শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

আরসা প্রধানের নির্দেশেই খুন হন মুহিবুল্লাহ : র‌্যাব

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে খুনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী। নিজ দেশে (মিয়ানমার) প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়ায় মুহিবুল্লাহর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল আরসার প্রধান।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন নূর কামাল ওরফে সামি উদ্দিন। রোববার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের কুতুপালং এলাকা থেকে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রোহিঙ্গাদের শীর্ষনেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার দুই দিন আগ থেকেই একটি ক্যাম্পে বসে পরিকল্পনা করে সন্ত্রাসীরা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডে দুইটি দল সম্পৃক্ত ছিল। এদের মধ্যে নূর কামাল ওরফে সামি উদ্দিন অন্যতম।
তিনি বলেন, আরসার প্রধান মুহিবুল্লাহকে আরসায় যোগ দিতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে (মুহিবুল্লাহ) হত্যা করা হয়। এই নূর কামাল ওরফে সামি উদ্দিন আরসার মোস্ট ওয়ান্টেড কিলার গ্রুপের প্রধান। সে (নূর কামাল ওরফে সামি উদ্দিন) হেড মাঝি শফিক, জসিম, সেলিম, নূর বশর, সালাম, সলিম, কালা বদ্দা, রহিমুল্লাহ ও খালেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচিত ছয়জন হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দলের ওপর সশস্ত্র হামলার সঙ্গেও সে জড়িত। সে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ/টার্গেট কিলিং শেষে কক্সবাজারের গহিন পার্বত্য এলাকায় আত্মগোপনে থাকত বলে জানায়। তার বিরুদ্ধে উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অপহরণ ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১৫টি মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নূর কামাল ওরফে সামি উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

ভারতের বিপক্ষে খেলবেন না সাকিব

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে টাইগারদের জন্য আরও একটি দুঃসংবাদ হয়ে আসে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের চোট। ম্যাচের পর বাংলাদেশ অধিনায়কের চোটগ্রস্ত জায়গায় এমআরআই স্ক্যানও করানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জানা যায় ব্যাটিংয়ের সময় বাঁ উরুর মাংসপেশিতে টান খাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন সাকিব। নতুন করে তাকে নিয়ে আপডেট দেন বিসিবির টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।
আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) সাকিবের ইনজুরি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকা টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন, পুনেতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ব্যাটিং অনুশীলন করবেন সাকিব। এরপরই ভারতে বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজম্যান্ট।
ভারতের বিপক্ষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে সাকিব খেলবেন কিনা? এমন প্রশ্নে সুজন বলেন, আগামী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলে বড় ইনজুরিতে পড়ুক সেটা চাই না। সাকিবের আরও একবার স্ক্যান করা হবে।
এর আগে সাকিবের চোট নিয়ে ফিজিও বায়েজিদ ইসলামের এক বিবৃতি প্রকাশ করে বিসিবি। সেখানে তিনি বলেন, ব্যাটিংয়ের সময় বাঁ উরুর মাংসপেশিতে টান খাওয়ায় অস্বস্তিতে থাকেন সাকিব। এরপর তিনি ফিল্ডিং করেন এবং ১০ ওভারের কোটা পূরণ করেন। ম্যাচ শেষে তার এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছে। আগামী ম্যাচগুলোর পূর্বে তার ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমরা ক্লিনিক্যালি তার প্রতিদিনের অগ্রগতি মূল্যায়ন করব এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে বাধ্যবাধকতা নেই : তথ্যমন্ত্রী

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচনীদল সংলাপের কথা বলেছেন— সে বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেখুন আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র যেকোনো পরামর্শ দিতে পারে। দেশটা আমাদের এবং দেশের মালিক জনগণ এখন বন্ধুরাষ্ট্র কে কী বললো সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের জনগণ কী চায় সেটি হচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারা পরামর্শ দিতে পারে সেটা গ্রহণ করবো কী করব না সম্পূর্ণ আমাদের এখতিয়ার।
তিনি বলেন, বিএনপি যেভাবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে, এসব শর্ত দিয়ে কখনো সংলাপ হতে পারে না।
নির্বাচনকালীন সরকার কি গতবারের মতো হবে নাকি কোনো পরিবর্তন দেখা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কোনো প্রয়োজন বা বাধ্য বাধকতা নেই। এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নির্বাচনকালীন সময়ে বর্তমান মন্ত্রিসভার পুরোটা থাকবে কি না, নাকি সেটি ছোট করবেন কিংবা বড় করবেন সেটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নির্বাচনকালীন সময়ে বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বা হতে যাচ্ছে এ কথাগুলো আসলে সংবিধান সম্মত নয়। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবের একটা কথা খুব আলোচিত হয়েছে, তিনি বলেছেন সরকার পতনের যে চলমান আন্দোলন সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন তাদের প্রতি আছে এজন্য তারা এগিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, তিনি যে সমর্থনের কথা বললেন সেটি হলো, তাদের অবস্থান তাদেরকে সাহস জোগাচ্ছে। আসলে তাদের আন্দোলনকে কেউ সমর্থন দেয় না। পাশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান যেমন ইসরাইলকে সাহস জোগাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে তাদের অবস্থান তাদেরকে সাহস যোগাচ্ছে। দুইটার মধ্যে মিল আছে। পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান ইসরাইলকে স্পষ্ট সাহস জোগাচ্ছে এবং পশ্চিমাবিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্টিয়া এমনকি অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনিতের পক্ষে কোনো মিছিল, মিটিং,সমাবেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ্যৎ মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সেখানে দমন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়ে মত প্রকাশ করতে পারার অধিকারটাই হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এখন ইসরাইলিদের বিপক্ষে যাবে বিধায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কেউ কথা বলতে পারবে না। ফ্রান্সের আইনমন্ত্রী বলেছেন যে এব্যাপারে কেউ কোনো বক্তব্য রাখলে সেটি আইনত দণ্ডনীয় হিসেবে ধরা হতে পারে। অথ্যৎ পশ্চিমাবিশ্বের অবস্থান একদিকে ইসরাইলকে সাহস জোগাচ্ছে, আরেক দিকে মির্জা ফখরুল সাহেবকে সাহস জোগাচ্ছে। দুইটার মধ্যে প্রচুর মিল আছে দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আসলে তাদের জনগণের ওপর কোনো আস্থা নেই। জনগণের ওপর আস্থা নেই বিধায় এখন কাকের মতো দূরদেশ থেকে কে কি বললো সেদিকে তাকিয়ে থাকে। কাক যেমন কেউ খাবাবের উচ্ছিষ্ট ফেললে তাকিয়ে থাকে। আর মির্জা ফখরুল সাহেবেরা জনগণের দিকে না তাকিয়ে কাকের মতো দূরবিশ্বের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতার মালিক জনগণ। আমরা জনগণের শক্তিতে বলিয়ান। জনগণই এদেশের মালিক, জনগণই নির্ধারণ করবে করা দেশ পরিচালনা করবে। কারা দেশ পরিচালনা করবে না। আমরা জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করি। পশ্চিমাবিশ্ব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব এগুলো বলে তাদের কর্মীদের একটু চাঙা রাখার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলের হামলায় বিএনপি একেবারেই নিশ্চুপ, তবে তারেক রহমান বলেছেন আমরা ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নেব না, তাহলে আমেরিকা বা পশ্চিমাবিশ্ব ক্ষেপে যাবে। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন এমন প্রশ্নেন জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইসরাইয়েলিরা পাখি শিকারের মতো ফিলিস্তিনিদের শিকার করছে। যুদ্ধের কথা বলে গাজা উপত্যকায় খাদ্য, পানীয়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। এমন কি হাসপাতালেও বোমা বর্ষণ হচ্ছে। এটি তো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবেও এ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছি। বিএনপি এবং জামায়াত যখন নির্বাচন আসে তারা তখন কড়া মুসলমান হয়ে যায়। বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলে। অথচ আজকে যখন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে সেটি নিয়ে তারা নিশ্চুপ। একটি বৃহৎ শক্তি নাখোশ হতে পারে। সেখানে এ নিশ্চুপ থেকে প্রকৃতপক্ষে বর্বরতা, নির্মমতার, যুদ্ধাপরাধের পক্ষ নিয়েছে বিএনপি এবং ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে বিএনপি। দেশের জনগণ এদের চিনে রাখবে।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই সংকটের সমাধান : চীনা রাষ্ট্রদূত

চলমান হামাস-ইসরায়েল সংঘাত প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বিশ্বে অন্যায়ের অভাব নেই। কিন্তু ফিলিস্তিনের প্রতি অবিচার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই সংকটের সমাধান হলো দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র।
আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে এক বৈঠকে মতবিনিময়কালে এ কথা বলে চীনের রাষ্ট্রদূত।
ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনের প্রশ্নটি মধ্যপ্রাচ্য সংকট কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং এই ক্ষত আজকের বিশ্বে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ ফিলিস্তিনে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐতিহাসিক অবিচারের প্রতিকারে ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের মতো ফিলিস্তিনেরও রাষ্ট্র গঠনের অধিকার আছে। ইসরাইলিরা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার চিন্তা কে করবে?’
তিনি বলেন, ‘ইহুদি জাতি পৃথিবীতে এখন আর গৃহহীন নয়, কিন্তু ফিলিস্তিনি জাতি কবে ফিরবে তাদের ঘরে? বিশ্বে অনেক অন্যায় আছে, কিন্তু ফিলিস্তিনের প্রতি যে অবিচার তা অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ দুর্ভোগ, যা চলতে দেওয়া যায় না।’
সমাধান হিসেবে দুই রাষ্ট্র ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারে এবং আরব ও ইহুদিরা সম্প্রীতিতে বসবাস করতে পারে।
এক বিবৃতিতে চীনা দূত বলেন, সংকট দূর করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
চলমান সংঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধের জন্য সব প্রচেষ্টা করতে হবে। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া থামাতে হবে এবং পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না হয় এ বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করা এখন শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে চীন বিশ্বাস করে।
চীন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সব সহিংসতা ও হামলার নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন সব কাজের বিরোধিতা করে বলে জানান তিনি।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, শক্তির নির্বিচার ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য এবং ফিলিস্তিনি বা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের কর্মীসহ অন্যান্য মানবিক সংস্থার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে চীনা সরকারের বিশেষ দূত শিগগিরই ওই অঞ্চলে সফর করবেন। সহিংসতা বন্ধ ও পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাবেন।
শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি ব্যাপক, ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় আরও বেশি কর্তৃত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী ও বিস্তৃত ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে চীন।

পৃথিবীর ধনী দেশগুলোও বিনামূল্যে টিকা দেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি টিকা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো ধনী দেশও বিনামূল্যে করোনার টিকা দেয়নি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি। তখন আমাদের রিজার্ভও ভালো ছিল।

সোমবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে দেশের ৬৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘কমিউনিটি আই সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য আমাদেরকে প্রতিটি নার্স-চিকিৎসককে আলাদা করে ভাতা দিতে হয়েছে। কারণ সে সময়ে ভয়ে কেউই এগিয়ে আসতে চায়নি। এমনকি তাদের সুরক্ষায় পিপিইসহ বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী কিনে দিতে হয়েছে। করোনার সেবা, টিকা দেওয়ার জন্য ভলান্টিয়ার নিতে হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে, আল্লাহর রহমতে আমাদের তেমন ক্ষতি হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমরা ১০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক প্রথম ৪ হাজার যখন চালু করি, তখন সেগুলোর ৭০ ভাগের মতো সাফল্য অর্জন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। খালেদা সরকার ক্ষমতা এসেই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। কারণ, এখানে যারা কাজ করবে, যারা সেবা নিবে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিবে, সুতরাং এগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপির মতো এসব দৈন্য চিন্তা করি না। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি, সেগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সবধরনের মানুষ সেবা নিচ্ছে। বিএনপির চিন্তায় দৈন্যতা আছে।

সালমান-ক্যাটরিনার ‘টাইগার-৩’ সিনেমার ট্রেলারে অ্যাকশনের ঝড়

সালমান-ক্যাটরিনা জুটির ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর এবার শেষ হলো। আজ (১৬ অক্টোবর) মুক্তি পেল তাদের অভিনীত ‘টাইগার-৩’ সিনেমার ট্রেলার।

এ সিনেমার নির্মাতার ঘোষণা অনুযায়ী আজ (১৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় মুক্তি পেয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সিনেমার ট্রেলার। অ্যাকশনে ভরপুর ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনার ঝড় তুলেছে।

এ সিনেমায় টাইগারের ভূমিকায় ফিরছেন বলিউড ভাইজান খ্যাত সালমান খান। সঙ্গে তার স্ত্রী জোয়া মানে ক্যাটরিনা কাইফ। এবার ‘টাইগার-৩’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাবে ইমরান হাশমিকে। ট্রেলারেই প্রথম ঝলক মিলল তার লুকের। তাও একেবারে শেষে গিয়ে।

দীর্ঘদিন পর বড়পর্দায় একেবারে অন্য ধরনের চরিত্রে রয়েছেন ইমরান হাশমি। বলাই বাহুল্য তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলাদাই উত্তেজনা।

পুরোপুরি অ্যাকশনে ভরপুর এ ট্রেলার আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। ধুন্ধুমার স্টান্ট, অবলীলায় করতে দেখা গেল ক্যাটরিনাকে যা অবশ্যই নজরকাড়া। তবে এবার লড়াই কেবল দেশের জন্যই নয়, এর সঙ্গে মিশবে ব্যক্তিগত টানাপোড়েনও।

‘এক থা টাইগার’, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-এর পর ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা ‘টাইগার-৩’। যশ রাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের চতুর্থ সিনেমা এটি। ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’, ‘ওয়ার’ ও ‘পাঠান’ সিনেমার পর সেই কাহিনির রেশ টেনে ‘টাইগার-৩’ নির্মিত হয়েছে। সিনেমাটি ভারতজুড়ে হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় মুক্তি পাবে।

যেমন শাহরুখের ‘পাঠান’ সিনেমায় টাইগার হিসেবে ক্যামিও করেছিলেন সালমান খান, তেমনই ‘টাইগার-৩’ সিনেমায় ‘পাঠান’ হিসেবে শাহরুখ খানের ক্যামিও থাকবে। এ সিনেমার সম্পর্কে এর আগে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘টাইগার-৩’ শারীরিকভাবে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং।

ওয়াইআরএফ স্পাই ইউনিভার্সে জোয়ার চরিত্রে অভিনয় সফর দুর্দান্ত এবং প্রত্যেক সিনেমার জন্য নিজেকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছি। ‘টাইগার-৩’ সিনেমাতেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

এবার অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম এবং নিজের শরীরকে ভেঙে যাওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলাম। দর্শক সেটা দেখতে পাবেন।’ পর্দায় এবার এ সিনেমা কতটা ঝড় তুলতে পারে তা দেখার অপেক্ষায় সালমান-ক্যাটরিনা ভক্তরা।

গাজাকে নরকের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে : জাতিসংঘ

গাজায় সর্বাত্মক সেনা হামলার যে ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল, তার আগে উত্তর গাজায় ইসরায়েলের সীমানার কাছে বিপুল সংখ্যায় সৈন্য জড়ো হয়েছে।
উত্তর গাজার কাছে ইসরায়েলের বসানো কাঁটাতারের সীমানার ১০ থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে আশকেলনে অবস্থান নিয়েছে এই ইসরায়েলি সেনারা।
ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি সংবাদদাতা নিক বিক জানাচ্ছেন যে সেনা অবস্থান ছাড়াও যুদ্ধবিমান আসা যাওয়া ও নজরদারি ড্রোন চলাচলের মত নানা ঘটনা ঘটছে সেখানে।
বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন ইসরায়েলের বেশ কিছু যুদ্ধবিমান গাজার দিকে ক্রমাগত যাওয়া আসা করছে। তবে এই অঞ্চলে বিমানের উপস্থিতি বাড়ানোর কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে না। যদিও শনিবার সারারাতই গাজা এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে।
ইসরায়েল এরই মধ্যে তাদের রিজার্ভে থাকা কয়েক লাখ সৈন্যকে সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত করেছে। গাজার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনেক ট্যাঙ্কও অবস্থান নিয়েছে বলে বলা হচ্ছে।
শনিবার ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ও প্রস্তুতি দেখতে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন যে ‘সংঘাতের পরের পর্ব আসছে।’
এর আগে গত সপ্তাহে হামাসের আকস্মিক হামলার পর তিনি এক ভিডিও বার্তায় হুমকি দিয়েছিলেন যে ইসরায়েলি বাহিনী ‘পৃথিবী থেকে হামাসকে নিশ্চিহ্ন’ করে ফেলবে।
ইসরায়েলি বাহিনী গত দুদিন ধরে গাজায় সর্বাত্মক হামলার হুমকি দিতে থাকলেও কখন এই হামলা শুরু হবে তা এখনো চূড়ান্তভাবে জানায়নি।
উত্তর গাজায় হামাস ঘাঁটিতে হামলা করার আগে সেখান থেকে বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কয়েক দফায় সময়ও বেঁধে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে গাজার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সময়
গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেসামরিক বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যেতে শুক্রবার নির্দেশনা দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময়সীমা পার হওয়ার পর শনিবার আরো ছয় ঘণ্টা সময় দেয়া হয় দুটি নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যবহার করে উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণে সরে যাওয়ার জন্য।
এরপর রবিবার সকালে আবারো তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয় বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য। প্রাথমিকভাবে এই সময়সীমা ছিল স্থানীয় সময় দুপুর একটা (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) পর্যন্ত।
তবে সবশেষ খবর পর্যন্ত তারা আরো ৪০ মিনিট বাড়িয়েছে এই সময়সীমা।
বেসামরিক বাসিন্দাদের পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে উত্তর গাজার হাসপাতালগুলো খালি করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষ থেকে।
কিন্তু ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট কমিটি শনিবারই জানিয়ে দেয় যে তারা অসুস্থ ও আহতদের সেবা দিতে থাকায় হাসপাতাল খালি করে যেতে পারবে না।
দাতব্য সেবা সংস্থা মেডিসাঁ সাঁ ফ্রঁতিয়ের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাটালি রবার্টস মন্তব্য করেছেন যে কয়েক ঘণ্টার নোটিশে গাজার হাসপাতাল থেকে সরে যাওয়া ‘অসম্ভব।’
তিনি বলছেন, ‘তাদের যাওয়ার কোনো জায়গাই নেই। গাজার দক্ষিণের হাসপাতালগুলো সম্পূর্ণ ভরে গেছে। তাছাড়া পুরো গাজাতেই এখন কোনো বিদ্যুৎ নেই।’

এ ছাড়াও দক্ষিণ গাজার হাসপাতালগুলোয় রোগীদের স্থান সংকুলান করাও কঠিন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল খালি করার নির্দেশনাকে রোগীদের জন্য ‘মৃত্যুদণ্ড’এর শামিল হিসেবে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে গত শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ২৮ জন চিকিৎসা সেবাদানকারী মারা গেছে।
তারা আরও জানিয়েছে যে, গাজার দুটি হাসপাতালে কোনো সেবা দেয়া যাচ্ছে না এবং ১৫টি মেডিকেল সেন্টার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রণতরি, ইরানের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধবিমান বহনকারী আরেকটি রণতরি ইউএসএস আইজেনহাওয়ার পাঠিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন শনিবার জানান যে ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলা স্তিমিত করতে ও হামাসের হামলাকে ঘিরে ওই অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তার থামাতে’ এই রণতরি পাঠানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি রণতরি পাঠায়। নতুন পাঠানো রণতরী ইউএসএস আইজেনহাওয়ার আগে থেকে অবস্থান করা রণতরি ইউএসএস ফোর্ডের সাথে যোগ দেবে।
গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণে যেন বেসামরিক বাসিন্দারা হতাহত না হয়, সে বিষয়ে জোর দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে শনিবার ফোনে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গাজায় বেসামরিক বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে মি. বাইডেন প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নেতা মাহমুদ আব্বাসের সাথেও ফোনে কথা বলেন।
অন্যদিকে গাজায় বেসামরিক বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলের ‘পরিস্থিতি একরকম থাকার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না’ বলে সতর্ক করেছে ইরান।
কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়ের সাথে দেখা করার পর ইরানের গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আব্দোল্লাহিয়ান।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স হামাসের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে খবরে প্রকাশ করেছে যে হামাসের লক্ষ্য অর্জনে ইরান সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নৌকা দিয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ
ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও তাদের আত্মীয়দের সাগর পথে ইসরায়েল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
উত্তর ইসরায়েলের হাইফা বন্দর থেকে সাগর পথে সাইপ্রাস যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেখানকার মার্কিন নাগরিকদের। হাইফা বন্দর থেকে সাইপ্রাসের লিমাসল বন্দরের সাগর পথে দূরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।
এর আগে শনিবার গাজায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের গাজার দক্ষিণের রাফাহ সীমানা পার করে মিসরে চলে যেতে আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
খবর বিবিসি

কালুরঘাট সেতু মেরামতের পর নিরাপদে ট্রেন চলবে : রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, কালুরঘাট সেতু অনেক পুরোনো। এ সেতু মেরামতের কাজ চলছে, যাতে কক্সবাজার রুটের ট্রেন নিরাপদে চলতে পারে। সেতুর ওপর ১৫ টন মিটারগেজ ইঞ্জিনের ট্রেন আগামী ৩০ বছর ঝুঁকিমুক্তভাবেই চলতে পারবে।
আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকালে কালুরঘাট সেতু মেরামতের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের যে ইঞ্জিন ছিল, সেটি ১২ টনের। আমরা জানি, এই সেতু অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এটার স্ট্রেন্থ যাতে বাড়ানো যায়, সে কারণে আমরা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। কাজ চলমান। এই ব্রিজ বাদ দিয়ে নতুন একটি ব্রিজ কালুরঘাটে হবে। যেটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী বছর এ নতুন সেতুর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হবে। ডাবল লেইন মিটারগেজ এবং ফোর লেইনের সড়ক থাকবে একই ব্রিজের ওপর। কাজেই সেটি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্রিজটি যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি, সেভাবেই এটি তৈরি করা হচ্ছে। ২ নভেম্বর আমরা এখানে আসব এবং ট্রায়াল রান করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১২ নভেম্বর উদ্বোধনের পূর্বেই এই রেললাইনটি ভালোভাবে তৈরি হয়েছে কি না, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে চাই।
রেলমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই এই ব্রিজের কাজ শেষ হবে। তবে ছোটখাটো কিছু কাজ থাকতে পারে। একই ব্রিজ দিয়ে ট্রেন যায়, যানবাহন চলাচল করে, মানুষও চলাচল করে। সেই পথচারীদের জন্য আমরা আলাদা করে একটা লেইন করে দিয়েছি। মূল ব্রিজের ভিতরে আসতে হবে না। এটি এর আগে ছিল না। আমরা আরও ৬ ফিট ওয়াকওয়ে করে দিয়েছি, সেটার কাজ শেষ হতে আরো এক-দুই মাস সময় লাগতে পারে। আগে মূল ব্রিজের কাজ শেষ হোক, এরপর ওয়াকওয়ের কাজ শুরু হবে। এটা নতুন একটা সংযোজন।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রডগেজের ট্রেন এখন চালাতে পারছি না। ধীরে ধীরে এগুলোকে ব্রডগেজে রূপান্তর করব। আমরা খুব শিগগির চালাতে পারব না, কারণ মূল ফোকাসটা হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে।
ঢাকার সঙ্গে যদি যাই, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত আমরা ডুয়েল গেজ করেছি। এদিকে আবার দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ করেছি। ভবিষ্যতে আবার দোহজারী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ করব। এরপর চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম পর্যন্ত আমরা ডুয়েলগেজ করব। ওই দিকে আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত আমরা ডুয়েলগেজ করব।

ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইউরোপে হাজারো মানুষের মিছিল

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে ফিলিস্তিনের পক্ষে মিছিল করেছেন ইউরোপের অন্তত ৩টি দেশের হাজার হাজার মানুষ। এই দেশগুলো হলো নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড।
রোববার ফিলিস্তিনের স্বাধনিতা ও সেখানকার জনগণের পক্ষে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মিছিলটি হয়েছে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন আমস্টারডামের মিছিলে। সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামাসের পতাকা বহন, পুলিশেল ওপর হামলার চেষ্টা ও মুখ ঢেকে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ায় মিছিল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আমস্টারডাম পুলিশ।
তার আগের দিন শনিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিবিসির মূল কার্যালয় থেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০, ডাউনিং স্ট্রিট পর্যন্ত মিছিল করেছেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ। চলমান এই যুদ্ধে গাজার নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল না হওয়ায় কয়েকজন ক্ষুব্ধ মিছিলকারী বিবিসির মূল ফটক ও তার আশপাশের দেওয়ালে এলোমেলোভাবে ইচ্ছেমতো লাল রং ছিটিয়েছেন বলেও জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার একই দাবিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৬ হাজার এবং রাজধানী বার্নে ৫০০ জন মানুষ মিছিল করেছেন। সুইজারল্যান্ডের টেলিভিশন চ্যানেল আরটিএস জানিয়েছে, মিছিলের পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী লোকজনকে ইসরায়েলি সরকারের বর্ণবাদী নীতি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের দায়মুক্তি এবং যুদ্ধের জেরে গাজা উপত্যকায় অবরোধ আরোপের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে।
প্রায় দুই বছর ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়ার পর গত ৭ অক্টোবর ভোররাতে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক রকেট ছোড়া শুরু করে হামাস এবং সূর্যের আলো ফোটার আগেই ইসরায়েলের দক্ষিণাংশের সীমান্ত বেড়া বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ওই ভূখণ্ডে প্রবেশ করে শত শত সশস্ত্র হামাস যোদ্ধা।
হামাসের হামলায় প্রথম দিনই ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন কয়েক শ ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। এছাড়াও দেড় শতাধিক মানুষকে এদিন জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে গেছে হামাস। এই জিম্মিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো অজানা।
প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রস্তুতির অভাবে হামলার শুরুর দিকে খানিকটা অপ্রস্তুত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে যুদ্ধের ময়দানে নামে ইসরায়েল এবং প্রথম দিন থেকেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার ঢাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতার আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। সফরকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন।
আফরিন আখতার তার এবারের সফরে ঢাকায় বিভিন্ন বৈঠক ছাড়াও রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করবেন।
এ সফরে তিনি বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন দেখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
সোমবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন আফরিন আখতার। মঙ্গলবার তিনি কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মূলত দুটি ইস্যুতে আলোচনা করতে বাংলাদেশে এসেছেন। একটি হলো-রোহিঙ্গা সমস্যা এবং অন্যটি হলো-জাতীয় নির্বাচন। এ ছাড়া উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবে।
ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ক দেখভাল করেন।
এ ছাড়া তিনি নিরাপত্তা ও আন্তর্দেশীয়-বিষয়ক দপ্তরেরও ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত মে মাসেও তিনি ঢাকা সফর করেছিলেন।