সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাঠানো চিঠি নিয়ে যা বললো জাতিসংঘ

বাংলাদেশে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে পশ্চিমাদের কারণে পক্ষপাত করছে জাতিসংঘ। যার প্রমাণ মিলেছে ২৮ অক্টোবর নিয়ে সংস্থাটির একাধিক বিবৃতিতে। বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির সদরদপ্তরে চিঠি দিয়ে এমন অভিযোগ করে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পরে এটি গণমাধ্যমে চলে আসাটা দুঃখজনক বলে মন্তব্য তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাঠানো ওই চিঠি জাতিসংঘ এখনও দেখেনি বলে জানিয়েছেন, মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সংস্থাটির নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি এ তথ্য জানান। ডুজারিক বলেন, আমি চিঠিটি দেখেনি। আমি বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে এরই মধ্যে যা বলেছি তাই পুনর্ব্যক্ত করছি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ‘নির্বাচনী পর্যবেক্ষক’ পাঠানোর বিষয়ে অন্য এক সাংবাদিক বাংলাদেশে ‘নির্বাচনী পর্যবেক্ষক’ পাঠানোর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘নির্বাচনী পর্যবেক্ষক’ পাঠাবে না জাতিসংঘ।
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে ওই চিঠিটি আন্তোনিও গুতেরেসের অফিসে পাঠানো হয়। চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের একজন ক্রুসেডার। তিনি দেশের মানুষের ভোট, খাদ্য ও সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে অনেক কষ্ট করেছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করতে সংকল্পবদ্ধ। কিন্তু একই সঙ্গে বিক্ষোভের নামে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি পোড়ানো ও মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনাগুলো তিনি সহ্য করবেন না, যা বিরোধী দল নিয়মিত করে আসছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, আমরা আশা করব জাতিসংঘ ও তার সেক্রেটারিয়েট, সংস্থা ও স্থানীয় কার্যালয়গুলো বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে গঠনমূলক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ আশাবাদী যে, জাতিসংঘ ও তার সব অঙ্গসংগঠন ও সংস্থা জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য অংশীদারের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ জন গ্রেফতার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ২২০৫ পিস ইয়াবা, ১৫০ গ্রাম হেরোইন ও ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০টি মামলা রুজু হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশে নয়, দুর্নীতি বৈশ্বিক সমস্যা : দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশে নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ২১তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশ ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
জাতীয় নাট্যশালা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠেয় দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক এ আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
বরাবরের ন্যায় এবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯৫টি উপজেলায় বড় পরিসরে উদযাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। একইসঙ্গে দেশে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি-আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং পিকেএসএফসহ অন্যান্য এনজিওতে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ২০০৩ সালে এই দিনকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। বাংলাদেশ আনকাকের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে। যদিও সরকারিভাবে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি উদ্‌যাপিত হচ্ছে।
দুদকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

পাঁচ বিশিষ্ট নারীর হাতে রোকেয়া পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নারী শিক্ষা, নারীর অধিকার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণ এবং পল্লী উন্নয়নে অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩’ পেয়েছেন পাঁচ বিশিষ্ট নারী।
শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট নারী ও তাদের স্বজনদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পদকপ্রাপ্ত পাঁচ বিশিষ্ট নারী হলেন- নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য খালেদা একরাম (মরণোত্তর), নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডা. হালিদা হানুম আখতার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা (মরণোত্তর), নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে নিশাত মজুমদার ও পল্লী উন্নয়নে রনিতা বালা।

পদকপ্রাপ্তদের ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণ নির্মিত একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, প্রত্যেককে চার লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।

মাইলফলকের ম্যাচ রাঙালেন দুর্দান্ত রোনালদো

বয়স বাড়ছে, পেরিয়েছে ৩৮। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মাঠের খেলায় এর কোনো ছাপ নেই। চলতি মৌসুমে আল নাসরের হয়ে প্রায়ই গোল করছেন তিনি। গতকাল মাইলফলকের ম্যাচেও জালের দেখা পেয়েছেন পর্তুগিজ এই তারকা।
সৌদি প্রো লিগে গতরাতে আল রিয়াদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি ছিল রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারের ১২০০তম ম্যাচ! এমন উপলক্ষ পেয়ে রোনালদো নিজেও দারুণ উজ্জীবিত ছিলেন। রিয়াদকে ৪-১ গোলে হারানোর পথে গোল করার পাশাপাশি এক গোল করিয়েছেন সতীর্থকে দিয়েও।
পুরো ম্যাচে দাপট ছিল আল নাসরের। ৬৭ শতাংশ বলের দখল রাখা আল নাসর ২২টি শট নিয়ে ৮টিই রাখে লক্ষ্যে। অন্য দিকে আল রিয়াদ পুরো ম্যাচে কেবল একটি শটই নিতে পেরেছে।
এদিন ম্যাচের ৩১ মিনিটেই দলকে গোল করে এগিয়ে দেন রোনালদো। সাদিও মানের ক্রসে দারুণ ট্যাপ করে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ‘সিআর সেভেন।’ এরপর যোগ করা সময়ে পর্তুগিজ সতীর্থ ওতাভিও করা গোলটিতে সহায়তা করেছেন রোনালদো। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে বল বাড়ান ওতাভিওর উদ্দেশ্যে। হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ওতাভিও।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আল নাসরের হয়ে জোড়া গোল করেন তালিসকা। এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকল আল নাসর। শীর্ষে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ১৬ ম্যাচে ৪৪।
নিজের ১২০০তম ম্যাচে দারুণ এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন রোনালদো, ‘আরও তিনটি পয়েন্ট পেলাম। আমার সব সতীর্থদের ধন্যবাদ যারা আমাকে ১২শ তম ম্যাচে পৌঁছতে সহায়তা করেছে। কি দারুণ যাত্রা, কিন্তু আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’
পেশাদার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় সবার ওপরে সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটন। ১৩৮৭ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরি আতে জুভেন্টাসের হয়ে ১ হাজারতম ম্যাচের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন রোনালদো।

গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে গাজায় বহুলপ্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতি এখন হচ্ছে না। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হয়।
এ পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩টি দেশ। তবে ভোটদানে বিরত থাকে যুক্তরাজ্য। শেষ পর্যন্ত ভেটো ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দিলে প্রস্তাবটি আটকে যায়।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো (আমি মানি না) ক্ষমতা রয়েছে। এদের কোনো একটি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিলে তা পাস করা যায় না।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজায় সহিংসতা বন্ধ করার জন্য অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিক আহ্বানের মধ্যে ওয়াশিংটনের এই ভেটো আসল। প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত রবার্ট উড বলেছেন, ‘প্রস্তাবটি ভারসাম্যপূর্ণ নয়। এতে বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি।’
এদিকে গাজা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদকে অকার্যকর করে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়া। এর ফলে গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি।
তিনি বলেন, ‘আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি পোড়ামাটি নীতির প্রতি সমর্থন জানাল এবং এ কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ।’ ওয়াশিংটন ‘সাধারণ বোধবুদ্ধির’ পরিচয় দিতেও ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে দিয়ে ইসরাইলের পাশে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসরাইল। ভোটাভুটির পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের দূত গিলাদ এরদান টুইট (বর্তমান এক্স) করে এ ধন্যবাদ জানান।
এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সপ্তাহেই কাউন্সিলকে মানবিক যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সনদের অধীনে মহাসচিবকে দেয়া কয়েকটি ক্ষমতার মধ্যে একটি বিরলভাবে ব্যবহৃত অনুচ্ছেদ ৯৯-কে অনুসারে তিনি বলেছিলেন, একটি মানবিক বিপর্যয় এড়াতে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন যা ‘সম্পূর্ণ ফিলিস্তিনিদের জন্য সম্ভাব্য অপরিবর্তনীয় প্রভাব ফেলতে পারে, এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে’।
আর্টিকেল ৯৯ এর ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য হুমকি হতে পারে, মনে হলে জাতিসংঘের মহাসচিব সেগুলো নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারেন।

বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন অনেকাংশে পূরণ করেছি : প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন অনেকাংশে পূরণ করতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অনেক অবদান আছে। তারা যেমন ট্রেনিংয়ে গেছে, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেছে। তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নানা নির্যাতনের শিকার হন। অনেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়া নিজের স্বামীর নামে স্কুল করেছেন। সেখানে ছাত্রী পাওয়া যেত না। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করতেন। সেখানেও নানা বাধার সম্মুখীন হন। তিনি তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, যাহা পুরুষ পারিবে, তাহা নারীও পারিবে।
আফসোস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা আফসোস রয়ে গেছে আমার, খুব ইচ্ছা ছিল একজন নারীকে আমি প্রধান বিচারপতি করে যাবো। কিন্তু আমাদের সমাজে এত বেশি কনজারভেটিভ, এগুলো ভাঙতে সময় লাগে। সেজন্য করতে পারেনি। এ আফসোসটা থেকে গেল।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে নারীদের অনেক বাধা ছিল। সেসময় নারীদের কর্মক্ষেত্রে কোনো সুযোগ দিতো না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু মুজিব নারীদের সে সুযোগ দিয়েছেন। আইনেই ছিল জুডিসিয়ারিতে মেয়েরা যোগ দিতে পারবে না। জাতির পিতা আইন পরিবর্তন করেন। পরে আমি এসে এটির পথ আরও সুগম করে দেই। নাজমুন আরা আপিল বিভাগেও যান। আমার একটা আফসোস রয়ে গেছে, আমার ইচ্ছে ছিল, প্রধান বিচারপতিও নারীকে করবো। পারিনি।
তিনি বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, এটাই ছিল পাকিস্তানের আইন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সমস্ত আইনগুলো পরিবর্তন করেন। এই আইন পরিবর্তনের পর থেকে আমাদের দেশের মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিতে পারছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি সরকারের এসে দেখি আমাদের উচ্চ আদালতে কোনো নারী জজ নেই। তখন আমি উদ্যোগ নিলাম, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বলেছি— উচ্চ আদালতে কোনো জজ নিয়োগ দেওয়া হলে তাতে যদি কোনো নারী জজের নাম না থাকে, আমি কখনো ওই ফাইল সই করব না, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব না। সেই থেকে যাত্রা শুরু।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল। বিজয় অর্জন করেছিল।
তিনি আরো বলেন, বেগম রোকেয়ার সময় মুসলমান মেয়েরা ঘরে অবরুদ্ধ থাকতো। লেখাপড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে তার স্বামী সবসময় তাকে সহযোগিতা করেছেন, তার ভাই তাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি নিজের প্রচেষ্টা উর্দু, বাংলা, আরবি, ইংরেজি, শিক্ষা যেগুলো গ্রহণ করা সেগুলো তার স্বামীর কাছ থেকে শিখেছেন। স্বামীর কাছে আক্ষরিক জ্ঞান এবং বই পড়ার শিক্ষা গ্রহণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার ভাইয়ের কাছ থেকেও একটি অনুপ্রেরণা পান। তার স্বামীর নামে একটি স্কুল তৈরি করেন। স্কুল তৈরির পরও তাকে অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবিলা করতে হয়। কারণ, স্বামীর নামে যে স্কুল করেছিলেন সেখানে ছাত্রী পড়ানো যেত না। তিনি নিজের বাড়ির বাইরে গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আসতেন। এটা করতে গিয়ে অনেক পরিবারের বাধা এবং অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। তিনি দমে যাননি কখনো। তার সাহসী ভূমিকা সব সময় আমরা স্মরণ করি।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।
এবার বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন ৫ নারী। তাঁরা হলেন নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য খালেদা একরাম, মরণোত্তর (ঢাকা জেলা), নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডা. হালিদা হানুম আখতার (রংপুর জেলা), নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা, মরণোত্তর (নেত্রকোনা জেলা), নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে নিশাত মজুমদার (লক্ষীপুর জেলা) এবং পল্লী উন্নয়নে রনিতা বালা (ঠাকুরগাঁও জেলা)।

বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ইতোমধ্যে সংস্থাটি এই ঋণ অনুমোদন করেছে। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এডিবি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ।
যার বার্ষিক গড় ক্ষতি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।
এডিবির ঋণের অর্থে জলবায়ু-টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রথম উপ-প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে। যা বাংলাদেশকে জলবায়ু মোকাবিলায় শক্তিশালী করতে, কম কার্বন অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে এবং মূলধারায় লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা করবে এডিবির এই ঋণের অর্থ।
সরকারকে কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও অবকাঠামো, নগর উন্নয়নসহ জলবায়ু-সমালোচনামূলক খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এই প্রকল্প।
সংস্থাটির প্রিন্সিপাল পাবলিক ম্যানেজমেন্ট ইকোনমিস্ট আমিনুর রহমান বলেন, জলবায়ু ধাক্কা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এডিবিও বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত।

জয়া আহসানের অভিষেক

প্রথমবার বলিউড সিনেমায় অভিনয় করেছেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। ‘করক সিং’ নামের সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী। রহস্য আর সাসপেন্সে ভরপুর থ্রিলার গল্পের সিনেমাটি শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) মুক্তি পেয়েছে ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে জি ফাইভে।
এ সিনেমা দিয়ে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসানের। সিনেমাটিতে নয়না চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তারকাবহুল সিনেমাটি জয়া ছাড়াও অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি, পার্বতী, সঞ্জনা সাংঘি প্রমুখ।
সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত জয়া আহসান বলেন, সবসময় অনিরুদ্ধ ও পঙ্কজের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। তাদের সঙ্গে কাজ করা, তা-ও প্রথম হিন্দি সিনেমায়, আনন্দ দ্বিগুণ।
নভেম্বর মাসে গোয়ায় ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয় সিনেমাটির। সেই প্রিমিয়ারে হাজির ছিলেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী।
জানা গেছে, অ্যামনেশিয়ায় আক্রান্ত একে শ্রীবাস্তব নামক এক চরিত্রের সংকটময় জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘করক সিং’ সিনেমাটি। এই চরিত্রটি অতীতের সব ঘটনা ভুলে গেছে। ভুলে যাওয়া ছোট ছোট স্মৃতি একত্র করার চেষ্টা করতে থাকে সে। এক পর্যায়ে শ্রীবাস্তব আবিষ্কার করে বিরাট এক অর্থনৈতিক অপকর্মের পেছনের সত্য।
‘করক সিং’ সিনেমার এমন গল্প লিখেছেন বিরাফ সরকারি, রিতেশ শাহ ও অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী। এটি প্রযোজনা করছে উইজ ফিল্মস।

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৫১ জন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ জন আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮৭ জন।
আজ শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৩৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৬১৫ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ জন। ঢাকায় ১ লাখ ৭ হাজার ২৫০ এবং ঢাকার বাইরে ২ লাখ ৫ হাজার ১২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৬৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।