রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ঘোষণা বিএনপির ইশতেহারে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ঘোষণা করা হয়েছে। ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫১ দফার এ নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ইশতেহার তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ইশতেহারে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি ইশতেহারে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণে স্বনির্ভর ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, ক্ষিপ্র, সদা প্রস্তুত ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে।

নিচে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি ইশতেহারের অংশ তুলে ধরা হলো:-

জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় একটি আধুনিক, পেশাদার ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের অপরিহার্য ভিত্তি। বিএনপি বিশ্বাস করে-সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। সশস্ত্র বাহিনী যেন উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী: সশস্ত্র বাহিনী সাহস, শৌর্য ও শৃঙ্খলায় গড়ে ওঠা জাতির এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান। বিএনপি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, ক্ষিপ্র, সদা প্রস্তুত ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে। সশস্ত্র বাহিনীর স্বকীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে একে সকল রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।

চতুর্মাত্রিক সশস্ত্রবাহিনী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা: জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুগোপযোগী, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা (ক্রেডিবল ডিটারেন্স) নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র বাহিনীর বিরাজনীতিকরণ এবং পেশাদারিত্ব জোরদার করার জন্য বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও সর্বাঙ্গীণ পরিকল্পনা: পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিএনপি একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করবে। উক্ত কৌশলের ভিত্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে একটি সর্বাঙ্গীণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে মাল্টি-ডোমেন যুদ্ধ সক্ষমতা, স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তিমত্তা এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও ডকট্রিন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি ও প্রতিরক্ষা ডকট্রিন প্রণয়ন করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সকল নীতিমালার কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।

শক্তিশালী বিমান বাহিনী: আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় শক্তিশালী বিমান বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিএনপি বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে ফাষ্ট ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সমুদ্র নিরাপত্তা ও নৌবাহিনী: বাংলাদেশের সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ সমুদ্রকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সচল রাখতে নৌ যোগাযোগপথ বা ‘সি লেন অব কমিউনিকেশন’ নিরাপদ রাখা নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে বিএনপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। আমাদের সমুদ্রসীমানা সুরক্ষিত করা হবে।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প: সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণে স্বনির্ভর ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা হবে।

অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের পেনশন: অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও আর্থিক সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি)’ নীতি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি, রেশনসহ অন্যান্য যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক: গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের সুদৃঢ় কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে।

সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: বিএনপি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শূন্য সহনশীলতা ও জাতীয় ঐকমত্য: বিএনপি সরকার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা বরদাশত করবে না এবং কোনো সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব অপশক্তিকে নির্মূল করা হবে।

সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল: জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস দমনে দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকারত্ব হ্রাস এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ জোরদার করা হবে এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপ উৎসাহিত করে সামাজিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সুদৃঢ় করা হবে।

কক্সবাজারে ব্লু-ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপি সরকার গঠন করলে কক্সবাজারের ব্লু-ইকোনমিকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সবচাইতে ধন সম্পদে পরিপূর্ণ একটা জেলা। এ জেলায় রাব্বুল আলামিন আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর যেখানে নির্মিত হচ্ছে, এই সমুদ্রবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক দ্বার হিসেবে পরিণত করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়াও আমার ভাই কাজল ব্লু-ইকোনমির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। ইনশআল্লাহ সেই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি, খাস, পিএফ জায়গায় যারা ঘূর্ণিঝড়সহ নানা কারণে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের উচ্ছেদ করা হবে না। দলিল থেকে শুরু করে সবার সাথে আলোচনা করে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় আমরা তা করব। লবণ চাষিরা সবসময় অবহেলিত, কিন্তু বিএনপি তাদের পাশে থাকে। নায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ এই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

এছাড়াও তিনি ঘোষণা দেন, সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করা হবে।

এসময় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপি প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়ে বলেন, ‘মানুষ তোমাকে চিনে, তুমি এই এলাকার পরীক্ষিত সন্তান। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, আগামীর সরকার বিএনপির সরকার। আপনার সবাই কাজলকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।’

সভার প্রধান বক্তা লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘অপার সম্ভাবনাময় কক্সবাজারে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে, ১২ তারিখ এই সমুদ্র জনপদ ধানের শীষের জয়ে ধন্য হয়ে উঠবে। আপনারা পাশে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ কক্সবাজার গড়ব।’

কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও থেকে বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীসহ ধানের শীষের সমর্থকদের অংশগ্রহণে কানা কানায় পূর্ণ ছিল জনসভাস্থল৷

নিজের নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-১ এর বাইরে এসে দ্বিতীয়বারের মত ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিলেন সালাহউদ্দিন। এর আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে উখিয়ার কোটবাজারে কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখেছিলেন।

শাহবাগ ও ঢাবি স্টেশনে থামছে না মেট্রো ট্রেন

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন মেট্রো ট্রেন আপাতত শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামছে না।

শুক্রবার (৬ ফ্রেব্রুয়ারি) পৌনে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমআরটি লাইন-৬ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের স্টিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ৫৮ মিনিট থেকে শাহবাগ ও রাত ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন ট্রেন থামানো বন্ধ করতে।

আরও জানান, আজ ট্রেন চলাকালীন সময়ের আগে যদি আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে আজ আর এই ২টি স্টেশনে ট্রেন থামবে না।

আজ শুক্রবার মেট্রো ট্রেনের সর্বশেষ ট্রিপ উত্তরা থেকে রাত ৯টায় এবং মতিঝিল থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাবে।

জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের যাত্রা ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএস সহ আহত অন্তত ৩১। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ওসমান হাদি হত্যা তদন্তে রবিবার জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিবৃতিতে সরকার দাবি করেছে, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়নি। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে। এখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অঙ্গীকার। দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক ও প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার, শিল্প ও সেবা খাত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পরিবহন ব্যবস্থা, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারের কথাও এই অধ্যায়ে আছে।

চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হাওর-বাঁওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, নগরায়ণ, আবাসন, নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা বিনির্মাণ এবং পর্যটন খাত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে এই অধ্যায়ে।

সবশেষ পঞ্চম অধ্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার, ক্রীড়া উন্নয়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা এবং নৈতিকতার শক্ত পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়েছে ইশতেহারের এই অধ্যায়ে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না: বুবলী

আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী আর নানামুখী গুঞ্জন যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত জীবন এবং নতুন করে বিদেশ যাত্রা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাকে ঘিরে বইছে আলোচনার ঝড়। এসব বিষয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি একটি ব্র্যান্ডের গ্র্যান্ড লঞ্চিং অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বুবলী। সেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সাম্প্রতিক গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন তিনি।

এসময় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এগুলো খুব ব্যক্তিগত বিষয়, তাই এগুলো নিয়ে যখন কথা বলব তখন সবাইকে সম্মান জানিয়ে কথা বলব। আমি একটি শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চাই। আমরা চাই প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে বাংলাদেশটাকে নিরাপদ রাখুক। আমি একটি সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করছি।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের নাম জড়িয়ে বুবলীর বিদেশ যাত্রা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, ‘আপনারা যারা সাংবাদিক আছেন, আপনাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি সবকিছুর একটা সময় আছে। আজকে আমরা একটা প্রোগ্রামের গ্র্যান্ড লঞ্চিংয়ে এসেছি, এখানে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ওনারা অনেক কিছু নিয়েই নিউজ করবেন, দর্শকদের অনেক কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকবে। সো এটা হবেই, হয়ে আসছে আজীবন সবার ক্ষেত্রেই। এটা নতুন কিছু না। তবে আমি বলব যে আপনারা একটু সবাই সবার জায়গা থেকে যথাযথ রেসপেক্ট দিয়ে আসলে একজন শিল্পী বা শিল্পীদের প্রেজেন্ট করা যায় সেটাই করবেন, যেটা বরাবরই করে আসছেন।’

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে বসে পড়লেন সরকারি কর্মচারীরা

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে থালা-বাটি হাতে ভুখা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে বসে অবস্থান নিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।

পরে ভুখা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের সামনে গিয়ে বসে পড়েন তারা।

এর আগে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের দিকে এগিয়ে যান তারা।

পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে প্রথম দফায় অবস্থান নেন। সেখান থেকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত রয়েছেন।

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এর আগে দাবি আদায় টানা তিনদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ শুক্রবার শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করেন তারা।

ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার চায় বিএনপি

ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার চায় বিএনপি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান। সে কারণে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য মোটেও উপযোগী নয়। যদি আমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।’

দেশে সংখ্যালঘু মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপির রেকর্ড সবচেয়ে ভালো বলে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনি যদি বাংলাদেশের ইতিহাস দেখেন, দেখবেন প্রতিটি পরিবর্তনের পর কিছু সমস্যা হয়েছে ওগুলো রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়। সব সময় ভারতীয় মিডিয়া এটাকে সাম্প্রদায়িক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু এটা সাম্প্রদায়িক নয়—সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। যেমন কেউ যদি আওয়ামী লীগের লোক হয়ে থাকেন এবং কেউ তাঁকে মারধর করে, তাহলে সেটা সাম্প্রদায়িক নয়; এটা রাজনৈতিক।’

আল-জাজিরার সাংবাদিক বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়কালকে ‘বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক সময়’ বলে উল্লেখ করেছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থা। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। আমি কখনো কোথাও এটা পড়িনি।

জাতিসংঘের জরিপে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে বলে জানান আল-জাজিরার সাংবাদিক। জবাবে ফখরুল বলেন, এগুলো সব পক্ষপাতদুষ্ট।

বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমান ইতিমধ্যেই তাঁর পরিকল্পনা জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি পরিবর্তন আনবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁর একটি পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্তর্ভুক্ত।’

আর্থিক নিয়ম ভাঙার শাস্তি মুখে লেস্টার সিটি

আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে শাস্তির মুখে পড়েছে ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটি। ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের জন্য লাভ ও স্থায়িত্ববিষয়ক নিয়ম ভাঙায় দলটির ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ। এতে চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে নেমে গেছে লেস্টার।

বর্তমানে লেস্টারের হয়ে খেলেন বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। এর আগে গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয় দলটির। এবার নতুন মৌসুমে এসে শাস্তির মুখে পড়ে আরও বড় ধাক্কা খেল ক্লাবটি।

পিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি লোকসান করতে পারবে না। তবে কোনো ক্লাব শীর্ষ লিগের বাইরে প্রতিটি মৌসুম কাটালে এই সীমা ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড করে প্রতি মৌসুমে কমে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী লেস্টারের লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ পাউন্ড।

২০২২-২৩ মৌসুমের আর্থিক বিবরণীতে লেস্টার জানিয়েছিল, সে সময় তাদের লোকসান ছিল ৮ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড। আর ২০২২ সালের মে পর্যন্ত আগের ১২ মাসে ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড লোকসান হয়।

এক বিবৃতিতে লেস্টার জানিয়েছে, ‘প্রিমিয়ার লিগ যে নজিরবিহীন মাত্রার শাস্তি চেয়েছিল, কমিশনের পর্যবেক্ষণে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। তবে সুপারিশটি এখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। চলতি মৌসুমে আমাদের লক্ষ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনায় নিলে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

লেস্টারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এখন পুরো সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করছি এবং আমাদের সামনে কী কী বিকল্প আছে, তা বিবেচনা করছি। আমরা গঠনমূলকভাবে আলোচনায় থাকতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই, যেকোনো পদক্ষেপ যেন ন্যায্য, আনুপাতিক এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।’

হজের ভিসা পাওয়া যাবে কবে থেকে, জানাল সৌদি আরব

পবিত্র হজের মৌসুম সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য ভিসা ইস্যুর তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়টি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, সৌদি আরব আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য হজ ভিসা ইস্যু শুরু করবে।

সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রায় চার মাস আগেই ভিসা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সেবাপ্রস্তুতি আরও জোরদার করা এবং হজযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। আর এই উদ্যোগ সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিদেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবার সব চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মক্কায় আবাসন ব্যবস্থার চুক্তিও ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার হজযাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকেই সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের থাকার জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হজ কার্যক্রমে যুক্ত ৭৩টি দপ্তর তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতিও শেষ করেছে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালের হজে যেতে নিবন্ধন করা হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। সরকারি ও বেসরকারি সব নিবন্ধিত হজযাত্রীকেই সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধিত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব হজযাত্রীকে বাংলাদেশের যেকোনও সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা নিয়ে ফিটনেস সনদ গ্রহণ এবং ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।