শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

নভেম্বরে শির সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে : বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার বলেছেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চাপ থাকায় আগামী নভেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোতে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে তার সাক্ষাত হতে পারে। তবে এই ব্যাপারে এখনো কিছুই নির্ধারিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাধর এ¦ই দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে ব্যক্তিগতভাবে কোন সাক্ষাত হয়নি বা কথা বলেননি। বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জেদাজেদির কারণে এক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকোকে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের সময় তাদের সাক্ষাত হতে যাচ্ছে এমন খবরের পর বাইডেন বলেন, ‘এই ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি, তবে এটি হচ্ছে একটি সম্ভাবনা।’
বাইডেন আগামী ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া শহরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নেতাদের অংশগ্রহণে সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছেন এবং এই সম্মেলন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের মিলনের স্থান হতে পারে বলে জল্পনা-কল্পনা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা শুরু করেছে। এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ‘এটি মোটামুটি নিশ্চিত।’
এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এপেক সম্মেলনের আগে কোন এক সময় ওয়াশিংটন সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শি এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন কি না, সে ব্যাপারে বেইজিং কোনো কিছু নিশ্চিত করেনি।

২০২২ সালের নভেম্বরে বালি শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাইডেন ও শির মধ্যে সর্বশেষ সাক্ষাত হয়। এই সময় তাদের মধ্যে কথোপকথন আশ্চর্যজনকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু তারপর সম্পর্ক আবারো স্থবির হয়ে পড়ে এবং ওই সময়ের পর থেকে তাদের মধ্যে কোন ফোনালাপও হয়নি।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই দেশ কূটনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
খবর এএফপি

আমরাও চাঁদে যাব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের পাশের দেশ (ভারত) চাঁদে যায়। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। আমরাও চাঁদে যাব।
আজ শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরর তৃতীয় টার্মিনালের একাংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে তাকে শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৯ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশকে কিছু দিতে পারেনি। এদিক থেকে আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তুলতে কাজ করেছি।
তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পর্যটনশিল্পকে আধুনিক করে তুলতে আমরা আরও কয়েকটি বিমান কিনব। আমরা চাই অ্যাভিয়েশন খাত আরও উন্নত হোক।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা দেখেছি পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় কিছু পরিবর্তন হয় যেমন একসময় হংকং ছিল আন্তর্জাতিক হাব, এরপর হলো সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এখন দুবাই। আমি বিশ্বাস করি পূর্ব ও পশ্চিমের আকাশপথের মধ্যবর্তী হওয়ায় এক সময় আমাদের কক্সবাজার বা হযরত শাহজালাল হবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন হাব।
শেখ হাসিনা বলেন, রিফুয়েলিংয়ের জন্য এখানে সবাই আসবে। আসলে বাংলাদেশের সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে আর কক্সবাজারে নামলে তো আমাদের দীর্ঘ বালুকাময় সী বিচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। সেভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। প্রযুক্তি সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলে মানুষের যোগাযোগ সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন সবকিছু উন্নত করার ব্যবস্থাই তাঁর সরকার করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন বিমানের বহরে ২১টি অত্যাধুনিক বিমান যোগ হয়েছে, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করছে। তাছাড়া এই তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে আমাদের আড়াই হাজার নতুন পথ সৃষ্টি হবে।

মার্কিন প্রতিনিধি দল চীন পৌঁছেছে

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেকা চাক শুমারের নেতৃত্বে সিনেটরদের দ্বি-দলীয় একটি প্রতিনিধি দল শনিবার সাংহাই এসে পৌঁছেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘সিজিটিএন’ এই কথা জানিয়েছে। ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে চায়। এই লক্ষ্যে সিনেটরদের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সিজিটিএনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, চীনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত সাংহাইতে বিকেলে মার্কিন প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছায়।
রাজধানী বেইজিং যাওয়ার আগে শুমারের সাংহাইয়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বৈইজিংয়ে প্রতিনিধি দলের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
চীন বলেছে, তারা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারা আশা করছে, এই সফরের কারনে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে চীন সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়বে।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সফর ‘দুই দেশের আইন প্রণয়ণ সংস্থার মধ্যে সংলাপ এবং বিনিময়কে উন্নীত করবে এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে ইতিবাচক উপাদানগুলোর সন্নিবেশ ঘটাবে।’
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, দলটি চীনে মার্কিন ব্যবসার পরিবেশ থেকে শুরু করে মানবাধিকারের বিষয়গুলো উত্থাপন করার চেষ্টা করবে। প্রতিনিধি দলটি দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানেও যাবে। নিউইয়র্ক টাইমস সিনেটর কার্যালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এই কথা জানিয়েছে।

‘এলডিসি থেকে বের হতে সহায়ক হবে তৃতীয় টার্মিনাল’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পার্লামেন্টারি ভাইস মিনিস্টার মাশাহিরো ওকামুরা।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি সমৃদ্ধ করবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

আজ শনিবার (৭ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পার্লামেন্টারি ভাইস মিনিস্টার মাশাহিরো ওকামুরা।
তিনি বলেন, দুই দেশের পতাকার মতোই জাপান ও বাংলাদেশের কূটনীতিক সম্পর্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। বিশেষ করে এ বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য অংশীদারত্ব চুক্তির জন্য যৌথ গবেষণা চলছে।
মাশাহিরো ওকামুরা বলেন, বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্কের কথা বলতে গেলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে। গত ৫০ বছর ধরে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে জড়ো হয়েছে ৯ শতাধিক অভিবাসী

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বেশ কয়েকটি নৌকায় পাড়ি দেওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় ৯শ’ জনের বেশি অভিবাসী স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছে। শুক্রবার দেশটির সামুদ্রিক উদ্ধার পরিষেবা এই কথা জানিয়েছে।
ইতালির দ্বীপ ল্যাম্পেডুসায় সাম্প্রতিক অভিবাসীর আগমন বৃদ্ধির সংকট নিয়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা দক্ষিণ স্পেনের গ্রানাডায় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, তখনই ক্যানারী দ্বীপে অভিবাসীদের এই আগমন ঘটে।

স্পেনের মেরিটাইম রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে ছোট এবং পশ্চিম দিকের এল হিয়োরোতে মোট ৫২৬ জনকে বহনকারী পাঁচটি নৌকা পৌঁছেছে।
আরও দুটি নৌকা টেনেরিফে এবং তিনটি গ্রান ক্যানারিয়ায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ৯০৮ জন।
শুক্রবার দিনের শেষ দিকে উদ্ধারকারী সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেছেন, আরও দুটি নৌকায় প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে এল হিয়েরো যাচ্ছিল।
শান্ত আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জে লোকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য পাচারকারীরা সক্রিয়। এতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ক্যানারি দ্বীপগুলোতে অভিবাসীদের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাদের নিকটতম পয়েন্টে, দ্বীপগুলো মরক্কো থেকে ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দূরে।
মঙ্গলবার ২৮০ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা এল হিয়েরোতে নেমেছে। এটি একটি একক জাহাজে দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর বৃহত্তম সংখ্যা।
কর্মকর্তারা বলেছেন, গত সপ্তাহে ১২শ’র বেশি অভিবাসী ক্ষুদ্র দ্বীপে এসেছেন, যেখানে ১১,০০০ জন লোকের বাসস্থান। এর সামাজিক পরিষেবাগুলোকে ছাপিয়ে গেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে ক্যানারি দ্বীপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৪,৯৭৬ অভিবাসীদের আগমন ঘটেছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৮ শতাংশ বেশি।

২০ মিনিটে ৫ হাজার রকেট ছুড়েছে হামাস

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই সময়ে বৃহত্তর তেল আবিব এলাকা পর্যন্ত আগত আগুনের সতর্কতা সাইরেন শোনা গেছে। এএফপির বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে বলা হয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টায় গাজার একাধিক স্থান থেকে রকেট ফায়ার শুরু হয়। এটি প্রায় আধা ঘণ্টা অব্যাহত ছিল।

আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, হামাসের সামরিক বাহিনী আল কাসসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, প্রথম ২০ মিনিটে গাজা থেকে ইসরায়েলে ৫ হাজার রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আল-কাসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, শত্রুদের সাইট, বিমানবন্দর এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট হামলার মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়েছে।
এএফপি জানিয়েছে, উত্তরে প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪০ মাইল) তেল আবিব পর্যন্ত বিমান হামলার সাইরেন শোনা গিয়েছিল এবং ইসরায়েলিদের তাদের বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি ভবনে রকেটের আঘাতে ৭০ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যত্র, ২০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রকেটের আঘাতে মাঝারিভাবে আহত হয়েছেন।
গাজার বাসিন্দারা বলেছেন যে, তারা দক্ষিণ শহর খান ইউনিসের কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের কথাও শুনেছেন এবং সশস্ত্র ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের উল্লেখযোগ্য গতিবিধি দেখেছেন।

এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, তিনি দ্রুত শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু তারা রকেট ফায়ারের প্রতিক্রিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এটি ব্যাপক যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবর ও ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু হামাস সেনা ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে। তারা স্থানীয় একটি ইসরায়েলি পুলিশ স্টেশন দখল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে গাজা থেকে রকেট বৃষ্টির পর পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু সরকার ইসরায়েলে যুদ্ধাবস্থা ঘোষণা করেছে। রিজার্ভ সেনাদের তলবে একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন সেখানকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল সীমান্তে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরপরই এই রকেট হামলার ঘটনা ঘটল। এই বছর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। অপরদিকে ফিলিস্তিনি হামলায় নিহত হয়েছে ৩০ জন ইসরায়েলি।

তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের জন্য নতুন অধ্যায় : মফিদুর রহমান

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান বলেছেন, আজ আমাদের অত্যন্ত খুশির দিন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিন। তৃতীয় টার্মিনালের এ প্রকল্প শেষ করতে অনেক প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকূলতা ও বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করতে হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও আমাদের প্রকল্পের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
আজ শনিবার (৭ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশের বিনির্মাণের যে রূপকল্প, তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। প্রকল্পের দায়িত্ব প্রদানের সময় প্রধানমন্ত্রীর তিনটি নির্দেশনা ছিল। ১. যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা। ২. প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং ৩. নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্প শেষ করা। আমি অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি, সবগুলো নির্দেশনা মেনেই এ প্রকল্প আমরা শেষ করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) করা হয়েছে। দুই লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটারের মডার্ন টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। এতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইট এস্কেলেটর।
নতুন এ টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাগের জন্য সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি ও ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের মতো অত্যাধুনিক তিনটি আলাদা স্টোরেজ এরিয়া করা হয়েছে। রেগুলার ব্যাগেজ স্টোরেজ, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড এবং অড সাইজ (অতিরিক্ত ওজনের) ব্যাগেজ স্টোরেজ। যাত্রীদের স্বাভাবিক ওজনের ব্যাগেজের ১৬টি রেগুলার ব্যাগেজ বেল্ট থাকবে টার্মিনালটিতে। অতিরিক্ত ওজনের (অড সাইজ) ব্যাগেজের জন্য স্থাপন করা হয়েছে আরও চারটি পৃথক বেল্ট।

অত্যাধুনিক এ টার্মিনাল ভবনে থাকবে ১০টি সেলফ চেক-ইন কিওস্ক (মেশিন)। এগুলোতে নিজের পাসপোর্ট এবং টিকিটের তথ্য প্রবেশ করালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে বোর্ডিং পাস ও সিট নম্বর। এরপর নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী তার লাগেজ রেখে দেবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগেজগুলো এয়ারক্রাফটের নির্ধারিত স্থানে চলে যাবে। তবে নির্ধারিত ৩০ কেজির বেশি ওজনের ব্যাগেজ নিয়ে এখানে চেক-ইন করা যাবে না। সেসব যাত্রীদের জন্য আরও ১০০টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে এ টার্মিনালে।
টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করছে স্যামসাং গ্রুপের কনস্ট্রাকশন ইউনিট স্যামসাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ট্রেডিং (সিঅ্যান্ডটি) কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুর্জ খলিফা, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, তাইপে ১০১, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনাল, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবুধাবির ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক। এছাড়াও টার্মিনালের ভেতরের ভবনটির নকশা তৈরি করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩, চীনের গুয়াঞ্জুর এটিসি টাওয়ার ভবন, ভারতের আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের নকশা তৈরি করেন।

৯ দিনে ভারতে গেল সাড়ে ৬০০ টন ইলিশ

বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত ৯ দিনে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে সাড়ে ৬০০ মে: টন ইলিশ। এবারের দুর্গাপূজায় ভারতে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে মোট ৩ হাজার ৯৫০ মে: টন ইলিশ রপ্তানির কথা রয়েছে। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা যাবে।
তবে দেশে ইলিশ সংকট, বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রপ্তানি শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। হাতে রয়েছে আর মাত্র ৫ দিন। সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা।

এমনকি ভারতীয় আমদানিকারকরা সময় বাড়ানোর দাবি নিয়ে ইতোমধ্যে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান ওপারের আমদানিকারকরা।
এ বছর দেশের ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৯৫০ মে: টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে অক্টোবর মাস ইলিশ প্রজননের কারণে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ ও বিক্রি নিষেধাজ্ঞা জারিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রপ্তানি সমাপ্ত নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গত বছরও অনুমতির সব ইলিশ রপ্তানি করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। এতে এ বছর রপ্তানির সময়সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আমদানি-রপ্তানিকারকরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে মাত্র ৬০০ মে: টন ৪৪০ কেজি ইলিশ রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) ৭২ মে: টন, বুধবার (৪ অক্টোবর) ৮৩ মে: টন ৯০০ কেজি, মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ৯৮ মে: টন ৬০০ কেজি, ৩০ সেপ্টেম্বর ৯১ মে: টন ৫০০ কেজি, ২৭ সেপ্টেম্বর ৩১ মে: টন ৭৬০ কেজি, ২৬ সেপ্টেম্বর ৪৮ মে: টন ৯৮০ কেজি, ২৫ সেপ্টেম্বর ৫৬ মে: টন ৫০০ কেজি, ২৩ সেপ্টেম্বর ৪০ মে: টন ১০০ কেজি ও ২১ সেপ্টেম্বর ৭৭ মে: টন ১০০ কেজি।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে তুলনামূলক ইলিশের যোগান না থাকলেও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে প্রতিবছর দুর্গপূজায় ওপার বাংলার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে আসছে সরকার।
ইলিশ রফতানির খবরে বেনাপোলসহ আশপাশের এলাকার বাজারগুলোতে ইলিশ সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাগামহীন দাম বাড়ানোয় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে রসনাবিলাস বাঙালির জাতীয় মাছ ইলিশ। চড়া দামের কারণেই মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের অধিকাংশের পাতে এখনও ওঠেনি ইলিশ।
ইলিশ বিক্রেতারা জানান, ভারতে রপ্তানির কারণে ইলিশ মিলছে না আড়তগুলোতে, যা পাওয়া যাচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে হাজার টাকা ও বড় ইলিশ ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ রপ্তানিকারক বেনাপোলের সততা ফিসের ম্যানেজার রকি মাহামুদ জানান, ইলিশ প্রজননের জন্য ২২ দিন ইলিশ ধরা ও ক্রয়, বিক্রয় নিষেধ করেছে সরকার। এ বছর ইলিশ রপ্তানির সময় বাড়ানো না হলে অনুমোদিত ইলিশ নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ রপ্তানি করা কঠিন হয়ে যাবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এবারের দুর্গাপূজায় ভারতে মোট ৩ হাজার ৯৫০ মে: টন ইলিশ রপ্তানির কথা রয়েছে। এর মধ্যে গত ৯ দিনে বেনাপোল দিয়ে ৬০০ মে: টন ৪৪০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।
বেনাপোল মৎস্য অফিসের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের বিশেষ অনুমতিতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হলেও অনেকে প্রতিষ্ঠান এখনও ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি করতে পারেনি। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শেষ সময় থাকলেও ইলিশ প্রজননের কারণে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ ও বিক্রি নিষেধাজ্ঞা থাকায় ১১ অক্টোবরের পর আর কোন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হবে না।

টাইগারদের বিশ্বকাপ স্বপ্নে পানি ঢেলে দিলেন আশরাফুল

ভারতে শুরু হয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসর। এবার টানা সপ্তমবারের মতো বৈশ্বিক এই আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩- প্রতিটি বিশ্বকাপেই সরব উপস্থিতি টাইগারদের। বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি ম্যাচে জয় পেয়েছে টাইগাররা। তবে কেবল ২০০৩ বিশ্বকাপেই কোনো জয় নেই বাংলাদেশ দলের। তবে কোনো বিশ্বকাপেই ৩টির বেশি ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে। এর বেশি লক্ষ্য নির্ধারণ করারই যেন সাহস পায় না। কিন্তু যে লক্ষ্যটা নির্ধারণ করে, সেটাও অর্জন হয় না। তবে এবার আইসিসি সুপার লিগে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ করায় টাইগার ভক্তরাও আশায় বুক বেধেছেন। তবে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার মত যোগ্য দল হয়ে উঠতে পারেনি।

সম্প্রতি দেশের প্রথম সারির এক সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সে ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের বিশ্বাস, বাংলাদেশ দল ৩টা ম্যাচ জিতবে। তবে এর চেয়ে বেশি যদি জিততে পারে, সেটাই হবে পাওয়া।

আশরাফুল বলেন, এমনিতে দলটা অনেক ভাল। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে বেশ কিছু কোয়ালিটি ও ট্যালেন্টেড প্লেয়ার আছে। তারপরও আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মত দল হয়ে উঠিনি আমরা। কিছু কিছু জায়গা ও ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। এই কারণে, আমি অতদুর চিন্তা করছি না। তবে এমনিতে আমি আশা করবো, আমাদের দল ৩টা ম্যাচ জিতবে। এর চেয়ে বেশি যদি জিততে পারে, সেটাই হবে পাওয়া।

সেমিতে কিংবা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মত দল হয়ে না ওঠার পিছনের কারণ সম্পর্কে তার ভাষ্য, এখনো আমরা সাড়ে তিনশো রান বলে-কয়ে ও প্রায় সময় করতে পারি না। ৩০০ প্লাস ও সাড়ে তিনশো রান চেজ করার সামর্থ্যও খুব কম। এটা বড় মঞ্চে সফল হতে না পারার পথে অন্যতম বাঁধা এটা। আপনি যদি অনুশীলন ম্যাচগুলো দেখেন, তাহলে দেখবেন আমাদের সেই ৩০০ প্লাস বা সাড়ে ৩০০ রান মিসিং। আমরা এখনো গড়পড়তা ২৭০-এ পড়ে আছি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কোন ৩টি দলের সাথে জিততে পারে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল বলেন, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর নেদারল্যান্ডসের সাথেই আমাদের জেতার চান্স বেশি বলে আমার ধারণা। এই তিনটি বাংলাদেশের মাস্ট উইন গেম অবশ্যই। বাকিদের সাথে জিততে পারটা হবে অনেক বড় অর্জন, কৃতিত্ব।

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন আজ

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন আজ। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরইমধ্যে শেষ হয়েছে সব প্রস্তুতি। পরিচালনা করা হয়েছে পরীক্ষামূলক ফ্লাইটও। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার দৃষ্টিনন্দন এ টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেয়া হবে আগামী বছরের শেষ নাগাদ।
২০১৯ সালে প্রায় আড়াই লাখ বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালের কাজ শুরু। ২১ হাজার ৩শ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থায়নই করেছে জাইকা। এখানে রয়েছে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, রাখা যাবে একসাথে ৩৭ টি উড়োজাহাজ। সবমিলিয়ে শতাধিক ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং স্বয়ংক্রিয় তল্লাশি ব্যবস্থায় এই টার্মিনালের মাধ্যমে ওঠানামা করতে পারবেন বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান জানান, উন্নত বিশ্বের বিমানবন্দরের মতো সেবা দেয়ার সবোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারের জন্য থাকবে আলাদা লাউঞ্জ। থার্ড টার্মিনালে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিংবা বের হতে সংযুক্ত হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। পাশাপাশি থাকবে যাতায়াতের অন্যান্য সুবিধাও।
স্থপতি রোহানি বাহারিনের নকশায় থার্ড টার্মিনাল তৈরিতে কাজ করেছে জাপানের মিতসুবিশি, ফুজিটা ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে শেষের দিকে যাত্রীরা ব্যবহার করতে পারবেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল।
এই টার্মিনালে থাকছে ১৬টি আগমনী লাগেজ বেল্ট। তবে আপাতত সার্ভার জটিলতায় ই গেইট ব্যবহার করতে পারবেন না ই পাসপোর্টের যাত্রীরা।