মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

কারাদণ্ড থেকে বাঁচতে সমঝোতা করলেন শাকিরা

ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে গত বছর ১১ বছরের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ভেঙে পড়েন স্প্যানিশ পপ তারকা শাকিরা। তারপর ঝড়ঝাপটা সামলে থিতু হতে না হতেই আইনি জটিলাতায় জড়িয়েছেন শাকিরা। গত কয়েক বছর ধরে কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি। তার মাশুল গুনে দিতে হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ ইউরো, তবু স্বস্তি নেই।
এবার নাকি জেল খাটতে হতে পারে শাকিরাকে! খবর বিবিসির।
এই যখন পরিস্থিতি তখন কর ফাঁকির মামলায় একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন শাকিরা। ১৪.৫ মিলিয়ন ইউরো (১৫.৭ মিলিয়ন) দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে হওয়া মামলায় বার্সেলোনায় বিচার ও কারাদণ্ড এড়াতে সোমবার প্রসিকিউটরদের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছান এই পপতারকা। চুক্তির অংশ হিসাবে, তিনি মামলায় উল্লেখিত বকেয়া পরিমাণের ৫০ শতাংশ চার্জ এবং জরিমানা গ্রহণ করেছেন। ৭.৩ মিলিয়ন ইউরোর (৭.৫ মিলিয়ন ডলার) বেশি পরিশোধ করবেন গায়িকা।
এছাড়া নির্দিষ্ট তিন বছরের কারাদণ্ড এড়াতে তিনি আরো চার লাখ ৩৮ হাজার ইউরো জরিমানা গ্রহণ করেছেন। চুক্তিতে তিন বছরের স্থগিত সাজাও রয়েছে। সোমবার একটি গোলাপি স্যুট পরিহিত অবস্থায় হাতে গোলাপি হ্যান্ডব্যাগ এবং চোখে সানগ্লাস পরিহিত শাকিরাকে তার আইনজীবীদের সাথে সকাল ১০টার আগে আদালতে পৌঁছতে দেখা যায়। শাকিরা জানান, তার সন্তানরা এ লড়াইয়ে তাদের মায়ের ব্যক্তিগত ক্ষতি ও ত্যাগ দেখতে চায় না। তাই নিষ্পত্তিতে রাজি হয়েছেন তিনি।
এর আগে শাকিরা প্রসিকিউটরদের দেওয়া একটি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং এর পরিবর্তে বিচারে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন। আদালতের পক্ষ থেকে শাকিরাকে ২০ নভেম্বর বার্সেলোনায় হাজির থাকতে বলা হয়। এই মামলায় ১৫.৪ মিলিয়ন ট্যাক্স দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে গায়িকার বিরুদ্ধে। মামলাটির ক্ষেত্রে, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এই কর দিতে ব্যর্থ হন। উক্ত সময়কালে তিনি স্পেনে অর্ধেকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন।

গাজায় আশ্রয় শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৭

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একটি আশ্রয় শিবিরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
রোববার মধ্যরাতে গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে বর্বরোচিত এই হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর ইসরায়েলি বাহিনীর ওই হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। গাজার কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত ওই শরণার্থী শিবিরে হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা গাজা সংলগ্ন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন হামলা চালায়। হামলার ব্যাপকতায় হতভম্ব ইসরায়েল হামাসকে নির্মূল করার প্রত্যয় নিয়ে সেইদিন থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে।
তারপর থেকে দখলদার ইসরায়েয়ের জঙ্গি বিমানগুলো গাজা ভূখণ্ডে লাগাতার বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি স্থল অভিযানও শুরু করেছে। তাদের বর্বরোচিত হামলায় প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন বহু ফিলিস্তিনের নাগরিক। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার।

‘আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’

আসন্ন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত প্রশ্নের মুখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন। সোমবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় বাংলাদেশি সাংবাদিককে বলেছেন, ‘আমি প্রশংসা করি, আপনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাকে বারবার টেনে নিচ্ছেন। আর আমিও তা করে যাচ্ছি’।
ব্রিফিংয়ে দুজন বাংলাদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রথমজন বাংলাদেশ সরকারকে কর্তৃত্ববাদী বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, সংলাপে বসতে যুক্তরাষ্ট্রের আহবান সত্বেও বাংলাদেশ সরকার আবার এক তরফা নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের ধরপাকড়, অপহরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে এক দলের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে কী উদ্যোগ নিচ্ছে?
জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন করে না।
শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন- বাংলাদেশের জনগণ যা চায় যুক্তরাষ্ট্রও তা চায়। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ওই লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজসহ সব অংশীদারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে।
এরপর বাংলাদেশি আরেক সাংবাদিক বাংলাদেশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু বড় তিন দলকে নিঃশর্ত সংলাপে বসার চিঠি দিয়েছেন। আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচন।
৩০টিরও বেশি দল নির্বাচনে যাবার কথা ঘোষণা করেছে। কেবল বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির বর্জন কি নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক ও বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে?
জবাবে ম্যাথু মিলার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাকে বারবার টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’।

‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবেতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞে শহিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রচিত ‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ সোমবার গণভবনে প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
মোড়ক উন্মোচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম এবং ‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’-এর প্রকাশক জয়ীতা প্রকাশনীর ইয়াসিন কবীর জয়।
‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’-এর মুখবন্ধ লিখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন। মুখবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমরা ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। এই অভিযাত্রায় নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা খুব জরুরি। সরকারিভাবে এ জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়েও বহু প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও বহু গবেষক মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা, তাঁদের তিন পুত্র-শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলকে নিয়ে পাঁচটি বইয়ের সংকলন ‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’ প্রকাশিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। স্বল্প মূল্যে এক বক্সে পাঁচটি বই পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। আমি এই সংকলনের সফলতা কামনা করছি।”
প্রকাশনাটির সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
পাঁচটি পৃথক গ্রন্থকে একটি সুদৃশ্য বক্সে করে স্বল্পমূল্যে পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার প্রয়াসের নাম ‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’। বক্সটিতে রয়েছে ‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’, ‘জয়তু বঙ্গমাতা’, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল : আলোকিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি’, ‘শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল : তারুণ্যের দীপ্ত শিখা‘ ও ‘শেখ রাসেল : দুরন্ত শৈশবের প্রতিচ্ছবি’ শিরোনামের পাচটি বই।
ব্যতিক্রমী এই প্রকাশনায় দেড় সহস্রাধিক আলোকচিত্র ব্যবহৃত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবিগুলো যাঁরা তুলেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম গোলাম মাওলা, কামরুল হুদা, আলহাজ জহিরুল হক, রশীদ তালুকদার, আফতাব আহমেদ, মোহাম্মদ আলম, জালাল উদ্দিন হায়দার, রফিকুর রহমান, লুৎফর রহমান, বাল কৃষ্ণান, পাভেল রহমান ও অমিয় তরফদার।
‘মরণ সাগরপারে তোমরা অমর’-এর প্রচ্ছদ ও অঙ্গপরিকল্পনা করেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ। পুরো সেটটির মূল্য ৩০০০/- টাকা। পাওয়া যাবে ২০-২১, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, সিটি ভবন, ৫ম তলায় অবস্থিত জয়ীতা প্রকাশনীর কার্যালয়ে। এ ছাড়া পাঠক সমাবেশ, বাতিঘর ও রকমারি ডটকম-এ পাওয়া যাবে।

আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চাই না : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চাই না। আমরা সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করতে চাই। আমরা আশা করছি, বিএনপি নির্বাচনে আসবে।
সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার (২০ নভেম্বর) তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনে না আসার রাজনৈতিক অধিকারও তাদের রয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা সরকারের দায়িত্বও নয়। তবে, নির্বাচন প্রতিহত করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।’
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ হরতাল ও অবরোধে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জনগণের দুর্ভোগের জন্যই বিএনপি এসব কর্মসূচি দিয়েছে। এগুলো করে নির্বাচন প্রতিহত করা যাবে না। আমরা আগামীতে এ সন্ত্রাসীদলকে নির্মূল করবই।

গাজার উত্তরাঞ্চলে হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ সোমবার বলেছে, গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় একটি হাসপাতালে ইসরাইলি হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেন, সেখানে ইন্দোনেশীয় ওই হাসপাতাল লক্ষ্য করে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর হামলায় ১২ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়। নিহতদের মধ্যে রোগী ও তাদের সঙ্গীরা রয়েছে।
খবর এএফপি

বিএনপির সঙ্গে সংবিধানসম্মত আলোচনা হতে পারে: নৌপ্রতিমন্ত্রী

বিএনপির সঙ্গে সংবিধানসম্মত আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রানসিস্কো দ্য আসিস বেনিতেজ সালাহ’র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অবরোধ-হরতালের ঘোষণা আছে, বাস্তব চিত্রে নেই। উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নমিনেশন পেপার উত্তোলন ও জমা হচ্ছে। ঢাকার উৎসব এক রকম। ঢাকার বাইরে একটু বেশি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষ আগ্রহ করে দেখছে তাদের এলাকায় কোন কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সংসদ নির্বাচন সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন। অন্যসব নির্বাচন থেকে এটি আলাদা। এতে মানুষের আগ্রহ আছে।’

তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে নির্বাচন হবে। এটিকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। যারা নির্বাচন করবে না বা নির্বাচন বাদ দিয়ে গেলো, তারা নির্বাচন থেকে ছিটকে যাবে। আলোচনা হতে পারে, তবে সেটি সংবিধানসম্মত হতে হবে।’

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে পারস্পারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কাউন্সিল নির্বাচনে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্পেন বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে। বাংলাদেশও আইএমও কাউন্সিল নির্বাচনে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে স্পেনের সমর্থন চেয়েছে।

মনে হচ্ছে সন্তুষ্টি নিয়ে যেতে পারছি: ভূমিমন্ত্রী

পাঁচ বছর মেয়াদে আন্তরিকতার সঙ্গে কিছু করার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী মো. সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘মনে হচ্ছে, স্যাটিসফেকশন (সন্তুষ্টি) নিয়ে ইনশাআল্লাহ যেতে পারছি।’

সোমবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে স্মার্ট ভূমি সেবা বিষয়ক কর্মশালায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করি। এটা এই মেয়াদের শেষ সময়। আগামীটা আগামীতে দেখা যাবে, আল্লাহ কী রাখছেন। তবে মনে হচ্ছে, স্যাটিসফেকশন (সন্তুষ্টি) নিয়ে ইনশাআল্লাহ যেতে পারছি। আমার মধ্যে সবসময় একটা ভীতি কাজ করতো…, একটা কথা আছে- শেষ ভালো যার সব ভালো তার।’

তিনি বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে মনে হচ্ছে, একটা জাতিকে যতটুকু পেরেছি (সেবা দিয়েছি), সেটা বিবেচনা করবে জাতি। কিন্তু আমি আমার জায়গা থেকে ইনশাআল্লাহ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। এবং একটা ন্যূনতম স্যাটিসফেকশন নিয়ে আমি যেতে পারছি, ইনশাআল্লাহ।’

‘যারা কাজের প্রতি মনোযোগী, কাজ করতে বেশি আগ্রহী, তাদের মধ্যে সবসময় একটা জিনিস থেকে যায়- আরেকটু সময় পেলে যদি আর একটু কাজ করতে পারতাম এই সময়টা পেলে নিশ্চয়ই আমি কাজ আরও গোছাতে পারতাম। আমার পাঁচ বছরটা আমি চেষ্টা করেছি প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা ঘণ্টা, প্রতিটি দিনকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়। এটা সবসময় আমার মাথায় রেখেছিলাম বলে একটা স্যাটিসফেকশনের জায়গায় দাঁড়াতে পেরেছি।’ বলেন মন্ত্রী।

শেষ সময়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এমন একটা মার্জিনাল সময়ে পড়েছিলাম যে, এটা না হওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সাপোর্ট দিয়েছেন, সেজন্য এটা আমি করতে পেরেছি। একটা আইন পাস করা চাট্টিখানি কথা নয়। একেবারে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উপর পর্যন্ত অধীর আগ্রহে আইনটির অপেক্ষা করছিল। আমি স্যাটিসফাইড যে আইনটি করে যেতে পেরেছি।’

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিধিমালা করার কাজ চলছে জানিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ বিধিটা হয়ে যাবে। বিধিটা না হলে হাফডান হয়ে যাবে। হাফডান নিয়ে আবার প্রবলেম হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্মার্ট মিনিস্ট্রি হিসেবে দাঁড় করিয়ে ফেলেছি। এটাকে একটা সাসটেইনেবল জায়গায় নিয়ে এসেছি। আমার পরে যিনি আসবেন তার বেসিক্যালি রুটিন ওয়ার্ক হবে। কিছু কিছু কাজ আছে, যেগুলোকে যেন ক্যারি ফরওয়ার্ড করতে পারে। মোটামুটি আমরা একটা সেপ-এ নিয়ে এসেছি।’

‘ভূমি উন্নয়ন কর যেটা ম্যানুয়ালি ছিল, সেটাকে আমরা বন্ধ করে পুরো ক্যাশলেস করে ফেলেছি। প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ পাঁচ কোটি টাকা জমা হচ্ছে। বছরে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে। অনেকের একসঙ্গে খতিয়ান থাকে, ভাগ হয় না, ল্যান্ডট্যাক্স দিতে পারে না। কিছু কিছু বিষয়ে কমপ্লেইন আসছে। আমরা সেটা নিয়েও কাজ করছি। মোটামুটি কী পয়েন্টস, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ মিউটেশন, ল্যান্ডট্যাক্স এগুলো মোটামুটি আমরা সেরে ফেলেছি।’

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেবা কার্যক্রমের সমন্বয়ে ধীরগতি রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট বা সাব রেজিস্ট্রি অফিস আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ইন্টিগ্রেশনের কাজ চলছে, কিছু কিছু জায়গায় হয়েছে, আরও কাজ বাকি আছে।’

‘আমরা ল্যান্ড জোনিংয়ের কাজ করছি। ডিজিটাল সার্ভের কাজ সারাদেশে শুরু হবে।’ যোগ করেন ভূমিমন্ত্রী।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজ একটা ট্র্যাকে আমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। এখন এটা স্পিডআপ করতে হবে। কিছু কাজ বাকি আছে আমার মনে হয়। এটাই এক মাসের মধ্যে মোটামুটি একটা সেপ-এ চলে আসবে। শতভাগ স্যাটিসফাইড না হলেও মোটামুটি একটা জায়গায় আমরা দাঁড় করিয়েছি।’

‘তবে হ্যাঁ, মাঠ পর্যায়ে এখনো আমাদের সমস্যা আছে। রাতারাতি কোনো কিছু রিপেয়ার করা খুবই কঠিন। সিস্টেমের মাধ্যমে ডেভেলপ করে আমি যতটুক পেরেছি করেছি।’ বলেন ভূমিমন্ত্রী।

কর্মশালায় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব এবং সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

টিম ইন্ডিয়ার পাশে শাহরুখ, গর্বিত অমিতাভ

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার মেনেছে এবারের বিশ্বকাপে অজেয় ভারতীয় টিম। ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এতে ভারতীয় ক্রিকেটার ও ভক্তদের মন ভেঙেছে। তবে মন খারাপের মাঝে টিম ইন্ডিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের বাহবায় ভরিয়ে দিলেন কিং খান।

রোববার (১৯ নভেম্বর) আহমেদাবাদের মাঠে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও পুত্রকন্যা। আগাগোড়া টিম-ইন্ডিয়ার জন্য গলা ফাটিয়েছেন শাহরুখ। আর সেই স্পিরিট বজায় রাখলেন ভারত ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিলেন ইতিবাচক বার্তা।

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জেতার পর শাহরুখ সোশ্যাল মিডিয়ায় টিম ইন্ডিয়াকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় দল যেভাবে এই পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছে তা সম্মানের বিষয় এবং তারা দুরন্ত মনোবল এবং ধৈর্যের নিদর্শন দেখিয়েছে। এটি একটি খেলা এবং সবসময় এর একটি বা দুটি খারাপ দিন আসে। দুর্ভাগ্যবশত আজ এটি ঘটেছে। কিন্তু টিম ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ ক্রিকেটে আমাদের ক্রীড়াজগতে সাফল্যের উত্তরাধিকার নিয়ে এত গর্বিত করার জন্য। সারা ভারতে এত আনন্দ উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তোমরা আমাদের গর্বিত করেছ।’

এদিন কার্যত নক্ষত্রখচিত ছিল নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। গ্যালারি ভরে যায় নীল-তরঙ্গে। তারকা ও স্টার-কিডদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছিলেন শানায়া কাপুর, আশা ভোঁসলে, আয়ুশমান খুরানা এবং বিবেক ওবেরয়সহ অনেকে। ছিলেন শাহরুখ পুত্র আব্রাম খান ও কন্যা সুহানা। গ্যালারি এককথায় ছিল চাঁদের হাট। শাহরুখ এবং গৌরী খানের কাছেই বসেছিলেন দীপিকা এবং রণবীর সিং। দীপিকার সঙ্গে তার বোন আনিশা এবং বাবা, ব্যাডমিন্টন তারকা প্রকাশ পাড়ুকোনো ছিলেন।

রণবীর তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতীয় দলের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দেন, ‘কিছু উঁচু, কিছু নিচু। কিছু ভালো দিন, কিছু খারাপ দিন। কিছু জয়, কিছু হার। এটাই খেলা। এটাই জীবন। আমরা সবাই হতাশ, কিন্তু আসুন আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের তাদের সর্বস্ব দেওয়ার জন্য সাধুবাদ জানাই।’

টিম ইন্ডিয়াকে নিয়ে সোশ্যালে গর্বপ্রকাশ করেন অমিতাভ বচ্চনও। তিনি লেখেন, ‘আপনাদের দুর্দান্ত টিম। শুধু দেখুন, কতজন সাবেক চ্যাম্পিয়ন এবং বিজয়ীকে আপনারা এ বিশ্বকাপে দুরভিসন্ধি করেছেন। আপনারা সেরা। এবং তাই থাকবেন।’

ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রধান হাসপাতাল আল-শিফার অভ্যন্তরে টানেলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। কিন্তু ইসরায়েলের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুর্শ।

তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলিরা গত ৮ দিন ধরে হাসপাতালটিতে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত কিছুই খুঁজে পায়নি। ইসরায়েল বহু আগে থেকেই দাবি করে আসছিল যে, গাজা উপত্যকার আল-শিফা হাসপাতালের নিচে হামাসের কমান্ড সেন্টার ও টানেল রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ইসরায়েলি সেনারা গত ১২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে শিফা হাসপাতালে আগ্রাসন চালিয়ে এটি দখল করে নেয়। রোববার তারা দুটি আলাদা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দাবি করে যে, ওই হাসপাতালে একটি টানেল খুঁজে পাওয়া গেছে।

ফুটেজে যে টানেলটি দেখানো হয়, তার অপর মুখ বন্ধ পাওয়া যায় এবং ভেতরে কোনো হামাস যোদ্ধা কিংবা কোনো বন্দিকে দেখা যায়নি। তারা অপর একটি ভিডিওতে দাবি করেছে, গত ৭ অক্টোবর হামাস তাদের হাতে আটক দুজন বন্দিকে এই হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাস এই হাসপাতালকে তাদের সামরিক কাজে ব্যবহার করে আসছে।

কিন্তু ইসরায়েলি সেনাদের এমন দাবির জবাব দিয়েছে হামাস। সংগঠনটির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা টানেল খুঁজে পাওয়ার যে দাবি করেছে সেটি হাসপাতালের ভেতরে নয় বরং হাসপাতাল থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত একটি গর্ত। ভিডিওটিতে একটি পানির কূপ এবং আরেকটি টানেলের ভিডিও জোড়া লাগিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে বলে হামাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া দুই বন্দিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে হামাস বলছে, গত ৭ অক্টোবরের অভিযানের দিন তাদের হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দিদের মধ্যে যারা আহত ও অসুস্থ ছিল তাদেরকে গাজার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এরপর সুস্থ হলে তাদেরকে গোপন ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। কাজেই হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা যে ভিডিও ইসরায়েলিরা দেখিয়েছে তাতে হামাসের কোনো গোপন তৎপরতা ধরা পড়েনি।

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। প্রতিদিনই সেখানে হতাহতের ঘটনা সামনে আসছে। গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রতিদিনই সেখানে হামলা চালিয়ে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে। এ থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় দুই হাজার মানুষ চাপা পড়েছে বলেও আশঙ্কা ।