শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উৎসবমুখর ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের দুই ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কেন্দ্র থেকে হাসিমুখে বের হতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দিচ্ছেন—সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোট।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, কোতোয়ালী, বাকলিয়া থানা এলাকার একাধিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোড, দেওয়ান বাজার, সানরাইজ কেজি অ্যান্ড হাইস্কুল, কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডা.খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটাররা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোট দিতে।

নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘যথাসময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নিরাপদভাবে ভোটগ্রহণ শেষ করতে আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণকে বলব, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নগরী ও ১৫টি উপজেলা মিলিয়ে ১২ হাজার ১টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ চলছে।

চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭০ জন।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ‘দুর্গম বা যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটাপন্ন এলাকার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান ও পরিবেশ বিবেচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর খবর পাওয়া মাত্র ২-৪ মিনিটের মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স সেখানে পৌঁছাতে পারবে।

মোতায়েন রয়েছে বিভিন্ন বাহিনী । প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি টহলে রয়েছে র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড। এছাড়া সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও নির্বাচনী মাঠে মোতায়েন রয়েছেু সেনাবাহিনী।

জয়ের ব্যাপারে আমি দৃঢভাবে আশাবাদী : তারেক

দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জয়ের ব্যাপারে এ আশা ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। আজ সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। দেশের মানুষ ভোট দিলে যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া সম্ভব।’

বিএনপির চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন।

সারা দেশ থেকে গত রাতে পাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে সেসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা তার কাছে আশাব্যঞ্জক বলে মনে হয়েছে।

ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের শেষপর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মানুষ যদি সারাদিন ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার প্রয়োগ করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির চেয়ারম্যান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি এবং আমার দল বিএনপি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষ যাতে দেশে নিরাপদ বোধ করেন, সেটিই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নারীর যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নের কাজ প্রথম দিন থেকেই শুরু করা হবে।

ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন বা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আরও কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করার পর হয়তো বলতে পারব।

এ সময়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান সর্বোচ্চ গুজবের শিকার: রিউমার স্ক্যানার

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দল হিসেবে বিএনপি দেশে সবচেয়ে বেশি গুজবের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’।

রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে মোট ১৩৩টি গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, দল হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩৬০টি গুজব শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে গুজবের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

রিউমার স্ক্যানার জানায়, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে, অন্তর্বর্তীকাল সরকার, সম্প্রতি খাগড়াছড়ি বিষয়ে, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেয়া দল ও সংগঠনের বিরুদ্ধে গুজব, ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।

সম্প্রতি রিউমার স্ক্যানার এক প্রতিবেদনে জানায়, সর্বোচ্চ ১৩৩ টি গুজবের শিকার হয়েছেন তারেক রহমান। দল হিসেবেও সর্বোচ্চ ৩৬০ টি গুজবের শিকার বিএনপি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, এবং চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দল ও সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। রিউমার স্ক্যানার ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করে তা প্রকাশ করেছে।

পরিবারসহ ভোট দিলেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিবারসহ ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোট দেন।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কেন্দ্র এলাকায় শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।

ভোট প্রদান শেষে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত সময় কেন্দ্রে অবস্থান করেন এবং ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এদিকে, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং তাদের দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাশিয়া একই কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।

ভোট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

আজ সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভোট গ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।

সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২, কম ঝালকাঠি-১ আসনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে ও কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে।

গাজীপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোটের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারগণ উপস্থিত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে গেছেন।

আজ সকাল ৭ টা ৩৭ মিনিটে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করেছে ইসি। এ কারণে এই আসনটি বাদে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশবাসীকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে বুধবার সন্ধ্যা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বাসসকে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ রয়েছে বলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন। ৩০০ আসনে মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র ২ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন ও পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ জন। এর পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো ইউএভি (আনম্যান এরিয়াল ভেহিকেল), ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইসি জানায়, মোতায়েনকৃত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র‌্যাব সদস্য, বিএনসিসি’র ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন- মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।

এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন।

আগতদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি।

এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।

নওগাঁয় ভোটগ্রহণ শুরু : নারীদের উপস্থিতি বেশি

উৎসবমুখর পরিবেশে নওগাঁর ৬টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট নিজে দিতে ভোর থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন ভোটাররা। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের লাইনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালে শীত হওয়ার কারণে শুরুর দিকে ভোটকেন্দ্রে তেমন একটা ভিড় লক্ষ্য করা না গেলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি। অনেক দিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ও আনন্দে ভোট দিচ্ছেন তারা । প্রার্থীরাও তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন।

অপরদিকে ভোটের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল চোখে পড়ার মতো। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো নওগাঁ জেলা ঢেকে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে।

নওগাঁ -৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বদলগাছীর বৈকুন্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে ভোট প্রদান করেছেন। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, উৎসব মুখর পরিবেশে আনন্দের সাথে ভোটাররা তাদের ভোট দেবেন। আশা করছি, তারা আমাকেই নির্বাচিত করবেন। কারণ এখন ভোটাররা বুঝতে শিখেছে। তবে আমি চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকে।

এই আসনের বৈকুন্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. শফিউল আলম বলেন, এখানে মোট ৩ হাজার ৩১৬ টি ভোটকেন্দ্র আছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করে ভোট গ্রহণ শুরু করেছি। আশা রাখি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রদান করতে পারবো।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নওগাঁ জেলা পুলিশ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৭৮২ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে নওগাঁর ৬টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে। সেসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সেই সাথে বডি অন ক্যামেরা থাকবে। নওগাঁ জেলায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের সাথে আছে সহস্রাধিক সেনাবাহিনী, ৫ শতাধিক বিজিবি এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরাও আছেন। কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নওগাঁ জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। কাজেই কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে চলে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনার নিরাপত্তায় তৎপর আছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ভোটের এমন সুন্দর পরিবেশ যদি কেউ নষ্ট করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভোটারদের উৎসাহ দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। নির্বাচনি মাঠে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি নির্বাচনি মাঠে কাজ করছে। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। আমি আশাবাদী নওগাঁবাসীর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ করে ফলাফল প্রদান করতে সক্ষম হবো।

এদিকে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা ভোটকেন্দ্র সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রসমূহে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। কেন্দ্রগুলোতে কোনো নাশকতামূলক বস্তু রেখে দেওয়া হয়েছে কিনা তা প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী আছে ২৭জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৫ জন।

আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা হলেন; নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ ও জাতীয় পার্টির আকবর আলী এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী। ছালেক চৌধুরী হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

নওগাঁ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম প্রতীক। এখানে মূলত দ্বিমুখী লড়াই হবে।

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা, বাসদের কালীপদ সরকার, বিএনএফ-এর আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবং সাদ্দাম হোসেন। এখানে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ও সাদ্দাম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর প্রার্থী থাকায় এখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকায় ফজলে হুদা বাবুল সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির ইকরামুল বারী টিপু, জামায়াতের আব্দুর রাকিব, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন ও সিপিবির ডা. এস এম ফজলুর রহমান প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম। এই আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, আবু সাদাত মো. সায়েম, সিপিবির শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন। এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।

সর্বশেষ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের প্রার্থীরা হলেন, শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির প্রতীক। এই আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী।

জেলার এই ৬টি আসনে ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন ও নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং হিজড়া ২১ জন।

ভোট দিলেন ১১০ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান

কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের মধ্যেই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের দেখা মিলেছে। ১১০ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনে তাঁর দৃঢ়তা সবার দৃষ্টি কাড়ে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি কেন্দ্রে আসেন। লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ভোটার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন।

তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনরা জানান, বয়সের কারণে চলাফেরায় কষ্ট হলেও ভোট দেওয়ার ব্যাপারে হাফিজুর রহমান ছিলেন অনড়।

ভোট প্রদান শেষে হাফিজুর রহমান বলেন, ভোট দেওয়া আমার অধিকার। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই। তাঁর কণ্ঠে ছিল আনন্দ ও গর্বের সুর।

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রবীণ এই ভোটারের উপস্থিতি অন্যদেরও উৎসাহিত করেছে। তরুণ ভোটাররাও তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

স্থানীয়দের মতে, হাফিজুর রহমানের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে গণতন্ত্রের চর্চায় বয়স কোনো বাধা নয়। তাঁর মতো প্রবীণ নাগরিকের আগ্রহ ও সচেতনতা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

ভোট দিলেন বিএনপি প্রার্থী মিনু, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে তিনি তার ভোট দেন।

সকাল থেকেই রাজশাহীর কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সারিবদ্ধ লাইন দেখা যায়। বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু কেন্দ্রে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা তাকে অভিবাদন জানান। ভোট প্রদান শেষে আঙুলে কালির দাগ দেখিয়ে তিনি হাসিমুখে কেন্দ্রের বাইরে আসেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ বেশ ভালো এবং শান্তিপূর্ণ।

জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মিনু বলেন, রাজশাহী সবসময়ই শান্তির শহর এবং ধানের শীষের ঘাঁটি। ভোটারদের মধ্যে যে গণজোয়ার আমি দেখেছি, তাতে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা হলে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।

তিনি সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসুন। আপনাদের একটি ভোটই পারে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং রাজশাহীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।

রাজশাহী-২ আসনে মিজানুর রহমান মিনুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। সকাল থেকেই এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন।

একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

সিইসি জানান, জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সিইসি বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসারে কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।

স্বচ্ছতাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই কমিশন স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সিইসি জানান, ভোটারদের অসুবিধা না করে এবং ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে স্বাগত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তারা পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন।

তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারবেন। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।’

তিনি জানান, ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহায়তায় প্রিসাইডিং অফিসাররা প্রার্থী বা তাদের অনুমোদিত এজেন্ট, স্বীকৃত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।

সিইসি আরও জানান, দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে।

প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোট দিতে পারবেন। সীমিত প্রস্তুতি ও প্রচারের সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের কার্যকর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে এবং এখন তা কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানো হচ্ছে।