ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার চায় বিএনপি

SHARE

ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার চায় বিএনপি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান। সে কারণে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য মোটেও উপযোগী নয়। যদি আমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।’

দেশে সংখ্যালঘু মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপির রেকর্ড সবচেয়ে ভালো বলে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনি যদি বাংলাদেশের ইতিহাস দেখেন, দেখবেন প্রতিটি পরিবর্তনের পর কিছু সমস্যা হয়েছে ওগুলো রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়। সব সময় ভারতীয় মিডিয়া এটাকে সাম্প্রদায়িক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু এটা সাম্প্রদায়িক নয়—সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। যেমন কেউ যদি আওয়ামী লীগের লোক হয়ে থাকেন এবং কেউ তাঁকে মারধর করে, তাহলে সেটা সাম্প্রদায়িক নয়; এটা রাজনৈতিক।’

আল-জাজিরার সাংবাদিক বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়কালকে ‘বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক সময়’ বলে উল্লেখ করেছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থা। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। আমি কখনো কোথাও এটা পড়িনি।

জাতিসংঘের জরিপে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে বলে জানান আল-জাজিরার সাংবাদিক। জবাবে ফখরুল বলেন, এগুলো সব পক্ষপাতদুষ্ট।

বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমান ইতিমধ্যেই তাঁর পরিকল্পনা জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি পরিবর্তন আনবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁর একটি পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্তর্ভুক্ত।’