শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

প্রথম মাসে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের আয় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

গত ১ ডিসেম্বর বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরুর প্রথম ২৭ দিনে ২৮ হাজার ৬২০টি টিকিট বিক্রি করে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী।
তিনি জানান, প্রথম মাসে (২৭ দিন) কক্সবাজার এক্সপ্রেসে অনলাইনে ও অপলাইনে এসি ও ননএসির ২৮ হাজার ৬২০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ২ লাখ মানুষ অনলাইনে টিকিটের জন্য সার্চ করেন। তবে চাহিদার তুলনায় আসন কম। তাই আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন আরও দুইটি ট্রেন সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েক দফা পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের সফল কার্যক্রম শেষে গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার রেল সংযোগ উদ্বোধনের সময় ডিসেম্বর থেকে দুইটি ট্রেন চালুর নির্দেশ দেন।
এদিকে ৫ মিনিটেই কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া ও সহজেই কালোবাজারে মেলার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট সকাল ৮টায় অনলাইনে ছাড়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ৭৮০টি টিকিট হাওয়া হয়ে যায়। স্টেশনে এসে টিকিট না পেয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে চড়া দামে পর্যটকদের টিকিট কিনতে হয়। এসব রোধে স্বপ্রণোদতি হয়ে মামলা করেন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১-এর বিচারক শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা। আর আদালতে মামলার পর ট্রেনে পস মেশিন দিয়ে যাত্রীর টিকিটের সঙ্গে এনআইডির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রীর তথ্যে গরমিল থাকায় জরিমানাও করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

‘শান্তির জন্য পরিবর্তন, পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি’ স্লোগান সামনে রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
জাপার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য রয়েছে- প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু, ঢাকা থেকে ৫০ শতাংশ সদরদপ্তর স্থানান্তর, নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সরকারি প্রভাবমুক্ত রাখা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করা।
এছাড়া দলটির ইশতেহারে আছে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস না করা, ইসলামিক কমিশন গঠন, বিশ্ব ইজতেমার জন্য স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ডের আইন করা এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়-হবে দেশের পররাষ্ট্রনীতি।
পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দেশের এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। দেশে বিদ্যমান ৮টি বিভাগকে ৮টি প্রদেশে উন্নীত করা হবে। ৮টি প্রদেশের নাম হবে- উত্তরবঙ্গ প্রদেশ, বরেণ্য প্রদেশ, জাহাঙ্গীরনগর প্রদেশ, জালালাবাদ প্রদেশ, জাহানাবাদ প্রদেশ, চন্দ্রদীপ প্রদেশ, ময়নামতি প্রদেশ এবং চট্টলা প্রদেশ।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দুই স্তরবিশিষ্ট সরকার কাঠামো থাকবে। এক কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হবে ফেডারেল সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারে সিদ্ধান্ত থাকবে ৩০০ আসন বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ এবং দুই প্রাদেশিক সরকার। প্রাদেশিক সরকারের থাকবে প্রাদেশিক সংসদ। প্রতি উপজেলা কিংবা থানাকে প্রাদেশিক সরকারের একেকটি আসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যদিও এটা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটা আমূল সংস্কারের বিষয়, তথাপিও আমরা মনে করি পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে প্রাদেশিক ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণা সম্পর্কিত একটি রূপরেখা আমরা দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করব। এ ছাড়া ঢাকা শহর থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সদর দপ্তর প্রাদেশিক রাজধানীতে স্থানান্তর করা হবে।
গত ১৭ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নানা নাটকীয়তার পর ওই দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয় জাতীয় পার্টি। এবার এককভাবে ২৮৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল দলটি। তবে ২৬টি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেছে তারা। ইতোমধ্যে ১৬টি আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

ঢাকা অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইসির বৈঠক শুরু

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন ঢাকার রিটার্নিং অফিসার মো. সাবিরুল ইসলাম।
বৈঠকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে দেশে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর এখন চলছে প্রচারণা। যা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি। একদিন বিরতি দিয়ে ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে চলবে ভোটগ্রহণ।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৩

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৯৩৭ পিস ইয়াবা, ৫৬ গ্রাম হেরোইন ও ৩ কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৩টি মামলা করা হয়েছে।

বিএনপি নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে : আইনমন্ত্রী

বিএনপি নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের সম্পৃক্ততা হারালে তা টিকে থাকতে পারে না। বিএনপির অবস্থাও তেমন হবে।
আজ বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাদৈর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হোক বিএনপি-জামায়াত তা চায় না। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চায়। নির্বাচনে জনগণের আগ্রহ দেখে বিএনপি ভীত হয়ে সন্ত্রাস করছে।
এর আগে মন্ত্রী তিন লাখ পীর এলাকায় একটি পথসভা করেন। এ সময় কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন, কসবা পৌরসভার মেয়র এমজি হাক্কানি, বিনাউটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেদন খানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির এ ধরনের ডাকে জনগণ কোনো দিন সাড়া দেয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির অসহযোগ আন্দোলনের ডাকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ দেশের জনগণ এ ধরনের ডাকে কোনোদিনই সাড়া দেয়নি।
আজ বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটি আজ থেকে সরকারকে ‘সব ক্ষেত্রে’ অসহযোগিতা করার জন্য জনগণকে অনুরোধ করেছে।
এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে সব প্রকার কর, খাজনা, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে যখন ভোটের আমেজ চলে এসেছে, তখন তারা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে, যারা অসহযোগ আন্দোলন করছেন, তাদের বাসা থেকে যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, পানি বন্ধ হয়ে যায়- উনারাই চাচ্ছেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে, পানি বন্ধ হয়ে যাবে, সরকার অচল হয়ে যাবে। তাহলে কী হবে? তারা কি সেটি বুঝতে পারছেন?
তিনি বলেন, গ্যাস বিল না দিলে, বিদ্যুৎ বিল না দিলে, পানির বিল না দিলে- ওয়াসা এবং বিদ্যুৎ বিভাগ যা অন্য গ্রাহকের ক্ষেত্রে করে, তাদের (বিএনপির নেতাকর্মী) জন্যও সেগুলো করবে। সেটি তাদের চিন্তার মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশের জনগণ তাদের চেনে। এদেশের জনগণ এ সব ডাকে কোনোদিনই রিয়েকশন (সাড়া) দেয়নি। আমার মনে হয় আমাদের জনগণ নির্বাচনটি সঠিকভাবেই করবেন। তারা সময়মতো ভোট দেবেন। একটা সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের উপহার দিতে পারবে কমিশন।

হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ এখানে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে আজ বুধবার সকালে এখানে পৌঁছান শেখ হাসিনা, প্রথমে তিনি বিভাগীয় নগরীতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
তিনি সেখানে কিছু সময় কাটান, পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
উভয় স্থানেই প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা তার সঙ্গে ছিলেন।
রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ স্লোগান এবং হাততালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মাজারে যাওয়ার পথে স্বাগত জানায়।
বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দলের নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

অন্যায়ভাবে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না : সিইসি

নির্বাচনে কেউ অন্যায়ভাবে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
আজ বুধবার সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউসে জেলার সব সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সবার সহযোগিতা চান সিইসি।
প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীই নির্বাচন কমিশনের কাছে সমান উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সব প্রার্থীকে নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে প্রচার চালাতে হবে। কেউ আইন ও বিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা অসাংবিধানিক ও আইনের পরিপন্থী। সংবিধানে সভা সমাবেশ করার যে অধিকারের কথা বলে হয়েছে তা শর্তসাপেক্ষে। এবারের নির্বাচন একটু ভিন্ন ধরনের, কারণ ২০১৪ সাল বাদে নির্বাচনের আগে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়নি। কারণ, নির্বাচনগুলো ছিল সর্বজনীন।
সিইসি বলেন, যারা সভা সমাবেশ করছে নির্বাচনের পক্ষে তাদেরও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নির্বাচনের পক্ষে ও বিপক্ষে তারা মুখোমুখি হলে সংঘাতের ঝুঁকি থাকে। আমরা চাই এ ধরনের যেকোনো ঘটনা যাতে না ঘটুক। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে কোনো সমস্যা নাই।
এক প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থেকেই নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সচেতন হতে হবে, ভোট কেন্দ্রে কোন কারচুপি হচ্ছে কি না?
যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে জেতার মানসিকতা থেকে প্রার্থীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন মাথা ঘামাচ্ছে না দাবি করে সিইসি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। ভোট করতে প্রয়োজন ১২ লাখ জনবল, কিন্তু কমিশনের আছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ লোকবল। ফলে বিভিন্ন দফতর থেকে জনবল নিতে হয় কমিশনকে।
সিইসি মন্তব্য করেন, এককভাবে কমিশনের পক্ষে নির্বাচন সফল করা সম্ভব হবে না, সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই নির্বাচন সফল হবে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এককভাবে কমিশনকে দায়বদ্ধ করা যাবে না, এর দায় সরকারের ওপরেও পড়বে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক বিতর্কিত প্রশ্ন, এই বিতর্ক সমাধান করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, তবে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্রসহ ২৭টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন বয়কট করতে কোনো বাধা নেই।
সভায় নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা, নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, রিটার্নিং অফিসার ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদসহ কমিশনের কর্মকর্তা এবং রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা ছিলেন।

করোনার নতুন উপধরন নিয়ে যা বলল ডব্লিউএইচও

ভারতে করোনা ভাইরাসের নতুন উপধরন জেএন.১ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আবার কি ফিরে আসবে মহামারি? দেশটির কেরলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর নতুন এ উপধরন সংক্রমণে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর দিয়েছে। আর এতেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
কোভিড-১৯-এর নতুন উপধরনের ক্ষমতা কেমন, এর নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ ক্ষমতা কী তা নিয়ে এবার বার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
জেএন.১ কে ‘ভ্যারিয়্যান্ট অফ ইন্টারেস্ট’ হিসাবে ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, এই উপধরনের সংক্রমণের ফলে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়া এটি আগের উপধরনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর নয়। কোভিডের প্রতিষেধক নিলে এর সংক্রমণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে।
এর আগে করোনা ভাইরাসের আরও একটি উপধরনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। যার নাম বিএ.২.৮৬। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, জেএন.১ এবং বিএ.২.৮৬-এর মধ্যে ফারাক খুবই সামান্য।
করোনার এই উপধরনটি প্রথম পাওয়া গিয়েছিল আমেরিকায়। গত সেপ্টেম্বরে এর খোঁজ মেলে। ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় যে কয়েকজন কোভিড রোগী এই মুহূর্তে আছেন, তাদের ১৫-২৯ শতাংশের দেহে রয়েছে জেএন.১।

নেইমারের কোপা আমেরিকা শেষ

কোনো প্রচেষ্টাতেই হয়ত আর নিয়তিকে ঠেকানো গেল না। আসন্ন ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার জন্য সব রকমের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন ব্রাজিলের পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র। দিনদুয়েক আগে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে নিজেই জানান দিয়েছেন কতখানি সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে। তবে ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা কথায় অনেকেই আবার আশ্বস্তও হয়েছেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ত কোপা আমেরিকা মিসই করতে চলেছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার। সেই কথা এখন আর উড়ো খবর না। বরং ব্রাজিল জাতীয় দলের চিকিৎসক লাসমার নিজেই জানিয়েছেন এই খবর। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিশ্চিত করেছেন ফুটবলের বিশ্বস্ত সূত্র ফ্যাব্রিজিও রোমানো।
২০২৪ সালের জুন-জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবে কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসর। আর সে সময় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একেবারেই শেষদিকে থাকবেন নেইমার। তবে সেটা মাঠে ফেরার জন্য উপযুক্ত না। নেইমারের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে ব্রাজিলের চিকিৎসক জানালেন, ‘সময় পাওয়া যাবে না। খুবই কাছাকাছি সময় হয়ে এসেছে (কোপা আমেরিকা)।’
নেইমার কবে মাঠে ফিরবেন সেই আভাসও দিয়ে রেখেছেন এই চিকিৎসক, ‘পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কোনো ধাপ বাদ দেওয়ার অর্থ হয় না। আমাদের লক্ষ্য, সে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান মৌসুম শুরুর আগে মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত হবে। যেটা আগস্ট মাসে পড়ছে।’
ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময় ইনজুরিতে কাটানোর কারণে ব্রাজিলের হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট এরই মধ্যে মিস করেছেন নেইমার জুনিয়র। ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ এবং ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক এখন পর্যন্ত তার বড় প্রাপ্তি। ২০১৯ সালে ব্রাজিল কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতলেও ইনজুরির কারণে সেই স্কোয়াডে ছিলেন না নেইমার।
এর আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ব্রাজিলের এই পোস্টারবয়। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কষ্ট ছাড়া আরোগ্য হয় না, পড়ে না গিয়ে উঠে দাঁড়ানোর মধ্যে বীরত্ব নেই। আর কষ্ট ছাড়া জয় আসে না। আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’