শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

বিএনপি-জামায়াত দেশকে বিপদে ফেলার সব সময় চেষ্টা করেছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত দেশকে বিপদে ফেলার জন্য সব সময় চেষ্টা করেছে, তারা আল্লাহর কাছে কি প্রার্থনা করে আমি জানিনা। শকুনের দোয়ায় যেমন কখনো গরু মরে না, তেমনি বিএনপি’র অশুভ কামনায়ও বাংলাদেশের কোন কিছু অশুভ হবে না। পূর্ব-পশ্চিম সবার সাথে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। সবার সাথে সম্পর্ককে আরো গভীর করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম এলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে বিমানবন্দরের বাইরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল সংবর্ধনা জানানো হয়।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন যে আন্তর্জাতিকভাবে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে গ্রহণ করেছে, সেটির প্রমাণ হচ্ছে বহু নির্বাচনী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনডিআই, আইআরআই, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত, সার্কভূক্ত, ওআইসিভূক্ত ও কমনওয়েলথভূক্ত দেশগুলোর পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশে এসেছে। এবং তারা সবাই একযোগে মত প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং এই নির্বাচনে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম সহিংসতা হয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবজারভার তথ্য-উপাত্তের জন্য নির্বাচন কমিশনে গেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ড. হাছান বলেন, আমাদের বিদেশি বন্ধুদের আমাদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন। আমি আজকে কাগজে দেখলাম, নির্বাচন কমিশন যেই তথ্য উপাত্ত দিয়েছেন, এতে তারা সন্তুষ্ট হয়েছে। দেখুন, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশিরভাগ নিবন্ধিত দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আপনারা জানেন, যেদিন নির্বাচন হয়, সেদিন প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা ছিল। সেই কারণে ভোটের পার্সেন্টেজ প্রায় ৪২ শতাংশ, যদি কুয়াশা এবং শীত না থাকতো তাহলে আরও বেশি ভোট কাস্ট হত।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন এই নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্থ ও প্রতিহত করার জন্য বিএনপি যেভাবে আগুন সন্ত্রাস করেছে, পাঁচ তারিখ রাতেও যেভাবে অগ্নি সন্ত্রাস চালিয়েছে, এতে করে মানুষকে ভয় লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ ভয় পায়নি, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতি দুই ঘন্টায় যে তথ্য দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ম্যানুয়ালি ভোটে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর আসলে কত শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে, সেটি নির্ভুলভাবে দেয়া সম্ভবপর নয়। ইভিএমএ ভোট হলে সেটা সাথে সাথে রেজিস্টার্ড হত। যেহেতু ইভিএমএ ভোট হয়নি, ম্যানুয়াল ভোটে প্রতি দুই ঘন্টার তথ্য কোন সময় সঠিকভাবে দেয়া সম্ভবপর নয়। সেজন্য সঠিক তথ্যটা এসেছে নির্বাচনের শেষে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজারে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা আছে, আপনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব¡ নিয়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আপনি কি উদ্যোগ নেবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেখুন, আমরা সবসময় কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি, আমরা তাদের সাথে আরও এনগেজমেন্ট বাড়াচ্ছি, আমি ন্যাম সামিটে যাচ্ছি, সেখানে মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে আমার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা কূটনৈতিকভাবেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

বিএনপি ক্ষমতায় আসতে অন্ধকার গলি খুঁজছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং জনগণের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষমতায় আসার অন্ধকার গলি খুঁজছে।
তিনি বলেন, ‘তারা জানে জনগণ তাদের বর্জন করেছে। এ কারণেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না। তাই, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে ক্ষমতা যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছে। তারা এখন নির্বাচনে আলোর পথ এড়িয়ে অন্ধকারের গলির দিকে তাকিয়ে আছে।’
আজ মঙ্গলবার সকালে গণভবনে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান প্রবাসীদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো চলছে।
তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি-জামায়াত চক্র) এখন নির্বাচন বাতিলের দাবি করছে।’
২০০৮ সালের সংসদীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল। অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩ আসন পেয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন থেকেই তারা কোনো নির্বাচনে আসতে চায় না। তারা বাস, লঞ্চ এবং ট্রেনে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। তারা যত বেশি সন্ত্রাসী কর্মকা- অগ্নিসন্ত্রাস করবে, জনগণ তত বেশি তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাজেই তারা জানে যে, জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটকে বর্জন করেছে সেজন্য নির্বাচন করতে চায় না। এজন্যই নির্বাচন বানচাল করে কীভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায় তারা সেই পথ খুঁজে বেড়ায়। অন্ধকার গলি খুঁজে বেড়ায়, আলো ঝলমল নির্বাচন আর জনগণের পথ হারিয়ে ফেলে।’

সরকারপ্রধান বলেন, নিজেরা অফিসে তালা দেয়, আবার নিজেরাই ভাঙ্গে। এনিয়ে আবার গর্ববোধ কর, যে চাবি হারিয়েছে। চাবি গেল কোথায়? তালাতো তাদেরই দেওয়া ছিল। তাদের চাবি খোয়া যাবে, চাবি হারাবে এবং তারা পথও হারাবে। তারা পথ হারানো পথিক হয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা বিএনপি সম্পর্কে বলেন, তাদের একটাই দক্ষতা আছে, অগ্নিসন্ত্রাস, বাসে আগুন, লঞ্চে ট্রেনে আগুন দেওয়া, রেলের লাইন খুলে দিয়ে, রেলের পাত খুলে ফেলে মানুষ হত্যা করা। মানুষ মারার ফাঁদ পাতায় তারা ওস্তাদ। তাদেরকে জনগণ শুধু নির্বাচন নয়, বারবারই তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং হারার ভয়েই নির্বাচন করেনি। কিন্তু জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ নির্বাচনে বিজয় বাংলাদেশের জনগণের বিজয়। নির্বাচনে বিজয় গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতার বিজয়।’
তিনি দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দোয়া করবেন, এখনো চক্রান্ত শেষ হয়নি। এখনো শুনি তারা আবার লাফালাফি করে। নির্বাচন বাতিল করতে হবে, এই করতে হবে সেই করতে হবে। যাই হোক জনগণের ভোটে আমরা সরকারে এসেছি জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাব।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ ২৯টি দেশের প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে তাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে রেকর্ড পঞ্চম এবং টানা ৪র্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর গণভবনে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই কারণ জনগণ এবার স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আপনারাও নির্বাচনের জন্য এসেছেন এবং নিজের নিজের এলাকায় দেখেছেন জনগণ কিভাবে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। এই নির্বাচনে আর একটি বিষয় লক্ষণীয় নারীদের অংশগ্রহণ। সেই ১৩০ বছরের বয়োবৃদ্ধ বলেছেন ‘হাসিনাকে ভোট দেব’। এর থেকে বড় পাওয়া মনে হয় জীবনে আর কিছু নেই, এই যে মানুষের আস্থা ও বিশ^াস এটাই সব থেকে বড় পাওয়া।
জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, যেন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। অন্তত এটুকু বলতে পারি গত ১৫ বছর আমরা সরকারে আছি বলেই আজকে বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব নেই। চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, বাংলাদেশের মানুষ এখন আরো উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির যে নির্বাচন, সে নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার আমরা নিশ্চিত করেছি। আমি বলবো এটা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, যেটা আমরা নিশ্চিত করেছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা তো নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। হ্যাঁ নৌকা মার্কা দিয়েছি, সেই সঙ্গে বলেছি যারা নির্বাচন করতে চায় করতে পারবে। উন্মুক্ত করে দিয়েছি, কাজেই সেখানে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে রয়েছি। সেখানে নারী হত্যা, শিশু হত্যা হচ্ছে যা গণহত্যার শামিল। আমরা এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছি। কিছু সহযোগিতাও পাঠানো হয়েছে এবং আরও পাঠানো হবে।
তিনি এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধের জন্য বিভিন্ন ফোরামে, যখনি বিদেশে গিয়েছেন কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সবসময় শান্তির পক্ষে এবং জাতির পিতার রেখে যাওয়া পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গত ১৫ বছরের বাংলাদেশ, বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।
মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমাদের দেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারে যখন ঝামেলা হয়েছিল তখন আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি এবং এ নিয়ে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে কোন বিবাদে জড়াইনি বরং আমরা আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিশ্বে চলমান অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের আহবান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন ফোরামে যেখানে কথা বলেছি সেখানেই অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এই অস্ত্রের টাকা শিশুদের খাদ্য, শিশুদের চিকিৎসা এবং তাদের শিক্ষার জন্য এবং মানবকল্যাণে ব্যয় করার কথা বলেছি।

তিনি বলেন, যেসব দেশ অস্ত্রের জন্য টাকা ব্যয় করছে সেগুলো তো সেদেশের জনগণ যে ট্যাক্স দেয় সেই ট্যাক্সেরই টাকা। কাজেই তাদের টাকা ধ্বংসের জন্য কেন ব্যয় হবে?
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় রেমিটেন্স বৈধ চ্যানেলে পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যদি অনলাইনে ব্যাংকিং এর সুযোগ নিয়ে টাকাটা পাঠায় তাহলে যেটুকু পরিবারের জন্য খরচ হবে বাকিটা তার একাউন্টে জমা থাকবে এবং নিজেরও একটা ভরসার জায়গা থাকবে। তিনি তাঁর সরকারের চালু করা সার্বজনীন পেনশন স্কিম এবং প্রবাসী পেনশন স্কিম গ্রহণ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের মানুষের কল্যাণ হোক, তাদের জীবন মান উন্নত হোক। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের সমস্ত কার্যক্রম। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দিয়ে গিয়েছিলেন, তার থেকে একধাপ এগিয়ে আমরা দেশকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে তুলে এনেছি এবং ২০২৬ সাল থেকে তা কার্যকর হবে। জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন গণআন্দোলন এবং সর্বোপরি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

মা হারালেন টলি তারকা সায়নী

মা সুদীপা ঘোষকে হারালেন অভিনেত্রী ও যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। রোববার (১৪ জানুয়ারি) রাতে হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা শুরু হয় তার। এরপর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় সুদীপার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, সোমবার বিকেল তিনটার দিকে মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রীর মায়ের। নেত্রীর মায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলের মুখপাত্র সংসদ সদস্য শান্তনু সেন জানান―গত কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন সুদীপা ঘোষ।
সায়নীর মায়ের শ্বাসনালীতে সংক্রমণ হয়েছিল বলেও জানা গেছে। আর মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও এ ব্যাপারে কখনোই জনসমক্ষে কথা বলেননি অভিনেত্রী। মেয়ের জীবনের অন্যতম ইন্সপিরেশন ছিলেন সুদীপা। একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন সময় সাপোর্ট করেছেন তিনি।
টালি তারকার ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন, ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট টানাপোড়েন, সবকিছুতেই জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মা সুদীপা। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়।
এদিকে সামনেই লোকসভা নির্বাচন। অনেকেই মনে করছেন এবার দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাবে সায়নীকে। কিন্তু হঠাৎ মাতৃবিয়োগের ঘটনা তাকে যে নাড়া দিয়ে গেল, সেটা এখন কাটিয়ে উঠতে সময়ের অপেক্ষা।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে কয়েক জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেখা যাচ্ছে টালি তারকাকে। কখনো পূর্ব বর্ধমান, কখনো মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা থেকে বীরভূম, এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

বিজয় সরণি স্টেশনে যাত্রী নিয়ে আটকে ছিল মেট্রোরেল

যাত্রীদের যানজটের বদলে দ্রুতগতির যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিতে চালু হয়েছিল মেট্রোরেল। কিন্তু ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালুর পরে থেকেই একের পর কারিগরি ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনায় ভুগছে মেট্রোরেল।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিজয় সরণি স্টেশনে যাত্রী নিয়ে ১০ মিনিটের বেশি আটকে ছিল মেট্রোরেল। ফার্মগেট থেকে উত্তরাগামী মেট্রোরেলটি ১২টা ২০ মিনিটে বিজয় সরণি স্টেশনে এসে আটকে পড়ে। ১২ টা ৩১ মিনিটের দিকে মেট্রোরেলটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
এ বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন বলেন, মেট্রোরেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে এটি হয়েছে। দ্রুতই ঠিক করা হবে। মেট্রোরেল এ দেশে নতুন, এ জন্য আমাদের সামনে এসব চ্যালেঞ্জ আস

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ জানুয়ারি শুরু হবে। ২০২৯ সালের ২৯ জানুয়ারি এ সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় দেয়া ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
সংবিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম এবং দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি সংসদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। আওয়ামী লীগ গত বুধবার তাদের সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার পদে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার পদে সামসুল হক টুকুকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব ও অধ্যাদেশ উত্থাপন (যদি থাকে), সংসদীয় কমিটি গঠন (যদি থাকে), সংবিধান বা আইন অনুযায়ী কোনো রিপোর্ট উপস্থাপন (যদি থাকে) ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকে। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রশ্নকাল থাকে না।
রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতি অধিবেশনেই পাঁচজন করে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে একজন নারী সদস্যকে মনোনয়ন দেয়া হয়। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত একাদশ সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ফলে এ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন সংসদের অধিবেশন বসার সুযোগ নেই। এর পরই অধিবেশন হবে।

সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি বরদাশত করব না : প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কেনাকাটাসহ সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম বরদাশত করব না।
আজ সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গঠিত নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পরিচালনার স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি আয় ব্যয় এবং ক্রয় এসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার সঙ্গে করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম বরদাশত করব না।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দেশের জন্য ভালো না। আমাদের যতটুকু সম্পদ আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাবো। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে আমরা এগোব।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সীমিত সম্পদ জনসংখ্যা বেশি। আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়েই জনগণের কল্যাণ করতে হবে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষা ভাতা সঠিক লোক যথাযথভাবে যেন পায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে বলেন দেশের পঞ্চমবারের প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, চক্রান্ত করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে যাতে কেউ বিক্ষুব্ধ করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
বৈরী পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই সকলকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে মানুষকে বিক্ষুব্ধ করানো যায় সেই চক্রান্ত চলছে। দেশি-বিদেশি বৈরি পরিবেশ মোকাবিলা করেই এগোতে হবে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
খাদ্যপণ্যের দামে ভারসাম্য আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে নিত্যপণ্যের দামে সামঞ্জস্য করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সকল মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অপচয় রোধে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কেই হিসাব করে চলার পরামর্শও দেন সরকারপ্রধান।

সশস্ত্রবাহিনী বিভাগে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে পঞ্চমবারের মতো সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার নিজ কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস পালন করেছেন।
এর আগে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আতেœাৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার নিজ কার্যালয়ে প্রথম কর্ম দিবস পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম এবং এ বিভাগের মহাপরিচালকরা।
এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন সকালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে তার মন্তব্যসহ সই করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দিক-নির্দেশনা দেন তিনি।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের নতুন সরকারে দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল রবিবার প্রথম দিনের মতো সচিবালয়ে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে আসেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ১০ জানুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথের পর ১১ জানুয়ারি শপথ নেয় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করা হয়।

ভিনিসিয়ুসের দাপটে সুপার কাপের শিরোপা রিয়ালের

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দাপটে বিধ্বস্ত হলো বার্সেলোনা। প্রথমার্ধে এই ব্রাজিলিয়ানের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হলো কাতালানদের। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৪-১ গোলে জয়ী হয়ে ১৩তম বারের মতো সুপার কাপের শিরোপা জিতল রিয়াল মাদ্রিদ।
সৌদি আরবের রিয়াদের আল আওয়াল পার্কে হওয়া এ ম্যাচে সপ্তম মিনিটেই জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। জুড বেলিংহামের অফসাইড কাটিয়ে বল পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বল নিয়ে তিনি সরাসরি বক্সে ঢুকে জালে ছুড়েন। তিন মিনিট পরই ফের লক্ষ্য করেন ভিনিসিয়ুস। এতে রিয়ালের ব্যবধান বেড়ে যায়।
দানি কার্ভাহাল লম্বা পাস করেন। তার এই পাস ধরে বক্সে যান রদিগো। বক্সে বার্সেলোনার ডিফেন্ডাররা এগিয়ে আসায় অন্য প্রান্তে থাকা ভিনিসিয়ুসের কাছে বল ছুড়লে তিনি স্লাইডিংয়ে লক্ষ্য করেন জালে। অল্প সময়ের মধ্যে দুই গোলের ব্যবধান করে রিয়াল। ১২ মিনিটের দিকে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি শট করলে তা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এতে অবশ্য আশাহত হয় বার্সেলোনা।

ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠে বার্সেলোনা। কঠিন লড়াইয়ের পর ৩৩ মিনিটে এক গোল পরিশোধ করে। এরপর রবার্ত লেভানদোস্কি লক্ষ্য করেন। প্রথমার্ধে বিরতি যাওয়ার আগেই ফের ব্যবধান বাড়ায় ভিনিসিয়ুস। গড়ে নেয় নিজের হ্যাটট্রিক। ৩৯ মিনিটে তাকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেন আরোহো। আর সেখানে স্পট কিক থেকে গোল করতে একদমই ভুল করেননি ভিনিসিয়ুস।
এরপর মধ্যবিরতি থেকে ফেরার পরও দারুণ খেলেছে রিয়াল। ৬৪ মিনিটে চতুর্থ গোল করে দলটি। তবে এবারের গোল করেছেন রদ্রিগো। এরপর অবশ্য যা হয় তার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিল না বার্সেলোনা। রোনাল্ড আরোহা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এতে দলের সদস্য সংখ্যা কমে যায়। দশ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় তাদের। আর এদিকে শেষ পর্যন্ত গোলের ব্যবধান ধরে রেখে শিরোপা উৎসবে মেতে উঠে রিয়াল।

চোখের চিকিৎসায় লন্ডনে যাচ্ছেন সাকিব

চোখের সমস্যা নিয়ে গত অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলেছেন সাকিব আল হাসান। চোখের রেটিনার সমস্যা নিয়ে দিল্লীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছেন ৮২ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস।
চোখের সমস্যার পাশাপাশি আঙুলে চোটের কারনে মিস করেছেন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম এন্ড অ্যাওয়ে সিরিজ।
বিশ্বকাপের সময় দুই দফা ভারতে চিকিৎসক দেখিয়েছেন সাকিব।বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও চোখের চিকিৎসক দেখিয়েছেন। ঢাকায় দুজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন।
চোখের এই সমস্যা নিয়ে করেছেন জাতীয় নির্বাচন। জিতেছেন মাগুরা-১ সংসদীয় আসন থেকে। তবে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় রাত-দিন কাটানোয় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্বাচন শেষে অনুশীলনে ফেরার পর আবার চোখের সমস্যাও ফিরে আসে।
আসন্ন বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলবেন বলে নির্বাচনে জিতে পরদিন থেকে শুরু করেছিলেন অনুশীলন। তবে চোখের সমস্যায় স্বাভাবিক অনুশীলনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
সাকিবকে চশমা পরে রংপুর রাইডার্সের অনুশীলনে ব্যাটিং করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতির মুখে চোখের চিকিৎসা করতে রোববার লন্ডন যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। বিপিএল শুরুর আগেই তাঁর ফিরে আসার কথা। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।