বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ইসরায়েলের ২৪টি ট্যাংক ধ্বংসের দাবি হামাসের

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের শক্তি পরীক্ষা নিচ্ছে হামাস যোদ্ধারা। গত ৪৮ ঘণ্টায় পাল্টা প্রতিরোধে ইসরায়েলের ২৪টি ট্যাংক ধ্বংসের দাবি করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি। সুড়ঙ্গের মাধ্যমে গেরিলা কৌশলে চালানো হামলায় ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে তারা। হামাসের এই সুপরিকল্পিত হামলা অব্যাহত থাকলে শিগগিরি গাজায় ইসরায়েলের স্থল অভিযান মুখ থুবড়ে পরবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
ফিলিস্তিনের গাজায় ৩ সপ্তাহ বিরামহীন বিমান হামলা চালানোর পর গত ২৮ অক্টোবর অঞ্চলটিতে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এতে কয়েকশ ট্যাংক-সাঁজোয়াযানসহ বিশাল ইসরায়েলি সেনাবহর অংশ নেয়।
তবে হামাসও ব্যাপক প্রস্তুতি ও দক্ষতার সাথে ইসরায়েলি বাহিনীর এসব হামলা মোকাবিলা করছে। হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ২ দিনে ২৪টি ইসরায়েলি ট্যাংক ধ্বংস করেছে যোদ্ধারা।
এ ছাড়া গাজায় স্থল হামলায় অংশ নেওয়ার পর হামাসের হামলায় ৩২ সেনা নিহতের কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এ নিয়ে যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনা নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪৬ জনে পৌঁছেছে। তবে হামাস বলছে, স্থল অভিযানে ইসরায়েলি সেনা নিহতের সংখ্যা আর বেশি। এ ছাড়া হামাসের সাথে লড়াইয়ে কমপক্ষে ৫৮ জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর কথা জানায় তেল আবিব।
বিস্তৃত সুড়ঙ্গকের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালাতে পাড়ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র। এসব হামলার জন্য অনেক আগে থেকেই হামাস প্রস্ততি নিয়ে রেখেছিল বলে দাবি বিশ্লেষকদের।
এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে গড়ে ১২টি করে রকেট ছুঁড়েছে হামাস। টানা এক মাস ধরে চালানো ব্যাপক হামলাতেও হামাসের রকেট নিক্ষেপ অবকাঠামোর তেমন ক্ষতি করতে ব্যর্থ ইসরায়েল।

অবরোধ : ৩০ ঘণ্টায় ১৮ গাড়িতে আগুন

বিএনপি-জামায়াতের দ্বিতীয় দফায় ডাকা ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের ৩০ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশে ১৮টি যানবাহনে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
রোববার (৫ নভেম্বর) ভোর ৪টা থেকে সোমবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ১৮টি আগুনের ঘটনার মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১০টি, ঢাকা বিভাগে (গাজীপুর, কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জ) ৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে (খাগড়াছড়ি, আনোয়ারা, পটিয়া) ৪টি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ১৩টি বাস, ২টি ট্রাক, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি সিএনজি, ১টি লেগুনা পুড়ে যায়।
এই ১৮টি অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ৩৬টি ইউনিট ও ২১৬ জন জনবল কাজ করে।

মক্কায় ওমরাহ পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন।
সোমবার ভোরে পবিত্র মক্কায় তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে কাবাঘর তাওয়াফ করেন প্রধানমন্ত্রী।
পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ ও ওমরার অন্যান্য কর্মসূচি সম্পাদনের পর মসজিদ-আল হারামে নামাজ আদায় করেন তিনি।
এসময় বাংলাদেশ ও দেশের জনগণ এবং মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওমরাহ পালন করেন তার সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ.কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা।
পরে প্রধানমন্ত্রী মসজিদুল হারামে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেন।
এর আগে মদিনা মোনাওয়ারায় হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত এবং মসজিদ-ই নববিতে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে বিমানে জেদ্দায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সড়কপথে জেদ্দা থেকে পবিত্র মক্কায় এসে পৌঁছেন।

রাতভর গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ২৭

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডজুড়ে রাতভর বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল। এতে আরও অন্তত ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কারণ বোমা হামলার শিকার গাজার অনেক এলাকায় ভূখণ্ডটির কর্তৃপক্ষ বা জরুরি পরিষেবা এখনও পৌঁছাতে পারেনি। ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে সোমবার (৬ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সোমবার ভোরে গাজাজুড়ে ধারাবাহিক একের পর এক হামলায় কমপক্ষে ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বার্তাসংস্থা ওয়াফা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের তাল আল-সুলতান এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় গাজা উপত্যকার আল-জাওয়াইদায় আরও অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন আরও দুজন।
আল জাজিরা বলছে, সোমবার ভোরে ও ভোরের আগে রাতের আঁধারে ভারী বোমাবর্ষণের কারণে গাজার কিছু এলাকায় সেখানকার কর্তৃপক্ষ বা জরুরি পরিষেবার দলগুলো এখনও পৌঁছাতে পারেনি এবং এই কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৩১ দিনে গাজা উপত্যকায় মোট ১৭৫ জন চিকিৎসা কর্মী এবং ৩৪ জন বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী নিহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একই সময়ে ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে বা জ্বালানি ও ওষুধের সংকটে ভূখণ্ডটির ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ১৬টি এবং ৭২টি ক্লিনিকের মধ্যে ৫১টি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে, গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই পতনকে ‘বিপর্যয়’ হিসাবে অভিহিত করেছিলেন ফিলিস্তিনের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।
এদিকে গাজায় চলমান সংঘাতে জাতিসংঘের ৮৮ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। একক কোনও সংঘাতে এটিই সংস্থাটির কর্মীদের সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।

ঢাকাসহ সারাদেশে ২২৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২২৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (৬ নভেম্বর) সকালে এই তথ্য জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।
শরীফুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারাদেশ ২২৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সকাল ৬টা থেকে বিএনপি ও জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় এ কর্মসূচি শেষ হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা সরকারবিরোধী দলগুলো। ওই দিন দুপুরে বিএনপির মহাসমাবেশে আসা লোকজনের সঙ্গে কাকরাইল মোড়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশগামী লোকজনের সংঘর্ষ হয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরে সেটি ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা হয় এবং বেশকিছু গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও উপুর্যুপরি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে বিএনপির সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেয়। এতে সংঘর্ষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়া পুলিশ হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটে।
২৯ অক্টোবর মহাসমাবেশে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করে বিএনপি। একই দিন গ্রেফতার করা হয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরকে। এছাড়া পুলিশি অভিযান চালানো হয় দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বাসা-বাড়িতে। পরদিন মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
এক দিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা ৩ দিনের অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়। এরপর দুই দিনের বিরতি দিয়ে আবারও ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। রোববার (৫ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফার প্রথম দিনের অবরোধ কর্মসূচি শুরুর আগেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৯টি গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

অগ্নিসংযোগ করলে পি‌টি‌য়ে ঠাণ্ডা ক‌রে দেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবরোধের নামে বাস-ট্রাকে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে গজা‌রি লা‌ঠি দিয়ে পি‌টি‌য়ে ঠান্ডা ক‌রে দেন।
রোববার (৫ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে আয়োজিত ‘সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার বাসায় কেউ চু‌রি কর‌তে গে‌লে আপনারা জোর ক‌রে তা‌কে ধরার চেষ্টা ক‌রেন। যদি কোনো ডাকাত আসে, তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। তাহলে কেউ আপনার বাসে বা ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিতে আসলে তাকে প্রতিহত করতে সমস্যা কী?’
তিনি বলেন, ‘নি‌জে‌কে বাঁচা‌নোর অধিকার তো আপনা‌দের র‌য়ে‌ছে। এটা আইনেও স্বীকৃত। আপনা‌দের কা‌ছে গজা‌রি লা‌ঠি আছে, পি‌টি‌য়ে ঠাণ্ডা ক‌রে দেন। আপনার রু‌টি-রু‌জির জায়গাটা আপনার সাম‌নে পু‌ড়িয়ে দেবে, আর আপ‌নি ব‌সে থাক‌বেন?’
তিনি আরও বলেন, কোনো গাড়িতে আগুন লাগলে সরকার তাকে ক্ষতিপূরণ দেবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা।
২০২৪-১৫ সালে পরিবহন খাতকে স্বাভাবিক রাখার জন্য পরিবহন শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো চিন্তা করবেন না। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দিয়েছিলেন এবং এবারও যে কোনো দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দেবেন,’ যোগ করেন তিনি।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শাহজাহান খান, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের অষ্টম ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায়।
টানা ছয় হারে বিশ্বজাপ থেকে ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হয়েছে আগেই। স্বান্তনা পুরস্কার হিসেবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির একটা জায়গা অন্তত নিশ্চিত করতেই চাইবে টাইগাররা।
সেই স্বপ্নটাও ধাক্কা খেতে পারে সোমবারের ম্যাচে হেরে গেলে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ২০২৫ সালের আইসিসির ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ আর পাবে না বাংলাদেশ।
দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে অবশ্য যথেষ্ট আশাবাদী এই ম্যাচে ভালো করতে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে হাথুরু বলছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার ভাবনায় শুধু সামনের ম্যাচ। পরের ম্যাচটা আমরা কীভাবে জিততে পারি সেটাই ভাবছি। আমরা সবকিছুই ঠিকঠাক করছি। ট্রেনিং করছি, খেলোয়াড়দের মুড ভালো, তারা সবাই কঠোরভাবে চেষ্টা করছে। তারা সবাই ভালো করতে চায়। এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যতটা সম্ভব সবাইকে সবদিক থেকে চাপমুক্ত রাখা। ’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আজকাল বাড়তি উন্মাদনা। দুই দলই একে অন্যের বিপক্ষে মাঠে বা মাঠের বাইরে আগ্রাসী আচরণ দেখিয়ে আসছে। অনেকের কাছেই এই ম্যাচ পরিচিতি পেয়েছে ‘নাগিন ডার্বি’ হিসেবে। যদিও সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ বাংলাদেশকে খুব একটা স্বস্তি দেবে না। সবশেষ এশিয়া কাপের দুই দেখাতেই বাংলাদেশ হেরেছে লঙ্কানদের কাছে। আর বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে কোন জয় না পাওয়ার বিষয়টি তো আছেই।
দিল্লির বায়ু দূষণ নিয়েও অনেকের চিন্তার কারণ রয়েছে। তবে হাথুরু জানালের সমস্যা সবার জন্যই সমান, ‘বায়ু দূষণের কারণে দুই দলই ভুগবে। এটা আদর্শ নয় (এমন অবস্থায় খেলা), কিন্তু আমাদের কোন বিকল্পও নেই। আমাদের সামনে খেলার জন্য এই কন্ডিশনই আছে। কিন্তু পিচ ও গ্রাউন্ড খুব ভালো। আমার মনে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পিচে আমরা খেলতে যাচ্ছি। আমাদের দুই দলের অবস্থাই একই, উঁচুতে থেকে শেষ করার চেষ্টা করব। ‘
হাথুরু আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা নিজেদেরকে বাড়তি প্রত্যাশা দিয়ে দমিয়ে রেখেছি। এই একটা ব্যাপার নিয়েই আমরা ভাবতে পারি, কারণ আপনি ঠিকই বলেছেন, সামর্থ্য অনুযায়ী অথবা বিশ্বকাপে আসার আগে খেলা সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারিনি। সেদিক থেকে আমাদের আয়নায় তাকাতে হবে আর দেখতে হবে কী ভুল হলো। ’

জন্মদিনে শচীনের রেকর্ড স্পর্শ করলেন কোহলি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শচীন টেন্ডুলকারের ঘরের মাঠ মুম্বাইতেই সুযোগ ছিল বিরাট কোহলির সামনে। কিন্তু সেই ম্যাচে ১২ রানের জন্য শতক হাতছাড়া করেন তিনি। শচীনের রেকর্ডে ভাগ বসাতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি কোহলিকে। রোববার (০৫ নভেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৪৯তম শতক হাঁকিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন শচীনের রেকর্ড। বর্তমানে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান কোহলি ও শচীন।
৪৯টি শতক করতে টেন্ডুলকারকে খেলতে হয়েছিল ৪৫১ ইনিংস, কোহলি সেটি ছুঁয়ে ফেলেছেন ২৭৭ ইনিংসেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০৩ রানের ইনিংস খেলার পর থেকেই টেন্ডুলকারের রেকর্ড ছোঁয়ার অপেক্ষায় ছিলেন কোহলি। নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত শতকের দেখা পাননি তিনি। কিউইদের বিপক্ষে ফেরেন ৯৫ রান করে আর লঙ্কানদের বিপক্ষে কোহলির ব্যাট থেকে এসেছিল ৮২ রান। শেষ পর্যন্ত বহুল কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের দেখা মিলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইনিংসের শেষ দিকে।
কোহলি ও আয়ারের দারুণ ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৬ রান সংগ্রহ করেছে।

জনগণের কাছে বিএনপির ভোট চাওয়ার মুখ নেই : রেলপথমন্ত্রী

রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বিএনপি ভোটে আসতে চায় না। কারণ তারা জানে জনগণ তাদেরকে ভোট দিবে না। তারা যেসব কাজ করেছে তাতে ভোট চাওয়ার মত মুখ তাদের নেই।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন আমরাও করেছি, আমরা মার খেয়েছি, আমরা কোনদিন পুলিশকে মারি নাই। আমাদের লোকজন জীবন দিয়েছে, জেলখানায় গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কতবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কই খাদেলা জিয়াকেতো একবারও হত্যা চেষ্টা করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে জেলখানার মধ্যেও হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির কোন নেতাতো এভাবে মারা যায়নি’।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সীমান্তে আইকনিক স্টেশন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করছেন করেন, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণ, ভাঙ্গচুর, পুলিশ হত্যা কেন? ঈুলিশ তো দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তার জন্য’।
নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আজকে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। চিলাহাটি থেকে ট্রেন সকাল-বিকাল ঢাকা যাচ্ছে, এ পথে খুলনা ও রাজশাহীর অন্যান্য ট্রেন চলছে। আন্ত:দেশীয় ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস এনজিপি (ভারত) থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলছে। এ এলাকার মানুষের চাহিদা ছিল মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে ভারত যাতায়াতের। যেটা কাঠামোর কারণে এতোদিন সম্ভব হয়ে উঠেনি। এখন স্টেশন ভবন নির্মানের ফলে সেটি পুরণ হবে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চালু হবে। এরপর চিলাহাটিতে ট্রেনে উঠে ভারতের এনজেপি, জলপাইগুড়ি যাতায়াত করা যাবে। আগামী ১১ তারিখ চট্টগ্রামের কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল উদ্বোধন হবে। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত টেন চলবে। চিলাহাটি স্থলবন্দর হবে এবং খুলনার মোংলা বন্দর থেকে সরাসরি শুধু ভারত নয়, নেপাল-ভুটান পর্যন্ত মালামাল আনা নেওয়া করা যাবে’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার, জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ, পুলিশ সুপার মো. গোলাম সবুর, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি লিংক রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি পথে শুরু হওয়া রেল সংযোগটি ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়। সংযোগটি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে চালুর উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করে চিলাহাটি থেকে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২ কিলোমিটার মেইন লাইনসহ অন্যান্য স্থাপনার কাজ শেষে ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ পথে একটি মালবাহী ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন রেল সংযোগের। এরপর ২০২১ সালের ২৭ মার্চ ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত মিতালী এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। কোভিড পরবর্তী ২০২১ সালের ১ জুন থেকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত চলাচল করছে যাত্রিবাহী ট্রেনটি।

বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালেদ এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেএ সরকার।
আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আঞ্চলিক স্কাউট ভবনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে বিনামূল্যে তেল-জাতীয় ফসল সরিষার বীজ ও সার বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ম্ক্তুাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরব আলী, উপজেলা কৃষি অফিসার সেলিনা পারাভিন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি এজেডএম ইমাম উদ্দিন মুক্তা, মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশে খাদ্য সংকট ছিল। এখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আগামী জুন পর্যন্ত দেশে খাদ্য মজুত রয়েছে। কৃষিসহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি গত ৫বছরে মুক্তাগাছায় যে উন্নয়ন হয়েছে তার চিত্র তুলে ধরেন এবং মুক্তাগাছার উন্নয়নে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুবিধাভোগী শফিকুল ইসলাম, কেরামত আলীসহ কয়েকজন চাষি তাদের অনুভূতি ব্যক্তকরে বলেন, আমরা আজ বিনামূল্যে সরিষা বীজ ও সার পেয়ে খুবই খুশি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের নানা ভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এতে আমরা খুব উপকৃত হচ্ছি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একই সাথে আমাদের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদকেও ধান্যবাদ জানাচ্ছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি সরিষা আবাদকারী চাষিদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন।
এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তেল-জাতীয় ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে মুক্তাগাছা উপজেলায় সরিষা আবাদের জন্য ৪ হাজার ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষির মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার সেলিনা পারভিন জানায় তালিকাভুক্ত প্রত্যেক চাষিকে প্রতি এক বিঘা জমির জন্য ১ কেজি সরিষার বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার বিতরণ করা হয়। তিনি জানান, এ বছর মুক্তাগাছা উপজেলায় ১৩শ ৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১৯ মেঃ টন।