শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাবেন সরকারপ্রধান। ২২ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য ইত্যাদি বিষয়ে তুলে ধরবেন বলেও জানান আব্দুল মোমেন।

নিউইয়র্ক সফরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ খুরশীদ এ. চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হবেন।

মশা মেরে শেষ করা যাবে না, সচেতন হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মশা মেরে শেষ করা যাবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং মশার হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের সচেতন হতে হবে। মশারি ব্যবহার করতে হবে, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণভবনে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে খালেদা জিয়া। আজ কৃষকের ঘরে সার পৌঁছে যায়। তাদের কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। এটা দিয়ে কৃষি উপকরণ কিনতে পারে। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। এর মাধ্যমে ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে যায়। জেলেদের ৪০ কেজি করে চাল দিই।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ’৯৬ সালে ১৬০০ মেগাওয়াট ছিল। আমরা ৪ হাজার তিন শ করে যাই। পরে বিএনপির আমলে কমে গেছে সেটা। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এখন ২৫ হাজার মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পায়। শিক্ষার্থীদের বই, বৃত্তি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। ডিজিটাল সেন্টার করে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ইনকিউবেটর, হাইটেক পার্ক করে দিয়েছি। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। ৭৩ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ঘরে ঘরে মোবাইল ফোন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করি। কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। নানাভাবে তাদের এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছি। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা দিচ্ছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের স্বীকৃতি ও তাদের ভাতাও দিচ্ছি। ৫ কোটি মানুষের পারিবারিক কার্ড করে দিয়েছি। এটা দিয়ে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।

দেশে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস। এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ প্রায় আট হাজার জনপ্রতিনিধি অংশ নেন। তবে সাময়িক বরখাস্ত ও মামলার আসামিদের ডাকা হয়নি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা সারাদেশ থেকে আসা জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আপনাদের উপস্থিতিতে গণভবনের মাটি ধন্য হয়েছে। তৃণমূল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আপনারা এখানে এসে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, নারায়ণগঞ্জের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সিলেটের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ বিভিন্ন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা।

এডিসি সানজিদাকে রংপুরে বদলির খবরটি গুজব : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এডিসি হারুনকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্তের পর এডিসি সানজিদা আফরিনকে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) বদলির বিষয়টিকে গুজব বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় নিয়ে ছাত্রলীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্যাতনের ঘটনার পর সাময়িক বরখাস্ত হন এডিসি হারুন। পরে তাকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় এডিসি সানজিদা আফরিনকে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) বদলি করা হতে পারে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এটি গুজব।

আহত ব্যক্তিরা হলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ।

জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির এপিএস আজিজুল হকের স্ত্রী এডিসি সানজিদা আফরিন বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে এডিসে হারুনও উপস্থিত ছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আছে এমন অভিযোগে সেদিন বাকবিতণ্ডায় জড়ান রাষ্ট্রপতির এপিএস ও এডিসি হারুন। এ সময় আজিজের সঙ্গে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা। পরবর্তীতে হারুনের ফোনে সেখানে শাহবাগ থানা পুলিশের একটা টিম যায়। রাষ্ট্রপতির এপিএস ও ছাত্রলীগ নেতাদের তারা ধরে থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এডিসি হারুন তাদের থানায় নিয়ে বেদম পিটিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেওয়ার পরও হারুনের সঙ্গে ১০-১৫ পুলিশ সদস্য মিলে তাদের পেটান।

বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে এডিসি হারুনকে রমনা বিভাগ থেকে সরিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দাঙ্গা দমন বা পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় তাকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এডিসি হারুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সবশেষ তাকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই ঘটনায় এডিসি সানজিদা আফরিনকে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) বদলি করা হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হলে আজ তা পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এডিসি সানজিদার রংপুরে বদলির খবরটি গুজব।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এডিসি হারুনের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার (হারুন) বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। বিভাগীয় মামলা হতে পারে। ভুক্তভোগীও মামলা করতে পারেন।

সবই টেইলর সুইফটের দখলে

ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন মার্কিনের জনপ্রিয় পপ গায়িকা টেলর সুইফট। তার কনসার্ট মানেই শ্রোতা-দর্শকদের ভরপুর বিনোদন। এই গায়িকার গান শুনতে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েন শ্রোতারা। গান গেয়ে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ে যাচ্ছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, রেকর্ডের পাশাপাশি সব পুরস্কারও বাগিয়ে নিচ্ছেন সুইফট। বলা যায়, সবই তার দখলে। পুরস্কার অনুষ্ঠানে তার মনোনয়ন আছে অথচ অন্য কেউ পুরস্কার নিয়েছেন, এমনটা খুব কমই হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (ভিএমএএস) অনুষ্ঠানে।

এএফপি বার্তা সংস্থা জানায়, মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এবারের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ নয়টি পুরস্কার পেয়েছেন সুইফট।

চলতি বছরের ভিএমএএসে সুইফটের আধিপত্য যে দেখা যাবে, সেটা অনুষ্ঠানের আগে অনুমান করা খুব একটা কঠিন ছিল না। গায়িকা একাই পেয়েছিলেন ১১টি মনোনয়ন। তাই সেরা গান, সেরা পপ গান, সেরা পরিচালনা, বর্ষসেরা ভিডিওসহ প্রধান পুরস্কার যখন এই গায়িকার ঝুলিতে জমা হলো, তখন সেটা খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে সবাই।

গত বছর গায়িকার মিডনাইট অ্যালবামের গানটিই জিতেছে ছয়টি পুরস্কার। বিষণ্নতা, আত্মোপলব্ধি, উদ্বিগ্নতা নিয়ে লেখা গানটি ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গানগুলোর একটি।

পুরস্কার গ্রহণ করে উচ্ছ্বসিত হয়ে সুইফট বলেন, এটা অবিশ্বাস্য। আমি কেবল এটাই বলতে চাই যে ভক্তদের ভোটে যে কোনো পুরস্কারই আমার কাছে বিশেষ কিছু।

প্রসঙ্গত, প্রায় চার ঘণ্টার এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মার্কিন র‍্যাপার নিকি মিনাজ। তার সঞ্চালনায় পুরস্কার অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন শাকিরা, অলিভিয়া রদ্রিগো, কার্ডি বি, ডেমি লোভাটে, ডোজা ক্যাটের মতো জনপ্রিয় সব তারকারা।

মানুষ যেন আবার ভোট দেয়, সে পরিবেশ তৈরি করবেন : প্রধানমন্ত্রী

অনাবাদি জমি চাষ, গাছ লাগানো, কমিউনিটি ক্লিনিকের খবরাখবর রাখা, মাদক ও সন্ত্রাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়াসহ তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি একগুচ্ছ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণভবনে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৩ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা তৃণমূলের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সেবক। আপনারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করে মানুষের আস্থা অর্জন করে এগিয়ে যাবেন। মানুষ যেন আবার ভোট দেয়, সে পরিবেশ তৈরি করবেন। আমরাও এটা চাই, আজকে যে দীর্ঘদিনের উন্নয়নের ফসল, এটা যেন অব্যাহত থাকে। কেউ যেন পিছিয়ে দিতে না পারে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আমরা আরও উজ্জ্বল করে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াবো।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কাজ করছি। আমাদের যা সম্পদ আছে, তা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। সেইভাবে কাজ করছি। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে বলেই এ কাজ করে যেতে পারছি। ৭৬৭ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স করে দিয়েছি। ১১৯১টি সাইকোন সেন্টার নির্মাণ করেছি। গ্রাম পর্যায়ে অসংখ্য রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ কালভার্ট করে দিয়েছি। এখনো গ্রামে অনেক রাস্তা কাঁচা আছে, সামনে ক্ষমতায় এলে সেগুলোও থাকবে না। সব পাকা করে দেবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদ, মন্দির ও প্রেগোডা, যখন যেখানে যেটা দরকার করে দিয়েছি। সবাই এক কাতারে য্দ্ধু করে দেশ স্বাধীন করেছি। একসঙ্গে থাকবো।

তিনি বলেন, তৃণমূলের জন্য পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি। তারা তো এ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এখনো দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়ে। এগুলো খেয়াল রাখবেন। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে আপনাদের দাঁড়াতে হবে। কেউ যাতে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের না জড়ায়, সেটা আপনাদের দেখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। ৩০ ধরনের ওষুধ দিই। চিকিৎসা ও ওষুধ মানুষ পায় কিনা একটু দেখবেন। এতে নজর রাখবেন।
তিনি বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সব যায়গায় ফসল ফলাবেন। তাতে আপনারাই লাভবান হবেন। আমিও লাভবান হয়েছি। নিজেরা ফসল ফলাবো, নিজেরা খাবো। কারো কাছে হাত পাততে হবে না। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা নিজেদের জমি চাষ করেন, গাছ লাগান, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পরামরশ দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং মশার হাত থেকে বাঁচতে হলে মশারি ব্যবহার করতে হবে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। মশা মেরে শেষ করা যাবে না। নিজেরাও সচেতন হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে খালেদা জিয়া। আজ কৃষকের ঘরে সার পৌঁছে যায়। তাদের কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। এটা দিয়ে কৃষি উপকরণ কিনতে পারে। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। এর মাধ্যমে ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে যায়। জেলেদের ৪০ কেজি করে চাল দিই।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ’৯৬ সালে ১৬০০ মেগাওয়াট ছিল। আমরা ৪ হাজার তিনশ করে যাই। পরে বিএনপির আমলে কমে গেছে সেটা। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এখন ২৫ হাজার মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পায়। শিক্ষার্থীদের বই, বৃত্তি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। ডিজিটাল সেন্টার করে দিচ্ছি।
ইনকিউবেটর, হাইটেক পার্ক করে দিয়েছি। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। ৭৩ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ঘরে ঘরে মোবাইল ফোন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করি। কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। নানান ভাবে তাদের এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছি। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা দিচ্ছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের স্বীকৃতি ও তাদের ভাতাও দিচ্ছি। ৫ কোটি মানুষের পারিবারিক কার্ড করে দিয়েছি। এটা দিয়ে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক আদর্শ নিয়ে সংবিধানে বর্ণিত পন্থায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌর ও সিটি করপোরেশন আইন করে আমরা এগুলো নিয়ে যাচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, ঘরে বসে চাকরির আবেদনসহ যাবতীয় সেবার কাজ করতে পারে মানুষ। অনলাইনে কেনা-বেচাসহ সব কিছু হচ্ছে। আমরা তরুণ-তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং শিখাচ্ছি। সে এই ট্রেনিং নিয়ে বিদেশেও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দিয়ে গেছেন জাতির পিতা। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ক্ষমতায়ন করে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন। তখনই এল আঘাত। জাতির পিতাকে সপরিবারে শাহাদতবরণ করতে হয়। হারিয়েছিলাম বাবা-মা ভাইবোন। পেয়েছি বিশাল জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের মানুষই আমার আপনজন। তারাই আমার সব শক্তি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নারায়ণগঞ্জের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সিলেটের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ বিভিন্ন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইবরাহীম।

কপিল শর্মার শো ঘিরে প্রতারণার ফাঁদ!

শিগগিরই শুরু হবে কপিল শর্মার শোয়ের নতুন সিজন। তবে তার আগেই এই শো’কে কেন্দ্র করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছেন এক চক্র। কয়েক দিন ধরেই একটি বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিজ্ঞাপনটিতে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কপিলের শো দেখার সুযোগ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটি দেখে নেটিজেনদের পাশাপাশি খোদ কপিলও হতবাক হয়েছেন। কারণ, এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন কপিল শর্মার শোয়ের পক্ষ থেকে নেটমাধ্যমে ছাড়া হয়নি।

ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কপিলের শো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। তার জন্য টিকিটের মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। এই বিজ্ঞাপন দেখে কপিলের এক অনুরাগী সাবেক টুইটারে জানতে চান, এটি সত্যি কি না? তৎক্ষণাৎ কপিলের তরফ থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় পুরোটাই প্রতারণার ফাঁদ।

পরে নিজের টুইটারে অনুরাগীদের সতর্কবার্তা দিয়ে কপিল লেখেন, আমরা কোনো দিন আমাদের শো দেখার জন্য এক টাকাও নেইনি। এটা প্রতারণার ফাঁদ। এই ধরনের প্রতারণা চক্র থেকে সাবধান থাকুন।

বর্তমানে হিন্দি টেলিভিশনে সফলতম সঞ্চালক কপিল শর্মা। শোয়ের প্রতি পর্বে তার পারিশ্রমিক প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বছরে কপিলের উপার্জন ৩০ কোটিরও বেশি, মাসিক প্রায় তিন কোটি টাকা।

সম্প্রতি চলতি সিজনের শেষ পর্বের শুটিং শেষ করে এখন কর্নাটকে ছুটি কাটাচ্ছেন কপিল। বরাবরের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের সঙ্গে সেইসব ছবি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সঞ্চালনা ও অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলও খুলেছেন তিনি। এখন কপিলের শোয়ের নতুন সিজনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন তার অনুরাগীরা।

লিটারে ৫ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা ও পামতেলের দাম লিটারে চার টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি’ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সয়াবিন তেল বোতলজাত ১৭৪ টাকা থেকে পাঁচ টাকা কমিয়ে ১৬৯ টাকা প্রতি লিটার এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৫৪ টাকা থেকে ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর পামতেলে ১২৮ টাকা থেকে ১২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যেই এ দাম কর্যকর করা হবে। আজকের ঘোষণার পরে সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, আমদানি পণ্যের মধ্যে তেল ও চিনি আমাদের বেশি প্রয়োজন। চিনি আমাদের ৯৯ শতাংশ আমদানি করতে হয়। আর তেল ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। চিনির ডিউটি ভ্যালুসহ সবকিছু ধরে আমরা মাঝে মাঝে দাম নির্ধারণ করে দেই। সয়াবিন তেল একসময় ২০৫ টাকা হয়ে গিয়েছিল। সেটা কমতে কমতে ১৭৪ টাকা হয়েছে। আর যেটা খোলা বিক্রি হয় সেটা ১৫৪ টাকা। সে হিসাবে ৩৫ টাকার মতো দাম কমেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজই আমরা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি পাম এবং সয়াবিন তেলের দাম আরও কমানো হবে। সেখানে সয়াবিন তেল লিটারে পাঁচ টাকা ও পামতেল চার টাকা কমানো হবে। আজ এবং কালকের ভেতর ঘোষণা করবে কোম্পানিগুলো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদোর চিনির দাম খোলা প্রতি কেজি ১২০ ও প্যাকেটজাত ১৩৫ টাকা কেজি। এটা এখনো কমানোর মতো অবস্থা হয়নি। ভারত থেকে আনতে পারলে দাম কম পরতো কিন্তু ভারত বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ৪০ টাকার ওপরে সরকার ডিউটি নির্ধারণ করেছে। কাজেই আগের দামেই রয়েছে। তবে আমরা বাজার পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছি যে মুহূর্তে দেখবো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে সে মুহূর্তে দেশের বাজারে দাম কমিয়ে দেবো।

দ. কোরিয়ার কাছে ৫.০৬ বিলিয়ন ডলারের জঙ্গি বিমান বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২৫টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে। বুধবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এশিয়ার এ দেশটির কাছে ৫.০৬ বিলিয়ন ডলারের জঙ্গি বিমান ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রি করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ বিষয়টির অনুমোদনও দিয়েছে।
ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসকে ২৫টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

তারা আরও বলেছে, প্রস্তাবিত (যুদ্ধবিমান) বিক্রয় এই অঞ্চলে আগ্রাসন রোধ করতে এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে আন্তঃকার্যযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে। এ সমরাস্ত্রগুলো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদান করে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সক্ষমতা উন্নত করবে।
ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি জানিয়েছে যে এ সমরাস্ত্রগুলো বিক্রির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অভিযান চালানোর মতো যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়বে। এর ফলে দেশটির আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আত্মরক্ষার ক্ষমতা বাড়বে।
তারা জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এখন এ জঙ্গি বিমানগুলো ব্যবহার করতে দেশটির সেনাবাহিনীর কোনো অসুবিধা হবে না।
কিম জং-উনের রাশিয়া সফরের সময় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়ার বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মধ্যেই এ যুদ্ধবিমান বিক্রির ঘটনা ঘটেছে।

ভিয়েতনামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫৬

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত তিনটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বিগত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড এটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ১০তলা ভবনটির পার্কিং ফ্লোরে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে অনেকগুলো মোটরসাইকেল পার্ক করা ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সন্দেহে ভবনটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হোয়া নামে এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সাহায্যের জন্য অনেকের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের বেশি কিছু করার ছিল না।

তিনি বলেন, ভবনটি এতটাই আবদ্ধ যে, পালানোর কোনো রাস্তা ছিল না। ফলে ভুক্তভোগীদের বেরিয়ে আসা অসম্ভব ছিল।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ভবনটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে।
বুধবার সকালের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ভবনটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ভবনের নিচতলায় বেশ কিছু পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দেখতে পাওয়া যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রায় ১৫০ জন মানুষ বসবাস করতেন।
হুয়োং নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগুন থেকে বাঁচতে ভবনের একটি উঁচু তলা থেকে এক শিশুকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সবখানে ধোঁয়া ছিল। ওপরের একটি তলা থেকে এক শিশুকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। আমি জানি না সে বেঁচে রয়েছে কি না। যদিও মানুষজন তাকে ধরতে একটি ম্যাট্রেস ব্যবহার করেছিল।
বুধবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন। ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটেছে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে।
এক বছর আগে বাণিজ্যকেন্দ্র হো চি মিন শহরে একটি কারাওকে বারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩২ জন প্রাণ হারান, আহত হয়েছিলেন ১৭ জন। পরে ভবনটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
ওই ঘটনার পরেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সব ভেন্যু পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী।
তার আগে, ২০১৮ সালে হো চি মিন শহরে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে ১৩ জন মারা যান। ২০১৬ সালে হ্যানয়ে একটি কারাওকে ভেন্যুতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান আরও ১৩ জন।

ভারতে ইলিশ রফতানি নিয়ে যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টন ইলিশ রফতানি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ‘নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অবগতির লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে’ এমন তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এখন ইলিশের মৌসুম, তারপরেও বাজারে চড়া দাম। তারপরেও ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কী পরিমাণ রফতানি করা হবে, এতে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা; প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ আমরা নিয়মিত রফতানি করি না। শুধু দুর্গাপূজায় যেসব বাঙালি আমাদের মতো ইলিশ খেয়ে থাকেন, তাদের জন্য এই উৎসবের সময় শুভেচ্ছাস্বরূপ ইলিশ দেয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, যেমন, আমের সময়, আমরা আম পাঠাই। সারা বছর কিন্তু আমরা এক ছটাকও ইলিশ রফতানি করিনি। এই ১৫ দিন কিংবা এক মাসের জন্য টোকেনস্বরূপ কিছু ইলিশ রফতানি করব।
দেশে বছরে ছয় লাখ টন ইলিশ উৎপাদন হয়, এমন তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেই হিসাবে প্রতিদিন যদি আমরা ধরি, তাহলে গড়ে দুই হাজার টন ইলিশ ধরা হয়। বড়ো জোর পাঁচ হাজার টন ইলিশ রফতানি করব। তাতে সারা বছরের দুই দিনের উৎপাদন আমরা তাদের দেব এই পূজার সময়।
তিনি বলেন, পাঁচ হাজার টন ইলিশ রফতানি আমাদের লক্ষ্য। গত বছর এই সমপরিমাণ দিয়েছি। আগের বছরও পাঁচ হাজার কিংবা তিন হাজার দিয়েছিলাম। তিন হাজার দিয়ে যদি পারি, তাহলে এর বেশি আমরা দেব না।

এতে বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন টিপু মুনশি। কবে থেকে এটা কার্যকর হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা পূজার সময়ে প্রতি বছর দেই। এবারও দেব।
তিনি বলেন, আবেদনের ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে হয়ত ৫০ টন করে দেব। এ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তাতে তিন হাজার বা সাড়ে তিন হাজার টন ইলিশ পাঠানো হতে পারে।