বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

বিশ্বাবাজারে সোনার দামে বড় পতন হয়েছে। এক সপ্তাহেই প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৫০ ডলার কমে গেছে। বিশ্ববাজারে এমন দাম কমলেও আগামী সোমবারের (১৩ নভেম্বর) আগে দেশের বাজার সোনার দাম কমার সম্ভাবনা কম। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এবং স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার দাম কমলে সোমবার দেশের বাজারে দামি এই ধাতুটির দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।
বিশ্ববাজারে সোনার লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শুরুতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল এক হাজার ৯৯২ ডলার। সপ্তাহ শেষে তা কমে এক হাজার ৯৩৮ ডলারে চলে এসেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে সোনার দাম কমেছে ৫৪ ডলার বা ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই দাম কমেছে ২০ দশমিক ১০ ডলার বা এক দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে সোনার দাম বাড়ানো বা কমানোর ঘোষণা দেয়। আগামী সোমবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে কমিটি।
এই দাম কমার আগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দফায় দফায় বাড়তে দেখা যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে দুই দফা সোনার দাম বাড়ানো হয়। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে দেশের বাজারে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা।
সর্বশেষে গত ৬ নভেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়। সে সময় সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৪ হাজার ৬২৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ৯৯ হাজার ৯০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

প্রাক্তনের আমন্ত্রণে সারার বাড়িতে হাজির কার্তিক!

সারা আলি খান ও কার্তিক আরিয়ানের প্রেমের চর্চা ইন্ডাস্ট্রির ‘ওপেন সিক্রেট’। যদিও অনেকে মনে করেন, এর নেপথ্যে রয়েছেন পরিচালক করণ জোহর। তাঁর শো কফি উইথ করণ -এ গিয়ে প্রথম বার কার্তিকের প্রতি ভাল লাগার কথা জানান সারা। শুধু তা-ই নয়, সম্পর্ক ভাঙার পর সে কথা স্বীকার করে নেন করণের শোতেই। তবে কখনওই নিজের প্রাক্তনের নাম নেননি সারা।
দিন কয়েক দিন আগেও করণের শোয়ের ৮ নম্বর সিজনে অতিথি হয়ে আসেন সাইফ-কন্যা। সেখানেই কার্তিকের প্রসঙ্গ তুলে খোঁচান করণ। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উত্তরও দেন সারা। সেখানে এসে সারা স্বীকার করে নেন, তাঁর পুরনো প্রেম এখন বন্ধুত্বে বদলে গেছে। সেই কারণেই সম্প্রতি সারার বাড়ির দীপাবলির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান কার্তিক। হলুদ কুর্তা-পাজামা পরে প্রাক্তন প্রেমিকার বাড়িতে হাজিরও হন তিনি। তবে মুখে এক ফোঁটা হাসি নেই তাঁর। এমন গম্ভীর কার্তিককে আগে কখনও দেখা যায়নি।
এমনিতে হাসিখুশি। ছবিশিকারি থেকে অনুরাগী— কাউকেই ফেরান না। কিন্তু সারার বাড়ির বাইরে মুখ গম্ভীর করে দেখা মিলল কার্তিকের। ছবি তুললেন, তবু হাসি নেই। তবে অভিনেতার এমন রাগী-রাগী মুখ দেখে কর্ণ জোহরকে দুষলেন নেটাগরিকরা। সম্প্রতি করণ তাঁর শোয়ে জিজ্ঞেস করেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও কি প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা সম্ভব? উত্তরে সারা জবাব দেন, সহজ নয়। পরে পুরোটা বাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘‘ব্যাপারটা মোটেও সহজ নয়। যে কোনও সম্পর্কে, সেটা প্রেম হোক বা বন্ধুত্ব বা পেশাদার সম্পর্ক, আমি খুবই গভীর ভাবে জড়িয়ে যাই। তাই সম্পর্ক ভেঙে গেলে বন্ধুত্ব রাখাটা খুব সহজ, সেটা কখনওই বলতে পারব না।”

১৪ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার জেলায় শেষ হওয়া ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৪টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টা নাগাদ তিনি এগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এরপর তিনি যোগ দেবেন মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন টাউনশিপ মাঠে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায়। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
এর আগে সকালে সমুদ্রের শহরে গিয়ে চট্টগ্রাম (দোহাজারী)-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন করেন সেখানে স্থাপিত আইকনিক রেল স্টেশনও।
দুপুর ১টায় উদ্বোধনের পর আইকনিক রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে ১টা ২১ মিনিটে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সবুজ পতাকা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর হুইসেল বাজানোর মাধ্যমে ১টা ২৭ মিনিটে কক্সবাজার থেকে রামুর উদ্দেশে ছেড়ে যায় একটি ট্রেন।

ট্রেনে ২৬ মিনিটে কক্সবাজার থেকে রামুতে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে ২৬ মিনিটে রামুতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১টা ২৮ মিনিটে লাল-সবুজের ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে রামুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বেলা ১টা ৫৪ মিনিটে ট্রেনটি রামু স্টেশনে পৌঁছায়। ২৬ মিনিটের ট্রেন যাত্রায় সরকারপ্রধান বিভিন্ন বগিতে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কথা বলেন সাংবাদিকের সঙ্গেও।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য বেলা ১১টার দিকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
দুপুরে কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইন ও কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নিয়ম অনুযায়ী পতাকা উড়িয়ে ও হুইসেল বাজানোর মাধ্যমে এ রুটে ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন তিনি।
বেলা ১টা ২৮ মিনিটে কক্সবাজার স্টেশন থেকে ট্রেনটি রামুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বেলা ১টা ৫৪ মিনিটে ট্রেনটি রামু স্টেশনে পৌঁছায়।
রেলপথ যাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান প্রমুখ।

কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার রেল যোগাযোগের মাধ্যমে সমগ্র দেশকে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রেল পরিষেবা, গতি ও পরিবহনকে বিশ্বমানের করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সমগ্র বাংলাদেশ থেকে কক্সবাজার (রেল সংযোগের মাধ্যমে) যাত্রা সহজ করতে ব্যবস্থা নেব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার অপরাহ্নে নবনির্মিত রেল স্টেশনের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আইকনিক কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো।
তিনি বলেন, তিনি নিজেসহ দেশবাসী এখন কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, রাজশাহী, দেশের দক্ষিণাঞ্চল, সুন্দরবন পর্যন্ত রেলপথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
মজার সুরে তিনি আরও বলেন, ‘কেন গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়াকে ছেড়ে দেওয়া হবে (রেল সংযোগ থেকে) তার মানে সারা বাংলাদেশ কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত হবে।’
সরকারপ্রধান বলেন, কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করায় দেশের মানুষ এখন গর্ববোধ করছে।
তিনি বলেন, ‘আজকে কক্সবাজার রেল যোগাযোগের সাথে যুক্ত হয়েছে। এই দিনটি গর্বিত হওয়ার দিন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পেরে সত্যিই খুব খুশি হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি রেলপথ উদ্বোধন করে আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। এটা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আজ সেই দাবি পূরণ হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম এবং দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী রেলস্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয় শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার অথবার রাজশাহী থেকে কক্সবাজার, দক্ষিণাঞ্চল সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার এমনটি গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশ থেকেই যাতে সহজে কক্সবাজার আসা যায় সেই পদক্ষেপও আমরা নেব। এই যোগাযোগগুলো সম্পন্ন হলে আমাদের পর্যটনের ক্ষেত্রে একটা বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি বিশ^াস করি।
তিনি ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় একটি দাবি শুনে এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন ছিল। কাজেই এই দোহাজারী থেকে কক্সবাজার কবে রেললাইন আসবে? সেকথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে এটা করতে পারায় তিনি খুবই আনন্দিত। এটা রামু পর্যন্ত করা হয়েছে এবং গুমধুম পর্যন্ত করার কথা। এ জন্য আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসতে চাই। ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ের সাথে আমরা সংযুক্ত হতে চাই। সেটা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তায়নের সময় ৩৯টি মেজর ব্রীজ করতে হয়েছে, ২৪৪টি ছোটও মাঝারি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, ৯টি স্টেশন ও আধুনিক কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিগনালিং ব্যবস্থা ইনস্টল করা হয়েছে। একটি ওভারপাস ও দুটি আন্ডারপাস ও নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রেললাইনটা চকোরিয়া থেকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও পাওয়ার পাøান্ট এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে যাতে সংযুক্ত হয় তার ব্যবস্থাও আমরা করে দেব। যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো উন্নত হয়।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মিলে সম্প্রতি খুলনা থেকে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত ব্রডগেজ রেল চলাচলের উদ্বোধন করেছে। যে লাইনটা এক সময় খালেদা জিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল।

পাশাপাশি ঢাকা-টঙ্গী-গাজীপুর ডুয়েল গেজ লাইনও নির্মাণ করা হচ্ছে। রেলের যাত্রীসেবা ও পণ্য পরিবহনের মানোন্নয়নে আরও ৪৬টি নতুন ব্রডগেজ লোকামোটিভ, ৪৬০টি নতুন যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ২০০টি নতুন মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ১৩১০টি নতুন ওয়াগন সরবারহের উদ্যোগও তাঁর সরকার হাতে নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাতে উন্নীত হয় সেই পদক্ষেপই আমরা নিয়েছি এবং সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।
বিগত ১৫ বছরের বাংলাদেশকে তাঁর সরকার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি আমলে যেখানে ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট ছিল সেখানে তাঁর সরকার এবার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে।
এমনকি দুই হাতে রিজার্ভের অর্থ ব্যয় করে করোনাকালিন জনগণকে বিনাপয়সায় ভ্যাকসিন দেওয়ার পাশাপাশি সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রেখেছে। যা অনেক উন্নত দেশও পারেনি। ফলে সেখানে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে।
এ সময় বিশ^মন্দার প্রভাবে দেশে যেন কখনো খাদ্যাভাব না হয় সেজন্য দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় নিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় এত উন্নয়নের পরও যারা উন্নয়ন দেখে না সেসব চোখ থাকতে অন্ধদের তাঁর সরকারের করে দেওয়া আধুনিক জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউটে ১০ টাকার টিকিট কিনে চোখের চিকিৎসা করাবার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, আসলে এটা তাদের চোখের দোষ নয়, মনের দোষ। আজকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা, বাসে, রেলে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আমরা রেলের জন্য যেসব নতুন লোকামোটিভ এনেছিলাম সেগুলোও আগুন দিয়ে তারা পুড়িয়েছে। যারা এত বীভৎস কাজ করতে পারে এই দুর্বৃত্তপরায়ণতায় যারা জড়িত তাদের চোখ নয় আসলে মনই অন্ধকার। কাজেই এদের ব্যাপারে সকলকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ, এরা ধ্বংস জানে সৃষ্টি করতে পারে না। আমরা সৃষ্টি করি, আর তারা ধ্বংস করে। কিন্তু এই ধ্বংস যেন আর করতে না পারে। মানুষকে পুড়িয়ে মারবে এটা সহ্য করা যায় না।
তিনি এই আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যকরী এবং গতিশীল রাখতে ট্রেনের ক্যারেজ, প্লাটফর্ম, ষ্টেশনসহ আশাপাশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন বজায় রাখার এবং এগুলো ব্যবহারে যতœবান হওয়ারও আহবান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন,‘আপন সম্পদ মনে করে যতœ নিয়ে এর ব্যবহার করবেন। সারা বাংলাদেশে অনেক রেলস্টেশন রয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারের এই ৬ তলা রেলস্টেশনটি সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও সুন্দর।’
রেল লাইন উদ্ধোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই টিকিট কেটে কক্সবাজার থেকে রামু যাওয়ার ট্রেনে চড়েন। প্রধানমন্ত্রীর হুইসেল ও সবুজ পতাকা নেড়ে ট্রেন চলাচলের যাত্রা শুরু করেন।
টেনে চড়ে সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তাঁর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দেশ ও জনগণের উন্নয়নই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য উল্লেখ করে সারাদেশে পর্যটন রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করার পরিকল্পনাও তাঁর সরকারের রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
খবর বাসস

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পতনের দ্বার প্রান্তে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, গাজা উপত্যকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘পতনের দ্বার প্রান্তে’ পৌঁছেছে। অঞ্চলটির ৩৬টি হাসপাতালের অর্ধেক আর কাজ করছে না।
নিরাপত্তা পরিষদের সাথে কথা বলার সময়, টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস গাজার সরজেমিন পরিস্থিতিকে ভয়ংকর বলে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘হাসপাতালের করিডোরগুলো আহত, অসুস্থ, মৃত ব্যক্তিদের দ্বারা ঠাসা; মর্গগুলো উপচে পড়ছে; অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার; হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ হাসপাতালে আশ্রয় নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ‘পতনের দ্বার প্রান্তে’ আছে এবং তবুও জীবন রক্ষাকারী সেবা প্রদান করা অব্যাহত রয়েছে।’
টেড্রোস বলেছেন, গাজা এবং পশ্চিম তীরে স্বাস্থ্যসেবার উপর ২৫০টিরও বেশি আক্রমণ হয়েছে, যেমন হাসপাতাল, ক্লিনিক, অ্যাম্বুলেন্স এবং রোগীদের ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
মিশরের সাথে রাফাহ ক্রসিং সহায়তা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের এবং তারা যে লোকেদের সেবা করে তাদের সমর্থন করার সর্বোত্তম উপায় হল তাদের সেই যতœ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো দেওয়া, যেমন ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং হাসপাতালের জেনারেটরগুলোর জন্য জ্বালানি।’
ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারি গাজার শিশুরা কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ছোটবেলায় আমি একই জিনিসের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। হাওয়ায় গুলির শব্দ এবং গোলাগুলির শব্দ; তারা আঘাত করার পরে ধোঁয়ার গন্ধ; রাতের আকাশে ট্রেসার বুলেট; ভয়, যন্ত্রণা, ক্ষতি -এই জিনিসগুলো আমার সাথে সারা জীবন থেকে গেছে।’
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান মারওয়ান জিলানি এক ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদকে ‘আরো মৃত্যু ও দুর্ভোগ এড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করার’ জন্য সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছেন। কাউন্সিল যুদ্ধের বিষয়ে বিভক্ত এবং এটি একটি যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব জারি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি গাজা শহরের আল-কুদস হাসপাতালের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, শুক্রবার ইসরায়েলি স্নাইপাররা এই হাসপাতালে গুলি চালিয়েছে। জিলানি বলেন, ‘আমাদের চরম উদ্বেগ হল আহত ও অসুস্থ সকলের জীবনের জন্য সরাসরি হুমকি, হাজার হাজার শিশু সহ হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের’ জীবন নিয়ে উদ্বেগ।
জিলানি বলেন, ‘তারা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে, আপনাকে অন্য একটি সম্ভাব্য গণহত্যার ঘটনা বন্ধ করার জন্য কাজ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নিরাপত্তা পরিষদ হামাসের হামলার শিকার গাজায় ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহত বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি যুদ্ধে নিহত সাংবাদিক ও জাতিসংঘের কর্মীদের সম্মান জানাতে এক মিনিট নীরবতার মাধ্যমে তার বৈঠক শুরু করে।

ডিসেম্বর থেকেই চালানো যাবে ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন : রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, আমরা আশা করছি আগামী এক ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার এবং কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চালাতে পারব। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৬টি নাম পাঠানো হয়েছে। তিনি এখান থেকে একটি নাম রাখতে পারেন বা কোন নাম দিতে চাইলে আমরা ট্রেনের জন্য সেই নামটি রাখব।
আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশকে বিবেচনায় রেখে ইলেকট্রিক ট্র্যাক সেকশনে যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি। যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সমস্ত রেল ব্যবস্থা ইলেকট্রিক ট্র্যাক সেকশনে করানো সম্ভব হয়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নান্দনিক রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেছেন। একই সময়ে তিনি দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনেরও উদ্বোধন করেছেন।
আজ শনিবার দুপুর ১টায় তিনি রেলপথ ও রেলস্টেশন উদ্বোধন করেন।
দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১০ সালের ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। মেগা প্রকল্প হিসেবে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে টেন্ডার হলে দোহাজারি-চকরিয়া এবং চকরিয়া-কক্সবাজার (লট-১ ও লট-২) এই দুই লটে চীনা প্রতিষ্ঠান সিআরসি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন) ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান তমা কনসট্রাকশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পায়। কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০১৮ সালে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সেই হিসেবে আজ পর্যন্ত অনুমোদনের ১৩ বছর ৪ মাস ৪ দিন পর প্রকল্পটির উদ্বোধন হয়। এই ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার। আজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের ৪৮তম জেলা হিসেবে যুক্ত হলো কক্সবাজার।

রাশিয়ার দুটি উভচর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে ইউক্রেন

ইউক্রেনের নৌ-ড্রোনগুলো ক্রাইমিয়ায় রাশিয়ার দুটি ছোট উভচর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে বলে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে।
তারা জানায়, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দেশটির সেনারা রাশিয়ার আরও হামলা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ে ক্রাইমিয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। রাশিয়ার হামলার ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর আভদিইভকায় আবারও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ক্রাইমিয়ার পশ্চিমে ভুজকা বে-তে হামলাটি হয় বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, উল্লেখযোগ্য এই হামলায় রাশিয়ার বেশ ক্ষতি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে এসব দাবি যাচাই করে দেখতে পারেনি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য আসেনি।
কথিত এক গণভোটের ফলের ভিত্তিতে ইউক্রেনীয় উপদ্বীপ ক্রাইমিয়াকে ২০১৪ সালে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় রাশিয়া। দেশটির কৃষ্ণ সাগরীয় নৌবহরের সদরদপ্তর ক্রাইমিয়ার বন্দর শহর সেভাস্তপোলে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে রাশিয়ার দুটি ছোট উভচর জাহাজে আঘাত হানা হয়।
পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, নৌ-ড্রোন দিয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া উভচর জাহাজ দুটির মধ্যে একটি হল আকুলা শ্রেণির এবং অপরটি সেরনা শ্রেণির অবতরণ জলযান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১০ নভেম্বর, ২০২৩ ক্রাইমিয়ার ভুজকা বে-র কাছে গোয়েন্দা বাহিনীর পরিচালিত নৌ-ড্রোন হামলায় এই ফল আসে, রাশিয়ার দুটি ছোট অবতরণ জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার পরিণতিতে উভয় জলযানই ডুবে যায়, আকুলা সরাসরি ডুবে যায় আর সেরনাকে রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়ার পর (সেটি ডুবে যায়)।’
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার উভচর জাহাজ দুটিতে বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যান উঠানো হয়েছিল এবং সেগুলোতে ক্রুরা ছিলেন।
ইউক্রনের সামরিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আন্দ্রি রেইজেনকো রেডিও এনভিকে বলেছেন, ‘এ ধরনের জলযান হারানো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি। এসব জাহাজ দিয়ে অনেকটা অলক্ষ্যে কৌশলগত স্থল বাহিনী ও সরঞ্জাম পরিবহন করা যায়।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, নৌবাহিনীর লক্ষ্যস্থলগুলোর ওপর আক্রমণের কারণে ওই এলাকায় মস্কোর সামরিক শক্তি হ্রাস পেয়েছে। এ হামলার পর রাশিয়ার কিছু জাহাজ সেভাস্তপোল থেকে চলে গেছে।

‘বঙ্গবন্ধু রেল সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেছেন, যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ ৭২ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ওপর ডাবল লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
আজ শনিবার সকালে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার প্রকল্প সরকারের একটি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প। এটি আমরা আজ উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। এই রেলপথ চালুর ফলে ঢাকা-কক্সবাজার সড়ক ও মহাসড়কের ওপর চাপ অনেক হ্রাস পাবে। সহজ হবে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন। এই রেলপথ চালুর ফলে কক্সবাজারের সঙ্গে শুধু ঢাকাই নয়, বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরাঞ্চলে এবং পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের পথও সুগম হলো।
মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে একটি আইকনিক রেলস্টেশন তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস, ওভারপাস এবং হাতি চলাচলের জন্য এলিফ্যান্ট পাস নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিকল্পনা করেছে এই পথে যেসব ট্রেন চলবে, সেসব ট্রেনের ইঞ্জিনে সেন্সর থাকবে। এতে করে দূরে কোনো বন্য প্রাণী থাকলে সহজেই চালক যাতে বুঝতে পারে।
দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। মেগা প্রকল্প হিসেবে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এক ভিসায় ভ্রমণ করা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

ইউরোপের শেনজেন ভিসার মতো এবার নতুন ভিসা পদ্ধতি চালু হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যেও। সর্বসম্মতিক্রমে এই অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত ‘ইউনিফায়েড ট্যুরিজম ভিসা’ বা একক ভিসা ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলো। এর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে সূচনা হলো নতুন এক যুগের।
বৃহস্পতিবার আবুধাবিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি ওমানে জিসিসি মন্ত্রীদের ৪০তম বৈঠকের পর সংস্থাটির মহাসচিব জসিম আল বুদাউই একক ভিসা ব্যবস্থায় অনুমোদনের ঘোষণা দেন। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ছয় দেশের ব্লক জুড়ে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এটি চালু হলেই এক ভিসায় জিসিসিভুক্ত ছয় দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও কাতার ভ্রমণ করা যাবে।
এ ঘোষণার পর জসিম আল বুদাউই বলেন, ইউনিফায়েড গালফ ট্যুরিস্ট ভিসা এমন একটি প্রকল্প, যা জিসিসির ছয়টি দেশের মধ্যে বসবাসকারী ও পর্যটকদের চলাচল আরো সহজ করতে অবদান রাখবে। অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতেও নিঃসন্দেহে এ প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক বলেছিলেন, ইউনিফায়েড ভিসা হলো জিসিসির ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অন্যতম প্রধান উপাদান। এর মূল লক্ষ্য, ভ্রমণ খাতের বিস্তৃতি বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা গতিশীল করা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই ছয় দেশে পর্যটকের সংখ্যা ১২ কোটিতে উন্নীত করতে চায়।
এইচএসবিসির তথ্যানুসারে, বৈশ্বিক অর্থনীতির খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো অবস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত। বিশেষ করে, করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে এই খাত থেকে আয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জিসিসির একক ভিসা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হবে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইউরোপের ২৭টি দেশে ‘শেনজেন ভিসা’ চালু রয়েছে। যার মাধ্যমে এই দলভুক্ত যে কোনো একটি দেশের ভিসা দিয়ে বাকি ২৬টি দেশে ভ্রমণ করা যায় ও যে কোনো কাজে একটি দেশে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। ইউরোপ ভ্রমণকারীদের কাছে এই ভিসা সোনার হরিণের মতো। শেনজেনভুক্ত দেশগুলো হলো—সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, আইসল্যান্ড, ইতালি, এস্তোনিয়া, গ্রিস, চেক রিপাবলিক, মাল্টা, লুক্সেমবার্গ, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্পেন, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, লিচেনস্টাইন, সুইডেন, হাঙ্গেরি ও ক্রোয়েশিয়া।