মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

৫২টি দেশে বাংলাদেশের মাছ রপ্তানি হয় : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, দেশের খাদ্য সংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। খাদ্য ও প্রাণিজ আমিষের যোগান আসে এ খাত থেকে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখছে এ খাত। বিশ্বের ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মাছ রপ্তানি হয়। বাংলাদেশ থেকে মাংস রপ্তানিরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ বিদেশে বাংলাদেশের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এজন্য রোগ মুক্ত গবাদিপশুর অঞ্চল তৈরি করে আমরা মাংস রপ্তানির প্রক্রিয়ায় রয়েছি।
আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরাম (এফএলজেএফ) প্রকাশিত ‘এফএলজেএফ ভয়েস’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এভাবেই সাম্প্রতিককালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এ উন্নয়ন দৃশ্যমান উন্নয়ন, এ উন্নয়ন কথার ফুলঝুড়ি নয়, এ উন্নয়ন বাস্তবসম্মত উন্নয়ন। এ উন্নয়নের একটি বড় অংশীদার গণমাধ্যমকর্মীরা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত বিকশিত হওয়ার অনেক পথ ও পন্থা দেখিয়েছে গণমাধ্যম।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মোস্তফা কামাল ও মো. আব্দুল কাইয়ূম, যুগ্মসচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার, ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি এম এ জলিল মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সুমনসহ ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৮২ শতাংশ। এটি বিস্ময়কর। এক সময় বলা হতো মাছের আকাল, মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ যেগুলো একসময় বিলুপ্তপ্রায় হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো এখন সবখানে পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমরা অর্জন করেছি। সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৯ দশমিক ১৫ লাখ টন লাখ মেট্রিক টন, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট উৎপাদনের চেয়ে প্রায় ৮২ শতাংশ বেশি। মাছ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে ৩য়, চাষের মাছ উৎপাদনে ৫ম এবং ইলিশ আহরণে ১ম স্থানে রয়েছে।
রেজাউল করিম বলেন, জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আন্তর্জাতিকমানের টেস্টিং ল্যাবরেটরি করা হয়েছে। ফলে দেশের মানুষের খাবারের জন্য মাছ সুস্বাদু ও নিরাপদ হবে এবং বিদেশে রপ্তানির মাছও নিরাপদ হবে। ফলে মাছ রফতানিতে মানসম্পন্ন জায়গায় আমরা পৌঁছুতে পেরেছি। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ ও মৎস্য ও মৎস্যপণ্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২০ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতের অর্জন তুলে ধরে এ সময় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দুধ উৎপাদনের পরিমাণও পূর্বের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ১৫ বছরে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে প্রায় ৫ গুণ, ৭ গুণ এবং ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, উপকরণ সহায়তা প্রদান ও সহজ শর্তে সরকার ঋণ প্রদান করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রাণিচিকিৎসা খামারির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের ৬১ টি জেলার ৩৬০টি উপজেলায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। ফলে অসুস্থ প্রাণিকে এখন হাসপাতালে নিতে হয় না, হাসপাতাল প্রাণির কাছে চলে যাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের ফলে কোরবানির সময় এখন পার্শ্ববর্তী দেশের ওপর নির্ভর থাকতে হয় না বরং উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে কোরবানির হাটে গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকছে।

বুড়িগঙ্গা পুরোটাই দখলমুক্ত করা হবে : মেয়র তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, বুড়িগঙ্গা পুরোটাই দখলমুক্ত হবে। নদীর মধ্যে আমরা কোনো কিছুই থাকতে দেব না। বাকি যেটুকুও দখল অবস্থায় আছে সেগুলো দখল মুক্ত হয়ে আদি বুড়িগঙ্গা তার পূর্ণ রূপ ফিরে পাবে।
আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, এই বেড়িবাঁধের যে ঢাল সেটা আগে দেখা যেত না। পুরোটা দখল অবস্থায় ছিল। আমরা সেগুলো পরিষ্কার করেছি। এখানে ছোট্ট একটি দ্বীপের মতো (জায়গা দখল অবস্থায়) রয়েছে। আমরা তাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলাম, তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে কি না। কিন্তু তারা দেখাতে পারেনি। সুতরাং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা সেটা পরিষ্কার করে ফেলব। এটি পুরোটাই দখলমুক্ত হবে। নদীর মধ্যে আমরা কোনো কিছুই থাকতে দেব না।
তিনি বলেন, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের পুনরুজ্জীবন মানে ঢাকা শহরেরও পুনরুজ্জীবিত হওয়া। আমাদের পরামর্শকরা এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমরা সাত কিলোমিটার করে দুই পাশের ১৪ কিলোমিটারে নান্দনিক পরিবেশ, গণপরিসর, হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর পথ সৃষ্টি করব। এখন পরামর্শকরা নকশা প্রণয়ন করছে। আমরা আশা করছি, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে নকশা প্রণয়ন শেষ হবে।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, আগামীতে আমরা একনেকে এটার প্রকল্প পেশ করতে পারব। সে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা একটি নান্দনিক নদীতে রূপান্তরিত হবে। এটা অনেকটা দুঃস্বপ্ন ছিল যে, আদি বুড়িগঙ্গা পুনখনন করে আগের রূপে ফিরে আসবে। কিন্তু সেই দুঃস্বপ্নকে স্বপ্নে রূপান্তরিত করে আদি বুড়িগঙ্গাকে পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা আমাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছি। আদি বুড়িগঙ্গার পুনরুজ্জীবন মানে ঢাকা শহরেরও পুনরুজ্জীবিত হওয়া।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মুনিরুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের প্রমুখ।

নির্বাচনে আসার জন্য সরকার কাউকে চাপ দিচ্ছে না : তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনে আসার জন্য সরকার কাউকে চাপ দিচ্ছে না না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সাংবাদিকতার অ আ ক খ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আজকে দেখলাম যে আরেকটা জোট করে নির্বাচনে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে বিএনপির আরো অনেক সাবেক নেতাকে আমরা দেখছি, বিভিন্ন দলে তারা আসছে। এক্ষেত্রে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করে তাদেরকে নির্বাচনে আনা হচ্ছে কি না, নাকি তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চাপ সৃষ্টি করলে তো বিএনপির আরও অনেক নেতা চলে আসতো। আমরা কাউকে চাপ সৃষ্টি করছি না।’
তিনি বলেন, বিএনপির এ অপরাজনীতির সঙ্গে তারা দ্বিমত পোষণ করে। তারা এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সহযাত্রী হতে চায় না বিধায় বা এ জ্বালাও পোড়াওয়ের বদনামটা তাদের ঘাড়ে যাতে না পড়ে, সেজন্য এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্যই তারা বেরিয়ে এসে নতুন জোট করে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে বলে আমি মনে করি।
গতকালকে একটি ব্রিফিং হয়েছে। সেখানে এসেছে, গাড়িতে যারা আগুন দিচ্ছে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে এবং এই ফুটেজ তাদের নেতা-নেত্রীদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই অর্থায়ন এবং কারা এই নেতা নেত্রী-জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের ধরা হয়েছে এবং যারা এই জবানবন্দি দিয়েছে প্রত্যেকেই বিএনপি নেতা। একজন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিও আছে সেখানে।
তিনি বলেন, এটি কি জঘন্য, ন্যক্কারজনক, ঘৃণ্য যে গাড়িতে আগুন দিলে, যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিলে ১০ হাজার টাকা পেমেন্ট দেওয়া হয়। আবার সেটা নিশ্চিত করার জন্য ভিডিও ধারণ করে সেটি আবার লন্ডনে তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে তারপর এখানে ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে পাঠাতে হয়।
এটি কি কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ- এমন প্রশ্ন রেখে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, এগুলো তো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কাজ। জঙ্গি সংগঠনও তো এরকম কাজ করে না। তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলা হয় বাংলাদেশে। এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও কেউ কেউ বলে। এখন অবশ্য বলে না আর। এই অপরাজনীতি যারা করে তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়।

সংসদের ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে নেপালের ডেপুটি স্পিকারের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকুর সঙ্গে আজ বুধবার তার সংসদ ভবনে কার্যালয়ে নেপাল ফেডারেল পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা মাগার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সময় থেকেই নেপাল এদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ব ও নারীর ক্ষমতায়ন বৈশ্বিকভাবে প্রশংসিত।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, নেপালে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। আমাদের দেশের পর্যটক নেপালে ভ্রমন করে থাকে। বাংলাদেশে পাকৃতিক সৌর্ন্দয্যম-িত অনেক জায়গা রয়েছে। পর্যটনে দুদেশের সহযোগিতা থাকলে খাতটি আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের অনেক মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়েছে সেখোনেও পর্যটকদের আকর্ষণীয় জায়গা। আমরা আশা করি দুদেশের মধ্যে দ্রুতই সড়ক-যোগাযোগও স্থাপিত হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মায়ানমারের বাস্তুচূত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিরাপদ প্রত্যাবাসন জরুরি।
নেপাল ফেডারেল পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা মাগার বলেন, আমি কখনো বাংলাদেশে আসিনি। বাংলাদেশ খুবই চমৎকার দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাছাই করা জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ আমার হৃদয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের বানিজ্যিক সম্পর্কও চমৎকার।
তিনি বলেন, নেপালের অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ালেখা করছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায় নেপালের সংসদ।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এখন আর কোন নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়। এটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। নেপাল সব সময়ই এ নিষয়ে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং সমর্থন জানিয়ে যাবে।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-২’র পরিচালক বিদোষ চন্দ্র বর্মন, ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব যোজনা বামজান, বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন কুটুসহ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সশস্ত্র বাহিনীকে ভূমিকা রাখতে হবে’

জাতিসঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সশস্ত্র বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ৫৩তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
এ সময় জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়া, অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, নিরাপত্তা বিভাগের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল উনাইসি ভুনিওয়াকা, জাতিসংঘের মিলিটারি এডভাইজর জেনারেল বিরামে ডিওপসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা ও সামরিক উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
রাষ্ট্রদূত মুহিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষেরও সম্ভ্রম হারানো নারীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কারণেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
এ সময় তিনি ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হওয়া মহান মুক্তিযুদ্ধে নবগঠিত সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধস্ত দেশের পুনর্গঠনে প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। এসকল কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অধিকতর আধুনিকায়নে বিভিন্নমূখী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এই উদ্যোগ সমূহের বাস্তবায়ন সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ যে অবদান রেখে যাচ্ছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে দেশে-বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে আগত অতিথিদের উদ্দেশে ব্রিফিং প্রদান করেন মিশনের ডিফেন্স এ্যাডভাইজার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাদেকুজ্জামান।
পরে স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আগত অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন এবং সকলকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।
সময় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ইসরায়েল সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে জর্ডান

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে আকাশ ও স্থলপথে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল সীমান্তে সেনা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে জর্ডান। একই সঙ্গে জর্ডান নদীর ওপারে ফিলিস্তিনিদের জোর করে ঠেলে দেওয়ার বিষয়েও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটি।
আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) রয়টার্সেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে জর্ডান। একইসঙ্গে মঙ্গলবার দেশটি সতর্ক করে বলেছে, জর্ডান নদীর ওপারে ফিলিস্তিনিদের জোর করে ঠেলে দেওয়ার যে কোনও ইসরায়েলি প্রচেষ্টা বিদ্যমান শান্তি চুক্তির লঙ্ঘন করবে।
জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী বিশের খাসাওনেহ বলেছেন, পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে বিতাড়নের বিষয়ে ইসরায়েলকে বাধা দিতে তার দেশ ‘নিজেদের ক্ষমতায় থাকা সব উপায়’ ব্যবহার করবে।
রয়টার্স বলছে, ইসরায়েল-গাজার মধ্যে চলমান সংঘাত জর্ডানের দীর্ঘদিনের শঙ্কাকে আলোড়িত করেছে। মূলত দেশটিতে বিশাল সংখ্যক ফিলিস্তিনি শরণার্থী এবং তাদের বংশধররা বাস করেন। গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে গাজার ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে ১৭ লাখ মানুষই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরায়েলের সাথে ১৯৯৪ সালের শান্তি চুক্তির কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী খাসাওনেহ বলেন, ‘যেকোনো স্থানচ্যুতি বা সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা হলে তা শরণার্থীর ঢেউ সৃষ্টির দিকেই পরিচালিত করবে। জর্ডান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণা হিসাবে বিবেচনা করবে এবং তাতে কার্যত শান্তি চুক্তি লঙ্ঘিত হবে।’
খাসাওনেহ আরও বলেছেন, ‘এতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুন্ণ হবে এবং জর্ডানের জাতীয় নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
রয়টার্স বলছে, মিসরের পর দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল জর্ডান। এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা সম্পর্কও রয়েছে দেশটির। কিন্তু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকারের আবির্ভাবের পর থেকে সেই সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে।
খাসাওনেহ বলেছেন, ‘ইসরায়েল যদি তার দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতাকে সম্মান না করে এবং চুক্তি লঙ্ঘন করেই চলে তবে শান্তি চুক্তিটি কেবল ধুলোয় পড়ে থাকা একটি কাগজের টুকরোতে পরিণত হবে।’
রয়টার্স বলছে, বাসিন্দারা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা গত কয়েকদিনে পশ্চিম তীরের বিপরীতে জর্ডান উপত্যকায় যাওয়ার একটি প্রধান মহাসড়ক ধরে সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের বিশাল বহর দেখেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান হামলার কথা উল্লেখ করে খাসাওনেহ বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পদক্ষেপ ব্যাপক সহিংসতার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এ ছাড়া বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা রোধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনও।

ইসরায়েল-হামাস চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া

ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মধ্যে চার দিনের মানবিক বিরতিতে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা তাসকে এ কথা বলেছেন।
‘ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চার দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানায় মস্কো। সংঘাত বৃদ্ধির পর থেকে রাশিয়া এই আহ্বান জানিয়ে আসছে’-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি বিশেষকরে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানকে বাস্তবায়িত করার জন্য কাতারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
এর আগে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েল ও হামাস চার দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কাতারের কূটনৈতিক সংস্থা বলেছে, যুদ্ধবিরতির কার্যকর তারিখ আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

৩৭২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার ও সৌদি আরব থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে।
এতে মোট ব্যয় হবে ৩৭২ কোটি ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫০ টাকা।
আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতারের মুনতাজাত থেকে ৬ষ্ঠ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১২৭ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ৬ষ্ঠ লটে ৩০ হাজার মেট্রিা টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১২৩ কোটি ৪৮ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ৯ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১২১ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি হলো: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক সৌদি আরব, মরক্কো, তিউনিশিয়া, কানাডা, রাশিয়া এবং বেলারুশের (৬টি দেশের) সাথে নন-ইউরিয়া সার আমদনির চুক্তির ধারা অব্যাহত রাখাসহ আরও ৩টি দেশের (চীন, মালয়েশিয়া ও জর্ডান) সরকারি প্রতিষ্ঠান হতে চুক্তির মাধ্যমে নন-ইউরিয়া সার (টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি) আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

টিসিবির জন্য ১০ লাখ লিটার তেল কিনবে সরকার

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৩৯তম সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ভারতের গ্রিন ন্যাশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারসের কাছ থেকে কেনা হবে। এতে প্রতি লিটার ১৫৪.৯৬ টাকা দরে মোট ১৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
এর আগে গত ১৫ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবি কর্তৃক ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে ৭৭ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১১ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ১০০ টাকা কেজি দরে এই ডাল কিনতে মোট খরচ ধরা হয় ১১০ কোটি টাকা। অপর দিকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদ দেওয়া হয়। প্রতি কেজি ১০২ টাকা ১৩ পয়সা হারে এই মসুর ডাল কিনতে মোট খরচ ধরা হয় ৯৭ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিএনপি আবারো অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে : আসাদুজ্জামান নুর

সবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে জনগণ তাদের সাথে নেই। তাই তারা আবারো অগ্নিসন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে তারা হত্যা করছে নিরীহ মানুষদের। ২৮ অক্টোবর পিটিয়ে মেরেছে তারা এক পুলিশ সদস্যকে।
সোমবার রাতে জেলার ডোমার উপজেলা শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম মাঠে ছিন্নমূল কর্মজীবীদের প্রতিভা অন্বেষণে সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান নুর বলেন, সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তার অবদান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আওয়ামী লীগের আমলে ডোমার উপজেলায় যে উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এখানে কোন উন্নয়ন করেনি। আলোচনা শেষে স্টেডিয়াম মাঠে চূড়ান্ত পর্বে সেরা ১০ জন প্রতিযোগীর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। ১০ জন সংগীত প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথমস্থান অধিকার করেন মৌসুমী রায় তমা। ২য় হয়েছেন তুলসী চক্রবর্তী ও ৩য় স্থান অধিকার করেন প্রকাশ রায়। প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নুর এমপি প্রথমস্থান বিজয়ী মৌসুমী রায় তমাকে ৫০ হাজার, ২য় বিজয়ী তুলসী চক্রবর্তীকে ২৫ হাজার ও ৩য় বিজয়ী প্রকাশ রায়কে ১০ হাজার টাকা পুরুস্কার হিসেবে তুলেদেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে নীলফামারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মমতাজুল হক, নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল আলম বিপিএএ, ওসি মাহমুদ উন নবী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি দেখতে বিকাল থেকেই শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। সন্ধ্যায় মাঠটি কানায় কানায় পুর্ন হয়ে উঠে।
ডোমার ছিন্নমুল সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব শাহিনুল ইসলাম বাবু জানান ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের উদ্যোগে গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর অডিশন রাউন্ডে উপজেলার বিভিন্ন ছিন্নমূল কর্মজীবী ১০৬ জন প্রতিযোগী নিয়ে এই সংগীত প্রতিযোগীতা শুরু হয়। আজকে সেরা ১০জনকে নিয়ে চূড়ান্ত পর্বেরর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়েছে।