বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

গাজার প্রধান হাসপাতালে তল্লাশি চালাচ্ছে ইসরায়েল

ইসরায়েলি সৈন্যরা গাজার প্রধান হাসপাতালে একের পর এক ভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে। শুক্রবার এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিহীন এবং ইন্টারনেটসহ সবধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আটকে পড়া বেসামরিক লোকদের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও উদ্বেগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
হাসপাতালটিতে হামাসের কমান্ড সেন্টার রয়েছে এই দাবী তুলে বুধবার ইসরায়েলি সৈন্যরা উত্তর গাজার আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান শুরু করে।
হামাস এবং হাসপাতালের পরিচালকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সেখানে কয়েক হাজার মানুষের ভাগ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালটিতে আহত রোগী এবং নবজাতকসহ অনেক রোগীর পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে অনেক উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে। ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাসকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলার জবাবে ইসরায়েল বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল হামলা চালিয়ে গাজাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে।
গাজায় হামাস পরিচালিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলের বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ এবং স্থল অভিযানে হাজার হাজার শিশুসহ ১১,৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা রাইফেল, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং আল-শিফাতে একটি সুড়ঙ্গ খাদের প্রবেশদ্বার খুঁজে পেয়েছে।
হাসপাতাল সম্পর্কে অভিযোগ যাচাই করা হয়নি এবং শুক্রবার গাজার সাথে যোগাযোগ আবার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
নেটওয়ার্ক প্রদানকারী প্যালটেল গ্রুপ বলেছে,সমস্ত টেলিযোগাযোগ বন্ধ ছিল কারণ ‘নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার সমস্ত জ্বালানি উৎস শেষ হয়ে গেছে এবং জ্বালানী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি’।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, অন্ধকারাচ্ছন্ন বেসামরিক নাগরিকদের দুর্দশা বাড়িয়ে দেবে। সাহায্য বিতরণের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে এবং সম্ভবত এর সরবরাহ লুটপাট শুরু করবে।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, ‘যখন ব্ল্যাকআউট থাকে তখন আপনি আর কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না। যা উদ্বেগ ও আতঙ্ককে আরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ইসরায়েল বলেছে, তার বাহিনী আল-শিফা হাসপাতালে একের পর এক ভবন তল্লাশি করছে এবং কাছাকাছি একটি ভবনে একজন নারী জিম্মির লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের আয়োজনে ভার্চুয়াল এই শীর্ষ সম্মেলন শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে বক্তব্য রাখেন।

এই সম্মেলনে আলোচনা হবে বৈশ্বিক উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে। এতে ১০টি সেশন হবে। উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান স্তরে হবে এবং সভাপতিত্ব করবেন নরেন্দ্র মোদী।

উদ্বোধনী নেতাদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘একসাথে, সবার জন্য প্রবৃদ্ধি, সবার আস্থার সাথে এবং সমাপনী নেতাদের অধিবেশন হবে ‘গ্লোবাল সাউথ: টুগেদার ফর ওয়ান ফিউচার’ এছাড়া, ৮টি থাকবে বিভিন্ন থিমসহ মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশন।

এর আগে ভারত উদ্বোধনী ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিট আয়োজন করেছিল ২০২৩ সালের ১২ ও ১৩ জানুয়ারি। এই উদ্যোগ গ্লোবাল সাউথের ১২৫টি দেশ একসঙ্গে তাদের মতামত তুলে ধরেছিল।

ঢাকায় ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ১৭

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

ডিএমপির নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে আজ (১৭ নভেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৬৪৯ ইয়াবা ও ৪৭ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ১৭ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৪টি মামলা করা হয়েছে।

শ্রম অধিকার লঙ্ঘন: দায়ীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, নির্দেশনা জারি

বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র বিকাশে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরূদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার শ্রম ইস্যুতেও বাইডেন প্রশাসন নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী শ্রম অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিরূদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বিধি-নিষেধসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো এসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হোয়াইট হাউস এদিন রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বব্যাপী কর্মীদের ক্ষমতায়ন, অধিকার ও শ্রমের উচ্চমান নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশনা প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা শক্তিশালীকরণ এবং আমেরিকান কর্মী ও কম্পানিগুলোর কাজের সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য শ্রম অধিকার অপরিহার্য।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নতুন এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নীতির আলোকে শ্রমিক ও ইউনিয়নের ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নেবে। মিশনপ্রধান ও পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো শ্রম কূটনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে বলা হয়েছে।
এছাড়া শ্রম অধিকার ও কর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্য বার্তা ও কর্মসূচি জোরদারের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ব্লিনকেন বলেন, মার্কিন শ্রম দপ্তরসহ অন্য অংশীদারদের পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার এগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালাবে। শ্রম অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও বাধ্যবাধকতা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র তার কূটনীতি, বৈদেশিক সহায়তা ও কর্মসূচি, আইন প্রয়োগ, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামোকে কাজে লাগাবে।

এবার কলম্বিয়ার কাছে ব্রাজিলের হার

কাতার বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় পায় সেলেসাওরা আর বাকি পাঁচ ম্যাচের একটিতে ড্র ও চারটিতে হারের স্বাদ পায় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। সবশেষ আজ কলম্বিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে নেইমারবিহীন ব্রাজিল।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে কলম্বিয়ার এস্তাদিও মেট্রোপলিটান রবার্তো মেলেন্দেজে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও কলম্বিয়া। দুই দলেরই এটি পঞ্চম ম্যাচ।
ম্যাচের শুরুতেই গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। চতুর্থ মিনিটে করা এই গোলের পর ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই একে অপরের জালে বল জড়াতে পারেনি। এতে ১-০তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
তবে বিরতির পর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে উরুগুয়ে আর স্বাগতিকদের সে চাপ সামলাতে হিমশিম খায় সেলেসাওরা। ম্যাচের ৭৫ ও ৭৯ মিনিটে লুইস ডায়াজের জোড়া গোলে ম্যাচে ফেরার পাশাপাশি জয়ের বন্দোবস্ত করে ফেলে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলেও ২-১ এ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও পরের দুই ম্যাচেই জয় বঞ্চিত ছিল ব্রাজিল। সবশেষ তো উরুগুয়ের কাছে হেরে বসে দলটি। আজ আবারও হারের স্বাদ পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ঢাকায় পাঁচজন এবং ঢাকার বাইরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ১ হাজার ৫২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪২৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪ জনে পৌঁছেছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি পরিসংখ্যান গত ২৪ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
দেশে গতকাল ১৫ নভেম্বর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন মারা গেছেন, যা একদিনে এ বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে ২১ জন মারা যান, যা ডেঙ্গুতে এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। তারও আগে গত ২ সেপ্টেম্বরও ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঘুমের ওষুধ খাওয়া নিয়ে যা বললেন তানজিন তিশা

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেছেন, গত রাতের বিষয়টি আমি সবাইকে পরিষ্কার করতে চাই। আসল বিষয়টি হলো গত রাতে আমার ফুড পয়জনিং-এর পরে কিছু ব্যাপারে আমার খারাপ অবস্থা ছিল।
তাই আমি একটা স্লিপিং পিল খাই এবং তার সাইড ইফেক্ট হিসেবে আমার বমি হয় এবং হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
আরও একটু বিষয় বলতে চাই, আমার বাবা গত দুইবছর আগে মারা যায় এবং বিষয়টি আমাকে এতটাই শক্ত করে যে এই ধরনের পদক্ষেপ- আমি এরকম কোন মানুষ অথবা যেকোন মানুষের জন্যই জীবনে নিবো না। সবাইকে একটি বিষয় বলতে চাই যেটা আগেও বলেছি, আর্টিস্টদের একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে।
সেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপনারা যদি কথা বলেন- তাতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কিন্তু আমি একটি বিষয় বলতে চাই, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমারও হয়তো কখনো কিছু বলার থাকতে পারে। যদি থাকে এবং যারা আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছ- মিডিয়ার কিছু মানুষ তাদের প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে স্পেশালি (আমার ফিমেল-মেল, কো-আর্টিস্ট, আমার ডিরেক্টর, আমার পার্সোনাল লাইফের মানুষ)… যারা যারা আমার ক্ষতি করেছেন অথবা করার চেষ্টা করছেন তাদের প্রত্যেকটা মানুষের নাম ম্যানশন করে অতি শীঘ্রই আমার শুভাকাঙ্খীদের জন্য প্রেস কনফারেন্স করব।
জানা যায় বুধবার (১৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর রাজারবাগে নিজ বাসায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে ইসি’র পরিপত্র জারি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ইসি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
ডিসিদের পাশাপাশি ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারাও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে কমিশন থেকে কর্মকর্তা বাছাই করে এ দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাবি আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ডিসিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন নিজস্ব কর্মকর্তা দিয়ে আয়োজন করে আসছে ইসি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসি এখনো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপরই নির্ভর করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো ডিসিদের।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ
নির্বাচন পরিচালনার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নির্বাচনী এলাকার জন্য বিভাগীয় কমিশনারদের এবং অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার জন্য জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএনওদের স্ব-স্ব উপজেলার জন্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার অথবা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা আইন ও বিধি মোতাবেক রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সব ধরনের সহায়তা দেবে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে রোহিঙ্গা প্রস্তাব গৃহীত

‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব গতকাল বুধবার রাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবটি যৌথভাবে উত্থাপন করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
এবারের প্রস্তাবে ১১৪টি দেশ সহপৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উঠে এসেছে এ বছরের প্রস্তাবে।
১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদারতা এবং মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে এতে। ভাসানচর প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
গৃহীত প্রস্তাবে মিয়ানমারের অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাসংকটের মূল কারণগুলো উদঘাটন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বপ্রণোদিত, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান রয়েছে ওই প্রস্তাবে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদের সদস্যদের মিয়ানমারে সব ধরনের সহিংসতার অবসানের দাবি জানাতে বলা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আসিয়ানের পাঁচ দফা ঐকমত্যের দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি এবং আন্তজার্তিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলির তদন্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সর্বোপরি, এবারের প্রস্তাবে ‘রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বার্ডেন শেয়ারিং’ (দায় ও বোঝা ভাগাভাগি) নীতির আওতায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো যাতে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখে সে বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ। আমাদের ভূখণ্ডে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কোনো সুযোগ নেই। তাদের অবশ্যই নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।’
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি। বক্তব্যে তিনি আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, চলমান বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটিতে জাতিসংঘের অসংখ্য সদস্য রাষ্ট্রের সহপৃষ্ঠপোষকতা এক অনন্য সফলতার ইঙ্গিত বহন করে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় এটি বিশ্বব্যাপী সংহতির একটি জোরালো বার্তা।

গাজার মসজিদে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫০

গাজা উপত্যকার সাবরা এলাকার একটি মসজিদে বোমা হামলা করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ডজন খানেক আহত হয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার মধ্যেই বিভিন্ন হাসপাতাল ও মসজিদগুলোতে বোমা হামলা করছে তেল আবিব। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার বিকালে প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নামাজের সময় মসজিদে বোমা হামলা করেছে ইসরায়েল। আক্রমণের সময় মুসুল্লিতে পরিপূর্ণ ছিল মসজিদ।
তাছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরের টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে বিমান হামলা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় একজন শিশু নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজাবাসীকে দক্ষিণ গাজায় সরে যেতে বলেছে ইসরায়েল। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা বলছে, গাজার সব জায়গায় বোমা হামলা করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গাজার কোনও স্থানই আমাদের জন্য নিরাপদ না।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে অন্তত ১১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার হাজার ৭১০ জন শিশু এবং তিন হাজার ১৬০ জন নারী রয়েছেন। তাছাড়া ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।