শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

লেন্সকে হারিয়ে লিগের শীর্ষস্থান মজবুত করল পিএসজি

কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ও গিয়ানলুইগি ডোনারুমার পেনাল্টি সেভে রোববার লিগ ওয়ানে গত মৌসুমের রানার্স-আপ লেন্সকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে পিএসজি। এই জয়ে লিগ টেবিলে আট পয়েন্টের সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল পেয়েছেন ব্র্যাডলি বারকোলা। ৩০ মিনিটে বারকোলার গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। ৭ মিনিটে পোলিশ মিডফিল্ডার প্রিজিমিস্লাভ ফ্র্যাংকোভস্কির পেনাল্টি রুখে দেন ডোনারুমা। ম্যাচ শেষের এক মিনিট আগে এমবাপ্পে গোল করে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন। মৌসুমে এটি এমবাপ্পের ১৯তম লিগ গোল।

গত মৌসুমে পিএসজির থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করা লেন্স এবার আর নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। যদিও তাদের ঘরের মাঠের ফর্ম বেশ শক্তিশালী রয়েছে। শীতকালীন বিরতির আগ পর্যন্ত লেন্স ঘরের মাটিতে ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে বারকোলাকে ফাউলের অপরাধে জোনাথন গ্রাডিট সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে গেলে লেন্সের ম্যাচে ফিরে আসার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। এই ফাউল নিশ্চিত হতে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ শঙ্কায় পিএসজির সাম্প্রতিক প্রায় সব ম্যাচের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন এমবাপ্পে। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ডানিলো ডি বক্সের ভিতর এলিয়ে ওয়াহিকে ফাউল করে বসলে পেনাল্টি উপহার পায় লেন্স। কিন্তু সেই সুযোগ তারা কাজে লাগাতে পারেনি। ফ্র্যাংকোভস্কি ভাল শট নিলেও ডোনারুমা হাঁটু দিয়ে তা রুখে দেন। ইতালিয়ান গোলরক্ষক এরপর ওয়াহির শট সেভ করেছেন। ৩০ মিনিটে এমবাপ্পের এ্যাসিস্টে বারকোলা পিএসজিতে এগিয়ে দেন। রক্ষনভাগকে ফাঁকি দিয়ে এমবাপ্পের পাসই মূলত এই গোলের পিছনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে লেন্স ডোনারুমাকে তেমন কোন বিপদে ফেলতে পারেনি। তার উপর একজন কম নিয়ে খেলে তাদের জন্য পিএসজিকে প্রতিরোধ করাও কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ৮৯ মিনিটে ওসমানে ডেম্বেলের পাস থেকে লো শটে এমবাপ্পে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিস শনিবার রেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে পয়েন্ট হারিয়েছে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে রেইমসের বিপক্ষে ৩-১ গোলে ব্যবধানে পরাজিত মোনাকো চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। রোববার দিনের আরেক ম্যাচে মন্টিপিলিয়ারকে ২-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রেস্ট। এই জয়ে তারা মোনাকোকে এক পয়েন্টে পিছনে ফেলেছে।

লোরিয়েন্টের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের সহজ জয় তুলে নিয়েছে লিলি। নঁতেকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্লামন্ট। এই জয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে লোরিয়েন্টকে তলানিতে পাঠিয়ে দিয়েছে ক্লামন্ট। মেটজকে ১-০ গোলে হারিয়ে মৌসুমের তৃতীয় জয় নিশ্চিত করেছে টলুসে।

নতুন করে নির্বাচনের দাবি মামাবাড়ির আবদার : ওবায়দুল কাদের

বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর নতুন করে নির্বাচনের দাবিকে মামাবাড়ির আবদার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আজ প্রথম মন্ত্রণালয়ে যান নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিরা। সবার মতো ওবায়দুল কাদেরও সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে যান। কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, চাপ বিদেশ থেকেও আছে, দেশে তো আছেই। কিন্তু আমরা অতিক্রম করার ক্ষমতা রাখি। সাহস রাখি। সামর্থ রাখি। আমাদের শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। আমাদের সম্পর্ক মাটি আর মানুষের সঙ্গে। মাটি আর মানুষের সঙ্গে যে সরকারের সম্পর্ক সেই দল কোনো বিদেশি চাপ বা দেশি চাপ কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। পথে পথে বাধা। পদে পদে বাধা। তা অতিক্রম করেছি। আমরা অতিক্রম করেছি নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি। নির্বাচন তো হয়েই গেছে। অনেকে ভেবেছে নির্বাচন আমরা করতে পারব না। তাদের সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে গেছে। আমাদের স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়িত করেছি। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ আসবে বিদেশি চাপ আসবে। নানাভাবে আমাদের অথর্নীতি বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র আছে। এগুলো ভয় করলে চলবে না। সাহস রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা যখন পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করি তার আগে কেউ ভাবেনি পদ্মা সেতু হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ যখন সমাপ্ত যেখানে বিশ্ব ব্যাংক ছিল না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু আমরা করেছি। তখনও এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা যাবে এটা কেউ ভাবেনি। কেউ ভাবেনি ঢাকায় আধুনিক মেট্রোরেল হবে। আমাদের সামনে আরও পাঁচটি মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এখনো বলি সড়ক-যানবাহনে শৃঙ্খলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আশা করছি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সড়কে নিরাপত্তা সফলতা দিকে নিয়ে যেতে পারব। এই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
সেতুমন্ত্রী বলেন, রাস্তাকেও স্মার্ট করতে হবে। এক পশলা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের অস্তিত্ব থাকবে না এই রাস্তা করে লাভ নেই। বিষয়টি আরও গুরুত্ব দেব।
বিরোধী দলের প্রতি বার্তা দিতে চান কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, এ দেশটা সকলের। দেশ যে শুধু আওয়ামী লীগের সেটা তো বলতে পারি না। সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় আসতে হবে৷ আমরা চিরজীবন ক্ষমতায় থাকব না। একটা দল চিরজীবন ক্ষমতায় থাকেও না। এ দেশের সকল সম্পদ জনগণের। বিরোধী দলের যারা আছে তারাও এ সম্পদের অংশীদার। কাজেই উন্নয়নের যে যাত্রা শুরু হয়েছে সেটা ২০৪১ সাল অবধি আমাদের ভিশনে নিয়ে যেতে হবে।

গাজায় হামলা : ওয়াশিংটন ও লন্ডনে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে এবং ইসরাইলের প্রতি মার্কিন ও ব্রিটিশ সমর্থনের বিরোধিতা করে ‘বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ দিবসের’ অংশ হিসেবে শনিবার ওয়াশিংটন, লন্ডন এবং অন্যত্র হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী মিছিল করেছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ৯৯তম দিনে সংহতি প্রদর্শনে ওয়াশিংটনে জড়ো হওয়া বিশাল জনতার বেশিরভাগ তরুণ বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহ পরেছে এবং জনতা ফিলিস্তিনি পতাকা নেড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা ‘এখনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করুন’ বলে শ্লোগান দেয় এবং তাদের হাতে বহন করা ব্যানার ও পোস্টারে লেখা ছিল ‘মুক্ত প্যালেস্টাইন’ চাই এবং ‘গাজার যুদ্ধ শেষ করুন’।
হোয়াইট হাউসের কয়েক ব্লক পরে একটি মঞ্চে, বেশ অনেক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান, যারা মূলত গাজার বাসিন্দা কিন্তু এখন মিশিগান থেকে টেক্সাস পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারা গাজায় নিহত বা আহত তাদের বন্ধু এবং আত্মীয়দের আবেগঘন বিবরণ দিয়েছেন।
তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইসরায়েলের জন্য সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন বক্তা বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চাপ দিয়ে ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন সহজেই এই উন্মাদনা বন্ধ করতে পারেন’। এ সময় ব্যাপক করতালি দিয়ে বিক্ষোভকারীরা এই বক্তব্যে সমর্থন জানায়।
৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি ভয়াবহ বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের প্রতিবাদে লন্ডনে সপ্তমবারে শরিবার ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ হয়েছে। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার অজুহাতে প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় ধ্বংসাত্মক অভিযান শুরু করে।
ইসরায়েল হামাসকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তিন মাসের বেশী সময় ধরে গাজায় নির্বিচার এবং অবিরাম বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এতে অন্তত ২৩,৮৪৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ এই মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে।
লন্ডন বিক্ষোভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার প্রায় ১,৭০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
২৭ বছর বয়সী স্বাস্থ্যসেবা কর্মী মালিহা আহমেদ, যিনি তার পরিবারের সাথে মিছিলে ছিলেন, তিনি এএফপিকে বলেছেন,‘আমরা ফিলিস্তিনের জনগণকে দেখাতে চাই যে আমরা তাদের সাথে আছি এবং আমাদের সরকারের বিরুদ্ধেও কথা বলতে চাই।’
মালিহা আহমেদ বলেন, ‘ইসরায়েলকে যা করছে তা চালিয়ে যেতে দেওয়ার জন্য তারা (ব্রিটিশ সরকার) একটি খুব বড় ভূমিকা পালন করছে এবং এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’
আরেকজন মিছিলকারী, ৩৭ বছর বয়সী দীপেশ কোথার বলেছেন, ‘বসে বসে বিশ্বকে কিছুই না করতে দেখা খুবই হতাশাজনক।’
তিনি বলেন,‘তাই আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং সারা বিশ্বের সরকারের প্রতি আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে বেরিয়ে আসি।’
ইরান-সমর্থিত গ্রুপগুলোর গাজার সাথে সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার পর এই সপ্তাহে ইয়েমেনে হুথি ঘাঁটির বিরুদ্ধে মার্কিন ও ব্রিটিশ বিমান হামলার কারণে শনিবারের বিক্ষোভগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
একটি ব্রিটিশ সংগঠিত জোটের ডাকা এই ‘বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ দিবসে’ ৩০টি দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।
এই জোটের অংশ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ অভিযানের কেট হাডসন বলেছেন, এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠানটি ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সমস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্থায়ী রাজনৈতিক নিষ্পত্তি দাবি করছে।’
তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকারকে অবশ্যই গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস যুদ্ধের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে এবং এর যুদ্ধাপরাধের নিন্দায় বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগ দিতে হবে।

যাত্রীসেবা ও লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ে উন্নতির চেষ্টা করব : বিমানমন্ত্রী

যাত্রীসেবা, লাগেজ হ্যান্ডেলিং সেবার উন্নতির চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান।
আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি আগেও এই মন্ত্রণালয়ে ছিলাম। সুতরাং এখানকার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমি জানি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে যে কাজগুলো চলছে, সেগুলো যাতে দ্রুত শেষ হয় সেদিকটা দেখব। যাত্রী সেবা, লাগেজ হ্যান্ডেলিং কিভাবে আরও উন্নতি করা যায় এবং কীভাবে আরও নতুন নতুন ডেস্টিনেশনে বিমান যেতে পারে, সেগুলো দেখার চেষ্টা করব।
পর্যটন খাতে আমাদের অপার সম্ভাবনা আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কীভাবে সেই সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা যায়, সেগুলো দেখব।
তার কোনো কর্মপরিকল্পনা আছে কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মপরিকল্পনায় কোন মন্ত্রণালয় কি করবে সেটি বলা আছে, সেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। এর বাইরে বিভিন্ন সময় যে বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে সেগুলো করব।
বিমানে অনেক দুর্নীতি আছে, সেটি নিয়ে মন্ত্রী হিসেবে কর্নেল ফারুক খানের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিমানের দুর্নীতি আছে সেটা তো আমি স্বীকার করি না। আমাকে আগে দেখতে হবে। প্রথমেই সেটি বলব কেন? লেটস সি।

সাত দিনের মধ্যে ১০০ দিবসের পরিকল্পনা দিতে চাই : পরিবেশমন্ত্রী

আগামী সাত দিনের মধ্যে ১০০ দিবসের পরিকল্পনা দিতে চান বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করব। ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কাজের জন্য কোনো কাঠামো বদলের দরকার হলে সেটা করতে হবে। আমাদের কাজের সাথে যা দরকার সেটা করবো। আমরা চাই এটা যাতে এক নম্বর মন্ত্রণালয় হয়। আমার পক্ষ থেকে আইনের প্রতি শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেব। মিডিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।’
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সাত দিনের মধ্যে ১০০ দিবসের পরিকল্পনা দিতে চাই। এ ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব। বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করতে হবে। বন সংরক্ষণ করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্যই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এখানে দুর্নীতি বা অনিয়ম আমরা প্রশ্রয় দেব না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই অগ্রগতিকে টেকসই করতে হবে।

আমাদের কেউ থামাতে পারবে না : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয় অর্জন থেকে কেউ আমাদের থামাতে পারবে না।
রোববার গাজা যুদ্ধের শততম দিন উপলক্ষে নেতানিয়াহু টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না, না হেগ, না শয়তানের অক্ষশক্তি, না কেউ। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে, আমরা তা চালিয়ে যাবো।
তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিচার আদালতে করা মামলার প্রসঙ্গ টেনে এসব কথা বলেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনী অঞ্চলে ইতোমধ্যে অধিকাংশ হামাস সদস্যকে নির্মূল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তর গাজা থেকে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে তারা সহসা সেখানে ফিরতে পারবে না।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক আইন আছে যা খুবই সহজ। সেখানে বলা আছে, বিপদজনক কারনে যখন কোন জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেয়া হয়, যতক্ষণ সে পরিস্থিতি থাকবে ততক্ষণ তাদের ফিরতে দেয়া হবে না।
নেতানিয়াহু বলেন, বিপদজনক পরিস্থিতি সেখানে বিদ্যমান। সেখানে যুদ্ধ চলছে।

রাতারাতি সব সংকট দূর করা সম্ভব নয় : অর্থমন্ত্রী

সব সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় জানিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় চেয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় একা পারবে না। রোজায় দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করা হবে। অনেক কারেকশন করতে হবে। সব ডেভেলপমেন্ট ফিল্ডেই সংশোধন করতে হয়।
অর্থপাচার রোধে কাজ করা হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকার মূল্য কমে গেছে, সেটা নিয়েও কাজ করা হবে। এ বিষয়ে দেখি কী করা যায়! অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ আছে। একটু সময় দেন।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে আবুল হাসান বলেন, এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা। আমাদের নিজের দেশকে নিয়ে গর্বিত হতে হবে।
তিনি বলেন, কত ষড়যন্ত্র, কতকিছু থাকা সত্ত্বেও আমারা এগিয়ে যাচ্ছি। চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমাদের অর্জনও কম নয়। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একবারে সব করা সম্ভব নয়। অনেক কারেকশন করতে হবে। সকল উন্নয়ন প্রক্রিয়াই কারেকশন দরকার আছে। চ্যালেঞ্জ থাকবে। সমাধান করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, কত ত্যাগের বিনিয়োগ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বঙ্গবন্ধুর এই দেশ ধ্বংস করতে দেব না। যারা এখনও বিরোধিতা করেন তাদের খেয়াল করতে হবে। তাদের কত ধৃষ্টতা, ওপেন মিটিংয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, পাকিস্তান ভালো ছিল। তাদের আমি সেখানে চলে যেতে বলেছি। পাকিস্তান ভালো ছিল, যান দেখে আসেন। পাকিস্তানে কেউ যায়?
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আজ প্রথম মন্ত্রণালয়ে যান নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিরা। সবার মতো নিজ মন্ত্রণালয়ে যান আবুল হাসান মাহমুদ আলীও। কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।

প্রয়োজনে নতুন কারিকুলামের মূল্যায়নে পরিবর্তন : শিক্ষামন্ত্রী

প্রয়োজনে নতুন কারিকুলামের মূল্যায়নে অবশ্যই পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষ মাত্র শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের কাজগুলোও শুরু হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো সমস্যা মনে হয় তাহলে তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই আসবে।
আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের শুরুর দিনেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ কী- সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ, এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমরা দেখেছি পাঁচটি বছর সফলভাবে সদ্যসাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে কাজ করেছি।
শিক্ষায় নানান ধরনের রূপান্তরের কাজ শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা সূচনা করেছি। এই সূচনার কাজগুলোর পেছনে কিন্তু আমাদের পূর্বে যিনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, তিনি সেই ভীতগুলো রচনা করে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার সব কাজের মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা থাকতে হয়। সুতরাং এখানে নতুন করে হঠাৎ করে কোনো কিছু চিন্তা করার অবকাশ খুবই কম। তাই সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই রূপান্তর, ধারাবাহিকতার মধ্যেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হবে। এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই স্মার্ট সিটিজেন তৈরি করার জন্য স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেম আমাদের প্রয়োজন, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের বলে দিয়েছেন বিশাল যে জনগোষ্ঠী, বিদ্যালয় পর্যায়ের শেষ করে তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। প্রায় এক কোটির ঊর্ধ্বে। বিশাল জনগোষ্ঠী যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা করতে যাচ্ছে, এই যে বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব জায়গাতেই তাদের কর্মসংশ্লিষ্ট যেসব দক্ষতা রয়েছে, সেগুলো যাতে ন্যূনতম সবাইকে দিতে পারি।
কর্মসংশ্লিষ্ট দক্ষতাগুলোর বিষয়ে তিনি আমাদের বিশেষ জোর দিতে বলেছেন। কারণ এবার আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হচ্ছে কর্মসংস্থান। স্মার্ট সিটিজেন করতে হলে কর্মসংস্থান করতেই হবে এবং কর্মসংস্থানের জন্য মাল্টি স্কিল্ড স্মার্ট সিটিজেন আমাদের খুব প্রয়োজন। আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার ওপর জোর দিতে বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, কারিকুলাম নিয়ে কাজ হয়েছে কারিকুলাম তো হঠাৎ করে আসেনি। সেটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই সেটাই স্বাভাবিক। সে আলোচনা-সমালোচনাগুলো মাথায় রেখেই দুর্বলতা থাকলে সেখানে সমস্যা থাকলে, মূল্যায়নের জায়গায় একটা আলোচনা আছে মূল্যায়নটা যাতে এমন না হয় যাতে সেটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে পরিণত হয়। সেগুলো বিবেচনা করেই আমরা আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা পরিবারের সবাইকে নিয়ে কাজ করবো।
মূল্যায়নে কি তাহলে পরিবর্তন আনছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের কাজগুলোও শুরু হয়েছে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দেখা যাবে যে পদ্ধতি আমরা এরই মধ্যে শিক্ষাবিদরা কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেছেন সেটার মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থাকে সেটা আমরা এখন দেখতে পাবো। তো দেখতে পেলে আমরা আগেও বলেছি, যে এটা স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। এটা যে আমাদের মেইনটেইন করতে হবে তা কিন্তু নয়। সেখানে পরিবর্তন প্রয়োজনে অবশ্যই আসবে। তা আগেও বলা হয়েছে এখনও আমি বলছি। পরিবর্তন প্রয়োজন সাপেক্ষে অবশ্যই আসবে।

রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪৬

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আসামিদের কাছ থেকে ৬০৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৬ গ্রাম হেরোইন ও ১৩০ কেজি ৩৩০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩১টি মামলা করা হয়েছে।

প্রথম কর্মসূচি হবে দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মসূচি হবে দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা।
আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) প্রথম দিন সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সকালে নতুন মন্ত্রী দপ্তরে এলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সরকার পণ্য উৎপাদন করে না, আমদানিও করে না। উৎপাদনকারী ও ভোক্তার মধ্যে সমন্বয় করে মাত্র। উৎপাদনকারীদের হাত থেকে পণ্যটি ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত জার্নিটা যেন স্মুথ হয়, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করবে।
মতবিনিময় শেষে তিনি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারেন। ফাঁকে ফাঁকে কাজও বুঝে নিচ্ছেন নতুন এ প্রতিমন্ত্রী।