শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

২০৪১ সালের মধ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৩০০ বিলিয়ন ডলার : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয়ে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।
আজ বুধবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবতি করার অন্যতম হাতিয়ার রপ্তানি বহুমুখীকরণ। বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম রপ্তানিমুখী দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে আর্বিভূত হয়েছে। রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি সুসংহতকরণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিদেশি ক্রেতা-ব্র্যান্ডস ও বিনিয়োগকারীদরে আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনী নীতি প্রণয়ন ও ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়কারী চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চামড়াজাত পণ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্য সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দ্রুত স্থান করে নিচ্ছে। বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হবে। আমাদের পণ্যের কোয়ালিটি অনেক এগিয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মান ধরে রেখেছে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিংয়ের বিকল্প নেই। ব্লিস-২০২৩ এই লক্ষ্য অর্জনে অসামান্য অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টিপু মুনশি বলেন, বর্তমানে আমাদের মোট রপ্তানির ৮৩ ভাগ দখল করে আছে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু এই খাত একদিনে এই জায়গায় আসেনি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের একটি বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অনেক সম্ভাবনাময় একটি খাত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়া-শিল্প খাতসহ সকল রপ্তানি শিল্পগুলোর সমান নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসী ছিল : রিজওয়ান

বিশ্বকাপে গতকাল হায়দারাবাদে শ্রীলংকার দেয়া ৩৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় পাকিস্তান। ম্যাচ সেরা মোহাম্মদ রিজওয়ান বলেছেন বড় টার্গেট তাড়া করার ব্যপারে পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসী ছিল।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিজওয়ান ১৩১ রানে অপরাজিত থেকে পাকিস্তানকে জয় উপহার দেন। ওপেনার আব্দুল্লাহ শফির ১০৩ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিসহ ১১২ রানের ইনিংস খেলেছেন।
নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসই কাল জয়ের মূলমন্ত্র ছিল উল্লেখ করে রিজওয়ান বলেন, ‘আমরা জয়ের লক্ষ্য তাড়া করার ব্যপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম’
ওয়ানডে বিশ্বকাপে রান তাড়া করে জয়ের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১১ সালে ব্যাঙ্গালোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩ উইকেটে জয়ী হয়েছিল আয়ারল্যান্ড যা এতদিন পর্যন্ত বিশ্বকাপে রেকর্ড ছিল।
তৃতীয় উইকেটে শফিকের সাথে ১৭৬ রানের পার্টনারশীপ গড়েন রিজওয়ান। শফিকের প্রশংসা করে রিজওয়ান বলেছেন, ‘সে খুবই ভাল খেলেছে। স্কোরবোর্ডে যখন ৩৪৫ রানের টার্গেট থাকে তখন একজন ওপেনার হিসেবে মাথার উপর অনেক বড় বোঝা থাকে। তখন ব্যাট হাতে অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।’
রিজওয়ান জানান শেষ ২০ ওভারে টার্গেট সেট করার পরিকল্পনা তাদের ছিল, ‘এটা ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল। সে কারনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বোর্ডের দিকে তাকাবো না। শেষ ২০ ওভারে টার্গেট স্থির করবো। সেটাই করেছি, সফলও হয়েছি। শফিক ইনিংস গড়ে দিয়ে গেছে। যে কারনে রান তাড়া করা সহজ হয়েছে।
শেষ ২০ ওভারে পাকিস্তান ১৬৩ রানে লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয়।
ভারতের বিপক্ষে একই ম্যাচে একই পরিকল্পনা নিয়ে পাকিস্তান মাঠে নামবে উল্লেখ করে রিজওয়ান বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে। আজকের ম্যাচটি আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে। এই একই পরিকল্পনা নিয়ে আমরা মাঠে নামব।’
শ্রীলংকা স্পিনার মাহিশ থিকশানা বলেছেন তার দলে অন্তত ২০ রান কম হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শেষ ১০ ওভারে আমাদের আরো ২০ রান করা উচিত ছিল। এমনকি বোলিংয়েও আমরা অনেক ভুল করেছি। আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে কোন অযুহাত দেবার কিছু নেই। সত্যি বলতে কি শেষ ১০ ওভারে উইকেট কিছুটা মন্থর হয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তান অনেক বেশি স্লোয়ার ডেলিভারি দিয়েছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারিনি।’
আগামী ১৬ অক্টোবর শ্রীলংকা তাদের পরবর্তী ম্যাচে লক্ষেèৗতে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করবে।

সংকটময় পরিস্থিতিতে সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন : রাষ্ট্রদূত

সংকটময় পরিস্থিতিতে চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বলেন, গত ২৩ আগস্ট আমাদের প্রসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক করেন।
চীন সেখানে ঘোষণা করে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীন বাংলাদেশকে। ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা করবে। আমরা আজকে এই সহযোগিতার প্রথম চালান মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানে দিয়েছি। আগামী সপ্তাহে আরও আসবে। আমি আবারও বলতে চাই, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চীন সর্বদা বাংলাদেশের পাশে থাকবে। আমরা বাংলাদেশের লড়াইয়ের সঙ্গে আছি।
আজ বুধবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২ টার দিকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেলে ৭০০ সেট ডেঙ্গু টেস্ট কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, আমরা বন্ধু। আমরা সব সময় একে অপরের পাশে ছিলাম। যখনই কারও সংকট হয়েছে, চীন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিন বছর আগে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেঙ্গুর খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে চীনের অবশ্যই তাদের জন্য কিছু করা উচিৎ। এজন্য আমরা এই ডিভাইস দিয়েছি। এটি দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা যাবে। যাতে পরিস্থিতি উন্নতি করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নির্বাচন নিয়ে সজাগ রয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। কিন্তু চীন কখনোই এটি করেনি। চীন বাংলাদেশের মানুষ ও জনগণকে সবসময় সহযোগিতা করেছে। চীন ও বাংলাদেশের জনগণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। চীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, অর্থনীতিতে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।
এর আগে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর মারাত্মক পরিস্থিতি চলছে। অনেকেই মারা গেছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সেবায় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মাসের পর মাস পরিশ্রম করছেন। চীন সবসময় বাংলাদেশের বন্ধু ও কৌশলগত সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের সংকটময় মুহূর্তে চীন তাদের পাশে আছে। আগস্টে জোহানেসবার্গে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট সেখানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার ওপর জোর দেন। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও চীন সরকার বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এজন্য চীন বাংলাদেশকে ৩.৫ মিলিয়ন সহযোগিতা দেবে।
এরই ধারাবাহিকতায় চীনা দূতাবাস এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০০ সেট ডেঙ্গুকিট দিয়েছে। যা দিয়ে ১৮,০০০ এর বেশি মানুষের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে। আগামী সপ্তাহে চীন আরও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট পাঠাবে।

গাজায় ওষুধ পাঠানোর অনুরোধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

গাজা উপত্যকা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল সামরিক বাহিনী। সেখানে কোনো কিছু ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে গাজা উপত্যকায় ওষুধ পাঠানোর জন্য আবেদন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) এ আবেদন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুধু তারাই নয়। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন গাজা উপত্যকায় খাবার এবং ওষুধ পাঠানোর আবেদন করেছে। কিন্তু ইসরায়েল সেই দাবি মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি, আগে পণ বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিশরের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট থেকে ২ টনেরও বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম গাজায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থাগুলোও ফিলিস্তিনদের সহায়তার জন্য প্রবেশাধিকারের আবেদন করেছে।
এদিকে খুব শিগগির ইসরায়েলে সফর করতে পারেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব অ্যান্টনি ব্লিংকেন। অব্যাহত রয়েছে যুদ্ধ। গত শনিবার (৭ অক্টোবর) থেকে একাধিকবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র আরো একবার ইসরায়েলের পাশে থেকে সব রকম সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
অপর দিকে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দিয়েছে কানাডা।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, তার সরকার আগামী দিনগুলোতে তেল আবিব থেকে কানাডিয়ানদের চলে যেতে সহযোগিতা শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র নিয়ে চিন্তা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশবাসী সব সময় তাঁর দলের পাশে আছে। তাই আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ‘সামনে আগামী নির্বাচন। আগামী নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, জনগণ তাদের ম্যান্ডেট নিয়ে সব সময় আমাদের পাশে আছে।’
আজ বুধবার সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
বারবার তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বুলেট ও বোমার মুখোমুখি হয়ে তাঁরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি কাজ দিয়েছেন এবং কাজটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে রক্ষা করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাকে রক্ষা করতে উপরে আল্লাহ্ আছেন আর মাঠে আমার দলের নেতাকর্মীরা আছেন। যখনই আমার ওপর কোন হামলা হয়, আমার দলের লোকেরা সবসময় আমাকে রক্ষা করে।’
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দলের লোকেরা তাদের জীবনের বিনিময়ে মানবঢাল বানিয়ে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি-এটাই বড় কথা।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকেলে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সংযোগের উদ্বোধন ও ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ড. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে এক মহাসমাবেশে ভাষণ দেয়ার পর টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন।
টুঙ্গিপাড়ায় রাত কাটিয়ে আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীকে উন্নত ও সুন্দর জীবন দেয়ার মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে তাঁর সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সব কিছু করছি।’
তিনি তাঁর টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের জনগণকে বারবার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান, যদিও তিনি তাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন নি কারণ, তাঁকে সারা দেশের কল্যাণ দেখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার আপনজনদের হারানোর পরে দেশের মানুষ এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরাই আমার স্বজন। কাছের মানুষগুলো আমার পাশে না থাকলে সফল হওয়া সম্ভব হতো না।’
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনুন। আমাদের নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করতে হবে।’

বিশ্বমানের সেবা বাহিনীতে পরিণত হবে ফায়ার সার্ভিস : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় সব সক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিশ্বমানের সেবা বাহিনীতে পরিণত হবে ফায়ার সার্ভিস। আগামীর উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশে এটি শেখ হাসিনার স্বপ্ন।
আজ বুধবার (১১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় ইমার্জেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল সেন্টার (ইআরসিসি) প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্ট্রেংথেনিং অ্যাবিলিটি অব ফায়ার ইমার্জেন্সি রেসপন্সের (এসএএফইআর) অধীন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং কেওআইসিএ এর যৌথ অর্থায়নে স্থাপিত ইআরসিসি প্রজেক্টের উদ্বোধন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সকল ক্ষেত্রে ডেভিডেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসকেও ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস আজকে আগের সেই দমকল বাহিনী নয়। ফায়ার সার্ভিস আজকে মানুষের কাছে সার্ভিস পৌঁছে দিচ্ছে। বিশেষ করে ইআরসিসি প্রজেক্টের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফায়ার সার্ভিস মানুষের আর আস্থার বাহিনীতে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত মানুষকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ২০০৯ সালে সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন প্রত্যেকটি উপজেলায় নূন্যতম একটি করে ফায়ার স্টেশন চালু করা হবে। এখন দেশে ৫০৩টি ফায়ার স্টেশন। আরও ৪৩টি উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় এই ফায়ার স্টেশনগুলোর উদ্বোধন করবেন।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, দুর্যোগে প্রথম রেসপন্স করে ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে অগ্নি দুর্ঘটনা, দুর্যোগ, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে সবার আগে ফায়ার সার্ভিস। শুধু আমাদের দেশে নয়, বিভিন্ন দেশে ডর কোনো দুর্যোগে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। আমরা সেভাবেই ফায়ার সার্ভিসকে সক্ষম করে গড়ে তুলছি। টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) যুক্ত হয়েছে। বহুতল ভবনে অগ্নি দুর্ঘটনায় কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস এর জনবল বৃদ্ধিতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ২০০৯ সালে ফায়ার সার্ভিসের জনবল ছিল ৬ হাজারের সামান্য বেশি। বর্তমানে জনবল ১৪৬৬৮ জন। এই জনবল বেড়ে হবে ১৬০০০। আগামীতে ৩০ হাজার জনবল করার অর্গানোগ্রাম করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নত দেশের মতো আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান উন্নত হয়েছে, অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির সেবার ক্ষেত্রও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রান্তিক মানুষ তার সেবা পাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস এখন সকল দুর্যোগে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিয়ে দ্রুত মানুষের পাশে ছুটে যাওয়ার মতো একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনী। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবার সক্ষমতা বাড়িয়েছি। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৯৫টি। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে পর্যায়ক্রমে ন্যূনতম একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার লক্ষ্যে ৩৫৭টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সুবিধা আধুনিক করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্যও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়াং সিক, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিম তাইইয়াং ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ফায়ার উইং) শাহানারা খাতুন।

ঢাকায় আসছেন মার্কিন কর্মকর্তা আফরিন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার বাংলাদেশে আসছেন। আগামী ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর ঢাকা সফর করতে পারেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আফরিন আক্তারের সফরে আলোচনায় নির্বাচন, ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল, অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে। তার সফরসূচি চূড়ান্ত করতে দুই দেশের কূটনীতিকরা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
এই সফরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াও নাগরিক সমাজ এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর দু’দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন। সে সময় তিনি পররাষ্ট্র সচিব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এছাড়া গত ১২ থেকে ১৩ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আফরিন আক্তার।

হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২০০

হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২০০-এ পৌঁছেছে। সরকারি টিভি কান এ তথ্য দিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, নিহতরা প্রাথমিকভাবে বেসামরিক নাগরিক বলে জানা গেছে।
অপরদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সংস্থা বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার অগণিত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এক লাখ ৮৭ হাজার ৫১৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
এ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭ জন ৮৩ টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। আরও ৪১ হাজার যাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তারা তাদের আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, গাজার সঙ্গে তাদের সীমান্ত এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
তবে তারা বলেছে, হামাস যেখানে হামলা চালিয়েছিল সেই অঞ্চল এখন সম্পূর্ণরূপে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে তাদের সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে কিছু ফিলিস্তিনি যোদ্ধা এখনও সক্রিয় আছে এবং তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বড় ধরনের হামলার চেষ্টায় আছে।

ফের আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পের কবলে আফগানিস্তান। দেশটিতে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। এর আগে সেখানে একই মাত্রার দু’টি ভূমিকম্পে চার হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। ওই ঘটনার ঠিক কয়েক দিন পরে আবার দেশটিতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে, আফগানিস্তানের হেরাতের ২৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
বুধবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের প্রভাব সম্পর্কে অবিলম্বে কোনো বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তবে এর কয়েক মিনিট পরে একই এলাকায় ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
অপরদিকে দেশটির এক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তানের ভূমিকম্পে নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।’
কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোল্লা জনান সাইক বলেছেন, জিন্দা জান ও ঘোরিয়ান জেলার ২০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার ঘর-বাড়ি ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সায়েক জানিয়েছেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের বের করার জন্য উদ্ধারকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে বলে আফগান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় মৃত ও আহতদের “সঠিক” পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় কাবুলকে সাহায্য করার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার ইরানের সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিম হেরাত প্রদেশের দু’টি জেলায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

আজ অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন

ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন আজ। বলিউডে ‘বিগ বি’ বা বড় বচ্চনখ্যাত এ অভিনেতা আজ পা দিলেন ৮১তে। সত্তরের দশকের ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ অমিতাভ বচ্চন তাঁর ভরাট কণ্ঠ এবং অভিনয়-জাদুতে মুগ্ধ করেছিলেন গোটা বিশ্বকে। সেই মুগ্ধতা আজও রয়ে গেছে ভক্তকুলে।
আজও তিনি ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ের মণিকোঠায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
১৯৪২ সালের ১১ই অক্টোবর ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন অমিতাভ বচ্চন। তার বাবা প্রখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চন ও মা তেজি বচ্চন। ২৬ বছর বয়সে কলকাতার ‘ব্ল্যাকার অ্যান্ড কোং’ জাহাজ কোম্পানির ৩০০ রুপি বেতনের চাকরি ছেড়ে মুম্বাই পাড়ি জমান তিনি। তার লক্ষ্য ছিল যেভাবেই হোক বড় পর্দার হিরো হবেন। ১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্তানি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন অমিতাভ।
দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো-‘বাবুর্চি’, ‘আনন্দ’, ‘গুড্ডি’, ‘সওদাগর’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’, ‘ডন’, ‘সুহাগ’, ‘লাওয়ারিশ’, ‘দো আনজানে’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘সিলসিলা’, ‘শাহেনশাহ’, ‘ব্ল্যাক’, ‘সরকার’, ‘অগ্নিপথ’, ‘বুম’, ‘বাগবান’, ‘নিঃশব্দ’, ‘পা’ প্রভৃতি।
রুপালি পর্দার এই নায়ক রাজনীতিতেও যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে তাদের অনেক দিনের পারিবারিক বন্ধু রাজীব গান্ধীর সমর্থনে অমিতাভ অভিনয় থেকে সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে রাজনীতিতে নাম লেখান। এলাহাবাদ লোকসভা আসনের জন্য উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ এন বহুগুনার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ান এবং সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তবে তার রাজনৈতিক জীবন সংক্ষিপ্ত ছিল; তিন বছর পর পদত্যাগ করেন তিনি।
রুপালি পর্দার মতো ব্যক্তিগত জীবনেও সফল অমিতাভ বচ্চন। ১৯৭৩ সালের তেসরা জুন বাঙালি অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এখনো বলিউডের আইকনিক দম্পতি তারা। তাদের শ্বেতা নন্দা ও অভিষেক বচ্চন নামে দুই সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সিনেমায় অবদানের জন্য অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। ‘অগ্নিপথ’ (১৯৯০), ‘ব্ল্যাক’ (২০০৫), ‘পা’ (২০০৯), ‘পিকু’ (২০১৫) সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। পদ্মশ্রী (১৯৮৪), পদ্মভূষণ (২০০১), পদ্মবিভূষণ (২০১৫) পুরস্কারও জমা পড়েছে তার প্রাপ্তির ঝুলিতে। তা ছাড়াও অসংখ্যা সম্মাননা পেয়েছেন এই শিল্পী।