতে পারে: ববি হাজ্জাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যাদের চিন্তা ও ভাষা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না। আমরা তাদের চাই না।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন সড়কে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক ক্যাম্পাসে আমাদের নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এই প্রতিবাদের পেছনে একটি স্পষ্ট কারণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোটের প্রিমিয়ার নেতা ড. শফিক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যেখানে আমাদের মা ও বোনদের প্রতি অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য কোনো সভ্য সমাজই মেনে নিতে পারে না।

তিনি বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে, কেন নতুন প্রজন্মের তরুণরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। যাদের চিন্তা ও ভাষা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না। আমরা তাদের চাই না। এ কারণেই আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশের সরকারি দায়িত্ব আমরা কোনোভাবেই উগ্রপন্থিদের হাতে তুলে দিতে পারি না। বাংলাদেশ একটি উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত– এই দেশের মানুষ বারবার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছে। এই ইতিহাস এত সহজে মুছে ফেলা যাবে না। দেশ এখন সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এই নির্বাচনে অনেকগুলো শক্তি নেই, শুধু দুটো শক্তি আছে। একটা হলো, উদারপন্থি গণতান্ত্রিক শক্তি, যেটার নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আর আরেকটা হলো উগ্রপন্থি ডানপন্থি শক্তি, যার নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। এই উগ্রপন্থি শক্তির নেতৃত্ব ইতোমধ্যে পরিষ্কার করেছে, আপনারা যদি তাদেরকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন আগামীতে আপনাদের ভোটের অধিকার নাও থাকতে পারে।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, আমাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা অন্য যেকোনো ধর্মাবলম্বী ভাই ও বোনদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা পরিষ্কারভাবে এই এলাকার জোট প্রার্থী মামুনুল হক বলেছেন।

কিছু ভয় দেখানোর গল্প, কিছু হুমকির ভাষা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনোবল ভাঙা যাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী কর্মীরা এসব ভয় পায় না। প্রয়োজন হলে আমরা গণতন্ত্রের পক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকব। আগামীর বাংলাদেশকে আমাদের স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবেই ধরে রাখতে হবে। আর এই মুহূর্তে সেই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র পথ হলো ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়া।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আপনারা যদি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি– এই ওয়ার্ডে শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমার ইশতেহারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো, প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ওপেন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় উপস্থিত থাকবেন সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা– থানা, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, সিটি করপোরেশনসহ সবাই। তারা সরাসরি ওয়ার্ডের জনগণের মুখোমুখি হবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও ইনশাআল্লাহ প্রতি মাসে অন্তত একবার আপনাদের মধ্যে উপস্থিত থাকব। শুধু উপস্থিত থাকব না– আপনারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারবেন, জবাব চাইতে পারবেন, জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র মানে পাঁচ বছরে একবার ভোট দেওয়া নয়, গণতন্ত্র মানে সরকারকে সবসময় জনগণের কাছে জবাব দিতে বাধ্য করা।

‘আপনারা যদি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেন, তাহলে প্রতি মাসে ন্যূনতম একবার আমাকে আপনাদের মাঝেই পাবেন। জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলাই হবে আমার রাজনীতির মূল শক্তি।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, গ্যাস সংকটের কথা যদি বলি, এটা সত্যিই একটি গভীর জাতীয় সংকট। এই সংকটের অন্যতম বড় কারণ হলো গত ১৫-১৬ বছরে দেশে কোনো উল্লেখযোগ্য নতুন গ্যাস এক্সপ্লোরেশনে যাওয়া হয়নি। কেন হয়নি, তার পেছনে নানা রাজনৈতিক ও নীতিগত কারণ থাকতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, এর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। আমাদের অবস্থান এ বিষয়ে পরিষ্কার। ইনশাআল্লাহ আগামী জাতীয়তাবাদী সরকার গঠিত হলে, যার নেতৃত্বে থাকবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন গ্যাস এক্সপ্লোরেশনে যাব। এটা আমাদের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি।

তিনি আরও বলেন, এই এলাকার গ্যাস সংকট নিরসনে আমরা ইতোমধ্যে তিতাস কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছি। চোরাই গ্যাস লাইন বন্ধ করা, পাইপলাইনের লিকেজ ঠিক করা, প্রয়োজনে পাইপ পরিবর্তন– এই কাজগুলো আরও জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে যদি আমরা সরকারি দায়িত্বে আসি। এই দায়িত্ব বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতাও আমাদের প্রয়োজন হবে।

‘আমরা ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করব। ফুটপাথ হবে পথচারীদের জন্য, দোকানের জন্য নয়। রাস্তা হবে মানুষের চলাচলের জন্য, অবৈধ দখলের জন্য নয়। তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই– যেসব ব্যবসায়ী বর্তমানে সেখানে আছেন, তাদেরকে আমরা হঠাৎ করে উচ্ছেদ করব না। তাদের জন্য ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু রাস্তাকে নির্দিষ্ট সময়ে বা সাপ্তাহিকভাবে ‘মার্কেট স্ট্রিট’ হিসেবে গড়ে তোলার ধারণাও আছে– যেমনটা অনেক দেশেই দেখা যায়। এতে ব্যবসাও চলবে, আবার রাস্তা ও ফুটপাথও দখলমুক্ত রাখা যাবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের নেত্রী অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন হাসানুল হক পান্না, এমদাদ হোসেন এমদাদ, অ্যাডভোট আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।