বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

আজ সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা করবেন সিইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকালে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রিফ করেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
মো. জাহাংগীর আলম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বুধবার বিকেলে ২৬তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় তফসিল ফাইনাল করা হবে। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেস সিইসি। ওই ভাষণে তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। বিটিভি ও বেতারে সরাসরি সম্প্রচার হবে সিইসির ভাষণ।
ইসি সচিব জানান, নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ আছে বলেই তফসিল দেয়া হচ্ছে।

বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন ইসি মুখপাত্র ও সচিব জাহাংগীর আলম।
বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন ইসি মুখপাত্র ও সচিব জাহাংগীর আলম।
এই মুহূর্তে দেশের সব থেকে আলোচিত প্রশ্ন তফসিল কবে। সংবিধান মতে পহেলা নভেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাউন্টডাউন। ডেড লাইন ২৯ জানুয়ারি। অর্থাৎ এই মাসের শুরু থেকে যেকোনো সময় তফসিল দিতে পারবে কমিশন। চলতি সংসদের পাঁচ বছর পূর্ণের আগের ৯০ দিন অর্থাৎ ভোট হতে হবে ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই।
ভোটের প্রস্তুতিতে আগেই রোডম্যাপ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই অনুসারে ভোটার তালিকা হাল নাগাদ, সীমানা পুনঃনির্ধারন, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, ব্যালট বাদে ভোটের বাকি সরঞ্জাম জেলায় জেলায় পৌঁছে দেয়াসহ সব কাজ সেরেছে নির্ধারিত সময়ে।
রেওয়াজ অনুযায়ী ৯ নভেম্বর বঙ্গভবনে ভোটের সব শেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছে কমিশন। এখন কেবল বাকি তফসিল ঘোষণার।
৭০ (১৯৭০ সাল) পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচনের তফসিল হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেশবাসীকে অবহিত করেছেন। সেই রেওয়াজের ব্যতিক্রম এবারও হচ্ছে না।

এদিকে বিকেলে বৈঠক, জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ ও তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে একাদশ সংসদের মেয়াদ। সংবিধান অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আর এজন্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
নভেম্বরের প্রথমার্ধে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল দেয়ার কথা আগে থেকেই জানিয়ে আসছিল নির্বাচন কমিশন।

ব্যর্থতাগুলো আমরা অতীতেই ফেলে এসেছি : রোহিত শর্মা

আরও একবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, যেখানে দীর্ঘ ১২ বছরের শিরোপাখরা কাটাতে চায় ভারত। কিন্তু ঘুরেফিরে আগের দুই আসরে হতাশাজনক বিদায়ের মুহূর্তগুলো রোহিত শর্মার দলকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। অতীত সেই পরিসংখ্যান বারবার আলোচনায় আনছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার, এমনকি রোহিতের সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীরাও। বিপরীতে রোহিতদের বর্তমান ভারত অনেক ছন্দময় ও অপ্রতিরোধ্য কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যার বলেই রোহিতের কণ্ঠে ঝরেছে— ‘ব্যর্থতাগুলো আমরা অতীতেই ফেলে এসেছি।’
এর আগের তিন আসরেই সেমিফাইনালে ওঠেও শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে পা রাখতে পারেনি ভারত। ২০১৫ আসরে অস্ট্রেলিয়া এবং ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও একই ব্যাপার। দারুণ গতিতে ছুটে চলা ভারতের বিদায় হলো সেমিফাইনালে হেরে, তারা আচমকা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তাও মহেন্দ্র সিং ধোনি আর রবীন্দ্র জাদেজা মিলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে জয়ের পথেই নিয়ে যাচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু ধোনির সেই বিখ্যাত রান আউটে আর শেষ রক্ষা হয়নি।
আজ (বুধবার) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড। তার আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে আসা ভারত অধিনায়কের সামনে ‘সেমিফাইনাল জুজু’ ভারতকে ফের তাড়া করবে কি না সেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিষয়টা রোহিত বর্ণনা করলেন এভাবে— ‘এই যে আমরা সেমিফাইনালে উঠে বারবার হেরেছি, এটাই খেলাটার সৌন্দর্য। আমরা যখন ১৯৮৩ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জিতি, তখন আমাদের বর্তমান দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের জন্মই হয়নি। এমনকি ২০১১ বিশ্বকাপ জেতার সময় এই স্কোয়াডের অনেকে ক্রিকেট খেলাই শুরু করেনি। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, সেটা হলো তারা অতীত নিয়ে অতটা ভাবে না। তারা বরং বর্তমানটাই মাথায় রাখে। আজ কী করল, কাল কী করবে, তাদের ভাবনা এই নিয়েই। আমি কাউকেই অতীত নিয়ে কথা বলতে দেখিনি বা শুনিনি। তাদের মনোযোগ ক্রিকেটার হিসেবে নিজেদের তারা কতটা এগিয়ে নিতে পারবে, তা নিয়েই। এটিই এই স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য। এটা আমি মনে করি খুব ভালো একটা ব্যাপার।’

এরপরই রোহিতের দৃঢ় জবাব, ‘অবশ্যই সাফল্য না পেলে অনেক কিছু শিক্ষণীয় থাকে সেসব ব্যাপারে। কোন জায়গায় ভুলটা হলো, কেন হারলাম—এসব নিয়ে আলোচনা হয়। খেলোয়াড়রাও শেখে। তবে আমি বলতে চাই, অতীতে যেসব দল খেলেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের এই দলের কোনো সম্পর্কই নেই। এটা পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের দল। এমনকি ২০১৯ সাল থেকেও এই দল ভিন্ন। আমরা অবশ্যই আগের ব্যর্থতাগুলো থেকে শিখেছি। তবে এটা বলব, সেই সব ম্যাচ, ব্যর্থতাগুলো আমরা অতীতেই ফেলে এসেছি।’
একইসঙ্গে মুম্বাইয়ে টস কোনো ফ্যাক্টর হবে না বলেও জানান ভারতীয় তারকা ওপেনার। নিজের ঘরের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি এখানে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এই চার কিংবা পাঁচ ম্যাচ ওয়াংখেড়ে নিয়ে আপনাকে খুব বেশি কিছু বলবে না। ওয়াংখেড়ে নিয়ে আমি খুব বেশি কথা বলতে চাই না। তবে আমি বিশ্বাস করি যে টস কোনো ফ্যাক্টর হবে না।’
হার্দিক পান্ডিয়া চোটে পড়ায় একজন বোলার কমে গেল ভারতের। সে হিসেবে পাঁচ বোলার নিয়ে খেলতে হচ্ছে রোহিতদের, যদিও সেটি এখন পর্যন্ত তাদের কোনো বিপত্তিতে ফেলেনি। সর্বশেষ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ম্যাচে অনিয়মিত বোলার মিলিয়ে বল করতে দেখা যায় ভারতের ৯ জনকে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে রোহিত বলেন, ‘হার্দিক চোটে পড়ার পর আমরা নিজেদের বোলিংয়ের সমন্বয় বদলে গেছে। এর আগে প্রথম ম্যাচ থেকেই আমাদের চেষ্টা ছিল বাকিদের দিয়ে কীভাবে বোলিং করানো যায়, কবে করানো যায়। পরিস্থিতি তৈরি হওয়াও জরুরি। শেষ ম্যাচে এমন পরিস্থিতি এসে যে কিছু বিষয় চেষ্টা করে দেখা যেত। বিকল্প আছে, এটা খুব ভালো। আশা করছি, এর প্রয়োজন হবে না।’

করোনায় বিশ্বজুড়ে আরও ১১৬ জনের মৃত্যু

করোনায় বিশ্বব্যাপী গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ৫১২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪৭ হাজার ৩৬ জন।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকালে করোনার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ায়। এ সময় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৩৮৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। পোল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮১৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। লিথুয়ানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আফগানিস্তানে আক্রান্ত হয়েছে ৬৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
একইসময়ে ফিলিপাইনে আক্রান্ত হয়েছে ১০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। রোমানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৮১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। বুলগেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৩০১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩৭ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার ৮১১ জন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে।

শিল্পা শেঠির দিওয়ালি পার্টিতে একসাথে বাদশাহ-ম্রুণাল

অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর ও র‍্যাপার বাদশার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির দিওয়ালি পার্টিতে তাদের সেই ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। কেননা গভীর রাতে শিল্পার অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একে অপরের হাত ধরে রাখতে দেখা গেছে।
এদিকে ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশার হাত ধরে পার্টি থেকে বের হচ্ছেন ম্রুণাল।
এছাড়া ম্রুণাল তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাদশা ও শিল্পার সঙ্গে পার্টির একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এছাড়া তাদের ‘দুই প্রিয় মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও বাদশাহ তার ইনস্টাগ্রামে এটি পুনরায় পোস্ট করেছেন।
এদিন জলপাই রঙের পোশাকে দেখা গেছে ম্রুণালকে। অপরদিকে বাদশা পরেছিলেন কালো রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
এদিকে এ বছরের শুরুতেই গুঞ্জন চাওর হয়েছিল, বাদশা তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী ইশা রিখীকে বিয়ে করছেন। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক খবরে বলেছিল, বাদশা-রিখি শিগগিরই উত্তর ভারতে গুরুদুয়ারা বিয়ে করবেন।
পাঞ্জাবি এ অভিনেত্রী ২০১৩ সালে জাট বয়েজ পুট জাট্টান দে ছবি দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৮ সালে বরুণ ধাওয়ান অভিনীত নবাবজাদে ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। বাদশা-রিখি এক বছর ধরে ডেট করছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ম্রুণাল ঠাকুরের সঙ্গে ভিডিও রহস্য উসকে দিয়েছে।

ডেঙ্গু : ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ৪৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৭০ জন রোগী।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৫ হাজার ৯০৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৫৫৫ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ৩৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯৫ হাজার ৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ৪ হাজার ২২৭ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৮১৫ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই লাখ ৮৭ হাজার ৬৪১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১ হাজার ৮০০ এবং ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে আপত্তি নেই সরকারের’

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করার বিষয়ে আপত্তি নেই সরকারের। তবে কার সঙ্গে সংলাপ হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, বন্ধু দেশ কোনো পরামর্শ দিলে তা মূল্যায়ন করে সরকার।
আজ মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শর্তহীন সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় মোমেনের কাছে।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংলাপে আপত্তি নেই। আমরা গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চাই না। গণতন্ত্র সমুন্নত করতে যা যা করা দরকার আমরা তাই করব। সেখানে যদি সংলাপের প্রয়োজন হয় আমরা সেটা করব। কিন্তু কার সঙ্গে করব, সেটা বিবেচনার বিষয় আছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বিষয়ে আগামীকাল বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বৈঠকে বসবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি। ওই ভাষণেই তফসিল সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকাল থেকে সিইসির কক্ষে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান এবং ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আগামীকাল বুধবার বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। তবে তফসিল ঘোষণা কবে হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো দেওয়া হয়নি কমিশনের পক্ষ থেকে।
তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার বিকেল ৫টায় কমিশনের বৈঠকের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে পারেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। আর নির্বাচন হতে পারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।
এদিকে, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগারগাঁওয়ে কমিশন ভবন ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কমিশন ভবনে এনআইডি সংশোধনের জন্য ব্যক্তিগত শুনানি মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) থেকে বন্ধ করা হয়েছে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সার্বিক বিষয়ে নভেম্বরের প্রথমার্ধের শেষ দিন অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার সকালে গণমাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র ও সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ২টায় নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিদের এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, কবে, কখন, কীভাবে তফসিল ঘোষণা হবে তা বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানিয়ে দেবো।

আরও ১১ জেলাকে ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

দেশের আরও ১১ জেলা এবং ৬০ উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দিয়ে দেশের ৩২ জেলা ও ৩৯৪টি উপজেলা গৃহহীন-ভূমিহীন মুক্ত হলো।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সকালে দেশের ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৫৭টি প্রকল্পের ১০ হাজার ৪১টি অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ঘোষণা দেন।
গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত হওয়া নতুন জেলাগুলো হলো- টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, পটুয়াখালী, সিলেট ও মৌলভীবাজার।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে একটি মানুষও যেন গৃহহীন ও ভূমিহীন না থাকে সেই ঘোষণা দিয়েছিলাম। সে বিষয়টি সামনে নিয়েই আমাদের এ প্রচেষ্টা। যেসব জায়গায় এখনও বাকি আছে সেখানেও ধীরে ধীরে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত করে দেব। কোনো মানুষ বাংলাদেশে ঠিকানাহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কেউ ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। অন্তত সবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে। সকলের ঘর আমরা আলোকিত করব।

আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে পারব না : ডিএনসিসি মেয়র

মার্কেটে দোকান বরাদ্দের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আইন রয়েছে জানিয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আইনের মধ্যে যদি পড়ে তাহলে অবৈধদের আমি বৈধ করে দেব। কিন্তু আইনের বাইরে কোনো কাজ আমি করতে পারবো না।
আজ মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ডিএনসিসির মালিকানাধীন মোহাম্মদপুর নতুন কাঁচাবাজারে (কৃষি মার্কেট) সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ ও পুনর্র্নিমাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি মার্কেটে আগুন লাগলে সেটি নেভানোর জায়গা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছোলার ডাল, চাল সব রেখে দিয়েছে। কোথাও জায়গা নেই। বাথরুমে যাবে, তার সামনে দোকান। হাঁটার রাস্তায় দোকান, গাড়ি পার্কিংয়ে দোকান। আর দোষ হচ্ছে মেয়রের, কাউন্সিলরের। তাই আমি বলেছি, পর্যায়ক্রমে মার্কেটগুলোয় গিয়ে অবৈধদের বের করতে। আমাদের সিটি করপোরেশনের আইন আছে। আইনের মধ্যে যদি পড়ে তাহলে অবৈধদের আমি বৈধ করে দেবো। কিন্তু আইনের বাইরে কোনো কাজ আমি করতে পারব না।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক হতে হবে। প্রত্যেকটি দোকানপাট, ঘর, বাড়ি, মাঠ, খেলার মাঠ, ড্রেন সবকিছু স্মার্ট হতে হবে। রাস্তার ড্রেনের উন্নতি হলেও ঢাকা শহরের যে কয়েকটি মার্কেট আছে কোনো মার্কেটের এখন পর্যন্ত উন্নতি হয়নি। এটি বাস্তব সত্য কথা। এসব মার্কেটের উন্নতি করতে গেলেই মার্কেটের যারা মালিক আছেন, তারা বারবার বলেন, উন্নতির দরকার নেই। কারওয়ান বাজার, টাউন হল মার্কেট, রায়ের বাজার মার্কেটে প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়াল ধসে পড়ছে। কিন্তু ওনাদের কথা, মার্কেট যেমন আছে, তেমনই থাকবে। আরে ভাই, আমরা তো আপনার দোকান নিয়ে নেবো না, জায়গা নিয়ে নেবো না। যতদিন আমরা মার্কেটটি করবো, ততদিন আপনাদের অন্য জায়গায় ব্যবসার সুযোগ করে দেবো। মার্কেট হলে আপনারা আবার চলে আসবেন। তাহলে আপনাদের অসুবিধা কোথায়?
আতিকুল ইসলাম বলেন, মার্কেটগুলোয় যতগুলো দোকান বরাদ্দ হয়েছে, তার থেকে বেশি অবৈধ দোকান। এসব অবৈধরা চাচ্ছেন না মার্কেট হোক। কারণ তাহলে অবৈধরা আর কোনো জায়গা পাবেন না। এটা হলো আসল কথা। কারওয়ান বাজার, টাউন হল, রায়ের বাজারে যতগুলো বৈধ দোকান তার থেকে বেশি অবৈধ দোকান। এসব অবৈধরা অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে শর্টসার্কিট হচ্ছে, সম্পদ পুড়ে যাচ্ছে। আমাদের ৩৭টি মার্কেটে এমন অবৈধ দোকান আছে। এজন্য আমি বলেছি অবৈধদের তালিকা করার জন্য।
ঢাকার প্রতিটি মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করার জন্য মার্কেট কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ নগর পিতা বলেন, কয়েক দিন আগে মহাখালীতে খাজা টাওয়ারে আগুন লেগেছিল। ওই বিল্ডিংয়ে সবকিছু আছে। কিন্তু কে পানি নেভাবে সেটির কোনো লোক ছিল না। তাই এখন সময় এসেছে ঢাকা শহরের যতগুলো বাণিজ্যিক ভবন, বিপণিবিতান, হাউজিং, ডেভেলপমেন্ট আছে সবাইকে অতিদ্রুত অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। যারা আগুন নেভাবে তাদের পোশাকের ব্যবস্থা করুন। তাদের আগুন নেভানোর প্রশিক্ষণ দিন।
কৃষি মার্কেটের পুনর্র্নিমাণ টেকসই করার জন্য সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো তাড়াহুড়ো করে কাজ করবেন না। আমরা যেন সুন্দর করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারি। সময় এসেছে ঢাকা শহরের প্রতিটি মার্কেটকে ডেভেলপ করার।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, কৃষি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে আবার পুনর্র্নিমাণের কাজ শুরু করতে পেরেছি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের জন্য। নৌকার কোনো ব্যাক গিয়ার নেই, তার প্রমাণ ৬০ দিনের মাথায় মার্কেট পুনর্র্নিমাণ শুরু করা। নৌকার গিয়ার একটি ফ্রন্ট গিয়ার, উন্নয়নের গিয়ার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, ডিএনসিসির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাহীনা আক্তার সাথী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে তারা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কৃষি মার্কেটের পুনর্র্নিমাণের উদ্বোধন ও মোনাজাত করেন। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরে দুই ভবনের মাঝখানে অবস্থিত সার্ভিস প্যাসেজ পরিদর্শন করেন।

বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানি বাহিনীর চেয়েও নৃশংস : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চেয়েও নৃশংস বলে মন্তব্য করছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা গুলি করে মারত, আর তারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমা হামলায় আহতদের চিকিৎসা সেবা পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০১৪-১৫ সালের মতো, একই কায়দায় হামলা চালাচ্ছে। অমানবিক, অমানষিক ও নৃশংস এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের বর্বরতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখানে থাকা বেশিরভাগ রোগী সাধারণ নাগরিক। তাদের কেউ বাসচালক, বাসের হেলপার, রিকশাচালক বা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের কী অপরাধ?
বিএনপিকে হানাদার বাহিনীর চেয়েও নৃশংস উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তারা পাকিস্তানি বাহিনীর থেকেও নৃশংস। হানাদাররা গুলি করে মানুষ মারত। আর বিএনপি আরও নৃশংস পথ বেছে নিয়েছে। তারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারছে।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক চাওয়া-পাওয়ার জন্য তারা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাদের নেত্রী দুর্নীতির দায়ে জেলে আছেন, তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন পলাতক অবস্থায় বিদেশে আছেন। তাদের আন্দোলন তাদের নেত্রীকে জেল থেকে ছাড়ানো। এর জন্য তারা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
এ সময় অগ্নিসন্ত্রাসে আহত সবার চিকিৎসা ব্যয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তাদের জন্য সব করা হচ্ছে ও হবে বলে জানান ড. হাছান মাহমুদ। সরকারের পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও আহতদের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে তথ্যমন্ত্রী বার্ন ইনস্টিটিউটের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের শরীরের খোঁজখবর নেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।