শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

বিচার বিভাগ যেন কোনভাবে রাজনীতিকরণ করা না হয় : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আমি চাইব বিচার বিভাগ ও বিচারালয়কে যেন কোনভাবে রাজনীতিকরণ করা না হয়। এখানে বিচারক ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সম্মিলিত ও মেধাপুষ্ট দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই কেবল সুবিচারের লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে এবং তবেই বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
রোববার (৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি হিসেবে সংবর্ধনা নিয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল হাসান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমাদের সুপ্রিম কোর্টের এই বিচার অঙ্গন পারস্পরিক সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও ভালবাসায় আলোকিত হোক এটিই আমার প্রত্যাশা। একটি কথা একটু অপ্রিয় হলেও বলতে চাই, কোন বিষয়ে ভালভাবে না জেনে বা যথেচ্ছভাবে বিচারক ও আদালত সম্পর্কে কটু মন্তব্য মোটেই সভ্যতার ইঙ্গিত বহন করেনা। সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব হাবিবুর রহমানের ভাষায় আমিও উচ্চারণ করতে চাই কোনো বিচারকই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। সভ্য জগতে ভব্য সমালোচনার একটা অবকাশ রয়েছে। বিচারকের রায়ের সমালোচনা করার অধিকার বাকস্বাধীনতার এক অংশ বলে আমি মনে করি। আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সংবিধানে এই বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশে যে মুক্ত সাংবাদিকতা বিরাজ করছে তার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যে যথেচ্ছা সমালোচনার পরিবর্তে জেনে শুনে ওয়েল ইনফরমড হয়ে সমালোচনার প্রয়োজন। তবে কেউ যদি স্বাধীনতার অপব্যবহার করে তা সংবাদ মাধ্যমই হোক, আইনজীবীই হোক বা যে কেউ হোক তাকে শায়েস্তা করার জন্য আদালতের হাত যথেষ্টই লম্বা।

তিনি বলেন, সংবিধানের প্রতি লক্ষ্য রেখে বিচার প্রশাসনকে রাখতে হবে স্বচ্ছদুর্নীতিমুক্ত, স্বাধীন এবং সোশ্যাল জাস্টিস তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি দুর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের। আমার দায়িত্ব পালনকালে আমার সতীর্থ বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ এবং আপনারা বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দের সুচিন্তিত পথ ধরে একটি দুর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।
ওবায়দুল হাসান বলেন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের মূল উপাদান হলো স্বাধীন এবং কার্যকর বিচার ব্যবস্থা, যা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

দেশের প্রধান সমস্যা মূল্যস্ফীতি : পরিকল্পনামন্ত্রী

সরকার অর্থনৈতিক চাপে আছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বীকার করেছেন। দেশের প্রধান সমস্যা মূল্যস্ফীতি। হু হু করে সব কিছুর দাম বেড়েছে। এটা দমন করে দেশের নি¤œআয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সামান্য কিছু সাফল্য এসেছে গতমাসে। এরই মধ্যে (মূল্যস্ফীতি) দুই শূন্য শতাংশ কমেছে। আগামী মাসে আরও কমবে বলে আমরা আশা করি।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে গণঅভ্যর্থনা ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পরিকল্পনমন্ত্রী। সরকার অর্থনৈতিক চাপে আছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বীকার করেছেন মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান প্রয়োজনে আরও তিনমাসের মতো আমদানি করার মতো রিজার্ভ আমাদের আছে। এসব বিষয়ে প-িত আইএমএসের একটি দল ঢাকায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের সঙ্গেও আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে। মহাজোটের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আওয়ামী জাতীয় নির্বাচন করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এম এ মান্নান বলেন, আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা সেটা মাথা পেতে নেবো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন, দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য যেকোনো বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাই উন্নয়নের স্বার্থে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় দেখতে চাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

ইসরাইলে হামলার পর যা বললেন হামাস নেতা হানিয়া

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, তার সংগঠন ‘একটি বিশাল বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে।
অবৈধ দখলদার ইসরাইলে শনিবারের ভয়াবহ হামলার পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে হামাস নেতা ও সাবেক ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া এ প্রত্যয় জানান।

তিনি বলেন, “আমরা গাজা ফ্রন্টে একটি বিশাল বিজয় এবং একটি সুস্পষ্ট বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি।” ইসরাইল বিরোধী যুদ্ধকে ‘এই অবৈধ রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে’ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
হানিয়া বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের [ফিলিস্তিনি] ভূমি মুক্ত করার পাশাপাশি দখলদারদের কারাগারে আটক আমাদের বন্দিদের মুক্ত করার লক্ষ্যে যে ইন্তিফাদা [গণঅভ্যুত্থান] ও বিপ্লব শুরু হয়েছিল তাকে পূর্ণতা দেয়ার সময় এসেছে।”
হামাসের শীর্ষ নেতা আরো বলেন, তার সংগঠন বহু আগে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, গোটা বিশ্ব ইহুদিবাদীদের হাতে ফিলিস্তিনি জনগণের নিপীড়ন ও আল-আকসা মসজিদের অবমাননার ব্যাপারে নীরব থাকলেও হামাস তা সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, হামাসের এই অভিযানে উদ্বুদ্ধ হয়ে অচিরেই পশ্চিম তীরসহ অন্যান্য স্থানের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো জেগে উঠবে। তিনি সকল ফিলিস্তিনিকে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবার নিশ্চিত বিজয় হবে ফিলিস্তিনিদের।

যেসব আরব দেশ বিগত বছরগুলোতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে ইসমাইল হানিয়া বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এসব আরব সরকার নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। হানিয়ার ভাষায়, “আমরা আমাদের আরব ভাইদেরসহ বিশ্বের সকল দেশকে একথা বলতে চাই যে, যে অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মোকাবিলায় নিজেকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, তার পক্ষে আপনাদেরকে রক্ষা করা কোনো অবস্থায় সম্ভব নয়।”
তিনি আরব দেশগুলোকে উদ্দেশ করে আরো বলেন, “আপনারা সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে যেসব চুক্তি করেছেন তার মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়।”

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৩৭

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৩৪২৬ পিস ইয়াবা, ৩২ কেজি ৩১০ গ্রাম গাঁজা, ৯৬ গ্রাম ৩০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৭টি মামলা রুজু হয়েছে।

দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধে প্রবেশ করেছে ইসরায়েল : নেতানিয়াহু

অবরুদ্ধ গাজা থেকে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপের ফলে শনিবার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে ইসরায়েল। গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ে একদিনেই ৪৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দেশের জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইসরায়েল একটা দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধে প্রবেশ করেছে।’
গাজার সীমান্ত এলাকার কাটাতার ভেঙে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে হামাসের শত শত সশস্ত্র যোদ্ধা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তারা লড়াই করছে। একাধিক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও নাগরিককে জিম্মি করার দাবি করেছে হামাস। ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তিপণ হিসেবে তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছে গোষ্ঠীটি।

এমন অবস্থায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর জঘন্যভাবে একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে হামাস। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে থাকা বেশিরভাগ জঙ্গিরা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর এর মধ্যে দিয়ে যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে হামাসের যোদ্ধারা শনিবার সকালে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে অনুপ্রবেশ করে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই ঘটনার পর সব মিলিয়ে অন্তত ২৫০ ইসরায়েলির নিহত হন। কিন্তু এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথা।
হামাস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘদিন দমন-পীড়ন, আগ্রাসন চালানো এবং বিনা অপরাধে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের বন্দি করার বিরুদ্ধে এই হামলা।
হামাসের হামলার জবাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবরুদ্ধ গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ২৩০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিশোধের হামলায় জ্বলছে গাজা, ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সীমান্তবর্তী গাজা উপত্যকায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালেও গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত হামাসের হামলায় কমপক্ষে ২০০ ইসরায়েলি নিহতের পর পাল্টা হামলায় অন্তত ২৩২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এটাকে যুদ্ধ ঘোষণা করে গাজায় আরও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তারা অবরুদ্ধ গাজার সাতটি এলাকার বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলেছে।
বিবিসিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজায় অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে পালানো শুরু করেছে। তাঁরা জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গাজাবাসীরা ইসরায়েলের বিমান হামলার বর্ণনা দিয়েছে। তাঁরা বলছে, ইসরায়েল নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো গাজায় বোমা ফেলছে। আজ রোববার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বন্দুকধারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। ইসরায়েলের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
হামাসের নেতারা বলেছেন, গাজায় শুরু হওয়া হামলা দখলকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা শনিবার সারা রাত অন্ধকারে কাটিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ঘনবসতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে রকেট ছুড়ছে হামাস। তবে সেগুলোর বেশির ভাগই মাঝ আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনে ২৩২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ জন।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান সালেহ আল-আরোরি আল জাজিরাকে বলেছেন, হামাস ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেক ইসরায়েলিকে বন্দি করে রেখেছে। এসব বন্দির বিনিময়ে ইসরায়েলে কারাগারে থাকা সব ফিলিস্তিনিকে মুক্ত করতে পারবে হামাস। আরোরি আরও বলেন, হামাস অনেক ইসরায়েলি সেনাকে অপহরণ করেছে ও হত্যা করেছে।
জেরুজালেম পোস্টের সামরিক বিশ্লেষক ইয়োনাহ জেরেমি বব বলেছেন, ‘২০১৪ সালে ইসরায়েল ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডেকেছিল। এবার তার চেয়েও বড় হামলা হচ্ছে। এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইসরায়েলের বিশাল বাহিনী গাজায় হামলা চালাবে এবং হামাসকে হারাবে।

পূর্ব জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক উইলিয়ার মার্ক্স বলেছেন, তাঁরা ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে শুনেছেন সব বিকল্প তাঁদের আলোচনার টেবিলে রয়েছে। ইসরায়েল বিশাল রিজার্ভ বাহিনী হাতে রেখেছে। হাজার হাজার রিজার্ভ বাহিনী ডাকা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সদস্যরা যেখানেই থাকুন না কেন, ইসরায়েলের সেনারা সেখানে পৌঁছে যাবে। সেখানে গিয়ে হামাস সদস্যদের খুঁজে বের করে প্রতিহত করা হবে।

ইসরায়েলের সমর্থনে মোদির টুইট

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সীমান্তবর্তী গাজা উপত্যকায় উত্তাপ বাড়ছেই। গাজা উপত্যকাভিত্তিক কট্টরপন্থী সংগঠন হামাস গতকাল শনিবার ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। এই মামলায় শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কমপক্ষে ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় অন্তত ২৩২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ পশ্চিমা অনেক নেতা ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এবার ইসরায়েলের সমর্থনে টুইট করলেন ভারতরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

হামাসের এই হামলার পরই নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি টুইট করেন নরেন্দ্র মোদি। ওই টুইটে হামাসের হামলার নিন্দা এবং এমন কঠিন মুহূর্তে ইসরায়েলের পাশে থাকার কথা জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার খবরে বিস্মিত হয়েছি। নিরীহ নিহত মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। এমন কঠিন মুহূর্তে আমরা ইসরায়েলের পক্ষে আছি। ’
নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, নেদারল্যান্ডসের মার্ক রুট্টে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ প্রায় সব পশ্চিমা দেশই ইসরায়েলের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছিল। আর এসব অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই ইসরায়েলে এই হামলা চালিয়েছে হামাস।

বিপুলসংখ্যক ইসরাইলিকে বন্দী করেছে ফিলিস্তিনিরা

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর উপ-প্রধান সালেহ আল-অ্যারোই বলেছেন, হামাসের হাতে এখন বিপুলসংখ্যক ইসরাইলি বন্দী রয়েছে। বন্দীদের মধ্যে সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইলি কারাগারে আটক সকল ফিলিস্তিনিকে মুক্ত করতে এই বন্দীরাই যথেষ্ট।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা অনেক ইসরাইলি সৈন্যকে হত্যা ও বন্দী করতে পেরেছি।’
তবে তিনি সংখ্যাটি উল্লেখ করেননি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরাইলি টিভি চ্যানেল রেশেত থার্টিন প্রতিবেদন করেছে যে ফিলিস্তিনিরা দক্ষিণের শহর ওফাকিমে ইসরায়েলিদের বন্দী করে রেখেছ।
সামাজিক মাধ্যমে এ খবর আগেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অসমর্থিত কিছু ভিডিওতে দেখা যায় ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের বেসামরিক নাগরিকদের ধরে মোটর বাইকে করে গাজার দিকে বন্দী অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে।
তবে হামাসের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানান, ‘তারা হোস্টেজ নয় বরং যুদ্ধবন্দী।’
ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স নিশ্চিত করেছে যে ‘সৈন্য এবং বেসামরিক’ নাগরিকদের ধরে নিয়ে গেছে উগ্রবাদীরা। তবে কতজন সে ব্যাপারে কিছু বলেনি তারা।
বিবিসি নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গার্ডনার মনে করেন, ইসরাইলের সামনে এখন দুটি উপায় খোলা রয়েছে : একটা বিশেষ উদ্ধার আভিযানে নামা অথবা অপেক্ষা করা এবং সমঝোতায় আসা। কিন্তু দুই দিকেই ঝুঁকি রয়েছে।

এরইমধ্যে হামাসের সামরিক অংশ, দ্য কাসিম ব্রিগেড একটা ভিডিও প্রকাশ করেছে যাতে দেখা যাচ্ছে, অন্তত তিনজন ইসরাইলিকে বেসামরিক পোশাকে বন্দী অবস্থায় রেখেছে তারা এবং দাবি করা হয়েছে এই তিনজন ইসরাইলি সৈন্য।
অন্যদিকে গাজায় সক্রিয় ইসলামিক জিহাদ গ্রুপও দাবি করেছে তারা ‘অসংখ্য’ ইসরাইলি সৈন্যদের বন্দী করেছে।
একটি আরবি মিডিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা ৫২ জন ইসরাইলিকে বন্দী করেছে। এসব বন্দীর কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এরইমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থার কূটনীতি প্রধান জোসেপ বোরেল এটাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বন্দীদের মুক্তি দাবি করেছেন।
নিরাপত্তা বিষয়ক বিবিসি সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন, এটা ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যর্থতা। এরইমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে ইসরাইলি সরকার, যে কিভাবে হামাসের এত বড় পরিকল্পিত হামলা তাদের নজর এড়িয়ে গেল।

ইসরাইলের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় এবং দক্ষ। তারা দেশের ভেতরে এবং বাইরে কাজ করে।

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর ভেতরেই ইসরাইলি গোয়েন্দারা রয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সাথে মিশে আছে। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া এবং অন্যান্য জায়গায়ও ইসরাইলি গোয়েন্দারা সক্রিয়।
অতীতে বিভিন্ন সময় সুনির্দিষ্ট ড্রোন হামালা এবং মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং-এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের হত্যা করেছিল ইসরাইল। এটা সম্ভব হয়েছিল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে।

মেসির ফেরাও বাঁচাতে পারেনি ইন্টার মায়ামির প্লে–অফ খেলার স্বপ্ন

খেলা শুরুর আগে সবার চোখ ছিল ইন্টার মায়ামির লাইন আপের দিকে। লিওনেল মেসির ফেরা, না ফেরা নিয়েই ছিল যত কৌতূহল। অবশেষে স্কোয়াডে দেখা গেল মেসির নাম। যদিও মূল একাদশে নয়, মেসি ছিলেন বেঞ্চে। চোট থেকে ফিরে সরাসরি একাদশে জায়গা থাকবেন এমন প্রত্যাশা হয়তো খুব বেশি সমর্থকের ছিলও না। প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসেই কাটালেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। থমাস আভিলেসের বদলি হিসেবে মেসি মাঠে নামলেন ম্যাচের ৫৫ মিনিটে।

তবে মেসির ফেরাও পারেনি ইন্টার মায়ামিকে জাগিয়ে তুলতে। উল্টো আলভারো বারেলের গোলে ৭৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ফ্লোরিডার দলটি। এরপর চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মায়ামি। শেষ পর্যন্ত সিনসিনাটির কাছে হারতে হয়েছে ১-০ গোলে। আর এই হারে শেষ হয়ে গেছে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির প্লে অফ খেলার স্বপ্নও।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে আগের ৬ ম্যাচের ৫টিতেই দলের বাইরে ছিলেন মেসি। যে একটি ম্যাচে খেলেছেন সেটিতেও তিনি মাঠে ছিলেন মাত্র ৩৬ মিনিট। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোতে মেসিকে না পাওয়ায় মূলত কাল হয়েছে ইন্টার মায়ামির জন্য। মেসির অনুপস্থিতিতে মাত্র ১টি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে তারা। তবে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও মেসির খেলায় জড়তা ছিল স্পষ্ট। যে সময়টুকু মাঠে ছিলেন তাতে তাঁর অবদান ছিল দুটি ফ্রি কিক। ৫৮ ও মিনিটে এবং যোগ করা সময়ের সেই ফ্রি কিকগুলোও চলে গেছে সিনসিনাটি গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে।

এই হারের পর ৩২ ম্যাচে ৯ জয়, ৬ ড্র এবং ১৭ হারে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৪ নম্বরে থাকল ইন্টার মায়ামি। পরের দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট পেলেও তা আর ইন্টার মায়ামির প্লে অফ খেলার জন্য যথেষ্ট হবে না। তাই এমএলএসের প্লে অফ খেলার যে অসম্ভব ব্রত নিয়ে মেসি শুরু করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত অধরায় থেকে গেল। অবশ্য আন্তর্জাতিক বিরতিতে গিয়ে গত মাসে চোটে না পড়লে পরিস্থিতি অন্যরকম হলেও হতে পারত।

এখন এমএলএসে হাতে থাকা দুই ম্যাচ থেকে ইন্টার মায়ামির আর পাওয়ার কিছু নেই। ইন্টার মায়ামি তাদের পরের ম্যাচ খেলবে ১৮ অক্টোবর, কিন্তু সেই ম্যাচে দেখা যাবে না মেসিকে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে খেলতে তখন জাতীয় দলের সঙ্গে থাকবেন সাবেক এই বার্সেলোনা তারকা। ১৮ অক্টোবরই পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আছে আর্জেন্টিনার।

সাঁতার কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার অজি ক্রিকেটার

স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের মিশন শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। রোববার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।

তবে এর আগেই দুর্ঘটনা কবলে পড়েছেন দলটির স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। সুইমিং পুলে সাঁতরাতে গিয়ে মুখে আঘাত পেয়েছেন তিনি। জাম্পার চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্যাট কামিন্স। তবে অজি এই স্পিনারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কামিন্সের ভাষ্য, সে (জাম্পা) সাঁতরাতে গিয়ে পুলের দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছে। আমাদের সে বলেছে, তখন তার চোখ বন্ধ ছিল এবং ভেবেছে সোজাই সাঁতরাচ্ছে। কিন্তু পুলের দেয়ালে ধাক্কা লাগে। কিছুটা ব্যথা আছে, তবে এমনিতে ঠিক আছে।

তবে এবারই প্রথম না, এর আগেও অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। গত বছর করাচিতে সুইমিং পুলের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পুলের মধ্যে পড়ে যান কিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেয়ারি। এ ছাড়া নিজের বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দৌড়াতে গিয়ে বাজেভাবে পড়ে পা ভেঙে যায় গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। যে কারণে ২০২২-২৩ মৌসুমে বেশ কয়েক মাস তাকে বাইরে থাকতে হয়।