শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণায় বরিশাল যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

নির্বাচনের প্রচারে আগামীকাল শুক্রবার বরিশাল যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ভাষণ দেবেন তিনি। শেখ হাসিনার এ সফরকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত দলের নেতা-কর্মীরা।
পাঁচ বছর পর শুক্রবার বরিশাল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সফর ঘিরে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে বরিশাল নগরী। বিকেল ৩টায় বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জনসভায় যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে ভোট চাইবেন নৌকায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বরিশালবাসীর প্রত্যাশা অনেক। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা, ইপিজেড নির্মাণসহ নানা দাবি তুলে ধরবেন তারা।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায়, জনসভায় দশ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে।
বরিশাল-৫ আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ ফারুকের প্রত্যাশা, শুক্রবারের জনসভায় নৌকার প্রার্থীসহ অনেক সাধারণ মানুষও উপস্থিত থাকবেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সবশেষ বরিশাল সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার জাতিসংঘ কর্মীদের ওপর ইসরায়েলের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন– হামাসের ‘সহযোগী’ আখ্যায়িত করে জাতিসংঘের কর্মীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেয়া বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন ইসরায়েলের মুখপাত্র এইলন লেভি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
তিনি বলেন, গাজায় বর্তমান সংঘাতের সময় জাতিসংঘের কর্মীরা ইসরায়েলের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং হামাসের দোষ আড়াল করছেন। এই অভিযোগ এনে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিন্দা করেন তিনি।
তেল আবিব বলেছে, জাতিসংঘের কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী গাজার ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘের কর্মীরা ভিসার অনুরোধ করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে না বরং ভিসার বিষয়ে খুঁটিনাটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।
ইসরায়েলের মুখপাত্র এইলন লেভি বলেন, জাতিসংঘের যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী হামাসের সাথে প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসেবে কাজ করবে তাদের সাথে ইসরায়েল কাজ করা বন্ধ করে দেবে। ইসরায়েল তার মিত্রদের প্রতিও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ : বাণিজ্য সচিব

জাপানে রপ্তানি ৪৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
আজ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনেতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) চুক্তি সই করতে জয়েন্ট স্টাডি গ্রুপ রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনেতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) শেষ পর্যন্ত কি সম্পাদিত হবে, নাকি আটকে যাওয়ার শঙ্কা আছে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, আমি খুবই আনন্দিত। কারণ প্রথমবারের মতো জাপানের মতো একটি বড়ো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই (ইপিএ) নিয়ে সত্যিকারের কোনো আলোচনা হতে যাচ্ছে। জাপান একটি উন্নত দেশ, অনেক বড়ো অর্থনীতি, আমরা তাদের সঙ্গে আমরা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছি। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের মতো ছোটোখাটো অনেক অর্থনীতির সঙ্গে ইপিএ নিয়ে আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কিত আলোচনায় যাওয়া যায় কি না, আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। সম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু তা ছিল অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)। খুবই সীমিত সুযোগ। ধরুন, আমরা কিছু পণ্য বাছাই করি, যেগুলো তাদের শুল্কমুক্ত করে দেবো, তারও এভাবে আমাদের কিছু পণ্য দেবে। এখানে অন্য কোনো সুযোগ থাকে না। কিন্তু জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কেবল বাণিজ্যের মধ্যেই সীমিত থাকবে না, এখানে বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়সহ সেবাখাতেও বিনিয়োগ হবে।

ইপিএ থেকে বাংলাদেশের কী সুবিধা অর্জিত হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই বাংলাদেশ এখান থেকে লাভবান হবে। এটি থেকে প্রথমে যে অর্জনটি আসবে, সেটি হচ্ছে বাংলাদেশি পণ্য তাদের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশ করতে পারবে। ২০২৬ সালের পরও জাপানের বাজারে আমরা এই সুবিধা পাব। প্রতি বছর দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগও বাড়ছে।
তিনি বলেন, গত বছর জাপানে রপ্তানি ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এটা খুবই উল্লেখযোগ্য। অন্য কোনো উন্নত দেশে আমরা এটি অর্জন করতে পারিনি। তারপর জাপান যেহেতু অন্যান্য দেশে প্রচুর এফডিআই করে, আমাদেরও উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্লোবাল ভ্যালু চেইন মার্কেটে নিয়ে যাওয়া। তৈরি পোশাক বলি, জুতা বলি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পণ্যটি রপ্তানি করি। এখনকার আইডিয়া হলো মেকিং দ্য ওয়ার্ল্ড। গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে ঢুকতে গেলে বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে। আমরা তখন ইন্টারমিডিয়ারি গুডস (মধ্যবর্তী পণ্য) অন্য দেশে রপ্তানি করতে পারবো। আমরা তো ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছি, জাপানি বিনিয়োগকারীরা সেই সুযোগ ব্যবহার করতে পারেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, এই চুক্তি থেকে দুইপক্ষ কী পরিমাণ লাভবান হবে, সেটা আগে বলা কঠিন। তবে এটি কেবল শুল্কের সঙ্গেই সম্পর্কিত না, সেবাখাত, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এ চুক্তি থেকে জাপান-বাংলাদেশ দুদেশই লাভবান হবে। ২০২৬ সালের মধ্যেই চুক্তিটি করতে হবে। যে কারণে বর্তমান পরিস্থিতি একটু ভিন্ন।

আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। সম্ভাবনার হাতছানি দেওয়া দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা দুরন্ত বাংলাদেশ।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যে ইশতেহার আমরা দিয়েছিলাম, সফলভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করেছি। ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, তা দ্বাদশ নির্বাচনের ইশতেহার রাখা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের রূপান্তর ঘটেছে। আজকের বাংলাদেশ দারিদ্র্যক্লিষ্ট, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর বাংলাদেশ নয়। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার সময় আমি এবং আমার ছোটবোন বিদেশে ছিলাম। দীর্ঘ ৬ বছর আমরা রিফিউজি হিসেবে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হই। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি দেশে ফিরে আসি। অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন সরকার, জাতির পিতার হত্যাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের সব রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করেই আমি দেশে ফিরে আসি।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই – এই ৫ বছর পূর্ণ করে ২৬ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা ধান ও দানাদার শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রবর্তন এবং বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ প্রদান করি।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং নানা চক্রান্তের ফসল হিসেবে বিএনপি-জামায়াত-জোট ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করে। এরপরেই দেশে বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মীকে হত্যা এবং ৫০০’র বেশি মানুষকে আহত করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩টি আসনে বিজয়ী হয়। আর বিএনপি এককভাবে মাত্র ৩০টি আসনে জয়ী হয়। বাকি আসনগুলি উভয় জোটের শরিকেরা পায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা রূপকল্প-২০২১-এর ঘোষণা দিয়েছিলাম। দিন বদলের সনদ হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি। এরপর শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ২০১৪ ও ২০১৮ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আমরা সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার একটানা ১৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকায় আমরা বাংলাদেশের অভূপূর্ব উন্নতি সাধন করতে পেরেছি। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ থিমে ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতায় আনা। আবারও ক্ষমতায় এলে এসব বিষয় বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো বলে জানিয়েছে দলটি।

পরিবারের গড় আয় সাড়ে ৩২ হাজার, ব্যয় সাড়ে ৩১ হাজার টাকা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের একটি পরিবার মাসে গড় আয় করে সাড়ে ৩২ হাজার টাকা। আয়ের বিপরীতে একটি পরিবারের ব্যয় হয় সাড়ে ৩১ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটি পরিবার মাসে এক হাজার টাকার মতো সঞ্চয় করেন।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনের অডিটরিয়ামে ‘হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভে’ (এইচআইইএস) ২০২২-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন— ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন এনডিসি, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মো. কাউছার আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ এমপিএইচ।
বিবিএস প্রতিবেদনে জানায়, দেশের প্রতিটি খানার গড় আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এইচআইইএস ২০২২ জরিপের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী খানার মাসিক গড় আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। যা ২০১০ ও ২০১৬ সালের জরিপে ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৯ টাকা এবং ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। এ ছাড়া, এইচআইইএস ২০২২ অনুযায়ী গতবারের তুলনায় এবার প্রতিটি খানার মাসিক আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মাসিক ব্যয়ও বেড়েছে। এইচআইইএস ২০২২ অনুযায়ী, বর্তমানে একটি খানার মাসিক ব্যয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। যা ২০১০ ও ২০১৬ সালে ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা।
সংস্থাটি জানায়, এইচআইইএস ২০২২-এর তথ্য-উপাত্ত নিরীক্ষণে দেখা যায় খানায় খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয়ের ধারায় পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০২২ সালে খাদ্য ব্যয়ের শতকরা হার ৪৫.৮ শতাংশ, এবং খাদ্য বহির্ভূত ব্যয় ৫৪.২ শতাংশ। যেখানে ২০১৬ সালে খাদ্যের জন্য ব্যয় ছিল ৪৭.৭ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত ব্যয় ৫২.৩ শতাংশ। ২০২২ সালে চালের দৈনিক মাথাপিছু গড় ভোগের পরিমাণ ছিল ৩২৮.৯ গ্রাম; যা ২০১৬ সালে ছিল ৩৬৭.২ গ্রাম এবং ২০১০ সালে ছিল ৪১৬.০ গ্রাম। ২০০৫ সালে ছিল ৪৩৯.৬ গ্রাম এবং ২০০০ সালে ৪৫৮.৫ গ্রাম। অন্যদিকে, সবজি ও মাংসের ব্যবহার ধীরে ধীরে বেড়েছে বলে জানায় বিবিএস।
প্রতিবেদনে আরও বলা গয়, প্রোটিন গ্রহণের গড় পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী দৈনিক মাথাপিছু প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ ৭২.৫ গ্রাম, যা ২০১৬ সালে ছিল ৬৩.৮ গ্রাম। এছাড়া ২০১০ সালে ৬৬.২৬ গ্রাম, ২০০৫ সালে ৬২.৫২ গ্রাম ও ২০০০ সালে ছিল ৬২.৫০ গ্রাম ছিল।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টাইগারদের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়

ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় ছিল না বাংলাদেশের। সেই খরা কেটেছে শেষ ওয়ানডেতে। সেই অনুপ্রেরণায় এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এলো প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ও। পার্থক্য হলো এই জয়টা এসেছে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। কিউইদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
তাসমান পাড়ের দেশটিতে আগে যেখানে ব্যর্থতা ছিল সঙ্গী সেখানে বাংলাদেশ আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠিত করছে আধিপত্য। অথচ আগের ৯টি ম‍্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ছিল না কোনও জয়। এবার ইতিহাস পাল্টেছে।
কিউইদের দেয়া ১৩৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা আজ ভালো হয়নি টাইগারদের। টিম সাউদির করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে দারুণ এক ছয় হাঁকিয়ে দারুণ কিছুরই আভাস দিয়েছিলেন রনি তালুকদার। তবে টাইগার ওপেনার সফল হতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারেই অ্যাডাম মিলনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি।
৭ বলে ১০ রান করে রনি ফেরার পর ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী হন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। তবে তিনিও আজ নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। পঞ্চম ওভারে জেমস নিশামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৪ চারে ১৪ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি।

এদিকে শান্ত ফেরার পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন সৌম্য। এ দুজন মিলে জুটি গড়ে তৃতীয় উইকেটে স্কোরবোর্ডে তুলেন ২৯ রান। তবে ওয়ানডেতে ফর্মে ফেরা সৌম্য টি-টোয়েন্টিতে আজ নিজের সেরা ফর্মের দেখা পাননি। ক্রিজে থিতু হয়েও আজ ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ১৫ বলে ২ চার এবং ১ ছয়ে ২২ রান করা সৌম্য সাজঘরে ফিরেন বেন সিয়ার্সের বলে বোল্ড হয়ে।
এদিকে সৌম্য ফেরার পর মাঠে নামেন তাওহীদ হৃদয়। লিটনের সঙ্গে তিনিও গড়েছিলেন ২৯ রানের জুটি। তবে মিচেল স্যান্টনারের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাউদির মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। এরপর মাঠে নেমে ৬ বলে ১ রান করে বিদায় নেন আফিফও। ফলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে চাপ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েছেন ওপেনার লিটন দাস, আর সাতে নেমে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন শেখ মেহেদী। বল হাতে আলো ছড়ানো মেহেদী ১৯তম ওভারের চতুর্হ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে এনে দেন মহাকাঙ্খিত জয়। অপরপ্রান্তে ওপেনিংয়ে নামা লিটন অপরাজিত ছিলেন ৩৬ বলে ২ চার এবং ১ ছয়ে ৪২ রান করে।

এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে আজ শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে টাইগারদের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই মেহেদীর বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার টিম সেইফার্ট।
এরপরের ওভারেই আরও বিপাকে পড়ে কিউইরা। শরিফুলের করা ওভারের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচে পরিণত হন আরেক কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন। আর পরের বলেই ফিলিপ্সকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই টাইগার পেসার। ফলে প্রথম দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে ১ রান ওঠতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর ডেরিল মিচেল এবং মার্ক চাপম্যানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল কিউইরা। তবে মেহেদীর ঘূর্ণি জাদুতে তা সম্ভব হয়নি। পঞ্চম ওভারে টাইগার এই বোলারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন মিচেল। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২ চারে ১৪ রান করেন তিনি।

এরপর দশম ওভারে বোলিংয়ে আসেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তার ওভারের দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দেন চ্যাপম্যান। আর তা মুঠোবন্দী করেন তানজিম সাকিব। ফলে স্কোরবোর্ডে ৫০ রান ওঠতেই ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর পনেরতম ওভারে কিউইদের আরও এক উইকেট তুলে নিয়েছেন পেসার শরিফুল। ২২ বলে ২৩ রান করা মিচেল স্যান্টনার সাজঘরে ফিরেন সৌম্য সরকারের হাতে দুর্দান্ত এক ক্যাচে। এদিকে নিয়মিত উইকেট হারানোর ফাকেও আজ ব্যাট হাতে কিউইদের হাল ধরেছিলেন জেমস নিশাম। একপ্রান্তে টাইগার বোলারদের সামলে দ্রুত রান তুলেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও ফিরেছেন মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে। তবে সাজঘরে ফেরার আগে ২৯ বলে ৪৮ রান। ৪ চার এবং ৩ ছয়ে এ রান করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে অ্যাডাম মিলনের ১২ বলে ২ ছয়ে করা ১৬ রানের সুবাদে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানের সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড। টাইগার বোলারদের হয়ে আজ ৩টি উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৩৪/৯ (মিলনে ১৬*, সিয়ার্স ১*; সোধি ২, সাউদি ৮, নিশাম ৪৮, স্যান্টনার ২৩, চ্যাপম্যান ১৯, মিচেল ১৪, ফিলিপস ০, অ্যালেন ১, সেইফার্ট ০)
বাংলাদেশ ১৮.৪ ওভারে ১৩৭/৫, লক্ষ্য ১৩৫ (মেহেদী ১৯*, লিটন ৪২*; আফিফ ১, হৃদয় ১৯, সৌম্য ২২, শান্ত ১৯, রনি ১০)
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।

ভারতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ১১ স্থানে বোমা হামলার হুমকি

ভারতের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ (আরবিআই) ১১ স্থানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আরবিআই দপ্তরে পাঠানো একটি ই-মেইলে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়েছে দুটি দাবিও।
খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-মেইলে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, দাবি না মানলেই নেওয়া হবে ‘অ্যাকশন’। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মুম্বাইয়ের সদর দপ্তরে ইমেইলে আসে এই হুমকি।
হুমকিদাতা সেখানে স্পষ্ট করে দাবি জানিয়ে উল্লেখ করেন, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে দায়িত্ব ছাড়তে হবে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকেও।
ইমেইলে আরও বলা হয়, তাদের মোট ১১টি বোমা হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদি দাবি না মানা হয় তবে মঙ্গলবারই বোমা হামলা হবে। এমনকি, কোথায় কোথায় হামলা হবে তার বিশদ বিবরণও জানিয়েছেন হুমকিদাতা। সবই মুম্বাইয়ের বিভিন্ন ব্যাংকের দপ্তরে।
যে ইমেইল আইডি থেকে ওই হুমকি এসেছিল, সেটি হলো ‘খিলাফত ডট ইন্ডিয়া অ্যাট জিমেল ডট কম’। আপাতত এই ইমেইল আইডির নামেই মুম্বাইয়ের এমআরএ মার্গ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো রকম হামলা বা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়নি।

খোঁজ মিলল পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনির

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক হিসেবে পরিচিত দেশটির বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির খোঁজ পাওয়া গেছে। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি জীবিত আছেন এবং তাকে সাইবেরিয়ার একটি পেনাল কলোনি বা কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
গতকাল অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর কিরা ইয়ারমিশ বলেছেন, ‘আমরা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে পেয়েছি।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে রয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ৬ ডিসেম্বরের পর থেকে নিজের দলের সাথে কোন যোগাযোগ ছিল না নাভালনির। সেদিন তাকে আগের একটি কারাগার থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
নাভালনিকে রাশিয়ায় ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা মনে করা হয়। তিনি ২০২১ সাল থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন।
টেলিগ্রাম নামে বার্তা আদান-প্রদানের একটি অ্যাপে মিজ ইয়ারমিশ লেখেন, ‘তার আইনজীবী আজ তার সাথে দেখা করেছে। তিনি ভাল আছেন।’
ইয়ারমিশ বলেছেন, নাভালনিকে রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত জেলা ইয়ামালো-নেনেটস এর খার্পে অবস্থিতি আইকে-৩ নামে একটি পেনাল কলোনিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পেনাল কলোনি হচ্ছে এক ধরনের বসতি যেখানে কারাবাসীদের নির্বাসনে দেয়া হয় এবং তাদের একটি দুর্গম জায়গা বা দ্বীপে রাখার মাধ্যমে বাকি জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা করা হয়।
এর আগে নাভালনিকে মস্কো থেকে ২৩৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত মেলেখোভো নামে একটি জায়গায় রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নাভালনির খোঁজ পাওয়ার খবরকে তারা স্বাগত জানালেও তার শারীরিক অবস্থা এবং তার আটকাবস্থা নিয়ে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।
তাকে যে নতুন কারাগারে নেয়া হয়েছে সেটি সংক্ষেপে ‘পোলার উলফ’ বা ‘বরফের হায়েনা’ নামে পরিচিত এবং সেটি পুরো রাশিয়া সবচেয়ে কঠোর জেলখানাগুলোর অন্যতম।
সেখানে থাকা বেশিরভাগ বন্দিই মারাত্মক ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত, এবং বন্দিদের সেখানে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হয়।
ইয়ারমিশ বলেন, রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ নাভালনিকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে চায় এবং ‘তার জীবনকে যতটা সম্ভব কঠিন করে তুলতে চায়’।
তিনি আরও বলেন, ‘এই কলোনিটি অনেক দূরে, এতে প্রবেশাধিকার পাওয়াটা খুব দুরূহ এবং আইনজীবীদের জন্য সেখানে গিয়ে আলেক্সেইয়ের সাথে দেখা করাটা কঠিন হয়ে পড়বে।’
নাভালনির উপদেষ্টা ইভান ঝাদভ বলেন, নাভালনির অবস্থা প্রমাণ করে যে, ‘রাজনৈতিক বন্দিদের সাথে পুরো ব্যবস্থা কী ধরনের আচরণ করে, এবং তারা তাদের বিচ্ছিন্ন করে দমিয়ে রাখতে চায়।’
গত বেশ কয়েকটি শুনানিতে তাকে আদালতে হাজির হতে না দেখে, বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল তার দল।
নাভালনি রাশিয়ার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তার তদন্ত সংক্রান্ত ভিডিও গুলো লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন।
তাকে একজন ‘অনুপ্রেরণাদায়ক রাজনীতিক’ এবং রাশিয়ার ‘একমাত্র বিরোধী নেতা’ হিসেবে দেখা হয়, যিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাশিয়ার যেকোনো প্রান্ত থেকে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাতে সক্ষম।
কিন্তু ২০২০ সালে সাইবেরিয়ায় তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল, যেটি নার্ভ এজেন্ট ছিল বলে পশ্চিমা ল্যাবরেটরিগুলোতে প্রমাণিত হয়েছে।
তখন তাকে বিদেশে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে রাশিয়ায় ফিরলে তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করা হয়।
কে এই অ্যালেক্সেই নাভালনি?
প্রেসিডেন্ট পুতিনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত আলেক্সেই নাভালনি। সরকারের দুর্নীতি প্রকাশ করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে তার নাম উঠে আসে। তিনি পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া দলকে উল্লেখ করেছিলেন ‘অসৎ ও চোরেদের দল’ বলে। এ জন্য বেশ কয়েকবার তাকে জেলে যেতে হয়েছে।
পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া সংসদীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপি করেছে বলে প্রতিবাদ করার পর তাকে ২০১১ সালে ১৫ দিনের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়।
নাভালনিকে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে তছরূপের অভিযোগে অল্পদিনের জন্য জেলে পাঠানো হয়, তবে তিনি বলেন, এই দণ্ডাদেশ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
তিনি ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতারণার দায়ে তিনি আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এই কারণ দেখিয়ে তাকে প্রার্থিতা দেয়া হয়নি।
নাভালনির মতে, এটাও ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
এরপর ২০১৯ জুলাইতেনাভালনিকে আবার কারাগারে পাঠানো হয় অনুমোদন না থাকার পরও প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংগঠনের জন্য। সেসময় তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
চিকিৎসকরা বলেন তার ‘কোনো কিছুর স্পর্শ থেকে চামড়ার প্রদাহ’ হয়েছে। কিন্তুনাভালনি বলেন, তার কোনদিন কোন কিছু থেকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া আগে হয়নি।
তার নিজের চিকিৎসক বলেন তিনি ‘কোন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে’ এসেছিলেন। নাভালনিও বলেছিলেন তার ধারণা তাকে বিষ দেয়া হয়েছে।
নাভালনির ওপর ২০১৭ সালে অ্যান্টিসেপটিক রং দিয়ে হামলা চালানো হলে তার ডান চোখ রাসায়নিকে গুরুতরভাবে পুড়ে যায়।
গত বছর মানে ২০২২ সালে তার দুর্নীতি বিরোধী ফাউন্ডেশনকে সরকারিভাবে ‘বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা’ বলে ঘোষণা করা হয়। ফলে এই সংস্থার কর্মকাণ্ডের ওপর সরকার কঠোর নজরদারি শুরু করে।
পুতিনের প্রতিপক্ষদের ওপর হামলার ইতিহাস
চলতি বছরের অগাস্টে রাশিয়ায় ভাড়াটে যোদ্ধাদের সংগঠন ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন।
বলা হয়ে থাকে, ক্রেমলিনে গত দুই দশক ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে প্রিগোজিন বড় চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার ভেতরে এবং বাইরে নানা সন্দেহ তৈরি করে।
সেসময় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য থেকে যেসব ইঙ্গিত করা হয় তার অর্থ হচ্ছে – এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা যে মস্কোর সাজানো তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। যদিও এ ইঙ্গিত হলিউডের চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মতো মনে হতে পারে।
কারণ এর আগেও প্রেসিডেন্টের প্রতিপক্ষ, সমালোচক বা ভিন্নমত অবলম্বনকারীদের নানাভাবে অপঘাতের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। তার আগেও যারা এ তালিকায় রয়েছেন তাদের মধ্যে নাভালনিও একজন।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক গুপ্তচর আলেক্সান্ডার লিতভিনেঙ্কো, যিনি ২০০৬ সালে নভেম্বরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে লন্ডন হাসপাতালে মারা যান। পরে এক তদন্তে জানা যায় সাবেক এই গুপ্তচর পলোনিয়াম ২১০ এর বিষক্রিয়ায় মারা গিয়েছেন, যা খুবই উচ্চমাত্রার একটা রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ।
এর পর ২০১৫ সালে পুতিনের বিরোধী পক্ষকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা সাবেক ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার বরিস নেমেতসভকে মস্কোয় গুলি করে হত্যা করা হয়।
অনেকেই মনে করেন নির্বাসনে থেকেও মস্কোর প্রতিশোধের হাত থেকে বাঁচতে পারেন নি রুশ অলিগার্ক বরিস বেরেজোভস্কি, ২০১৩ সালের মার্চে এই ব্যবসায়ীর মৃতদেহ পাওয়া যায় ইংল্যান্ডের দক্ষিণপূর্বে তার নিজ বাড়ি সারেতে।
কয়েক বছর পর ২০১৮ সালের মার্চে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকা ভিন্নমতাবলম্বী আরেক সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে ইউলিয়া মস্কোর হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।
ইংলিশ শহর সালিসবুরিতে তাদের ওপর নভিচক বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে জানা যায়।
আরেকটি সাড়া জাগানো মৃত্যু ছিল রাশিয়ায় তেলের জায়ান্ট লুকোইলের প্রেসিডেন্ট রাভিল ম্যাগানভ।
তিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মস্কোয় যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেখানে ‘জানালা দিয়ে পড়ে’ গিয়ে মারা যান, বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া পুতিনের সমালোচক সাংবাদিক আনা পোলিতকোভস্কায়াকে মারার আদেশ এবং অর্থ কে বা কারা দিয়েছিল তা রাশিয়ায় কখনোই তদন্ত করা হয়নি।
খবর বিবিসি

‘ইশতেহারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সুপারিশ গুরুত্ব পেয়েছে’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ইশতেহার প্রণয়নে আমরা সুশীল সমাজ, পেশাজীবী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়েছি। তাদের সুপারিশ নিয়ে ইশতেহারে তা গুরুত্ব দিয়েছি।
আজ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যার শেখ হাসিনা। বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতির সামনে যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে দলটি। এ সাফল্য দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীর কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এবারও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অঙ্গীকারের দলিল হিসেবে আমরা নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়ন করেছি।
তিনি বলেন, ইশতেহার প্রণয়নে আমরা সুশীল সমাজ, পেশাজীবী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করেছি। তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে তা ইশতেহারে গুরুত্ব দিয়েছি। গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের সব ক্ষেত্রে অবহিত পূর্ব অগ্রগতির মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ স্থাপনে সেটিকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে কীভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যায় সে লক্ষ্যে এই ইশতেহার।
এবারের ইশতেহারের শিরোনাম ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবারের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ। এই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবারের মূল লক্ষ্য। ইশতেহারে ১১ বিষয়ে অগাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে দ্রব্যমূল্য কমানো ও সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, ব্যাংকসহ আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা, লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের প্রসারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা, সাম্প্রদায়িকতা ও সব ধরনের সন্ত্রাস রোধ করা এবং সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলা : ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত আরও ২৪১

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। দেশটির বর্বর আগ্রাসনে গত ২৪ ঘণ্টায় ভূখণ্ডটিতে ২৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪০০ মানুষ।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অন্তত ২৪১ জন নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই যুদ্ধকে তার জনগণের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান হারজি হালেভি বলেছেন, হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ ‘আরও অনেক মাস’ চলবে। ইসরায়েল বলেছে, তারা মঙ্গলবার ১০০ টিরও বেশি স্থাপনায় হামলা করেছে। বুধবার ভোররাতেও গাজা উপত্যকা থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৮২ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের মতে, ১১ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা লড়াইয়ে কমপক্ষে ২০ হাজার ৯১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধকে ‘বিপর্যয়ের চেয়েও বেশি’ এবং ‘বিধ্বংসী যুদ্ধের চেয়েও’ বেশি কিছু বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটিকে ফিলিস্তিনি জনগণের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর রামাল্লায় একটি মিশরীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, (ধ্বংসযজ্ঞের কারণে) অঞ্চলটি অচেনা হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দখলকৃত পশ্চিম তীর যেকোনও সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি এই নেতা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্তও করেছেন।