বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

হজের নিবন্ধন শুরু ১৫ নভেম্বর

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে যাচ্ছে হজের নিবন্ধন। নিবন্ধনের টাকা জমা নেওয়া হবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীরা আগামী বছর হজের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
আজ রোববার (১২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আগামী বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমের কোটায় ১০ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি কোটায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন হজ পালন করতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে।
সরকারিভাবে হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ হবে। বিশেষ হজ প্যাকেজের ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা খরচ হবে। সরকারি হজ প্যাকেজের সঙ্গে সমন্বয় করে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে। প্রাক-নিবন্ধনের সময় নেওয়া ২৯ হাজার টাকা বাদে প্যাকেজের বাকি টাকা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীরা নিবন্ধনের আগে হজ প্যাকেজ সম্পর্কে অবহিত হয়ে নিবন্ধন করবেন, নিবন্ধনের পর প্যাকেজ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
হজের খরচ কোনো কারণে বাড়লে তা প্যাকেজ মূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে তা পরিশোধ করতে হবে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। হজযাত্রীর সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ করে হজ এজেন্সি হজযাত্রীর সঙ্গে লিখিত চুক্তি করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে হুইল চেয়ার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে নিজ উদ্যোগে হুইলচেয়ার সংগ্রহ করতে হবে। বিমান টিকিট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ দায়িত্বে টিকিট পরিবর্তন করতে হবে।

এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১২ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনি এই কারখানার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সার কারখানা স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করেন। এর আগে বেলা ১২টার কিছু আগে এখানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
নরসিংদীর পলাশে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব এই কারখানায় বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে। দিনে উৎপাদন হবে ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবরে কারখানার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু হলে প্রকল্পের অবকাঠামোর কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়। পরে একই বছরের ১৬ আগস্ট পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু হয়। যার দায়িত্ব পায় চীনের সিসি সেভেন এবং জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এরপর ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
১১০ একর জমির ওপর নির্মিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ২১ লাখ টাকা আর জাপান ও চীনের ঠিকাদারদের যৌথ কনসোর্টিয়াম ব্যাংক অব টোকিও-মিৎসুবিশি ইউএফজে লিমিটেড ও দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড ১০ হাজার ৯২০ কোটি টাকার ঋণ দেয়।

খালেদা ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্যসেবা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। এই সময়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক করবো সেই পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। প্রায় ১০ হাজারের মতো ক্লিনিক আমরা নির্মাণ করি এবং চার হাজার চালু করি। একবছরের মধ্যে এর সাফল্য পায় ৭০ ভাগ। মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কারণ বিনা পয়সা সেখানে ওষুধ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তখন বিএনপি ক্ষমতা আসে। প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া, সাথে সাথে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেন। স্বাস্থ্যসেবা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করেন। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে দ্বিতীয় জাতীয় কুষ্ঠ সম্মেলন-২০২৩ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি, জনগণের সেবার সুযোগ পাই। তখন থেকে আমাদের প্রচেষ্টায় এদেশের মানুষকে, বিশেষ করে তাদের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, এটা জাতির পিতাই শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে যাতে প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে ওঠে, তার জন্য প্রাইভেট হাসপাতালের সব যন্ত্রপাতির ওপর ট্যাক্স, বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসার জন্য ট্যাক্স একেবারে শূন্য করে দেই। বেসরকারি উদ্যোক্তা যাতে সৃষ্টি হয় তাদের উৎসাহিত করি। তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা করে দেই। যার জন্য সারা বাংলাদেশে প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সারাটাজীবন আমার বাবা সংগ্রাম করেছিলেন। সে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারছি। তার সেই স্বপ্নপূরণে আমার একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগ নির্মূল করা যে সম্ভব এই সম্মেলন মধ্য দিয়ে আমাদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা আমরা সঞ্চয় করবো। আমরা কী কী কাজ করেছি সেগুলো প্রচার আমরা সুযোগ পাচ্ছি। প্রথমবার যখন আমরা সরকারে আসি তখন স্বাস্থ্যসেবার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেই।

সরকারপ্রধান বলেন, ৯৬ সালে সরকারে এসে বাংলাদেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেই। তার কার্যক্রম শুরু করি।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবার মানুষের স্বাস্থ্যসবার থেকে বিশেষ নজর দেই। এর ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করি। আমি ধন্যবাদ জানাই জাতিসংঘকে, জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ, তাদের সকলের সম্মতিতে কমিউনিটি ক্লিনিককে সার্বজনীক স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চিন্তাটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব ছিল। এটা আমি নিজেই লিখেছিলাম। আমাদের স্বাস্থ্য সচিব ছিলেন মোহাম্মদ আলী সাহেব, তার বাড়ি নরসিংদী, আমি তাকে দিয়ে বলি যে আমার এ ধরনের একটা ধারণা আছে, এটা কার্যকর করা যায় কি না, যারা বিশেষজ্ঞ তাদের নিয়ে যাচাই করে দেখবেন। প্রায় ছয় মাসের ওপর তিনি এটা নিয়ে কাজ করেন। এটা নিয়ে আলোচনা হয়, তারপর আমরা এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সবগুলো থেকেই মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি, সম্পূর্ণ বিনা পয়সা।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে আমরা পোলিও নির্মূল করেছি। মা ও শিশুর মৃত্যুহার আমরা হ্রাস করেছি। টিকাদানে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। টিকাদান কার্যক্রম সারাবিশ্বেই প্রশংসিত হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খেয়েছে, আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে সেখানে আমরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেখেছি অনেক কুষ্ঠরোগী মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে একটা সুর করে করে তারা ভিক্ষা চাইতে আসতো। যে কোনো অকেশনে তারা আমার কাছে আসতো। আমি তাদের কখনো অবহেলা করিনি। তারা এলে বসাতাম, খাবার দিতাম। টাকা দিয়েও সহযোগিতা করতাম। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম যে, সরকারে যেতে পারলে তাদের জন্য ব্যবস্থা করবো। সে ব্যবস্থাটা আমি করেছি। কারণ তারা এক ধরনের প্রতিবন্ধিত্ব জীবনযাপন করে। আমি সব স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার-নার্স, বিভাগ, সংস্থা, সেই সাথে সব নাগরিককে কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবহেলা না করে, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, এরা আমাদের সমাজের অংশ, পরিবারের অংশ, একটা বাচ্চা শিশু যদি হিজড়া বা প্রতিবন্ধী হয়- তার বাবা-মা ফেলে দিতে পারে না। ফেলে দেওয়া উচিত না। আমরা কেন ফেলে দেবো? তারা সম্পদেরও অংশীদার, এটা আমাদের ইসলাম ধর্মেও আছে। কুষ্ঠরোগ চিকিৎসা করলে ভালো

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া, স্বাস্থ্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

কুষ্ঠরোগীদের কেউ দূর-দূর ছেই-ছেই করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসুন কুষ্ঠরোগীদের প্রতি আন্তরিকতা দেখিয়ে, পাশে থেকে তাদের আমরা সুস্থ করে তুলি। তারা আমাদেরই আপনজন। কুষ্ঠরোগীদের কেউ আর দূর-দূর, ছেই-ছেই করবেন না, এটা আমার অনুরোধ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠরোগ নির্মূলে আমার সরকার দৃঢ় অঙ্গীকার করছে।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দ্বিতীয় কুষ্ঠরোগ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যখন সরকার ক্ষমতায় ছিলাম। আমরা সারাদেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তখন প্রায় ১০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক আমরা নির্মাণ করি এবং এর মধ্যে ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালুও করেছিলাম। মাত্র এক বছরের মধ্যে সাফল্য প্রায় ৭০ ভাগের উপরে ছিল। মানুষের অনেক সাড়া পড়ে। কারণ বিনা-পয়সায় সেখানে ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। তখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েই কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। স্বাস্থ্যসেবা থেকে মানুষকে তারা বঞ্চিত করে। যাইহোক পরে ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসি। এরপর থেকে আমরা আবারও মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দিকে বিশেষভাবে নজর দিই। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমরা এমডিজি, ভ্যাকসিন হিরোসহ বিভিন্ন সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেছি।

তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে একটা বিরূপ ধারণা আছে। সবাই মনে করতো এটা একটা ছোঁয়াচে রোগ। তাই এ ধরনের রোগীদের কাছে কেউ যেতে চাইত না। আমি যখন এ ধরনের রোগীদের কাছে যেতাম তাদের সঙ্গে বসে কথা বলতাম, আমাকে অনেকে মানা করত। কিন্তু আমি তাদের বলতাম, এটা তো ছোঁয়াচে রোগ না। এই রোগ নির্মূলে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিই। ১৯৯৮ সালে আমরা কুষ্ঠরোগ নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, মেডিকেল সায়েন্সের ওপর গবেষণা করা আমাদের খুব বেশি দরকার। আপনারা সবাই কিন্তু এ বিষয়ে গবেষণাটা খুব কমই করেন। এখানে যদি দয়া করে আপনারা গবেষণাটা করেন, তাহলে আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত যত রোগ আছে সেগুলোর সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পেয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারব।

এবার যুবরাজ সিংয়ের ‘বায়োপিক’ নিয়ে আসছেন আমির খান!

বায়োপিক নির্মাণ যেন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে বলিউডে এখন। অন্যান্য ক্ষেত্রের তারকাদের পাশাপাশি ক্রীড়াবিদের নিয়েও কম তৈরি হচ্ছে না। এবার সেই তালিকাতে এসেছে চলেছে যুবরাজ সিংয়ের নাম। এই ক্রিকেটারের জীবনী নিয়ে সিনেমা তৈরি করবেন আমির খান বলে জানা গেছে ।

বলিউড সূত্রে জানা গেছে, এবার বড় পর্দায় দেখা যাবে ক্রিকেটার যুবরাজের জীবনকাহিনি। যে সিনেমার প্রযোজনা করতে চলেছেন আমির খান। ইতোমধ্যে নাকি যুবরাজের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে কথাবার্তা সেরে ফেলেছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’।

যদিও এ প্রসঙ্গে এখনো পর্যন্ত দুই তারকার কেউই মুখ খোলেননি! তবে শোনা যাচ্ছে, বায়োপিকে যুবির ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পাশাপাশি মারণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের কাহিনিও দেখাবেন প্রযোজক আমির।

যুবরাজ সিংয়ের জীবন বেশ রঙিন, একই সঙ্গে অন্ধকারও। শুধু ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয় নয়, ক্যান্সারকেও হারিয়েছেন তিনি। মারণরোগের বিরুদ্ধে যুবরাজের লড়াইয়ের এই কাহিনিও সিনেমায় দেখাতে চান প্রযোজক আমির।

প্রসঙ্গত, আমির খানকে সর্বশেষ দেখা গেছে ২০২১ সালে ‘লাল সিং চাড্ডা’তে। সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। বিগত সাত বছরে বক্স অফিসে ‘হিট’-এর মুখ দেখেননি আমির খান।

প্রথমে বিগ বাজেট ‘ঠাগস অফ হিন্দোস্তান’, পরে ‘লাল সিং চাড্ডা’। তার পর থেকেই মুষড়ে পড়েছেন আমির খান। লাইমলাইটের আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন। বিরতি নিয়েছেন অভিনয় থেকেও। তবে কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর ঘোষণা করেন আমির খান। তিনি জানান, তার এবং তার প্রডাকশনের আগামী সিনেমার নাম ‘লাহোর ১৯৪৭’। এতে অভিনয় করবেন সানি দেওল এবং পরিচালনা করবেন রাজকুমার সন্তোষী। সানি ও রাজকুমার সন্তোষীর সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছেন আমির, এমনটাই জানান অভিনেতা।

আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে : খাদ্যমন্ত্রী

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আলোকিত ও বিকশিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানান পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করেছে।ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এর গুরুত্ব অনেক। এমন কোনো মসজিদ নেই যেখানে সরকারের অনুদান পৌঁছায়নি। অথচ অনেকে অপপ্রচার করে বেড়ায় যে, আওয়ামী লীগ ইসলামবিদ্বেষী। এই অপপ্রচার যারা করে তারা এ দেশে ইসলামের কোনো উন্নয়ন করেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ইসলামের প্রসারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
নিয়ামতপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সরকার কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমতিয়াজ মোর্শেদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বিপ্লব এবং নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবেদ হোসেন মিলন উপস্থিত ছিলেন।

তালিকা তৈরি, আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে: বিপ্লব সরকার

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। অন্যদিকে সরকারি দল ও তাদের শরীকরা বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে আগ্রহী।
এক দফা দাবিতে হরতাল-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলো। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে ও পরে যাত্রীবাহী বাস-ট্রাকে আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে পুলিশ।
বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিকল্পনা নিয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতকারে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, যে কোনো ধরণের নাশকতা ঠেকাতে ডিএমপির ৩০ হাজার সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে। নাশকতা ঠেকাতে ইতোমধ্যেই অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও নামের তালিকা তৈরি হয়েছে, সামনে অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে।
এ সময় বিপ্লব কুমার বলেন, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কেউ যদি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে, তাহলে তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, এমন কোনো শক্তি এখন ঢাকার শহরে নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সামনে আরও কঠোর হবো, আইন প্রয়োগে পুলিশ বিন্দুমাত্র পিছ পা হবে না।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধরণের নাশকতা ঠেকাতে ডিএমপির ৩০ হাজার সদস্য সদা প্রস্তুত উল্লেখ করে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বলেন, পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে আমরা মারণাস্ত্র ব্যবহার করবো কী-না।
এ সময় তিনি জানান, নামের তালিকা তৈরি হয়েছে, সামনে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আঘাত করে পুলিশের মনোবলকে কখনোই দুর্বল করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন বিপ্লব কুমার সরকার।

আমদানি শুরুর পর ডিম-আলুর দাম কমছে : বাণিজ্য সচিব

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, দেশে সাধারণত আলু ও ডিম আমদানি করতে হয় না। শুধু পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। এখন ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ডিম ও আলু আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ার পর এখন বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।
আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) ১১টার দিকে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে টিসিবির পণ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন বাংলাদেশের মতো ভারত, মিয়ানমারেও বেশি। তাই দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডিসেম্বরে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ যখন বাজারে চলে আসবে তখন দাম কমবে।
পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামানন্দ পাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী, ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ প্রমুখ।
ফরিদপুরে ৭৭ হাজার ৬০৫ জনের ভেতর টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। ৪৭০ টাকার প্যাকেজে থাকছে দুই কেজি তেল, দুই কেজি ডাল ও পাঁচ কেজি চাল।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। আরেকটি দল আছে তারা মানুষের সম্পদ লুট করে খায়। খুন, বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা ও চোরাকারবারি করে।
আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন টাউনশিপ মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর চলমান অবরোধ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা শুধু ধ্বংস করতে জানে, ওরা মানুষের কল্যাণ করতে জানে না। ওদের থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে এদেশের জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট চান সরকারপ্রধান।
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগই পারবে, অন্য কেউ পারবে না। কারণ তাদের দায়িত্ববোধ নেই। মনুষত্ববোধ থাকলে কেউ জীবন্ত মানুষকে পুড়ে হত্যা করতে পারে না। তারা মানুষকে পুড়ে মারছে। গাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। ওরা শুধু ধ্বংস করতে জানে, কল্যাণ জানে না। ওদের থেকে সাবধান থাকবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। হাত তুলে দেখান। তখন উপস্থিত জনতা হাত তুলে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন। সরকারপ্রধান তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের উন্নতি হয়। কারণ আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশ এক নয়। বাংলাদেশ এখন বদলে গেছে। কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। আগামীতে আবার নির্বাচন আসছে। আপনারা আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে বাকি কাজ করার সুযোগ দেবেন।
শিগগির মূল্যস্ফীতি কমে আসবে এমন আশ্বাস দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, যখন যুদ্ধ বাঁধল রাশা-ইউক্রেন; স্যাংশন-কাউন্টার স্যাংশন, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি একটু বেড়েছে, কিন্তু সেটাও নিয়ন্ত্রণের আমরা চেষ্টা চালিয়েছি, ইনশাল্লাহ খুব শিগগির এই মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে। মানুষ আরও ভালোভাবে চলতে পারবে, থাকতে পারবে।

দ্রব্যমূল্য বাড়লেও মানুষের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যখন পণ্যমূল্য বেড়ে গেছে, আমরা উপকরণভোগী কার্ড দিচ্ছি। ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। যখন সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, আমাদের জেলেদের কার্ড দিয়েছি এবং আমরা তাদের খাদ্য সহযোগিতা দিয়ে থাকি এবং বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকি। যাতে মানুষ কষ্ট না পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কক্সবাজারকে ভালোবাসতেন জানিয়ে এই জেলার জন্য নেওয়া নানা উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মাতারবাড়ী পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর কক্সবাজার জেলায় শেষ হওয়া ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং চারটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মহেশখালীসহ পুরো জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে মাতারবাড়ীসহ পুরো মহেশখালী। নির্ধারিত সময়ের আগেই জনসভাস্থলে মানুষের ঢল নেমেছে।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য বেলা ১১টার দিকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
দুপুরে কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইন ও কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নিয়ম অনুযায়ী পতাকা উড়িয়ে ও হুইসেল বাজানোর মাধ্যমে এ রুটে ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন তিনি। মাত্র ২৬ মিনিটে ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার থেকে রামুতে পৌঁছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

‘ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে কর্মসংস্থান হবে ৫ লাখ তরুণ-তরুণীর’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ২০৪১ সাল নাগাত ইনকিউবেশন সেন্টারে ১০ লাখ তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদান করা হবে। এবং ৫ লাখ তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সিংড়া শেরকোল ডিজিটাল সেন্টারের ১৩ বছর পুর্তি ও উদ্যোক্তা সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দৌড়গড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। গ্রামে বসে মানুষ ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছে। মানুষ কখনো ভাবতে পারেনি, গ্রামে বসে জমির খাজনা, খারিজ, টেক্স, বিল প্রদান করছেন। যে কাজগুলো ৩ মাস সময় লাগলো, তা এখন কয়েক মিনিটে হয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিলেন ডিজিটাল সেন্টারের সেবাটা গ্রাম থেকে শুরু করবেন। তিনি সেই সেবায় একজন ছেলে উদ্যোক্তা এবং একজন মেয়ে উদ্যোক্তাকে বসিয়েছেন। ২০১৩ সালে দেশের সকল পৌরসভায় ‘পৌর ডিজিটাল সেন্টার’ ও সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে ‘নগর ডিজিটাল সেন্টার’ ২০১৮ সালে বিশেষ জনগোষ্টির চাহিদার আলোকে ‘স্পেশালইজড ডিজিটাল সেন্টার’ এবং ২০২৩ সালে গ্রাম পর্যায়ে ভিলেজ ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আগামী ২০৪১ সাল নাগাত সারাদেশের ৬৪ জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে ১০ লাখ তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। এবং ৫ লাখ তরুণ-তরুণীদের এই ইনকিউবেশন থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মহোদয়ের নির্দেশনায় ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়ণে দেশব্যাপী ৯ হাজার ৩৯৭টি ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করছেন। ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৩৮৫ অধিক নারী-পুরুষ উদ্যোক্তারা সরকারি-বেসরকারি সেবা নাগরিকদের কাছে দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিমাসে ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৭৫ লক্ষের অধিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে ২০২৪ সালের মধ্যে গ্রাম পর্যায়ে ১ হাজার ভিলেজ ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হবে। ২০ লাখ তরুণকে স্মার্ট স্কীলস প্রদান ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে। সারাদেশের সকল ডিজিটাল সেন্টারে একটি করে প্রবাসী হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০২৪ সালের মধ্যে সকল উপজেলাতে ‘স্মার্ট’ সিএমএসএমই হাব বাস্তবায়ন করা হবে।
নাটোর জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঁঞার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—এটুআই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক(যুগ্ম সচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা, পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম, সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা খাতুন, সিংড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ মো. ওহিদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সিংড়া উপজেলার ৪২টি উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্ধোধন করেন।