আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনের বিএনপি প্রার্থী ইলেন ভূট্টো নদী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চান। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি বিশেষ নজর দিবেন বলে জানান তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
বিএনপি প্রার্থী ইলেন ভূট্টোর স্বামী জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভূট্টোর আকস্মিক মৃত্যুর পর ২০০০ সালে ঝালকাঠি ২ আসনে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ভূট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খাদ্য মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ব্যবহার করে জয় ছিনিয়ে নেন আমু। এরপর ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নমিনেশন পান ইলেন ভূট্টো। আমির হোসেন আমুকে বিপুল ভোটে হারিয়ে এমপি হন ইলেন ভূট্টো। এবারের নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ইলেন ভুট্টো জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা মো. আককাস সিকদার।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো: আমি নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। মাদক প্রতিরোধে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এছড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী ?
ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো: আমি আমার নেতা কর্মীদের অতি উৎসাহী হয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন না করার নির্দেশ দিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তবর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হবে তা মেনে চলতে হবে। সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজ আমার নেতা কর্মীরা করবে না।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
ইসরাত সলতানা ইলেন ভুট্টো: আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আমার নেতা কর্মীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় আপনার প্রত্যাশা কী?
ইলেন ভূট্টে: এ সরকারের অধীনে সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসুক এটাই আমার প্রত্যাশা।
শেরে ই বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, কবি কামিনী রায়ের জন্মস্থানসহ রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত ধানসিঁড়ি এবং বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত ঝালকাঠি মহকুমাকে ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। জেলার আয়তন ৭০৬.৭৬ বর্গকিলোমিটার। ৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় বর্তমানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯৩৮২৬ জন।
ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি ২ আসন গঠিত। এ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩৬৫৩৯৬ জন। গত নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ১৬০৬৯ জন। বাড়তি ভোটারের বেশিরভাগই তরুণ ভোটার, যারা এবারই প্রথম ভোট দিবে। সে হিসেবে তরুণ ভোটাররা এবার ভোটেরমাঠে জয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
গত ১২টি সংসদ নির্বাচনে ৫ বার আওয়ামী লীগ, ৪বার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি তিনবার আসনটি দখলে নেয়। তবে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারেনি।
১৯৭৩ সালের পর এ আসনটি চলে যায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন জুলফিকার আলী ভূট্টো। ১৯৯১ সালে দলে যোগদিয়েই বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু ও জাতীয় পার্টির ভূট্টোকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী থেকে পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়া গাজী আজিজ ফেরদৌস। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো বিএনপির মনোনয়ন পেলেও ওয়ান ইলেভেন সরকারের একতরফা নির্বাচনে তাকে হারিয়ে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৬ বছরে ঝালকাঠি ২ আসনে তেমন কোন জনপ্রিয় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয় গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে আসা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলেন ভুট্টোকে।
ইলেন ভুট্টো ছাড়াও এ আসনে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন আরও ৭জন তারা হলেন, জামায়াত ইসলামীর এস এম নেয়ামুল করীম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজি (হাতপাখা), এনপিপির ফোরকান হোসেন (আম), জেএসডির মাসুুদ পারভেজ (তাঁরা), গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর (ট্রাক), স্বতন্ত্র সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র মো.নুর উদ্দিন সরদার (কলম)।
সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা




