বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

গাজা ছাড়লেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি

নিজ বাড়ি-ঘর ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ছেড়েছেন হাজারো ফিলিস্তিনি নাগরিক। এর মধ্যে উপত্যকাটির প্রাণকেন্দ্র গাজা সিটিকে ঘিরে ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে উপত্যকাটির শাসকগোষ্ঠী ও সশস্ত্র হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র সংঘর্ষ চলছে। আর এই লড়াইয়ের মধ্যেই গাজা সিটি ছেড়ে দক্ষিণ দিকে চলে যাচ্ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৮ নভেম্বর) হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উত্তর গাজা থেকে পালিয়েছেন। স্থল ও আকাশ পথে ইসরায়েলের তীব্র অভিযানের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিধ্বস্ত ছিটমহলটি ছেড়ে মাইলকে মাইল পথ পায়ে হেঁটে গাজা ছেড়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঘোষিত একটি নিরাপদ করিডোর দিয়ে গাজা ছাড়েন তারা। গাজার নর্থ-সাউথ হাইওয়ে মধ্যে সালাহ এদ্দিন স্ট্রিট ধরে হাজারো নারী, শিশু, বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের স্রোত দেখা যায়।
এক কিশোরী এই বিপর্যয়কে ‘নাকবা’ গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ বসতি থেকে একইভাবে বিতাড়িত করা হয়েছিল টানা পঞ্চম দিনের মতো ইসরায়েলি বাহিনী এমন নিরাপদ করিডর খুলে রেখেছে। প্রতিদিনই গাজার দক্ষিণাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা লোকের সংখ্যা বাড়ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে রোববার অন্তত দুই হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে গাজা ছেড়েছে। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) তা বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার। ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, বুধবার ৫০ হাজার গাজাবাসী এই করিডোর দিয়ে পার হয়েছেন। এই সংখ্যাটি যাচাই করা যায়নি, তবে ঘটনাস্থলে একজন সিএনএন সাংবাদিক জানিয়েছেন, বুধবারের সংখ্যাটি মঙ্গলবারের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
এদিকে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যোদ্ধাদের হাতে আটক জিম্মিদের মধ্যে থেকে ১০ থেকে ১৫ জনের মুক্তির বিনিময়ে গাজা যুদ্ধে হতে পারে তিনদিনের বিরতি। নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ’১০ থেকে ১৫ জিম্মি মুক্তির বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা চলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক বিল বার্নস সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। মুক্তির শর্ত পূরণ করলেই গাজায় এমন বিরতিতে রাজি হতে পারে ইসরায়েল, জানিয়েছে সূত্রটি।

বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র : প্যাটেল

যুক্তরাষ্ট্র আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশে সরকার ও বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল।
বুধবার (৮ নভেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বলেন তিনি। এদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেন এক ভারতীয় সাংবাদিক।
ওই সাংবাদিক শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান সহিংসতাকে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উস্কে দিতে পারে – এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাবনা জানতে চান তিনি।
তবে তার এ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যান বেদান্ত প্যাটেল।
গত ২৮ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায় বিএনপি। এদিন এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি ও জামায়াত। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতাও।

২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে ‘পরিকল্পনা’ শুরু বিসিবি’র!

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সাকিবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। আপাতত ব্যর্থতা ঝেড়ে সামনে তাকানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই টাইগারদের সামনে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হাবিবুল বাশারের কণ্ঠেও ছিল হতাশা। এই বিশ্বকাপে যা হারানোর তা হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে দলকে বিশ্বমানের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল লক্ষ্য বোর্ডের।
ছন্দে থাকা বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে এসে ফর্ম হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করেন হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দেখেছি এবারের বিশ্বকাপ কেমন কেটেছে আমাদের। এটা খুবই হতাশার ছিল। আমরা আমাদের প্রত্যাশা কোনোভাবেই পূরণ করতে পারিনি। অনেক সময় আপনি ফর্মে এসে টুর্নামেন্টে ফর্ম হারিয়ে ফেলতে পারেন। দূর্ভাগ্যবশত আমাদের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে আসলে। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে আসার আগে আমাদের মানসিক শক্তি নিয়ে বেশি কাজ করা উচিত বলে মনে করছি। ’
বিসিবির এই নির্বাচক বিশ্বাস করেন, আগামী বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বড় দল। ২০২৭ বিশ্বকাপে টাইগারদের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য সব বিভাগেই কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে জোর দেয়ার কথা বললেন জাতীয় দলের এই নির্বাচক।
হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট তো নিশ্চিতভাবে অনেক উন্নতি করেছে। আগামী বিশ্বকাপ চার বছর পর, এই সময়ে দলটা প্রস্তুত হয়ে যাবে। সত্যি কথা বলতে, আমাদের সব বিভাগে কাজ করতে হবে। টপ অর্ডার ব্যাটিং, ফিনিশিং, আমাদের বোলিং। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে আমাদের বোলারদের উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমাদের সব বিভাগ নিয়েই কাজ করতে হবে। শুধু একটা বিভাগ নয়। ব্যাটিং, বোলিং তো আছেই সঙ্গে নতুন বলের পাশাপাশি মিডল ওভারে উইকেট নেওয়ার মানসিকতা বাড়াতে হবে। তাহলে ভালো হবে।’

ব্রাগাকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় মাদ্রিদ, ম্যান ইউকে হারাল কোপেনহেগেন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে আরও একটি দারুণ জয় পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। আক্রমণভাগের সবার দলগত পারফরম্যান্সে পর্তুগিজ ক্লাব ব্রাগাকে গুঁড়িয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। বুধবার (৮ নভেম্বর) গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে মাদ্রিদ। ক্লাবটির হয়ে গোল করেন ব্রাহিম দিয়াস, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগো।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় মাদ্রিদ। ফেরলঁদ মঁদির থ্রু পাসে কাটব্যাক করেন রদ্রিগো, আর প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে বল ঠিকানায় পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড দিয়াস। পাসিং ফুটবলে শাণানো আক্রমণে ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস। মাদ্রিদের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন রদ্রিগো। চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রদ্রিগো।
দিনের অন্য ম্যাচে, ৭ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ম্যান ইউকে হারিয়েছে কোপেনহেগেন। ক্লাবটির ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ম্যানইউ-কোপেনহেগেন। ৭ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে কোপেনহেগেন। এই হারে নকআউট পর্বে ওঠার পথটা আরও কঠিন হয়ে গেল ম্যান ইউর।

প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত করেছেন : পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের অসহায় মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত করেছেন। মানবতার মা হয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সারাদেশে চার কোটি পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ-খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসচির আওতায় ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের খোঁজ নিতে। বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ঐ ভাতা দিয়ে ্ওষুধসহ হাত খরচের ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের বাবাকে হারিয়ে দেশের বয়স্ক ব্যক্তিদের মাঝে বাবাকে খুঁজে পান। প্রতিমাসে ৫৫০ টাকার ভাতা বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তদের জন্যে বেঁচে থাকার অবলম্বন। এটা তাদেরকে আতœসম্মান দিয়েছে। সরকারের প্রণীত সুরক্ষা আইন, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী বৃত্তির কারণে প্রতিবন্ধীরা এখন আর সমাজের বোঝা নয়, বাবা-মায়ের কষ্ট নয়। এসব সুবিধা ছাড়াও সকল পরিবহন এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে তাদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। দেশে কোন পরিবারকে আর আশ্রয়হীন থাকতে হচ্ছে না, সকল ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ বাড়ি দেওয়া হয়েছে। ভিজিডি-ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে, যেমন করে তারা ২০০২ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল এবং এরআগে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করে দেয়। অথচ এসব কার্যক্রম তৃণমূলের মানুষের সেবা প্রদানে অনন্য ভূমিকা পালন করছিল।
পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগনের দোর-গোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। শতভাগ বিদ্যুতের আলোয় গ্রামগুলো এখন উন্নয়নের মুখরিত জনপদ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে জনগনের জীবনমান উন্নয়নে সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। কোন রকমের অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। উন্নয়নের ধারা এবং সুশাসনকে অব্যাহত রাখতে আবারো শেখ হাসিনার পাশে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রামানন্দ-খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ সরকার সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই : আফগানিস্তান কোচ

আফগানিস্তান কোচ জোনাথন ট্রট গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসটিকে তিক্ত স্বাদের ওষুধের সঙ্গে তুলনা করেছে, যা গিলে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কাল মুম্বাইয়ে ম্যাক্সওয়েল একাই প্রমাণ করেছে অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে কিভাবে একটি দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা যায়। পুরো ক্রিকেট বিশ^ তার এই ব্যাটিং দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে, এভাবেও যে একটি দলকে জয় উপহার দেয়া যায় তার জ¦লন্ত সাক্ষী হয়ে থাকলেন ম্যাক্সওয়েল।
ইতোমধ্যেই এবারের বিশ^কাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ১৯৯২ বিশ^জয়ী পাকিস্তান ও ১৯৯৬ শিরোপাধারী শ্রীলংকাকে হারিয়ে নিজেদের প্রমান করেছিল। কাল ২৯২ রানের জয়ের টার্গেট দিয়ে ৯১ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তান জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল। এই ম্যাচে জিততে পারলে সেমিফাইনালের পথ অনেকটাই খুলে যেত আফগানদের।
কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৩ রানে ফাইন লেগে ম্যাক্সওয়েলের একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়ে মুজিব উর রহমান আফগানদের পরাজয়ের ভিত রচনা করে দেন। ৩৫ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল এরপর ১০টি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডে বিশ^কাপে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল।
ট্রট বলেন, ‘ম্যাক্সওয়েলের মতো খেলোয়াড়কে সুযোগ দিলে সে এভাবে এগিয়ে যাবেই। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সুযোগ হাতছাড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তোমাকে এর শাস্তি পেতেই হবে। তারা তোমাকে বারবার সুযোগ দেবে না।’
৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটার ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসের গুনগত মান নিয়ে প্রশংসা করে বলেছেন, ‘পুরো কৃতিত্ব তারই। যেভাবে সে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে তা অভাবনীয়, কল্পনায়ও এরকম একটি ইনিংসের কথা কেউ সচরাচর ভাবতে পারেনা। এই জয়টা তার প্রাপ্য ছিল। সে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। মাঝে মাঝে এমন ইনিংসের পর এ ধরনের খেলোয়াড়দের শ্রদ্ধা করতেই হয়। কিন্তু একইসাথে আমি বলব, তাকে এভাবে খেলতে দেয়া উচিত হয়নি। তাকে আগেই আমাদের আউট করা উচিত ছিল।’
এই ম্যাচে জয়ী হতে পারলে টেবিলের ওপরে উঠে আফগানিস্তানের সামনে সেমিফাইনালের দরজা খুলে যেত, বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত হয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ট্রট বলেন, ‘আমরা জয়টা দারুনভাবে উপভোগ করতাম। কিন্তু আমরা পরাজয়টা হাতে ধরে মেনে নিয়েছি। এখানে শেষ পর্যন্ত আসলে কিছুই বলার নেই।’
একটি বিষয়ে অবশ্য আফগানিস্তান ম্যাচ শেষে সান্তনা পেতে পারে। প্রথম আফগান ব্যাটার হিসেবে বিশ^কাপে কাল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ইব্রাহিম জারদান। ওপেনিংয়ে খেলতে নেমে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন জারদান। ট্রট বলেন, বিশ^কাপে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেয়া সত্যিই চমৎকার। হতে পারে ঐ সময় সে নিজেকে আরো কিছুটা মেলে ধরতে পারতো। কিন্তু দিনের শেষে একটাই কথা বলবো সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। তার জন্য আমি সত্যিই দারুণ খুশি। আশা করছি সেঞ্চুরির সংখ্যা ভবিষ্যতে সে আরও বাড়াতে পারবে।’
আগামী শুক্রবার আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আফগানিস্তান গ্রপ পর্ব শেষ করবে। শেষ চারে খেলার এখনো গাণিতিক কিছু সুযোগ রয়েছেন আফগানদের। যদিও শুধু প্রোটিয়াদের হারালেই চলবে না, এক্ষেত্রে অন্য দলগুলোর ফলাফলের অপেক্ষায় তাদের থাকতে হবে।
ট্রট বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমরা হেরেছি, এরপর ফিরে এসে পরের ম্যাচে জয়ী হয়েছি। ভারতের সঙ্গে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করাটা হবে চমৎকার এক অর্জন।’

৩৮৭ কোটি টাকার সয়াবিন তেল-ডাল কিনছে সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৩৮৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ টাকার তেল এবং ২৪৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মসুর ডাল কেনা হবে।
ভারতের গ্রিন নেশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারের কাছ থেকে পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ভারতের উমাএক্সপো প্রাইভেট লিমিটেড ও দেশিয় প্রতিষ্ঠান বি অ্যান্ড সি ইনকরপোরেশন ও সেনা কল্যাণ সংস্থা থেকে মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা হয়। সভা শেষে সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।
তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবি কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১ কোটি ১০ লাখ লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতের গ্রিন নেশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপার থেকে ১৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে এ তেল কেনা হবে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে খরচ হবে ১৬৯ টাকা।
অপর দিকে টিসিবির জন্য মসুর ডাল কেনার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাব ছিল। দুটিই অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এরমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল ভারতের উমাএক্সপো প্রাইভেট লিমিটেডের কাছে থেকে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি মসুর ডিল কিনতে খরচ হবে ১০১ টাকা ৬৯ পয়সা। এতে মসুর ডাল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৯৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৫ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল বি অ্যান্ড সি ইনকরপোরেশন এবং সেনা কল্যাণ সংস্থার কাছে থেকে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়ছে ১০০ টাকা।

শুধু তুমিই পারো এভাবে খেলতে, ম্যাক্সওয়েলকে কোহলি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী অভাবনীয় এক ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশে^র অনেক পরিসংখ্যানই বদলে দিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। মানসিক দৃঢ়তায় এমন ভাবেও যে খেলা যায় ও দলকে জয় উপহার দেয়া যায়, তা যেন ম্যাক্সওয়েল সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছেন। ম্যাক্সওয়েলের ঝকঝকে ইনিংসটি এ পর্যন্ত ওয়ানডেতে সব স্মরনীয় ইনিংসকে ছাড়িয়ে গেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। বারবার পেশীর ইনজুরি নিয়ে ব্যাটিং থেকে সড়ে আসার সিদ্ধান্তও প্রায় নিয়ে ফেলেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্ত দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে শেষ পর্যন্ত জয় উপহার দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।
ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে ম্যাক্সওয়েলের দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর সতীথ বিরাট কোহলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘শুধুমাত্র তুমিই পারো’।
মুম্বাইয়ের অসাধারণ ঐ ইনিংসের পর সারা বিশ^জুড়েই প্রশংসায় ভাসছেন ম্যাক্সওয়েল। বুধবার সকালে টুইটারে এ ব্যপারে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, ‘যারা আমাকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে তাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি অনেকটাই আবেগে আপ্লুত হয়ে যাচ্ছি। প্যাট কামিন্স ওখানে দারুন খেলেছে। মাঝে মাঝে আমি তার প্রতি রূঢ় হয়েছি, এ জন্য দুঃখিত।’
অথচ ব্যক্তিগত মাত্র ৩৩ রানে ফাইন লেগে মুজিব উর রহমানের সহজ ক্যাচে পরিণত হয়ে ম্যাক্সওয়েল ফিরে যেতে পারতেন। বিশ^কাপের ইতিহাসে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরির পথে আরো একবার তিনি জীবন ফিরে পেয়েছিলেন। ম্যাক্সওয়েল স্বীকার করেছেন এই ঘটনাগুলো তাকে ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে, ‘ফিল্ডিংয়ের সময় আজ খুব গরম ছিল। গরমের কারণে খুব বেশি অনুলীশন করিনি, যে কারণে পেশির টান অনুভব করি। কিন্তু সবকিছুর পরও ব্যাটিংয়ে স্থির থেকে যতক্ষন সম্ভব খেলা চালিয়ে যাবার পরিকল্পনা ছিল। এলবিডব্লিউর রিভিউ আমার পক্ষে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে ভাগ্য আমার সহায় ছিল। কোন সুযোগ না দিয়ে ইনিংসটি এগিয়ে নিয়ে গেলে সেটা আরো ভাল গতো। কিন্তু তারপরও আমি গর্বিত। আজকের এই ম্যাচের পর আমাদের ওপর সকলের আস্থা আরও বেড়ে গেছে। এভাবেই আমরা একটি দল হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই।’

গণতন্ত্রের নামে বিএনপি লাশের রাজনীতি করছে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রের নামে বিএনপি লাশের রাজনীতি করছে। এ দেশের রাজনীতিতে মানুষ পুড়িয়ে মারার যে পৈশাচিকতার প্রচলন বিএনপি করেছে, তা সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিপন্থি। সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণের নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদেও বলেন, ‘বিএনপি তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অবরোধের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি বিএনপির গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করার শক্তি ও সামর্থ্য নেই বলেই তারা বরাবরের মতো অগ্নিসন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মতো অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে আগুনের লেলিহান শিখায় পোড়াচ্ছে সারা দেশ; মেতে উঠেছে নির্বিচার ভাঙচুর ও সহিংসতায়।’
তিনি বলেন, ‘অগ্নিসন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করা, মানুষ হত্যা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। তথাকথিত সরকার পতনের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় তাদের অন্তরের জ্বালা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যর্থতার সেই আগুনে তারা বাংলার জনগণের আগামীর সম্ভাবনাকে পুড়িয়ে ছাই করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের অগ্নিসন্ত্রাস থেকে জীবন্ত-ঘুমন্ত মানুষ এবং নারী ও শিশু কেউই রেহাই পাচ্ছে না।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপি নেতারা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের নামে লাগাতার মিথ্যা, অপপ্রচার ও গুজব সৃষ্টি করছে। তাদের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস সৃষ্টির নির্দেশনা দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও গুমের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করছে। বিএনপির ক্যাডার বাহিনীর যারা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সন্ত্রাস ও নাশকতা চালাচ্ছে, তারা নিজেরাই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকছে। অথচ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বরাবরের মতো গুমের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করছে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিবেচনায় নয়, কেবলমাত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করছে। কোনো সন্ত্রাসী আত্মগোপনে থাকলে, তার দায় সরকারের ওপর চাপানো যায় না। আওয়ামী লীগ কখনো গুম, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস ও বিরোধী দল দমনের রাজনীতি করে না। গুম, খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি হলো বিএনপির মজ্জাগত আদর্শ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান এদেশে গুম ও খুনের অপরাজনীতির প্রচলন করেছিল।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, তৎকালীন সময়ে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ বাবুকে গুমের মধ্য দিয়ে এই ধারার সূচনা করে বিএনপি। সামরিক স্বৈরশাসক জিয়া ১৯৭৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সময়ের দেড় শতাধিক আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্যকে জেলে বন্দি রেখে নির্বাচন আয়োজন করেছিল। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থিতা বাতিল করে প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছিল। ২০০১-০৬ বিএনপি-জামায়াতের আমলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। তারা সংবিধান পরিপন্থি অপারেশন ক্লিনহার্টের মাধ্যমে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র, নাশকতা, ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আমরা বিশ্বাস করি যে, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জীবনমানের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সমৃদ্ধির চলমান অগ্রগতিকে যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখবে জনগণ।’

গাজায় ১৮ হাসপাতাল সেবা বন্ধ করে দিয়েছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার কারণে সেখানে মোট ১৮টি হাসপাতাল বাধ্য হয়ে সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে।
আল-জাজিরা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ‘রাষ্ট্র পরিচালিত আটটি হাসপাতালসহ মোট ১৮টি হাসপাতাল গাজা উপত্যকায় তাদের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। গাজার হাসপাতালের পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। বিশেষকরে উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালগুলোর অবস্থা এতই খারাপ যে তা বর্ণনাতীত।’
তিনি বলেন, ‘গাজার উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালগুলো ব্যাপক ওষুধ, খাদ্য এবং জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে।’
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে একটি সংগীতানুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ঘরবাড়িতে চালানো হামাসের ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছে। হামাসের হামলায় নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। হামাসের হামলার প্রথম দিনে নির্বিচারে গুলি করে ও পুড়িয়ে মারার এবং ২৩০ জনেরও বেশি লোককে জিম্মি করার পর ইসরায়েল গাজা অবরোধ করে এবং সেখানে ব্যাপক বোমা হামলা চালায়।
৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি দ্রুত তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে গাজায় হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে গাজায় চালানো ইসরায়েলের হামলায় ১০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এদের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি শিশু।
সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।