শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা সিসিইউতে

SHARE

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছেন। আগামী ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ এক ফেসবুক পোস্টে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, ‘রাত দুইটা বাজে। আমি হাসপাতালে আব্বুর বিছানার পাশে বসে আছি, আব্বুর মুখটার দিকেই তাকিয়ে আছি।

গতকাল আমাদের বাবা একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। উনি এখন সিসিইউতে। আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় একটি অ্যাটাকের পরেও উনি কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব করেননি। শেষ বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় এই অ্যাটাকটি হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না ঠিক কখন হয়েছে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে যেন আর কোনো ব্যথাই আব্বুর কাছে সত্যিকারের ব্যথা মনে হয় না।’

তিনি লিখেছেন, ‘ডাক্তাররা বলেছেন আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা উনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি আরেকটি অ্যাটাক হয়, তাহলে সেটি জীবননাশক হতে পারে। এমন ক্রিটিকাল অবস্থাতেও আব্বুর দুশ্চিন্তা একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে, যার কেমোথেরাপির জন্য আব্বুর সাহায্য করার কথা ছিল। বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যেন সেই সাহায্যটা ঠিকমতো পৌঁছে দেই।’

শহীদ মীর মুগ্ধ তার বাবারই প্রতিচ্ছবি বলেও উল্লেখ করেছেন স্নিগ্ধ। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্তের দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গেও লিখেছেন পোস্টে। তার ভাষ্যে— ‘আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি। পরোপকারের শিক্ষা সে আব্বুর কাছ থেকেই পেয়েছে। একদিকে সারাদিন আব্বুর এই সংকটাপন্ন অবস্থা, অন্যদিকে শহীদ হাদির বিচারের দাবিতে আমাদের ভাইদের রাস্তায় মার খেতে দেখা। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে। এক সময় ভাবছিলাম হাসপাতাল থেকে অল্প সময়ের জন্য হলেও আন্দোলনে যাব। কিন্তু যখনই যাওয়ার কথা মনে হলো, আব্বুর অবস্থার কথা ভেবে আর বাইরে যাওয়া সম্ভব হলো না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজ সারাদিন আব্বু বারবার মুগ্ধর কথাই বলছেন। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার সেই মুহূর্তটার কথা মনে করতেই দেখলাম উনার চোখে পানি টলমল করছিল। এমন অবস্থাতেও ঘুমানোর আগে প্রায় ত্রিশ মিনিট ধরে আমাকে বোঝালেন, যাই হোক কখনো হার মানবে না। মনে করিয়ে দিলেন আমাদের জবাবদিহি আল্লাহর কাছেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার জীবনের সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। একজন বীরের বাবার জন্য আপনাদের কাছে দোয়ার আবেদন রইল।’