মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

ভুল নীতির কারণে বিএনপির মধ্যে বিভক্তি : কাদের

বিএনপির ভুল নীতির কারণে দলটির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে শনিবার (২ নভেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এমন দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির জনসমর্থন কমে গেছে। অনেকে দল পাল্টেছেন। ভেতরে ভেতরে অনেকে বলছে, জীবনে আর বিএনপি করবে না।’
বিএনপি নেতা শাহজাহান ওমরের আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া এবং ঝালকাঠি-১ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘উনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে এসেছেন। এটা কি অপরাধ?’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই এখনো জেলে আছেন। শাহজাহান ওমরও জেলে ছিলেন। জেল থেকে বের হয়েই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি কাকতালীয় কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির অন্যান্য যে নেতারা আছেন, অপরাধের সঙ্গে বিষয়টা তুলনা করতে হবে। আপনি একজন পুলিশকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করলেন, বিএনপির যে নেতাকর্মী যারা জেলে আছেন, তারা এই দায় এড়াতে পারেন না।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব কিছু এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কিছু এখন আর সরকারের কথায় হয় না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে প্রতিযোগিতা। সুষ্ঠু নির্বাচন, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা। এটাই গণতন্ত্র।’
এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার প্রতি, তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। তার কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের নেতাকর্মীদের আছে।’
ভুল নীতির জন্য বিএনপিতে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো দলকে ভাগ করা আওয়ামী লীগের নীতি নয়। বিএনপির ভুল নীতির জন্য দলটির মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ বিএনপির বিভক্তির সুযোগ নিচ্ছে না।
তৃণমূল বিএনপি থেকে দাঁড়ানো প্রার্থীদের অনেকেই বিএনপি থেকে আসা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপির যে সমর্থন ছিল সেখান থেকে মানুষ সরে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে হরতাল-অবরোধে জনগণ নির্বাচন বিমুখ হয়নি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখনো কেউ কেউ নির্বাচন ঠেকানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। কিন্তু দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজায় মানবিক বিরতির পক্ষে ৫৪ শতাংশ ইসরায়েলি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিরতি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ৫৪ শতাংশ ইসরায়েলি। অতি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য।
সাত দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থলবাহিনী দ্বিতীয় দফা অভিযান শুরু করার পর তাৎক্ষণিক এক জনমত জরিপ চালায় ইসরায়েলের থিঙ্কট্যাংক সংস্থা লাজার ইনস্টিটিউট।
জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত দেখতে চান ৫৪ শতাংশ ইসরায়েলি। অন্যদিকে উপত্যকায় ইসরায়েলি অভিযান জারি রাখার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির পক্ষে রয়েছেন ইসরায়েলের ২৫ শতাংশ নাগরিক।
বাকি ২১ শতাংশ ইসরায়েলি এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শুক্রবার বিকেলে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ।
গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর জিম্মি-বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দিতে ২৫ নভেম্বর সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। সেই বিরতি শেষ হয় শুক্রবার ভোরে উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থলবাহিনীর অভিযান শুরুর মধ্যে দিয়ে। ২য় দফা অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ১৭৮ জন ফিলিস্তিনি।
শুক্রবার ভোরের দিকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হিলোটের বাসিন্দারা সাইরেনের শব্দে জেগে ওঠেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, গাজা থেকে রকেট ছোড়া হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই রকেট আঘাত হানার আগেই তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনার পর এক তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে গাজায় ফের অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় আইডিএফ। গাজার হামাস নেতৃত্বাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপত্যকার অন্তত ১০০টি স্থানে গোলা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালানোর পর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।
ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহত এই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।
অন্যদিকে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।

ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ুবিষয়ক কর্মকান্ডে নেতৃত্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিযুক্ত মানুষের পক্ষে বিশ্বব্যাপী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করেছে আইওএম এবং জাতিসংঘ সমর্থিত গ্লোবাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট মোবিলিটি সংস্থা।
ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে দুবাইতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন-কপ ২৮ এর সাইডলাইনে একটি উচ্চ-স্তরের প্যানেল অধিবেশনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি রাষ্ট্রদূত ডেনিস ফ্রান্সিস এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গাইনাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপের কাছ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
কপ-২৮-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান তথ্যমন্ত্রী ও পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ এ সময় ‘অভিযোজন এবং সহনশীলতার জন্য জলবায়ু গতিশীলতাকে বাগে আনা’ শীর্ষক উচ্চ-স্তরের এ প্যানেল অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
জলবায়ু গতিশীলতার বিষয়টিকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আলোচনার মূলধারায় আনার এখনই উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের ক্লাইমেট মোবিলিটি সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ুজনিত কারণে বাধ্য হয়ে অভিবাসন গ্রহণ করা এবং বাস্তুচ্যুতির দিকটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের তীক্ষè দৃষ্টিতে নিয়ে আসেন। এর আগেও বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে ঢাকায় আইওএমের সহযোগিতায় আয়োজিত দুটি সংলাপ এবং গত বছর মিশরের শার্ম এল শাইখে কপ-২৭ এ বিষয়টি তুলে ধরেছে, জানান হাছান মাহমুদ।
একই সঙ্গে কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত ৪ হাজার ৪০০ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম বহুতল সামাজিক আবাসন প্রকল্প নির্মাণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উদ্যোগের নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং জলবায়ু গতিশীলতা এবং এ থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অব্যাহত নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বের সমর্থন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সন্তুষ্ট যে, এখন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলির একটি বিস্তৃত জোট এই ইস্যুতে একযোগে কাজ করছে।
পুরস্কার প্রদানকারী গ্লোবাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট মোবিলিটি সংস্থাটি জাতিসংঘ, আঞ্চলিক আন্তঃসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন অর্থ সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতায় জলবায়ু গতিশীলতা মোকাবিলায় সহযোগিতামূলক বিস্তৃত সমাধানের জন্য কাজে ব্যাপৃত।
এদিকে আজ বিকেলে দুবাইয়ে কপ ২৮ সম্মেলনস্থলে কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
এ সময় বন ও পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবু জাফরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে, কমনওয়েলথ মহাসচিব তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

আইপিএলে অস্ট্রেলিয়ানদের কিনতে যত টাকা খরচ হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের

চলতি মাসের ১৯ ডিসেম্বর দুবাইতে হতে যাওয়া আইপিএলের নিলামের জন্য ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ১৬৬ জন ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন। যেখানে ভারতেরই রয়েছে ৮৩০ জন। যাদের মধ্যে ১৮ জনের জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার আছেন ৩৩৬ জন। এদের মধ্যে ২১২ জনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া অভিষেক হয়নি এরকম ক্রিকেটার আছেন ৯০৯ জন, ৪৫ জন সহযোগী দেশের। এদিকে দুবাইয়ের নিলামে ৩০ জন বিদেশিসহ মোট ৭৭ জন ক্রিকেটারকে কিনতে পারবে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি। যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলো খরচ করতে পারবে মোট ২৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
তবে এবারের আইপিএলের নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলির নজর থাকবে সদ্য শেষ হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসরে সফল একাধিক ক্রিকেটারের দিকে। যেখানে চাহিদার শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ফাইনালের নায়ক ট্র্যাভিস হেড, নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্ররা।
তাই এসকল তারকাদের কিনতে হলে যে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতে হবে তা বলাই যায়। আর ডিম পাড়া হাঁসের দাম যে বেশি হবে সেটাও ভালো করে জানেন ক্লাবগুলোর মালিকেরা। তাই তো তাদের বেশি দামে কিনতেও পিছপা হবেন না তারা। কিন্তু কামিন্স, হেড, রাচিনদের কিনতে কত টাকা খরচ হবে এতদিন জানা ছিল না ফ্র্যাঞ্চাইজিদের।
অবশেষে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কল্যাণে সেটিও জানতে পেরেছে ক্লাবগুলোর মালিকরা। জানা যায়, কামিন্স, হেড, মিচেল স্টার্ক, স্টিভ স্মিথ, জস ইংলিস, জস হ্যাজ়লউডকে কিনতে গেলে খরচ করতে হবে অন্তত ২ কোটি টাকা। নিউজিল্যান্ডের নতুন তারকা রাচিন রবীন্দ্রকে কিনতে অবশ্য এত খরচ করতে হবে না ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। কেননা তার ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৫০ লাখ টাকা। যদিও ধারণা করা হচ্ছে দামাদামি শেষে তার দাম গিয়ে ঠেকতে পারে ১০ কোটিতে।
তারা ছাড়াও ভালো দাম পেতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ক্রিকেটার জেরাল্ড কোয়েৎজ়ে এবং রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। শ্রীলঙ্কার স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও নিজের ন্যূনতম দাম রেখেছেন ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অবশ্য ব্যাঙ্গালুরু থেকে ছাঁটাই হওয়া হর্ষল প্যাটেলকে দলে নিতে হলেও কমপক্ষে ২ কোটি টাকা খরচ করতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলোকে। কলকাতার ছেড়ে দেয়া উমেশ যাদবও নিজের ন্যূনতম দাম রেখেছেন ২ কোটি টাকা। এই বিভাগে অন্যতম চমক ভারতীয় দলের সাবেক ব্যাটার কেদার যাদব। তিনিও নিজের ন্যূনতম দাম রেখেছেন ২ কোটি টাকা।

আইএমওর কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক সমুদ্রবিষয়ক সংস্থার (আইএমও) সি ক্যাটাগরিতে কাউন্সিল সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
লন্ডনে আইএমও সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ১২৮ ভোট পেয়ে এই প্রথমবারের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ জয়লাভ করল।
আজ শনিবার (২ ডিসেম্বর) লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং আইএমওতে স্থায়ী প্রতিনিধি সাইদা মুনা তাসনিম বলেছেন, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের ৪০ সদস্যের কাউন্সিলে বাংলাদেশের নির্বাচনে জয়লাভ সদস্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম কমিউনিটি যে আস্থা রেখেছে এটা তার প্রমাণ। এই বিজয় একটি সামুদ্রিক জাতি হিসেবে বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রতিফলন।
হাইকমিশনার বাংলাদেশকে কাউন্সিল সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য আইএমও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ২০২৩ সালে আইএমও কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে সাইদা মুনা তাসনীম আইএমওর ৩৩তম অ্যাসেম্বলিতে সর্বসম্মতিক্রমে সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সমুদ্রবিষয়ক সংস্থার (আইএমও) সদস্য দেশ ১৭৫টি।

রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৩

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) থেকে শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি জানান, আসামিদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৬০৯ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২২ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজা, ১ গ্রাম হেরোইন, ৬ বোতল ফেনসিডিল, ৪ বোতল বিদেশি মদ ও ৬০ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৬টি মামলা করা হয়েছে।

‘মেসি-মেসি’ কটাক্ষের জবাবে যা করলেন রোনালদো

ক্যারিয়ারের উড়ন্ত ফর্মে থাকা অবস্থায় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর লড়াইটা ছিল বেশ উপভোগ্য। কখনো এগিয়ে ছিলেন রোনালদো আবার কখনো মেসি। তবে পড়ন্ত বেলায় এসে দুইজন চলে গেছেন দুই মেরুতে। একজন খেলছেন এশিয়ার ফুটবলে, আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রে।
তবে এরপরেও ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে দুইজনকে নিয়ে রেষারেষি এখনও রয়ে গিয়েছে আগের মতোই।
গতকাল সৌদি প্রো লিগে আল হিলালের মুখোমুখি হয়েছিল রোনালদোর আল নাসর। রিয়াদ ডার্বিতে আল হিলাল ৩-০ গোলে হারায় আল নাসরকে। বিরতিতে মাঠ ছাড়ার সময়ে রোনালদোকে শুনতে হয় ‘মেসি-মেসি’ ধ্বনি।
গ্যালারি থেকে রোনালদোকে উদ্দেশ্য করে এমন স্লোগান দেয় সমর্থকরা। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন রোনালদো।
যারা রোনালদোকে উদ্দেশ্য করে ‘মেসি-মেসি’ স্লোগান দিচ্ছিলেন, তাঁদের দিকে তাকিয়ে রোনালদোকে চুমু ছুড়তে দেখা যায়। সেই সময়ে পর্তুগিজ তারকার মুখে লেগেছিল হাসি।
ডার্বি ম্যাচে অবশ্য জ্বলে উঠতে পারেননি রোনালদো। তাতে তাঁর দল হেরেছে বড় ব্যবধানে। তবে এ মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ১৫ গোল করে আছেন তালিকার সবার উপরে।

আল হিলালের বিপক্ষে হারল রোনালদোর দল আল নাসে

সৌদি প্রো লিগের শীর্ষ দুই দলের লড়াইয়ে জিতেছে আল হিলাল। রোনালদোর আল নাসেরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলো তারা।
প্রথমার্ধে অবশ্য সমান তালেই লড়াই করে দুই দল। গোলের সুযোগও পেয়েছিল বেশ কয়েকটা। তবে নিখুঁত ফিনিশিং করতে পারেনি কেউই।
রক্ষভাগের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিরতির পর নিজের মাঠে আরও উজ্জিবিত হয়ে ওঠে আল হিলাল। গোলও আসে দ্রুতই। ৬৪ মিনিটে এগিয়ে দলটি।
প্রাণপন চেষ্টা করেও গোলটি শোধ দিকে পারেনি রোনালদোরা। উল্টো শেষ মুহূর্তে আরও দুই গোল হজম করতে হয়েছে আল নাসেরকে।
এতে শীর্ষে থাকা আল হিলালের থেকে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ল রোনালদোর দল।

নির্বাচনকে অর্থবহ করতে সাংবাদিকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের পাশাপাশি সাংবাদিকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।কারণ নির্বাচনকে অর্থবহ করতে এই তিনের সমন্বয়ে কাজ করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান।
গত সোমবার ( ২৭ নভেম্বর ) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর সেমিনার কক্ষে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী নির্বাচনবিষয়ক রিপোর্টিং প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
নির্বাচনের সময় সাংবাদিকের প্রত্যুৎপন্নমতিতে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে আবু আলম মো. শহিদ খান বলেন, পরিবেশে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতিবেদন তৈরি ও কাভারেজের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রতিবেদনই পারে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড জনগণের উদ্বুদ্ধ করতে। অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় সংবিধান ,নির্বাচনী আচরণবিধি ও অন্যান্য বিষয় যেন মেনে চলেন।
এছাড়া নির্বাচনী প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে পিআইবি’র পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ) চলতি দায়িত্ব শেখ মজলিশ ফুয়াদ উপস্থিত ছিলেন। পিআইবি’র প্রতিবেদক এম. এম. নাজমুল হাসানের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণে মোট ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

মালির কাছে পাত্তাই পেল না আর্জেন্টিনা

জার্মানির কাছে হারের ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে আবারও আঘাত পেল আর্জেন্টিনা। এবার তাদের উড়িয়ে দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আলবিসেলেস্তে যুবাদের হারিয়েছে তারা।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার স্তাদিও ম্যানাহানে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচটিতে মালি ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে। এই হারের ফলে আর্জেন্টিনা চতুর্থ স্থানে থেকে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করলো। এতে করে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হলো আলবিসেলেস্তে যুবাদের। আর মালি তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলো।
অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কখনোই ফাইনাল খেলতে পারেনি। বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য তিনবার তৃতীয় স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করা। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শেষবার তৃতীয় স্থানে থেকে যাত্রা শেষ করেছিল তারা। এ নিয়ে তিনবারের মতো চতুর্থ হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলো আলবিসেলেস্তে যুবারা। এর আগে ২০০১ ও ২০১৩ সালে চতুর্থ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে তারা।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এদিন ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে বসে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৯ম মিনিটে সেকিও কোনের অ্যাসিস্টে গোল করে মালিকে এগিয়ে নেন স্ট্রাইকার ইব্রাহিম দিয়ারা। এরপর গোল শোধে মরিয়া আর্জেন্টিনা বার বার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হামলে পড়ে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। উল্টো প্রথমার্ধের বিরতির আগে ৪৫তম মিনিটে মামাদু দুম্বিয়া মালির লিড দ্বিগুণ করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে আলবিসেলেস্তে যুবারা। উল্টো ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে হামিদু মাকাওলু মালির হয়ে তৃতীয় গোল করেন। এরপর আর ম্যাচের ফিরতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করা দুই খেলোয়াড় দলের হয়ে হার ঠেকাতে পারেননি।
পুরো ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে মালি। আর্জেন্টিনার গোলমুখে তারা মোট ৩৩টি শট করে, যার মধ্যে ১৫টিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ৪৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে মাত্র ৮টি শট করতে পারে আর্জেন্টিনা, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। এ পরিসংখ্যানে বুঝা যায় ম্যাচে কতটা আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি।
এর আগে ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে হওয়া এই বিশ্বকাপে পরাজয় দিয়েই মিশন শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে এরপর টানা দুই ম্যাচে জয় শেষ ষোলো নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তে জুনিয়রদের। সেখানেও জয় নিশ্চিত করে তারা পা রাখে কোয়ার্টার ফাইনালে।
কোয়ার্টারে মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের। হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে সেলেসাওদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে মেসির উত্তরসূরিরা। ব্রাজিলের যুবাদের ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে পা রাখে তারা। সেখানে ক্লাদিও এচেভেরির একাই করেছিলেন ৩ গোল।
ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ হিসেবে জার্মানিকে পায় আলবিসেলেস্তে যুবারা। সেখানে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ গোল ড্র হয়। ফলাফল নির্ধারণে তাই টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে ফাইনাল নিশ্চিত করে জার্মানি। সেমিতে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন আর্জেন্টিনার অগাস্টিন রবার্তো। কিন্তু তা দলের জয় পেতে সাহায্য করেনি।
উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত নাইজেরিয়া সর্বোচ্চ ৫ বার, ব্রাজিল ৪ বার, ঘানা ও মেক্সিকো ২ বার করে ছোটদের এই বিশ্বকাপ জিতলেও আর্জেন্টনা এখন পর্যন্ত ফাইনালেই উঠতে পারেনি। তিনবার অবশ্য তৃতীয় হয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার সেটাও হতে পারল না।