মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

দেশের সব থানার ওসি বদলির নির্দেশ ইসির

দেশের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি করতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উদ্দেশ্য করে এ নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ইসির উপসচিব মো. মিজানুর রহমান এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে।
ইসি জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের অধিক চাকরিকাল সম্পন্ন হয়েছে তাদের অন্য জেলায়/অন্যত্র বদলির প্রস্তাব আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে বিনীত অনুরোধ করা হলো।
চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি শেষে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১ ফিলিস্তিনি

অবরুদ্ধ গাজা উত্যকায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির শেষে পুনরায় হামলা চালিয়ে ২১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই রকেট ও বিমান হামলা শুরু করে এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত উত্তর গাজার বেইট লাহিয়ায় দুজন নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার মাগাজিতে সাতজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরে একজন নিহত হয়েছেন। খান ইউনিসের দক্ষিণে হামাদ শহরে দুজন নিহত হয়েছেন। তাছাড়াও মিসর-গাজা সীমান্ত রাফাহ ক্রসিংয়ের নিকট নয়জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় টানা ৫১ দিন আগ্রাসন চালিয়ে ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি হত্যা করেছে ইসরায়েল। তারপর কাতারের মধ্যস্ততায় সাতদিনের যুদ্ধবিরতি দিয়ে পুনরায় হত্যাজ্ঞ শুরু করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার সকাল থেকে বোমা হামলা করে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

বিএনপি জ্বালাও পোড়া নিয়ে ব্যস্ত : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে পুলিশ হত্যা করছে, মানুষকে হত্যা করছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ব্যস্ত আর বিএনপি জ্বালাও পোড়া নিয়ে ব্যস্ত।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় লালমনিরহাট-২ আসনের আদিতমারী উপজেলায় মনোনায়ন পত্র দাখিল করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে আহবান জানিয়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে না এসে পুলিশ হত্যা করছে, মানুষকে হত্যা করছে। তারা নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনে না আসলে তাদেরকে(বিএনপি) জোর করে নিয়ে আসা সম্ভব না।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ সকল সেক্টরে অভুতপুর্ব উন্নয়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বড় বড় মেগা প্রকল্প শেখ হাসিনার হাতে বাস্তবায়ন হয়েছে। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক নৌকার প্রতি সমর্থন কামনা করেন তিনি।
হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিশাল বহর নিয়ে লালমনিরহাট ২ (আদিতমারী কালীগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনায়ন পত্র দাখিল করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে একই দিন মনোনায়ন পত্র দাখিল করেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক সিরাজুল হক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সামছুল ইসলাম সুরুজের স্ত্রী হালিমা খাতুন।
এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনায়ন দাখিল করেছেন মমতাজ আলী শান্তসহ একাধিক প্রার্থী।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার লড়াইয়ে পাশে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিখ্যাত আমেরিকান সাপ্তাহিক নিউজ ম্যাগাজিন নিউজউইকে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের সিইও প্যাট্রিক ভারকুইজেনের সঙ্গে একটি নিবন্ধ লিখেছেন।
নিবন্ধটি বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে, যখন বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপায় খুঁজে বের করার জন্য বিশ্ব নেতারা দুবাইতে কোপ২৮ জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে সমবেত হয়েছেন।
সম্পূর্ণ নিবন্ধটি নিম্নরূপ
লেটস পুট ব্যাক পিপল অ্যাট দ্য হার্ট অফ ক্লাইমেট অ্যাকশন
॥শেখ হাসিনা এবং প্যাট্রিক ভারকুইজেন ॥
জলবায়ু পরিবর্তন হল একটি বৈশ্বিক বিপর্যয় যা গরীবদের ওপর ধনীরা চাপিয়ে দেয় এবং ক্রমবর্ধমান হারে এটি তাদের নিজেদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। দুবাইতে কোপ২৮ জলবায়ু সম্মেলনের জন্য আমন্ত্রিত বিশ্ব নেতাদের বুঝতে হবে যে তাদের টপ-ডাউন (উপর থেকে নিচে) পদ্ধতি কখনই কাজ করতে পারে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লড়াইয়ের জন্য আমাদের ক্ষতিগ্রস্তদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং এই লড়াইয়ে তাদের অর্থায়ন করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেতাদের মতদ্বৈততায় জলবায়ু বিপর্যয় থেমে থাকবে না। এর ফলে ইতোমধ্যেই জনপদের ওপর টাইফুন এবং বন্যা হচ্ছে এবং খরার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ছে। জলবায়ু তহবিলের একটি ক্ষুদ্র অংশই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবের সাথে লড়াই করা লোকেদের কাছে পৌঁছায়-তাদের নিজেদের এবং জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্থান ছাড়া তারা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। জলবায়ু অনাচার ও বৈষম্য আরো বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্তদের প্রথম সারিতে থাকা মানুষকে রক্ষায় সাহায্য না করলে বৈশ্বিক পর্যায়ে জলবায়ু কার্যক্রমের কোনো মানে হয় না। আমাদের স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক উদ্যোগের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় তহবিল দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে হস্তান্তর করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য নতুন চিন্তাভাবনা এবং একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনার প্রয়োজন। কোপ২৮ এ, বিশ্বকে অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত তহবিলটি অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হতে হবে যাতে আমরা অবকাঠামো পুননির্মাণ এবং জলবায়ু প্রভাবগুলোর সাথে আরও কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের চাহিদা মেটাতে দ্রুত এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি। এটি জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মুভিং ফরম গ্লোবাল টু লোকাল
গ্লাসগোতে কোপ২৬-এর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভিযোজন অর্থের প্রবাহ দ্বিগুণ করে ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে অর্থ প্রদানকারীদের অবশ্যই ২০২২ এবং ২০২৫ এর মধ্যে বার্ষিক অভিযোজন প্রবাহ গড়ে কমপক্ষে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। তবুও অভিযোজন অর্থায়ন প্রবাহ বিকাশে দেশগুলো ২০২১ সালে ১৫ শতাংশ কমে ২১.৩ বিলিয়ন হয়েছে। এই অর্থ খুবই সামান্য। তবুও এই অর্থের ৬ শতাংশেরও কম, এবং সম্ভবত ২ শতাংশের কম স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে জলবায়ু-স্থিতিস্থাপকতা প্রকল্পগুলোতে পৌঁছায়। সঠিকভাবে ট্র্যাকিং এবং অর্থ প্রবাহের প্রতিবেদন না করার কারণে অনুমান পরিবর্তিত হয়-এবং এটির উন্নতি করা দরকার। এর কারণ জলবায়ু নীতি-কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ উপর থেকে নিচে প্রবাহিত হয়।
কোন শহর, রাস্তা, মাঠ এবং বাড়ি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তা যারা জানে তারাই সেখানে বসবাস করে। জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের অবশ্যই তাদের একত্রিত হতে এবং তাদের নিজস্ব প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং ক্ষমতায়িত করতে হবে।
এটি বলা সহজ, করা কঠিন। জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলো পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রায়শই সময় এবং দক্ষতার অভাব হয়। প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করার জন্য তাদের সাহায্য এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন এবং তহবিল সুবিধা নেয়ার জন্য তাদের মৌলিক জিনিসগুলোর প্রয়োজন যেমন- আইনিভাবে গঠিত সংস্থা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
বাংলাদেশ সবসময়ই স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন জলবায়ু অভিযোজনে একটি শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে এবং সম্প্রতি সরকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে জলবায়ু সহায়তা পৌঁছানোর বিভিন্ন উপায় অন্বেষণ করছে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা অভিযোজনের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা সহজ করে তোলে, অভিযোজনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্প্রদায় এবং স্থানীয় সরকারগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য একটি জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল রয়েছে, সবুজ ব্যাঙ্কিং পরিষেবাগুলো প্রসারিত করে এবং বাস্তুতন্ত্র পরিষেবাগুলোর জন্য অর্থপ্রদানকারী সম্প্রদায়গুলোকে অন্বেষণ করে।
ঢাকায় গ্লোবাল হাব অন লোকালি লিড অ্যাডাপ্টেশনের মাধ্যমে সরকার সমাধান জোরদারে এবং বিশ্বের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় করতে সহায়তা করছে। এই প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে নাটকীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
চ্যালেঞ্জ থেকে সম্ভাবনা
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলায়, মেয়র এবং বাসিন্দারা তাদের জলবায়ু চ্যালেঞ্জের মধ্যে অর্থনৈতিক সুযোগ চিহ্নিত করার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে। অন্যান্য বড় শহরগুলোর মতো, মংলা জলবায়ু অভিবাসীদের একটি বড় আগমন দেখেছে যদিও এটি ক্রমবর্ধমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে লড়াই করছে।
গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলস্বরূপ-শহরের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকে দূষিত হচ্ছে। মংলা জনবসতির মানচিত্র তৈরি করছে, জলবায়ুর প্রধান দুর্বলতা চিহ্নিত করছে এবং স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের উন্নয়ন করছে। ব্র্যাক, একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং এটি যুক্তরাজ্য এবং কানাডার সরকারের সহায়তায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের মাধ্যমে কাজ করছে। এটি আশা করা যায় যে মংলার জনগণের অভিযোজন পরিকল্পনাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া অন্যান্য শহর ও শহরগুলোর জন্য একটি ব্লুপ্রিন্ট হয়ে উঠতে পারে।
এটি আমাদের দেখায় যে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজনই এগিয়ে যাওয়ার পথ। কিন্তু আমাদের এই পদ্ধতিগুলো ব্যাপকভাবে জোরদার করতে হবে। এজন্য দাতাদের জন্য অযাচিত ঝুঁকি তৈরি না করে আমাদের স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকে অর্থায়ন করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বব্যাংক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থাগুলোসহ বৃহৎ অর্থদাতাদের পোর্টফোলিওতে জনগণের অভিযোজন পরিকল্পনাগুলোকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি ট্রান্সমিশন বেল্ট হিসাবে কাজ করার জন্য শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলো এখানে মূল্যবান হতে পারে।
কোপ২৮ তখনই সফল হবে যখন এটি জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির জন্য প্রকৃত সুবিধা অর্জন করবে। এই বছরের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র সম্প্রদায়ের কাছে অর্থ প্রবাহ এবং স্থানীয় ভাবে নেতৃত্ব, উপযুক্ত এবং কার্যকর অভিযোজন নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যদি এটি অর্জন করতে পারি, তাহলে সেটি হবে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর অবিচার প্রতিকারের একটি বড় পদক্ষেপ।
খবর বাসস

বিএনপি এখন ভ্রান্ত রাজনীতির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি পেট্রোল দিয়ে বাসে ও ট্রেনে আগুন দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যে চলে গেছে। বিএনপি এখন ভ্রান্ত রাজনীতির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যা তাদের জন্য খুব একটা সুফল বয়ে আনবে না বরং আস্তে আস্তে তারা জনগণের কাছে আরও ধিক্কৃত হতে থাকবে। জনগণ থেকে বিএনপি আরও দূরে ছিটকে যাবে।
আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদেও তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিলো বা নিলো না সেটা বড় কথা নয়, নির্বাচনে সাধারণ জনগণের অংশ গ্রহণটায় হচ্ছে মুখ্য। এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আছে। আগামী ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিপুলসংখ্যাক ভোটাররা উপস্থিত হবেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া

ইউক্রেন বলেছে, রুশ বাহিনী দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বে মস্কোর সর্বশেষ বায়বীয় ব্যারেজে দুই ডজনেরও বেশি ইরানের প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী শীতের মাসে ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যূৎ গ্রীডে পরিকল্পিত হামলার জন্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করেছে।
দক্ষিণাঞ্চলে ১৮টি ড্রোন ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবির উল্লেখ করে বিমান বাহিনী বলেছে, ‘শত্রুরা সর্বমোট দ’ুটি এক্স-৫৯ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৫টি শাহেদ-১৩৬/১৩১ ড্রোন হামলা চালিয়েছে।’
গত শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলার ফলে লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময়ের জন্য ঠান্ডা ও অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।
পশ্চিমা অস্ত্র দিয়ে কিয়েভ তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। তবে স্বীকার করেছে, দুর্বল অঞ্চলগুলোকে রক্ষার জন্য ইউক্রেনের আরও অস্ত্রের প্রয়োজন।
খবর এএফপি

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না যেসব নিবন্ধিত দল

আগামী ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৪৪টি দলের মধ্যে ৩০টি দল অংশ নিচ্ছে। বাকি দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
ওই দিন রাতে নির্বাচন কমিশন জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ২ হাজার ৭৪১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মোট ৩০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে এসব মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।
নিবন্ধিত যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না
বিএনপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস, সিপিবি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা এনডিএম, বাংলাদেশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, জেএসডি (রব), বাসদ, বিজেপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন), গণফোরাম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ (গাভী)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সাত জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনী প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে।

জনপ্রতিনিধিকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্য দিয়েছে ভাড়াটে খুনি : র‌্যাব

টাঙ্গাইলের এক জনপ্রতিনিধিকে হত্যা পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে গ্রেপ্তার ভাড়াটে খুনি সাগর আলী।
তবে এ তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ঢাকার আশুলিয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গত ২ অক্টোবর গাজীপুরের শফিপুর এলাকা থেকে স্ত্রীসহ ভাড়াটে খুনি সাগর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইলের এক জনপ্রতিনিধিকে হত্যার জন্য সাগর আলীকে বিপুল টাকা খরচ করে কারাগার থেকে জামিনে বের করেন সেখানকারই এক রাজনৈতিক নেতা।
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাগর আলী এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিয়েছে কি না জানতে চাইলে খন্দকার আল মঈন বলেন, একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আমরা সাগর আলীকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তাকে এরআগে ২০১৮ সালেও একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। সাগর আলী জামিনে বের হয়ে এসে আবার একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর র‌্যাবকে বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার এলাকার এক জনপ্রতিনিধি তাকে জামিন পেতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন। সেই জনপ্রতিনিধি সাগরের জামিন এবং টাকা দিয়ে সহায়তা করেছে আরেকজন প্রতিনিধিকে হত্যার জন্য। তবে এসবই সাগরের দেওয়া তথ্য। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ হয়েছে, সেসবও সেই গণমাধ্যমের নিজস্ব অনুসন্ধান।
তবে সাগর আমাদের যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, এগুলো সঠিক কি না যাচাই বাছাই করছি। এছাড়া, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আরও বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমরা সাগরের কাছ থেকে যার নাম পেয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত করছি।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু আজ, চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন। আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হবে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। যা চলবে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরিফুল আলম জানিয়েছেন, এদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ২ হাজার ৭৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যেখানে মোট ৩০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা যাচাই-বাছাই করবেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি হবে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ১৭ পর্যন্ত সময় থাকবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের। এছাড়া প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। এরপর প্রার্থীরা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। সবশেষ আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে দেশে ইসি নিবন্ধিত দল রয়েছে ৪৪টি। ইসির তথ্যমতে, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ৩০টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। যদিও এর আগে অন্তত ২৬টি দল ইসিতে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

কারও কথায় নির্বাচনী ট্রেন থামবে না : কাদের

কারও কথায় নির্বাচনী ট্রেন থামবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত এই ট্রেন চলবে। যত বাধাই দেওয়া হোক, কেউ এই ট্রেন থামাতে পারবে না। নির্বাচন হবে।’
আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ৩০ সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ৩০ দলের অংশগ্রহণ বড় সাফল্য।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নামে একটি দল আজকে সহিংসতা, সন্ত্রাস, অগ্নিসন্ত্রাস করে এই নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার চক্রান্ত করছে। এখন আবার তারা নতুন করে আন্দোলনের কথা বলছে। তার তো আন্দোলন করছে, একটা হরতাল একটা অবরোধ সফল হয়েছে এখন পর্যন্ত? আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি একটাও সফল হয়নি। তারা সন্ত্রাস করতে পেরেছে, আগুন-সন্ত্রাস করতে পেরেছে। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ, জনগণের সাড়া নিয়ে তারা কোনো আন্দোলন সফল করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাসহ অনেক দেশেই বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন হয়। সেসব নির্বাচনকে কেউ তো অবৈধ মনে করে না। কারণ যে ভোটে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় সেখানে ২-১ টা দল না এলে নির্বাচন অবৈধ হয়ে যাবে, এটা বলা যায় না।
আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢালাওভাবে সবাই স্বতন্ত্র নির্বাচন করবে বিষয়টা এমন নয়। ১৬ তারিখ পর্যন্ত দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।