শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ইসরায়েলে নিখোঁজ ১৭ নাগরিককে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে ফ্রান্স

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে নিখোঁজ ১৭ ফরাসি নাগরিককে ফিরিয়ে আনতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁ হামাসকে ইসরায়েলের প্রতি ‘অন্ধ ঘৃণার হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। একইসঙ্গে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হামাস একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা ইসরায়েলের জনগণের মৃত্যু চায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটররা বলেন, তারা ইসরায়েলে হামাসের হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের তদন্ত শুরু করছে।

এদিকে ইসরায়েলে মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইসরায়েলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

গাজায় শরণার্থী ক্যাম্পে বোমা হামলা, নিহত ৪৫

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী উত্তর গাজার ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পের একটি আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত এবং কয়েক ডজন লোক আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াদ বোজুম বলেছেন, জাবালিয়া ক্যাম্পের কেন্দ্রস্থলে একটি ভবনে বোমা হামলা হয়েছে। ভবনটি কয়েক ডজন লোকে পরিপূর্ণ ছিল, যাদের মধ্যে কেউ কেউ বিমান হামলার সময় আগের হামলা থেকে পালিয়ে এসেছিল।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ তুলছেন এবং গণনা করছেন। যে কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে, যোগ করেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ষষ্ঠ দিনের মতো ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় শত শত বোমা ও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়াও কেন্দ্রীয় গাজা উপত্যকায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ভবনগুলো মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানের শব্দে গাজার বাতাস ভারী হয়ে গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত এক হাজার ৫৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫০০টি শিশু এবং ২৭৬ জন নারী রয়েছে। আহত হয়েছেন ছয় হাজার ৬১২ জন।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা লক্ষ্য করে ৬ হাজার বোমা ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, এসব বোমার ওজন প্রায় ৪ হাজার টন।

সূত্র : আলজাজিরা

‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চামড়ার জুতা ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের ব্যবসায়ীদের এ খাতের জন্য ‘চামড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের ঘোষণার পাশাপাশি ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের পণ্য আমাদের নিজের নামে বাজারজাত করা হোক। আমাদের দেশের নাম বাড়ুক। আমি চাই বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হোক, বড় হোক।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো (ব্লিস)-২০২৩’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি অনেক দেশের অনেক পণ্য তারা এখান থেকে তৈরি করে নিয়ে গিয়ে নিজেদের দেশে ফিনিশিং দিয়ে নিজেদের নামে বাজারজাত করে। সেক্ষেত্রে আমরা নিজেরাও নিজেদের কিছু কিছু ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারি কি না, ’বাংলাদেশ ব্রান্ড’ হিসেবে আমার মনে হয় সেদিকেও নজর দিলে ভালো হয়। এক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন।

তিনি বলেন, আমি চাই আমাদের পণ্য আমাদের নামে বাজারজাত হোক। আমাদের দেশের নাম বাড়ুক। দেশের নাম সুন্দর হোক, বৃদ্ধি পাক। কেননা এই টানা তিন মেয়াদে তার সরকার অনেক খাতে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পের রপ্তানিকারকদের উচ্চ মূল্য সংযোজন করে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের ও ক্রেতাদের ক্রয় আদেশ সম্পাদন সক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সুউচ্চ গুণগতমান সম্পূর্ণ বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাংলাদেশ করছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে এবং আমাদের নিজস্ব বাজার তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষই এখন পণ্য ক্রয় করে। অতীতে যেখানে মানুষের পায়ে একটি রাবারের চপ্পলও ছিল না, এখন কিন্তু সেটা আর দেখা যায় না। পাশাপাশি, সরকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করে দেওয়ায় এখন আর কাদামাটি ঠেলেও বেশি চলতে হয় না।

তিনি বলেন, এবারের ব্লিস-এর থিম ‘পসিবল ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশেও সম্ভব)’। সাম্প্রতিব বছরগুলোতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক রূপান্তর ঘটেছে তা এতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্যোক্তদের এজন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। ‘আমি বিশ্বাস করি এই বাংলাদেশও সম্ভব।’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জোনাথন ববেট এবং গোল্ডেন চ্যাং গ্রুপের বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠাতা জেমস হো।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) যৌথভাবে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনসন সিটি বসুন্ধরায় ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। ব্লিস এর শেষ তিনটি প্রদর্শনী ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উদ্যোক্তারা জানান, ব্লিস-২০২৩ ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং সোর্সিং প্রতিনিধিদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে যা বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের শীর্ষ স্তরের নির্মাতা এবং রপ্তানিকারক, পাদুকা প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এবং বর্তমান বিনিয়োগের সুযোগ ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি কার্যকর নেটওয়ার্কিং, ব্যবসায়িক উন্নয়নের সুবিধা দেবে।

এশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর দল: উইলিয়ামসন

টানা দুই ম্যাচে দুই জয়। স্বভাবতই দুর্দান্ত ফর্মে আছে ২০১৯ বিশ্বকাপের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচ দিয়েই ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরছেন কেন উইলিয়ামসন। এশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ যে অন্যান্য দলের থেকে ভয়ঙ্কর এবং বাংলাদেশের স্পিন বড় চ্যালেঞ্জ, মানছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

শুক্রবার চেন্নাইর স্টেডিয়ামে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। চেন্নাইর উইকেট কিছুটা স্পিন সহায়ক হয়ে থাকে। আর এটা নিয়েই বেশি চিন্তিত কেন উইলিয়ামসন।

সে ম্যাচে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে উইলিয়ামসন বলেন, ‘আমরা জানি আগামীকাল স্পিনের কঠিন পরীক্ষা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এবং সবাই এখানে আসে যেকোন দিন যে কাউকে হারিয়ে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে। এই ব্যাপারটাই টুর্নামেন্টকে আরো প্রাণবন্ত করে এবং কন্ডিশনও পরিবর্তন হয় প্রতিনিয়ত। এখানে এক মাঠের উইকেট থেকে আরেক মাঠের উইকেটে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো জায়গায় স্পিন, কোনো জায়গায় ব্যাটিং সহায়ক। তবে আমার মনে হয় দুই দলেরই দারুণ কিছু স্পিনার রয়েছে, যারা আগামীকাল খেলতে পারে।’

উইলিয়ামসন যোগ করেন, ‘এশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর দল। তারা এই পরিবেশে খেলে অভ্যস্ত এবং তাদের অনেক ম্যচ উইনার রয়েছে যারা যেকোন সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমার মনে হয় এই রকম বৈশ্বিক ইভেন্টে যারা খেলতে আসে, তারা যেকোন দিন যেকোন দলকেই হারিয়ে দিতে পারে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে ও ম্যাচ উইনারদের সহযোগিতা নিয়ে।’

প্রতিটা দলই আলাদা আলাদা পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ দিয়ে থাকে প্রতিপক্ষকে। সেটি মনে করিয়ে কেন উইলিয়ামসন বলেন, ‘প্রত্যেক দলই আপনাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং আমার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আপনি কতটা দলকে সাহায্য করতে পারছেন কতটা দলের প্রতি নিবেদিত আপনি সেটা পরখ করা। প্রত্যেক ম্যাচই অনেক কঠিন। তাই প্রতি ম্যাচেই আমাদের সেরাটা খেলতে হবে।’

‘দরদ’ সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে জেসিয়া

ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘দরদ’ সিনেমা আগামী বছর ২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে। নতুন এই সিনেমার শুটিং শুরুর আগেই সম্প্রতি মুক্তির তারিখ জানালেন সিনেমার পরিচালক। এই সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে দেখা যাবে বলিউডের সোনাল চৌহানকে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ও কলকাতার একঝাঁক শিল্পী কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
তবে নতুন খবর হলো, এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করতে যাচ্ছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭ বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম।
একজন অতিথি শিল্পী হিসেবে দেখা যাবে তাকে। গতকাল বুধবার সকালে ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে জেসিয়া বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে থেকে চরিত্রটি নিয়ে কথা হচ্ছিল। ছবিতে আমি একজন অতিথি শিল্পী হিসেবে কাজ করব। তবে চরিত্রটির গল্প শুনে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই ছবিতে চরিত্রটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কাজটি করতে রাজি হয়েছি আমি। ’
জেসিয়া আরও বলেন, ‘এই ছবিতে শাকিব খান থেকে শুরু করে বলিউড ও টালিউডের শিল্পীরা কাজ করছেন। তিন ইন্ডাস্ট্রি মিলে ছবিটি তৈরি হচ্ছে। অনেক বড় ক্যানভাসে, বাংলাদেশ–ভারত মিলে ছয়টি ভাষায় তৈরি হবে ছবিটি। সুতরাং একটি বড় রকমের অভিজ্ঞতা হবে। ভারতের শিল্পীদের সঙ্গে কাজের আদান–প্রদান হবে। যেহেতু আমি সিনেমাতে নিয়মিত কাজ করতে চাই। পরবর্তী ছবিগুলোতে কাজে আসবে। তাই সুযোগটি এখানে নিয়েছি আমি। ’
সিনেমার অন্যতম পরিচালক অনন্য মামুন জানিয়েছেন, ভারতে ২৫ অক্টোবর থেকে জেসিয়ার অংশের শুটিং শুরু হবে। ১০ দিন হবে তাঁর কাজ।
উল্লেখ্য, বাংলা, হিন্দি, তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, কন্নড়—ছয় ভাষায় তৈরি হবে ছবিটি।

ভোট বিমুখতা রাজনীতিবিদরাই তৈরি করেছেন: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ভোট বিমুখতা আপনারা (রাজনীতিবিদ) তৈরি করেছেন, আমরা করিনি।বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, আপনারা জানেন, ভোটের সময় সরকার ক্ষমতায় থাকবে। অনেকে দুঃশ্চিন্তায় থাকে সরকার নিরপেক্ষ থাকবে কি না। তবে সাংবিধানিকভাবেই সরকার নিরপেক্ষ থাকতে বাধ্য। তাই নির্বাচন আমি কতটা শান্তিপূর্ণ করতে পারব তা সরকারের ওপর নির্ভর করবে।
তৃণমূল বিএনপির সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সিইসি বলেন, মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিতে আমাদের প্রচারণা থাকবে। কিন্ত রাজনীতি ও প্রার্থী যারা আছেন তাদের কাজ হবে ভোটারদের কাছে যাওয়া। প্রার্থী যতটা ভোটারের কাছে যেতে পারবেন আমরা পারবো না। ভোটারের কাছে আপনারা যে আবেদন করতে পারবেন এটা আমরা পারবো না।
মিডিয়া প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা বলেছি মিডিয়া ভেতরে যেতে পারবে তাদের অ্যাকসেস লাগবে না। কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারকে শুধু বলবে আমি প্রথম আলো বা অন্য অফিস থেকে এসেছি। এটা বলেই কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াবে, কেন্দ্রে ঢুকে ছবি নিতে পারবে। শুধু যেখানে কাস্টিং হচ্ছে সেখানে যেতে পারবে না।
নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আপনারা (তৃণমূল বিএনপির নেতা) আর্মির কথা বলেছেন। এর আগে যে ডায়লগগুলো হয়েছে প্রতিটা দলই আর্মির কথা বলেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি একান্তই কাম্য। পেশিশক্তি বলে একটা শক্তি গ্রাউন্ড লেভেলে থাকে।
ভোটের মাঠে কালো টাকার ব্যবহার হয় জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের প্রার্থীদের হাতে প্রচুর কালো টাকা আছে। তাদের এ পকেটে হাত দিলে টাকা, ওই পকেটে হাত দিলে কালো টাকা। পুরো পকেটভর্তি কালো টাকা। কাজেই কালো টাকা ব্যবহার করতে আমাদের পেশিশক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমাদেরে কালো টাকা ব্যবহারের জায়গা নেই। কালো টাকা দিয়ে পেশিশক্তি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ডেঙ্গুতে আরও ১৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩৫ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৩২৭ জন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বুধবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৩২৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৪৯১ জন ও ঢাকার বাইরের এক হাজার ৮৩৬ জন। একই সময়ে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে ছয়জন ঢাকার আর ঢাকার বাইরের বাসিন্দা সাতজন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৩১ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৯০ হাজার ৫৩০ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এক লাখ ৪৩ হাজার একজন ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ১৩৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৭০৯ জন এবং ঢাকার বাইরের ৪২৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন দুই হাজার ৩৪৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৫৩৭ জন এবং ঢাকার বাইরের এক হাজার ৮০৭ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ৭৭৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৮৭ হাজার ১৮৩ জন এবং ঢাকার বাইরের এক লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৬ জন।
ঢাকাসহ সারাদেশে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আট হাজার ৬১৭ জন ডেঙ্গুরোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় দুই হাজার ৬৩৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি রয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৭৯ জন।
২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

‘নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর’

নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন-এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ইচ্ছা করলে এই সরকারের আকার ছোটও করতে পারেন, যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন। এটা অন্য কারও ভাবনার বিষয় নয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি আওয়ামী লীগ বাদ দেয়নি। উচ্চ আদালতের আদেশে বাতিল হয়েছে। এখন আর প্রয়োজন নেই-এ জন্য আদালত এটা বাতিল করেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের তো কোনো বিষয় না। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনকে যেভাবে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তারাই সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজন করবে। এখানে সরকার নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনগুলো মেটাবে। পুলিশবাহিনীও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা, সরকারী সংস্থা-তারাও নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকবে। শেখ হাসিনার সরকার তখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। মেজর কোনো পলিসি ডিসিশন নিতে পারবে না। দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও এটাই হয়।
মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের উল্লিখিত এসব কথা বলেন। ঘণ্টাব্যাপী আলাপকালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি, ইশতেহার প্রণয়ন, প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচনের আগে সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের কার্যকলাপসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হল-
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিসহ বিরোধীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি না-জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নিজেরাই তাদের দফা বলে দিয়েছে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, ইসির পদত্যাগ-এগুলো না হলে তারা নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নয়। নির্বাচন কমিশন তাদের দুইবার ডেকেছিল, তারা যায়নি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি একবার তাদের ডেকেছিলেন, সেখানেও তারা (বিএনপি) যায়নি। আসলে তারা এসব আলোচনার পক্ষে নয়। এখন সরকার কি গায়ে পড়ে আলোচনা করবে, বিএনপি তো সরকারেরই পদত্যাগ চায়।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রস্তুতি কেমন চলছে? মূল প্রতিশ্রুতি বা নির্বাচনি ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য কী হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি তফশিল ঘোষণা করলে নির্বাচন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বা ১০ তারিখের মধ্যে হতে পারে। কারণ, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আছে। এর আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। ফলে নির্বাচনের তো খুব বেশি দেরি নেই। নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি আরও ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এখন সেটা আরও জোরদার হচ্ছে।
নির্বাচন সামনে রেখে জোট-মহাজোটের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা নির্বাচন হয়তো এককভাবে করব না। আমাদের ১৪ দলীয় জোট তো আছে, থাকবেই। আরও বেশি কিছু দল আছে, যারা জোট করার পক্ষপাতী। শেষ পর্যন্ত কারা আসে, কতটা বড় হয়-এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিটি নির্বাচনেই আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। এটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও করে আবার আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও করেন। ছয় মাস পরপরই এই রিপোর্টগুলো তার কাছে জমা হয়। এগুলো দেখে কোথায় কার কী অবস্থা, কার কেমন জনপ্রিয়তা-এসব বিষয় এসেসমেন্ট করেন। এ প্রক্রিয়াগুলো আমাদের চলে আসছে। এটা এখন শেষ পর্যায়ে। এখন শেষ পর্যায়ের অনুসন্ধান চলছে। যারা আগ্রহী এবং যারা বর্তমানে এমপি আছেন, অবস্থা বুঝে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোথাও কিছু কম থাকলে সেটা নিরসনের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আমাদের আট সাংগঠনিক বিভাগে যে আটটি কমিটি আছে, এ কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের সম্মেলনের পাশাপাশি তারাও খোঁজখবর নেয়। তারা তাদের সাংগঠনিক রিপোর্ট নেত্রীর কাছে জমা দেয়। এর সবকিছুই বিচার-বিশ্লেষণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আছে আমাদের দলের মনোনয়ন বোর্ড। সেই বোর্ড জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেবে।
ইশতেহারের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ তথ্য জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ইশতেহার প্রণয়নের জন্য একটা কমিটি ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে অনেক দূর এগিয়েও গেছে। আমাদের দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা এটা করেছেন। এছাড়া আমাদের উন্নয়ন ইতোমধ্যে যেগুলো হয়েছে এবং সামনে যা আমরা করব, সেগুলো থাকবে। উন্নয়ন ও আধুনিকতার দিক থেকে গ্রামগুলোকে শহরের পর্যায়ে উন্নীত করার কাজ আমরা করে যাচ্ছি-এসব বিষয় আমাদের এবারের পরিকল্পনার মধ্যেও আছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমরা প্রতিবারই বাড়াচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলা করেছি। বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি, যা উন্নত দেশও দিতে পারেনি। এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে। তিনি দিনরাত কাজ করেন। তিনি বড়জোর সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। বাকি সময় তিনি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেন। কোথায় কী সমস্যা, সমাধান কীভাবে করতে হবে-এগুলো নিয়ে প্রতিনিয়তই কাজ করেন।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছি। বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। রিজার্ভ আমরা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছিলাম, সেটা এখন নেমে গেছে। এখানে ডলার সংকটও আছে। আমরা চেষ্টা করছি সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য। আর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রব্যমূল্য। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি-কিভাবে দ্রব্যমূল্য মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা যায় সেটা আমাদের এই মুহূর্তে মূল ভাববার বিষয়। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-সংঘাত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে। সেটা ভবিষ্যতে কার অবস্থা কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, এটা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। অন্যদিকে দেশে দেশে যুদ্ধ। সর্বশেষ ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধ। যুদ্ধটা কেন যেন ছড়িয়ে পড়ছে। সবাই জোটবদ্ধ হচ্ছেন। বিভিন্ন জোট আমরা দেখছি। জোটের সমীকরণে কোন বিষয় কোন দিকে গড়াবে বলা অত্যন্ত মুশকিল।
সড়ক, পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের গণতন্ত্র শতভাগ ত্রুটিমুক্ত-এটা আমরা মনে করি না। গণতন্ত্র পৃথিবীর কোথাও ত্রুটিমুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করতে পারে না-তাদের গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত। তাদের গত নির্বাচনের পর তাদের গণতন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল মেনে নেয়নি। এ অবস্থায় তাদের ২০২৪ সালের নির্বাচন সামনে। এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত হচ্ছে। অভিযোগ চলছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেও বলেছেন-ট্রাম্প গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চান। তিনি আরও বলেন, এখন আসলে এদিকে রাশিয়া, ওদিকে চায়না-এই শক্তি বলয়ের মধ্য দিয়ে ব্যালেন্স করে চলার বিষয় আছে। এদিকে আছে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বন্ধুরাষ্ট্র ভারত। বিশ্বব্যাপী জোটগত উপকরণগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার ক্ষেত্রে নেতৃতত্বের ম্যাচিউরিটি ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হয়। এটা আমাদের নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) খুব সুচারুভাবে করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নানামুখী তৎপরতা আমরা দেখছি। এগুলো কি তাদের রুটিনওয়ার্ক নাকি এর মধ্যে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে, যদি বলে নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতি- আমরা বলব-তা নিয়ে তো আমাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। কারণ ভিসানীতি আর নিষেধাজ্ঞা তাদের বিরুদ্ধে আসবে যারা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে। যারা এই নির্বাচনে বাধা দেবে তারা ভিকটিম হবে। আমরা কেন ভিকটিম হব? আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। ভায়োলেন্স করা আমাদের লক্ষ্য না। সেটাতে আমাদের ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেন এই বিষয়গুলো জটিল করতে চাইছে, এবং রাজনীতির নামে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে? এখন তারা নির্বাচনে বাধা দিলে তো তারাই এই ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধান অনুযায়ী করতে চাই। নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। আমাদের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে অসুবিধা কোথায়? সম্প্রতি চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। বিএনপি এই নির্বাচনে অফিশিয়ালি অংশ নেয়নি। তবুও ভোটার উপস্থিতি ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচনকে আস্থায় নিয়েছে। বিএনপির অভিযোগ যে সঠিক নয়, সেটাও প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি এমন একটা দল, তাদের কাছে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন তখনই হবে যখন তাদের নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি দেওয়া হবে।
একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ৭০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করেন। বিএনপি জানে নির্বাচন করলে তারা টিকতে পারবে না। তারা জানে, নির্বাচনে ভোটাভুটিতে তারা হেরে যাবে। সে কারণে এখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এগুলো বলছে। কেন? তারা কখনো বলে-জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন, কখনো বলে বিদেশিরা এখানে এসে প্রভাবিত করবে। এগুলো তো হয় না। আমরা আমাদের সংবিধানে যে বিধিবিধান আছে, এটা মেনেই আমরা নির্বাচন করব। এটা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আসলে বিএনপি এসব উদ্ভট বিষয়গুলো নিয়ে আসছে। কারণ তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। আগুন-সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তাদের পুরোনো অভ্যাস। তারা এগুলোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের একদফা তো আছেই আবার বলছে অক্টোবরে সরকারের পতন ঘটাবে। দেখা যাক, আমরাও প্রস্তুত আছি। আমরা সভা-সমাবেশ করছি। শান্তির পক্ষে। তারা যে অশান্তি করবে বা করছে এটার বিরুদ্ধে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি। শান্তির সমাবেশ থেকে বিএনপির আন্দোলন বা মিছিলে কোথাও আওয়ামী লীগ একটা ভায়োলেন্ট করেনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ-সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আছেই। আমরা চেষ্টা করছি বিভাগীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে। এ বিষয়ে নেত্রী (শেখ হাসিনা) নিজেও অনেককে ডেকে কথা বলেছেন। আমরাও ডেকে কথা বলছি। বিভাগীয় কমিটিগুলোও সেখানে যাচ্ছে বা ঢাকায় ডেকে এনে এগুলো সমাধানে কাজ করছে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু একই দলের মধ্যে বিষোদগার করা বা কাদা ছোড়াছুড়ি করা অপ্রত্যাশিত। কাজেই এ ব্যাপারে আমরা সজাগ ও সচেষ্ট আছি।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে নতুন করে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা আইনগত ব্যাপার আইনগত ভাবেই সমাধান হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ব্যাপারে নজির আছে।

হামাসের হামলা ইহুদিদের জন্য ‘সবচেয়ে ভয়ংকর দিন’ : বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, হলোকাস্টের পর গত শনিবার (৭ অক্টোবর) হামাসের হামলা ইহুদিদের জন্য ‘সবচেয়ে ভয়ংকর দিন’। ওয়াশিংটন ইসরাইলের পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বুধবার বলেছেন, হামাসের ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে সহস্রাব্দের ইহুদি বিদ্বেষ ও গণহত্যার বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
বাইডেন বলেন, ‘আমরা ইসরাইলের পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি; ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আমি এবং আমার নিরাপত্তা দলের বেশিরভাগ সদস্য আজ (বুধবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে আবার কথা বলেছি।’
‘এই আক্রমণ ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে সহস্রাব্দের ইহুদি বিদ্বেষ এবং গণহত্যার বেদনাদায়ক স্মৃতি এবং ক্ষতকে সামনে নিয়ে এসেছে,‘ বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বাইডেন আরও বলেন, এই মুহুর্তে আমাদের স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হতে হবে যে, সন্ত্রাসের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো ছুতা চলবে না এবং যে ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রদর্শন করা হয়েছে তা সীমা অতিক্রম করেছে। একেবারে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং ইহুদি জনগণের নিরাপত্তার প্রতি আমার অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা আজ এবং তার পরেও এটি নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি।
এদিকে ইসরাইলে হামাসের আকস্মিক হামলায় এখন পর্যন্ত ১২০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। অপরদিকে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রায় ১১০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েক শ নারী ও শিশু রয়েছে। ইসরাইলের নির্বিচার বিমান হামলায় ধ্বসংস্তূপে পরিণত হয়েছে হামাস-শাসিত অবরুদ্ধ গাজা।

‘ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ বন্ধে একমত’ সৌদি-ইরান

ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসক দল হামাসের হামলা এবং এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার মধ্যে বুধবার ফোনালাপ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফোনালাপে সৌদির কার্যত শাসক ও ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ইসরায়েলি সরকারের অপরাধ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরায়েল ও দেশটির সমর্থকদের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক নিরাপত্তাহীনতা’ ডেকে আনবে।
ফোনালাপে দু্ই নেতা কী নিয়ে কথা বলেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেয়া পোস্টে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিকবিষয়ক ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ মোহাম্মদ জামশিদি।
তিনি এক্সে লিখেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে ফোনালাপে উভয়ই ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইসলামি ঐক্যের ওপর দুই নেতা জোর দিয়েছেন। উভয়ই মনে করেন, ইসরায়েলের অপরাধ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরায়েল সরকার ও তার সমর্থকদের জন্য ধ্বংসাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ডেকে আনবে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে অতর্কিত হামলায় চালায় হামাস। এ হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়।
ওই হামলার জবাবে গত ছয় দিন ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এ হামলায় নিহত বেড়ে ১ হাজার ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পাশাপাশি খাদ্য, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের পথ বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল। উপত্যকার একমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ বাসিন্দা।