শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নে সাংবাদিক সমাজের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য হিসেবে প্রথমবার বক্তব্য রাখছেন উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন ফ্যামিলি কার্ড ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।

সভাপতির বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আজ আমরা একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সমবেত হয়েছি। বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনের যে স্বপ্ন আমাদের সামনে রয়েছে, সাংবাদিক সমাজ সেই অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

প্রেস ক্লাবের জমি ও ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বর্তমান সরকারকে নতুন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘ইফতার মাহফিল ও দোয়া’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

ইফতার মাহফিলে আরো অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী), যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কবি আবদুল হাই শিকদার, জাহেদুল ইসলাম রনি, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু তাহের, এনটিভির পরিচালক নুরুদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিএনপি মিডিয়া সেলের শায়রুল কবির খানসহ দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

ইফতারের পূর্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পেশ ইমাম বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।

ঘাটতি সত্ত্বেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করছে সরকার : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ঘাটতি সত্ত্বেও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করছে সরকার।

আজ শুক্রবার বিকেলে যশোর সার্কিট হাউজে জেলার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

অমিত বলেন, ‘রোজার মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারি, সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। সুন্দর ব্যবস্থাপনার কীভাবে জনদুর্ভোগ কমানো যায়, সেটা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটু সময় দিতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগের নানা সংকট ও সমস্যার সমাধান আমরা করতে পারবো।

সামনের বোরো মৌসুমে রেশনিং করে হলেও চাষিদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রমজানের পরেই সেচের মৌসুম। চাষিদের বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছি। অন্য জায়গা থেকে রেশনিং করে হলেও সেচের মৌসুমে চাষিদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সামনের সেচ মৌসুমে চাষিদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি নিশ্চিত করাটাই আমাদের প্রধান কাজ’।

এর আগে বিকেলে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে যশোর জেলার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সভায় কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ বিভাগের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। এসব সংকটের সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। সভায় পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর বিভাগীয় ও জেলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় বিমানযোগে নিজ জেলা যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এসময় যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ জেলা বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পরে প্রতিমন্ত্রী যশোর সার্কিট হাউজে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে যশোর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ইচ্ছা সরকারের: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী

সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালুর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শুক্রবার বেলা তিনটায় লালমনিরহাটের গোকুণ্ডা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় চার দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে চাই। প্রকৃত হতদরিদ্রদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে’।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি উপজেলায় কার্যক্রমটি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছর ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইফতার ও সেহরিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রয়েছে। বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

মন্ত্রী জানান, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাট জেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন।

রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখার আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

আজ শুক্রবার রাজধানীর চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। সবাইকে এ ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজারে অভিযান চালাবে, তখন পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে সকল ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন ডিএমপি কমিশনার।

ব্রিফিংকালে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

১৮০ দিনের মধ্যে খাল খনন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম সরকার শুরু করবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, খাল খননের তারিখ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে কেবিনেট মিটিং করেছেন। সেখানে মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও রমজানে দ্রব্যমূল্যরে জিনিসপত্র নিয়ন্ত্রনে রাখার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে কাজ করতে হবে। সে অনুযায়ী কাজ করছি।

আজ শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যেসব স্থানে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে, সেসব স্থানে পর্যায়ক্রমে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করা হবে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের ভূলুয়া নদী ও রহমতখালী খাল খনন কার্যক্রম শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জনগণকে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান।

এর আগে সকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সার্কিট হাউজে পৌঁছলে জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার আবু তারেক মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ফুলের শুভোচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খিসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মেজবা উল আলম ভূইয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপী, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান ও জজকোর্টের পাবলিক প্রসিউকিউটর আহমদ ফেরদৌস মানিক।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে : পুলিশ কমিশনার

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। শহীদ মিনার ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন।

আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল লোকসমাগম হবে। সে কারণে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট, সিসিটিভি ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াডসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করবে পুলিশ।

তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন সড়কেও নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যার পর ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হবে। মোট সাতটি স্থানে ডাইভারশন থাকবে এবং সবাইকে তা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

আজ সকালে শহীদ মিনারের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার অনুরোধ করে বলেন, ‘শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং ও শহীদ মিনার রোড ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো সড়ক দিয়ে আসা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়েল চত্বর অথবা চানখাঁরপুল দিয়ে বের হতে হবে।’

শহীদ মিনার এলাকায় কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বহন না করারও অনুরোধ জানান শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সর্বস্তরের মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে : রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনু

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, আমি রাজশাহীর মাটির সন্তান। আমরা একে অপরের সহকর্মী, কেউ কারও বস নই। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান।

আজ শুক্রবার সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও সেবামুখী মনোভাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে।

রমজান মাসে জনদুর্ভোগ এড়াতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, বাজার পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবা খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে প্রতিদিন আঠারো ঘণ্টা কাজ করছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের প্রতিটি দফতর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভাটি প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোক

বাংলাদেশে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক খ্যাতিমান কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর তথ্যবিবরণীর।

মাইলাম গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মাইলামের গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছিল। ১৯৬২ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়া এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব ও সেবার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পর হাজারো মানুষের জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’ কার্যক্রমে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে কাজ চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চ মাসেও তিনি ঢাকা সফর করেছিলেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এক অভিজ্ঞ ও পরিচিত কূটনীতিকের জীবনাবসান হলো।

অবসরের পর উইলিয়াম বি মাইলাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মতামতধর্মী ত্রৈমাসিক সাময়িকী সাউথ এশিয়া পার্সপেকটিভস-এর সম্পাদক ছিলেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টার-এর সিনিয়র স্কলার ছিলেন তিনি।

হামলা চালালে মার্কিন ঘাঁটি হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হুমকির বাস্তবায়ন ঘটায় বা হামলা চালায়, তবে এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দেন। এএফপি চিঠির অনুলিপিটি দেখেছে।

ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে যে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না।

বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। সেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি করতে না চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে লেখেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করছে। এর পরিণাম পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ হবে এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাতে অবিলম্বে বলপ্রয়োগের এই বেআইনি হুমকি বন্ধ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদে ওয়াশিংটনের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয়, ইরান এখনও ‘কূটনৈতিক সমাধানে’ বিশ্বাসী এবং পারমাণবিক কর্মসূচির অস্পষ্টতা দূর করতে পারস্পরিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

তবে ইরাভানি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি কোনো সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে আত্মরক্ষামূলক জবাব দিতে এই অঞ্চলে শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো হবে বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং সম্প্রতি পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে আসছেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের হাতে বড়জোর ১৫ দিন সময় আছে। তিনি আবারও আভাস দেন যে, এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে।

এর আগে গত মঙ্গলবার জেনেভায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে ইরানি কূটনীতিকের সাথে পরোক্ষ বৈঠকে অগ্রগতির কথা জানা গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরাইল অতর্কিতভাবে ইরানে হামলা চালালে পূর্ববর্তী আলোচনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১২ দিনের সেই যুদ্ধে ওয়াশিংটনও স্বল্প সময়ের জন্য অংশ নিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল।

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত আছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।’

তিনি আজ শুক্রবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

সিলেট নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি দীর্ঘ নির্বাচনি প্রচারণা ও ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।

সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।

এসময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।