রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারে যাবে না বিএনপি

নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তাঁর দলের এককভাবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমান (৬০) প্রাই দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন। তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে ফেরেন তিনি। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও এখন দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে। এই দুই দল মিলে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছে।

জামায়াত ইতোমধ্যেই বলেছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করার জন্য একটি ঐক্য সরকারের জন্য ওই অংশীদারত্ব পুনরায় চালু করার বিষয়ে আগ্রহী দলটি।

শুক্রবার নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, আর যদি এমনটা হলে বিরোধী দল কে হবে?’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, তারা (জামায়াত) কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি তাদেরকে ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ্য নেতারা বলছেন, নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্র জোটের প্রার্থীরা।

যদিও নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা উল্লেখ করতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’

রয়টার্স বলছে, সব জনমত জরিপেই বিএনপি জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, তবে তাদেরকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে পারে, সেই জোটে রয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন–জিদের দল (এনসিপি)।

গত বছর রায়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নয়াদিল্লি তাকে আশ্রয় দেওয়ারর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না?— এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এমন অংশীদারদের প্রয়োজন যারা প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষম।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’

শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না?— এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে জনগণ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারোই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’

মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অবস্থান করেছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর বলেছিল, দেশের বিদ্যমান অসংখ্য চ্যালেঞ্জের কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করার ক্ষমতা তাদের নেই এবং তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, তিনিও চান রোহিঙ্গারা যেন তাদের বাড়ি ফিরে আসে, কিন্তু কেবল তখনই যখন পরিস্থিতি নিরাপদ হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব যাতে এই মানুষরা (রোহিঙ্গারা) তাদের নিজস্ব ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ হওয়া উচিত। যতক্ষণ না এটি নিরাপদ না হয়, ততক্ষণ তারা এখানে থাকতে পারে।’

খোকার ধারাবাহিকতায় জনগণ ইশরাককেই বেছে নেবে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। এরই ধারাবাহিকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের ভোটাররা খোকাপুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকেই বেছে নেবে।

এলাকাবাসী ও ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইশরাক হোসেন পুরান ঢাকার সন্তান। তিনি আপনাদেরই মানুষ। সবসময় আপনাদের সঙ্গেই থাকবেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার ধুপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সাহসী যোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার সন্তান ইশরাক হোসেন ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অন্যায়ভাবে আটক বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশের হেফাজত থেকে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ইশরাকের মিছিলে একাধিকবার হামলা হয়েছে, কিন্তু তিনি কখনো মনোবল হারাননি। তার আচরণে তিনি সবসময় সহজ-সরলতা ও সততা দেখিয়েছেন। কখনো চরিত্রে দ্বিচারিতা দেখাননি।

জনসভায় ইশরাকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, রাজাকারদের ভোট দেওয়া যাবে না, একাত্তরের বিরোধীদের ভোট দেওয়া যাবে না।

এরপর ইশরাক হোসেন বলেন, এই নির্বাচনের ওপর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। গত ১৭ বছরের শাসনের সংশোধন এবং বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, তা এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে কোতোয়ালি, বংশাল, সূত্রাপুরসহ অবহেলিত এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সমস্যার সমাধানও করা হবে বলে জানান তিনি।

মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে মহিউদ্দিন রনি জন্য দোয়া প্রার্থনা

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শাহবাগে চলমান আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে জানানো হয়, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই পোস্টে রনির দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহিউদ্দিন রনির ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে দোয়া চেয়ে লিখা হয়েছে, ‘প্রে ফর মহিউদ্দিন রনি’।

এর আগে মহিউদ্দিন রনির শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে একই পেজ থেকে দেয়া আরেকটি পোস্টে জানানো হয়, মহিউদ্দিন রনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে আছে। তার অবস্থা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা সিসিইউতে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছেন। আগামী ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ এক ফেসবুক পোস্টে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, ‘রাত দুইটা বাজে। আমি হাসপাতালে আব্বুর বিছানার পাশে বসে আছি, আব্বুর মুখটার দিকেই তাকিয়ে আছি।

গতকাল আমাদের বাবা একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। উনি এখন সিসিইউতে। আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় একটি অ্যাটাকের পরেও উনি কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব করেননি। শেষ বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় এই অ্যাটাকটি হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না ঠিক কখন হয়েছে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে যেন আর কোনো ব্যথাই আব্বুর কাছে সত্যিকারের ব্যথা মনে হয় না।’

তিনি লিখেছেন, ‘ডাক্তাররা বলেছেন আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা উনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি আরেকটি অ্যাটাক হয়, তাহলে সেটি জীবননাশক হতে পারে। এমন ক্রিটিকাল অবস্থাতেও আব্বুর দুশ্চিন্তা একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে, যার কেমোথেরাপির জন্য আব্বুর সাহায্য করার কথা ছিল। বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যেন সেই সাহায্যটা ঠিকমতো পৌঁছে দেই।’

শহীদ মীর মুগ্ধ তার বাবারই প্রতিচ্ছবি বলেও উল্লেখ করেছেন স্নিগ্ধ। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্তের দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গেও লিখেছেন পোস্টে। তার ভাষ্যে— ‘আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি। পরোপকারের শিক্ষা সে আব্বুর কাছ থেকেই পেয়েছে। একদিকে সারাদিন আব্বুর এই সংকটাপন্ন অবস্থা, অন্যদিকে শহীদ হাদির বিচারের দাবিতে আমাদের ভাইদের রাস্তায় মার খেতে দেখা। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে। এক সময় ভাবছিলাম হাসপাতাল থেকে অল্প সময়ের জন্য হলেও আন্দোলনে যাব। কিন্তু যখনই যাওয়ার কথা মনে হলো, আব্বুর অবস্থার কথা ভেবে আর বাইরে যাওয়া সম্ভব হলো না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজ সারাদিন আব্বু বারবার মুগ্ধর কথাই বলছেন। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার সেই মুহূর্তটার কথা মনে করতেই দেখলাম উনার চোখে পানি টলমল করছিল। এমন অবস্থাতেও ঘুমানোর আগে প্রায় ত্রিশ মিনিট ধরে আমাকে বোঝালেন, যাই হোক কখনো হার মানবে না। মনে করিয়ে দিলেন আমাদের জবাবদিহি আল্লাহর কাছেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার জীবনের সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। একজন বীরের বাবার জন্য আপনাদের কাছে দোয়ার আবেদন রইল।’

জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন রাজপাল যাদব

দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি চেক বাউন্স মামলায় শেষ পর্যন্ত জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলিউডের পরিচিত কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৯ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত এই মামলায় রাজপাল যাদব একাধিকবার অর্থ পরিশোধের সময় চেয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আদালত পূর্বে দেওয়া সুযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। আগেও কয়েক দফা ছাড় দেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয় আদালত।

আত্মসমর্পণের আগে রাজপাল আদালতে নতুন একটি প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ লাখ রুপি দিতে পারবেন এবং বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য আরো সময় প্রয়োজন। তবে দিল্লি হাইকোর্ট এই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এর আগেও তিনি এমন আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বিচারক স্পষ্টভাবে বলেন, পাওনাদারদের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য এবার আর কোনো বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। তাই রাজপাল যাদবকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ বহাল রাখা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং আদালতকে আশ্বস্ত করেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব দেনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় আদালত এবার তার বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে রাজপাল যাদব আইনি হেফাজতে রয়েছেন। তবে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর আইন অনুযায়ী দেনা পরিশোধের অন্য কোনো পথ আছে কি না, তা পরবর্তী শুনানিতে বিবেচনা করা হতে পারে।

এই মামলার প্রভাব পড়েছে রাজপালের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও। পর্দায় হাস্যরস দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিলেও বাস্তব জীবনের এই আর্থিক সংকট তাঁর ক্যারিয়ারকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। এখন সবার নজর পরবর্তী শুনানির দিকেই সেখানে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই দেখার বিষয়।

বিক্ষোভে অধিকাংশই লাঠির আঘাতে আহত: ঢামেক পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে আহতদের অধিকাংশই লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন। বুলেট কিংবা পিলেটে আহত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ৬০ জনের মতো রোগী রিসিভ করেছি। এখনও রোগী আসছেন। এই রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের এক্সটারনাল ইনজুরি আছে। তবে কোনো গুলিবিদ্ধ অথবা পিলেটের রোগী পাইনি। তাদের স্কাল্ব ইনজুরি, ফেস ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি, এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি আছে, যেটা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এছাড়া অনেকের ইনহেলেশন ইনজুরি আছে, যেটা টিয়ারসেলের কারণে হয়েছে। আমরা অক্সিজেন দিয়ে তাদের মোটামুটি সুস্থ করেছি। তবে কোনো রোগী আমরা এখনো ভর্তি করিনি।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত আছেন। আমি নিজে উপস্থিত আছি। আমাদের চিকিৎসক, নার্সের কোনো স্বল্পতা নেই। জরুরি বিভাগ আমরা বৃদ্ধি করেছি, যাতে আমরা ২৫ জন রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে পারি। কিন্তু সমস্যা হলো, এক রোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন চলে আসেন। তখন চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চেষ্টা করছি, এর মধ্যে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। আমরা জুলাইয়ে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি। আমাদের যে চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ রয়েছে– তাতে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হবে না।’

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার প্রবেশমুখ ও ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি আদায়ে শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। টানা দেড় ঘণ্টা চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি আহত হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে শুরু হয় যান চলাচল।

শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ ফের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

রাজধানীর শাহবাগে পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সরাতে গেলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে বিকাল থেকেই উত্তাল ছিল শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকা। বিকালে প্রথম দফা সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় নেতাকর্মীরা পুনরায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। পুলিশ তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে আন্দোলনকারীরাও ইট-পাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, “হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ এলাকা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।” আহতদের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিও রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম দফার সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, তাদের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ও শান্তা আক্তারকে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পোস্টে আপাতত বড় জমায়েত না করে আহতদের চিকিৎসার দিকে নজর দেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তবে আহতদের চিকিৎসা দিয়ে আবারও রাজপথে আসার কথাও জানান তারা।

এর আগে জুমার নামাজের পর শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দিনের এই ধারাবাহিক সংঘর্ষে পুরো শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

শাহবাগে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত এমপি প্রার্থী

শাহবাগে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। আজ বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এ হামলার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ রাতে ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে শাহবাগে এসেছিলেন মহিউদ্দিন রনি। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে ৫-৭ জন পুলিশ মহউদ্দিন রনিকে পেটাতে থাকে। এ সময় রনিকে বাঁচাতে তার এক সহযোগী এগিয়ে এলে তাকেও বেধরক পেটায় পুলিশ।

এক পর্যায়ে তারা আহত হয়ে সড়কে পড়ে গেলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রনি।
তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে, ‘শাহবাগে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত মহিউদ্দিন রনি। সবাই দোয়া করেন।’

আন্দোলরতদের ছত্রভঙ্গ করতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি : ডিএমপি

জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এই ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন মর্মে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও সামান্য আহত হয়। এ নিয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ করা হলো।

‘এটি একটি ভালো সূচনা’—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল এবং দুই পক্ষই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের হুমকির পর এবং ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েন করার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অপর পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিও আমাদের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটি একটি ভালো সূচনা।

তিনি বলেন, দুই পক্ষই ‘আলোচনা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে’ এবং আলোচকরা নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ করার পর ‘পরবর্তী পথনির্দেশ’ নির্ধারণ করা হবে।

আরাগচি বলেন, পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি ও কাঠামো ‘পরবর্তী সময়ে’ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন ‘হুমকি ও চাপ’ থেকে বিরত থাকবে, যাতে ‘আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়’।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শীর্ষ এই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, আলোচনা ‘একচেটিয়াভাবে পারমাণবিক ইস্যুতেই কেন্দ্রীভূত’ ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি না।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় আনতে চাইলেও তেহরান বারবার পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে আলোচনা সম্প্রসারণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত বছর ইসরায়েলের নজিরবিহীন বোমা হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়েছিল, যার ফলে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। শুক্রবারের আলোচনা ছিল সেই ভেঙে পড়ার পর প্রথম সংলাপ।