বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সঞ্জয় দত্ত-বাদশাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

অনলাইনে জুয়া প্রচারের অভিযোগে বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও র‌্যাপার বাদশাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভায়াকম১৮ নেটওয়ার্ক। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাদশাকে সমন জারি করার পর গতকাল সোমবার মহারাষ্ট্র পুলিশের সাইবার বিভাগে হাজিরা দেন বাদশা।
জানা গেছে, অবৈধভাবে বেটিং অ্যাপে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দেখার প্রচারের অভিযোগে মামলা করেছে ভায়াকম১৮। পাশাপাশি ডিজিটাল পাইরেসির অভিযোগও এনেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।
‘ভায়াকম১৮’ নেটওয়ার্কের দাবি, আইপিএলের ম্যাচগুলো স্ট্রিমিংয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক সত্ব (আইপিআর) তাদের। কিন্তু এই ম্যাচগুলো বেটিং অ্যাপে বেআইনিভাবে স্ট্রিমিং করা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে বাদশাকে। সোমবার (৩০ অক্টোবর) মহারাষ্ট্র সাইবার অফিসে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য দেন বাদশা। এ মামলায় আরও অভিনেতাদের তলব করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সংস্থার প্রচার দূত হিসাবে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে রণবীর কাপুর, হুমা কুরেশি, কপিল শর্মা, শ্রদ্ধা কাপুরের মতো বলিউডের জনপ্রিয় তারকাদেরও। তাই তদন্তের স্বার্থে আগেই তাদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে ইডি।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর মহাদেব অনলাইন বেটিং মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রণবীর কাপুরকে সমন পাঠিয়েছে ইডি। সেই সময় সাক্ষী হিসেবে রণবীর কাপুরের বয়ান রেকর্ড করা হয়। অভিনেতা ছাড়াও ইডির স্ক্যানারে ছিল ১৫-২০ জন তারকার নাম।

রাশিয়ার গ্যাস আমদানি দ্বিগুণ করেছে ইউরোপের দেশ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর নানা উত্তেজনার মধ্যে জার্মানি ও অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের বেশকিছু দেশে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল রাশিয়া। তবে ইদানিং রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বাড়িয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সম্প্রতি রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ গ্যাস আমদানি করেছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা আরটির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অস্ট্রিয়ান বহুজাতিক কোম্পানি ওএমভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানিকারক কোম্পানি গ্যাসপ্রোমের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তির আওতায় ওএমভি রাশিয়া থেকে গত তিন মাসে গড়ে ৫.৪ টেরাওয়াট ঘণ্টা বা ৫৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটারের বেশি মাসিক ভিত্তিতে রাশিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাস কিনেছে। গত এক বছরে ওএমভি অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে মোট যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করেছে, এই গ্যাসের পরিমাণ একই সময়ের মধ্যে গত বছরের আমদানির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে চুক্তি অনুযায়ী যে গ্যাস আসার কথা তা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটারও আশঙ্কা আছে এবং এমনটি হলে কোম্পানিকে উল্লেখ্যযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও জানায় ওএমভি।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২২ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ওএমভি মোট ২.৫ টেরাওয়াট ঘণ্টা গ্যাস আমদানি করেছে। পরের ত্রৈমাসিকে সরবরাহ সামান্য বৃদ্ধি পায়, এ সময় ২.৮ টেরাওয়াট ঘণ্টা বা ২৯ মিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আমদানি করা হয়।
সেখানে চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে অস্ট্রিয়ায় সরবরাহের জন্য ওএমভি গ্যাসপ্রোম থেকে ৪.৮ টেরাওয়াট ঘণ্টা বা ৪৯.৬ মিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস কিনেছে। পরে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এই আমাদির পরিমাণ ছিল ৪.৯ টেরাওয়াট ঘণ্টা।
অস্ট্রিয়ার গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে ওএমভি। গত বছর কোম্পানিটি প্রথম রাশিয়ান গ্যাসের জন্য রুবেলে অর্থ দিতে রাজি হয়েছিল। একটি নতুন বন্দোবস্ত ব্যবস্থার অধীনে এটা মস্কো চালু করেছিল এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দেশগুলোর জন্য এটা ছিল বাধ্যতামূলক।
তখন ওএমভি’র প্রধান নির্বাহী আলফ্রেড স্টার্ন বলেছিলেন, রাশিয়ান গ্যাস ত্যাগ করা অস্ট্রিয়ার পক্ষে অসম্ভব এবং এটা দেশটির অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করবে।
স্টার্ন সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ওএমভি ও গ্যামপ্রোম দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে এবং এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ২০১৮ সালে এ চুক্তি করা হয় এবং ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলবে। তিনি বলেন, যতদিন গ্যাসপ্রোম গ্যাস সরবরাহ করবে আমরা আমদানি অব্যাহত রাখবো।

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বলিভিয়া

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলিভিয়া। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেশটি জানায়, গাজা উপত্যকায় হামলার কারণে তারা এই সিন্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে বলিভিয়ার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া এবং চিলি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি দেশ গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মৃত্যুর নিন্দা জানিয়েছে।
বলিভিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রেডি মামানি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বলিভিয়া গাজা উপত্যকায় সংঘটিত আগ্রাসী এবং অসমতাপূর্ণ ইসরায়েলি সামরিক হামলার কারণে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে দেশ তিনটি গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল। বলিভিয়া এবং চিলি মানবিক সহায়তার জন্য চাপ দিয়েছিল।
এছাড়া ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্তও করেছিল। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স(সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনে যা করছে তা গণহত্যা। মেক্সিকো এবং ব্রাজিলের মতো ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, “আমাদের কাছে এখন যা আছে তা হল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পাগলামি।
যিনি গাজা উপত্যকাকে নিশ্চিহ্ন করতে চান।” বলিভিয়া হলো প্রথম দেশ যারা সক্রিয়ভাবে গাজা যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এর আগেও বলিভিয়া ২০০৯ সালে বামপন্থী রাষ্ট্রপতি ইভো মোরালেসের সরকারের অধীনে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। সেটাও গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের প্রতিবাদ হিসেবে।
এরপর ২০২০ সালে দক্ষিণপন্থী অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি জিনাইন আনেজের সরকার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট আর্স স্থানীয় সময় গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ‘আমরা গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানাই। আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে মানবিক সহায়তার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করি।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ বছরের জয়খরা ঘোচাতে চায় প্রোটিয়ারা

সেমিফাইনালের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে এবার মুখোমুখি শক্তিশালী দুই দল নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট পাওয়া নিউজিল্যান্ড। বুধবার (১ নভেম্বর) পুনেতে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছিল নিউজিল্যান্ড। হ্যান্সি ক্রোনিয়ের অধীনে খেলা সেই দল স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নিউজিল্যান্ডকে ৭৪ রানে হারিয়েছিল। এরপর থেকেই ২০ বছর ধরে যেন খেই হারিয়ে ফেলে প্রোটিয়ারা। এরপর ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে একটানা জয় নিউজিল্যান্ডের।
বিশ্বকাপে আগের আটবারের লড়াইয়ে ছয়বার জিতেছে কিউইরা। দু’বার জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৭১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের জয় ২৫টিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ৪১টিতে এবং পাঁচটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আজ নিজেদের সপ্তম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দল দু’টি।
শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩৮ রানে হারের লজ্জা পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর টানা তিন ম্যাচ জিতে নেয় বাভুমা-মার্করামরা। ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার পথে ভালোভাবেই টিকে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সর্বশেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১ উইকেটে জিততে ঘাম ঝরালেও, এবারের আসরে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। ছয় ম্যাচে চারবার তিন শতাধিক রান করে। এর মধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৪২৮ রান করেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১ রানের জন্য দ্বিতীয়বার ৪০০ স্পর্শ করতে পারেনি।
বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ছয় ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরিতে ৪৩১ রান করে সর্বোচ্চ রানের মালিক দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। এ ছাড়া আইডেন মার্করাম ছয় ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৫৬ রান নিয়ে পঞ্চম স্থানে। বোলিংয়ে দুই পেসার জানসেন ১৩টি ও কোয়েৎজি ১২ উইকেট শিকার করেছেন। রাবাদার ঝুলিতে আছে ১০ উইকেট।
মিডল অর্ডার ব্যাটার মার্করাম বলেন, আমাদের লক্ষ্য জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা। টানা চতুর্থ জয় তুলে নিতে চাই আমরা। সেমির দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচেও জিততে হবে আমাদের। নিউজিল্যান্ড ভালো ক্রিকেট খেলছে। নিজেদের পরিকল্পনাগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে, জয় অসম্ভব নয়।
দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রথম চার ম্যাচেই জয় পেয়েছিল তারা। পঞ্চম ম্যাচে ভারতের কাছে ও ষষ্ঠ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয় পথ হারায় নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ রানের মালিক রবীন্দ্র দুইটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে ৪০৬ নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে তিনি। বোলিংয়ে স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ১৪ উইকেট শিকার করেছেন। ১১ উইকেট আছে পেসার ম্যাট হেনরির। স্যান্টনার বলেন, ‘টানা চার ম্যাচ জয়ের পর দু’টি হার আমাদের চাপে ফেলেছে। প্রোটিয়াতের হারাতে সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে বাইডেন-ট্রাম্প সংলাপ প্রসঙ্গ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সেটাই চাই যা বাংলাদেশিরা চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া ওয়াশিংটনের এই ব্রিফিংয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সংলাপের প্রসঙ্গও উঠেছে।
একইসঙ্গে বাংলাদেশে সহিংসতার ঘটনাকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ম্যাথিউ মিলারের কাছে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয়রা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেছে এবং বর্তমান শাসক হাসিনা শেখ ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন। আমেরিকা কি জানে, ভারতীয় প্রভাবের কারণে আওয়ামী লীগ ও হাসিনার প্রতি ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে? এমন অবস্থায় বাংলাদেশি জনগণের ভোটাধিকার থাকা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়া পুরোপুরি অসম্ভব।
আর আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, হাসিনা শেখ গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু উত্তেজক এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার পরও তিনি একই কাজ করেছিলেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বসে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেন—
জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমার মনে হয়, আমি আপনার প্রশ্নটা বুঝতে পেরেছি। আমি শুধু বলে রাখি যে, আমরা স্পষ্ট করেই বলেছি, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রত্যাশা করি, তারা কূটনীতিকদের যথাযথ নিরাপত্তার জন্য ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এমনটি আমরা সকল দেশের সরকারের কাছেই আশা করি।
তিনি আরও বলেন, আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবে বলতে চাই- যেমনটি আমি আগেই বলেছি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সকলের। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দল, ভোটার, সরকার, সুশীল সমাজ এবং মিডিয়ার দায়িত্ব রয়েছে। আর আমরা বাংলাদেশে সেটিই চাই, যা বাংলাদেশের জনগণ চায়। বাংলাদেশে যেন শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।
পরে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধীদের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তার এই আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যদি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপ করেন তবে তিনি বিরোধী দলের সাথে সংলাপ করবেন। মূলত শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনও সংলাপ করতে অস্বীকার করেছেন। তার প্রশাসন বিরোধীদের ওপর খুব আক্রমণ করছে। আজ পুলিশের হাতে বিরোধীদলীয় দুই নেতা নিহত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে ঢাকায় বিরোধী দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিদিনই তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, তাহলে আপনি কীভাবে বিশ্বাস করবেন যে, বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (অংশগ্রহণমূলক) হবে?
জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই মুখপাত্র বলেন, আপনার প্রশ্নের প্রথম অংশের (বাইডেন-ট্রাম্প সংলাপ) উত্তরে আমি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আগে যা বলেছি সেটি ছাড়া অন্য কোনও মন্তব্য করব না। আমরা বিশ্বাস করি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আমরা সহিংসতার ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। আমরা সরকারের সাথে, বিরোধীদের সাথে, সুশীল সমাজের সাথে এবং অন্যান্য অংশীদারদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বাংলাদেশের জনগণের সুবিধার জন্য, শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাতে যুক্ত আছি এবং আমরা আমাদের এই কাজ চালিয়ে যাব।
পরে আরেক সাংবাদিক বলেন, আমার দুটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আছে – বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিরোধী দল বিএনপি সারাদেশে সড়ক, রেলপথ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, এতে আরও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএনপি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের জন্য সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বলে দেশবাসী মনে করে। পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাংচুর করা হয়েছে। এমন অবস্থায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আপনারা ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেবেন?
জবাবে মিলার বলেন, আমি আগেও বলেছি, ভিসা বা অন্য কোনও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার আগে আমরা সেটি উল্লেখ করি না বা মন্তব্য করি না। তবে আমরা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনকে সমর্থন করে যাচ্ছি এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা উচিত।

ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকতো না : প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকতো না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবন থেকে টাকা-পে’ কার্ড চালুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আজ ‘টাকা পে’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্ডের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ে নিজস্ব কার্ড যুগে প্রবেশ করল বালাদেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
‘টাকা পে’ কার্ড এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম লেনদেন করবে রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাশলেস সোসাইটি করার পথে টাকা পে আরেকটি মাইলফলক। টাকা পের মাধ্যমে বিদেশি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। ক্যাশলেস সোসাইটি হলে দুর্নীতি কমবে আর রাজস্ব বাড়বে।
বাংলাদেশ কারও কাছে করুণা ভিক্ষা করে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিজস্ব অর্থে লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা যেন সচল থাকে সে কারণে আজকের এই ব্যবস্থাপনা (ন্যাশনাল স্কিম টাকা-পে)। শুধু বাংলাদেশ নয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও লেনদেন যাতে নিজস্ব অর্থে করতে পারি, সেই পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আলোচনা চলছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। এখন আমাদের টার্গেট হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আজ আমরা যে কাজটি করতে যাচ্ছি সেটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও স্বাধীন সার্বভৌম ব্যবস্থায় গড়ে তুলতে পারছি। আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে। কারণ, আমরা এখন যেসব কার্ড ব্যবহার করি সেগুলো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাও পে করতে হয়। এখন আর সেটা করা লাগবে না। আমাদের বিদেশি নির্ভরতাও হ্রাস পাবে। নিজস্ব নেটওয়ার্ক আমরা ব্যবহার করব, যাতে তথ্য কেউ না নিতে পারে। প্রতিটি মানুষের তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ক্যাশলেস সোসাইটি করতে চাই। আজ যে ন্যাশনাল স্কিম টাকা পে অর্থাৎ ক্যাশলেস সোসাইটি করার যে পদক্ষেপ, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত, ‘টাকা-পে’ কার্ডের মতো ভারতের রয়েছে ‘রুপি কার্ড’। একইভাবে শ্রীলঙ্কার ‘লঙ্কা-পে’, পাকিস্তানের ‘পাক-পে’, এবং মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের ‘মাদা-কার্ড’ নামে নিজস্ব কার্ড রয়েছে। এবার ‘টাকা-পে’ চালুর মধ্য দিয়ে সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশও। টাকা-পে কার্ড হল এক ধরনের ডেবিট কার্ড। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যাংক ইস্যু করতে পারবে। নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। এই কার্ডের মাধ্যম প্রচলিত কার্ডের (ভিসা, মাস্টার) মতো লেনদেন করতে পারবেন গ্রাহকরা। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ করছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। আগামী ডিসেম্বরে ডুয়েল কারেন্সি বা দ্বৈত মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত হলে ‘টাকা-পে’ কার্ডের মাধ্যমে ভারতীয় মুদ্রা রুপিও ব্যবহার করতে পারবেন বাংলাদেশিরা। দ্বিপক্ষীয় লেনদেন চালু করতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক ইন্ডিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে টাকা ও রুপি বিনিময় করতে ‘টাকা পে’ কার্ড ‘ডুয়েল কারেন্সি কার্ড’-এ পরিণত হবে।

সারাদেশে ৬৬ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

সারাদেশের সড়ক ও রেল পথে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে সব মিলিয়ে ৬৬ হাজার ৮১৭ জন আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট তিন দিনের জন্য রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্তপূর্ণ স্থাপনা এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা মোতায়েন থাকবে।
সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সাথে টহলের জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দু’হাজার ২৮০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন আছে। তারা মোট ২৫০টি দলে বিভক্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে দায়িত্ব পালন করবে।
সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা রেল স্টেশন, বাস স্টান্ড ও লঞ্চঘাটসহ সড়ক ও রেল পথে চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে দায়িত্ব পালন করে। সারাদেশে এক হাজার ৪৭৬টি পয়েন্টে মোট ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ৫ হাজার ২৯৬টি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৫৪ হাজার ৫৩৭ জন অঙ্গীভূত আনসারদের ছিল বিশেষ তৎপরতা। তারা নিজেদের দায়িত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও আশেপাশের এলাকায় ছিল সতর্ক অবস্থানে। ফলে সব মিলিয়ে ৬৬ হাজার ৮১৭ জন আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

কিং কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদোর আল-নাসর

সৌদি আরবের ঘরোয়া ফুটবল কিং কাপ চ্যাম্পিয়নসের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল-নাসর। সাদিও মানের একমাত্র গোলে আল-ইত্তিফাককে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করল তারা।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) আল-আওয়াল পার্কে ইত্তিফাক-আল-নাসরের ম্যাচ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল পায়নি, গোল পায়নি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও। যে কারণে শেষ ষোলোর মীমাংসা হয়েছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে।
ম্যাচের ১২ মিনিটেই হলুদ কার্ড পান রোনালদো। প্রথমার্ধের শেষভাগে গিয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খায় তার দল। এ সময় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তালিস্কা। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা।
লাল কার্ড দেখে ইত্তিফাকের এক খেলোয়াড়ও। তবে তখন ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের বাকি আর এক মিনিট। গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও কেউ গোলের দেখা পাচ্ছিল না।
অবশেষে সেই ডেডলক ভাঙে আল-নাসর। বদলি খেলোয়াড় আয়মান ইয়াহার অ্যাসিস্টে এ সময় গোলটি করেন সাদিও মানে। শেষ পর্যন্ত সেটিই থাকে ম্যাচের স্কোর লাইন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে আল-নাসর।

২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি

পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ‘তালা’ খুলে ফুটবলে বিনিয়োগ করে চলেছে সৌদি আরব। উদ্দেশ্য ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া। প্রথমে ২০৩০ বিশ্বকাপের বিড ধরবে সৌদি, এমন শোনা গেলেও তারা ২০৩৪ পুরুষ আসরের বিশ্বকাপের জন্য বিড ধরে।
ওই বিডে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ত্ব পেতে যাচ্ছে সৌদি আরব।
সংবাদ মাধ্যম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে বিড ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু মঙ্গলবার ফুটবল অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা বিড থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
ফুটবল অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ‘২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ পাওয়ার জন্য আমরা বিডে অংশ নিচ্ছি না। এই বিষয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছি। ’ তারা বিড থেকে সরে আসায় সৌদিই এখন পেতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ হয়েছে কাতারে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। এরপর ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ত্ব পেয়েছে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। ওই হিসেবে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশে হবে বলে জানিয়েছিল ফিফা।
ওই আসর পাওয়ার জন্য সৌদি আরব বিড ধরে। তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া বিডে অংশ নেবে এমন ধারণাই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর যৌথভাবে নারীদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করা তাসমান পাড়ের দেশটি বিডে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিডে সৌদির অংশ নেওয়ার বিষয়ে এশিয়ান ফুটবল এসোসিয়েশনের একনিষ্ঠ সমর্থন ছিল। তারপরও মানবাধিকার ইস্যুতে সৌদির বিশ্বকাপ আয়োজনের বিড ধরাকে অনেকে বিতর্কিত বলে আসছিল। ফুটবলে তাদের অঢেল অর্থ বিনিয়োগকে ‘স্পোর্টসওয়াশ’ বলা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে সৌদির ক্রাউন প্রিন্ট মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘স্পোর্টসওয়াশ করে যদি আমাদের জিডিপি ১% বৃদ্ধি পায়, তাহলে আমরা স্পোর্টসওয়াশ চালিয়ে যাবো। ’

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৭ জনের

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৩৪৮ জন মারা গেলেন। এই সময়ে ১ হাজার ৭৮৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ১৭৫ জন।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৬ হাজার ৫২৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি পরিসংখ্যান গত ২৪ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন মারা গেছেন, যা একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। এর আগেও গত ২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।