সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

দেশে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৯

সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪৯ জন। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ডেঙ্গুরোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬২ জন আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৭ জন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৮৯১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৪০ জন এবং অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে ১ হাজার ৩৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৩ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ৯ হাজার ৬২ জন।
মোট আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ জন। এ ছাড়া চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ১৬৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কাল

আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সকাল ৭টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং ৭টা ৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা একই দিনে সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী প্রদান করবেন। এদিন সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। দিবসটি উপলক্ষে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।
একাত্তওে ৩০ লাখ লোক শহীদ হন। এদের মধ্যে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সহধর্মিনী বাসন্তী গুহঠাকুরতা তার একটি গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নীল নকশার রেখা অংকন শুরু হয়েছিল একাত্তরের পয়লা মার্চের আগেই সত্তরের ১৭ ডিসেম্বর গণভোট বা তারো অনেক আগে উনসত্তরের গন আন্দোলনের সময় থেকেই , কিংবা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরে। একাত্তরে তারা প্ল্যান করে যুদ্ধে নামে। যুদ্ধতো নয় , কেবল নিরস্ত্র মানুষ নিধন। প্রথমে ওদের এলোপাতাড়ি মারা , তারপর শহরে , গ্রামে গঞ্জে বেছে বেছে ধনী , ব্যাবসায়ী , বুদ্ধিজীবি নিধণ করে নদীতে খালে ফেলে দেয়া। অনেকে মনে করেন চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে- তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল।’
একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দ-িত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দ- কার্যকর হয়েছে। জামায়াতের অপর নেতা মো. কামারুজ্জামান এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে । ২০১৬ সালের ১১ মে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দন্ড কার্যকর হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দুটি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন, অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা.আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী,অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন,অধ্যাপক আনোয়ার পাশা,অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড.আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরও অনেকে।
সূত্র : বাসস

ঢাকা দক্ষিণ সিটির নতুন ৫ আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, আমরা সুশাসন নিশ্চিত ও (প্রশাসনিক) সংস্কার করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলাম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ঢাদসিক) অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের জন্য ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে আজ আমরা তার একটি নজির স্থাপন করতে পেরেছি।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ধলপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ৪ ও ৫ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবনে দক্ষিণ সিটিতে অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের জন্য ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, আমাদের এ স্থাপনাগুলো ২০০৮ সাল থেকে র‌্যাবের দখলে ছিল। আমরা এটাকে প্রথমে দখলমুক্ত করি। তারপর সংস্কার করে আজ এটাকে আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে পারলাম। ফলে দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময়ে জনগণ, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তার নিরসন হবে। তারপরও আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো চালু হওয়ায় জনগণের আর ভোগান্তি থাকবে না।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আমাদের ১১টি স্থাপনা পুলিশ-র‌্যাবের দখলে ছিল। আমরা এ যাবৎ চারটি স্থাপনা দখলমুক্ত করতে পেরেছি। আমাদের একটা সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র দখল অবস্থায় ছিল। তারা সেটা আমাদের ছেড়ে দিয়েছে। লালবাগে আমাদের আরেকটি স্থাপনা র‌্যাব ছেড়ে দিয়েছে। সেটাতেও আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে আমাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। বাকি স্থাপনাগুলোও দখলমুক্ত করতে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা প্রতিনিয়তই তাদের সঙ্গে দেন-দরবার ও আলোচনা করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছে। এগুলো জনগণের স্থাপনা। জনকল্যাণেই এসব স্থাপনা ব্যবহার করা হবে। আমরা আশা করছি, অচিরেই বাকি স্থাপনাগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অঞ্চলভিত্তিক আলাদা আলাদা আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে শেখ তাপস বলেন, আমাদের নতুন ৫টি অঞ্চল ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সংলগ্ন এলাকাগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনেছিলেন। এর দীর্ঘ ছয় বছর পরে সেসব অঞ্চলের জন্য আজ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করছি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৫টি অঞ্চলের জন্য অঞ্চলভিত্তিক আলাদা আলাদা আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হবে।
এ সময় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দার আলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলররা ও করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ হত্যা করে সরকার উৎখাত করা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুরে রেললাইন কাটা এবং ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ হত্যা করে সরকার উৎখাত করতে পারবে না।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে গণভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে হত্যা করে সরকার উৎখাত করবে? মানুষ হত্যা করে আন্দোলন? আমি জানি না এই আন্দোলন করে কী পাবে তারা?
তিনি বলেন, বিএনপি যে এই জ্বালাও-পোড়াও করে যাচ্ছে। প্রতিদিন তারা অবরোধ আর হরতাল ডেকে যাচ্ছে। হরতাল-অবরোধ মানে কি কয়েকখান বাস পোড়ানো, গাড়ি পোড়ানো, যাত্রীসহ বাস পোড়ানো?
তিনি বলেন, চাল যাচ্ছে, চালের গাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে, ধান যাচ্ছে ধানের গাড়ি পোড়াচ্ছে। মানে মানুষকে ক্ষুধার্ত মারা। এই ঘটনা এর আগেও তারা করেছে ২০১৩ সালে। আমি জানি না তাদের কোনোমতে কেউ থামাতে পারবে কি না। এই মানুষ হত্যা করে সরকার উৎখাত তো করতে পারবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঠিক জানি না, মানুষকে পুড়িয়ে মারার মধ্য দিয়ে কী আন্দোলন হয় সেটা আমার জানা নেই। আমরাও আন্দোলন করেছি জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, আর মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি যেন হয়, সেটা চিন্তা করে। কিন্তু আমি এ রকম আন্দোলন দেখিনি।
তিনি বলেন, এটা দেখেছি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে, তারা আমাদের এভাবে সব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। আর এখন দেখি ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের হামলা, হাসপাতাল রেহাই পায় না। হাসপাতালের ওপর পর্যন্ত তারা বোমা হামলা করে। ঠিক আমাদের দেশে যেন সেই চিত্রটাই দেখতে পাই।
শেখ হাসিনা বলেন, যখন আন্দোলনের নামে অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা করা, পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়ে দেওয়া; পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশকে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা; এ রকম বীভৎস ঘটনা বাংলাদেশে ঘটানো হচ্ছে। এটা নাকি আন্দোলন। তাহলে কার স্বার্থে আন্দোলন?
গাজীপুরে রেললাইন কাটা এবং ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটু চিন্তা করে দেখুন, কী রকম ধ্বংসাত্মক কাজ, এরা আন্দোলন না, রেললাইন ফেলে দিয়ে, প্রায় আটটা বগি পড়ে যায়, একজন মানুষ মারা যায়, কয়েকজন আহত। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তার মানে হচ্ছে রেলের বগি ফেলে দিয়ে মানুষকে হত্যা করা।
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা মানুষ মারার জন্য রেললাইন উপড়ে ফেলে বা রেললাইন কেটে দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মানুষ মারার কল্পনা করে বা জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে এদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ বলে কিচ্ছু নেই। এটা জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে। সেটাই আমার আহ্বান সারা দেশের মানুষের প্রতি।
তিনি বলেন, যারা রেললাইন কেটে দিয়ে বগি ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করে আর আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়; আর পিটিয়ে পিটিয়ে পুলিশ সাংবাদিক থেকে শুরু সাধারণ মানুষকে মারে, মিছিলে মেয়েদের ওপর অত্যাচার করে এদের ক্ষমা নেই। এদের শাস্তি একদিন পেতেই হবে। জনগণকে বলবো এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য।
ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা আওয়ামী লীগের নেই মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাছে যাবে, জনগণ যাকে ভোট দেবে, সে ক্ষমতায় আসবে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার তো কোনো চেষ্টা আমাদের নেই।
দেশের অগ্রগতিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি দেশের উন্নতি করছি। দেশের যে উন্নতি হয়েছে এটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আজকে বাংলাদেশটা বদলে গেছে।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো হাওয়া ভবন নেই। কারও পাওনা দিয়ে ব্যবসা নিতে হয় না। ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারেন। অন্তত এইটুকু সুযোগ আমরা করে দিয়েছি।

রোহিঙ্গাদের জন্য ৮৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় আরও ৮৭ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি)।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে ইউএসএআইডি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে জরুরি খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা, সেই সঙ্গে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি কমানো এবং স্বনির্ভরতা ও জীবিকা সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করবে।
এই অতিরিক্ত তহবিল, অন্যান্য দাতাদের অবদানের সঙ্গে, ডব্লিউএফপিকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য খাদ্য রেশন সংগ্রহ করতে সক্ষম করবে।
খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তার মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত বিতরণের জায়গায় খাবারের জন্য ইলেকট্রনিক ভাউচার, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী অপুষ্টির শিকার শিশুদের এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের খাদ্য প্রদান কর্মসূচিতে সহায়তা। এছাড়াও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে, ডব্লিউএফপি ক্যাম্পের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়নে জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করবে।
এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে সবচেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্ট ২০১৭ সালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে, এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশে আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য।

ইসির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১৮ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা ছাড়া কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নয়, নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর থেকে ভোটের আগে পর্যন্ত যে কোনো দলের সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি না দিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। গণতান্ত্রিক দেশে এটা সঠিক কি না। এটা সংবিধান পরিপন্থি হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা তো অতি সাধারণ বিষয়। একটা বিশেষ সময়, একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রত্যেকটি দল যার যার প্রার্থী নিয়ে তাদের প্রচার-প্রচারণা করবে, সেই সময় এই দল সেই দল মুখোমুখি হতেই পারে যাতায়াতের পথে। সেখানে যদি আবার আরেকটা নতুন দল নির্বাচন ছাড়া অন্য কথা বলে, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেটা বলেছে ব্যাঘাত হতেই পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যাতে ব্যাঘাত না হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন তার অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এটাই আমরা বুঝি। তার (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি যেটা মনে করেছেন, আমি মনে করি সেটা যথার্থই মনে করেছেন। সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে যাতে নির্বাচনটি হয় আমার মনে হয় এজন্যই নির্দেশনাটা দিয়েছেন। সঠিক, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে একটি নির্বাচন হতে দেওয়ার জন্য উনি (সিইসি) যা যা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সেগুলো করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই নির্দেশনাকে সংবিধান পরিপন্থি মনে করছেন কি না- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তারা যখন একটি নির্দেশনা দিয়েছেন, তারা তো সংবিধান দেখেই দিয়েছেন। এখানে সংবিধান লঙ্ঘন হওয়ার কিছু নেই, এখানে তো নির্বাচন কিভাবে হবে সেটা তিনি জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে…আমি মনে করি সংবিধান ভালোভাবে জেনে, সেটা দেখেশুনেই তারা নির্দেশনাটা দিয়েছেন। এখানে সংবিধান লঙ্ঘনের কিছু হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আপনি এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে আরও ভালো ব্যাখ্যা নিতে পারেন।
এর আগের নির্বাচনগুলোতে এমন হয়নি- দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন হয়তো উনি চিন্তা করছেন এ রকম হতে পারে, সে জন্য উনি বলেছেন।
এবার নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অনেক বেশি অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন কি না- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মোটেই অবনতি হবে না। অবনতি করার জন্য প্রচেষ্টা চলছে সেটাও আপনারা দেখছেন। জায়গায় জায়গায় বাস পুড়িয়ে দিচ্ছে, জায়গায় জায়গায় রেললাইন উঠিয়ে দিচ্ছে। সেখানে এগুলোকে স্বাভাবিক করার জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের দৃষ্টিতে যেটা মনে হয়েছে সেটা তারা ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কি আপনারা মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেবেন- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, নির্দেশনা পালনের জন্য যাদের যাদের দায়িত্ব, আমার মনে হয় চিঠি অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিএনপি যাতে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের পর সভা-সমাবেশ না করতে পারে সেজন্য কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা আপনি নির্বাচন কমিশনকে জিজ্ঞাসা করবেন। নির্বাচন কমিশন তো স্পষ্টই বুঝতে পারছে, তারা (বিএনপি) নির্বাচনে না এসে ধ্বংসের খেলায় নেমেছে। সেই জায়গাটিতে যাতে ধ্বংস করতে না পারে, নির্বাচন জাতীয় সুষ্ঠুভাবে হয়, এদেশের জনগণ যাতে সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারে। আমার মনে হয় সেজন্য এই ঘটনাটা ঘটছে।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ দিয়ে এ-সংক্রান্ত চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
চিঠিতে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ব্যতীত নির্বাচনী কাজে বাধা হতে পারে বা ভোটারগণ ভোটপ্রদানে নিরুৎসাহিত হতে পারে এরূপ কোনো প্রকার স

দেশে তৈরি সি-৯১৯ বিমান প্রদর্শন করেছে চীন

চীনের নতুন অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত যাত্রীবাহী বিমান বুধবার মূল ভূ-খন্ডের বাইরে প্রদর্শন করেছে। হংকংয়ের আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রথম সরাসরি এই বিমান দেখতে পেয়েছে।
সি-৯১৯ তার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট মে মাসে চালু করেছে এবং এটি আকাশে পশ্চিমা প্রতিদ্ব›দ্ধীদের সাথে প্রতিযোগিতা এবং বিদেশী প্রযুক্তির ওপর চীনের নির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে বেইজিংয়ের কয়েক দশক-দীর্ঘ উচ্চাকাক্সক্ষার মূল চাবিকাঠি।
মসৃণ, ন্যারো-বডি বিমানটি এখন হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রদর্শন করা হচ্ছে, শনিবার শহরের ভিক্টোরিয়া হারবারের ওপর দিয়ে উড়বে।
চীনা কর্তৃপক্ষ আশা করছে সি ৯১৯ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন অফ চায়না (সিওএমএসি) নির্মিত বোয়িং ৭৩৭ এমএএক্স এবং এয়ারবাস এ ৩২০ এর মত বিদেশি মডেলকে চ্যালেঞ্জ করবে।
চীন দেশীয় জেটলাইনারে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে কারণ এটি মূল প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায়, তবে সি ৯১৯ এর অনেক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে পাওয়া যায়।
জেটটি এক দশকেরও বেশি উন্নয়নের পর গত বছর উড্ডয়নের জন্য অফিসিয়াল সার্টিফিকেশন পেয়েছে কিন্তু এখনও কোনো আন্তর্জাতিক ক্রেতাকে টানতে পারেনি।
প্রদর্শনীতে বুধবার মিডিয়া এবং অতিথিদের স্বাগত জানানো হবে, পরবর্তী দুই দিন স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পরিদর্শনের জন্য সংরক্ষিত।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, সি ৯১৯ বিমানটি মঙ্গলবার শহরে অবতরণ করেছে, আবহাওয়া অনুমতি দিলে শনিবার সকালে হংকং দ্বীপের চারপাশে দুবার উড়বে।

যারা রেললাইন কেটেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী

গাজীপুরে রেললাইন কাটার ঘটনায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যারা ট্রেনের লাইন কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে ড. হাছান বলেন, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা মনে করছেন ট্রেনলাইন কেটেছেন তাদের পুলিশ খুঁজে পাবে না, পুলিশ অবশ্যই তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ক্রমাগতভাবে গুপ্তস্থান থেকে অবরোধের ডাক দেওয়া হচ্ছে। সেই অবরোধে দেশের মানুষের বিন্দুমাত্র সাড়া নেই। দেশের মানুষের সাড়া তো নেই, বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। দেশের মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
সেই কাজকর্মকে ব্যাহত করতে ২৮ অক্টোবর থেকে ক্রমাগতভাবে গাড়িঘোড়ায় আগুন দেওয়া হচ্ছে দাবি করে সরকারের এ মন্ত্রী বলেন, গতকাল গাজীপুরে রেললাইনের ২০ ফুট কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। একজন যাত্রী নিহত ও অর্ধশত যাত্রী আহত এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের এই তথাকথিত অবরোধ কোথাও পালিত হয়নি। কিন্তু এ পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। গাড়িতে আগুন দেওয়া এ কোন রাজনীতি? পৃথিবীর কোথাও দেখিনি রাজনীতির নামে বাসে আগুন দেওয়া হয়। গাড়িতে আগুন দেওয়ায় এ পর্যন্ত ৭ জনের বেশি মানুষ নিহত ও বহু মানুষ আগুনে দগ্ধ হয়েছে। এই অপরাজনীতি অচিরেই বন্ধ হওয়া দরকার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলছে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। গাড়ি-ঘোড়া পুড়িয়ে কি গণতান্ত্রিক আন্দোলন? মানুষ পোড়ানো কি গণতান্ত্রিক আন্দোলন? এভাবে জনজীবন ব্যাহত করে জানমালের ক্ষতি করে কখনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়। এগুলো দেশবিরোধী, সন্ত্রাসী, জনবিরোধী কর্মকাণ্ড। তারা যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এগুলো বর্বরতা, হিংস্রতা, যা হিংস্র হায়নাকেও হার মানিয়েছে। তাদের এই অপরাজনীতি চিরদিনের মতো বন্ধ করতে হবে।

দলে ফিরেই নায়ক রাসেল

দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেন আন্দ্রে রাসেল। ফিরেই দলের জয়ের নায়ক ডানহাতি পেস অলরাউন্ডার। বল হাতে উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ছোট্ট ক্যামিও ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে প্রায় একাই হারিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো এই ক্রিকেটার।
মঙ্গলবার ইংল্যান্ডকে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রিজটাউনে আগে ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড ১৭১ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে স্বাগতিক দল ১১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক রাসেল বল হাতে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে ১৪ বলে ২৯ রানের ইনিংস খেলেন। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২০৭.১৪ স্ট্রাইক রেটে সাজানো ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পথ সহজ হয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন ফিল সল্ট। ২০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে এ রান করেন সল্ট। অধিনায়ক জস বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। এছাড়া শেষ দিকে লিয়াম লিভিংস্টোন ১৯ বলে ২৭, স্যাম কুরান ১৪ বলে ১৩ রান করলে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ভালোমানের পুঁজি পায়।
রাসেলের সঙ্গে হাত ঘুরিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন আলজারি জোসেফও। কিন্তু ডানহাতি পেসার ৩.৩ ওভারে রান দিয়েছেন ৫৪। এছাড়া রোমারিও সেইফার্ট পেয়েছেন ২২ রানে ২ উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানই ভালো শুরু পান। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্রেন্ডন কিং ২২, কাইল মায়ার্স ৩৫, শাই হোপ ৩৬ এবং নিকোলাস পুরান ১৩ রান করেন।
এরপর খানিকটা ছন্দপতন হলেও সেখান থেকে ম্যাচ বের করে নেন রোভম্যান পাওয়েল ও রাসেল। দুজনের ২১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটিতে ম্যাচ সহজেই জিতে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রান তোলেন অধিনায়ক রোভম্যান।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।

বিতর্কিত রুয়ান্ডা প্ল্যানের পক্ষে ব্রিটিশ এমপিদের ভোট

নিজের দলের বিদ্রোহ সামলে অত্যন্ত বিতর্কিত রুয়ান্ডা প্ল্যান পাস করাতে পারলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রুয়ান্ডাতে পাঠিয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনা হাউস অব কমন্সে ৩১৩-২৬৯ ভোটে জয়ী হয়েছে।
এরপর সামাজিক মাধ্যম এক্সে সুনাক লিখেছেন, ব্রিটিশ নাগরিকরাই ঠিক করবেন, দেশে কারা আসবেন, কারা নয়। কোনো অপরাধী চক্র বা বিদেশি কোর্ট এটা ঠিক করবে না।
পার্লামেন্টে সুনাকের দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তার দলের বেশ কয়েকজন এমপি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছিলেন। বিরোধীরা তো আগে থেকেই জানিয়েছিলেন, তারা এই সিদ্ধান্তের সমর্থক নয়। ফলে ভোটাভুটিতে হেরে গেলে সুনাককে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হতো।
এ অবস্থায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে পরিবেশমন্ত্রী গ্রাহাম স্টুয়ার্টকে কপ-২৮ শীর্ষবৈঠক ছেড়ে লন্ডন ফিরে এসে ভোটাভুটিতে অংশ নিতে বলা হয়।
ভোটাভুটির আগে সুনাক সামাজিক মাধ্যমে পার্লামেন্টের সদস্যদের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিতে বলেন। তার দাবি, এটা বেআইনি অভিবাসন রুখতে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ। তিনি লিখেছিলেন, এই বিল পাস হলে কে ব্রিটেনে ঢুকতে পারবে, তা আমরা ঠিক করতে পারব। অভিবাসীদের নৌকাগুলিকে থামানোর জন্য আমাদের এই বিল পাস করাটা জরুরি।
নৌকা থামানো মানে ব্রিটেনে আসার জন্য যে নৌকাগুলি ইউরোপ থেকে আসে এবং রক্ষণশীল দল বারবার যার বিরোধিতা করে এসেছে। এই বছর এইভাবে ২৯ হাজার মানুষ ব্রিটেনে এসেছেন। ২০২২ সালে এসেছিলেন ৪৬ হাজার মানুষ।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সুনাক কয়েক ডজন কট্টরপন্থি এমপি-কে নিজের বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে সকালে বৈঠক ডেকেছিলেন।
বেআইনি অভিবাসন সংক্রান্ত মন্ত্রী মাইকেল টমলিসন জানিয়েছেন, এই বিলটি অত্যন্ত কড়া।
রক্ষণশীল দলের কট্টরপন্থিরা বলছেন, এই বিলে এটা বলা নেই, যে সব অভিবাসন-প্রত্যাশী ব্রিটেনে চলে আসবেন, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তখন তারা ব্রিটিশ আদালতে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জানাতে পারবেন। মানবাধিকার সংক্রান্ত ইউরোপীয় আদালতেও যেতে পারবেন।