শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

ভারত থেকে পেঁয়াজ ও চিনি আমদানি করা হবে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ভারত থেকে শিগগিরই ২০ হাজার টন পেঁয়াজ ও ৫০ হাজার টন চিনি আমদানি করা হবে। এ ছাড়া আসন্ন রমজান মাসের আগে সব নিত্যপণ্যর দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
আজ শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে দেলদুয়ার উপজেলায় নিজ বাসভবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান উপলক্ষে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে। ভারত দীর্ঘ দিন রপ্তানি বন্ধ করে রেখেছিল, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। রমজান মাসের আগেই ভারত বাংলাদেশে চিনি ও পেঁয়াজ রপ্তানি করবে। আগে যে শুল্ক ছিল তা কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া ব্রাজিল ও বিভিন্ন দেশ থেকে চিনিসহ বিভিন্ন সামগ্রী আসছে।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, টিসিবির মাধ্যমে রমজানে সারাদেশে খাদ্য বিতরণ করা হবে। আগে ট্রাকে বিতরণ করা হতো। এখন ডিলারের দোকানের মাধ্যমে হচ্ছে বিতরণ কর হচ্ছে। এরপর প্রতিটা এলাকায় নির্দিষ্ট জায়গায় বিতরণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বাজার যাচাই করে সংবাদ করবেন। এক বাজার দেখলেন ১৫০ টাকা আরেক বাজার ২৫০ টাকা তাহলে হবে না। সব বাজার থেকে তথ্য যাচাই করে সংবাদ করবেন তাহলে মানুষের মধ্যে আর সমস্যা সৃষ্টি হবে না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ২৬ হাজার

ইসরায়েলি স্থল ও বিমানবাহিনীর অভিযানে গত সাড়ে তিন মাসে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ২৬ হাজার ৮৩ জনে পৌঁছেছে। এই নিহতদের পাশাপাশি মোট আহত হয়েছেন আরও ৬৪ হাজার ৪৮৭ জন।
এ ছাড়া গত ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত হয়েছেন ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামরিক-বেসামরিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জন ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিককে।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেদিন প্রথম একদিনে এতজন মানুষের হত্যা দেখেছে ইসরায়েল। অভূতপূর্ব সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং তার এক সপ্তাহ পর বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

সেই অভিযানেই নিহত হয়েছেন এই ২৬ হাজার ৮৩ জন। নিহতদের একটি বড় অংশই নারী, শিশু এবং কিশোর-কিশোরী।

গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত এক মানবিক বিরতির সময় ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে এখনো এই গোষ্ঠীটির হাতে আটক রয়েছেন ১৩২ জন জিম্মি।
এই জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে ফের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার আগ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান বন্ধ হবে না।
খবর এএফপি

বিশ্বে প্রথম নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

নতুন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পদ্ধতির ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র। নানা সমালোচনার মধ্যে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির আলাবামা অঙ্গরাজ্য।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই পদ্ধতিতে কেনেথ ইউজিন স্মিথ নামে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ সময় তাকে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাবামার গভর্নর কে আইভি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন— নাইট্রোজেন গ্যাসের সাহায্যে শ্বাসরোধ করে প্রথম মৃত্যুদণ্ড সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যম দেশ মারণ ইনজেকশনের একটি সহজ বিকল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অঙ্গরাজ্য সরকারের দাবি, এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সবচেয়ে কম বেদনাদায়ক ও মানবিক পদ্ধতি হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত। মূলত মারণ ইনজেকশন ব্যবহারের বদলে মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি আরও সহজ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আলাবামা সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও স্মিথের আইনজীবী। কিন্তু আলাবামা সরকার নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীর দাবি, পদ্ধতিটি ঝুঁকিপূর্ণ, পরীক্ষামূলক এবং এটি একটি নির্যাতনমূলক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা পদ্ধতি। এমনো হতে পারে, এই পদ্ধতিতে ব্যক্তির মৃত্যু না হয়ে, সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
এর আগে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে কেনেথ ইউজিন স্মিথের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের গড়ায় মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট। সেখানেও সিদ্ধান্তটি বহাল থাকে। সে হিসাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার বলছে, এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বিশ্বে এটিই প্রথম।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমি থেকেই জোকোভিচের বিদায়

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিতে আজ ইয়ানিক সিনারের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। এর আগে ১০ বার এই টুর্নামেন্টের সেমিতে খেলে প্রতিটিতেই জয় পাওয়া সার্বিয়ান এই তারকা এবার আর পারেননি। সিনারের কাছে প্রথম দুই সেটে হেরে তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
ইতালিয়ান টেনিস তারকা সিনারের বিপক্ষে খেলতে নেমে আজ প্রথম সেটেই বিপাকে পড়েন জোকোভিচ। ৬-১ গেমে প্রথম সেট হারের পর দ্বিতীয় সেটেও ৬–২ গেমে পিছিয়ে পড়েন সার্বিয়ান তারকা।
প্রথম দুই সেট হেরে যখন হারের শঙ্কা জেগেছে তখন ঘুরে দাঁড়িয়ে তৃতীয়সেট নিজের করে নেন জোকোভিচ। তিন নম্বর সেটে সিনার পরাজিত হন ৭–৬ (৮/৬) গেমে।
তবে তিন নম্বর সেট জিতে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারলেন না জোকার। সার্বিয়ান এই তারকা চতুর্থ সেটে এসে ফের হেরে যান সিনারের কাছে। ইতালিয়ান তারকা এই সেট জিতে নেন ৬-৩ গেমে। ফলে এর আগে দশবার ফাইনাল নিশ্চিত করে শিরোপা ঘরে তলা জোকোভিচকে এবার ফিরতে হল খালি হাতেই।

২০১৮ সাল থেকে আজকের ম্যাচে হারের আগ পর্যন্ত টানা ৩৩ ম্যাচে মেলবোর্ন পার্কে অপরাজিত ছিলেন জোকোভিচ। শেষ পর্যন্ত সিনারের কাছে হেরেই ভাঙল এই ধারা।
এদিকে জোকোভিচকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা ২২ বছর বয়সী সিনার আছেন নিজের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের পথে। তবে জোকারকে এর আগেও ডেভিস কাপ এবং এটিপি ফাইনালসের গ্রুপ স্টেজে হারিয়েছেন ইতালিয়ান এই তারকা।

রেল কর্মচারীর যোগসাজশে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট : র‌্যাব

ট্রেনের টিকিট কাটতে নানা বিধিনিষেধ, তদারকির পরও থেমে নেই কালোবাজারি। মূলত টিকিট কাটার পুরো প্রক্রিয়া রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বরতরাই জড়িত এই কালোবাজারি সিন্ডিকেটে। এই চক্রটি বিভিন্ন কারসাজি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। আর ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে কালোবাজারিরা ৩-৪ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে।
বাড়তি লাভের ৫০ শতাংশ পায় সরাসরি সিন্ডিকেটে জড়িত সদস্যরা। আর বাকি ৫০ শতাংশ চলে যায় কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইটি বিশেষজ্ঞদের হাতে। যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় শুধু দুটি সিন্ডিকেটের হাতেই প্রতিদিন চলে যাচ্ছে প্রায় ৫০০ টিকিট।

দেশব্যাপী ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন সেলিম (৫০), আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), হারুন মিয়া (৬০), মান্নান (৫০), আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), ফারুক (৬২), শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), জুয়েল (২৩), আব্দুর রহিম (৩২), উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২), জোবায়ের (২৫)।

তাদের মধ্যে সেলিম ও উত্তম চন্দ্র দাস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির দুই হোতা, যাদের নিজেদের নামে সেলিম সিন্ডিকেট ও উত্তম সিন্ডিকেট পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তমের নেতৃত্বে এই চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল।

খন্দকার মঈন বলেন, সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকেট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে তারা টিকেট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করেন এবং অধিক মূল্যে টিকেট বিক্রি করে থাকেন। এ ছাড়া ট্রেন ছাড়ার সময় যতো ঘনিয়ে আসতে থাকে তাদের মজুদকৃত কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
র‌্যাবের এই কমান্ডার বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তাররা প্রতিটি টিকিট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রয় করে থাকে। সাধারণত প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণ বেশি দামে বিক্রি করে থাকে। এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ গ্রেপ্তাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
গ্রেপ্তার উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত টিকেট কালোবাজারির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

যেভাবে টিকিট যেত সিন্ডিকেটের হাতে
খন্দকার মঈন জানান, গ্রেপ্তার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে থাকে। যেহেতু প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে চারটি টিকিট দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে ৪টি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এ ছাড়া কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের যোগসাজশে তারা বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় দেওয়া এনআইডি সংগ্রহ করে রাখেন। পরবর্তী সময়ে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে ৪টি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকেন। এভাবে তারা প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক টিকেট সংগ্রহ করত।
অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে টিকিট কাটতো চক্রের সদস্যরা। আবার অনেক সময় কৌশলে লাইনে অপেক্ষমাণ টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে ৪টি টিকিট ক্রয় করিয়ে ৩টি টিকিট নিজেরা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে কিনে নিতো।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ঈদ, পূজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেপ্তাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম/আইটির সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করত।
পাশাপাশি চক্রটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করত। এমনকি স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করত। সেসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো।
এভাবে গ্রেপ্তাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুলসংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতেন। যার ফলে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে ৭টি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন। তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত হন।
গ্রেপ্তার মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা।
গ্রেপ্তার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তার সহযোগী গ্রেপ্তার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এ সব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই বিষয়টি কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সব সময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলেন।
গ্রেপ্তার বাকিরা দেশের বিভিন্ন রুট সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন, যার ফলে তারা সেসব রুটের যাত্রীদের ম্যানেজ করে টিকিট বিক্রি করতেন।
র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা এই কালোবাজারির বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পেয়েছি, যারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এমন কিছু নামও পেয়েছি। তাদের বিষয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাউন্টারম্যান, সহজ ডটকমের কর্মচারীসহ বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। এমনকি স্টেশনে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এমন কয়েকজনেরও এই সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৯

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি জানান, আসামিদের কাছ থেকে ২০ হাজার ৬৮৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯৮ গ্রাম হেরোইন, তিন কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৬টি মামলা করা হয়েছে।

তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
আজ শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। আজ ও আগামীকাল শনিবার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।
নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে হয়রানি বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১২ মার্কিন সিনেটরের চিঠি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই মামলার কাগজপত্র দেখে আমি যতদূর জানি, আদালতে সুষ্ঠুভাবেই বিচার হয়েছে। আমি এরচেয়ে বেশি কিছু বলব না। কারণ যিনি এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি নিশ্চয় আপিল করবেন। সেজন্য মামলায় কোনো প্রভাব পড়ুক সেটা আমি চাই না।
এ সময় আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারোয়ার, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সুপার সিক্স নিশ্চিতের লক্ষ্যে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তলার মিশনে নেমেছে বাংলাদেশ। তবে এ টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের দলের সূচনাটা ভালো হয়নি, প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় ভারতের কাছে। এরপর অবশ্য আয়ারল্যান্ডজকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। আর সুপার সিক্স নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে মাহফুজুর রহমান রাব্বির দল।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খায় জুনিয়র টাইগাররা। ভারতের কাছে বাজেভাবে হেরে যায় শিবলিরা। তবে এরপর আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ঘুরে দাড়ায় রাব্বির দল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে জিইয়ে রাখে সুপার সিক্সের আশা।

আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে পারলেই সুপার সিক্স নিশ্চিত হবে টাইগারদের। তবে শেষ পর্যন্ত জয় না পেলেও পরের পর্বে খেলার সুযোগ থাকবে লাল-সবুজের দলের। তবে সে ক্ষেত্রে মিলতে হবে নানান সমীকরণ।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ একাদশ
আশিকুর রহমান শিবলী, আদিল বিন সিদ্দিক, চৌধুরী মো. রিজওয়ান, আরিফুল ইসলাম, আহরার আমিন, মো. শিহাব জেমস, মাহফুজুর রহমান (অধিনায়ক), শেখ পাভেজ জীবন, মোঃ রাফি উজ্জামান রাফি, মো. ইকবাল হাসান ইমন, মারুফ মৃধা।
যুক্তরাষ্ট্র অনূর্ধ্ব-১৯ একাদশ
প্রণব চেট্টিপালায়ম, ভব্য মেহতা, সিদ্ধার্থ কাপা, ঋষি রমেশ (অধিনায়ক), উৎকর্ষ শ্রীবাস্তব, অমোঘ আরেপলি, পার্থ প্যাটেল, খুশ ভালালা, অরিন নাদকার্নি, অতেন্দ্র সুব্রামানিয়ান ও আর্য গর্গ।

গাজা নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপে যাচ্ছেন সিআইএ প্রধান

সিআইএ পরিচালক ইসরায়েলের ও মিশরের গোয়েন্দা প্রধানদের সাথে সাক্ষাত করতে ইউরোপে যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান লড়াইয়ের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়, উইলিয়াম বার্নস আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই সফর করবেন। তাদের সাথে কোথায় তিনি আলোচনায় বসবেন সেই ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং হোয়াইট হাউস উভয়ই তার সফরের খবরটি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি স্মরণ করে দেন জিম্মি মুক্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনায় বার্নস জড়িত ছিলেন। গত নভেম্বরের শেষের দিকে এই বৈঠক হয়। জিম্মি মুক্তির প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠেয় আরেকটি আলোচনায় তিনি অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে এই মুখপাত্র ইঙ্গিত দেন।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি পালনকালে উভয় পক্ষের মধ্যে জিম্মি ও বন্দি বিনিময় করা হয়। এ সময় ইসরায়েলের ২৪০ ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে হামাস প্রায় ১০০ জনকে মুক্তি দেয়।
এএফপির খবরে বলা হয়, কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে রয়েছেন।
অ্যাক্সিওস জানায়, সকল জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েল হামাসকে গাজায় লড়াইয়ে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি পালনের প্রস্তাব দিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, হামাস গাজা উপত্যকায় ১৩২ জনকে জিম্মি করে রেখেছে। এদের মধ্যে ২৮ জন প্রাণে বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপিই এখন দেশে ডামি বিরোধী দল হয়ে গেছে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিই এখন দেশে ডামি দল হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে দলটির আর কোনো আশা নেই। শোকে শোকে তারা পাথর হয়ে গেছে। তারা আন্দোলন করবে জনতার ঢল নামবে এসব শুনে ঘোড়াও হাসে। নিজেদেরকে নিজেরাই ভুয়া বানিয়ে ফেলছে বিএনপি।
আজ শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তাদের এখন আর কোনো আশা নেই। নির্বাচন না করে তারা কত বড় ভুল করেছে, তা অচিরেই বুঝতে পারবে। দাবি করা হচ্ছে— বিএনপির ২৫ হাজার নেতাকর্মী জেলে আছে। যারা ট্রেনে আগুন দিয়েছে, বাসে আগুন দিয়েছে, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা করেছে; তারাই জেলে গেছে। এরা আইনের সাথে ফেস করুক।
আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, নির্মল কুমার চ্যার্টাজী। এ ছাড়া ঢাকা ১০ আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ।