সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না : কাদের

বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সরকারি দলের মুখপাত্র ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও একতরফা সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যে বন্ধুরা আছে তারা কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ব্যাপারে একমত না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের টানাপোড়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ নিষেধাজ্ঞা দেবে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে কোনো পণ্য নেবে না। সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনের পথে হাঁটছেন।
জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা যেসব রাজনৈতিক দল আছে তাদের সাথে আমাদের সহযোগিতা, সম্পর্ক আরও জোরদারের তাগিদ অনুভব করছি। যে কারণে ১৪ দলের সাথে বৈঠক হয়েছে। জাতীয় পার্টির সাথে বসেছি। মূল বিষয় ছিল নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে গুপ্ত হামলা, গুপ্তহত্যা প্রতিহত করব ভোটারদের নিয়ে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির দল হিসেবে অনেক কথাই বলতে পারে। রাজনৈতিক দলের হিসেবে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে তারা তো চাইবেই। বাস্তবে কী হবে সেটি পরে দেখা যাবে। চাইতে তো কোনো দোষ নেই, আশা বড় থাকাই ভালো। আসন ভাগাভাগির বিষয়টা আমি জানি না। আসন ভাগাভাগি হয়েছে এমন কোনো আলোচনাও হয়নি। আমরা রাজনৈতিক আলোচনা করেছি।
জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা নিয়ে এত লুকোচুরি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, লুকোচুরির বিষয় না। এটা নিয়ে এত ঢাক-ঢোল পেঠানোর কী আছে? নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। কারণ, নির্বাচনবিরোধী শক্তিরা যে অপরাজনীতি করছে, সেটি মোকাবিলার জন্য আমাদের মধ্যে একটা সমন্বয় করা দরকার। কারণ, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করা, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করা, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে। এজন্য আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। এখানে লুকোচুরির কোনো ব্যাপার না। আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেছি৷
বিএনপির অবোধ আন্দোলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিরাজগঞ্জে মুরগির বাচ্চা বহনকারী একটি কার্ভাডভ্যান পোড়ানো হয়েছে। এতে সাত হাজার মুরগির বাচ্চা পুড়ে গেছে। এখন মুরগির বাচ্চাও তাদের (বিএনপি) শত্রু। মুরগির বাচ্চাও তাদের টার্গেট। নাশকতা, গুপ্ত হামলার আজকের যে ভয়াবহ চিত্র, সেটা নতুন নতুন রেকর্ড স্থাপন করছে তারা।
কাদের বলেন, গতকাল পর্যন্ত পায় ৬০০ যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। দশটি ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন-অগ্নিসন্ত্রাসে পুলিশবাহিনী সদস্য, পরিবহন শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ কয়েকজন মারা যাওয়ার পাশাপাশি ২৫০ জন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এরা যখন মুরগির বাচ্চাকেও টার্গেট করেছে, এদের গুপ্ত হামলার টার্গেট আরো বিস্তৃত হতে পারে। আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। নির্বাচন বানচালের জন্য এরা মরিয়া হয়ে উঠছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সেটি বানচালের জন্য ওরা ততই মরিয়া হয়ে উঠছে। মরণ কামড় দিতে চাইছে। সে কারণেই আজকে নির্বাচনমুখী যে রাজনৈতিক দল আছে, যাদের সঙ্গে আমাদের আগে জোট ছিল, মহাজোট ছিল, তাদের সঙ্গে আমরা আমাদের সহযোগিতা, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো জোরদার করার তাগিদ অনুভব করছি। আমরা ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক করেছি, জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আলোচনা করেছি।
এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

সারা দেশে ১৫৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বিএনপির ডাকা দশম দফা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ২০ প্লাটুনসহ সারা দেশে ১৫৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রয়েছে।

রাজধানীসহ সারা দেশে র‌্যাবের ৪১৮ টহল টিম

বিএনপির ডাকা দশম দফা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের ১২৬টি টহল টিমসহ সারা দেশে ৪১৮টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে র‍্যাব ফোর্সেসের ১২৬ টি টহল দলসহ সারাদেশে ৪১৮ টি দল মোতায়েন রয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা প্রদানে দেশের বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার গণপরিবহন ও পণ্যবাহী পরিবহনকে টহলের মাধ্যমে এস্কর্ট দিয়ে নিরাপদে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে র‍্যাব।
যেকোনো ধরণের নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‍্যাবের গোয়েন্দারা ছদ্মবেশে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।

১১০ ইউএনও এবং ৩৩৮ ওসি বদলির প্রস্তাব অনুমোদন ইসির

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১১০ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ৩৩৮ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (০৭ ডিসেম্বর) ইসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তা অনুমোদন করেছেন কমিশন।
৩০ নভেম্বর সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় নির্বাচন কমিশন। এজন্য কাদের বদলি করা হবে সেই প্রস্তাব পাঠানোর জন্যও বলে সংস্থাটি।
সেই নির্দেশনার আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠালে এর আগে ৪৭ জন ইউএনওকে বদলির অনুমোদন দেয় ইসি। পরবর্তীতে বুধবার (০৬ ডিসেম্বর) ১১০ ইউএনও ও ৩৩৮ ওসি বদলির প্রস্তাব এলে তাও অনুমোদন দিল কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের চিঠি অনুযায়ী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) কামরুল আহসান বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী বদলিযোগ্য ওসিদের তালিকা পাঠিয়েছিলাম। তালিকাটি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করায় এখন সেই অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে চার শতাধিক ওসি রয়েছেন। তাদের মধ্যে একই থানায় ছয় মাসের বেশি ওসি রয়েছে এমন কর্মকর্তার সংখ্যা তিনশর বেশি।
রেঞ্জভিত্তিক তাদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, পুলিশে একসঙ্গে বড় ধরনের রদবদল করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ কারণে ইসির বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী গত ৫ ডিসেম্বর প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হয়নি। যদিও পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। ইসি ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে। আমরা ৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই সঙ্গে এত সংখ্যক ওসি রদবদল করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের চাওয়া অনুযায়ী এবার তা করা হচ্ছে।
গত ১৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হয়। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর। আর ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। নির্বাচনে প্রচার শুরুর আগেই বদলির কাজ শেষ করতে চায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

সিটিকে টপকে গেল অ্যাস্টন ভিলা

চলতি মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সারপ্রাইজ প্যাকেজ বলা চলে অ্যাস্টন ভিলাকে। স্প্যানিশ কোচ উনাই এমেরির হাত ধরে দারুণ ফুটবল উপহার দিচ্ছে দলটা। গোলবারের নিচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, স্ট্রাইকার হিসেবে ওলি ওয়াটকিন্স, আর মাঝমাঠে ডগলাস লুইজ-ইউরি টিলেমেন্সদের নিয়ে দারুণ এক ব্যালেন্সড দলই করেছে ভিলা।
লিগে টানা চার ম্যাচে জয়বঞ্চিত রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ‘সিটিজেন’দের জন্য একটু অবাক করার মতোই ব্যাপার। আরও অবাক করা বিষয় হতে পারে, পেপ গার্দিওলার দল যদি প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুটি শট নেয়!
গতকাল রাতে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে সিটির ১-০ গোলে হারের ম্যাচে এমন খেলাই দেখা গেল গার্দিওলার দলের কাছ থেকে। লিগে এ নিয়ে টানা চার ম্যাচে জয়বঞ্চিত থাকা সিটিকে পয়েন্ট টেবিলে টপকেও গেছে ভিলা।
গার্দিওলার দল বল দখলে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ করতে অভ্যস্ত। ৫৩.৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে সেই কাজই করার চেষ্টা করেছেন সিটির খেলোয়াড়েরা। কিন্তু এযাত্রায় হয়নি। ভিলার গোলপোস্ট তাক করে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন আর্লিং হলান্ড-হুলিয়ান আলভারেজরা। ৭৪ মিনিটে ভিলার গোলে অবশ্য ভাগ্যেরও অবদান আছে। বক্সের একদম মাথা থেকে লিওন বেইলির শট সিটির ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসের পায়ে লেগে গোল হয়। শেষ পর্যন্ত এই গোলকে পুঁজি করে তুলে নেওয়া জয়েই সিটিকে পেছনে ফেলেছে ভিলা। ১৫ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় উনাই এমেরির দল। সমান ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে চারে ম্যানচেস্টার সিটি।
হারের পর ভিলার প্রশংসা করে সিটি কোচ গার্দিওলা বলেছেন, ‘আজ (গতকাল) অ্যাস্টন ভিলা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে।’ গার্দিওলা স্বীকার করেন তাঁর দল এখন ভুগছে, ‘কোচ হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো তাদের (খেলোয়াড়) আবারও জাগিয়ে তোলা, ম্যাচ জেতানো। এখন আমরা একটু ভুগছি।’ ভিলা কোচ এমেরি জয়ের পর বলেছেন, ‘আমরা রোমাঞ্চিত তবে ভারসাম্যও ধরে রাখতে হবে। এখন শনিবার আর্সেনাল ম্যাচ নিয়ে ভাবছি…টেবিলে কোথায় আছি, সেটা আমরা জানি। পেছনে আছে ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহামের মতো ক্লাব। তাই কাজটা খুব কঠিন হবে।’
লিগে ঘরের মাঠে টানা ১৪ ম্যাচজয়ী ভিলা আর একটি ম্যাচ জিতলেই নিজেদের ১৪৯ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টানা ১৫ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বে। সিটির বিপক্ষে ভিলার ২২ শট নেওয়ার পরিসংখ্যানই বলে দেয় জেতার জন্যই মাঠে নেমেছিল এমেরির দল। সিটিতে গার্দিওলার জন্যও অভিজ্ঞতাটা নতুন।

এই প্রথম পেলে-নেইমারের ক্লাবের অবনমন

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বড় নাম সান্তোস। এই ক্লাবে খেলেই বিশ্ব মাতানো তারকা হয়েছেন পেলে ও নেইমার। ক্লাবটির ১১১ বছরের ইতিহাসে জন্ম দিয়েছে আরও কতশত তারকাকে। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির এবার সিরিআ থেকে সিরি-বিতে অবনমন হয়েছে। ক্লাবটির ফুটবল ইতিহাসে এবারই যা প্রথমবার ঘটলো।
লিগের শেষ দিনে ফোর্তালেজার বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে অবনমন ঘটল ক্লাবটির। সাও পাওলো এবং ফ্ল্যামেঙ্গোর পাশাপাশি এই ক্লাবটিই ব্রাজিলিয়ান লিগের ইতিহাসে কখনো অবনমিত হয়নি।
চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই ধুঁকছিল সান্তোস। ৩৮ লিগ ম্যাচে ১১ ম্যাচে জয় পেলেও ১৭ বার হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের। সেইসঙ্গে ছিল ১০ ড্র। শেষ দিনে অবনমন এড়াতে অন্তত ড্র করলেই হতো তাদের। আর হেরে গেলে তাকিয়ে থাকতে হতো বাহিয়ার দিকে। ৩৭তম ম্যাচডে শেষে সান্তোসের পয়েন্ট ছিল ৪৩ আর বাহিয়ার ছিল ৪১।
কিন্তু বৃহস্পতিবারের কোনো ফলই সান্তোসের পক্ষে আসেনি। নিজেরা ফোর্তালেজার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে। অন্যদিকে বাহিয়া ৪-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে অ্যাতলেটিকো মিনেইরোর বিপক্ষে। ৩৮তম দিনে এসে তাই সান্তোসের পয়েন্ট আটকে রইলো ৪৩এ। আর বাহিয়া ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে চলে যায় রেলিগেশন জোনের বাইরে।
শেষদিনে সান্তোসের ভাগ্য টিকিয়ে রাখতে পারতো আরেক ক্লাব ভাস্কো ডা গামা। তবে সেখান থেকেও নিরাশ হতে হয়েছে তাদের। ভাস্কো দা গামা নিজেদের ম্যাচে ড্র করলেও টিকে থাকতে পারতো সান্তোস। ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে ১-১ ছিল স্কোরলাইন। একইসময়ে ফোর্তালেজার বিপক্ষেও ১-১ গোলে ড্র ছিল সান্তোসের ম্যাচ। ৮২ মিনিটে ভাস্কো দা গামা নিজেদের জয়সূচক গোল করে। সেসময় ঝুলে যায় সান্তোসের আশা।
প্রথম বিভাগের ফুটবলে টিকে থাকতে জয় দরকার ছিল সান্তোসের। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের উল্টো গোল খেয়ে ভেঙে যায় সান্তোসের স্বপ্ন। ভাস্কো দা গামা লিগ শেষ করে ১৫তম স্থানে থেকে। ১৬তম স্থান দখল করে বাহিয়া। আর ১৭তম স্থানে থেকে নিচের লিগে নেমে যেতে হয় সান্তোসকে।
ব্রাজিলিয়ান সিরি-আ এর ফরম্যাট অনুযায়ী, চার দল অবনমনে যায়। ১৭তম স্থান থেকে শেষের চার দল নেমে যায় নিচের স্তরে। শীর্ষ চার দল জায়গা পায় কোপা লিবার্তোদেরেসে। এবারের লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পালমেইরাস। সেরা চারে পালমেইরাস ছাড়া জায়গা পেয়েছে গ্রেমিও, অ্যাটলেটিকো মিনেইরো এবং ফ্ল্যামেঙ্গো।

কারেনের ম্যাচসেরা বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপে ঢাকা ছিলেন ব্যর্থতার চাদরে৷ সিরিজের আগের ম্যাচেও ছিলেন বেশ খরুচে। এবার সেই স্যাম কারেনের ম্যাচসেরা বোলিংয়েই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপে নিয়েছেন মাত্র ২ উইকেট। বাজে বিশ্বকাপ কাটিয়ে নতুন শুরুর আশায় পা রেখেছিলেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯.৫ ওভারে দিয়েছিলেন ৯৮ রান, যা ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে খরুচে স্পেল।
তবে ২৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের ওপর আস্থা হারাননি অধিনায়ক জস বাটলার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেই ভরসার প্রতিদানই দিয়েছেন কারেন। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। ইংল্যান্ডও জিতেছে ৬ উইকেটে।
অ্যান্টিগায় টস হেরে আগে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল মাত্র ২০২ রান। এই ছোট সংগ্রহ ইংল্যান্ড তাড়া করেছে ৬ উইকেট আর ১০৩ বল হাতে রেখেই।
২০৩ রানের জবাবে ফিল সল্ট ও উইল জ্যাকস ৩৫ বলে ৫০ রানের জুটি গড়লে ম্যাচে অনেকটাই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৫ বলে ২১ রান করে সল্ট আউট হলেও ৭২ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন জ্যাকস। জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট রান না পেলেও ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। হ্যারি ব্রুক ও অধিনায়ক বাটলার ৭৮ বলে ৯০ রানের জুটি গড়েন। ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রুক। আর অধিনায়ক অপরাজিত ছিলেন ৪৫ বলে ৫৮ রান করে। এই ইনিংস খেলার পথে ইংল্যান্ডের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০০০ রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন বাটলার।
২০২ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ আরও বড় হতে পারত। কারণ, শুরুটা খারাপ হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তারা। ইংল্যান্ড পেসারদের দাপটে ২৩ রানেরই ৪ উইকেট হারায় শাই হোপের দল। সেখান থেকে অধিনায়ক হোপ শেরফান রাদারফোর্ডকে নিয়ে ১২৯ রানের জুটি গড়েন। তবে এই জুটি ভাঙার পর ধসে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ ৫০ রানেই ৬ উইকেট হারায় তারা।
বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে কারেনের পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়েছেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ২ উইকেট করে নিয়েছেন দুই তরুণ বোলার গাস আটকিনসন ও রেহান আহমেদ।

৫ বছরের সংসারে ইতি টানছেন কে-পপ তারকা দম্পতি

পাঁচ বছরের সংসারে ইতি টানছেন দুই কোরীয় কে-পপ তারকা চোই মিন হোয়ান ও ইউহি। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে চোইয়ের এজেন্সি এফএনএস এন্টারটেইনমেন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দ্য কোরিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই এ দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, চোই মিন হোয়ান ও ইউহির ইতিমধ্যে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে চোই লেখেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর দাম্পত্য জীবনে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি দুঃখপ্রকাশ করছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি আমার পরিবার, দলের সদস্য এবং ভক্তদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এছাড়া একজন পিতা হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে ইউহি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘অনেক সময় পরে এসে আমরা আলাদা পথে হাঁটছি। দম্পতি হিসেবে আমাদের যাত্রা এখানেই শেষ। তবে আমরা আমাদের সন্তানদের মা এবং বাবা হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি। আমরা দুজনেই সক্রিয়ভাবে শিশুদের যত্ন নিচ্ছি এবং যোগাযোগ বজায় রাখছি। আমরা দুজনেই সন্তানদের দেখভাল করব।’
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে দুজনের প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০১৮ সালে বিয়ে করেন দুই কোরীয় কে-পপ তারকা চোই মিন হোয়ান ও ইউহি। তাদের সংসারে এক পুত্র ও দুই কন্যা রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গোয়েন্দা স্যাটেলাইট চালু করায় এবার উত্তর কোরিয়ার ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর চলাচলের ওপর নজরধারি চালাতে এমন স্যাটেলাইট চালু করে দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবিভাগ (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এনে সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি গ্রুপ কিমসুকির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে পরিচিত উত্তর কোরিয়া এতদিন পর্যন্ত যক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদেশগুলোর স্যাটেলাইটের নজরদারিতে ছিল। এবার তারা নিজেরাই কক্ষপথে একটি স্যাটেলাইট পাঠিয়ে অন্যান্য দেশ বিশেষ করে মোড়ল রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ওপর নজরদারি চালাতে সামর্থ্য হয়েছে। একে প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের জন্য একটি বড় অর্জন বলে দাবি করছে পিয়ংইয়ং।
গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা স্যাটেলাইটে ধারণ করা হোয়াইট হাউজ, পেন্টাগন ও মার্কিন রণতরীর ছবি নিরীক্ষা করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন।
এদিকে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্র চুক্তির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনটি সংস্থার উপর চলতি বছরের ১৬ আগস্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইউক্রেনে চালানো রুশ হামলায় সমর্থন করতে চায়, এমন যে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবিভাগ বা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রাশিয়া ক্রমবর্ধমানভাবে ইউক্রেনে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্র এবং ভারী সরঞ্জাম হারিয়ে এখন উত্তর কোরিয়া এবং অন্যান্য মিত্রদের দিকে সাহায্যের চাইতে বাধ্য হয়েছে।
এর আগে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় ২০২২ সালের ২৪ মার্চ রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পিয়ংইয়ং আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালানোর পর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার অধীনে আসা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহের অভিযোগ’ রয়েছে।
২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণের কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিষেধাজ্ঞা বিলগুলোতে সই করেছেন।

১৬ বছর পর মুক্তি পেলেন পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ১৬ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আলবার্তো ফুজিমোরিকে ১৯৯০-এর দশকে তার দশক-দীর্ঘ শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ২০১৭ সালে তাকে ক্ষমা করে মুক্তির আদেশ দেন। আদালতের অনুমতির পর স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ছাড়া পান। ফুজিমোরি ২০০৭ সালে চিলি থেকে প্রত্যর্পণের পর ১৬ বছর কারাগারে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আন্তঃআমেরিকান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস (আন্তঃ-আমেরিকান আদালত) এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সমালোচনা সত্ত্বেও আদালত মানবিক ভিত্তিতে ক্ষমা পুনরুদ্ধারের রায় দেওয়ার একদিন পর বুধবার ৮৫ বছর বয়সী ফুজিমোরিকে লিমার বারবাডিলো কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
৮৫ বছর বয়সী ফুজিমোরি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর একটি গাড়িতে উঠছেন। এ সময় সেখানে তাঁর সমর্থকদের ভিড় ছিল। কারাগার প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে সাংবাদিকেরা ভিড় করেন।
তার মুক্তির দিনে জেলের বাইরে সমর্থকরা জড়ো হয়েছিল। কারাগার থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে উঠেন। এ সময় ফুজিমোরিকে তার দুই সন্তান এবং একজন ব্যবসায়ী কেনজি অভ্যর্থনা জানান।
কারাগারের বাইরে অপেক্ষারত ফুজিমোরি সমর্থক ক্যাটালিনা পন্স দিনের শুরুতে বলেন, ফুজিমোরির বিরুদ্ধে এই অবিচারের অবসান হওয়ার সময় এসেছে। আমাদের দেশ তার পায়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুজিমোরি জাপানি ঐতিহ্যের অধিকারী এবং ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, তিনি পেরুকে শাইনিং পাথ সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অর্থনৈতিক পতন থেকে রক্ষা করেছিলেন।
তবে সমালোচকরা বলছেন, তিনি গণতন্ত্রের অপব্যবহার করেছেন এবং শাইনিং পাথের বিরুদ্ধে তার সরকারের যুদ্ধের সময় নৃশংসতা করেছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ২০০৯ সালে ১৯৯১ এবং১৯৯২ সালে ২৫ জনকে হত্যার আদেশ দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি পেদ্রো পাবলো কুজিনস্কি ২০১৭ সালে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
এই সপ্তাহের সাংবিধানিক আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত আন্তঃআমেরিকান আদালত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের চাপের পর নিম্ন আদালত কর্তৃক ক্ষমা বারবার বাতিল বা স্থগিত করা করে।
আদেশের পর আন্তঃ-আমেরিকান আদালতের সভাপতি পেরুকে শর্ত পূরণ করা হয়েছে কিনা তা বিশ্লেষণ করার জন্য “সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান” না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষমা বন্ধ করতে বলেছিলেন।
২০০০ সালের নভেম্বরে ফুজিমোরিকে “নৈতিক অক্ষমতার” কারণে অভিশংসন করা হয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তার একদিন পর তিনি জাপানে পালিয়ে যান, যেখানে তার বাবা-মা ছিলেন, এবং ফ্যাক্সের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি চিলিতে যান, সেখান থেকে তাকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যর্পণ করা হয়।
সম্প্রতি তিনি শ্বাসযন্ত্র, স্নায়বিক এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন এবং জিহ্বার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। ক্ষমা পুনঃস্থাপনের মঙ্গলবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।