বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিতে হবে : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষার প্রসারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তারই শিক্ষা দর্শন অনুসরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার উন্নয়নে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এ উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আবারও সবাইকে নৌকায় ভোট দিতে হবে।
আজ শনিবার (৪ নভেম্বর) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বারহার ফাজিল মাদরাসায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন ও ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদরাসার সীমানা প্রাচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে যাওয়ার মত সকল শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে শিক্ষাদান ও পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান, দরিদ্র এলাকায় স্কুল ফিডিং চালু এবং পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে লেখাপড়াকে আনন্দদায়ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে সাক্ষরতার হার ২০০৭ সালের ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা সরকারের সাড়ে ১৪ বছরে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার চাহিদা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য এসেছে।
পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বারহাল ফাজিল মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম করিম শামীমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক, ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ শাহেদ আহমদ, আলীরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউসুফ আলী, প্রধান শিক্ষক সিতাংশু মোহন দে, আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল আহমদ, বারহাল ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও গোয়াইনঘাট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ, ডা. ইদ্রিস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হাসনাত, কোওরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুশতাক আহমদ, আলীরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ফতেহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬ পরিপূর্ণতা পেলো। এখন আধা ঘণ্টায় উত্তরা থেকে মতিঝিল আসা সম্ভব হবে। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রথম ধাপের উদ্বোধন করেন তিনি।
আজ শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওতে এই অংশের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে মেট্রোরেলে চড়ে প্রধানমন্ত্রী মতিঝিল আসবেন। সেখানে মতিঝিলের আরামবাগে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
আপাতত আগারগাঁও-মতিঝিল অংশে তিনটি স্টেশনে মেট্রোরেল থামবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল সেকশনের দৈর্ঘ্য ৮.৭২ কিলোমিটার। ফার্মগেট-সচিবালয়-মতিঝিল স্টেশনে মেট্রোরেল থামবে। উত্তরা-মতিঝিল রুটে ৫ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মেট্রো চলাচল করবে।
বেলা সাড়ে ১১টার পর মতিঝিল-আগারগাঁও রুটে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে এবং উত্তরা-আগারগাঁও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।
জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কিলোমিটার পথ বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্ধিত অংশ ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে। প্রতিটি ট্রেন ২,৩০০ যাত্রী নিয়ে ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। তবে বাঁকযুক্ত এলাকায় গতি কমে যাবে।
আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়। যানজট নিরসনে রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্পের বিবরণে জানা গেছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী এবং প্রতিদিন ৫ লাখ যাত্রী বহন করতে সক্ষম হবে এবং প্রতি চার মিনিটে প্রতিটি স্টেশনে একটি ট্রেন আসবে।

বিএনপি-জামায়াতের হাতে দেশের জনগণ নিরাপদ নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেনে, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী দল। তাদের হাতে দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণ নিরাপদ নয়।
শুক্রবার রাতে সিলেট মহানগররর আখালিয়ায় কালীবাড়ীতে সরকারের দেশব্যাপী উন্নয়ন-কর্মযজ্ঞ প্রচার ও আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আয়োজিত উঠান বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা বিরোধী দলকে সম্মান করি। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে তবে রাষ্ট্র ক্ষমতার লোভে দেশের শান্তি, সম্পদ নষ্ট করে, সাংবাদিক-পুলিশ পিটিয়ে, বিচারপতির বাসভবন, হাসপাতালে হামলা অগ্নি-সন্ত্রাস,জ্বালাও-পোড়াও করে সরকার বদলানো যাবে না। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার বদল হবে।
আওয়ামী লীগ সরকার জনবান্ধব সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারও ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে, কারণ দেশ ও জনগণের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।
কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি যিশুপদ পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সিসিক কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াস,আওয়ামী লীগ নেতা সুদীপ দেব, সাব্বির খান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন খান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ড. মিছবাউর রহমান, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কিশোয়ার জাহান সৌরভ, সিসিকের কাউন্সিলর রেবেকা বেগম ও জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এজাজুল হক চৌধুরী এজাজ প্রমুখ।

বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

বিএনপি আবারও ২০১৪ সালের মতো জ্বালাও পোড়াও ও মানুষ হত্যায় জড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, এ দেশের শান্তি প্রিয় মানুষ বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কখনো মেনে নেয়নি, নেবেও না। তাই বিএনপি যেখানেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে সেখানেই তাদের প্রতিহত করতে হবে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের দানিপুকুর হাইস্কুল মাঠে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে বদলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ সরকারের নানা সামাজিক কর্মসূচির উপকারভোগী। কে কোন দল করেন সেটি দেখা হয়নি। গ্রামের প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শুধু মূল সড়ক নয় এখন মানুষের ঘরে প্রবেশের রাস্তাও পাকা হচ্ছে। ফলে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হয়েছে।

ছাওড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রনজিত সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি শাহ মঞ্জুর মোরশেদ, ছাওড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ প্রামানিক।

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১২৮

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে জাজারকট এলাকায় ৬ দশমিক ৪ মাত্রায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ভূমিকম্পে নেপালের বহু ঘরবাড়ি ও ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। বহু অঞ্চল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভূমিকম্পে দেশটির জাজারকোট ও পশ্চিম রুকুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাজারকোটে একজন মেয়রসহ ৪৪ জন এবং পশ্চিম রুকুমে ৩৬ জন মারা গেছেন।

এদিকে, ভূমিকম্পটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে। তবে, এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত ২২ অক্টোবর ৬ দশমিক ১ মাত্রায় ভূমিকম্পে দেশটির কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো কেঁপে ওঠে। তবে, ক্ষয়ক্ষতি বা কোনো হতাহত হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রায় ভূমিকম্পে প্রায় নয় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল অক্সিজেনবাহী ট্যাংকার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফাজিলপুরে একটি অক্সিজেনবাহী ট্যাংকার উল্টে যাওয়ার ঘটনায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ট্যাংকার অপসারণের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী অক্সিজেনবাহী একটি ট্যাংকার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। আশপাশে গাড়ি না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ট্যাংকারে থাকা অক্সিজেন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় সড়কে কিছু সময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী বলেন, সড়কে অন্য গাড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অক্সিজেনবাহী ট্যাংকারটি উল্টে যায়। এতে মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি নামে। পরে ট্যাংকার অপসারণের কাজ শুরু করা হয়।

যুদ্ধের শেষ হবে গাজার বিজয়ে : হিজবুল্লাহ প্রধান

ইরানপন্থি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহ বলেছেন, হামাসকে ধ্বংস করার যে লক্ষ্য ইসরায়েলের, সেটি বাস্তবায়ন অসম্ভব।৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ছিল ইসরায়েলে একটি ভূমিকম্প। এই যুদ্ধের শেষ হবে গাজার বিজয়ে, শত্রুর পরাজয়ে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমবার দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেছেন। খবর আল জাজিরার।
এসময় নাসরাল্লাহ দাবি করেন ইসরায়েলে হামাসের হামলায় হিজবুল্লাহর জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, এই অভিযান ছিল শতভাগ ফিলিস্তিনি। শুধু ফিলিস্তিনিদের দ্বারা পরিচালিত অভিযান ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয়। এমনকি ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছেও তা প্রকাশ করা হয়নি।এই সংঘাত শুধু ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত, কোনও আঞ্চলিক ইস্যুর সঙ্গে নয়।

ইসরায়েল ‘মাকড়সার জালের চেয়েও ভঙ্গুর’ মন্তব্য করে নাসরাল্লাহ বলেন, হামাসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার ইসরায়েলি উদ্দেশ্য অসম্ভব। এই যুদ্ধের শেষ হবে গাজার বিজয়ে এবং শত্রুর পরাজয়ে।

তিনি বলেন, এই ধরনের বিজয় হবে মিসর, জর্ডান, সিরিয়ার জনগণসহ সব মানুষের জন্য। সবার ঊর্ধ্বে হলো এটি লেবাননের জন্য একটি জাতীয় দেশাত্মবোধের স্বার্থ।

নাসরাল্লাহ আরও বলেন, আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর যুদ্ধ অবসানের উদ্যোগ নিতে কোনও ছাড় দেওয়া উচিত হবে না। তাদের উচিত ইসরায়েলে তেল ও খাদ্য রফতানি বন্ধ করা।

এখন পর্যন্ত ৫৭ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, আমি ইসরায়েলিদের বলছি, আপনারা যদি লেবাননের বিরুদ্ধে একটি আগাম আক্রমণ করার কথা ভেবে থাকেন, তবে তা হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় বোকামিপূর্ণ ভুল।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান; শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের সহায়তাপুষ্ট তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প উপ-অঞ্চলের জনগণের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

যৌথভাবে উদ্বোধন করা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমি গত ১ নভেম্বর যৌথভাবে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেছি। আমি আশা করি, এই প্রকল্পগুলো উভয় দেশ এবং উপ-অঞ্চলের জনগণের উপকার করবে।

এ সময় শেখ হাসিনা ২০২৪ থেকে পাঁচ বছরের মেয়াদে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন আঞ্চলিক পরিচালক হিসাবে সায়মা ওয়াজেদের প্রার্থিতাকে সমর্থন করার জন্যও ভারত সরকার এবং নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশেই সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। উভয় দেশেরই একে অপরের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অবস্থা নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংবিধানের বিধানাবলি সঠিকভাবে অনুসরণ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের সদস্যদের তাদের দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধানাবলি সঠিকভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি জাতীয় সংবিধান দিবস পালনের মাধ্যমে এ দেশের জনগণ সংবিধানে বিধৃত তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হবে এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধানাবলি সঠিকভাবে অনুসরণ করবে।’

রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আগামীকাল ৪ নভেম্বর, জাতীয় সংবিধান দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন। জাতীয় সংবিধান দিবসে তিনি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত জনতার মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তারই নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। তার নেতৃত্বে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ১০ এপ্রিল গণপরিষদের ১ম অধিবেশনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন’ করা হয়।

১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘খসড়া সংবিধান’ বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বিলের ওপর আলোচনা শেষে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদের সদস্যরা হাতে লিখিত সংবিধানের মূল কপিতে স্বাক্ষর করেন এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু দেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান উপহার দেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সংবিধানে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা এবং সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার করা হয়। সংবিধান একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের কার্যপরিধিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ামক দলিল।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে। জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর সুলিখিত সংবিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান আমাদের সবার পবিত্র কর্তব্য। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাই।’

রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংবিধান দিবসের কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

বাংলাদেশের সংবিধান বাঙালি জাতির অধিকারের দলিল : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা লাভের মাত্র ১১ মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু উপহার দিয়েছিলেন বাঙালি জাতির অধিকারের দলিল, বহুল আকাঙ্ক্ষিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

আগামীকাল (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ তেইশ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র এগারো মাসের মধ্যে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত হয়েছিল বাঙালি জাতির অধিকারের দলিল, বহুল আকাঙিক্ষত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩ আসনের পূর্ব-পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ৩১০ আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীগণকে নির্বাচিত করে। কিন্তু তদানীন্তন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা আওয়ামী লীগের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ কালরাতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরু করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এ ঘোষণা টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টার ও তৎকালীন ইপিআর- এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এ ঘোষণা প্রচারিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রোকলামেশন অব ইনডিপেনডেন্ট, ১৯৭১ ঘোষণা করা হয়; যা অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সংবিধান হিসেবে বিবেচিত। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রী করে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। শুরু হয় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন এবং ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে প্রোভিশনাল কন্সটিটিউশন অব বাংলাদেশ অর্ডার, ১৯৭২ জারি করেন; যা দ্বিতীয় সংবিধান নামে খ্যাত।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ, ১৯৭২ জারি করা হয়। ওই আদেশের অধীন ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের সদস্য ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়। গণপরিষদকে সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয় ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল। ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে গণপরিষদে উত্থাপন করা হয়। ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়।

গণপরিষদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান যেদিন গৃহীত হয়, ওই দিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণপরিষদে সংবিধানের ওপর বক্তব্য প্রদানকালে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘জনাব স্পিকার সাহেব, আজই প্রথম সাড়ে সাত কোটি বাঙালি তাদের শাসনতন্ত্র পেতে যাচ্ছে। বাংলার ইতিহাসে বোধ হয় এই প্রথম, বাঙালিরা তাদের নিজেদের শাসনতন্ত্র দিচ্ছে। বোধ হয় না, সত্যিই এটা প্রথম যে, বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিরা জনগণের ভোটের মারফতে এসে তাদের দেশের জন্য শাসনতন্ত্র দিচ্ছেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘এই শাসনতন্ত্রের জন্য কত সংগ্রাম হয়েছে এই দেশে। আজকে, আমার দল যে ওয়াদা করেছিল, তার এক অংশ পালিত হলো। এটা জনতার শাসনতন্ত্র। যে কোনো ভালো জিনিস না দেখলে, না গ্রহণ করলে, না ব্যবহার করলে হয় না, তার ফল বোঝা যায় না। ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়বাদ এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে আমার জীবন সার্থক হবে, শহীদের রক্তদান সার্থক হবে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল একটি সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার; যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে। বঙ্গবন্ধুর এই লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের জন্যই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ঘোষণা করা হয় যে, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন একটি শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।

জাতির পিতা মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শূন্য হাতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা নিয়ে ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করেন, অবকাঠামো পুনস্থাপন ও উন্নয়ন করেন এবং উৎপাদন খাত ও অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। বঙ্গবন্ধুর আমলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধীরা ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। শুরু হয় হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি; থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আমরা দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের জীবনমান পরিবর্তনের মিশনে নেমে পড়ি। দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করি। আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তুহারা মানুষের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করি। মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করি। ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষর করি। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকাল ছিল সব পশ্চাৎপদতা, অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে অন্ধকার থেকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে অভিযাত্রা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবক’টি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যেই আমরা ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছি। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেছি। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে এসেছি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটিয়েছি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মতো মেগা প্রজেক্ট ইতোমধ্যে আমরা উদ্বোধন করেছি। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। আমরা ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা অর্থাৎ ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়ন করছি। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন করছি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দর্শনে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতিতে আমরা আশু, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সুদূরপ্রসারী এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অতি অল্প সময়ে সংবিধান প্রণয়ন বাঙালির জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের চেতনা ধারণের জন্য জাতীয় সংবিধান দিবস পালন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে- এ আমার প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় সংবিধান দিবস-২০২৩’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।