বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিবেশ রয়েছে : ইসি সচিব

সব প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে নভেম্বরের প্রথমার্ধে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিবেশ রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির মুখপাত্র।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মতো পরিবেশ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজনে বদ্ধপরিকর ইসি।
ইসি সচিব জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অত্যাসন্ন। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগে কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এ সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।
সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত সবধরনের অগ্রগতি বিষয়ে অবহিত করবেন। প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও নির্দেশনা থাকলে তা কমিশন শুনবেন। তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। এ সংক্রান্ত কমিশন সভা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
মো. জাহাংগীর আলম জানান, এরই মধ্যে কমিশন বারবার বলেছে, নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধের যে কোনো দিন তফসিল হতে পারে। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে।
বিদেশি অজারভার বিষয়ে সচিব জানান, এ পর্যন্ত কমিশনকে মেইলে তিনটি (এনডিআই, ইইউ ও কমনওয়েলথ) প্রতিষ্ঠান কনফার্ম করে গেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান, যেটা প্রি অ্যাসেসমেন্ট করে গেছেন; ইইউ আগেই বলেছে এবং সম্প্রতি কমনওয়েলথের একটি টিম ইসির সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন। ২১ নভেম্বর সময় রয়েছেন আবেদনের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধাতি সেলের মাধ্যমে সমন্বয়ের পর পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে এবার কতজন আসবে।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, শুক্র- শনিবার রয়েচে ডিসি-এসপির প্রশিক্ষণ। এরপর আগামী সপ্তাহে ১২-১৪ নভেম্বর তফসিল হতে পারে? জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে তখন গণমাধ্যমে জানানো হবে। নির্বাচন কমিশনের যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ রয়েছে তার সব এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনী মালামালও ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সচিব জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাসময়ে পরিপত্র জারি করে। এরই মধ্যে আইন শৃঙ্খলা সভায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, অবশ্য পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে যাতে ভোট দিতে পারে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করবে এবং সেভাবে মন্ত্রণালয় কাজ করবে।
লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপনির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিম্ন আয়ের মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতিতে শহরের দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক কারণে এটি হয়েছে। সামনে নির্বাচন, কাজেই এটি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা ঠিক হবে না।
আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি মনিটরিং ও রিভিউ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব কাটানো সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রভাব কাটানো সম্ভব হবে, যদি আপনারা ইতিবাচক হন। বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক কারণে এটি হয়েছে। কাজেই এটি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা ঠিক হবে না। এটি নির্ভর করে আপনারা কতটুকু ইতিবাচক হবেন, তার ওপর।
আপনার তো এলাকায় গিয়ে ভোট চাইতে হবে, ভোটাররা যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করে, তাহলে কী বলবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, আমার এলাকার মানুষের কষ্ট নেই। কারণ তারা আলুর দাম পাচ্ছে। আমাদের তো কৃষিভিত্তিক এলাকা। একেক এলাকা একেক রকম। ঢাকা শহরে যে নির্বাচন করবে, তার অনেক সমস্যা। কিন্তু আজ থেকে ২০ বছর আগে আমার এলাকায় ১০টা মোটরসাইকেল ছিল, ২০০১ সালে। তখন আমি প্রথম নির্বাচন করি। আজ সেখানে হাজার হাজার মোটরসাইকেল।
তিনি বলেন, আমার এলাকা আলুভিত্তিক, কৃষিভিত্তিক। তাদের কোনো কষ্ট নেই। সেখানকার নারীরা দিনে তিনবার করে লিপস্টিক লাগাচ্ছে, চারবার করে স্যান্ডেল বদলাচ্ছে। আমি খুব ভালো জানি, আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সারা দেশের অবস্থাটা ভিন্ন। শহরের যারা দিনমজুর, নিম্নশ্রেণির তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর তাদের কয়েকটি সংগঠনের নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করে শুক্রবার নতুন করে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, দেখুন, একশ ভাগ শান্তি ঠিক করা যায় না। কেউ খুশি হবেন, কেউ অখুশি হবেন। যারা খুশি না, তারা যদি ২০ হাজার টাকা বেতন পেতেন, তাহলে খুশি হতেন। আমাদের একটি জায়গায় আসতে হবে, যেখানে দুপক্ষেরই রক্ষা হয়। ১০০ ভাগ সন্তুষ্ট করা যায় না।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতনই কেবল বাড়ানো হয়নি, তাদের বেসিকের অ্যামাউন্টও বাড়ানো হয়েছে। আপনারা জানেন, সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে দিনে তারা দুই ঘণ্টা ওভার টাইম করেন, একটা হাজিরা বোনাস পান। কাজেই যার বেতন সাড়ে ১২ হাজার টাকা, তিনি কিন্তু ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা তুলবে। কথাটি সাধারণভাবে জানা যায় না। এরপরও প্রত্যেককে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তাতে মাসে অন্তত ৫০০ টাকা সাশ্রয় হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যেটা দেওয়া হয়েছে, সেটা ভালো বলে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তারপরও কিছু বাদ থেকে যায়। আমার মনে হয়, অধিকাংশই তা মেনে নেবে।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৫

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১১১৬ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা, ৪৫ গ্রাম হেরোইন ও ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
বুধবার (৮ নভেম্বর) ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯টি মামলা রুজু হয়েছে।

এবার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে সরে গেল ন্যাটো

রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি চুক্তি স্থগিত করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর সঙ্গে ইউরোপে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক চুক্তি বা সিএফই থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নিলো ন্যাটো।
ক্রেমলিন বলেছে, স্নায়ুযুদ্ধের সময় সই হওয়া ওই চুক্তি অনেকটা অকেজো হয়ে পড়েছিল এবং এটি এখন বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে গেছে। ১৯৯০ সালে শীতল যুদ্ধের একেবারে শেষদিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ন্যাটো জোটের ‘ট্রিটি অন কনভেনশনাল আর্মড ফোর্সেস ইন ইউরোপ’ বা সিএফই চুক্তি সই হয়েছিল। চুক্তিতে ইউরোপে মোতায়েন ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, কামান, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানের সংখ্যা সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি সিএফই থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, সিএফই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে রূপান্তরিত হলো। রাশিয়া এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ২০০৭ সালে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছিল।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকৃতপক্ষে এই চুক্তি কিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে ঠিকই, তবে এটিকে বৃহত্তর পরিসরে ন্যাটো জোট উপেক্ষা করেছে। ফলে এই চুক্তি রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
একই দিন ন্যাটো এক বিবৃতি প্রকাশ করে মস্কোর এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, রাশিয়ার এ পদক্ষেপে ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে পদ্ধতিগতভাব অবজ্ঞা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া সিএফই থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ন্যাটোর পক্ষ থেকে এটি মেনে চলার কোনো অর্থ হয় না কারণ, তা ‘অস্থিতিশীল’ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
খবর রয়টার্স

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৫ রাজ্যে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক জরিপে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনি প্রচারণা দল সোমবার বলেছে, এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নয়।
খবরে বলা হয়েছে, জরিপে ভোটাররা বাইডেনের বয়স এবং অর্থনীতি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। তা ছাড়া ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে নতুন উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।

বাইডেনের নির্বাচনি প্রচারণা থেকে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি কেভিন মুনোজ বলেন, ‘২০২৪ সালে আমরা মাথা নিচু করে নিজেদের কাজ করে জিতব, নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে নয়।’
নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের জরিপে বলা হয়েছে— অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা ও পেনসিলভানিয়া— এই ছয়টি সুইং স্টেটের মধ্যে পাঁচটিতে বাইডেনকে পরাজিত করবেন ট্রাম্প। জরিপে আরও দেখা গেছে, উইসকনসিনে এগিয়ে আছেন বাইডেন।
জরিপকারীরা স্বাভাবিক ইস্যুগুলোর দিকে নজর দিয়েছেন। যেমন— গর্ভপাত, গণতন্ত্র সংরক্ষণ, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভিবাসন। তবে ভোটাররা ইসরাইল-হামাস সংঘাত মোকাবিলায় বাইডেনের আচরণকে কীভাবে দেখছেন সেটিও আমলে নিয়েছেন তারা।
শনিবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইসরাইল-হামাস ইস্যুতে তাদের অনুভূতি স্পষ্ট করেছেন। হোয়াইট হাউসের গেটে জড়ো হয়ে ইসরাইলের প্রতি বাইডেনের সমর্থনে তারা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, বাইডেন ও তার প্রশাসন কিভাবে আমেরিকানদের জীবনযাত্রার উন্নতি করেছে তা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। সোমবার নিজের রাজ্য ডেলাওয়্যারে তিনি আটলান্টিক সমুদ্রতীরে ১৬০০ কোটি ডলারের সাহায্য প্রচেষ্টার কথা ঘোষণা করেন।
অপরদিকে ট্রাম্প সোমবার নিউইয়র্কে এক জালিয়াতি মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় তার বিরুদ্ধে চারটি পৃথক এখতিয়ারে ৯১টি অপরাধের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
তবে জরিপ বিশেষজ্ঞ মার্ক মেলম্যান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টড বেল্টের মতো কেউ কেউ এই জরিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এমন সময় এই জরিপটি এলো যখন চলতি সপ্তাহে আমেরিকানরা রাজ্য ও স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন এবং ব্যালট উদ্যোগ নিয়ে ভোট দিচ্ছে।

অমিতাভকে ধন্যবাদ জানালেন রাশমিকা

ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার একটি ডিপফেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর তার পাশে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনিব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ডিপফেক ভিডিও প্রসঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের সমর্থন পাওয়ার পর রাশমিকা বলেন, এমন কঠিন সময়ে তাকে পাশে পেয়ে বেশ আনন্দিত আমি। তার সমর্থন আমাকে সাহস জুগিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে, আমার পাশে থাকার জন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জারা প্যাটেল নামে একজন ব্রিটিশ-ভারতীয় মহিলার পোস্ট করা একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে রাশমিকার মুখমণ্ডল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) সাহায্যে রূপান্তরিত হয়েছে।
রাশমিকার জাল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে ভারতে ডিপফেক সংক্রান্ত ঘটনা মোকাবিলা করার জন্য একটি যথাযথ আইনি কাঠামোর জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রবীণ এ অভিনেতা।
ডিপফেক ভিডিও নিয়ে অমিতাভ বচ্চন বলেন, ডিপফেক ভিডিও ঘটনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে যথাযথ আইনিব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে আরও লিখেন, হ্যাঁ! ডিপফেক ভিডিও নিয়ে শক্তিশালী মামলা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২৭ বছর বয়সি এ অভিনেত্রী বেশিরভাগ তেলেগু ও কন্নড় চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং তার ভূমিকার জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতেছেন। তাকে পরে অভিনেতা রণবীর কাপুরের সঙ্গে দেখা যাবে বলিউড ফিল্ম ‘অ্যানিমেল’-এ, যেটি ডিসেম্বরের ১ তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে ৪৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ৪৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তসংখ্যক বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
বুধবার (৮ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শনিবার গাজীপুর, কোনাবাড়ী, সফিপুর, চন্দ্রা, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। গত কয়েক দিন ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় কারখানায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
বিজিবি জানিয়েছে, পোশাক কারখানার নিরাপত্তা জোরদারে গাজীপুর, কোনাবাড়ী, সফিপুর, চন্দ্রা, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে আট প্লাটুন, সাভার ও হেমায়েতপুরে দুই প্লাটুন এবং আশুলিয়া এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পপুলিশ ১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি।

বিশ্বাস ছিল আমরা ফিরব : ম্যাক্সওয়েল

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই অস্ট্রেলিয়ার সেমিফাইনাল নিশ্চিত। হারলে সমীকরণের মারপ্যাঁচ, আফগানদের শেষ চারের স্বপ্নেও লাগবে হাওয়া। এমতাবস্থায় ৯১ রানেই ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। হারতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো সেমিফাইনালে নিয়ে গেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল একার কর্তৃত্বে।
কী অসাধারণ ইনিংসটাই না খেললেন তিনি। তর্কসাপেক্ষে এটিকে ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা ইনিংস বললেও ভুল বলা হবে না। নিজে ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচ শেষ করার পাশাপাশি দলের জয়ও নিশ্চিত করেন ম্যাক্সওয়েল। শেষ পর্যন্ত আফগানদের ৩ উইকেটে হারায় তারা।
অথচ টুর্নামেন্টের শুরুতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রথম দুই ম্যাচ হারার পর সবাই তাদের বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল। সেটিই মনে করিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়া ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘প্রথম দুই ম্যাচ হারার পর মানুষ আমাদের বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল। আমাদের ভেতর বিশ্বাস ছিল আমরা ফিরব। আজকের ম্যাচের পর এটা আরও বেড়েছে আমাদের মধ্যে।’
নিজের অতিমানবীয় ইনিংস সম্পর্কে বলেন, ‘যখন ফিল্ডিং করছিলাম তখন বেশ গরম ছিল। আমি গরমে তেমন দৌড়াতে পারছিলাম না, নিজেকে তৈরি করেছিলাম ব্যাটিংয়ের জন্য। আমি পায়ে কিছুটা ব্যথা অনুভব করেছিলাম। আমি নিজের পরিকল্পনায় অটল ছিলাম। সবসময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি।’
ম্যাক্সওয়েল একবার এলবিডব্লিউ আউট হয়েছিলেন, কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। পাশাপাশি তার একটি ক্যাচও ফেলে দেন মুজিব। ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘এলবিডব্লিউতে জীবন পাওয়ার পর আমি আরও ভালো খেলার চেষ্টা করি। ফ্লাডলাইটের নিচে বলে সুইং করছিল। তারা দারুণ বোলিং করেছে। যদি আমি ক্যাচ মিসের কোনো সুযোগ না দিতাম তা হলে জিনিসটা আরও ভালো হতো, তবে সেই সুযোগটাই আমি কাজে লাগিয়েছি।’

ইসরায়েলের হাতে সময় আছে ৩ সপ্তাহ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শাসক গোষ্ঠী হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে ইসরায়েলের হাতে সময় মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ রয়েছে বলে আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গাজায় আক্রমণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে দ্রুত জনমত গড়ে উঠছে। ফলে ইসরায়েলের হাতে সময় বেশি নেই। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলি হামলা শেষে গাজার ভবিষ্যৎ কী হতে পারে তা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ হবে দীর্ঘ ও কঠিন। কিন্তু ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান এহুদ বারাক বলেছেন, সুযোগ কমে আসছে। এটি স্পষ্ট যে গাজায় আক্রমণ নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে বিভক্তির দিকে এগোচ্ছি আমরা। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নির্দেশ দিতে পারে না।
ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রধান নিশ্চয়তাদানকারী দেশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ভূমিকার কথা ইঙ্গিত করে এহুদ বারাক বলেছেন, কিন্তু আমরা তাদের উপেক্ষা করতে পারব না। আগামী দুই বা তিন সপ্তাহ, হয়ত আরও কম সময়ের মধ্যে আমেরিকার দাবি মতো সমঝোতায় আসতে হবে।
১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এহুদ বারাক বলেছেন, সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে। লড়াইয়ে একটি মানবিক বিরতির কথা বলছেন তারা। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে সহানুভূতি ইসরায়েলের প্রতি তৈরি হয়েছিল তা এখন হ্রাস পেয়েছে।

বারাক উল্লেখ করেছেন, গাজায় ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে কয়েক মাস বা বছর লাগতে পারে। কিন্তু গাজায় বেসামরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় পশ্চিমা সমর্থন কমে আসছে। এক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও এতে ভূমিকা রেখেছে। পশ্চিমা দেশগুলো হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের নিয়েও উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, জনগণের মনোভাব দেখুন এবং পর্দার আড়ালে এটি আরও স্পষ্ট। ইউরোপে জনসমর্থন হারাচ্ছি আমরা। এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা ইউরোপীয় সরকারগুলোর সমর্থন হারাতে শুরু করব। আরও এক সপ্তাহ পর আমেরিকানদের মধ্যে বিভক্তি প্রকাশ্যে উঠে আসবে।
হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার যে লক্ষ্য নেতানিয়াহু নির্ধারণ করেছেন, সেটির প্রতি নিজের ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সামরিক অভিযান পুরোপুরি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও তাদের ব্যাপক ক্ষতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরে হামাসের পুনরুজ্জীবন ঠেকাতে হবে।
গাজার রাজনৈতিক অবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য এহুদ বারাকের পরামর্শ হলো, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শেষে গাজায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বহুদেশীয় আরব বাহিনী। আরব লিগ ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থনে এই বাহিনী গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রতীকীভাবে কিছু অনারব দেশও থাকতে পারে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি দায়িত্ব সহযোগিতার জন্য তিন থেকে ছয় মাস তাদের মোতায়েন রাখা যেতে পারে।
বহুদেশীয় আরব বাহিনীর হাতে গাজার নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব অতীতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বারাককে বলেছিলেন, ইসরায়েলি বেয়োনেটের সহযোগিতায় কখনও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবেন না তারা।

খুলনায় ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৩ নভেম্বর খুলনায় ২২টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খুলনা জেলা প্রশাসন জানায়, এই ২৪টি প্রকল্পের কাগজপত্র ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার ইয়াসির আরেফিন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩ নভেম্বর খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে ৩৯১ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং অপর ২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
২২টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে গণপূর্ত বিভাগ। এগুলো হলো—জেনোসাইড অ্যান্ড টর্চার আর্কাইভ ও জাদুঘর ভবন, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও আবাসিক ভবন, পাইকগাছা উপজেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ সেন্টার, খুলনা অ্যাপরেন্টিস ট্রেনিং অফিস, খুলনা বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারী হোস্টেল ভবন, পাইকগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং দৌলতপুরে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ।
বাকি ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ (ইইডি)। সেগুলো হচ্ছে—ডুমুরিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বয়রা মাধ্যমিক স্কুল, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি এলবিকে ডিগ্রি ওমেন্স কলেজ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, চালনা বাজার সরকারি গার্লস হাইস্কুল, তালিমুল মিল্লাত রহমতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নজরুল নগর মাধ্যমিক স্কুল, আরআরএফ মাধ্যমিক স্কুল এবং আড়ংঘাটা মাধ্যমিক স্কুল।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী যে দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তা হলো—স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও দীঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ। এগুলো বাস্তবায়ন করবে যথাক্রমে কেসিসি ও ইইডি।