সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

নির্বাচন নিয়ে দেশের বাইরের কোনো চাপ নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে মন্ত্রীর দাবি, বিরোধী দল বিএনপির ওপর সন্তুষ্ট নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের ওপর বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই। আমরা নিজেদের প্রেসারে (চাপে) আছি। একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই, এটা আমাদের প্রেসার (চাপ)। এটা আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচন ফেয়ার করা আমাদের চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, বহির্বিশ্ব আমাদের সহায়তার কাজ করেছে। বহির্বিশ্ব চায়, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তারা এর সঙ্গে যুক্ত করেছে, কোনো ভায়োলেন্স (সংঘাত) নয়। আমরাও চাই, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সুতরাং আমরা কোনো চাপেৃ নিজেদের চাপে আছি।
ড. মোমেন আরও বলেন, আমরা নিজেদের ভ্যালুস (মূল্যবোধ) প্রমোট (উৎসাহিত করা) করি। আমাদের জনগণের প্রতি বিশ্বাস আছে, তাদের রায়টা আমরা চাই। আমরা চাই, বহু লোক নির্বাচনের সময় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে। এগুলো আমাদের চ্যালেঞ্জ। অন্য কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।
বিএনপি দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের নির্বাচন চায় না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দাবি করলে ওদের জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু, আমার মনে হয়, বিএনপি যে কাজগুলো করেছে, আমেরিকা তাতে সন্তুষ্ট নয়। কারণ, আমেরিকাও জ্বালাও-পোড়াও চায় না। আমেরিকা সন্ত্রাসী তৎপরতা চায় না। সুতরাং আমার ধারণা, আমেরিকা তাদের প্রতি যথেষ্টৃ।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক যে মাইন্ডসেট, এটা তাদের (বিএনপি) কাছ থেকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) পায়নি। আমেরিকা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, আমরাও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমাদের সঙ্গে ওদের মানসিকভাবে কোনো তফাৎ নাই।

সিকিমে আটকে পড়া ৮০০ পর্যটক উদ্ধার

ভারতের পূর্ব সিকিমের সুউচ্চ পার্বত্য এলাকায় আটকে পড়া আট শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তীব্র তুষারপাত এবং দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আটকে পড়া পর্যটকের অধিকাংশই বৃদ্ধ, নারী এবং শিশু। তারা পূর্ব সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছিলেন। খবর এনডিটিভি।
আইএসপিআর জানায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পস পরিচালিত উদ্ধার অভিযান ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল এবং আটকে পড়া সব পর্যটকদের নিরাপদ এলাকায় সরানো হয়েছে। তাদেরকে আশ্রয়, শীতকালীন পোশাক, চিকিৎসা সহায়তা এবং গরম খাবার দেয়া হচ্ছে। এমনকি আটকে পড়া পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করতে সেনারা ব্যারাক ও ছাউনি খালি করে দিয়েছে বলেও জানানো হয়।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) তাপমাত্রার পারদ দ্রুত নিচে নেমে আসায় তুষারপাত পূর্ব সিকিমে ভয়াবহ রূপ নেয়। পূর্ব সিকিমে আটকে পড়েন কমপক্ষে এক হাজার পর্যটক। পরে তাদের উদ্ধার করে ভারতীয় সেনারা। উদ্ধার করা পর্যটকদের আপাতত সেনা ছাউনিতেই রাখা হয়েছে। সেখানেই তাদের সেবা ও খাবার দেয়া হচ্ছে।

রাজ-ইধিকার গুঞ্জনই সত্যি হলো!

গুঞ্জন ছিল শাকিব খানের পর ঢাকাই চলচ্চিত্রের আরও এক অভিনেতা শরিফুল রাজের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন ওপার বাংলার নায়িকা ইধিকা পাল। সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
হাসিবুর রেজা কল্লোল পরিচালিত ‘কবি’ সিনেমায় তাদেরকে জুটি হিসেবে দেখা যাবে এমনটা গেল কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণাই মিলছিল না।
এবার সেই আলোচনার সত্যতা মিলল। ইধিকা পালই হচ্ছেন শরিফুল রাজের ‘কবি’- সিনেমার নায়িকা। এটি হবে এই নায়িকার বাংলাদেশে দ্বিতীয় সিনেমা। ‘কবি’-তে কাজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইধিকা পাল নিজেই।
কবি’ সিনেমার গল্প ভালোবাসা ও অ্যাকশনধর্মী। সিনেমাটির বেশিরভাগ গল্প এগিয়েছে কলকাতা শহরকে ঘিরে। সেখানকার বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির দৃশ্য ধারণ করা হবে। বর্তমানে ‘কবি’ সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে একটা কর্মশালা চলছে কলকাতায়। আগামী দু’একদিনের মধ্যে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে।
শরিফুল রাজ-ইধিকা পাল ছাড়াও ‘কবি’তে অভিনয় করবেন মিশা সওদাগর, কলকাতার খরাজ মুখোপাধ্যায়, অনন্যা বিশ্বাসসহ অনেকেই।
শরীফুল রাজ অভিনীত ‘ন ডরাই’, ‘পরান’, ‘হাওয়া’, ‘দামাল’ সিনেমাগুলো দর্শকনন্দিত হয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘ওমর’ ও ‘দেয়ালের দেশ’ নামের দু’টি সিনেমা।

শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো পিএসজি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ড্র এর পর থেকেই মৃত্যুকূপ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে গ্রুপ ‘এফ’। চারটি শীর্ষ লিগের চার বড় দলই যে আছে এই গ্রুপে। বুন্দেসলিগার বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড, লিগ ওয়ানের পিএসজি, সিরি আর এসি মিলান এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিউক্যাসল ইউনাইটেড।
এই চার দলের তিনটি- অর্থাৎ পিএসজি, এসি মিলান এবং নিউক্যাসলের জন্য কালই ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিতের শেষ সুযোগ। নক আউট পর্বে যাওয়ার ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপেরা মাঠে নেমেছিল সবার আগে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ডর্টমিন্ডের বিপক্ষে। আরেক ম্যাচে মিলানের প্রতিপক্ষ ছিল নিউক্যাসল।
আর ইউরোপ সেরার মঞ্চে পরের পর্ব নিশ্চিতের লড়াইয়ে নেমে রীতিমত রলার কোস্টার রাইডের অভিজ্ঞতা নিতে হয়েছে পিএসজি, মিলান এবং নিউক্যাসলকে। তবে দুই ম্যাচ শেষে ভাগ্যের শিকে ছিড়েছে একমাত্র পিএসজিরই। তবে এর আগে যেতে হয়েছে চরম নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে।
বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোলই করতে পারেনি পিএসজি। দুই দল বিরতিতে যায় গোল শূন্য ড্র নিয়ে। ওদিকে আরেক ম্যাচে মিলানের বিপক্ষে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল।
এদিকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আবার উল্টো গোল হজম করে বসে পিএসজি। তবে মিনিট পাঁচেক পরেই অবশ্য সমতায় ফেরে ফরাসি জায়ান্টরা। এদিকে মিলানও তখন নিউক্যাসলের বিপক্ষে ফিরেছে সমতায়।
এরপরও কাল ম্যাচে জমে ওঠেছিল নাটকীয়তা। পিএসজির হয়ে এমবাপে একবার লক্ষ্যভেদ করলেও অফসাইডের ফাঁদে পরে তা বাতিল হয়ে যায়। ওদিকে নিউক্যসলের স্বপ্ন ভেঙে ম্যাচে এগিয়ে যায় মিলান। তখন সমীকরণ দাঁড়ায়, ডর্টমুন্ড যদি জয় পায় তাহলে মিলানই যাবে শেষ ষোলোয়।
তবে শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি জার্মান ক্লাবটি। তাই নিউক্যাসলের বিপক্ষে জয় পেয়ে পিএসজির সমান ৮ পয়েন্ট নিয়েও ফরাসি ক্লাবটির সাথে মুখোমুখি দেখায় পিছিয়ে থাকায় বিদায় নিতে হয় মিলানকে। অন্যদিকে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ড্র করেও শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পিএসজি।

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে ২৮ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি জানান, অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২ হাজার ১৬৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১ গ্রাম হেরোইন, দুইটি ক্যান বিয়ার, দুই কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।
তবে ইসরায়েল বলছে, আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে অথবা ছাড়াই গাজা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে তারা। মূলত গাজায় বেসামরিক হতাহতের জেরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ বা ছাড়াই’ ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাবে বলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন। তার দাবি, সংঘাতের এই পর্যায়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি হলে তা হামাসের জন্য একটি ‘উপহার’ হবে এবং গোষ্ঠীটিকে আবারও ফিরে আসার সুযোগ দেবে।
বিবিসি বলছে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে নিহত ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের সংখ্যা এবং সেখানে মানবিক সংকটের কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের সমালোচনা করে বলেছেন, গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণের কারণে ইসরায়েল বিশ্বব্যাপী সমর্থন হারাচ্ছে।
অন্যান্য দিনের মতো বুধবার গাজার উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অঞ্চলেই তীব্র লড়াই অব্যাহত ছিল। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে অস্থায়ী তাঁবুতে বা খোলা জায়গায় বসবাসকারী কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থা বুধবার আরও খারাপ হয়েছে।
জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন ত্রাণ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ড ‘জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের’ সম্মুখীন হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এরপর থেকে টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি এই আগ্রাসনের নিহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহত এসব ফিলিস্তিনিদের ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।
এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয় ১৫৩টি দেশ।
অন্যদিকে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া ও চেক রিপাবলিকসহ ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়। আর ভোটদান থেকে বিরত ছিল যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ ২৩টি দেশ। যদিও সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া এই রেজোলিউশনটি মানা বাধ্যতামূলক নয়, তারপরও এটি বৈশ্বিক মতামতের সূচক হিসাবে কাজ করে থাকে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোট এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনার শিকার হওয়ার একদিন পর ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন সফররত এক কূটনীতিককে বলেন: ‘ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ বা ছাড়াই হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পর্যায়ে কোনও যুদ্ধবিরতি হলে তা ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হামাসের জন্য একটি উপহার হবে এবং এতে করে গোষ্ঠীটিকে ফিরে আসার এবং ইসরায়েলে বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টির সুযোগ দেবে।’

বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি না থাকলে দেশ বহুদূর এগিয়ে যেত : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি না থাকলে বাংলাদেশ আজ বহুদূর এগিয়ে যেত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হওয়া বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, অনেকে ভেবেছিল, বুদ্ধিজীবী হত্যার রায় হলেও বাস্তবায়ন হবে না। কিন্তু অনেকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও যুদ্ধপরাধীদের বিচার হয়েছে, সামনেও হবে।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তান বাহিনী। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয় নিশ্চিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এ দেশের দোসর আলবদরের সহযোগিতায় বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।
ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তাদের বাসা থেকে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরিকল্পিত গণহত্যাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বন্দি অবস্থায়ও বুদ্ধিজীবীদের বিভিন্ন বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনার দুদিন পর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের ক্ষত-বিক্ষত ও বিকৃত লাশ রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। অনেকের লাশ শনাক্তও করা যায়নি। পাওয়া যায়নি বহু মরদেহ। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছে জাতি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এসময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার দেয়।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে : সেতুমন্ত্রী

১৯৭১ সালে সাম্প্রদায়িক যে অপশক্তি বাঙালিদের হত্যা করেছিল, তারা এখনো ডালপালা মেলে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিলিয়ে দেওয়া শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানানোর পর মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি এখনো ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সেই অপশক্তি বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭১ সালে যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাঙালিদের হত্যা করেছিল, তারা এখনো ডালপালা মেলে আছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি হুমকি দিচ্ছে, দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
৭১’র চেতনা আর আত্মশক্তিতে বলীয়ান একটি জাতি কখনো পরাজিত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে সকাল ৭টার পর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালি জাতি বরাবরই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় উৎসবের আগে এই দিনটিতে শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে থাকে। এবারও দিনটি উপলক্ষে সরকারিভাবে নানা কর্ম

২৬ মার্চের আগেই বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আগামী বছরের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের আগেই বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, আগামী বছরের ২৬ মার্চের আগেই বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে। পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় দিবস হিসেবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস তালিকাভূক্ত করা হবে।
২০২০ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই বছরের ২৫ মার্চ প্রথম দফায় তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়নে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২২২ জন বুদ্ধিজীবীর তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ২৫ মার্চ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রথম তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযু্দ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রথম দফার তালিকায় স্থান পায় ১৯১ শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম।
গত বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা পূর্ণাঙ্গ করার কথা জানিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। কিন্তু প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পেরিয়ে যাওয়ার পরেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাদের সন্তানরা। এমন অবস্থায় আগামী বছরের ২৬ মার্চের আগে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের কথা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তারা।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানো শেষে সর্বস্তরের মানুষ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা জানান শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরাও।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়াও দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লাখ লোক শহীদ হন। এদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের ঘৃণ্য এ পরিকল্পনা করে।