নওগাঁয় ভোটগ্রহণ শুরু : নারীদের উপস্থিতি বেশি

SHARE

উৎসবমুখর পরিবেশে নওগাঁর ৬টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট নিজে দিতে ভোর থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন ভোটাররা। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের লাইনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালে শীত হওয়ার কারণে শুরুর দিকে ভোটকেন্দ্রে তেমন একটা ভিড় লক্ষ্য করা না গেলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি। অনেক দিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ও আনন্দে ভোট দিচ্ছেন তারা । প্রার্থীরাও তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন।

অপরদিকে ভোটের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল চোখে পড়ার মতো। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো নওগাঁ জেলা ঢেকে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে।

নওগাঁ -৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বদলগাছীর বৈকুন্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে ভোট প্রদান করেছেন। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, উৎসব মুখর পরিবেশে আনন্দের সাথে ভোটাররা তাদের ভোট দেবেন। আশা করছি, তারা আমাকেই নির্বাচিত করবেন। কারণ এখন ভোটাররা বুঝতে শিখেছে। তবে আমি চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকে।

এই আসনের বৈকুন্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. শফিউল আলম বলেন, এখানে মোট ৩ হাজার ৩১৬ টি ভোটকেন্দ্র আছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করে ভোট গ্রহণ শুরু করেছি। আশা রাখি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রদান করতে পারবো।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নওগাঁ জেলা পুলিশ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৭৮২ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে নওগাঁর ৬টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে। সেসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সেই সাথে বডি অন ক্যামেরা থাকবে। নওগাঁ জেলায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের সাথে আছে সহস্রাধিক সেনাবাহিনী, ৫ শতাধিক বিজিবি এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরাও আছেন। কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নওগাঁ জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। কাজেই কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে চলে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনার নিরাপত্তায় তৎপর আছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ভোটের এমন সুন্দর পরিবেশ যদি কেউ নষ্ট করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভোটারদের উৎসাহ দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। নির্বাচনি মাঠে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি নির্বাচনি মাঠে কাজ করছে। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। আমি আশাবাদী নওগাঁবাসীর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ করে ফলাফল প্রদান করতে সক্ষম হবো।

এদিকে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা ভোটকেন্দ্র সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রসমূহে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। কেন্দ্রগুলোতে কোনো নাশকতামূলক বস্তু রেখে দেওয়া হয়েছে কিনা তা প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী আছে ২৭জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৫ জন।

আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা হলেন; নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ ও জাতীয় পার্টির আকবর আলী এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী। ছালেক চৌধুরী হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

নওগাঁ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম প্রতীক। এখানে মূলত দ্বিমুখী লড়াই হবে।

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা, বাসদের কালীপদ সরকার, বিএনএফ-এর আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবং সাদ্দাম হোসেন। এখানে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ও সাদ্দাম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর প্রার্থী থাকায় এখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকায় ফজলে হুদা বাবুল সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির ইকরামুল বারী টিপু, জামায়াতের আব্দুর রাকিব, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন ও সিপিবির ডা. এস এম ফজলুর রহমান প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম। এই আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, আবু সাদাত মো. সায়েম, সিপিবির শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন। এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।

সর্বশেষ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের প্রার্থীরা হলেন, শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির প্রতীক। এই আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী।

জেলার এই ৬টি আসনে ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন ও নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং হিজড়া ২১ জন।