মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পারে : শেখ হাসিনা

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে দলের ৩০০ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
এ সময় শেখ হাসিনা মনোনয়নে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নেতাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল না আসা সাপেক্ষে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন করতে প্রয়োজনে আসন উন্মুক্ত করা হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পরে। সেক্ষেত্রে একাধিক ডামি প্রার্থী রাখতে মত দেন দলীয় প্রধান।
সূত্রমতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে উৎসব ও প্রতিযোগিতামূলক করতে নৌকার প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা অন্যান্য দলের কেউ প্রার্থী হলে তাকেও সহযোগী ও উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যদি কোনো আসনে জয়ী হয়, তাহলে বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলীয় প্রধান জানিয়েছেন। দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পাশাপাশি দলের যে কোনো নেতা বা যে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে বলেও নির্দেশনা দিয়েছেন।
আরেক প্রার্থী জানান, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে প্রয়োজনে ডামি প্রার্থী রাখতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতেও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
সভায় উপস্থিত একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, নেত্রী বলেছেন, আপনারা সাড়ে তিন হাজারের মতো প্রার্থী। এর মধ্যে থেকে আপনারাই আমাকে ৩০০ নাম দেন। পরে উপস্থিত সবাই নেত্রীকে দায়িত্ব দেন। আরেকটা হচ্ছে, নেত্রী ডামি প্রার্থী রাখতে বলছেন। আবার যে কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন।
এর আগে সকাল থেকেই গণভবনের প্রবেশ পথে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মোট ৩ হাজার ৩৬২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আজ গণভবনে এসেছেন। দিনব্যাপী সভা শেষে বিকেলে সেখান থেকেই নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হবে।
গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গণভবনে ডাকা হয়।
এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এই চার দিনে ৩৩৬২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেন।

জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন চায় ভারত : পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ভারত কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলবে না, তারা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন চায়।
শুক্রবার দিল্লিতে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে দেশে ফিরে আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে পি কে হালদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, পি কে হালদারের ব্যাপারে আমরা বলেছি। কিন্তু তারা বলেছে, এটা একটা সাবজুডিস (বিচারধীন)। তাদের এখনো এটার বিচার প্রক্রিয়া চলছে, সেজন্য জন্য আমাদের যে অনুরোধ, সেটা তাদের বিবেচনায় আছে। যেহেতু বিচারধীন তারা এটা নিয়ে বেশি আলোচনা করতে চায় না।
বৈঠকে ভারতে অবস্থানরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের দেশে ফেরানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান পররাষ্ট্রসচিব।
শুক্রবার নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়। ঢাকার পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং দিল্লির পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। প্রায় আট মাসের বিরতিতে দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক ছিল এটি।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও কানাডিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যের বরাত দিয়ে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পি কে হালদার ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভাই প্রীতিশ হালদারের কাছে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৬৪ কানাডীয় ডলার পাচার করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮০ কোটি টাকারও বেশি।
এসব অনিয়মের অভিযোগে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন। এরপর তদন্ত করে পিকে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
আলোচিত পি কে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ২২টি মামলা ও এফএএস লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ১৩ মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদের মামলা রয়েছে। যার মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধটি যে কারণে অন্য সব যুদ্ধ থেকে আলাদা

যদি গাজায় চলমান যুদ্ধটি বাকি সব যুদ্ধগুলোর মত হতো তাহলে এত দিনে হয়তো সেখানে অনেক কিছুর ক্ষেত্রে আলাদা চিত্র দেখা যেতো।
সম্প্রতি সেখানে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। কিন্তু তখন হয়তো বহুদিন আগেই এই যুদ্ধবিরতি হতো।
মৃতদের কবর দেয়া হয়ে যেত এবং ইসরায়েলকে হয়তো জাতিসংঘের সাথে তর্ক করতে হতো যে গাজার পুননির্মাণে ঠিক কী পরিমাণ সিমেন্টের দরকার হবে।
কিন্তু এই যুদ্ধটা সেগুলোর মতো নয়।
কারণ এখানে যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলছে শুধু সেটাই একমাত্র কারণ নয়।
এখানে হত্যাযজ্ঞের শুরুটা করেছিল হামাস গত ৭ই অক্টোবর, বেশিরভাগ ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর। তারপর ইসরায়েল পাল্টা আক্রমণ শুরু করে যাকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিহিত করেছেন ‘ভয়ংকর প্রতিশোধ’ হিসেবে, সেখানেও বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন।
এই যুদ্ধটা অন্যগুলো থেকে ভিন্ন কারণ এটা এমন সময় হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যকে ভাগ করা ফল্ট লাইনে চিড় ধরেছে।
গত দুই দশক ধরে এখানকার ভূ-রাজনীতির যে উত্তেজনাকর চিত্র, তার একদিকে ইরান এবং তার বন্ধু ও মিত্ররা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বন্ধু ও মিত্ররা।
ইরানের এই নেটওয়ার্কের মূলে, যেটা কখনো পরিচিত ‘প্রতিরোধের জোট’ হিসেবে, সেই দলে রয়েছে লেবাননের হেজবুল্লাহ, সিরিয়ার আসাদ সরকার, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের সশস্ত্র বাহিনী যাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে ইরান। ইরানিরা গাজায় হামাস এবং ইসলামিক জিহাদকেও সমর্থন দিয়ে আসছে।
একই সঙ্গে ইরান এখন চীন এবং রাশিয়ারও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ইউক্রেনে রাশিয়া যে যুদ্ধ পরিচালনা করছে ইরান সেটার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর চীন ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনে থাকে।
গাজায় যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে এবং ইসরায়েল যত বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোক হত্যা করবে ও হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করবে, ততই এই দুই মিত্র গোষ্ঠীর কোন কোন সদস্যের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে।
ইসরায়েল আর লেবাননের সীমান্তে ধীরে ধীরে উত্তেজনা দানা বাঁধছে। ইসরায়েল বা হেজবুল্লাহ কোন পক্ষই অবশ্য সরাসরি যুদ্ধ চায় না। কিন্তু যেহেতু দু’পক্ষ থেকেই উত্তজনা ক্রমে বেড়ে চলেছে, তাই সেটা কোন এক সময় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার ঝুঁকিটাও তৈরি হয়।
ইয়েমেনের হুতিরা ইসরায়েলের দিকে তাক করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা ছুঁড়েছে। সে সবগুলোই অবশ্য প্রতিহত করেছে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রেড সি‘তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর।

ইরাকে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় তাদের কিছু অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
যদিও সবপক্ষই উত্তেজনা যাতে খুব বেশি না ছড়ায় সেই চেষ্টা করছে, কিন্তু সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সবসময়ই কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আছে ইসরায়েল, উপসাগরীয় তেল সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলো, জর্ডান ও মিসর।
যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইসরায়েলকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে, যদিও এটা পরিষ্কার যে ইসরায়েল যে ব্যাপক পরিমাণে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক হত্যা করছে, সেটা নিয়ে অস্বস্তি আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন প্রকাশ্যেই বলেছেন যে অনেক বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে।
উত্তর গাজা থেকে হাজারে হাজার ফিলিস্তিনের পালিয়ে প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে দক্ষিণে যাওয়ার যে দৃশ্য সেটা অনেককেই ১৯৪৮ সালে আরবদের বিপক্ষে ইসরায়েলের স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
যে সাত লাখেরও বেশি মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর অস্ত্রের মুখে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে সেটাকে ফিলিস্তিনিরা আল নাকবা বা মহাবিপর্যয়ের সঙ্গেও তুলনা করছে। সেই ১৯৪৮ সালের শরণার্থীদের পরের প্রজন্মের বেশিরভাগই এখন গাজা উপত্যকার বাসিন্দা।
আর কিছু উগ্র ইহুদী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, যারা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক, তাদের অনেকের ফিলিস্তিনিদের উপর আরেকটি নাকবা আরোপের মতো ভয়ংকর কথাবার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র শিবিরেরই কিছু আরব দেশ বিশেষ করে জর্ডান ও মিশরকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এমনকি নেতানিয়াহু সরকারের একজন মন্ত্রী তো হামাসকে মোকাবেলা করার জন্য গাজায় পারমাণবিক বোমা ফেলার ইঙ্গিতও দেন। তাকে তিরস্কার করা হলেও বহিষ্কার করা হয়নি।
এসবকে পাগলের আলাপ বলে উড়িয়ে দেয়া যেতে পারে কিন্তু জর্ডান ও মিশরটা বিষয়টা গুরুত্বসহকারেই নিয়েছে।
সেটা অবশ্য পারমাণবিক বোমার ব্যাপারে না হলেও, যেটা ইসরায়েলের ঘোষিত ও অঘোষিত অনেকই আছে, বরং হাজার হাজার ফিলিস্তিনির তাদের সীমানায় ঢুকে পড়ার শঙ্কা তাদের বেশি।
আর যদি গাজায় যুদ্ধের কথা বলা হয়, তাহলে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা বিবিসিকে বলেছেন, যুদ্ধ এবং তার পরবর্তি পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হবে খুবই ‘কঠিন এবং বিশৃঙ্খল’।
একজন বলেছেন যে, ‘একমাত্র রাস্তা হবে ফিলিস্তিনের জন্য একটা রাজনৈতিক দিগন্ত পুনর্নির্মাণ করা।’ তিনি মূলত ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তথাকথিত ‘টু-স্টেট’ সমাধান, যা ব্যর্থ হয়ে এখন শুধু স্লোগানেই টিকে আছে।
সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করা, ইসরায়েল ও আরবের মধ্য থেকে তাদের জায়গা বের করা খুবই উচ্চভিলাষী পরিকল্পনা এবং একই সাথে সম্ভবত বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো সমাধানও।

কিন্তু বর্তমানে যে বেদনা, ঘৃণা আর শঙ্কার পরিবেশ চলমান সেখানে এই ধারণার প্রয়োগ করা হবে খুবই কঠিন কাজ।
আর বর্তমান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি যে নেতৃত্ব তাদের অধীনে এটা অসম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ সমাপ্তির পর কি হবে সেই পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করেননি।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রস্তাব, সেখানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সরকার সমর্থিত একটা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, যাদের হামাস ২০০৭ সালে বিতাড়িত করেছিল, সেটিকে প্রত্যাখান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার দ্বিতীয় অংশ হল দুই রাষ্ট্রের সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, যেটি নেতানিয়াহু তার পুরো রাজনৈতিক জীবনজুড়ে বিরোধিতা করে এসেছেন।
ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার বিপক্ষে শুধু নেতানিয়াহুই নন।
তিনি যাদের সমর্থনে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছেন সেই গোঁড়া ইহুদী জাতীয়তাবাদী যারা তাদের বিশ্বাস, জর্ডান নদী আর ভূমধ্যসাগরের মাঝখানের যে অঞ্চল সেটা পুরোটাই ইহুদীদের জন্য ঈশ্বরের দান এবং তার ইসরায়েলের সীমানার ভেতরেই থাকতে হবে।
ইসরায়েলের ভেতরে অনেকেই ৭ই অক্টোবরের হামলার জন্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতায় নেতানিয়াহুকে দায়ী করে তার পদত্যাগ চান।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বয়স ৮০ পেরিয়ে গিয়েছে, ভোটারদের কাছেও তার সমর্থন এখন কম, যদিও ২০০৫ সাল থেকে তিনি ব্যালট বাক্স ছাড়াই ক্ষমতায়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলকে সহায়তা করে আসছে কিন্তু তাদের নিজেদের লোকদেরই বসতি স্থাপনকারী অস্ত্রধারী ইহুদীদের থেকে রক্ষায় ব্যর্থ।
একসময় নেতৃত্বের বদল ঘটবে। কিন্তু যদি গাজার এই মর্মান্তিক যুদ্ধ ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও তাদের শক্তিশালী বন্ধুদের শান্তি স্থাপনে বাধ্য না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও যুদ্ধই অপেক্ষা করছে।
খবর বিবিসি
 

অগ্নিসন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় অগ্নিসংযোগকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার সকালে গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে বলেন, ‘অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ ২০২৩ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারবে বা গাড়ি, রেল, যানবাহন পোড়াবে বা অগ্নি সংযোগ করবে বা যারা হুকুমদাতা বা অর্থদাতা তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। কারন আমরা যদি সেই ব্যবস্থা না নেই এই জ্বালাপোড়াও তো তারা চালাতেই থাকবে।
তিনি বলেন, আমি দেখি অনেকেই বলেন কেন এদের অ্যারেস্ট করা হলো। কিন্তু তারা এটা বলে না এরা অগ্নিসন্ত্রাসী, এরা পুলিশ হত্যা করেছে, মানুষ হত্যা করেছে। আর এখন ডিজিটাল যুগ সাধারণ মানুষই এদের ভিডিও তুলে রাখে এবং সাথে সাথে সেই ছবিও পাওয়া যায় এবং এই সন্ত্রাসীরা একেবারে চিহ্নিত। কাজেই যারাই সন্ত্রাসী কর্মকা- বা ভাঙচুরে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সেটাই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করে যাচ্ছে এবং সেটাই করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এভাবে মানুষকে পোড়াবে, মানুষের সম্পদ নষ্ট করবে, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি বলেন, আমি আশা করি, এদের অন্তত শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা এগুলো বন্ধ করবে। আর বন্ধ না করলে যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা আমাদের নিতেই হবে। এটা হল বাস্তবতা। শুধু দুঃখ লাগে আমাদের ছেলে-মেয়েগুলো তাদের ফাইনাল পরীক্ষাটা ভালোভাবে দিতে পারল না।
শেখ হাসিনা বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, যতক্ষণ তারা সঠিকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করেছে ততক্ষণ কিন্তু তাদের কোন অসুবিধা ছিল না এবং এতে করে বিএনপি এবং তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডগুলো পরিচালনা করার পর এখন জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বক্তৃতা করেন।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে দক্ষ জনশক্তি আমাদের গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দেশে-বিদেশে যেখানে কাজ করুক না কেন, মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের একটি বা দুটি অন্য ভাষা শিখানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তাতে সারা বিশ্বে আমাদের কর্মসংস্থানের আরো সুযোগ হবে। আজকাল ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজস্ব ইউনিয়নে বসে অনেকেই বিদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে।
তিনি বলেন, এখন প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। সেজন্য তাদের শিক্ষাটাও প্রযুক্তিনির্ভর এবং বহুমুখীকরণ করা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে তার সরকার শিক্ষার হার পেয়েছিল দেশে ৪৪ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকার এটি ৬৫ শতাংশে নিয়ে এসেছিল, বিএনপি জামাত সরকার ২০০১ পরবর্তী সময়ে তাঁর সরকারের রেখে যাওয়া শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ থেকে আবার ৪৫ ভাগে নামিয়ে ফেলে। যাকে সরকার টানা তিন মেয়াদের শাসনে ৭৬.০৮ ভাগে উন্নীত করেছে।
জানুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি আশা করেছিলেন নভেম্বরের মধ্যেই স্কুলের পরীক্ষাগুলো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপি’র অবরোধ এবং জ্বালাও-পোড়াও এবং সন্ত্রাসের কারণে সেটি ব্যাহত হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াটা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য সংশ্লিষ্ট মহল যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি আশবাদ ব্যক্ত করেন।
২০১৩ এবং ১৪ সালে নির্বাচন বানচালের নামে জ্বালাও পোড়াও এবং অগ্নিসন্ত্রাসের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দিনও কোনো রাজনৈতিক দলের অধিকারে তাঁর সরকার হস্তক্ষেপ করেনি। সে সময় তিন হাজারের মতো মানুষ তারা পুড়িয়েছে। সেখানে বহু মানুষ পুড়ে মারা গেছে, এখনো সেই আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে অনেকে যন্ত্রনাকাতরভাবে দিন কাটাচ্ছে। বাস, ব্যক্তিগত যানবাহন, লঞ্চ, স্টিমার, ট্রেন এমনকি স্কুল, সরকারি দপ্তর কিছুই সে অগ্নিসন্ত্রাস থেকে বাদ যায়নি।
তিনি বলেন, সে সময় যারা আসামি ছিল বা পলাতক ছিল যখন এই বিএনপি এবং তাদের রাজনৈতিক সমমনা দলগুলো আবারো তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করেছে তারা বহাল তবিয়তে ফিরে এসেছে। শান্তিপূর্ণ সভা যখন করেছে তাদেরকে কোন বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু তারা আবার সেই জ্বালাও পোড়াও শুরু করল বিশেষ করে ২৮ অক্টোবর থেকে তাদের যে সন্ত্রাসী কর্মকা- সেখানে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, সেখানে ভাঙচুর করা, জাজেজ কোয়াটারে ভাঙচুর করা ও হামলা, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশ হসাপতালে হামলা, অ্যাম্বুলেন্স, বাস সহ বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা, রেললাইন কেটে রেখে দিয়েছে যেন রেলের বগি পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনগণ সচেতন থাকায় তারা সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ স্থানে বিষয়গুলো অবহিত করায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রেল রক্ষা পেয়েছে। তারপরও তারা আমাদের কমিউটার ট্রেন পুড়িয়েছে, সাংবাদিকদের উপর হামলা ও নির্যাতন করেছে, মহিলাদের উপর আক্রমণ করেছে। আর এখনতো প্রতিদিন অগ্নিসন্ত্রাস করেই যাচ্ছে। ফলে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোয় একটি ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
‘কাজেই জনস্বার্থে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমাদের নিতেই হবে,’ দৃঢ়কন্ঠে সতর্কবাণী পুনব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমি চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা একটা উন্নত জীবন পাক। সুস্বাস্থ্যের অধিকারি হোক এবং সুন্দরভাবে তারা বেড়ে উঠুক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছি তারই সৈনিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলুক’।
বিএনপির অবরোধ-হরতাল এবং জ¦ালাও পোড়াওয়ের মধ্যেও নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে পারায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
এবারের পরীক্ষার ফলে মেয়েরা এগিয়ে থাকায় তিনি তাদের অভিনন্দন জানিয়ে ছেলেরাও পিছিয়ে থাকবেনা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কৃতকার্যদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠে আরা মনোনিবেশ করার মাধ্যমে আগামীতে ভাল ফল করার আহবান জানান এবং তাদেরকে এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তিরস্কার না করে বরং সমব্যাথী হিসেবে পাশে থেকে প্রেরণা যোগানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকগণের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
খবর বাসস

দ্বিতীয় দফায় মুক্তি পেল আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি

দ্বিতীয় দফায় জিম্মি মুক্তি দেওয়ার আগে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করে হামাস। তাদের অভিযোগ ছিল, গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে নতুন করে দেখ দেয় শঙ্কা। তবে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় এই অনিশ্চয়তা কেটে যায়।
এই দফায় ১৩ ইসরায়েলিসহ মোট ১৭ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। অন্যদিকে ৩৯ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় দ্বিতীয় দিনে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

১৩ জন ইসরায়েলির মধ্যে ছয়জন নারী এবং সাতজন শিশু ও কিশোর। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামাজিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা আইডিএফ সৈন্যদের সঙ্গে থাকবে এবং পরে তাদের ইসরায়েলি হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবে।
জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া চার থাই নাগরিকই সুস্থ আছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের দুটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে ৩৯ জন ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এর মধ্যে ছয়জন নারী এবং ৩৩ জন শিশু।
কাতার, মিসরসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সেই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

সারা দেশে র‌্যাবের ৪৩০ টহল দল মোতায়েন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে ১৪৫টিসহ সারা দেশে ৪৩০টি টহল টিম মোতায়েন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) সকালে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে গোয়েন্দারা ছদ্মবেশে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার গণপরিবহন ও পণ্যবাহী পরিবহনকে র‌্যাব টহলের মাধ্যমে এসকর্ট দিয়ে নিরাপদে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৩০

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৩৩১ পিস ইয়াবা, ১০৩ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ১৭.৫ গ্রাম হেরোইন, ১০ বোতল ফেনসিডিল ও ৯৯ বোতল দেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৬ নভেম্বর) ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৭টি মামলা রুজু হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্বে বাংলাদেশ অনুকরণীয় : প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব সমাজের কাছে স্বীকৃত ও প্রশংসিত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশকে অনুকরণীয় বলে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আজ রোববার সকাল ১০টায় গণভবনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি।
সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় আমাদের দেশে মেয়েদের পড়াশোনা করতে দেওয়া হতো না, এখনও অনেক দেশে মেয়েদের পড়তে দেওয়া হয় না। আমাদের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে সেজন্য তাদের আন্তরিক অভিনন্দন। ছেলেদের বলছি- তোমরাও পিছিয়ে থেকো না, পড়াশোনা করো সমানতালে চলো।
এইচএসসিতে ছাত্রীদের পাসের হার বেশি- এটার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শুধুমাত্র পড়ে পাস করলে হবে না, সেটা অর্থবহ হতে হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যথেষ্ট হতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের সহানুভূতি দেখাতে হবে। সে যে পারে নাই, সেটার কারণ বের করে তাকে আরও মনোযোগী হতে উৎসাহী করতে হবে। তাকে ধমক বা গালমন্দ করা ঠিক হবে না। এটা আমাদের বিনীত অনুরোধ থাকবে, কাউকে ধমক বা গালমন্দ করবেন না। এগুলো কোমলমতি এই ছেলেমেয়েগুলো নিতে পারে না। পরে তারা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। সমস্যা চিহ্নিত করে সেটি সমাধানে সহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে তারা ভালো করতে পারবে।’
বিশ্বের কাছে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনুকরণীয় বলেও মন্তব্য করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, গবেষণার ওপর সবেচেয়ে গুরুত্ব দিতে চাই। বিজ্ঞান শিক্ষায়ও আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ১২টি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। কারিগরি শিক্ষায়ও যাতে ছেলেমেয়েরা এগিয়ে আসে, সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুশিক্ষত তরুণরাই সোনার বাংলা গড়বে বলে আশাপ্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সিরিজে সমতা আনার লক্ষ্যে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতা আনার লক্ষ্যে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সফরকারীদের বিপক্ষে ডাবল লীড চায় স্বাগতিক ভারত। রোববার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হাই স্কোরিং ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২০৮ রান করে অজিরা। তিন নম্বরে নেমে ৫০ বলে ১১০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ইংলিশ। ভারতীয় বোলারদের তুলোধুনো করে ১১টি চার ও ৮টি ছক্কা হাঁকান তিনি।
২০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১ বল বাকি থাকতে ২ উইকেটের জয় পায় ভারত। এ ম্যাচ দিয়ে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ে ভারত। দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও কিষাণ।
প্রথম ম্যাচ হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়াতে চায় অজিরা। দলের অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড বলেন, ‘আমাদের বোলিং মান সম্মত হয়নি। বোলাররা রান আটকাতে পারেনি। ব্যাটাররা ভালো করেছে। আশা করছি, পরের ম্যচ জিতে সিরিজে সমতা আনতে পারবে।’

ভারতের তৈরি যুদ্ধবিমানে উড়ে বেড়ালেন মোদি

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজাস’-এ করে আকাশে উড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (২৫ নভেম্বর) ব্যাঙ্গালুরুতে এ যুদ্ধবিমানে চড়েন তিনি।
এদিন তিনি ব্যাঙ্গালুরুভিত্তিক পিএসইউ হিন্দুস্তান অ্যারোনোটিকস লিমিটেডে যান। এই প্রতিষ্ঠানটিই তৈরি করেছে তেজাস যুদ্ধবিমান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হিন্দুস্তান অ্যারোনোটিকসের চলমান কর্মকাণ্ড এবং এটির উৎপাদন সক্ষমতাগুলো ঘুরে দেখেন।
যুদ্ধবিমানে ঘুরে বেড়ানোর পর মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন মোদি। এতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিমানের পাইলটের পোশাকে বিমানের ভেতরে বসে আছেন তিনি। অপর একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হেলমেট হাতে বিমানের সামনে দিয়ে হেঁটে আসছেন তিনি।
তেজাস হলো একটি হালকা যুদ্ধবিমান। ৪ দশমিক ৫ জেনারেশনের বহুমাত্রিক এ যুদ্ধবিমানটি আকাশ যুদ্ধে এবং স্থল অভিযানে কাছ থেকে সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এ ধরনের যে যুদ্ধবিমান আছে— সেগুলোর মধ্যে তেজাস হলো সবচেয়ে হালকা। আকৃতি এবং যৌগিক বস্তুর ব্যবহার এই বিমানটিকে এতটা হালকা করেছে। এছাড়া বিমানটির দুর্ঘটনায় না পড়ার ভালো রেকর্ড রয়েছে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৪০টি তেজাস এমকে-১ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এছাড়া তারা আরও ৮৩টি তেজাস এমকে-১-এ বিমান অর্ডার করেছে। এই ৮৩টি বিমানের মূল্য হলো ৩৬ হাজার ৪৬৮ কোটি রূপি।