শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু আজ

ভারতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মিশন শুরু হচ্ছে আজ। বৈশ্বিক এই আসরে টাইগারদের সামনে প্রথম প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় মুখোমুখি হবে সাকিব আল হাসান ও হাশমতউল্লাহ শহিদির দল।
বর্তমানে শক্তি-সামর্থ্যে এই দুটি দল প্রায় কাছাকাছি পর্যায়েরই।
গত এক দশকে দুই দলের দ্বৈরথটা বেশ জমে উঠছে। এ বছর বাংলাদেশের মাটিতে আফগানরা ২-১-এ সিরিজ জিতলেও এশিয়া কাপে তাদের বেশ ভালো ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। এক মাসের ব্যবধানে এবার বিশ্বকাপে লড়বে দুই দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পরীক্ষা আফগানিস্তান হলেও বাংলাদেশের চোখ আরও দূরে। নিজেদের সপ্তম বিশ্বকাপে এবার সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে গেছে টাইগাররা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও বলেন, ‘ভালো বিশ্বকাপ কাটানো, ম্যাচ জেতা আমার লক্ষ্য। আমাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে। ’
এবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে বেশ দাপটের সঙ্গেই উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির বিশ্বকাপ সুপার লিগে চমক দেখিয়ে ২৪ ম্যাচে ১৫ জয় নিয়ে ১৪ দলের মধ্যে তিন নম্বরে ছিল টাইগাররা। তাই বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার বড় আশা করতেই পারে মিরাজ-শান্তরা।
এবার মাঠের বাইরের আলোচনাকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে ভালো শুরুর প্রত্যয়ে প্রস্তুত লাল-সবুজেরা। যদিও সেই তুলনায় প্রস্তুতিটা মোটেই ভালো হয়নি সাকিব আল হাসানের দলের। বিশ্বমঞ্চে অভিযানের আগে-পরে নানান বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেছে তারা।
বিশ্বকাপ সুপার লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করা বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তামিম ইকবাল। সেই তামিম কয়েক মাস ধরে পিঠের ব্যথার চিকিৎসায় দলের বাইরে ছিটকে গেছেন। বিশ্বকাপে খেলতে চাইলেও ‘আনফিট’ কিংবা ‘অর্ধফিট’ কোনো খেলোয়াড়কে দলে রাখতে চাননি অধিনায়ক সাকিব ও কোচ হাথুরুসিংহে।

বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় ও এরপর যেসব ঘটনার অবতারণা হয় তা ছিল রীতিমতো লজ্জাজনক। তামিম ইস্যুতে কাঠগড়ায় ওঠেন অধিনায়ক সাকিব, কোচ হাথুরুসিংহে আর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এ ঘটনার রেশ বিশ্বকাপেও থাকবে এবং দলের বিপর্যয় ঘটবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।
যদিও দুটি ওয়ার্মআপ ম্যাচে বাংলাদেশ দল মোটামুটি ভালো পারফর্ম করায় স্বস্তি ফিরছে দলে। রানে ফিরেছেন ডানহাতি ব্যাটার লিটন দাস, আর তামিমের জায়গায় দলে ঢোকা বামহাতি ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম দুটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।
তবে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বিবেচনায় জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী টাইগাররা। ধর্মশালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সেই ধারারই প্রতিফলন ঘটতে চায় হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। তাই ওপেনিং নিয়ে আপাতত দুশ্চিন্তা কমেছে হাথুরুর। তবে লিটন ও তানজিদই যে ওপেন করবেন, সেই নিশ্চয়তাও তিনি দেননি।
ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ১৫ বারের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ ৯টি ও আফগানিস্তান ৬টি ম্যাচ জিতেছে। সর্বশেষ দুটি জয় বাংলাদেশেরই। গত মাসে লাহোরে এশিয়া কাপের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮৯ রানে হারায় সাকিবের দল। ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর পরও বিশ্বকাপে ফল নিজেদের পক্ষে নিতে আশাবাদী আফগানরা। দলটির অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রত্যয়ের কথাই শোনালেন। গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ২-১-এ জেতাকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছে আফগানরা।
বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান প্রথম মুখোমুখি হয় ২০১৪ সালে। ফতুল্লায় প্রথম দেখায়ই বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারিয়ে চমকে দেয় আফগানিস্তান। এরপর ১৪ ম্যাচের ৯টি জিতে অবশ্য বাংলাদেশই এ দ্বৈরথে কর্তৃত্ব করে।
বিশ্বকাপে দুবারের দেখায় দুবারই জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ক্যানবেরায় আফগানদের ১০৫ রানে হারায় বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে সাউদাম্পটনে সাকিব ম্যাজিকে টাইগাররা জিতেছে ৬২ রানে। ব্যাট হাতে ৬৯ বলে ৫১ রান করার পর বল হাতে ২৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করে তিনি একাই হারিয়ে দেন আফগানদের।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৪ ইনিংসে ৩০.৬৯ গড়ে ৩৯৯ রান করেছেন সাকিব, যা দেশের হয়ে দ্বিতীয় সেরা। ফিফটি দুটি। উইকেট নিয়েছেন ২৭টি। সেরা ফিগার ৫/২৯। সাউদাম্পটনের মতোই কি আজ ব্যাট-বলে জ্বলে উঠবেন সাকিব? যদি অধিনায়ক ছন্দ খুঁজে পান, তবে জয়ের আশা জাগবে বাংলাদেশের।

ধর্মশালার উইকেট চিরাচরিতভাবে পেসবান্ধব। এখানে মিডিয়াম পেসাররা সুবিধা পান। সুইং পান বোলাররা। টস জয়ী দলটি চোখ বন্ধ করেই বোলিং বেছে নিতে পারে। ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ধর্মশালায় তিনটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডস ও ওমানের বিপক্ষে জিতলেও বৃষ্টিতে পণ্ড হয় আয়ারল্যান্ড ম্যাচ।

ডাচদের উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু পাকিস্তানের

ম্যাচের কোনো কোনো সময় পাকিস্তানকে দুশ্চিন্তায় রেখেছিল নেদারল্যান্ডস। সেটা পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের সময় কিছুটা এবং বোলিংয়ের সময়ও। তবে সেই দুশ্চিন্তা বড় হয়নি।

হায়দরাবাদে ডাচদের ৮১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট পাকিস্তান।

নেদারল্যান্ডসের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৮৭ রানের। ডাচ ব্যাটাররা শুরুতে দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেছেন। ৫০ রানে ২ উইকেট হারালেও বিক্রমজিৎ সিংয়ের ফিফটিতে ২৪ ওভারে ২ উইকেটে ১২০ রান তুলে ফেলেছিল কমলা জার্সিধারীরা। পাকিস্তান শিবিরে তখন জেঁকে বসেছিল ভয়!

তবে বোলাররা দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরিয়েছেন দলকে, হঠাৎ ধস নামিয়েছেন ডাচদের ইনিংসে। তাদের শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন বেস ডি লেডে। তিনিও ৬৮ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় ৬৭ রান করে মোহাম্মদ নওয়াজের বলে বোল্ড হলে সব আশা শেষ হয়ে যায়!

রান তাড়ায় নামা নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স ও’দাউদকে ফিরিয়ে ২৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান আলি। এরপরও ডাচরা মোটামুটি দেখেশুনে এগোচ্ছিল। কিন্তু ১২তম ওভারে বল হাতে নিয়েই দলকে উইকেট এনে দেন ইফতিখার আহমেদ। কলিন আকারম্যান (২১ বলে ১৭) সুইপের লোভ করতে গেয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

তৃতীয় উইকেটে বেস ডি লেডে আর বিক্রমজিৎ গড়েন ৭৬ বলে ৭০ রানের লড়াকু জুটি। কিন্তু ২৪তম ওভারে বিক্রমজিৎ (৬৭ বলে ৫২) শাদাব খানের শিকার হওয়ার পর ব্যাকফুটে চলে যায় নেদারল্যান্ডস।

২৬তম ওভারে এসে তিন বলের মধ্যে দুই ডাচ ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান হারিস রউফ। তেজানিদামানুরুকে ৫ আর অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে ০ রানে ফেরত পাঠান পাকিস্তানি গতিতারকা। ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে নেদারল্যান্ডস।

সেখান থেকে বেস ডি লেডের লড়াই। কিন্তু সেই লড়াই দলকে বড় হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। ৪১ ওভারে ২০৫ রানে অলআউট হয়েছে নেদারল্যান্ডস।

পাকিস্তানের হারিস রউফ ৪৩ রানে নেন ৩টি উইকেট। ৩৩ রানে ২ উইকেট শিকার হাসান আলির।

এর আগে সেঞ্চুরি জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামলালেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সৌদ শাকিল। শেষের ধাক্কা মোকাবেলায় ব্যাট হাতে দক্ষতা দেখালেন শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজরা। সবমিলিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪৯ ওভারে অলআউট হলেও ২৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজিই পেয়েছে পাকিস্তান।

রাজিব গান্ধি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই চেপে ধরেছিল নেদারল্যান্ডস। ১০ ওভার হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ৩টি উইকেট তুলে নেন ডাচ বোলাররা।

ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন ফাখর জামান, ইমাম উল হক এবং অধিনায়ক বাবর আজম। ৩৮ রানের মধ্যে তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে হারিয়ে রীতিমত ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান।

চতুর্থ ওভারেই পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন ডাচ বোলার লোগান ফন বিক। তাকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে বসেন পাকিস্তানি ওপেনার ফাখর জামান। ১৫ বলে ১২ রান করে আউট হন তিনি। দলীয় রান ছিল তখন ১৫।

এরপর বাবর আজম এবং ইমাম-উল হক জুটি বাধেন। কিন্তু সেটা মাত্র ১৯ রানের। ১৮ বলে ৫ রান করে পল অ্যাকারম্যানের বলে সাকিব জুলফিকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাবর। দলের রান ছিল এ সময় ৩৪।

১৯ বলে ১৫ করে আউট হয়ে যান ইমাম-উল হকও। পল ফন মিকেরেনের বলে আরিয়ান দত্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তানের বাঁহাতি এই ওপেনার।

৩৮ রানে ছিল না ৩ উইকেট। ডাচ বোলারদের তোপে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সৌদ শাকিলের জুটিতে।

শুধু জুটিই গড়েননি, দলের রানকেও বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়েছেন এই যুগল। ১১৪ বলে তাদের ১২০ রানের জুটিটি অবশেষে ভাঙেন আরিয়ান। ৫২ বলে ৯ চার আর ১ ছক্কায় ৬৮ করে সাজঘরের পথ ধরেন সৌদ।

তার জুটি সঙ্গী রিজওয়ানও ঠিক ৬৮ রান করেই আউট হন। বেস ডি লেড এক ওভারে সাজঘরে ফেরান দুই পাকিস্তানি ব্যাটারকে। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রিজওয়ান। ৭৫ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৮টি বাউন্ডারির মার।

দুই বল পর উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইফতিখার আহমেদও (১১ বলে ৯)। দুই সেট ব্যাটারসহ ৩০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে পাকিস্তান।

১৮৮ রানে ৬ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ নওয়াজ আর শাদাব খান। ৭০ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তারা। বেস ডি লেডের বলে শাদাব (৩৪ বলে ৩২) বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। ওই ওভারেই হাসান আলিকেও (০) এলবিডব্লিউ করে ফেরান ডাচ পেসার।

মোহাম্মদ নওয়াজ রানআউট হন ৪৩ বলে ৩৯ করে। শেষদিকে হারিস রউফ ১৪ বলে ১৬ আর শাহিন শাহ আফ্রিদি ১২ বলে করেন অপরাজিত ১৩ রান।

নেদারল্যান্ডসের বেস ডে লিডে ৬২ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট।

ফ্রান্সের দুই চলচ্চিত্র উৎসবে ‘আজব কারখানা’

ফ্রান্সের প্যারিস ও তুলুসে দুই চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘আজব কারখানা’। শনিবার (৭ অক্টোবর) প্যারিসে সিনেমা ল্যঁ লিংকনে গঁজ স্যুর সেইন ফেস্টিভ্যালে ছবিটির প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন প্রযোজক সামিয়া জামান। চলতি মাসেই তুলুসেও দেখানো হবে এটি।

শবনম ফেরদৌসী পরিচালিত ‘আজব কারখানা’ ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপরেসি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার অষ্টম জাফনা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেস্ট ডেব্যু সম্মান পেয়েছে ছবিটি।

আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে ‘আজব কারখানা’। এরমধ্যে ভারতের কলকাতা, পুনে, বেঙ্গালুরু ও নাগপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, সুইজারল্যান্ডের ফিফগ, উত্তর আমেরিকার তাসভির এবং থার্ড আই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডনের রেইনবো অন্যতম।

আগামী বছরের শুরুতেই ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তি পাবে বলে জানান নির্মাতা।

একজন রকতারকার জীবন ও লোকগানের শিল্পীদের ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ‘আজব কারখানা’র ঘটনাচক্র। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও আছেন দিলরুবা দোয়েল, শাবনাজ সাদিয়া ইমি, খালিদ হাসান রুমি, হালিম বয়াতি, দিলু বয়াতি, কিতাব আলিসহ অনেক লোকজ শিল্পী।

‘আজব কারখানা’র সংগীত পরিচালনায় লাবিক কামাল গৌরব। ছবিটির গান লিখেছেন কবি হেলাল হাফিজ।

মৌলবাদ-রক্ষণশীলতা রুখে নারীদের জাগ্রত করেছে উই: প্রতিমন্ত্রী

মৌলবাদ ও রক্ষণশীলতা রুখে দিয়ে উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) দেশের নারীদের জাগ্রত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

তিনি বলেন, ‘উৎসাহ ও উদ্দীপনা দিয়ে নারীদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে উই। মৌলবাদ-রক্ষণশীলতা রুখে দিয়ে তারা নারীদের জাগ্রত করেছেন। তাদের প্রতি আমার আহ্বান- এ ধারা যেন অব্যাহত রাখা হয়।’.

শুক্রবার (৬ আগস্ট) ‘চতুর্থ উই সামিট ২০২৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সামিট চলবে শনিবার (৭ অক্টোবর) পর্যন্ত। এতে সহযোগিতা করছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কনট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ।

কে এম খালিদ বলেন, ‘উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের সর্ববৃহৎ সংগঠন উই। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে। এটি পিছিয়ে পড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্যোগী ও উদ্যমী ভূমিকা পালন করছে। সরকারও উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মমর্যাদা সৃষ্টিতে ই-কমার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর ই-কমার্সেরই একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে উই। করোনাকালীন সময়ে ই-কমার্স ছিল আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন।’

সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) জি এস এম জাফরুল্লাহ, কনট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ এর নিয়ন্ত্রক (যুগ্মসচিব) এ টি এম জিয়াউল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার খন্দকার তাসফিন আলম, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা ও উই’র উপদেষ্টা কবির সাকিব প্রমুখ।

সামিটের প্রথমদিন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়ের উন্নয়নে ছয়টি প্যানেল আলোচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা এবং নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয়দিনে শনিবার (৭ অক্টোবর) দুটি কর্মশালা ও একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখা ১০ নারী ও ১০ নারী উদ্যোক্তাকে ‘জয়ী’সম্মাননা দেওয়া হবে।

তৃতীয় টার্মিনালে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ‘স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার সংযোগ’ স্লোগানে শনিবার (৭ অক্টোবর) এটি উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ভিআইপি অংশে দুটি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে এক বোর্ডিং ব্রিজের সামনে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ রাখা হয়েছে। বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে বিমানের ভেতরে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া তিন তলাবিশিষ্ট তৃতীয় টার্মিনালে ওঠা- নামার ব্যবস্থা, ভেতর-বাইরে সব জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সাজানো হয়েছে।

আগামীকাল শনিবার তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমে কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে পারি তৃতীয় টার্মিনালটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন স্থাপনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ট্রায়াল সাক্ষী করে নতুন দৃশ্যমান টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করবেন।’

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘নতুন টার্মিনালের ৯০ শতাংশ কাজ সফট লঞ্চিংয়ের জন্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার থেকে এয়ারলাইন্সগুলো টার্মিনালের নতুন পার্কিং বে ব্যবহার করতে পারবে। তবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং ক্রমাঙ্কন সম্পন্ন হওয়ার পর তৃতীয় টার্মিনাল আগামী বছরের শেষে যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি চালু হবে।’

নতুন টার্মিনালটি বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা এবং যাত্রী পরিষেবা দিয়ে দেশের চিত্র পাল্টে দেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোসহ থার্ড টার্মিনালের ফ্লোর এবং সিলিংয়ে নজরকাড়া প্যাটার্নের বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই পরিশীলিত। যাত্রীরা নতুন টার্মিনালের বিশ্বমানের সুবিধার প্রশংসা করবে, যা আমরা এখানে আগে কখনো পাইনি।’

২০১৭ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তবে নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। বাকি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। নির্মাণকাজ করছে জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।

বেবিচক সূত্র জানান, এখন শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ এর অ্যাপ্রোনে ২৯টি বিমান রাখা যায়। ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অ্যাপ্রোনে আরও ৮ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ রাখা যাবে। ফলে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করে রাখা যাবে। নতুন টার্মিনালে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজের ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে আগামী অক্টোবরে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ চালু হবে। বহির্গমনের জন্য মোট চেক-ইন কাউন্টার থাকবে ১১৫টি। যার মধ্যে ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেক-ইন কাউন্টার।

এ ছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ কাউন্টারসহ বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে ৬৬টি। আগমনীর ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি কাউন্টার থাকবে। তৃতীয় টার্মিনালে আগমনী যাত্রীদের জন্য ১৬টি লাগেজ বেল্ট থাকবে। অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য থাকবে চারটি আলাদা বেল্ট।

বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের নিচতলায় থাকবে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম। দ্বিতীয় তলায় থাকবে বহির্গমন লাউঞ্জ, ক্যানটিন ও বোর্ডিং ব্রিজ। থাকবে সুপরিসর ডিউটিফ্রি শপ এবং বহির্গমন লাউঞ্জ। ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়োতনের তৃতীয় টার্মিনাল ভবনে বছরে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নান্দনিক নকশায় সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল টার্মিনাল ভবনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখন সেখানে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। এক হাজার ৪৪টি গাড়ি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বহুতল কার পার্কিং তৈরির কাজ চলছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কাস্টমের একটি হল ও ছয়টি চ্যানেল তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ প্রান্তে ৩ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ভিভিআইপি ও ভিআইপি যাত্রীদের জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে বহুতল কার পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে এক হাজার ৩৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালে দিনে ৩০টির বেশি উড়োজাহাজ সংস্থার ১২০-১৩০টি প্লেন উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। প্রতিদিন এসব উড়োজাহাজের প্রায় ২০ হাজার যাত্রী বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যবহার করেন। এ হিসাবে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেওয়ার সুযোগ আছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আরও এক কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনাল ভবনের বহির্গমন পথে ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল বা ই-গেইট থাকবে। যেখানে যাত্রীরা নিজেরাই ইমিগ্রেশন করাতে পারবেন। তাদের আর ইমিগ্রেশন পুলিশের মুখোমুখি হতে হবে না। তবে নিজেরা করতে না চাইলে তাকে সহযোগিতা করতে ৫৬টি বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টারও প্রস্তুত থাকবে। সেখানে ইমিগ্রেশন করবে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ ছাড়া যেসব যাত্রী অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে ঢুকবেন তাদের জন্য ৫টি ই-গেট থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ৫৪টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন কাউন্টার।

বেধে দেওয়া ৩ পণ্যের দামে লক্ষ্য পূরণ হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

বেধে দেওয়া তিন পণ্যের (ডিম, আলু, পেঁয়াজ) দামে লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চেষ্টা করা হচ্ছে। দাম আর বাড়েনি। তবে যে লক্ষ্য ছিল সেটা এখনো পূরণ হয়নি। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চেষ্টা করছে।’

দেশে পণ্য আমদানির ব্যয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমদানি করলে তো ব্যয় বাড়বে। এতে সমস্যা তো কিছু নেই। এর বিপরীতে রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। আমাদের যেটা সমস্যা হয়েছে সেটা গতমাসে রেমিট্যান্স কম এসেছে। এখানে একটু সমস্যা হয়েছে।’

বাংলাদেশি পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ভারতের শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে তার পেছনে যে যুক্তি দেখিয়েছে তা হলো, আমরা ভর্তুকি দিয়ে পাটপণ্য রপ্তানি করে তাদের বাজার নষ্ট করছি। ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ প্রত্যাহারে আমরা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

পেঁয়াজ, আলু ও ডিম—এ তিন পণ্যের দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারের পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভারত থেকে একাধিক কূটনীতিককে সরিয়ে নিয়েছে কানাডা

সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ভারত সরকার। নির্ধারিত সেই সময়ের আগেই ভারত থেকে একাধিক কূটনীতিককে সরিয়ে নিয়েছে কানাডা সরকার।

জানা গেছে, কানাডার বেশ কিছু কূটনীতিককে রাজধানী দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারত থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিলো ট্রুডো সরকার। জানা গেছে, নয়া দিল্লি থেকে কানাডার এসব কূটনীতিকদের সিঙ্গাপুর অথবা কুয়ালালামপুরে সরিয়ে নিয়ে গেছে কানাডা।

খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকেকেন্দ্র করে ভারত-কানাডার মধ্যে বিরোধের পরই এই নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কানাডার ৪১ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি ১০ অক্টোবরের মধ্যে কানাডা রাষ্ট্রদূতদের সরিয়ে না নেয়, তবে তাদের কাছ থেকে কূটনৈতিক সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছিল ভারত সরকার। এরপরই রাষ্ট্রদূতদের সরিয়ে নিলো ট্রুডো সরকার।

কানাডার একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একসঙ্গে ৪১ জনকে নয়, ধাপে ধাপে কানাডা ভারতে থাকা কূটনীতিকদের সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূতকে ভারত থেকে সরিয়ে সিঙ্গাপুর অথবা কুয়ালালামপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কানাডার কূটনৈতিক ও কনসুলার সম্পর্কের দায়িত্বে থাকা গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা-র পক্ষে দাবি করা হয়েছে, একাধিক কানাডার কূটনীতিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সতর্কতা হিসেবেই আপাতত ভারতে কূটনীতিকদের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। যদিও ভারতের পক্ষে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮০০

দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ালো এক হাজার ৬৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮০০ জন।
আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

‘সব রেডি করে দিয়েছি, এখন বসে বসে বড় বড় কথা’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাকে বেশি কথা বললে, সব বন্ধ করে বসে থাকবো। ভোটে আসলে আবার করব। দেখি কে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়। সব রেডি করে দিয়েছি, এখন বসে বসে বড় বড় কথা বলে। আমি বাবা-মা সব হারিয়েছি। আমার হারাবার কিছু নেই। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে মিছিল করি। কত বছর হয়েছে রাজনীতির? একটা স্বপ্ন ছিল জাতির পিতার, সেটা করেছি, এখন তো কেউ না খেয়ে থাকে না।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ও যুক্তরাজ্য সফরের নানা দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সরকারপ্রধান বলেন, করোনার সময় আমাদের আমদানি বন্ধ ছিল, রপ্তানি বন্ধ ছিল, যোগাযোগ বন্ধ ছিল, যাতায়াত বন্ধ ছিল, সব কিছু বন্ধ ছিল। যার জন্য আমাদের রিজার্ভ বেড়ে ছিল। এরপর যখন সব কিছু খুলে গেল, আমাদের আমদানি করতে হলো, তখন আমাদের রিজার্ভ কমবে, এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। আমার প্রশ্ন হচ্ছে– আমি যখন ২০০৯ ক্ষমতা গ্রহণ করি তখন রিজার্ভ কত ছিল? ১ বিলিয়নও ছিল না। ০.৭৭ রিজার্ভ ছিল। আমি যখন ৯৬ সালে সরকার করে রিজার্ভ কত ছিল? বিলিয়নের ধারে কাছেও ছিল না। যতটুকু বেড়েছে, আমাদের সরকারের আমলে আমরা করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০ ডলারের গম ৬০০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। ৮০০ ডলারের পরিবহন খরচ এখন তিন হাজার, চার হাজার ডলার লাগছে, তারপরও তো পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছি, এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে। আমরা নিজেরা উৎপাদন করব, নিজেরা খাব, নিজেরা চলব।
‘রিজার্ভ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারে। যদি এত বেশি কথা হয়, তাহলে পুরোনো অবস্থানে ফিরে যাব। যখন সরকার গঠন করেছিলাম তখন যত ছিল, এখানে এনে রেখে আবার নির্বাচন করব। করে আবার বাড়াব। বিদ্যুৎ শতভাগ থেকে কমিয়ে ২৮ ভাগে নিয়ে আসব। সবাই একটু টের পাক, কি ছিল।’

সরকারপ্রধান বলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে বলেছি প্রতিদিন যেন একটু লোডশেডিং দেয়, তাহলে মানুষের মনে থাকবে লোডশেডিং আছে। পয়সা দিয়ে তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হবে। তখন আক্কেলটা ঠিক হবে। হ্যাঁ, এই অবস্থা তো ছিল। এখন তো আমরা করে দিচ্ছি। ভর্তুকে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, ভোটের জন্য তো আমরা সংগ্রাম করলাম, আমাকে ভোটের হিসাব শেখাতে হবে না। আমরা সেই আইয়ুব খানের আমল থেকে আন্দোলন করে রাস্তায় থাকি। আমরা এমন না যে নতুন এসেছি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া সবই তো ভোট চোর। আওয়ামী লীগ আসার পর আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করতে হয়নি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন। কাজের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করি। আর এই দেশের মানুষ এখন জানে নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। নৌকায় ভোট দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ৪১ ভাগ থেকে ১৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এটা কারো এনজিওয়ের মাধ্যমে হয়নি, কারো ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে হয়নি। বরং আমরা ক্ষুদ্র সঞ্চয় করাচ্ছি। আমরা দারিদ্র্যসীমা কমিয়ে এনেছি, বর্তমানে দেশে হতদরিদ্র মাত্র পাঁচ পার্সেন্ট। ইনশাআল্লাহ ওটুকুও থাকবে না। হতদরিদ্র থাকবে না। এখন একটা সন্দেহের বিষয় আছে, আমাদের মানুষ কতটুকু সচেতন সেটা হলো কথা। তবে কিছু লোক তো আছে, যারা চোখ থাকতে অন্ধ এবং কান থাকতে বধির। তাহলে তো আর কিছু করা যায় না।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে অধিবেশন শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে পৌঁছান তিনি।
দুই দেশে মোট ১৬ দিনের সফর শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। এতেই প্রমাণিত হয় তারা নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তাদের কর্মসূচি ও সমাবেশগুলোতে মানুষ হচ্ছে না। ফলে তারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা নাই, তাই নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। এজন্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে তারা।’
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে একুশে পত্রিকার সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী। শোকসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে দেশের গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে। সেটি এই দেশের মানুষ হতে দেবে না। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালালে দেশের মানুষ যেমন প্রতিহত করবে, একইভাবে বিদেশিরাও এটি সমর্থন করে না।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আল্টিমেটাম তো বিএনপি গত ১৩-১৪ বছরে বহুবার দিয়েছে। গত ডিসেম্বরেও তাদের আল্টিমেটাম ছিল। তারপর খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে পাঠানোর আল্টিমেটামও ছিল। এখন ১৮ তারিখ আবার দিয়েছে। এই বছরের ১৮ তারিখ নাকি আগামী বছরের ১৮ তারিখ, নাকি তারও পরের বছরের ১৮ তারিখ; সেটিও অনেকে প্রশ্ন রেখেছেন। বিএনপির আল্টিমেটাম ফাঁকা বুলি ছাড়া অন্য কোনও কিছু নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব চট্টগ্রামে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রোডমার্চ শেষে যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে যে সংখ্যক মানুষ হয়েছে। চট্টগ্রামের লালদিঘির পাড়ে অনেকসময় যখন পাগল নাচে তখনও এর কাছাকাছি মানুষ হয়। সুতরাং তাদের কর্মসূচিতে লোকসমাগম সেভাবে হয়নি এবং তারা প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আশা করেছিল, বিদেশিরা তাদেরকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, সেই আশাও বুমেরাং হয়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে কীভাবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। জো বাইডেনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। এতে বিএনপি হতাশ হয়ে পড়েছে।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। এতেই প্রমাণিত হয় তারা নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তাদের কর্মসূচি ও সমাবেশগুলোতে মানুষ হচ্ছে না। ফলে তারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা নাই, তাই নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। এজন্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে তারা।’
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে একুশে পত্রিকার সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী। শোকসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে দেশের গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে। সেটি এই দেশের মানুষ হতে দেবে না। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালালে দেশের মানুষ যেমন প্রতিহত করবে, একইভাবে বিদেশিরাও এটি সমর্থন করে না।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আল্টিমেটাম তো বিএনপি গত ১৩-১৪ বছরে বহুবার দিয়েছে। গত ডিসেম্বরেও তাদের আল্টিমেটাম ছিল। তারপর খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে পাঠানোর আল্টিমেটামও ছিল। এখন ১৮ তারিখ আবার দিয়েছে। এই বছরের ১৮ তারিখ নাকি আগামী বছরের ১৮ তারিখ, নাকি তারও পরের বছরের ১৮ তারিখ; সেটিও অনেকে প্রশ্ন রেখেছেন। বিএনপির আল্টিমেটাম ফাঁকা বুলি ছাড়া অন্য কোনও কিছু নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব চট্টগ্রামে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রোডমার্চ শেষে যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে যে সংখ্যক মানুষ হয়েছে। চট্টগ্রামের লালদিঘির পাড়ে অনেকসময় যখন পাগল নাচে তখনও এর কাছাকাছি মানুষ হয়। সুতরাং তাদের কর্মসূচিতে লোকসমাগম সেভাবে হয়নি এবং তারা প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আশা করেছিল, বিদেশিরা তাদেরকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, সেই আশাও বুমেরাং হয়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে কীভাবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। জো বাইডেনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। এতে বিএনপি হতাশ হয়ে পড়েছে।’
এর আগে শোকসভায় প্রয়াত একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি যেমন অকুতোভয় সাংবাদিক ছিলেন, একইসঙ্গে একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি কিন্তু ক্ষান্ত হননি, দমে যাননি। ক্যানসারের সঙ্গে অবিরত লড়াই করেছেন। তিনি জানতেন ধীরে ধীরে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যাচ্ছে। মৃত্যুর কদিন আগে আমি যখন হাসপাতালে তাকে দেখতে যাই, তখন তিনি যেভাবে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং মৃত্যুর পর কী করতে হবে দুয়েকটি কথাও আমাকে বলেছেন। একটা মানুষ জানেন তিনি মৃত্যুপথযাত্রী, এরপরও অবিচল। সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি।’