বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ইংল্যান্ডের আর ভুলের কোনো সুযোগ নেই

বিশ্বকাপে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রেকর্ড ২২৯ রানের পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার স্বীকার করেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে এগিয়ে যেতে হলে আর ভুলের কোনো সুযোগ নেই।
মুম্বাইয়ের ওয়ংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিং করে প্রচন্ড গরমের মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করা ক্লাসেনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রোটিয়ারা ৭ উইকেটে ৩৯৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সামনে সর্বোচ্চ রানের লক্ষ্য মাত্রা ছুড়ে দিয়ে দিয়ে] বল হাতেও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। ১৭০ রানেই ইংলিশদের গুটিয়ে দিয়ে বিশাল জয়ে দারুন আত্মবিশ^াসী দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখতেই পারে। ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের এটি সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড।
এ নিয়ে প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতেই পরাজিত হলো ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটের হার দিয়ে শুরু ইংলিশদের। এরপর আফগানিস্তানের কাছে হারের লজ্জা পেয়েছে ইংলিশরা। বাকি থাকা ম্যাচগুলোর একটিতে পরাজিত হলেই সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যাবে।
আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। বাটলার বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই আমরা এখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি। এখন আর ভুলের কোন সুযোগ নেই। আমাদের জন্য বিশ^কাপ এই মুহূর্তে অনেক বেশী কঠিন হয়ে গেছে। জয় ভিন্ন এখন আমাদের সামনে এখন আর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। আবারও নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হবে।’
ষষ্ঠ উইকেটে ক্লাসেন (১০৯) ও মার্কো জানসেন (৭৫*) মিলে ১৫১ রানের জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকার বড় ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। ইংলিশ বোলররা এই দুই ব্যাটারের কাছে ছিল একেবারেই অসহায়। বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইংলিশ ব্যাটাররা দক্ষিণ আফ্রিকার পরীক্ষীত পেস আক্রমনের সামনে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছে।
মাত্র ২২ ওভারে ইনিংস গুটিয়ে যাওয়া ইংলিশদের জন্য বড় একটি সতর্কবার্তাই দিয়েছে। বাটলারও তাই মনে করেন, ‘আমরা অবশ্যই নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি। অধিনায়ক হিসেবে আমারও দায়িত্ব আছে। তবে দলের বাকি খেলোয়াড়দেরর নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে। কিভাবে নিজেদের ফিরিয়ে এনে ভাল ক্রিকেট খেলা যায় সেটাই এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। নিজেদের সাধ্যমত খেলে আবারো ফিরে আসতে হবে। কোনভাবেই মনে আনা যাবে না সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, কিংবা আমাদের আর কিছু করার নেই। নিজেদের মানসিকভাবে চাঙা করে তুলতে হবে।’
টসে জয়ী হয়ে বাটলার প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ম্যাচের ফলাফল হয়তো ভিন্ন হতে পারতো বলে অনেকেই মত দিয়েছেন। বাটলার নিজেও ম্যাচ শেষে সেটাই স্বীকার করেছেন। ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রচন্ড গরমে আগে ফিল্ডিং করে পুরো দলের শক্তি অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাটলার বলেন, ‘কন্ডিশন বিবেচনায় আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়তোবা ভাল হতে পারতো। ঐ মুহূর্তে আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মনে করেছি এটাই আমাদের জন্য সঠিক হবে। আমি এখনো বিশ্বাস করি আমাদের সামনে যদিও ৩৪০, ৩৫০ রানের টার্গেট থাকতো তবে আমরা আরো ভালভাবে সেটা মাথায় নিয়ে ব্যাটিং করতে পারতাম।’

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এখন ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রয়েছে। আমাদের সম্পর্কে আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও বলছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি সবদিক মিলিয়ে সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
আজ রোববার (২২ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সর্বজনীন পেনশনের অর্থ বিনিয়োগ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আবারও বলব, সারা বিশ্বের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। আমরা এককভাবে আমাদের অর্থনীতি চালাতে পারি না। সবাই একসঙ্গে মিলেমিশেই এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, সব সময় কোনো না কোনো কিছু লেগেই থাকে। একদিকে যুদ্ধ বন্ধ হলে অন্যদিকে আবার আরেক যুদ্ধ শুরু হয়। এবার আপনারাই বলেন (সাংবাদিকদের) নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করবেন। এগুলোর সঙ্গে যে সমস্ত এলাকা জড়িত রয়েছে সেগুলোকে কীভাবে দমন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এরই মধ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৫ হাজার জন চাঁদা দিয়েছেন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জমা পড়া চাঁদার টাকা বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে ১১ কোটি ৩১ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

লেকগুলোয় মাছ নয়, মশা চাষ হচ্ছে : মেয়র আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা শহরের লেকগুলোয় মাছ নয়, মশা চাষ হচ্ছে। লেকের পানি এতটাই দূষিত যে কোনো মাছ সেখানে বাঁচতে পারে না। মাছ ছাড়লেও মরে ভেসে ওঠে।
আজ রোববার (২২ অক্টোবর) কুড়িল লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মৎস্য অধিদপ্তর।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, বারিধারা, গুলশান লেকে পয়োবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো, এসব এলাকার পয়োবর্জ্যের লাইন লেকের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসব লাইন কেটে দিতে। নগরের প্রতিটি বাড়িতে সেফটি ট্যাংক থাকতে হবে। সেফটি ট্যাংক এ পয়োবর্জ্য শুকালে সেগুলো আমরা নিজ দায়িত্ব সংগ্রহ করবো। ল্যান্ডফিলে নিয়ে ফেলব।

কুড়িল লেককে একটি আধুনিক লেক হিসেবে তৈরি করা হবে জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, এ লেকটি নান্দনিক ভাবে সাজানো হবে। যাতে মানুষ লেকপাড়ে ঘুরতে আসতে পারে। মাছ ধরার ব্যবস্থা করা হবে। বাসা বাড়ির পয়োবর্জ্য খাল হয়ে নদীতে ও লেকে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এটি আমাদের ভাবতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের তা দেখতে হবে।
স্থানীয় কাউন্সিলর ইসহাক আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তর ও ডিএনসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৮ অক্টোবর রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
আজ রোববার (২২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সমগ্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ। এ কর্মসূচি নিয়ে আপনারা চাপ অনুভব করছেন কি না- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন বিএনপির মহাসমাবেশ, ছোট সমাবেশ, মাঝারি সমাবেশ, বিএনপির হাঁটা কর্মসূচি, দৌড় কর্মসূচি, বসা কর্মসূচি, ভবিষ্যতে হয়তো হামাগুঁড়ি কর্মসূচি- এগুলো নিয়ে আমরা কখনোই চাপ অনুভব করিনি। আমরা রাজপথের দল আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকবো। ২৮ তারিখে (অক্টোবর) রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা দেশটাই চায়নি তাদের নিয়েই বিএনপি গঠিত হয়েছে। মির্জা ফখরুলরা আসলে বাংলাদেশকে নিয়ে কখনোই স্বপ্ন দেখেনি। যদি স্বপ্ন দেখতেন তাহলে পাকিস্তান ভালো ছিল একথা বলতে পারত না। তারা পাকিস্তানি ভাবধারা চর্চা করেছিল। আর বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে স্বাধীনতা এনে দিলেন তখনই তারা চেতনার বেদীমূলে আঘাত করল। একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার লক্ষ্যে বের হয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। সেই চেতনার বেদিমূলে আঘাত হেনেছিল বিএনপি।
তারা স্বীকার করুক আর না করুক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, পঞ্চাশের মাঝামাঝি এই দেশ খাদ্য ঘাটতির দেশে রূপান্তরিত হয়। তখন দেশের লোক সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটি। অথচ আজ দেশের লোক সংখ্যা সাড়ে ১৭ কোটি। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়েছে। মানব উন্নয়ন সূচক, সামাজিক সূচক, অর্থনৈতিক সূচক সব সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি আমরা। দেশ নিয়ে সবাই যখন প্রশংসা করে তখন মির্জা ফখরুল হতাশ। কারণ তিনি পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন।
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে জিয়াউর রহমানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এমন একটি সমালোচনা রয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি জীবন নিয়ে একটি বায়োপিক। বঙ্গবন্ধু কীভাবে খোকা থেকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে উঠেছেন সে বিষয়গুলো তুলে আনা হয়েছে। এই ছবি দেশ এবং বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। দেশের বাহির থেকেও প্রচুর অনুরোধ আসছে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রদর্শনের। যখন মানুষের মাঝে এটা নিয়ে ব্যাপক সাড়া জেগেছে তখন বিএনপির গাত্রদাহ হবে এটাই স্বাভাবিক।
যেগুলো ঐতিহাসিক সত্য সেই ঘটনাগুলোই এখানে উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুকে যারা খুন করেছিল সেই খুনিরাই দম্ভ করে বলে গিয়েছিল, সেই রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এটি রয়েছে। মামলা সংশ্লিষ্ট সব সাক্ষী জিয়াউর রহমানের কথা স্বীকার করে গেছে, বলেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে। তবে অনেকক্ষেত্রে লেখার মান ঠিক থাকে না। আমার মনে হয় লেখার মানের দিকে আরও বেশি জোর দিতে হবে।

সর্বজনীন পেনশন : ট্রেজারি বন্ডে ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগ

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জমা পড়া চাঁদার টাকা বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
আজ রোববার (২২ অক্টোবর) এ বিনিয়োগের উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিনিয়োগের তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এরই মধ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৫ হাজার জন চাঁদা দিয়েছেন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি।

আওয়ামী লীগ সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অতীতের মতো সব সময় তাদের পাশে থাকবে। আমরা আওয়ামী লীগ সব সময় আপনাদের (হিন্দু সম্প্রদায়) পাশে ছিলাম এবং থাকব।
আজ রোববার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীর দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
দেশ-বিদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এই পূজা সম্পন্ন হোক সেটাই আমরা চাই। আমরা পাশে আছি। আইন-শৃংখলা রক্ষকারি বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে আমাদের সংগঠনের নেতা-কর্মী প্রত্যেকেই পাশে থাকবেন। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন এখানে না ঘটতে পারে সে জন্য আমরা সকলেই সতর্ক থাকব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করেই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। কিন্তু ’৭৫ এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল তা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। হিন্দু সম্প্রদাযের ওপর অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। এই বাংলাদেশে আমরা দেখেছি ’৯২ সালের পর এবং ২০০১ সালে এবং এরপরেও বার বার আঘাত এসেছে। আমরা আওয়ামী লীগ সব সময় আপনাদের পাশে ছিলাম, পাশে আছি।
বাংলাদেশের জনগণ উদারমনা এবং সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে কারণেই আমাদের শ্লোগান ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ঠিক এইভাবেই আমরা সবাই উৎসব পালন করে যাচ্ছি। আজ সারাদেশে ৩২ হাজারের ওপর পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা চলছে। তাঁর নিজের এলাকা গোপালগঞ্জের টৃুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়ায় ৪৪০টি পূজামন্ডপ এবং ঢাকায় ২৪৬টি পূজাম-প রয়েছে।
তিনি বলেন, এই পূজা সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উৎসবের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে। আমাদের আইন-শৃংখলা রক্ষকারি বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের যতটুকু করার আমরা করেছি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবির অনেকগুলোই সরকার ইতোমধ্যে পূরণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই এর নেতৃবন্দের সঙ্গে তিনি বসেন এবং সেখানে বিস্তারিত বলেছেন।
তিনি বলেন, আজ যেহেতু উৎসবের দিন তাই কি দিলাম, কি করলাম বা কি পেলাম, কি পেলাম না সে কথায় আমি যাবনা।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এই মাটির সন্তান সবাই। এই মাটিতে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে আপনারা বসবাস করবেন। আর মহান মুক্তিযুদ্ধে সবাই একহয়ে যুদ্ধ করেছেন। তাই এখানে সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার যাতে বলবৎ ও সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে আমরা সব সময় সেই চেষ্টাই করি।
তিনি বলেন, আপনারাও আশির্বাদ করেন বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। এখন ঘরে ঘরে খাবার আছে, বিদ্যুৎ আছে, চিকিৎসাসেবা আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। ২০০৮ এর নির্বাচনে বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো সেটা আমরা করে দিয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইনশাল্লাহ আমরা সেটাও করতে পারবো। সারাদেশে উন্নয়নের ছোঁয়া, কেননা মানুষের কল্যাণেই আমাদের কাজ। আর মানুষের কল্যাণ করাকেই আমরা একমাত্র দায়িত্ব বলে মনে করি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব সময় বিশ্বাস করি সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। সুরা কাফেরুনের আয়াত ‘লাকুম দিনূকুম ওয়ালিয়াদীন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরআন শরিফেই সবাইকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দেয়া হয়েছে। কাজেই কেউ কারো ওপর হস্তক্ষেপ করবে না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রোমেন ম-ল।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং পরে নৃত্য উপভোগ করেন।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে ভারত

বিশ্বকাপের ২১তম ম্যাচে মুখোমুখি আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত দুই দল স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ড। নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায়।
একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে ভারত। বাংলাদেশ ম্যাচে চোট পাওয়া হার্দিক পান্ডিয়ার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। এ ছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার শার্দুল ঠাকুরের জায়গায় বিশ্বকাপ একাদশে প্রথমবার জায়গা পেলেন অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি।
এদিকে ভারতের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে নিউজিল্যান্ড একাদশে নেই কোনো পরিবর্তন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া দল নিয়েই আজ স্বাগতিকদের মোকাবেলা করবে কিউইরা।
ভারত একাদশ
রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুল, সূর্যকুমার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ শামি ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
নিউজিল্যান্ড একাদশ
টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), ডেভন কনওয়ে, উইল ইয়াং, রাচিন রবীন্দ্র, ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন ও ট্রেন্ট বোল্ট।

নভেম্বরে তফসিল, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন : কাদের

আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা তার আগেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রোববার (২১ অক্টোবর) ওসমানী মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা মনে মনে স্বপ্ন দেখছেন রাস্তা অবরোধ করে, বাস পুড়িয়ে, মানুষ পুড়িয়ে আপনাদের ইচ্ছামতো সংবিধানকে কচুকাটা করবেন; সেটা আমরা হতে দেবো না। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা ভোট চুরি করেছেন, ভুয়া ভোটার তৈরি করেছেন। এই দেশটাকে এদেশের সংবিধান অনুযয়ী চালাতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংবিধান অনুযায়ী হবে। অবরোধের খায়েস পূর্ণ হবে না। এসব জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসের হুমকি যারা দিচ্ছে, ঢাকা অবরোধ-দখলের নামে আবারও আগুন সন্ত্রাসের হুমকি আসছে। শেখ হাসিনা গরিবের সঙ্গে আছেন, দুঃখী মানুষের সঙ্গে আছেন। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশকে বাঁচাতে হবে, দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে।

সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আইন পরিবর্তন করার কি সময় আছে? জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জানুয়ারিতে নির্বাচনে যারাই (ক্ষমতায়) আসেন— প্রয়োজনে সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন বিবেচনা করতে পারবেন। এসব বিষয় আপাতত মূলতবি রাখতে হবে।
দাবিগুলো ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত হলেও এখন কিছু করা যাবে না মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি পারফেক্ট মানুষ, এ দাবি করব না। ভুলত্রুটি হতে পারে। ভালো করার চেষ্টা করেছি, দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা করেছি। টেহুার-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য বন্ধ করতে পেরেছি।
২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছরের ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম রওশন আরা মান্নান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শাহাবুদ্দিন খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব এনায়েত উল্যাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

২৮ অক্টোবর ‘শান্তি ও উন্নয়ন’ সমাবেশ করবে মহানগর আওয়ামী লীগ

আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ। সেদিন দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলিস্তান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বোরবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশটি সঞ্চালনা করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।

গাজায় প্রবেশের আগে ইসরায়েলের যত হিসাব-নিকাশ

বেশ কয়েক দিন ধরে ইসরায়েল আভাস দিয়ে যাচ্ছে যে, তাদের বিশাল সৈন্য বাহিনী হামাসকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত।
ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স-আইডিএফের তিন লাখ সংরক্ষিত সেনা সদস্যকে ডাকা হয়েছে এরই মধ্যে। গাজা সীমান্তের অন্যপাশে ইসরায়েল অংশের ছোট ছোট শহর, মাঠ আর শস্যক্ষেত সব এখন ট্যাংক, গোলা বারুদ এবং ভারী অস্ত্রে সুসজ্জিত হাজারো সেনা সদস্য দিয়ে ভর্তি।
ইসরায়েলি বিমান ও নৌ বাহিনী যত হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সন্দেহজনক আস্তানা ও অস্ত্রাগার আছে – সেসব লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক মারা যাচ্ছেন ও আহত হচ্ছেন, আর অল্পসংখ্যক হামাস নেতা মারা পড়ছেন।
গাজার একটি হাসপাতালে বিস্ফোরণের ফলে যে বিপুল মানুষ হতাহত হয়েছে, তা এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যদিও এ হামলার দায় অস্বীকার করে দু’পক্ষই একে অন্যকে অভিযুক্ত করছে।
কিন্তু কেন এখনো গাজায় অভিযানের ঘোষণা দিয়েও তা শুরু করছে না ইসরায়েল?

বাইডেন ফ্যাক্টর
চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তাড়াহুড়ো করে ইসরায়েল সফর জানান দেয় পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউস কতটা চিন্তায়। ওয়াশিংটনের দুশ্চিন্তার জায়গা দুটো— মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই বেড়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, যে গাজা থেকে ২০০৫ সালে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল, সেটা আবারও দখলে নেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি। তার ভাষায়, এটা হবে ‘একটা বড় ভুল’।
সরকারিভাবে তার এই ইসরায়েল সফরের প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামেরিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে কৌশলগত সহায়তা প্রদান এবং একইসাথে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের পরিকল্পনা শোনা।
তবে অপ্রকাশিত কারণ হলো বাইডেন এই সফরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চরমপন্থী সরকারকে একটু ছাড় দেয়ার ব্যাপারে কথা বলবেন। যুক্তরাষ্ট্র জানতে চায়, ইসরায়েল যদি গাজায় প্রবেশ করে, তবে তারা সেখান থেকে কখন ও কীভাবে বের হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ইসরায়েল যদি গাজায় পুরোমাত্রার সামরিক অভিযান চালাতে চায়, তাহলে সেসময় তেল আবিবে এয়ারফোর্স ওয়ান হাজির থাকাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কারও জন্যই ভালো দেখায় না।
আল আহলি হাসপাতালে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া এই সফরে জো বাইডেন প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের যে বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, একটা ফিলিস্তিনি রকেট ভুল করে এই হাসপাতালে পড়লে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে হাসপাতালটি ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার।
ওই বিস্ফোরণে মৃত্যুর সংখ্যা যা কয়েকশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি স্বাধীনভাবে এ বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

ইরান ফ্যাক্টর
গত কয়েক দিনে ইরান স্পষ্ট হুমকি দিয়ে বলেছে গাজায় ইসরায়েল যে ঘৃণ্য হামলা চালাচ্ছে তার যথাযথ উত্তর দেয়া হবে। এখন এটার মানে কী?
ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তহবিল, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণও করে থাকে।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর লেবাননের হেজবুল্লাহ, যাদের অবস্থান একেবারে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত ঘেঁষে।
হেজবুল্লাহ ২০০৬ সালে ইসরায়েলের সাথে এক রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধে জড়ায়, যখন ইসরায়েলের আধুনিক সব অস্ত্র প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলা এবং লুকানো মাইনের কাছে হার মানে।
তারপর থেকে ইরানের সহায়তায় হেজবুল্লাহ পুনরায় নতুন করে নিজেদের সংগঠিত করেছে এবং ধারণা করা হয় তাদের কাছে এখন অন্তত দেড় লাখ রকেট ও মিসাইল আছে, যার অনেকগুলোই দূরপাল্লার এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।
ফলে একটা হুমকি তো আছেই যে যদি ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করে তাহলে হেজবুল্লাহ হয়তো ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত দিয়ে পাল্টা হামলা শুরু করবে, যা তাদের দুই দিকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
তবে এর কোনোই নিশ্চয়তা নেই যে হেজবুল্লাহ বাহিনী এ সময় এ রকম একটা যুদ্ধে জড়াবে। বিশেষ করে যখন ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি রণতরী প্রস্তুত হয়ে আছে যে কোন সময় ইসরায়েলকে সহায়তা করার জন্য।
এটি বরং ইসরায়েলকে ভরসা দিচ্ছে যে হেজবুল্লাহর দিক থেকে যদি কোন আঘাত আসে তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
তবে এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে যে ২০০৬ সালের যুদ্ধের সময় হেজবুল্লাহর একটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ইসরায়েলের একটি যুদ্ধজাহাজকে আঘাত করতে পেরেছিল।

মানবিক ফ্যাক্টর
ইসরায়েলি সরকার গাজা থেকে হামাসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে গিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি যেন বাকি বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
টানা ইসরায়েলি বিমান হামলায় যখন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু সংখ্যা বাড়তে শুরু করে, তখন সারা বিশ্ব সাতই অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরায়েলিদের দিকে যে সমবেদনা দেখিয়েছে, সেটা আস্তে আস্তে বিমান হামলা বন্ধ ও নিরাপরাধ গাজাবাসীকে রক্ষার দিকে গিয়েছে।
যদি কখনো ইসরায়েলি বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করে তাহলে হতাহতের এ সংখ্যা আরও বাড়তেই থাকবে।
ইসরায়েলি সেনারাও মারা পড়বে, গুপ্ত হামলা, স্নাইপার এবং বুবি ট্র্যাপে – আর বেশিরভাগ যুদ্ধই হয়তো হবে মাটির নিচে ছড়িয়ে থাকা মাইলের পর মাইল টানেলে।
কিন্তু সেক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত এর মূল্য হয়তো দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য একটা খুবই খারাপ মাস যাচ্ছে।
শিন বেত, তাদের ঘরোয়া গোয়েন্দা সংস্থা, হামাসের এত বড় মারাত্মক হামলা আগে থেকে আঁচ করতে না পারায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
গাজার ভেতরে তাদের তথ্যদাতা এবং স্পাইয়ের একটা নেটওয়ার্ক থাকার কথা যারা হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের নেতাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখবে।
কিন্তু এরপরও সেই ভয়ংকর শনিবারের সকালে যা ঘটেছে তা ১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপুর যুদ্ধের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা সেটি কাটিয়ে উঠতে গত ১০ দিন ধরে অবিরাম কাজ করছে। হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের নাম শনাক্ত করতে এবং তাদের কোথায় রাখা হয়েছে সেই অবস্থান খুঁজে বের করার জন্য তারা কাজ করছে।
একই সঙ্গে হামাস নেতারা কোথায় লুকিয়ে আছে সেটার তথ্য দিয়েও তারা সহায়তা করছে আইডিএফকে।
ফলে এই সম্ভাবনাও আছে যে তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য আরেকটু সময় চেয়েছে যাতে, সামরিক অভিযান শুরু হলে উত্তর গাজার ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এলোমেলো ঘুরে বেড়িয়ে হামলার শিকার হওয়ার চেয়ে একেবারে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে পারে।
ইসরায়েলের একের পর এক বিমান হামলার পরও হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছে এবং তাদের নিশ্চয় ইসারয়েলি সৈন্যদের জন্য পরিকল্পিত হামলার নকশা ও ফাঁদ পাতা থাকবে। যা মাটির নিচে টানেলে ইসরায়েলিদের জন্য আরও বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের লক্ষ্য হবে তাদের সেসব অবস্থান খুজে বের করে আইডিএফকে সতর্ক করে দেয়া।
খবর বিবিসি