শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

ইজতেমায় আরো ৪ মুসল্লির মৃত্যু

বিশ্ব ইজতেমায় আরো চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯ জনে। এর মধ্যে ইজতেমা ময়দানে মারা যান ১৪ জন, ময়দানে আসার পথে একজন পুলিশ সদস্যসহ মৃত্যু হয় ছয়জনের।

ইজতেমা ময়দানে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার সানোয়ার হোসেন (৬০), চট্টগ্রামের আলম (৫৬), নরসিংদীর শাহনেওয়াজ (৬০) সিরাজগঞ্জের আল মাহমুদ(৭০), শেরপুরের নওশের আলী (৬৫), ভোলার আ. কাদের (৫৫) ও নেত্রকোনা সদরের কালিয়াঝুড়ি এলাকার হোসেন আহম্মদের ছেলে স্বাধীন (৪৫), নেত্রকোনা থানার কুমারী বাজার গ্রামের আবদুস সাত্তার (৭০), একই জেলার বুড়িঝুড়ি গ্রামের স্বল্পদুগিয়া গ্রামের এখলাস মিয়া (৬৮), ভোলার শাহ আলম (৬০), জামালপুরের পাকুল্লা গ্রামের মতিউর রহমান (৬০), টঙ্গীর আ. জব্বার (৫৫)।

আরেক জনের পরিচয় জানা যায়নি।

ময়দানে আসার সময় মারা যাওয়া ছয়জন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ধামাউরা গ্রামের ইউনুছ মিয়া (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চৌহদ্দীটোলা গ্রামের জামান মিয়া (৪০), ইজতেমায় আসার পথে বাসচাপায় পুলিশ সদস্য হাসান উজ্জামান (৩০) মারা যান, শেরপুরের আমেলা খাতুন (৬০), ঢাকার মিরপুর সাড়ে এগারোর বাসিন্দা মোবাশ্বের আহমেদ (৬৮)। আর একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সেলের প্রধান মো. হাবিবুল্লাহ রায়হান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের ঘোষণা সৌদির

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সৌদির ইংরেজি দৈনিক আরব নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদির রাষ্ট্রদূত ইসা আল-দুহাইলান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

যেখানে সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা আল-দুহাইলান বলেন, দুবছর আগে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় সৌদি আরব সরকার বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের কাজে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে কোনও মেডিকেল কর্মী নিয়োগ করেনি। তবে বর্তমানে আমরা তাদের নিয়োগ শুরু করেছি। কারণ তারা ইতোমধ্যে আমাদের মানদণ্ডে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা ইনশাআল্লাহ, অদূর ভবিষ্যতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। এটা কেবল বাজারকে শুরু করার প্রক্রিয়া এবং কেমন চলে তা দেখার জন্য।

সৌদি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল গত বছর দুবার বাংলাদেশ সফর করেছে। তারা আরও চিকিৎসাকর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সফর অব্যাহত রাখবে। সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া পরবর্তী দলে নার্সরা থাকবে।

এ বিষয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খায়রুল আলম বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের ১৫০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত নার্স পাঠাতে বলেছিল। আমাদের মন্ত্রণালয় এখন শর্তগুলো যাচাই-বাছাই করছে। যেমন বাংলাদেশি নার্সদের কোথায় নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা সরকারি হাসপাতাল বা বেসরকারি স্বাস্থ্য সুবিধায় নিয়োগ পাবে কি না, ইত্যাদি। যেহেতু এটা নতুন খাত তাই সরকার এখন চিকিৎসকদের নিয়োগের জন্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে।

খায়রুল আলম বলেন, আমরা সৌদি আরবের সর্বশেষ এ পদক্ষেপ, বাংলাদেশি স্বাস্থ্য খাতের কর্মী নিয়োগের বিষয়টিকে স্বাগত জানাই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর মাঝে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র কয়েক ডজন। এর আগে ২০২২ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে উভয় দেশের মাঝে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশি চিকিৎসাকর্মীদের একটি দল সৌদি আরবে যান।

আখেরি মোনাজাত শেষে সড়কে মানুষের স্রোত

তুরাগতীরের ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন লাখো মুসল্লি। হাট-ঘাট মাঠ যে যেখানে রয়েছেন সেখানই এই মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন মানুষ। এখন সবাই ঘরমুখি হয়েছেন। এতে সড়কে স্রোত নেমেছে মানুষের। গাড়ির সংখ্যা অপ্রতুল এবং মোনাজাতের সুবিধার জন্য গাড়ি প্রবেশ করতে না দেওয়ায় এতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় আশ-পাশ সড়কে অবস্থান নিয়েছেন অপেক্ষামান যাত্রীরা। তবে অনেকেই গাড়ির অপেক্ষা না করে পায়ে হেটে রওনা দিয়েছেন।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় মোনাজাত শেষ হয়।। এর পরেই সড়ক, ট্রেন এবং নৌপথে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে কয়েকদিন আগে থেকেই মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন ইজতেমা মাঠে।

ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মোনাজাত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ এ তাৎপর্যপূর্ণ মোনাজাতে প্রায় ৪০ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ইজতেমার আয়োজকরা ধারণা করছেন।

এর আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় হেদায়েতী বয়ান। পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক হেদায়েতী বয়ান করেন। পরে ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা নসিহতমূলক কথা বলবেন। ইজতেমার প্রথম পর্বের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল ছুটেছে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে। আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে জানান, আখেরি মোনাজাতের পর মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় সাত হাজার পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে মুসল্লিদের বেশে খিত্তায় খিত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মুসল্লিরা যাতে খুব দ্রুত এবং নিরাপদে ময়দান ত্যাগ করতে পারেন সেজন্য বাস, ট্রেনসহ সব ধরনের যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে।

এবারের ইজতেমায় অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৭২ যুগলের যৌতুকবিহীন বিয়ে। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর যৌতুকবিহীন এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

লাখো মানুষের ইবাদত বন্দেগির মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ ছিল যৌতুকবিহীন এই বিয়ে। সম্পূর্ণ ইসলামি শরিয়া মোতাবেক তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী ইজতেমার বয়ান মঞ্চের পাশেই বসে যৌতুকবিহীন বিয়ের আসর।

বর-কনের সম্মতিতে উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই অভিভাবকরা হবু দম্পতিদের নাম তালিকাভুক্ত করান। বিয়ের পর বয়ান মঞ্চ থেকে মোনাজাত করে নবদম্পতিদের সুখ-সমৃদ্ধিময় জীবন কামনা করা হয়। এ সময় মঞ্চের আশপাশের মুসল্লিদের মাঝে খোরমা-খেজুর বিতরণ করা হয়।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বাদ আসর এই বিয়ে পড়ান ভারতের মাওলানা জোবায়রুল হাসান। বিয়েতে ‘মোহর ফাতেমী’র নিয়মানুযায়ী মোহরানা ধার্য করা হয়। সে অনুযায়ী মোহরানা ধরা হয় দেড় শ’ তোলা রুপা বা এর সমমূল্যের অর্থ।

বর বরিশালের ব্যবসায়ী ফাইজুল হক বলেন, তাবলিগ জামাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। খুব ইচ্ছে ছিল বিশ্ব ইজতেমায় এসে বিয়ে করার। আজ সেই আশা পূরণ হয়েছে।

চিলিতে দাবানলে ১০ জনের প্রাণহানি

চিলির মধ্যাঞ্চলীয় ভালপারাইসো এলাকায় দাবানলে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বনে লাগা এই আগুনের হুমকির মুখে পড়েছে শত শত বাড়িঘর। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে দেশটিতে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। পাশাপাশি তিনি এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগুন এখন ভিনা দেল মার ও ভালপারাইসো পর্যটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকার শত শত হেক্টর বন পুড়ে গেছে। আগুনের হাত থেকে বাঁচতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। চিলির জাতীয় বন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ভালপারাইসো এলাকাতেই ৪৮০ হেক্টর জমির সব গাছপালা পুড়ে গেছে।

গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড গরম ও খরার কারণে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। এলনিনোর প্রভাবসম্পন্ন এই আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এসব দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড তাপ প্রবাহ ও দাবানল।

সাম্প্রতিক সময়ে চিলি ও কলম্বিয়া অধিক তাপমাত্রা ও দাবদাহের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে আসছে। তবে সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের আবহাওয়া আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলেও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খবর এএফপি

লিভারপুলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এমবাপ্পের

কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেতে অনেক দলই চেষ্টা চালিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের মতো পিছু লেগে থাকেনি কেউ। মাদ্রিদ এখনও দৃশ্যপটে আছে। জানুয়ারির দলবদলে তাকে দলে না ভেড়ালেও মাদ্রিদের অপেক্ষা মৌসুম শেষের। ফরাসি ক্লাব পিএসজির সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হবে, মাদ্রিদ আবারও ঝাঁপিয়ে পড়বে ফরাসি তারকার জন্য।

এমবাপ্পে মাদ্রিদে আসবেন না পিএসজিতে থাকবেন— প্রশ্ন এটিই। এর মাঝে অনেকটা অনাহূত অতিথির মতো দৃশ্যপটে আসতে চেয়েছিল ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। মাদ্রিদ যেখানে এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি, সেখানে লিভারপুলের সুযোগ একেবারেই কম থাকার কথা। হয়েছেও তা-ই! খোদ এমবাপ্পেই মানা করে দিয়েছেন ইংলিশ ক্লাবটিকে।

গোল ডটকমে প্রকাশিত আজ শনিবারের (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন অনুসারে, এমবাপ্পেকে চেয়েছিল লিভারপুল। যদিও, আলোচনা বেশিদূর এগোতে দেননি এমবাপ্পে। মানা করে দিয়েছেন তাদের। এতে আবারও স্পষ্ট হলো, তিনি মাদ্রিদ কিংবা পিএসজির যে কোনো একটাকে বেছে নেবেন মৌসুম শেষে।

পিএসজি ইতোমধ্যে এমবাপ্পের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বলে দিয়েছে সিদ্ধান্ত যেটিই হোক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনের আগে জানাতে হবে ক্লাবটিকে। এখন পুরোটাই নির্ভর করছে এমবাপ্পের ওপর।

বিএনপি-জামায়াত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মদদ দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণকে সাবধানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের আখাউড়া বনগজ সেতু উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনগজ ঈদগাঁহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতারা হত্যা করে রাজনীতি করতেন। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে চিনে ফেলছে, তারা আর সেই খেলা খেলতে পারবেন না। এখন বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ৭ জানুয়ারি ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। এই জনপ্রতিনিধিরাই বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করবে, সেটাই ম্যান্ডেট এবং সেটায় হবে।

আনিসুল হক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত যদি সন্ত্রাস করতে চান, তারা যদি বাংলাদেশের অর্জন নষ্ট করতে চান তাহলে আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা কোনো সন্ত্রাস সহ্য করব না। আমরা উন্নয়নের পথে হাঁটছি আমাদেরকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। যারা পেছন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে তাদেরকে আমরা আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শানু মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল প্রমুখ।

দেশে আরও ২৫ জনের করোনা শনাক্ত

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৮ জনে।

এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৮২ জন অপরিবর্তিত রয়েছে।

আজ শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয় ৩৪০ নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুই দিন করোনায় সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।

ইজতেমায় আরও ৩ মুসল্লির মৃত্যু

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত ওই ৩ জন মারা যান।

তাদের জানাজার নামাজ ফজরের নামাজের পর ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় দিন সকাল পর্যন্ত একজন পুলিশ সদস্যসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ইজতেমা ময়দানে ৭ জন, ময়দানে আসার পথে একজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিয়ে মোট ১০ জন মারা গেছেন।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর জেলা সদরের জুগনিবাগ গ্রামের মৃত সমশের আলীর ছেলে নওশের আলী (৬৫), ভোলা জেলার পরাগগঞ্জ থানার সামানদার গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আ. কাদের (৫৫) ও নেত্রকোণা সদরের কালিয়াঝুড়ি এলাকার হোসেন আহম্মদের ছেলে স্বাধীন (৪৫)।

এর আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মারা যাওয়া চারজন হলেন নেত্রকোনা থানার কুমারী বাজার গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবদুস সাত্তার (৭০), একই জেলার বুড়িঝুড়ি গ্রামের স্বল্পদুগিয়া গ্রামের আব্দুস ছোবাহানের ছেলে এখলাস মিয়া (৬৮), ভোলা জেলার ভোল্লা গ্রামের নজির আহমেদের ছেলে শাহ আলম (৬০) ও জামালপুর জেলার তুলশীপুর এলাকার পাকুল্লা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মতিউর রহমান (৬০)।

এ ছাড়া ইজতেমা ময়দানে আসার সময় মারা যাওয়া তিনজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার ধামাউরা গ্রামের ইউনুছ মিয়া (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চৌহদ্দীটোলা গ্রামের জামান মিয়া (৪০), ইজতেমায় দায়িত্ব পালন করতে আসার পথে বাসচাপায় পুলিশের এএসআই হাসান উজ্জামান (৩০) শুক্রবার ভোরে মারা যান।

বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মো. হাবিবুল্লাহ রায়হান ও টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম তাদের মৃত্যুর বিষয় জানান।

খুব শিগগির বাংলাদেশ সফর করতে চান সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর ও প্রসারিত করতে খুব শিগগির বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোবিয়াস বিলস্ট্রম।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে তৃতীয় ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মিনিস্টেরিয়াল ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দেশটির আগ্রহের কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে অব্যাহত উন্নয়ন সহায়তার জন্য সুইডিশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার পরামর্শ দেন।

উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজায়নের পাশাপাশি ইউক্রেনের যুদ্ধসহ পারস্পরিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যার যার অবস্থান ব্যক্ত করেন।

উগ্র ইসরায়েলি বসতকারীদের নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পশ্চিম তীরের চরমপন্থী ও দাঙ্গার উসকানিদাতা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চায় কানাডা। দেশটির প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ওয়াটারলু শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘কানাডা পশ্চিম তীর অঞ্চলে সহিংসতার অবসান চায়। এজন্য এ পদক্ষেপটি আমাদের বিবেচনাধীনে রয়েছে।’

জর্ডান নদীর পশ্চিমাংশের ৫ হাজার ৬৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ভূখণ্ডটি ‘পশ্চিম তীর’ নামে পরিচিত। নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে গত ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিনের জনগণ যে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন, সেই রাষ্ট্রের রূপরেখার মূল অংশে রয়েছে এই ভূখণ্ডটি।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল এবং সেখানকার বিভিন্ন শহর-গ্রামে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের পাঠানো শুরু করে। বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্র ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়ে আসছে। তবে ইসরালের বক্তব্য, এ অঞ্চলের সঙ্গে ইহুদিদের ধর্মীয় সংযোগ রয়েছে।

পশ্চিম তীরের শহর-গ্রামগুলোয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিবাদ-অস্থিরতা প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। তবে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের হামলার ১৮ মাস আগে থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও ইহুদি বসতকারীদের মধ্যে অস্থিরতার মাত্রা বাড়ছিল। হামাসের হামলার পর তাতে রীতিমতো উল্লম্ফণ ঘটে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর গত প্রায় চার মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৭০ জন ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বসতি স্থাপনকারীরা এসব হত্যার জন্য দায়ী।

প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার পশ্চিম তীরের চার বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আদেশে স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেই চিঠিতে বাইডেন বলেন, ‘পশ্চিম তীরে দাঙ্গা পরিস্থিতি চলছে। গোঁড়া ও চরমপন্থীদের লাগামহীন সহিংসতা, বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ও লুটপাটের কারণে ইতোমধ্যে শত শত বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, সরকারি-বেসকরকারি-ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই অসহনীয় অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা আদেশে স্বাক্ষর করার কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াটারলুতে সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রুডো। সেখানে পরোক্ষভাবে বাইডেনকে সমর্থন করেন তিনি।
খবর রয়টার্স