সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে চায় বিসিসিআই

ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিসিসিআইয়ের। এরপর কয়েক দফায় সংলাপ ও টানাপোড়নের পর দ্রাবিড়ের সঙ্গে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সংস্থাটি। তবে সেই চুক্তি আরও দীর্ঘমেয়াদি করতে চায় বিসিসিআই।

বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের মাঠে সব ফরম্যাটের সিরিজ শেষ করে রাহুলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চায় তারা। সংস্থাটির সেক্রেটারি জয় শাহ সম্প্রতি জানিয়েছেন, হাতে বেশি সময় না থাকার কারণে রাহুল স্বল্পমেয়াদে পুনরায় কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শেষ করে দীর্ঘমেয়াদে কোচ নিয়োগের আলোচনা শুরু হবে।

ক্রিকেট বিষয়ক সাইট ‘ক্রিকবাজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় শাহ বলেন, ‘আমাদের সময় ছিল না। আমরা তার সঙ্গে দেখা করেছি এবং পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সম্মত হয়েছি, তিনি চালিয়ে (কোচের দায়িত্ব) যেতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে আসলে আমরা তার সাথে বসে মেয়াদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’

গাজার ১০৪ মসজিদ ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় গাজার সবচে
কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তম শতকে গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে নির্মিত হয় দ্য গ্রেট ওমারি মসজিদ। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমরের (রা.) নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছিল। দেড় হাজার বছরের পুরোনো মসজিদটি ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী এই ইসলামিক স্থাপত্যকে বাতিঘর হিসেবে বিশ্বাস করেন গাজাবাসী।

গত ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০৪টি মসজিদ ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। সেই সঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী নানান নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে দুই হাজার বছর পুরোনো সেন্ট পরফিরাস চার্চ। এ ছাড়া বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীন রোমান কবরস্থান, জাদুঘরেও আঘাত হানে ইসরাইল।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে ধ্বংস করাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউনেস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এ দেশে মানবাধিকার বলে কিছু ছিল না’

পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশে মানবাধিকার বলে আর কিছু ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের যাতে কেউ বিচার করতে না পারে সেজন্য দায়মুক্তি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে আমাদের স্বজনদের হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পূর্বে আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মামলা করতে পারিনি।

‘সরকার গঠনের পর সেই কালো আইন বাতিল করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরাই প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমরা সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের ব্যবস্থা করেছি। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বিশ্বের শোষিত-নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের এবছরের প্রতিপাদ্য- ‘সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শেখ হাসিনা সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৫ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আহ্বান- ‘Together, let’s rejuvenate the Universal Declaration of Human Rights, demonstrate how it can meet the needs of our time and advance its promise of freedom, equality and justice for all’ এর প্রতিও পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে হাজার বছরের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সারাজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু এমন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, যেখানে প্রতিটি মানুষ মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা লাভ করবে। এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। অথচ তার সঙ্গেই মানবাধিকার সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিঃস্বার্থ সংগ্রাম, অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা লাভের মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তিনি দেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষার দলিল হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন করেছেন। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক মানবাধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার প্রদানের ব্যবস্থা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর আমরা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও বিচারের আওতায় এনেছি। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। ইতোমধ্যে কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ফলে বর্তমানে কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শৈশব/কৈশোর থেকেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনলাইনভিত্তিক ‘মানবাধিকার কোর্স’ চালু করেছি। তাছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কমিশনের উদ্যোগে ন্যাশনাল ইনকোয়ারি কমিটি করা হয়েছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ মানবাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আমরা আমাদের সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থসেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। আমরা নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে আমরা বিশ্ব দরবারে মানবাধিকার রক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।

তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রেখে যাচ্ছি, যা বিশ্ব পরিমন্ডলে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। ফিলিস্তিন, সিরিয়াসহ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপক্ষে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত আটটি আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ২০২৩-২০২৫ মেয়াদে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) নির্বাচিত সদস্য হিসেবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পূর্ণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন শেখ হাসিনা। সূত্র : বাসস

গাজায় হতাহত ৬৬ হাজারের বেশি, ৪৫ শতাংশই শিশু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ৬৬ হাজারের বেশি। এদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই শিশু। এছাড়া গাজায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে হামলায় ৩৬ শতাংশ বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। সেখানকার পরিস্থিতি মারাত্মক বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেও যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত হয়েছে ১৭ হাজার ৭০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে অন্তত ৪৮ হাজার ৭৮০ জন। খবর আল জাজিরার
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেছেন, ‘গাজার জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা সব বর্ণনার বাইরে। আমেরিকান ও ইউরোপীয় সমর্থনে ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের অবসান ঘটানো অমানবিক।’
আশরাফ আল-কুদরা বলেছেন, ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণে প্রতিদিন শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে এবং হাজার হাজার আহত হচ্ছে। নিহতদের প্রায় অর্ধেক শিশু।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা যেসব এলাকাকে নিরাপদ বলে দাবি করছে সেগুলোকেই বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এটি এখনও গাজা উপত্যকা জুড়ে ঘটছে – কোনও নিরাপদ জায়গা নেই।
গাজার কর্মকর্তা জানান, ‘ইসরায়েলের আগ্রাসনের শিকারদের ৭০ শতাংশ শিশু ও নারী। তারা যেসব বাড়িতে বাচ্চারা থাকে সেগুলোকে টার্গেট করছে। হতাহতদের প্রায় ৪৫ শতাংশ শিশু। এটা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না।’
মধ্য ও দক্ষিণ গাজার দুটি হাসপাতাল গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত ১৩৩ জনের মৃতদেহ পেয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শহর দেইর এল-বালাহের আল-আকসা হাসপাতালে ৭১টি মৃতদেহ আনা হয়েছে। হাসপাতালটিতে ১৬০ জন আহত ব্যক্তিকেও আনা হয়।
এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ৬২ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই হাসপাতালএখনও দক্ষিণ গাজায় পরিচালিত প্রধান চিকিৎসা সুবিধাগুলোর একটি। এছাড়াও ৯৯ জন আহত ব্যক্তিকে সেখানে আনা হয়।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলছে, মাঝারি ক্ষুধায় পতিত হয়েছে গাজার ৫২ শতাংশ এলাকার মানুষ। সেখানকার ৯১ শতাংশ পরিবার ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ৬৩ শতাংশ মানুষ সারাদিনই কোনো খাবার না খেয়ে থাকার কথা জানিয়েছে। গাজার উত্তরাঞ্চলে এই অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য সরবরাহের চেইন ভেঙে পড়েছে। এছাড়া গাজায় কাজ করা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ এর মুখপাত্র আদনা আবু হাসনা জানিয়েছেন, গাজায় অনাহারে থাকা মানুষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বেতিসের মাঠে পয়েন্ট হারালো রিয়াল

তিন ম্যাচ পর লা লিগায় হোঁচট খেলো রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার রিয়াল বেতিসের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা।
১৬ ম্যাচে তৃতীয় ড্রয়ে পয়েন্ট হারালেও লা লিগা টেবিলের শীর্ষেই আছে রিয়াল (৩৯)। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিরোনার (৩৮) সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান নেমেছে মাত্র ১-এ। শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী রবিবার বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলবে জিরোনা।
প্রথমার্ধে কোনও দল গোল পায়নি। বিরতির পর নিচু শটে রিয়ালকে লিড এনে দেন জুড বেলিংহ্যাম। ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার পাসে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে ৫৩ মিনিটে জাল কাঁপান ইংলিশ মিডফিল্ডার।
তবে বেতিস ঘুরে দাঁড়ায়। ৬৬তম মিনিটে এইতর রুইবালের দূরপাল্লার রকেটগতির শট তাদের সমতায় ফেরায়।
রিয়ালের কপাল ভালো যে হারতে হয়নি, গোলপোস্ট বাঁচিয়ে দিয়েছে তাদের। ৯০ মিনিটে বেতিস এগিয়ে যেতে পারতো। ইসকো তার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করার খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু তার হেড পোস্টে আঘাত করে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে রিয়াল।

সালাহর মাইলফলকের দিনে শীর্ষে লিভারপুল

শেষ দিকের গোলে জয় তোলাকে ‘অভ্যাস’ বানিয়ে ফেলা লিভারপুল এবার হারিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেসকে।
পেনাল্টিতে গোল হজম করে পিছিয়ে যাওয়ার পর সমতা এনেছেন মোহাম্মদ সালাহ, এরপর ৯১তম মিনিটে জয়ের গোল এনে দিয়েছেন হার্ভি এলিয়ট।
২–১ ব্যবধানের এই জয়ে আর্সেনালকে টপকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে লিভারপুল। রাতে অবশ্য অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে জয় পেলে আর্সেনাল আবার উঠবে শীর্ষে। ক্লপ কোচ হওয়ার পর লিভারপুল কখনো প্যালেসের মাঠে না হারলেও আজ ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত সেই শঙ্কা কিছুটা হলেও ছিল। ৫৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে প্যালেসকে এগিয়ে দেন ইয়াস–ফিলিপে মাতেতা। তবে লিভারপুলকে এবারের মৌসুমে গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে অনেকবারই। প্রথম ১৫ ম্যাচেই দলটির ১৫ পয়েন্ট এসেছে পিছিয়ে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে।
আজ সেটিরই পুনরাবৃত্তি করেছে ক্লপের দল। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে প্যালেসের জর্ডান আয়েউ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে এর সুবিধা তোলে লিভারপুল। ৭৬ মিনিটে সমতা এনে দেন সালাহ। চলতি লিগে এটি মিসরীয়র ১৪তম এবং লিভারপুলের হয়ে ২০০তম গোল। লিভারপুল ইতিহাসে দুই শ গোল করা পঞ্চম খেলোয়াড় সালাহ। তার আগে এই তালিকায় আছেন ইয়ান রাশ (৩৪৬), রজার হান্ট (২৮৫), গর্ডন হজসন (২৪১) এবং লিলি লিডেল (২২৮)।
সালাহর রেকর্ডময় গোলের পর লিভারপুলকে পরের গোলটি এনে দেন এলিয়ট। বদলি নামা এই ইংলিশ মিডফিল্ডার ৯১তম দলের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা গোলটি এনে দেন। এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ৯০তম মিনিট বা এরপরে গোল করে সবচেয়ে বেশি ৪৩ ম্যাচ জিতল লিভারপুল।

ইসরায়েলকে ১৪ হাজার ‘ট্যাংক শেল’ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

কংগ্রেসের কোনো ধরনের আলোচনা পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে প্রায় ১৪ হাজার ট্যাংক শেল বিক্রি করতে যাচ্ছে মার্কিন সরকার। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলের কাছে ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হবে এসব ট্যাংক শেল।
সাধারণত কোনো দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বা গোলাবারুদ বিক্রি করার আগে, তা কংগ্রেস পর্যালোচনা করে। এ পর্যালোচনার জন্য ২০ দিন সময় নেয় কংগ্রেস। তবে এই ১৪ হাজার ট্যাংক শেল দেয়ার জন্য তা না করে নিজের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন বাইডেন।
গাজায় অভিযানরত দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী এসব গোলা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। মূলত এসব গোলা বড় প্যাকেজের একটি অংশ। ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ওই প্যাকেজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইসরায়েলের মেরকাভা ট্যাংকের জন্য ৪৫ হাজার গোলা দেবে। যা গাজায় চলমান অভিযানে ব্যবহার করবে ইসরায়েল।
হামাস কর্তৃক গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রতিশোধ নিতে গাজায় অভিযান শুরু করে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। চলমান এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে ৪৮ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ।

ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : এফবিসিসিআই সভাপতি

‘রাজনীতি যার যার, অর্থনীতি সবার’ এই মূলমন্ত্র স্মরণে রেখে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে, দেশকে সমৃদ্ধ করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তা থেকে শুরু করে দেশের সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা, ভেদাভেদ ভুলে দেশের অর্থনীতিকে সামনের পথে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সামনের এগিয়ে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠুভাবে নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করতে চান। দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ খুবই জরুরি। এ সময়, দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অসহিষ্ণু কর্মকা- থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেনশন হলে এফবিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় (২০২২-২০২৩) বক্তৃতায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
বর্তমান বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ফলে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে মন্তব্য করে মাহবুবুল আলম বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও নীতিমালা ক্রমশ আধুনিকায়ন করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যু যেমন ক্রস বর্ডার ট্রেড ও কানেক্টিভিটি, বিনিয়োগ, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেসরকারি খাতের সুপারিশ প্রণয়ন, শুল্ক ও কর ব্যবস্থা, অবকাঠামো, সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিক সাপোর্ট, এনার্জি,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব,চতুর্থ শিল্পবিপ্লব,টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বেসরকারি খাতের অবস্থান মতামত এবং সুপারিশমালা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহবুবুল আলম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে একাত্ম হয়ে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণে একটি স্মার্ট এফবিসিসিআই গড়ার ম্যানিফেস্টো নিয়ে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় এফবিসিসিআই নিয়মিত কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ পরিষদের সদস্যদের অবহিত করার জন্য প্রতি মাসে ই-বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে। একটি গতিশীল, ব্যবহার-বান্ধব এবং ইন্টারেক্টিভ এফবিসিসিআই গঠনে ডিজিটাল ওয়েবসাইট প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এফবিসিসিআই এর কার্যক্রমকে আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য স্মার্ট অফিস তৈরির লক্ষ্যে গুলশানে এফবিসিসিআইর অফিস সম্প্রসারিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যবসায়ীদের কল্যাণে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
এ সময় পুরান ঢাকায় নতুন শাখা অফিস খোলা ও উত্তরায় একটি ভোকেশনাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা, গুলশানে এফবিসিসিআইয়ের এক্সটেন্ডেড অফিস চালু, এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্বোধন, পুরুষ জামানতকারী ছাড়াই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা কিস্তি প্রাপ্তি, আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা ২ মাস বাড়ানোসহ পলিসি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে দেশের বেসরকারি খাতের সুরক্ষায় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকার কথা সাধারণ পরিষদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন মাহবুবুল আলম।
গত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্য বিবরণী, এফবিসিসিআইয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-২৩, এফবিসিসিআইয়ের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিরীক্ষক দেওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত প্রদান করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী (রনি), মো. মুনির হোসেন, পরিচালক বৃন্দ এবং সংগঠনের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ চায় না ক্রিকেটারদের শাস্তি হোক : পাপন

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় টেস্ট চতুর্থ দিনেই শেষ হয়েছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারায় কিউইরা। ম্যাচটি শেষ হতেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
এসময় তিনি বলেছেন, যে কোনো অনিয়ম নিয়ে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শাস্তির পথে হাঁটতো তখন দেশের মানুষ এটাকে গ্রহণ করতো না। তাকে দেশের মানুষ শেষ করে দিয়েছে।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) ম্যাচ শেষে মিরপুরে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘যে কাউকে শাস্তি যখনই দিয়েছি, সারা দেশের মানুষ আমাকে শেষ করে দিয়েছে। মানুষ চায় না এসব, আমিতো এতদিন তাই জানতাম। কেউ কি আমাদের সাপোর্ট করেছে কখনো, কোনো একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম। এই জাগরণটা উঠুক।’

জনগণের সেবক হওয়ার লক্ষ্যে পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে : আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির (বিআরপিওডব্লিউএ) প্রধান পৃষ্ঠপোষক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, পুলিশের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তথা জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।
আজ শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বিআরপিওডব্লিউএ-এর ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিআরপিওডব্লিউএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.ওয়ালিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে সভায় কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিয়া লুৎফর রহমান চৌধুরী। বার্ষিক বাজেট উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ মো. বক্তিয়ার হোসেন ভূঞা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজমুল হক।
বিআরপিওডব্লিউএ-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ অতীতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ আগামীতেও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশকে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, আপনাদের দেখানো পথ ধরেই বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশপ্রধান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বাংলাদেশ পুলিশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। আপনাদের রচিত ভীতের ওপরই বর্তমান পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। আপনাদের কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকাকে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তারা আপনাদের কাছ থেকে উপদেশ ও নির্দেশনা গ্রহণ করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সচেষ্ট হবেন।
পুলিশপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি একটি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। গত ৪০ বছর ধরে এ সমিতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অবসর গ্রহণের পরও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সমিতির সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সভায় সমিতির পাঁচজন বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। কমিউনিটি পুলিশিং ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য বাগেরহাটের রামপাল থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এস এম আশরাফুল আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার এসআই (নিরস্ত্র) তহুরা আক্তারকে এস এম আহসান স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়।