শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

তারেক রহমানকে সমর্থনে দিয়ে সরে দাঁড়ালেন ঢাকা-১৭ আসনের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী। আজ (বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় তাকে সমর্থন জানিয়ে চার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা নিজেরাই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন।

এসময় উপস্থিত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আবুল কালাম আজাদ ও শামীম আহমেদ নিজ নিজ অবস্থান থেকে তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

ঢাকা-১৭ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়া চার স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট্রের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদ, ডাব প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ, আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর হুমায়ুন।

জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে

ভোটাধিকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। তবে এই অধিকার যদি জালিয়াতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হয়, তবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বাংলাদেশে জাল ভোটকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং আইন অনুযায়ী এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

জাল ভোট হলো এমন একটি ভোট প্রক্রিয়া, যেখানে প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেননি।
এটি ঘটে যখন অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট দেয়, ভোটার অনুপস্থিত থাকলেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যায়, কাউকে ভয়ভীতি বা জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়, কিংবা একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট প্রদান করে। সহজ কথায়, যেখানে ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা অনুপস্থিত থাকে, সেখানেই জাল ভোটের অস্তিত্ব থাকে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ শুধু বিরোধী দলের মুখে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জাল ভোট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা, গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

জাল ভোট দেওয়ার আইন ও শাস্তি

নির্বাচনী আইনে জাল ভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও অপরাধের জন্য নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করবেন।

কী কী কাজ জাল ভোট হিসেবে গণ্য

১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।

২. ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

৩. একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

৪. একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

৫. ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।

৬. জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান।

তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান যেই কেন্দ্রে ভোট দেবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর পৃথক দুটি কেন্দ্রে ভোট দিবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীর গুলশান-২ এলাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন তারেক রহমান। কেন্দ্রটি গুলশান-২-এর ১/ডি, ৮৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান মিরপুর এলাকার ৬০ ফিট সড়কে অবস্থিত মনিপুর বয়েজ হাই স্কুল ভোটকেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পৃথকভাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচনের দিন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ভোটাররা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নেবেন।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে সোনা বিক্রি হচ্ছে এই নতুন দামে।

সোমবার সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড)-এর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

এতে প্রতি ভরিতে সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৮ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১০ বার কমানো হয়েছে।

আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

আজ থেকে চারদিন সরকারি ছুটি, দুদিন বন্ধ দোকান-শপিং মল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা চার দিনের ছুটি আজ (বুধবার) থেকে শুরু হয়েছে; যা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

অন্যদিকে, নির্বাচন ও পূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকবে টানা পাঁচ দিন। আজ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সাথে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সাধারণ ছুটি চার দিনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত’ উপলক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি থাকায় সেখানে সর্বমোট পাঁচ দিনের ছুটি কার্যকর হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মূল দিন নির্ধারিত রয়েছে।

এর আগে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। একইসঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারির বিশেষ ছুটিও বহাল রাখা হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিং মল আজ বুধবার এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বন্ধ থাকবে। দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী মালিক সমিতির ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংহতি রেখে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের সব দোকানপাট, বিপণিবিতান এবং শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে বন্ধ মোটরসাইকেল, চলবে যেসব গাড়ি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে সারা দেশে ৭২ ঘণ্টার জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো।

এ ছাড়া, ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে জরুরি সেবা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কিছু যানবাহনকে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের যানবাহন এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের গাড়ি চলাচল করতে পারবে।

এছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবা, ওষুধ পরিবহন, সংবাদপত্র সরবরাহ ও টেলিযোগাযোগ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনও চলাচলের অনুমতি পাবে।

বিমানযাত্রীরা টিকিট প্রদর্শনের মাধ্যমে বিমানবন্দর যাতায়াতের জন্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন এবং স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা নির্ধারিত শর্তে একটি করে ছোট যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন এবং নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

এছাড়া সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহন বা মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে অন্যান্য যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জাতির উদ্দেশে সন্ধ্যায় ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‎‎ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির উদ্দেশে ভাষণ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়েছে।

ভাষণটি আজ সন্ধ্যায় বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে একযোগে সম্প্রচার করা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভাষণে সিইসি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি দেশবাসীকে জানাবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন।

এছাড়া, দেশব্যাপী নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ ও ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্যের উপস্থিতি এবং কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেবেন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য চুক্তি, চাপে ভারত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার বস্ত্র বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন তুলা ব্যবহার করা বাংলাদেশি পোশাকের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতার হিসাব পাল্টে দিতে পারে। এতে ভারতের বস্ত্র ও তুলা খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গড়ে ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করলেও কিছু পোশাকপণ্যের ক্ষেত্রে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। তবে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে কেবল সেসব পোশাকের জন্য, যেগুলো উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করা হবে।

এর আগে গত সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে আলাদা বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কহার নির্ধারিত হয় ১৮ শতাংশ, যা আগের ৫০ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। শুরুতে এতে ভারতীয় বস্ত্র রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বিস্তারিত শর্ত সামনে আসার পর সেই স্বস্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

কারণ, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পোশাকের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে, আর একই বাজারে মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি বাংলাদেশি পোশাক ঢুকবে শুল্ক ছাড়াই। এতে দাম ও প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ স্পষ্ট সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে ভারতের বার্ষিক বস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ। ভারতের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অতীতে রুশ তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে ভারতীয় রপ্তানি কমে যাওয়ায় খাতটি বড় চাপের মুখে পড়ে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তিকে বস্ত্র খাতের জন্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে বাংলাদেশের জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড় সেই প্রত্যাশায় ভাটা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্কের সামান্য পার্থক্যের চেয়েও শূন্য শুল্ক সুবিধার প্রভাব অনেক বেশি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পোশাক তুলনামূলকভাবে সস্তা ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

এর প্রভাব শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয়, তুলা বাণিজ্যেও পড়তে পারে। বাংলাদেশের রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে বস্ত্র খাত থেকে, ফলে দেশটি বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় তুলা আমদানিকারক এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারতের তুলার প্রধান ক্রেতা ছিল।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্রাজিল ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। নতুন চুক্তিতে মার্কিন তুলা ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলার দিকেই আরও বেশি ঝুঁকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ভারতীয় তুলা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে ভারতের শেয়ারবাজারেও। সম্প্রতি বস্ত্র ও সুতা উৎপাদনকারী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। বিরোধী কংগ্রেস দল বলছে, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া ভারতের বস্ত্র খাতের জন্য ‘দ্বিমুখী আঘাত’।

কংগ্রেসের দাবি, এতে একদিকে ভারতীয় তুলাচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, অন্যদিকে সুতা ও পোশাক উৎপাদনকারী শিল্পেও চাপ বাড়বে। দলটির নেতারা মনে করছেন, লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হতে এখনো কিছু সময় বাকি। সে কারণে আলোচনার মাধ্যমে এই শর্তগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ দিন বন্ধ আমদানি-রফতানি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জনিত কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে টানা ৩ দিন বন্ধ থাকবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। একইসঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বন্ধ থাকবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাতায়াত।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) রাতে বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

এর আগে এদিন বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব কাজী আরিফুর রহমান সাক্ষরিত চিঠিতে বেনাপোলসহ দেশের সব বন্দর দিয়ে ভ্রমনের উপর নিষেধাজ্ঞার চিঠি আসে বন্দর ও ইমিগ্রেশনে। বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার দু’দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে-এমন নির্দেশনার একটি চিঠি আমার দফতরে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বুধ ও বৃহস্পতিবার আমদানি-রফতানিও বন্ধ থাকছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার পর থেকে পুনরায় দু’দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে আমদানি-রফতানি।’

মধ্যরাতে উপদেষ্টার আবেগঘন পোস্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে বাকি আছে আর মাত্র একদিন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিদায়বেলায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব, সাফল্য-সীমাবদ্ধতা ও মূল্যায়ন নিয়ে মঙ্গলবা্র (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট করেছেন।

এতে তিনি লেখেন, আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকবো, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোন নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকব।

এতে তিনি আরও লেখেন, জাতির সেবার সুযোগ পাওয়া যে কোন নাগরিকের জন্য ভাগ্যের বিষয়। এ সৌভাগ্যের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। উপদেষ্টা পদে কার্যকালে, আমার সাথে কর্মরত সচিববৃন্দ, দফতর ও কোম্পানি প্রধান সহ সকল সহকর্মীর সমর্থন ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি, এজন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

নতুন সরকারের জন্য শুভ কামননা জানিয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ, সহিংসতা মুক্ত ও উৎসবমুখর হোক। আমি আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসাবে তাঁদের পেছনে দাঁড়াব। নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা।