রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা চতুর্থ জয়ে চোখ শ্রীলংকার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা চতুর্থ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দশম আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল মাঠে নামছে শ্রীলংকা। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে লংকানদের বিপক্ষে হারের বৃত্ত ভাঙ্গতে বদ্ধপরিকর আয়ারল্যান্ড।

শ্রীলংকার কলম্বোতে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে শ্রীলংকা-আয়ারল্যান্ডের। সবগুলো ম্যাচই বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেছে দু’দল। আইরিশদের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মঞ্চে সবগুলো ম্যাচই জিতেছে শ্রীলংকা।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৯ সালে লর্ডসে ৯ রানে, ২০২১ সালে আবু ধাবিতে ৭০ রানে এবং ২০২২ সালে হোবার্টে ৯ উইকেটে জয় পেয়েছিল শ্রীলংকা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শতভাগ সাফল্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ শ্রীলংকার সামনে। এজন্য বিশ্বকাপের দশম আসরে জয় দিয়ে শুরুর লক্ষ্য লংকানদের।

দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকা বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা। ঘরের মাঠের সুবিধা এবং অতীত ফলাফল আমাদের এ ম্যাচে এগিয়ে রাখবে। তবে আয়ারল্যান্ড ভাল দল। জিততে হলে আমাদের ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে।’

শ্রীলংকার বিপক্ষে অতীত রেকর্ড নিয়ে ভাবতে রাজি নন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক পল স্টার্লিং। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুই মূল লক্ষ্য আইরিশদের।

স্টার্লিং বলেন, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে আমাদের রেকর্ড কেমন সেটি নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না। আমরা যেকোন ম্যাচেই জয়ের জন্য মাঠে নামি। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। লংকানদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে মুখিয়ে আছে সবাই।’

এদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের মিশণ শুরুর একদিনে আগে ডান-হাতি পেসার ইশান মালিঙ্গাকে হারিয়েছে শ্রীলংকা। কাঁধের ইনজুরির কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর থেকে ছিটকে গেছেন মালিঙ্গা।

মালিঙ্গার জায়গায় শ্রীলংকার বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন আরেক পেসার প্রামোদ মাধুশান। ২০২২ সালে অভিষেকের পর দেশের হয়ে ৮ টি-টোয়েন্টিতে ১২ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ লংকানদের হয়ে ২০ ওভারের ম্যাচ খেলেছেন মাধুশান।

শ্রীলংকা দল : দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা, জানিথ লিয়ানাগে, পাভান রাত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েলালাগে, মাহিশ থিকশানা, দুশমান্থা চামিরা, মাথিশা পাথিরানা, প্রামোদ মাধুশান।

আয়ারল্যান্ড দল : পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), লরকান টাকার (উইকেটরক্ষক), বেন ক্যালিটজ, কার্টিস ক্যাম্ফার, গ্যারেথ ডেলানি, ম্যাথু হামফ্রিজ, জশ লিটল, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাকাকার্থি, মার্ক অ্যাডায়ার, রস অ্যাডায়ার, হ্যারি টেক্টর, টিম টেক্টর, বেন হোয়াইট ও ক্রেগ ইয়ং।

ইশারা ভাষার মাধ্যমে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব: সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং গণমাধ্যমে ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব।

আজ শনিবার জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস- ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা হলো ইশারা ভাষা। ইশারা ভাষার যেসব নাগরিক আছেন তাদের প্রতি রাষ্ট্রের, সমাজের, পরিবারের যে দায়িত্ব সেটা কোনো করুণা নয়, চ্যারিটিও নয়, সেটা শুধু তাদের অধিকার। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ইশারা ভাষার ব্যবহারের মাধ্যমে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলমের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন সরকার বক্তব্য রাখেন।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোনামণি চাকমা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটি অব দ্য ডেপ এন্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজর্স এর গবেষক ও সদস্য মো. আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, পৃথিবী জুড়ে ইশারা ভাষার যাত্রা অনেক দূর এগিয়েছে। ইশারা ভাষা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটির গুরুত্ব মানুষের নজরে অনেক গভীরভাবে স্থাপন হয়েছে আগের তুলনায়।

তিনি বলেন, ইশারা ভাষা কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়; এটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত পরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং নাগরিক অধিকারের ভিত্তি। ভাষা যেখানে মানুষের ভাবনা, অনুভূতি ও সম্ভাবনাকে প্রকাশের পথ দেখায়, সেখানে ইশারা ভাষাকে অবহেলা করা মানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।

পরে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী বাক- শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

কখনো মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকিনি : মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমি প্রতিটি দুর্যোগে এলাকায় ছিলাম। কখনো মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকিনি।

তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিতে যাইনি। মেয়র ছিলাম, কিন্তু গুলশানের মেয়র হাউসে যাইনি। কেন জানেন? কারণ আমার লোকজন কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়েছে। তাদের সমস্যা থাকলে তারা আমাকে কোথায় পাবে? গুলশানে গেলে তারা কীভাবে আসবে? পুলিশি বাধা পেরিয়ে কীভাবে দেখা করবে? এই চিন্তা থেকেই আমি সবসময় এলাকায় থেকেছি।

আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-৮ আসনের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, এই দেশের সচেতন জনগণ সবসময় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ভুল করেনি। তারা সবসময় সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছর আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি।

তিনি বলেন, আমার এলাকার মানুষ গত ১৭ বছর কোনো এমপির চেহারা পর্যন্ত দেখেনি। শুধু নাম শুনেছে। কোথায় থাকেন, ঠিকানা কী? কেউ জানে না। আমি নিজেও খুঁজে পাইনি।

পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, আমরা বছরের পর বছর জেলে থেকেছি, আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের পথকে আমরা সুগম করেছি। সুতরাং এককভাবে ২৪-এর দাবিদার কেউ নয়। কিন্তু এখন অনেকে এমনভাবে ভাবছে, কাজকর্ম ও কথা বলছে যেন তারা দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, সবসময় আপনাদের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও বলছি আমাকে খুঁজতে হবে না। একটি ফোন দিলেই হবে। বাসায় না পেলে ফোন দিয়ে জানাবেন ইনশাআল্লাহ, আমাকে পাবেন।

আল নাসরের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অনুপস্থিত রোনাল্ডো

সৌদি পেশাদার লিগের সঙ্গে চলমান বিরোধের জেরে আল নাসরের হয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো।

৪১ বছর বয়সী এই তারকা শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডেও ছিলেন না। এর আগে সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে আল নাসরের জয়ের ম্যাচেও তাকে দেখা যায়নি।

ইএসপিএন’র একটি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) আল নাসর ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের নিশ্চয়তা না দেওয়ায় রোনাল্ডো শুক্রবারের ম্যাচ বয়কট করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে একই সূত্র বলেছে, আল নাসর কর্তৃপক্ষ ম্যাচটিতে রোনাল্ডোর অংশগ্রহণ আশা করেছিল।

ট্রান্সফার উইন্ডোতে পিআইএফের সহায়তা নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকার কারণেই রোনাল্ডো সোমবারের ম্যাচটি মিস করেন বলে সূত্রটি জানায়।

জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল নাসরের প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলাল, যাদেরও ৭৫ শতাংশ মালিকানা পিআইএফ’র। আল ইত্তিহাদ থেকে রোনাল্ডোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ায় আল হিলাল। এতে রোনাল্ডোর অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে জানা যায়।

রোনাল্ডো না খেললেও আল নাসর শুক্রবারের ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পায় এবং লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। এই মুহূর্তে তারা শীর্ষে থাকা আল হিলালের থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে। ম্যাচ চলাকালে আল-আওয়াল পার্কে সপ্তম মিনিটে সমর্থকেরা রোনাল্ডোর নাম ও তার জার্সির সাত নম্বর লেখা হলুদ প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে পর্তুগিজ তারকার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি পেশাদার লিগ এক বিবৃতিতে রোনাল্ডোক সতর্ক করে জানায়, কোনো খেলোয়াড়ই নিজের দলের বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সৌদি পেশাদার লিগ একটি সহজ নীতির ওপর পরিচালিত হয়। প্রতিটি ক্লাব একই নিয়মের আওতায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। ক্লাবগুলোর নিজস্ব বোর্ড, নির্বাহী এবং ফুটবল নেতৃত্ব রয়েছে। নিয়োগ, ব্যয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত ক্লাবগুলোরই, একটি আর্থিক কাঠামোর মধ্যে থেকে, যা স্থায়িত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিশ্চিত করে। এই কাঠামো লিগের সব ক্লাবের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্রিস্টিয়ানো পুরোপুরি সম্পৃক্ত এবং ক্লাবের অগ্রগতি ও উচ্চাকাঙ্খায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগীর মতোই তিনি জিততে চান। তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারেন না।”

বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়, “লিগের প্রতিযোগিতামূলক চিত্রই সব বলে দেয়। শীর্ষ চার দলের মধ্যে মাত্র কয়েক পয়েন্টের ব্যবধান রয়েছে, ফলে শিরোপার লড়াই এখনো জমজমাট। এই ভারসাম্য প্রমাণ করে যে ব্যবস্থাটি ঠিকভাবেই কাজ করছে।

জানা গেছে, ট্রান্সফারের অর্থ পিআইএফ সরাসরি দেয় না। বরং একটি প্লেয়ার অ্যাকুইজিশন ফান্ড থেকে এই অর্থ আসে। এই তহবিলটি সৌদি পেশাদার লিগ কেন্দ্রীয়ভাবে তত্ত্বাবধান করে এবং ক্লাবের আকার অনুযায়ী প্রতি বছর অর্থ বরাদ্দ দেয়। দেশের ‘বিগ ফোর’-আল নাসর, আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ ও আল আহলি, গত বছর গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো শুরুর আগে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে : ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লাইট সিলেট আবার আসবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সিলেট এয়ারপোর্ট পূর্ণমানের আর্ন্তজাতিক এয়ারপোর্ট না হওয়ার কারণে শুধু বিমানের ওঠানামা হয়, তাও লন্ডন থেকে।

আজ শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির সিলেট এয়ারপোর্ট প্রসঙ্গে আরো বলেন, মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে দুই-একটা বিমান সিলেট হয়ে ঢাকা যায়। কিন্তু, আমাদের বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। দু’টি এয়ারপোর্টে এয়ারলাইনস নামে, কিন্তু সিলেটে আসে না।

তিনি আরো বলেন, এই দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। এই দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয়, এটা আমাদের বুকের কথা। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে— এই জাতি তাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সকল জাতি বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখা, এটা আমরা হতে দেব না।

চা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমি তাদের জন্য দু’টি বিষয় নিশ্চিত করব। একটি স্বাস্থ্য ও অন্যটি সুশিক্ষা।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই— রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এই লাশগুলো সম্মানের সাথে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে।

হ্যাঁ ভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামী।

কুলাউড়া আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীকে নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দু’জন। একজন সায়েদ আলী। আর ছায়াপ্রার্থী হিসেবে আছি আমি।

জনসভায় জামায়াতের মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলীর পরিচালনায় এবং মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সিলেট মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রব, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি শাহ মাছুম ফারুকী, এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব শাহ আলম সরকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমদ, জুলাই যোদ্ধা শাহাবুদ্দিন বাবলু, ফুলতলা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি হর গোবিন্দ, সিংগুর পানপুঞ্জির মন্ত্রী জামিন ধর প্রমুখ।

প্রধান অতিথি জনসভায় মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম এবং মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

এবারের নির্বাচন দেশ গঠনের নির্বাচন : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারো ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু শুধু ভোট দিলেই চলবে না। আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।’

আজ শনিবার দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।

তিনি জানান, নীলফামারীতে ইপিজেড আছে। এ ইপিজেডকে আরো বড় করা হবে। আরো কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে; হয় তারা বিদেশে যাবেন অথবা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আগামী দিনে রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি, রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলকে সাথে নিয়ে দেশ গঠন করতে চাই। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মানুষকে আমরা বিবেচনা করবো তার মেধা, তার যোগ্যতা দিয়ে। তার বর্ণ দিয়ে নয়, তার ধর্ম দিয়ে নয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু বছর ধরে আমরা আন্দোলন করেছি। আজ সেই অধিকার ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো দেশকে পুনর্গঠন করা। আমাদের টার্গেট দেশের কোটি তরুণদের তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে, নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পাওে, সেই পরিবেশ আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে।’

মানুষের ভোটাধিকারের আন্দোলন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভোটের অধিকারকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল এক দল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্য বিএনপিসহ বহু দলের নেতাকর্মী, বহু সাধারণ মানুষ ওই স্বৈরাচারের সময় জীবন দিয়েছে। অত্যাচার নির্যাতনে শিকার হয়েছে, মামলা-মোকাদ্দমার শিকার হয়েছে। কতগুলো নিরীহ মানুষকে রাতের অন্ধকারে মেরে ফেলা হয়েছে, এই নীলফামারী হচ্ছে তার সাক্ষী।’

এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে গুরত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান দরকার। এই এলাকার ইপিজেডটাকে (উত্তরা ইপিজেড) আরো বড় করতে চাই। এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আরো কলকারখানা তৈরি করতে চাই। ছেলেমেয়েদের ট্রেনিংয়ের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে চাই। যেখানে এলাকার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং গ্রহণ করবে এবং দক্ষ শ্রমিকে তারা পরিণত হবে। এতে করে তারা নিজেরা কিছু করতে পারবে এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবে’।

ঘরে ঘরে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা এই দেশের মা-বোন এবং গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমরা প্রত্যেকটি নারীর কাছে যেই ধর্মের হোক সে যদি বাংলাদেশের একজন মা হয়ে থাকে , বাংলাদেশের একজন গৃহিণী হয়ে থাকে, আমরা তার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া পরিবারের মা প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবে।’

কৃষকদের জন্য পরিকল্পনার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকার বহু মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। এই কৃষকরা যদি ভালো থাকে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষকরা যাতে ভালো থাকে, তারা যাতে সহজে কৃষিজাত দ্রব্য, বীজ, সার প্রয়োজন মতো পেতে পারে, সেজন্য আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে সহজে কৃষি ঋণ পেতে পারবে। যার মাধ্যমে সে সহজে কীটনাশক ওষুধ, বীজ, সার সহজে পাবে। শুধু তাই নয়, ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা বাংলাদেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো।’ এসময় তিনি মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে সরকারের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যাতে করে এই এলাকা আবার সবুজ শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে, খাল-বিল যাতে পানিতে ভরে যায়। এলাকার মানুষের যেন পানির কষ্ট না হয়। সেজন্য বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথে দ্রুততার সাথে আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চাই।’

এসময় তিনি নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান।

নির্বাচনে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াছে উল্লেখ কওে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি সমাজের বিভিন্ন মানুষকে তারা ভয় দেখাচ্ছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই— বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কারো সাথে অন্যায় হলে আমরা সেই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনের যে পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে বললাম, সেগুলো তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব, যখন এই মাঠ ভরা লোক, এই শহর ভরা লোক, এই সমগ্র জেলার মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দেবে। আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। আপনারা যদি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে যে পরিকল্পনার কথা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, সেই পরিকল্পনা আমরা ইনশাল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।

প্রতিপক্ষের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথাই বলতে পারতাম। কিন্তু, ওইসব কথা বলে কি জনগণের উপকার হতো? মানুষ জানতে চায় যে, কোন রাজনৈতিক দল তাদের জন্য কী করবে। দেশ গঠনে কী কাজ করবে, মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তনের জন্য কী কাজ করবে? আজ বিএনপি একমাত্র দল, যারা পরিষ্কারভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে যে, বিএনপি মা-বোন, কৃষক, তরুণ, যুবকদের জন্য কী করবে। ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা, দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে কী করবে, সকল পরিকল্পনা বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় আপনাদের সঙ্গে নিয়ে খাল খননের কাজ শুরু করতে চাই। আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি— যাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে সকল পরিকল্পনা আমরা এলাকার জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য গ্রহণ করেছি, সে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি যেন আমাদেরকে সুযোগ দেন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল পারভেজ, মোস্তফা হক প্রধান, রিয়াজুল ইসলাম, সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ভগিনীপতি মো. রফিকুল ইসলাম। পরে নীলফামারীর চারটি আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী ও শরিক দলের এক প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

এর আগে তারেক রহমান দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে শহরের বড় মাঠ মিনি স্টেডিয়ামে নামেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। দুপুর ২টা ৭ মিনিটে তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ২১ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিট তিনি হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

‘সরকার গঠন করলে কৃষি ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ করা হবে ফরিদপুর’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার গঠন করতে পারলে কৃষি ও অর্থনৈতিক খাতে উন্নয়নের মাধ্যমে ফরিদপুরকে সমৃদ্ধ করা হবে।

তিনি বলেন, ফরিদপুরকে নিয়ে জামায়াতের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, তার চরিত্র নিয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে জামায়াতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়েও দল ক্ষমার মনোভাব পোষণ করছে।

তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজ এখন পরিবর্তন চায়। আগামী ১২ তারিখের পর পুরনো ও অকার্যকর রাজনীতির অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নারীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ।

এর আগে তিনি বোয়ালমারী স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট আসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

পরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের জনসভায় ফরিদপুর-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব এবং ফরিদপুর-২ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহ আকরাম আলীসহ দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ

নানামুখী নাটকীয়তা আর আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্দা উঠতে যাচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের। যার পর্দা নামবে আগামী ৮ মার্চ।

আইসিসির এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কম বিতর্ক আর নাটক হয়নি। প্রথমে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে দল পাঠাতে রাজি হয়নি বাংলাদশে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাথে দফায় দফায় বৈঠকে কোনো সমাধানে আসতে পারেনি দু’পক্ষ।

পরে বাংলাদেশকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করে আইসিসি। এঘটনার পর গুঞ্জন উঠে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান।

যদিও শেষ পর্যন্ত দলটি তা করেনি দলটি। তবে দেশটির সরকারের নির্দেশে গ্রুপ পর্বে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ‘ওয়াক ওভারের’ ডাক দিয়েছে তারা।

এদিকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে পাকিস্তান। কলম্বোর শিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তাদের প্রতিপক্ষ-নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশ সময় সকার সাড়ে ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কলকাতায় বিকাল সাড়ে ৩টায় লড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড। আর সন্ধ্যা মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় যাচ্ছেন। প্রথমে ঠাকুরগাঁও, এরপর নীলফামারী হয়ে দিনাজপুর যাবেন।

সেখানে জনসভা শেষে নানা-নানী ও খালার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। দীর্ঘ ২৩ বছর পর তারেক রহমানকে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় এ অঞ্চলের নেতাকর্মীরা।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকায় করবেন সফরের প্রথম জনসভা। তাই প্রস্তুত হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ। বিএনপির এই নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর পৌঁছার পর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে জনসভা স্থলে যাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, ঠাকুরগাঁও-এর উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির মহাসচিবের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখানে আসার পর তা বাস্তবায়নে আরও সহজ হবে।

পুলিশ জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী সফরে এখানে আসছেন। তার নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন, সব করা হবে।

ঠাকুরগাঁও থেকে নীলফামারীতে জনসভা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এরপর যাবেন দিনাজপুরের বিরামপুরে। যেখানে জড়িয়ে আছে তার মায়ের স্মৃতি। প্রায় ২০ বছর পর তারেক রহমানকে কাছে পাবেন ফেনীর নেতাকর্মীরা। তারা স্বপ্ন দেখছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে অব্যাহত থাকবে এলাকার উন্নয়নের ধারা।

জেনে নিন আজকের স্বর্ণের বাজারদর

টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

সর্বশেষ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে এক ভরি স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকায়।

শুক্রবার সকালে বাজুসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্যহ্রাসের তথ্য জানানো হয়। ঘোষণায় বলা হয়েছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই নতুন দরেই স্বর্ণ কেনাবেচা হবে।

এর আগে চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন বিকেলে দ্বিতীয় দফায় ভরিপ্রতি ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।

সর্বশেষ ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা।

এই নিয়ে চলতি বছরে দেশের বাজারে মোট ২৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ৯ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল মূল্যবৃদ্ধি। পাশাপাশি ২০২৫ সালে মোট ২৯ বার স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল।