শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

‘বিগবস-১৭’ শো’য়ের বিজেতা মুনাওয়ার ফারুকী

বিগবস সিজন ১৭ এর বিজয়ী হলেন মুনাওয়ার ফারুকী। ১৫ সপ্তাহের চড়াই উতরাই পার করে অবশেষে সালমান খানের হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করলেন তিনি। ফাইনালে মুনাওয়ার ফারুকীর বিপরীতে ছিলেন অভিষেক কুমার। টায় টায় টক্কর হয়েছিল দু’জনের মধ্যে। সিজনের শুরু থেকেই দুই ফাইনালিস্ট তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন। প্রতিটা খেলায় খুব ভালো করে সম্পাদন করে তারা। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোটিংয়ে অভিষেক কুমারকে হারিয়ে শো জিতেছেন মুনাওয়ার!
মুনাওয়ার ফারুকি এবং অভিষেক কুমার সালমান খানের সাথে মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’জনের হাত ধরে রেখেছিলেন সালমান। ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, কে জিতবে? কার হাত উপরে তুলবেন বলিউডের ভাইজান! অবশেষে ‘লক-আপ’ জেতার পর, আরেকটি রিয়েলিটি শোয়ের ট্রফি ঘরে নিলেন মুনাওয়ার ফারুকী। বিগ বস ১৭ জেতার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুড়ে সকলে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

বিজয়ী হওয়ায় ৫০ লাখ রুপি এবং একটি দামি গাড়ি জিতেছেন তিনি। এছাড়াও শো-তে টিকে থাকার জন্য সপ্তাহ প্রতি ৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ১.১ কোটি জিতেছেন তিনি।

অভিষেক ট্রফি না জিতলেও শোতে তার খেলা দিয়ে সকলের মন জয় করেন তিনি। অপরদিকে, শো’তে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বোন মানারা চোপড়া। মজার ব্যাপার হলো এই সিজনের ৩ জন ফাইনালিস্ট খুবই ভালো বন্ধু। এর ঠিক কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়া বিগবস ওটিটি সিজন ২তেও কিছুটা এরকম চিত্রই ছিল। বিজয়ী এলভিশ যাদব, ২য় স্থান অধিকারী অভিষেক মালহান এবং ৩য় স্থান অধিকারী মনীষা রানিও খুব ভালো বন্ধু ছিল।
৩২ বছর বয়সী মুনাওয়ার পেশায় মূলত স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান। তবে তার পাশাপাশি তিনি গান ও র‌্যাপ করেন। বিগবস হাউজ থেকে বের হয়ে মিউজিক ভিডিও এবং র‌্যাপ করায় মনোযোগী হবেন বলে জানান বিগবগ সিজন ১৭-র বিজয়ী।

পুলিৎজার জয়ী এন স্কট মোমাডে আর নেই

পুলিৎজার জয়ী আমেরিকান ঔপন্যাসিক এন স্কট মোমাডে ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি একজন গল্পকার, কবি, শিক্ষাবিদ এবং লোকসাহিত্যিক ছিলেন।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোমাডে বুধবার নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে তার বাড়িতে মারা যান। প্রকাশক হারপারকলিন্স তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে মঙ্গলবার মারা গেছেন বলে জানান তিনি।
মোমাডের সম্পাদক জেনিফার সিভিলেটো এক বিবৃতিতে বলেন, স্কট একজন অসাধারণ ব্যক্তি, কবি ও লেখক ছিলেন। তিনি আমেরিকান সাহিত্যে একক কণ্ঠস্বর ছিলেন। তার সাথে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। কিওওয়া ঐতিহ্য তার কাছে গভীরভাবে অর্থবহ ছিল এবং তাদের জন্য কাজ করেছেন। তিনি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় আমেরিকান সংস্কৃতি, বিশেষ করে মৌখিক ঐতিহ্য লালন ও সংরক্ষণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯৬৮ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘হাউস মেড অফ ডন’ সমসাময়িক আমেরিকান সাহিত্যের সূচনালগ্ন হিসেবে ব্যাপকভাবে কৃতিত্বপূর্ণ। হাউস মেড অফ ডনে একজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিকের কথা বলা হয়েছে যে দেশে ফিরে আসে এবং ফিরে আসার জন্য লড়াই করে। বইটির বেশিরভাগ অংশ নিউ মেক্সিকোতে মোমাডেয়ের শৈশব এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির দ্বন্দ্বের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছিল।
পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তিনি স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে ‘অ্যাঙ্গেল অফ গিজ অ্যান্ড আদার’, ‘ দ্য ওয়ে টু রেনি মাউন্টেন’ এবং ‘দ্য অ্যানসিয়েন্ট চাইল্ড’ উপন্যাস উল্লেখযোগ্য।
২০০৭ সালে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ স্থানীয় আমেরিকান শিল্প ও মৌখিক ঐতিহ্যকে উদযাপন ও সংরক্ষণ করা নিয়ে লেখালেখির জন্য মোমাডেকে ‘মেডেল অফ আর্টস’ প্রদান করেন। পুলিৎজার ছাড়াও তিনি আমেরিকান কবিদের অ্যাকাডেমি পুরস্কার এবং ডেটন সাহিত্য শান্তি পুরস্কারে ভূষিত ছিলেন।
তিনি ওকলাহোমার লটনে নাভারে স্কট ম্যামেডেটি জন্মগ্রহণ করেন এবং কিওওয়া উপজাতির সদস্য ছিলেন। তার মা একজন লেখক এবং তার বাবা একজন শিল্পী ছিলেন।

দাতা দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জাতিসংঘ প্রধান

জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান দাতাদেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিওএ) ১২ কর্মীর বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবর হামাসের চালানো হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর মঙ্গলবার তিনি এ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তার মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে ইতোমধ্যে এ অভিযোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, জাপানসহ কয়েকটি দাতা দেশ এ সংস্থায় সহায়তা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সোমবার বলেছেন, ইউএনআরডব্লিওএর কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠায় মহাসচিব ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত।

তিনি আরও বলেছেন, কিন্তু দাতাদের কাছে বিশেষ করে যারা সহায়তা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে তাদের প্রতি তার বার্তা হলো অন্তত ইউএনআরডব্লিওএর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। কারণ এ অঞ্চলে জাতিসংঘের হাজার হাজার নিবেদিত কর্মী কাজ করছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সোমবার গুতেরেস জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইউএনআরডব্লিওএ বলেছে, অভিযোগের বিষয়ে তারা দ্রুতই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তহবিল স্থগিতে সমস্যায় পড়বে সাধারণ ফিলিস্তিনি জনগণ।

ইজতেমায় মুসল্লিদের উদ্দেশে পুলিশের ১১ নির্দেশনা

আগামী ২-৪ ফেব্রুয়ারি এবং ৯-১১ ফেব্রুয়ারি দুই পর্বে টঙ্গীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইজতেমায় আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উদ্দেশে ১১টি নির্দেশনা দিয়ে সেগুলো মেনে চলতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি ১১টি নির্দেশনা তুলে ধরেন।

নির্দেশনাগুলো হলো—
>> ইজতেমায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা নেবেন।
>> নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান করবেন এবং অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং কোনো পোটলা, ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি দেখামাত্র তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করবেন।

>> টাকা, মূল্যবান সামগ্রীসহ একাকী বিক্ষিপ্তভাবে ঘোরাফেরা করবেন না এবং সবসময় টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিজ হেফাজতে রাখবেন। টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি বা হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করবেন।
>> হকার ও ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির কবলে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
>> মুসল্লিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের সুবিধার্থে ইজতেমা চলাকালে প্রধান সড়কসমূহ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাঁবু খাটাবেন না কিংবা অন্য কোনোভাবে সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ব্যবহার করবেন না।
>> অসুস্থ হলে ইজতেমার জন্য নির্ধারিত অস্থায়ী হাসপাতাল ও নিকটবর্তী হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নেবেন।
>> গুজব শুনলে বা কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ঘটলে ধৈর্য ধরে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করবেন।

>> ট্রেনে নাশকতা সম্পর্কে তথ্য জানতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটবর্তী থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানাবেন।
>> রান্না করার সময় আগুন থেকে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। খিত্তা এলাকায় বা নিজেদের অবস্থানস্থলে ধূমপান করবেন না। খিত্তায় সবসময় পানি মজুত রাখবেন।
>> ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা মহানগরীর প্রগতি সরণি থেকে টঙ্গী ফ্লাইওভার পর্যন্ত, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী ফ্লাইওভার থেকে চৌরাস্তা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রধান সড়কের ৫০ গজের মধ্যে মাইক লাগাবেন না।
>> জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ট্রেনে কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে চলাচল করবেন না।
জরুরি প্রয়োজনে ইজতেমাস্থলের নিকটস্থ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে—
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ : উপ-পুলিশ কমিশনার, উত্তরা- ০১৩২০-০৪১৭৪০, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট)- ০১৩২০-০৪১৭৪১, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণখান)- ০১৩২০-০৪১৭৪২, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তরা)- ০১৩২০-০৪১৭৪৩, সহকারী পুলিশ কমিশনার (উত্তরা)- ০১৩২০-০৪১৭৫৪, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট)- ০১৩২০-০৪১৭৫৭, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তরা পশ্চিম জোন)- ০১৩২০-০৪৩৯৫৫, অফিসার ইনচার্জ, উত্তরা পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৪১৭৮৯, অফিসার ইনচার্জ, উত্তরা, পশ্চিম থানা- ০১৩২০-০৪১৮১৭, অফিসার ইনচার্জ, তুরাগ থানা- ০১৩২০-০৪১৮৪৫, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম- ০১৭১১-০০০৯৯০।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ : উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ)- ০১৩২০-০৭০৩৩০, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ)- ০১৩২০-০৭০৬৪১, সহকারী পুলিশ কমিশনার (টঙ্গী জোন)- ০১৩২০-০৭০৬৫৮, অফিসার ইনচার্জ, টঙ্গী পশ্চিম থানা- ০১৩২০-০৭০৭৫১, ডিউটি অফিসার, টঙ্গী পশ্চিম থানা- ০১৩২০-০৭০৭৫৯, অফিসার ইনচার্জ, টঙ্গী পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৭০৭২২, ডিউটি অফিসার্র, টঙ্গী পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৭০৭৩০, ডিউটি অফিসার্র, টঙ্গী পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৭০৭৩০, ইজতেমা কন্ট্রোল রুম (হটলাইন)- ০১৩২০-০৭২৯৯৯, কন্ট্রোল রুম, জিএমপি- ০১৩২০-০৭২৯৯৮, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম-০১৩২০-০৭১২৯৮।
র‌্যাব : র‌্যাব-১ কন্ট্রোল রুম- ০১৭৭৭৭১০১৯৯, র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্স কন্ট্রোল রুম- ০১৭৭৭-৭২০০২৯ এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

বিএনপির কালো পতাকা মিছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির কালো পতাকা মিছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। এ ধরনের কর্মসূচির নামে সহিংসতা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির কালো পতাকা কর্মসূচিকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। এ কর্মসূচী প্রত্যাহার করা না হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পাহারায় যাবে আওয়ামী লীগ। সহিংসতা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, ত্রুটিমুক্ত গণতন্ত্র কোথাও নেই। আমাদের গণতন্ত্র রাতারাতি ত্রুটিমুক্ত হবে না। বিএনপি দেশে যে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে তা গণতন্ত্রকে কণ্টকাকীর্ণ করেছে। যারা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা কেউ ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন বলেনি। খোদ যুক্তরাষ্ট্রও বলেনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে একটা প্রতিক্রিয়া ছিল ওয়াশিংটনের। কিন্তু ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার কথা বলেছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। সরকারি দল বলে কি নিয়ম মানব না?
টিআইবি বলছে এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ৪ নম্বরে আছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, টিআইবি তো বিএনপির দালাল, বিএনপি যা বলে টিআইবিও তা বলে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু রাজনৈতিক ইন্টারেস্ট আছে। বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব সেখানে অবস্থানগতভাবে কোনো কোনো জোট বা দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের পাহারাদার এসব প্রতিষ্ঠান। ওখানে কারো স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এসব কমেন্ট করা হয়। এসব অপবাদ দেওয়া হয়। এটা অতীতেও দেওয়া হয়েছে। আমরা এগুলোর পরোয়া করি না।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাজ জনস্বার্থে করে যাচ্ছি। দুর্নীতি, করাপশন ইজ ওয়ে অব লাইফ অ্যাক্রোস দ্য ওয়ার্ল্ড নাও। এটা বাংলাদেশের ব্যাপার নয়, সারা বিশ্বেই আছে কমবেশি। কিন্তু যেভাবে অপবাদটা বাংলাদেশ নিয়ে দেওয়া হয়, এটা মোটেও সত্য নয়।
‘মন্ত্রিসভার কলেবর বড় হচ্ছে কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা বাড়তে পারে একটু। কারণ এখানে রিজার্ভ সিটগুলো, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত যে আসন সে আসনে নির্বাচন শেষ হলে সেখান থেকেও যুক্ত হতে পারে। এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যদি আরও ইচ্ছা করেন তিনি যুক্ত করতে পারেন।
আজকের বিশ্ব পরিস্থিতি পৃথিবীময় অর্থনীতির ওপর চরম আঘাত এনেছে জানিয়ে কাদের বলেন, আজকে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও দ্রব্যমূল্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করি জনগণের সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন ও আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই : গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, আমার পরিকল্পনা খুব সিম্পল। আমি দক্ষতা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। এটাই আমার চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আস্থা রেখে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন, এই দায়িত্ব পালনে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি যদি কোনো অপরাধমূলক কাজ করি, সেটা অবশ্যই আপনারা হিসাবে নেবেন। কিন্তু আমি বারবার অপতথ্যের শিকার হই, সেটা যাতে না হয় সেই বিষয়ে বিনীত অনুরোধ রাখব। আমি নাসিরনগর ও হেফাজতে ইসলাম নিয়ে অপতথ্যের শিকার হয়েছি।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আমি যদি অপরাধমূলক কাজ করি, নিশ্চয়ই আমাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা না। আমার পেরিফেরিতে যদি অন্য কেউ অপরাধমূলক কাজ করে, আপনারা যদি তুলে ধরেন, আমার জন্য সুবিধা হবে। আমি সেটা সংশোধনের চেষ্টা করব।

মোকতাদির চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জিরো টলারেন্স। আমরাও বলছি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কোনো টলারেন্স নাই, দেখেন আপনি। কিছুদিন দেখেন, আমার নজরে আসুক দুর্নীতি। সচিব আমার পাশে আছেন, আমরা কেউই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হবো না, অন্যদেরও অবগাহন করতে দেবো না, নিশ্চিত থাকেন।
আপনি আপনার মন্ত্রণালয়ের কোন কোন জায়গায় আলো ফেলতে চান- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেখানে হাত দেওয়া দরকার, সব জায়গায় আমি হাত দেওয়ার চেষ্টা করব আমার সাধ্য অনুযায়ী।
বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে স্থাপনা করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আপনার অবস্থান কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, কাজে লাগে না, এমন কাজ যদি করে থাকে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সেগুলো যাতে কাজে লাগানো যায় সেই চেষ্টা করব।
একটি নিউজ এসেছে ‘প্লট-ফ্ল্যাট ভাগাভাগিতে সচিব ও চেয়ারম্যান’। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, মাত্র তো খবর হয়েছে। খবরটা আমি পড়ে, অনুসন্ধান করে দেখি, এর সত্যতা আছে কি না। সত্যতা থাকলে এর যাতে প্রতিকার হয়, সেটার চেষ্টা করব।

‘রাজউকে ঘুস ছাড়া ফাইল নড়ে না’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সেই বিষয়ে আমরা নজর দেব। সেই বিষয়ে আপনি নিশ্চিত থাকেন।
ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেবেন- জানতে চাইলে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একত্রে কাজ করব। পরিবেশের দূষণ হয়, এমন কোনো কাজের সঙ্গে আমার মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করতে চাই না।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে অনিয়মসহ সেখানকার নানা অসঙ্গগতি খতিয়ে দেখবেন জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করে, প্রয়োজনবোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যদি অনিয়মগুলো দূর করা সম্ভব হয়, সেটা আমরা করবো। আমাকে সময় দেন, আমি করবো ইনশাআল্লাহ।
গ্রাম ধ্বংস করে নগরায়ন করা হলে, সেটি কতটা চ্যালেঞ্জ হবে আপনার জন্য- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি চেষ্টা করব এবং অচিরেই স্থানীয় সরকার, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে আমরা বসবো। আগামী বা পরের সপ্তাহে আমরা একটা সভা করব।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের ১ মাস না হতেই সমস্যা, সৌরভের বিরুদ্ধে দর্শনার অভিযোগ!

গত বছরে যেকটি বিয়ে হয়েছে টলিউডে তার মধ্যে সৌরভ দাস এবং দর্শনা বণিকের বিয়েটা ছিল সবথেকে চমকপ্রদ। দুজনের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। কিন্তু হঠাৎ করেই বিয়ে সেরে নিয়ে সকলকেই চমকে দেন দুজনে। বেশ ধুমধাম করে কার্যত রাজকীয় ভাবে বিয়ে সেরেছিলেন সৌরভ দর্শনা। সাবেকি বিয়ের সাজে চোখ ধাঁধানো আসরে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা। ভিন্টেজ গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়িতে পা রেখেছেন দর্শনা।
গত ১৫ ডিসেম্বরে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। বিয়ের পরপরই অন্যান্য তারকারা সাধারণত চলে যান ঘুরতে। হানিমুন পর্ব মিটিয়ে কাজে যোগ দেন নবদম্পতি। কিন্তু সৌরভ দর্শনা এখানেও ব্যতিক্রম। বিয়ের রীতি নিয়ম মিটতেই দুজনে দুজনের মতো ব্যস্ত হয়ে যায় নিজেদের কাজে। সম্প্রতি হইচই এক প্রশ্নোত্তরে উঠে আসে সৌরভের প্রসঙ্গ। দাম্পত্য সঙ্গীর কোন স্বভাব ভালো আর কোনটা খারাপ, এই প্রশ্নের উত্তরে দর্শনা জানান, সৌরভ যখনি কোনও কাজ করেন তাতেই নিজের সবটুকু মনোযোগ দিয়ে ফেলেন। সেটাই ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে তাঁর। নিজের আশপাশের আর কোনো কিছুই তখন তাঁর চোখে পড়ে না।

দর্শনা আরো বলেন, যখন ক্যাফে শুরু করেছিলেন, তখন ওটাই ধ্যানজ্ঞান হয়ে উঠেছিল সৌরভের। এটা যেমন একদিকে তাঁর ভালো দিক, আবার খারাপ দিকও বটে, বক্তব্য দর্শনার। তবে বরকে অবশ্য দশে পুরো দশ নম্বরই দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন তো নতুন নতুন, তাই সবকিছুই ভালো লাগছে।
প্রসঙ্গত, দর্শনা এর আগে জানিয়েছিলেন যে ২০২২ সাল থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত। যতদিন না দুজনেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন ততদিন পর্যন্ত সম্পর্কটা আড়ালেই রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজে লিভ ইনে বিশ্বাসী নন। সৌরভ অবশ্য এর আগে অভিনেত্রী অনিন্দিতা বসুর সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু সে সম্পর্ক টেকেনি। দর্শনার সঙ্গে বিয়ের পর এখন তাঁরা চেতলার ফ্ল্যাটে থাকেন। আর সৌরভের বাবা, মা, বোন থাকেন বেহালার ফ্ল্যাটে।

বিমানে কিছু সমস্যা আছে, চিহ্নিত করেছি : বিমানমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কিছু সমস্যা আছে উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান জানিয়েছেন, সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।
বিমানের দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অভিযোগ আছে। সিট খালি থাকলেও বলা হয় টিকিট নেই। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিমানের অব্যবস্থাপনা কতটা আছে, সেটা আরও খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আমি মনে করি, বিমান বেশ ভালোই চলছে, লাভজনকভাবে চলছে এবং যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনারা যদি বিমানকে নিয়ে খুব বেশি আশা পোষণ করেন, এমিরেটস বা তাদের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে কিন্তু সঠিক হবে না। লিমিটেড এয়ারক্রাফ্ট নিয়ে চলতে হয়। এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল সমস্যা মাঝে-মধ্যে হয়ে যায়। তাছাড়া শীতকালে কুয়াশার কারণে সমস্যা হয়। এগুলোকে আপনাদের মনে রাখতে হবে। এগুলোর জন্য অনেক সময় দেরি হয়, যাত্রায় অন্যান্য সমস্যাগুলো তৈরি হয়। এর মধ্যেও বিমান চেষ্টা করে যাচ্ছে আরও উন্নতি করার। নতুন বিমান কেনার ব্যাপার নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমানের মধ্যে কিছু সমস্যা তো আছেই। সেই সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছি। বেশ কিছু লোককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, কিছুদিন আগে দুইজন পালিয়ে গেছেন। তাদের ব্যাপারে আমরা কঠোর অ্যাকশনে গিয়েছি। যে বাংলাদেশে আছে, তাকে আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর যিনি কানাডায় পালিয়ে গেছেন, ইতোমধ্যে তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্নীতির ব্যাপার আছে, এগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
থার্ড টার্মিনালের নতুন করে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। আপনি নতুন করে বাজেট বাড়ানোকে যৌক্তিক মনে করেন কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না সেটা তো প্রত্যেকেই দেখছেন। আমাদের সঙ্গে এটা নিয়ে যখন আলোচনা হবে, তখন আমরা দেখব যে বাজেট বাড়ানো লাগবে কি না। নতুন নতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে, তো সেখানে হয়তো বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
প্রবাসী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা কাউন্টারের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।

‘নিউরালিংক প্রথম রোগীর মস্তিস্কে ইমপ্লান্ট ইনস্টল করে সাফল্য পেয়েছে’

ইলন মাস্ক মঙ্গলবার বলেছেন, প্রথম একজন রোগীর মস্তিস্কে তার নিউরালিংক স্টার্টআপ ইমপ্লান্টের প্রাথমিক ফলাফলে এর সাফল্যের ‘সম্ভাবনা’ জাগিয়ে তুলেছে।
২০১৬ সালে মাস্ক সহ-প্রতিষ্ঠিত নিউরোটেকনোলজি কোম্পানির লক্ষ্য মস্তিস্ক এবং কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের চ্যানেল তৈরি করা। সাতজন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এবং ইলন মাস্ক কোম্পানিটির প্রতিষ্টায় জড়িত ছিলেন।
কোম্পানির উচ্চাকাক্সক্ষা হল মানুষের ক্ষমতাকে সুপারচার্জ করা, এএলএস বা পারকিনসন্সের মতো স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসা করা এবং হয়তো একদিন মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে একটি সিম্বিওটিক সম্পর্ক অর্জন করা।
মাস্ক এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, ‘প্রথম এক ব্যক্তি গতকাল নিউরালিংক থেকে একটি ইমপ্লান্ট পেয়েছিল এবং সে সুস্থ হয়ে উঠছে।’

তিনি বলেন,‘প্রাথমিক ফলাফলগুলোতে দেখা যায় এটি নিউরন কার্যক্রমে সংযুক্ত হতে পেরেছে।’
স্টার্ট-আপটি গত বছর বলেছিল, এটি মানুষের মধ্যে মস্তিস্কের প্রতিস্থাপন পরীক্ষা করার জন্য মার্কিন নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে।
নিউরালিংকের প্রযুক্তি প্রধানত ‘লিঙ্ক’ নামক একটি ইমপ্লান্টের মাধ্যমে কাজ করবে, এতে মুদ্রার আকারের একটি ডিভাইস চামড়ার নিচে স্থাপন করা হয়। এটি স্থাপনে মাথার খুলি কাটার প্রয়োজন হয় না।

অচিরেই আমরা এই সংকট সমাধান করবো : পরশ

দ্রব্যমূল্যের সমস্যা সমাধান করে জীবনমান উন্নত করা আওয়ামী লীগ সরকারের মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে এবং শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখতে হবে। অচিরেই আমরা এই সংকট সমাধান করবো।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কালাচাঁদপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন-ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখলে বোঝা যায়, এদেশে যখনই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তখনই দেশের উন্নয়ন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। প্রধামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রথমে ছিল, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। সেই ধরাবাহিকতায় মন্ত্রীসভার বৈঠকে দ্রব্যমূল নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে তিনি গত পরশু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের তাগাদা দিচ্ছেন এবং তাদের কাজের তদারকি করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের সমস্যা সমাধান করে আপনাদের জীবনমান উন্নত করা। সেই লক্ষেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে; আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যার উপর আস্থা রাখতে হবে। অচিরেই আমরা এই সংকট সমাধান করবো।
তিনি আরও বলেন-আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে বিএনপির সময় কি দুরাবস্থা ছিল আমাদের সামগ্রিক জীবনে। মানুষের ভাত এবং কাপড়ের সমস্যাতেই সাধারণ মানুষ জর্জরিত থাকত। গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সারের জন্য মানুষের উপর গুলি চালানো হয়েছিল বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে। চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি লেগেই ছিল। মানুষের জীবনে কোন নিরাপত্তা ছিল না, ছিল না মানুষের অধিকার। গরিব-দুঃখী মানুষ নিয়ে তাদের কোনদিনই কোনর মাথা ব্যাথা ছিল না। তিনি বলেন-অগ্নিসন্ত্রাস করে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার দল বিএনপি। তারেক এবং খালেদা জিয়ার নির্দেশেই যে অগ্নিসন্ত্রাস চালানো হয় তা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের মাধ্যমে এবং তাদের ধৃত নেতা-কর্মীদের স্বীকারোক্তি থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সেই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকালে অগ্নিদগ্ধ ও আপনজন হারা স্বজনদের ব্যাথা এখনো মানুষের মনে দাউ দাউ করে জ্বলে। বিএনপি জানে, তাদের জন্য মানুষের শুধু মাত্র ঘৃণাই রয়েছে; মানুষ তাদের বিশ্বাস করে না। তাই তারা নির্বাচনে যেতে ভয় পেয়েছে, কারণ তারা জানে যে এই অপরাধী বিএনপিকে মানুষে কোনদিনও ভোট দেবে না। সে অপরাধবোধ থেকে মানুষের সামনে ভোট চাইতে যেতে ভয় পেয়ে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। তিনি বলেন-যখনই এদেশের মানুষের জীবনে উন্নতি হয়েছে অথবা আরও অধিকতর উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তখনই এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে বিএনপি-জামাত। আজকেরও তাদের এই কালো পতাকা মিছিল তাদের কু-মতলবের আভাস বহন করে এবং একটা অশনি সংকেতের ইঙ্গিত বহন করে। আবারো কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পায়তারা করছে কিনা সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন-ঠিক যখন আওয়ামী লীগ সরকার দারিদ্র দুর করে এদেশের মানুষের মুখে দুবেলা ভাতের ব্যাবস্থা নিশ্চিত করছে, ভূমিহীনদের বিনামূল্যে জমি, ঘর ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, ঠিক তখন বিএনপি-জামাত এই সকল অশুভ পায়তারা শুরু করেছে। দারিদ্রের ভাগ ৪০ থেকে ১৮ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। যখন প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে আলোকিত করেছে বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার। যখন আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে, ঠিক তখন ওরা আবার জনবিরোধী কার্যকলাপ করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন-বর্তমান যুবলীগের অন্যতম লক্ষ্য রাষ্ট্রের মানবিক ধারাকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং গণমানুষের সুখে-দুঃখে সাথি থাকা। এ লক্ষ্যে যবুলীগ ইতোমধ্যে বেশ কিছু মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে যার একটি সামান্য প্রয়াস আজকের এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। যুবলীগের সকল নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন-ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ এনামুল হক খান, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. গোলাম কিবরিয়া শামীম, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মোঃ শামছুল আলম অনিক, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক সফেদ আশফাক আকন্দ তুহিন, উপ- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।